সিলেটে বিদ্রোহীর ছড়াছড়ি, থামাতে পারছে না আ.লীগ

সিলেটে বিদ্রোহীর ছড়াছড়ি, থামাতে পারছে না আ.লীগ

সুনামগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র। ছবিটি ১১ নভেম্বর তোলা। ছবি: নিউজবাংলা

সিলেটের গোয়াইনঘাটে ৬ জন, জৈন্তাপুরে ২, দক্ষিণ সুরমায় ৫, সুনামগঞ্জ সদরে ১৪, শান্তিগঞ্জে ১২, হবিগঞ্জ সদরে ৮, নবীগঞ্জে ১৬, মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ১৪ এবং কুলাউড়ায় আওয়ামী লীগের ৩ নেতা স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হয়েছেন।

সিলেট বিভাগে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিদ্রোহীদের থামাতে পারছে না আওয়ামী লীগ। তৃতীয় ধাপে বিভাগের ৭৭টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের অন্তত ৮০ জন দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

তৃতীয় ধাপে এসব ইউনিয়নে ভোট ২৮ নভেম্বর। বিদ্রোহী প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনি লড়াইয়ে থাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীতরা পড়েছেন কঠিন চ্যালেঞ্জে ।

এর আগে ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে সিলেটের ৪৩টি ইউনিয়নে ভোট হয়। বিএনপিবিহীন এই নির্বাচনে ৪৩ ইউনিয়নের মধ্যে ২৩টিতেই পরাজিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। বেশির ভাগ ইউনিয়নে বিদ্রোহীদের কারণে ভরাডুবি হয় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের।

পরের ধাপের নির্বাচনেও সিলেট বিভাগের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

সিলেট বিভাগের ৯ উপজেলার ৭৭ ইউনিয়নে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে। প্রতীক পেয়ে প্রচারে নেমেছেন তারা।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সূত্র জানায়, এবারও ইউপি নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ না নিলেও স্বতন্ত্র হিসেবে বিএনপি নেতারা প্রার্থী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের পাশাপাশি বিএনপির (স্বতন্ত্র) প্রার্থীরাও চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন নৌকার প্রার্থীদের।

তবে বিদ্রোহীদের বসাতে এখনও চেষ্টা চলছে বলে জানান সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছি। তাদের বোঝানোর চেষ্টা চলছে। এতেও যদি তারা প্রার্থিতা থেকে সরে না আসেন তবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় ধাপে সিলেট জেলার ১৬টি, সুনামগঞ্জের ১৭টি, হবিগঞ্জের ২১টি এবং মৌলভীবাজারের ২৩ ইউনিয়নে ভোট হবে। এর মধ্যে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও সিলেটের জৈন্তাপুরে বিদ্রোহী কম থাকলেও অন্য উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি।

সিলেটের গোয়াইনঘাটে ৬ জন, জৈন্তাপুরে ২, দক্ষিণ সুরমায় ৫, সুনামগঞ্জ সদরে ১৪, শান্তিগঞ্জে ১২, হবিগঞ্জ সদরে ৮, নবীগঞ্জে ১৬, মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ১৪ এবং কুলাউড়ায় আওয়ামী লীগের ৩ নেতা স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হয়েছেন।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহ ওলিদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন বিদ্রোহী মুজিবুর রহমান। জালালপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ওয়েছ আহমদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন দলীয় নেতা নেছারুল হক চৌধুরী মোস্তান। লালাবাজার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তোয়াজিদুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে প্রার্থী (বিদ্রোহী) হয়েছেন আব্দুল মুহিত। মোগলাবাজার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সদরুল ইসলাম। সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ফখরুল ইসলাম শায়েস্তা। দাউদপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল হককে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রার্থী হয়েছেন দলের নেতা নুরুল ইসলাম আলম।

গোয়াইনঘাটের রুস্তমপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাসুক আহমদ। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আব্দুল মতিন। ফতেহপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন বিদ্রোহী আমিনুর রহমান চৌধুরী। লেঙ্গুরা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মুজিবুর রহমান। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া রাসেল। নন্দীরগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামরুল হাসান আমিরুল। তার সঙ্গে বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সিরাজুল ইসলাম।

ডৌবাড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুভাষ দাশের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এম নিজাম উদ্দিন। তোয়াকুল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী লোকমান আহমদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন শামসুদ্দিন আহমদ।

সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার জৈন্তাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক রাজা। তার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন আব্দুল কাইয়ুম। চা-বাগান অধ্যুষিত চিকনাগুল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামরুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রশিদ প্রার্থী হয়েছেন।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনির উদ্দিন। দলীর প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন আব্দুছ সালাম। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকছুদ আলী। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন দলীয় নেতা আব্দুল কাদির। কোরবাননগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামস উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন দলীয় নেতা আফজাল নূর ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী কোহিনূর আলম।

মোহনপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সীতেশ রঞ্জন দাস তালুকদার। দলীয় নেতা মঈন উল হক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন। কাঠইর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বুরহান উদ্দিন। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মাঠে আছেন দলীয় নেতা আজিজুর রহমান তালুকদার ও আব্দুল মতিন। সুরমা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুস ছাত্তারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আমির হোসেন রেজা ও তাজুল ইসলাম। গৌরারং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছালমা আক্তার চৌধুরী। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দলীয় নেত্রী চম্পা বেগম এবং সারুয়ার আহমেদ।

শান্তিগঞ্জের শিমুলবাক ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মিজানুর রহমান জিতুকে চ্যালেঞ্জ করে ভোটে আছেন দলীয় আব্দুল্লাহ মিয়া ও শাহীনুর রহমান। জয়কলস ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত মাসুদ মিয়ার বিরুদ্ধে লড়ছেন দলীয় নেতা আব্দুল বাছিত সুজন, হাছান মামুদ তারেক, রাজা মিয়া ও আব্দুল লতিফ কালা শাহ। পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জগলুল হায়দারের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন দলীয় নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হক। পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী রাশিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন দলীয় নেতা কামাল হোসেন ও জয়নাল আবেদীন।

দরগাপাশা ইউনিয়নে দলের প্রার্থী মনির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন আওয়ামী লীগ নেতা মাছুদুল হাসান। পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের বিপরীতে ভোটে লড়ছেন আওয়ামী লীগ নেতা মসফিকুর রহমান ও রুবেল মিয়া। পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেবাংশু শেখর দাশের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলীয় নেতা সফিকুল ইসলাম ও শামছুল আলম ভূঁইয়া। পাথারিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামছুল ইসলাম রাজাকে লড়তে হচ্ছে দলীয় নেতা শহীদুল ইসলাম ও হারুনুর রশীদ তালুকদারের সঙ্গে।

মৌলভীবাজারের বড়লেখার বর্ণি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী জোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা শামীম আহমদ এবং তাঁতী লীগ নেতা আব্দুল মুহিত। দাসেরবাজার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক মাহতাব উদ্দিন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার চক্রবর্তী।

উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রফিক উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. আতাউর রহমান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. মুমিনুর রহমান টনি। দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত নাহিদ আহমদ বাবলুর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন।

বড়লেখা সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত সালেহ আহমদ জুয়েলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সিরাজ উদ্দিন। তালিমপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত বিদুৎ কান্তি দাসের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এখলাছুর রহমান।

দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এনাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সদস্য আব্দুল জলিল ফুলু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাহিদ আহমদ ও ইউনিয়ন তাঁতী লীগের আহ্বায়ক আশরাফ হোসেন। এর মধ্যে ইউনিয়ন তাঁতী লীগের আহ্বায়ক আশরাফ হোসেন কয়েক বছর আগে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত সুলতানা কোহিনুর সারোয়ারীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজির উদ্দিন।

হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্রোহীদের বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য কেন্দ্রের নির্দেশের অপেক্ষায় আছি। কেন্দ্রের নির্দেশ পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, ‘দলের মনোনীত প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে যারা ভোটে লড়ছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করায় আ.লীগের ২৬ নেতা বহিষ্কার
সংরক্ষিত সদস্য পদে বউ-শ্বাশুড়ির লড়াই
নৌকার বিপক্ষে কাজ করায় ৭ জনকে অব্যাহতি
আ.লীগ-জাপা সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৭
প্রার্থী হয়ে পদ গেল ৩ আ.লীগ নেতার

শেয়ার করুন

যুবলীগের ৭ কর্মীকে ছুরিকাঘাত

যুবলীগের ৭ কর্মীকে ছুরিকাঘাত

দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন এই যুবলীগ কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আহত টিটু জানান, তারা যশোর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় যোগ দিতে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে শহরে এসেছেন। দুপুরে সভায় যাওয়ার পথে মাইকপট্টি এলাকায় একদল লোক তাদের পথরোধ করে এলোপাতারি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। 

যশোর শহরে বর্ধিত সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে সাত যুবলীগ কর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে।

শহরের মাইকপট্টি এলাকায় বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলায়েত হোসেন।

আহতরা হলেন শহরের মুড়লী এলাকার মো. রাব্বি, আরএন রোড এলাকার মো. হ্যাপী, শহরতলীর বিরামপুর এলাকার খাইরুল ইসলাম, সদর চুড়ামনকাটি এলাকার মো. আকিবুর, রুপদিয়া এলাকার শামীম হোসেন, ঝুমঝুমপুর গ্রামের মো. রাসেল ও হামিদপুর গ্রামের মো. টিটু।

তারা যশোর সদর উপজেলা যুবলীগের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুলের কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আহত টিটু জানান, তারা যশোর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় যোগ দিতে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে শহরে এসেছেন। দুপুর দেড়টার দিকে সার্কিট হাউজ থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলে চিত্র মোড়ের একটি আবাসিক হোটেলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মাইকপট্টি এলাকায় একদল লোক পথরোধ করে এলোপাতারি কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

আশপাশের লোকজন তাকে নিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানকার সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক মনিরুজ্জামান লর্ড জানান, আহতদের মধ্যে খাইরুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যরা শঙ্কামুক্ত।

ঘটনার বিষয়ে জানতে সদর উপজেলা যুবলীগের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ারকে কল দেয়া হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এএসপি বেলায়েত হোসেন জানান, ব্যক্তিগত রেষারেষির জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই।

আরও পড়ুন:
দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করায় আ.লীগের ২৬ নেতা বহিষ্কার
সংরক্ষিত সদস্য পদে বউ-শ্বাশুড়ির লড়াই
নৌকার বিপক্ষে কাজ করায় ৭ জনকে অব্যাহতি
আ.লীগ-জাপা সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৭
প্রার্থী হয়ে পদ গেল ৩ আ.লীগ নেতার

শেয়ার করুন

‘বর্জনের ভোটে’ চেয়ারম্যান বিএনপির ৯৬ জন

‘বর্জনের ভোটে’ চেয়ারম্যান বিএনপির ৯৬ জন

রোববারের ভোটে সবচেয়ে বেশি ৪৩৯ ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়াই করা আওয়ামী লীগ নেতারা। আরও বেশ কিছু ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা জিতেছেন অন্তত ২৬৭ এলাকায়। সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, যারা জিতেছে ১৫টির মতো ইউনিয়নে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীর ৮ জন নেতা জিতেছেন স্বতন্ত্র পরিচয়ে।

আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট বর্জন করলেও তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেশ ভালো ফল করেছেন বিএনপির নেতারা। রোববারের এই ভোটে সারা দেশে অন্তত ৯৬ জন বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিতে এসেছেন।

বিভাগওয়ারি হিসাব করলে বিএনপির এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সবচেয়ে ভালো করেছেন রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে। রংপুর বিভাগে জিতেছেন ২৪ জন আর রাজশাহী বিভাগে ২০ জন নেতা।

এ ছাড়া সিলেট বিভাগে ১৩ জন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন করে এবং খুলনা বিভাগে জিতেছেন ৯ জন নেতা। কেবল বরিশাল বিভাগে কেউ জিততে পারেননি।

তৃণমূলের ভোটে বিএনপি নেতাদের জিতে আসার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের সাধারণ জনগণ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তারা জনগণের সরকার চায়। তারই প্রতিচ্ছবি এটা; এখন যার প্রমাণ আপনারাও পাচ্ছেন।’

গত কয়েক বছরে বিএনপি জাতীয় ও স্থানীয় যেসব নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ নিয়েছে, তাতে তারা ভালো ফল করতে পারেনি। দলটির পক্ষ থেকে অবশ্য ভোট সুষ্ঠু না হওয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, তাদের সমর্থকদের ভোট দিতে দেয়া হয় না, প্রচারেও বাধা দেয়া হয়।

চলতি বছর পৌরসভা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনার পর বর্তমান সরকার আর নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো ভোটে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ফলে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও তাদের কোনো প্রার্থী নেই।

এই নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ভোট হয়েছে তিন ধাপে, যার মধ্যে সবশেষ ভোট হয় রোববার।

এই ধাপে নির্বাচন কমিশন ১ হাজার ৭টি ইউনিয়নে ভোটের তফসিল ঘোষণা করে। তবে রোববার ভোট হয় সাড়ে আটশর কিছু বেশি এলাকায়। এর আগেই বেশ কিছু এলাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে যান।

তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী না দিলেও বিভিন্ন এলাকায় দলের নেতারা ভোটে অংশ নেন স্বতন্ত্র পরিচয়ে। দলের পুরো সমর্থনও তারা পেয়েছেন নানা এলাকায়।

গত ২ নভেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যা বলেন, তাতে এটা স্পষ্ট যে বিএনপি এই ভোটে না থেকেও আছে।

তিনি সেদিন বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করাটা সঠিক নয়। তাই বিএনপি এ নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিচ্ছে না। তবে বিএনপি থেকে কেউ স্বতন্ত্র হয়ে অংশ নিলে সেখানে বাধা নেই।’

রোববারের ভোটে সবচেয়ে বেশি ৪৩৯ ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়াই করা আওয়ামী লীগ নেতারা। আরও বেশ কিছু ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জিতেছেন অন্তত ২৬৭ জন। দলীয় প্রতীকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, যারা জিতেছে ১৫টির মতো এলাকায়।

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীর ৮ জন প্রার্থী স্বতন্ত্র পরিচয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে জিতেছেন। এর মধ্যে রংপুর বিভাগে দুজন আর রাজশাহী বিভাগে আছেন ছয়জন।

এই ছয়জনের মধ্যে দুজন সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের। তিনজন আছেন রাজশাহীর নওগাঁর, দুজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আর একজন আছেন রাজশাহীর।

ইসলামী আন্দোলন, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ৩২ জন প্রার্থীও জিতে এসেছেন রোববারের ভোটে।

রংপুর বিভাগে জিতলেন বিএনপির যে নেতারা

এই জেলায় বিএনপির নেতারা সবচেয়ে ভালো করেছেন দিনাজপুরে। দুই উপজেলায় মোট ছয়টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন তারা।

এই জেলার ফুলবাড়ীর ১ নম্বর এলুয়াড়ী ইউনিয়নে নবিউল ইসলাম, বিরামপুর উপজেলায় ৪নং দিওড় ইউনিয়নে আব্দুল মালেক ও ৫নং বিনাইল ইউপিতে হুমায়ন কবীর বাদশা জয় পেয়েছেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলায় ২ নম্বর বিনোদনগড় ইউনিয়নে নজরুল ইসলাম, ৪ নম্বর শালখুরিয়া ইউনিয়নে তারা মিয়া এবং ৫ নম্বর পুটিমারা ইউনিয়নে আনিছুর রহমান জয় পেয়েছেন।

বিএনপি ভালো করেছে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটেও। দুই জেলাতেই পাঁচজন করে নেতা জয় পেয়েছেন।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ঘোগাদহ ইউনিয়নে আবদুল মালেক, ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে সাইদুর রহমান, নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নে শফিউল আলম শফি, রায়গঞ্জ ইউনিয়নে আরিফুল ইসলাম দীপ ও নারায়ণপুর ইউনিয়নে মো. মোস্তফা পেয়েছেন জয়।

লালমনিরহাটে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নে আব্দুল মজিদ মণ্ডল, কুলাঘাট ইউনিয়নে ইদ্রিস আলী, বড়বাড়ি ইউনিয়নে হবিবর রহমান হবি, দলগ্রাম ইউনিয়নে ইকবাল হোসেন এবং ভোটমারী ইউনিয়নে জিতেছেন ফরহাদ হোসেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে জিতেছেন বিএনপির তিন নেতা। এর মধ্যে পীরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে মোখলেছুর রহমান চৌধুরী, সেনগাঁওয়ে সাইদুর রহমান এবং বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নে জিতেছেন বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম।

আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থানের এই জেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৮টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে ১৪টিকে নৌকা আর একটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা জিতেছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও আওয়ামী লীগের মাহাবুবার রহমানের ভোট সমান হওয়ায় ফলাফল ড্র হয়েছে।

এই বিভাগের পঞ্চগড় ও গাইবান্ধায় জয় পেয়েছেন বিএনপির দুজন করে নেতা।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নে রবিউল ইসলাম ও আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে জিতেছেন আবদুস সামাদ, যাদেরকে বিএনপি মার্কা না দিলেও সমর্থন দিয়েছিল।

গাইবান্ধায় পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নে মাহাবুবুর রহমান মণ্ডল ও হরিনাথপুর ইউনিয়নে মো. কবির হোসাইন জাহাঙ্গীর জয় পেয়েছেন।

নীলফামারী জেলায় জিতেছেন বিএনপির একজন নেতা। কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নে জিতেছেন মোস্তাকিনুর রহমান।

রাজশাহী বিভাগে বিএনপির যে নেতাদের জয়

এই বিভাগের মধ্যে বিএনপির নেতারা সবচেয়ে বেশি জিতেছেন বগুড়ায়। দলটির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জেলাটিতে ১০ জন নেতা জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।

এদের মধ্যে সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নে সহিদুল ইসলাম সরকার, সাবগ্রাম ইউনিয়নে ফরিদ উদ্দিন সরকার, লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নে জুলফিকার আবু নাসের আপেল মাহমুদ, শেখেরকোলা ইউনিয়নে জিতেছেন রশিদুল ইসলাম মৃধা।

ধনুট উপজেলায় জিতেছেন কালেরপাড়া ইউনিয়নে সাজ্জাদ হোসেন, চিকাশি ইউনিয়নে জাকির হোসেন, গোসাইবাড়ী ইউনিয়নে মাসুদুল হক বাচ্চু, ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নে বেলাল হোসেন, শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নে আতিকুর রহমান এবং মাদলা ইউনিয়নে আতিকুর রহমান।

এই বিভাগে চারজন করে বিএনপির নেতা জিতেছেন নাটোর ও নওগাঁয়।

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ফাগুয়ারদিয়ার ইউনিয়নে এসএম লেলিন, জামনগরে গোলাম রাব্বানী, লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নে আব্দুল আজিজ রঞ্জু আর বিলমাড়িয়া ইউনিয়নে জিতেছেন সিদ্দিক আলী মিষ্টু।

নওগাঁর প্রসাদপুর ইউনিয়নে আব্দুল মতিন, বিষ্ণপুর ইউনিয়নে এসএম গোলাম আজম, গণেশপুর ইউনিয়নে শফিকুল ইসলাম বাবুল চৌধুরী এবং কাঁশোপাড়া ইউনিয়নে আব্দুস সালাম।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নে মাহমুদুল হক হায়দারী এবং পাঁকা ইউনিয়নে জিতেছেন আব্দুল মালেক।

সিলেট বিভাগে বিএনপির যে নেতারা জিতলেন

গোটা বিভাগে বিএনপির নেতারা সবচেয়ে ভালো করেছেন সুনামগঞ্জে। এই জেলার সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৭টি ইউনিয়নে। এর ছয়টিতে জিতেছেন বিএনপি নেতারা। পক্ষান্তরে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগ জিততে পেরেছে কেবল দুটি ইউনিয়নে।

‘বর্জনের ভোটে’ চেয়ারম্যান বিএনপির ৯৬ জন



সদর উপজেলা রঙ্গারচর ইউনিয়নে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে জিতেছেন বিএনপি নেতা মো. আব্দুল হাই, মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে জিতেছেন নুরুল হক, লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে জিতেছেন আব্দুল ওয়াদুদ৷

শান্তিগঞ্জে স্বতন্ত্র পরিচয়ে জয়ী বিএনপির নেতারা হলেন দরগাপাশা ইউনিয়নে ছুফি মিয়া, পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে মাসুক মিয়া ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে লুৎফর রহমান জায়গীরদার খোকন।

লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে নির্বাচিত জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের জবাব দিয়েছে। আমাদের শঙ্কা ছিল ক্ষমতাসীনরা কিছু করে কি না। তবে সবকিছুকে হারিয়ে জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে আমাকে জয়ী করেছে। আমি এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান হয়েছি। মানুষও জানে কাকে ভোট দিলে মেহনতি মানুষের উন্নয়ন হয়।’

হবিগঞ্জের ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা হলেন সদর উপজেলার গোপায়া ইউনিয়নে আব্দুল মন্নান, নবীগঞ্জ উপজেলার দিঘলবাগ ইউনিয়নে মোহাম্মদ ছালিক মিয়া এবং বাউসা ইউনিয়নে সাদিকুর রহমান শিশু।

সিলেট ও মৌলভীবাজারে জয় পেয়েছেন বিএনপির দুজন করে নেতা। এদের মধ্যে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্তে বাহারুল আলম বাহার ও গোয়াইনঘাটের রুস্তমপুরে জিতেছেন শাহাব উদ্দিন।

মৌলভীবাজারের এর মধ্যে বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নে জিতেছেন জয়নাল আবেদীন। কুলাউড়া উপজেলায় ভূকশিমইলে জিতেছেন আজিজুর রহমান। তিনি গতবারও জিতেছিলেন।

ঢাকা বিভাগে যারা জিতলেন

এই বিভাগে বিএনপির নেতারা সবচেয়ে টাঙ্গাইলে। এ জেলায় তিনজন সক্রিয় বিএনপি নেতা এবং একজন নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া নেতা জিতেছেন। এই জেলায় ভোট হয়েছে মোট তিনটি উপজেলায়। এর মধ্যে বিএনপি সম্পৃক্তরা জিতেছেন কেবল নাগরপুর ইউনিয়নে।

এরা হলেন গয়হাটা ইউনিয়নে সামছুল হক, ভাদ্রা ইউনিয়নে শওকত হোসেন ও সহবতপুর ইউনিয়নে তোফায়েল আহমেদ। পাকুটিয়া ইউনিয়নে জয়ী সিদ্দিকীকুর রহমানও বিএনপি করতেন। তবে সম্প্রতি তিনি দলীয় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান।

দ্বিতীয় দুজন করে নেতা জয় পেয়েছেন মুন্সীগঞ্জ ও ফরিদপুরে।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের তোতা মিয়া মুন্সী আর টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বেতকা ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন রোকনুজ্জামান রিগ্যান।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নে ইয়াকুব আলী (বিএনপি সমর্থক), বর্তমানে কোনো পদে নেই) এবং চরহরিরামপুর ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর কবির (বিএনপি সমর্থক), বর্তমানে কোনো পদে নেই)।

কিশোরগঞ্জে কুলিয়ারচর, নিকলী ও সদর উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ২৩টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে বিএনপি থেকে জিতেছেন একজন নেতা। সদর উপজেলায় চৌদ্দশত ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন দলটির নেতা আতহার আলী।

নরসিংদীতেও জয় পেয়েছেন বিএনপির একজন নেতা। চিনিশপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হয়েছেন মেহেদী হাসান ভূইয়া তুহিন।

চট্টগ্রাম বিভাগে জয় যাদের

এই বিভাগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলায় বিএনপির তিনজন করে নেতা জয় পেয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পাকশিমুল ইউনিয়নে কাওসার হোসেন, সদর ইউনিয়নে আবদুল জব্বার, চুন্টা ইউনিয়নে জিতেছেন মনসুর আহমেদ।

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর আলম, ঘাগটিয়া ইউনিয়নে মফিজুল ইসলাম গনি ও ঘারমোড়া ইউনিয়নে জিতেছেন শাহজাহান মোল্লা। বিএনপির এই তিন নেতার পক্ষে দলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রচারে ছিলেন।

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় জয় পেয়েছেন বিএনপির দুই নেতা। এরা হলেন ছাতারপাইয়া ইউনিয়নে আবদুর রহমান ও কাবিলপুর ইউনিয়নে বাহার হোসেন।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ছিপাতলী ইউনিয়নে জিতেছেন বিএনপি নেতা নূরুল আহসান লাভু।

চাঁদপুরে মতলব উত্তর উপজেলার এখলাশপুর ইউনিয়নে জিতেছেন বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুল ইসলাম।

খুলনা বিভাগে বিজয়ী বিএনপির নেতারা

এই বিভাগে এক জেলায় বিএনপির সর্বোচ্চ তিনজন নেতা জিতেছেন সাতক্ষীরায়। এরা হলেন কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগরে জাহাঙ্গীর আলম, পারুলিয়ায় গোলাম ফারুক বাবু এবং দেবহাটা উপজেলার দেবহাটা ইউনিয়নে আব্দুল মতিন।

বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দুজন নেতা জয় পেয়েছেন যশোরে। এরা হলেন মনিরামপুর উপজেলায় মনিরামপুর সদরে নিস্তার ফারুক এবং মনোহরপুরে আকতার ফারুক মিন্টু।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নে জিতেছেন খোয়াজ হোসেন মাস্টার।

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর ইউনিয়নে জিতেছেন আব্দুল মান্নান।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদী ইউনিয়নে বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী (মোটরসাইকেল) তোবারক হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন।

মাগুরার শালিখা উপজেলার শালিখা ইউনিয়নে জিতেছেন ইউনিয়নে বিএনপির আহ্বায়ক হুসেইন শিকদার।

ময়মনসিংহ বিভাগের জয়ীরা

এই বিভাগে বিএনপির নেতারা সবচেয়ে বেশি জিতেছেন শেরপুরে। এই জেলায় দলটির পাঁচজন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন।

তারা হলেন নকলা উপজেলার ৭ নম্বর টালকি ইউনিয়নের মোজাফফর আহমদ বুলবুল, নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের আতাউর রহমান, মরিচপুরান ইউনিয়নের আয়ুব আলী, কলসপাড় ইউনিয়নের আবদুল মজিদ ও নয়াবিল ইউনিয়নের মিজানুর রহমান।

নেত্রকোনায় জিতেছেন বিএনপির তিন নেতা। তারা হলেন কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের সাইদুর রহমান ভুইয়া, রংছাতি ইউনিয়নের আনিসুর রহমান খান পাঠান বাবুল ও দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের আব্দুল আওয়াল।

ময়মনসিংহে জিতেছেন দুজন। তারা হলেন ত্রিশাল উপজেলার ৩ নম্বর কাঁঠাল ইউনিয়নের নূরে আলম সিদ্দিকী ও মুক্তাগাছা উপজেলার ৬ নম্বর মানকোন ইউনিয়নের শহিদুল ইসলাম।

এই বিভাগের অন্য জেলা জামালপুরে বিএনপির কোনো নেতা চেয়ারম্যান হতে পারেননি।

প্রতিবেদনটি প্রস্তুত হয়েছে সারা দেশে নিউজবাংলার প্রতিবেদকদের তথ্যে

আরও পড়ুন:
দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করায় আ.লীগের ২৬ নেতা বহিষ্কার
সংরক্ষিত সদস্য পদে বউ-শ্বাশুড়ির লড়াই
নৌকার বিপক্ষে কাজ করায় ৭ জনকে অব্যাহতি
আ.লীগ-জাপা সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৭
প্রার্থী হয়ে পদ গেল ৩ আ.লীগ নেতার

শেয়ার করুন

উড়োজাহাজে গরুর ধাক্কায় চাকরি গেল আনসারের চার জনের

উড়োজাহাজে গরুর ধাক্কায় চাকরি গেল আনসারের চার জনের

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা হোসেন বলেন, বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীর এলাকায় দায়িত্বে থাকা চার সদস্যকে দায়িত্বে গাফিলতির কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে গরুর সঙ্গে উড়োজাহাজের ধাক্কার ঘটনায় চার আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা হোসেন।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীর এলাকায় দায়িত্বে থাকা চার সদস্যকে দায়িত্বে গাফিলতির কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিমানবন্দরে মঙ্গলবার বিকেলে অল্পের জন্য রক্ষা পায় বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ। সেটি ওড়ার সময় রানওয়েতে ঢুকে পড়ে দুটি গরু। সেগুলোকে ধাক্কা দিয়েই যাত্রী নিয়ে আকাশে ওড়ে বিজি ৪৩৪ ফ্লাইটটি।

উড়োজাহাজ ও আরোহীরা নিরাপদে থাকলেও মারা গেছে বিমানের সঙ্গে ধাক্কা লাগা দুটি গরু।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের যাত্রা শুরু প্রায় ৭৫ বছর আগে। একে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করতে কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের জুলাইয়ে। তিন বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উদ্বোধন করেন। তবে রানওয়ের কাজ শেষ হওয়ায় ২০১৭ সাল থেকেই এখানে অবতরণ-উড্ডয়ন করছে আন্তর্জাতিক রুটের বিমান। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রতিদিনই আকাশপথে কক্সবাজার আসছেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।

এমন অবস্থায় মঙ্গলবার উড্ডয়নের সময় উড়োজাহাজের ধাক্কায় দুটি গরুর মৃত্যুর পর বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা দুর্বলতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

উড়োজাহাজে গরুর ধাক্কায় চাকরি গেল আনসারের চার জনের
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে মঙ্গলবার বিকালে উড়োজাহাজের ধাক্কায় দুটি গরু মারা গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক নিউজবাংলাকে জানান, বিমানের ফ্লাইটটি মঙ্গলবার উড্ডয়নের সময় ডান পাশের পাখায় ধাক্কা লেগে ছিটকে পড়ে গরু দুটি। সেখানেই সেগুলো মারা যায়। তবে উড়োজাহাজটি ৯৪ যাত্রী নিয়ে সফলভাবেই উড্ডয়ন করে।

২০০৫ সালে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উত্তরে বঙ্গোপসাগরে একটি কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে বিদেশি পাইলটসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। কার্গো উড়োজাহাজটি কক্সবাজার থেকে চিংড়ি পোনা নিয়ে যশোর যাচ্ছিল। এ ছাড়া ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি উড়োজাহাজের চাকায় পিষ্ট হয়ে রানওয়েতে তিনটি কুকুরের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করায় আ.লীগের ২৬ নেতা বহিষ্কার
সংরক্ষিত সদস্য পদে বউ-শ্বাশুড়ির লড়াই
নৌকার বিপক্ষে কাজ করায় ৭ জনকে অব্যাহতি
আ.লীগ-জাপা সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৭
প্রার্থী হয়ে পদ গেল ৩ আ.লীগ নেতার

শেয়ার করুন

নওগাঁয় পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব

নওগাঁয় পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব

প্রতিবছরই শীতের শুরুতে পলো দিয়ে মাছ ধরার এ উৎসব করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

বদলগাছী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, ‘নওগাঁ জেলায় ছোট-বড় অসংখ্য নদ-নদী ও খাল-বিল রয়েছে। শীতকালে নদীর পানি শুকানো শুরু হয়। এ কারণে নদীপারের আশপাশের গ্রামের মানুষরা পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসবে মেতে ওঠেন। এটি গ্রামবাংলার একটি প্রাচীন উৎসব।’

বাঁশের তৈরি পলো নিয়ে কয়েক গ্রামের শত শত মানুষ দলবেঁধে নেমে পড়ে নদীর হাঁটুপানিতে। তাদের পলোর নিচে ধরা পড়ে নানা জাতের দেশীয় মাছ। এ সময় এক উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। সে উৎসব দেখতে হাজির হয় নদীরপাড়ের অনেক মানুষ।

নওগাঁ জেলায় পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসবের চিত্র এটি। সম্প্রতি বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ব্রিজের নিচে ছোট যমুনা নদীতে এ উৎসবের আয়োজন করে স্থানীয়রা। প্রতিবছরই শীতের শুরুতে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

পলো দিয়ে মাছ ধরার উপযোগী সময় মনে করা হয় শীতকালকে। এ সময় খাল-বিলের পানি শুকিয়ে যায়। বাঁশ ও জাল দিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য পলো তৈরি করা হয়েছে। আগে থেকেই এলাকায় ঘোষণা দেয়া হয়েছে মাছ ধরার।

এলাকার শৌখিন ও পেশাদার শিকারিরা মাছ ধরতে নেমে পড়ে পানিতে। বংশপরম্পরায় চলে আসছে এই ঐতিহ্য। পলো দিয়ে মাছ ধরার এই উৎসবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এখানে মাছ ধরায় কেউ বাধা দেয় না। নির্ধারিত সময়ে সবাই একসঙ্গে নেমে পড়ে নদীতে।

মাছ ধরার উৎসবে অংশ নেয়া স্থানীয় কোলা গ্রামের তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘হামি পেশায় একজন কৃষক। প্রতিবছোরের শীতের এই সমোয়ত নদীর পানি কুমা যায়। তখন হামরা আশে-পাশের গ্রামের মানুষেরা একসাথে মিলা পলো দিয়া মাছ ধরি। আজক্যা এই মাছ ধরার উৎসোবত প্রায় দেড়শ থ্যাকা দুইশ জনের মতো মানুষ অংশ লিছে।’

বিলাশবাড়ী গ্রামের লিটন হোসেন এসেছেন মাছ ধরার উৎসবে। তিনি বলেন, ‘চার দিন আগে বালুভরা গ্রামের কয়েকজন মিলা মাইকিং করিছে যে আজক্যার নদীত থ্যাকা পলো দিয়া মাছ ধরা হবে। তাই আগে থাকাই বাঁশ ও জাল দিয়া পলো তৈরি করে রাখিছি। আজক্যা আসা একন পর্যন্ত তিনডা বোয়ালমাছ ধরিছি।’

নওগাঁয় পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব

বালুভরা গ্রামের শাহাদত হোসেন বলেন, ‘কোলা, ভাণ্ডারপুর, বিলাশবাড়ী, আক্কেলপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় দুইশজনের মতো অংশ নিয়েছে এ উৎসবে।

‘এ নদীতে বোয়াল, কই,শিং, পুঁটি, শোলসহ বেশ কয়েক জাতের মাছ পাওয়া যাচ্ছে। সবাই মিলে অংশ নিতে পেরে আমাদেরও অনেক ভালো লাগছে। বছরের একটি দিনেই আমরা এই নদীতে এমন আয়োজন করে থাকি।’

মাছ ধরার উৎসবকে কেন্দ্র করে নদীর আশপাশের বিভিন্ন বয়সের মানুষ এসেছে উপভোগ করতে।

ভাণ্ডারপুর গ্রামের রিপন হোসেন বলেন, ‘ব্যক্তিগত কাজে শহরে যাচ্ছিলাম মোটরসাইকেলে করে। নদীতে একসঙ্গে এত মানুষ মাছ ধরছে দেখে নদীর কাছে না এসে আর থাকতে পারলাম না। তাই এসেছি মাছ ধরা দেখতে।’

‘অনেক ভালো লাগছে এমন আয়োজন দেখে। নদীমাতৃক এই দেশে এমন আয়োজন না হলে কেন জানি এক ধরনের অপূর্ণতা রয়ে যায়।’

বদলগাছী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, নওগাঁ জেলায় ছোট-বড় অসংখ্য নদ-নদী ও খাল-বিল রয়েছে। শীতকালে নদীর পানি শুকানো শুরু হয়। এ কারণে নদীপারের আশপাশের গ্রামের মানুষ পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসবে মেতে ওঠে। এটি গ্রামবাংলার একটি প্রাচীন উৎসব।

নওগাঁ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ছোট যমুনা নদী, পুণর্ভবা নদী, আত্রাই নদী, তুলশীগঙ্গা, শিব নদী, ফকিরনি নদী এবং নাগর নদী। বিল মুসছুর, গুটার বিল, দীঘলির বিল, জবই বিলসহ অসংখ্য ছোট বিলও আছে এখানে।

আরও পড়ুন:
দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করায় আ.লীগের ২৬ নেতা বহিষ্কার
সংরক্ষিত সদস্য পদে বউ-শ্বাশুড়ির লড়াই
নৌকার বিপক্ষে কাজ করায় ৭ জনকে অব্যাহতি
আ.লীগ-জাপা সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৭
প্রার্থী হয়ে পদ গেল ৩ আ.লীগ নেতার

শেয়ার করুন

অস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার, কাউন্সিলর হত্যায় সম্পৃক্ততা খুঁজছে পুলিশ

অস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার, কাউন্সিলর হত্যায় সম্পৃক্ততা খুঁজছে পুলিশ

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ)  এম তানভীর আহমেদ  জানান, কাউন্সিলর সোহেল হত্যার পর দিন প্রধান আসামি শাহ আলম গান্দাচি গ্রামে জুয়েলের বাড়ীতে অবস্থান করেন। এ সময় শাহ আলম অস্ত্রগুলো জুয়েলের কাছে রেখে যান। 

কুমিল্লায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

নাঙ্গলকোট উপজেলার গান্দাচি গ্রাম থেকে মঙ্গলবার রাতে তাকে আটক করা হয়। পরে পুলিশের করা মামলায় শাখাওয়াত হোসেন জুয়েলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ বলছে, জুয়েলের সঙ্গে কাউন্সিলর সোহেল হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহ আলমের যোগাযোগ ছিল। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভালবার, দুটি ম্যাগজিন ও তিন রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে।

জুয়েলকে ধরতে যে অভিযান পরিচালনা করা হয় তাতে অংশ নেন গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক পরিমল দাশ। পরে অস্ত্র আইনে জুয়েলের নামে মামলা করেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ জানান, কাউন্সিলর সোহেল হত্যার পর দিন প্রধান আসামি শাহ আলম গান্দাচি গ্রামে জুয়েলের বাড়ীতে অবস্থান করেন। এ সময় শাহ আলম অস্ত্রগুলো জুয়েলের কাছে রেখে যান।

তিনি আরও জানান, ২০১৫ সালের দিকে কাউন্সিলর সোহেল হত্যার প্রধান আসামি শাহ আলমের সঙ্গে পরিচয় হয় জুয়েলের৷

পুলিশের ধারণা উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো কাউন্সিলর সোহেল ও তার সঙ্গীকে হত্যায় ব্যবহার হয়েছিল। জুয়েলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন:
দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করায় আ.লীগের ২৬ নেতা বহিষ্কার
সংরক্ষিত সদস্য পদে বউ-শ্বাশুড়ির লড়াই
নৌকার বিপক্ষে কাজ করায় ৭ জনকে অব্যাহতি
আ.লীগ-জাপা সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৭
প্রার্থী হয়ে পদ গেল ৩ আ.লীগ নেতার

শেয়ার করুন

বর্ণিল শোভাযাত্রায় বিজয়ের মাস বরণ

বর্ণিল শোভাযাত্রায় বিজয়ের মাস বরণ

বিজয়ের মাসকে বরণ করে নিতে সিলেটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ছবি: নিউজবাংলা

শোভাযাত্রায় সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে, তাদেরকে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস জানাতেই এমন আয়োজন।’

মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে বিশাল জাতীয় পতাকা, কারো হাতে ফেস্টুন-ব্যানার, শিশুদের হাতে ছোটছোট পতাকা, খেলনা রাইফেল-গ্রেনেড। কেউ আবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদলে সেজে ভাষণে মগ্ন।

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে প্রথম দিন এভাবেই বরণ করে নিয়েছে সিলেটবাসী।

বাঙালির গৌরবান্বিত এ মাসের বরণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে সিলেট জেলা প্রশাসন। এতে মুক্তিযোদ্ধা, স্কুলশিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

‘বিজয়ের পঞ্চাশে; আমরা মাতি উল্লাসে’ এই শ্লোগানে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয় বর্ণিল এই শোভাযাত্রা। নগর প্রদক্ষিণ শেষে তা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে, তাদেরকে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস জানাতেই এমন আয়োজন।’

এই চেতনা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশা করেন।

শোভাযাত্রায় পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোশরাফ হোসেই ভূ্ইয়া, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিমশনার নিশারুল আরিফ, সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবোজিৎ সিনহাসহ মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দরা অংশ নেন।

বিজয়ের মাস উদযাপনে শহীদ মিনারের মুক্তমঞ্চে দুইদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ।

আরও পড়ুন:
দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করায় আ.লীগের ২৬ নেতা বহিষ্কার
সংরক্ষিত সদস্য পদে বউ-শ্বাশুড়ির লড়াই
নৌকার বিপক্ষে কাজ করায় ৭ জনকে অব্যাহতি
আ.লীগ-জাপা সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৭
প্রার্থী হয়ে পদ গেল ৩ আ.লীগ নেতার

শেয়ার করুন

সাভারে স্কুলছাত্রকে গাড়িচাপা, সড়ক অবরোধ

সাভারে স্কুলছাত্রকে গাড়িচাপা, সড়ক অবরোধ

ছাত্রকে গাড়ি চাপার ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

সাভার ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ (প্রশাসন) আব্দুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অবরোধের কথা শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আশ্বাসের মাধ্যমে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়া পরিবহনটি চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এখন সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’

সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এক স্কুলছাত্রকে অজ্ঞাত একটি গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

মহাসড়কে পাকিজা গার্মেন্টসের সামনে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে সড়ক ছেড়ে দেয় তারা। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকটি গাড়ির লাইসেন্স ও ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, সকালে মর্নিং গ্লোরী স্কুলের আতিক নামে এক শিক্ষার্থীকে অজ্ঞাত একটি গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে।

সাভার ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ (প্রশাসন) আব্দুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অবরোধের কথা শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আশ্বাসের মাধ্যমে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

‘শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়া পরিবহনটি চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এখন সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করায় আ.লীগের ২৬ নেতা বহিষ্কার
সংরক্ষিত সদস্য পদে বউ-শ্বাশুড়ির লড়াই
নৌকার বিপক্ষে কাজ করায় ৭ জনকে অব্যাহতি
আ.লীগ-জাপা সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৭
প্রার্থী হয়ে পদ গেল ৩ আ.লীগ নেতার

শেয়ার করুন