দাখিল পরীক্ষার্থী ১৫, বিয়ে হওয়ায় অনুপস্থিত সবাই

দাখিল পরীক্ষার্থী ১৫, বিয়ে হওয়ায় অনুপস্থিত সবাই

নাটোরের বাগাতিপাড়া মহিলা মাদ্রাসার ১৫ দাখিল পরীক্ষার্থীই অনুপস্থিত। ছবি: নিউজবাংলা

অনুপস্থিতির কারণ জানতে যোগাযোগ করা যায় এক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কিশোরী বলে, ‘বিয়ের পর আর লেখাপড়া কইর‍্যা কী হবি। এখন তো সংসার সামলাতে হয়। ঘর-গেরস্থালি সামলাতে হয়। বাড়িতে পড়ালেখ্যার পরিবেশ নাই। তাই পরীক্ষা দেয়া হয় নাই।’

নাটোরের বাগাতিপাড়া মহিলা মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থীদের সবার বিয়ে হয়ে গেছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব পরীক্ষায় তাদের অনুপস্থিতির কারণ খুঁজতে গেলে এই তথ্য বেরিয়ে আসে।

পেড়াবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের সচিব ইব্রাহিম হোসাইন জানান, তার কেন্দ্রের অধীনে ৫টি মাদ্রাসার ৯৮ জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র স্ব-স্ব মাদ্রাসা সুপারদের কাছে বিতরণ করা হয়। সবশেষে বাগাতিপাড়া মহিলা মাদ্রাসা সুপারকে ১৫ জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র দেয়া হয়।

ইব্রাহিম আরও জানান, এরই মধ্যে মানবিক গ্রুপের দুটি বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ওই মাদ্রাসা থেকে কেউ পরীক্ষা দিতে আসেনি। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ওই ১৫ জনের কেউই পরীক্ষা দিচ্ছে না। এ বিষয়ে মাদ্রাসা সুপারের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়। তবে তাতেও কোনো লাভ হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা হয় ওই ১৫ শিক্ষার্থীদের একজনের অভিভাবকের সঙ্গে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা বাইড়্যি গেলে মাদ্রাসা বন্ধ ছিল। মিয়া ছাওয়ালের লেখাপড়াও হচ্চিল না। ভালো বর পায়্যি মেয়েক বিয়্যা দিয়্যা দিছি। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরীক্ষা দেয়ালো না।’

অনুপস্থিতির কারণ জানতে যোগাযোগ করা হয় এক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কিশোরী বলে, ‘বিয়ের পর আর লেখাপড়া কইর‌্যা কী হবি। এখন তো সংসার সামলাতে হয়। ঘর-গেরস্থালি সামলাতে হয়। বাড়িতে পড়ালেখ্যার পরিবেশ নাই। তাই পরীক্ষা দেয়া হয় নাই।’

এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মহিলা মাদ্রাসার সুপার আব্দুর রউফ জানান, চলতি বছর ১৫ জন ছাত্রীর পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। করোনাকালে তাদের বিয়ে হয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, কিশোরীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রবেশপত্র দেন। পরীক্ষা দিতে অনুরোধও করেন। তবে কেউ সাড়া দেয়নি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নারী নির্যাতন নির্মূল না হওয়ায় আক্ষেপ পরিকল্পনামন্ত্রীর

নারী নির্যাতন নির্মূল না হওয়ায় আক্ষেপ পরিকল্পনামন্ত্রীর

শনিবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

সুলতানা কামাল বলেন, 'দেশে নারীর ক্ষমতায়ন হলেও নারীর সম অবস্থান তৈরি হয়নি। অসাম্প্রদায়িক, নির্যাতনমুক্ত, সহিংসতাহীন, সভ্য, সব মানুষের জন্য সমমর্যাদার দেশ গড়ে তুলতে আমাদের মিলেমিশে কাজ করতে হবে।'

বহুমুখী প্রচেষ্টার পরও দেশে নারী নির্যাতন নির্মূল করতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মন্ত্রী বলেছেন, 'সমাজের সব নির্যাতন ও অন্যায় দূর করতে সামাজিকভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। অনেক চেষ্টার পরও দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা নির্মূলের মতো আমরা নারী নির্যাতন নির্মূল করতে পারিনি।

‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী অধিকারসহ এসব বিষয়ে অনেক কাজ করতে চান। কিন্তু নানা ধরনের বাধা ও প্রতিকূলতায় সঠিকভাবে কাজগুলো হচ্ছে না। বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে।’

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট ‘আমরাই পারি’ এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

জোটের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, ‘দেশে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে কিন্তু নারীর সম অবস্থান এখনও তৈরি হয়নি। একটি অসাম্প্রদায়িক, নির্যাতনমুক্ত, সহিংসতাহীন, সভ্য, সব মানুষের জন্য সমমর্যাদার দেশ গড়ে তুলতে আমাদের মিলেমিশে কাজ করতে হবে।’

সম্মেলন সঞ্চালনা করেন আমরাই পারি জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক।

সম্মেলনে অক্সফামের হেড অফ জেন্ডার জাস্টিস এন্ড সোশ্যাল ইনক্লুশেন মাহমুদা সুলতানা, জোটের কো-চেয়ারপারসন শাহীন আনাম, সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্তসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

আলোচকরা বলেন, স্বাধীন দেশে একটি নির্যাতনমুক্ত পরিবেশ আমরা কামনা করতেই পারি। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও দেশে নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান আমাদের লজ্জিত করে। আমরা যদি নিজেদের পরিবর্তন না আনি তাহলে পুলিশ বা আইন দিয়ে কোন কিছুর পরিবর্তন সম্ভব নয়।

নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠা, নারী-শিশুদের জন্য নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান জোট নেতারা।

শেয়ার করুন

বাল্যবিয়ে দিতে গিয়ে জরিমানা গুনলেন বাবা  

বাল্যবিয়ে দিতে গিয়ে জরিমানা গুনলেন বাবা  

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, জন্মনিবন্ধন সনদ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক। পরে কিশোরীর বাবাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া ওই কিশোরীকে বিয়ে না দেয়ার মর্মে মুচলেকা নেয়া হয়।    

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল নবম শ্রেণির এক ছাত্রী।

ফান্দাউক ইউনিয়নের সওদাগর গ্রামে শুক্রবার দুপুরে ওই কিশোরীর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হালিমা খাতুন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলার এক দুবাই প্রবাসীর সঙ্গে শুক্রবার দুপুরে বিয়ের কথা ছিল ওই কিশোরীর। খবর পেয়ে ইউএনও হালিমা খাতুনের নেতৃত্বে বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জন্মনিবন্ধন সনদ দেখে নিশ্চিত হয় কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক। পরে কিশোরীর বাবাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া ওই কিশোরীকে বিয়ে না দেয়ার মর্মে মুচলেকা নেয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হালিমা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাল্যবিয়ে বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শেয়ার করুন

দায়িত্ব নিয়েই পদত্যাগ করলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

দায়িত্ব নিয়েই পদত্যাগ করলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

সুইডেনের প্রথম নারী সরকারপ্রধান ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের প্রধানমন্ত্রিত্ব টিকেছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। ছবি: এএফপি

ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্রেট দলের এই নেতা বলেন, ‘জোট সরকার থেকে কোনো দল সরে গেলে সেই সরকারের পদত্যাগ করাই আমাদের সাংবিধানিক চর্চা। আমি এমন সরকারের নেতৃত্বে থাকতে চাই না, যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ আছে।’

নিয়োগ পাওয়ার ১২ ঘণ্টা না যেতেই পদত্যাগ করেছেন সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। দেশটির প্রথম নারী সরকারপ্রধান অ্যান্ডারসন এক দিনও টিকতে পারলেন না পদটিতে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, পার্লামেন্টে ভোটে জয়ের পর বুধবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু জোট সরকারের অংশীদার একটি দলের জোট ত্যাগ ও অ্যান্ডারসনের বাজেট প্রস্তাব আটকে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় পদত্যাগ করেন নবনিযুক্ত এই সরকারপ্রধান।

অ্যান্ডারসনের প্রস্তাবটি খারিজের পর পার্লামেন্টে ভোটে বিরোধীদের বাজেটবিষয়ক একটি পরিকল্পনা উতরে যায়। বিরোধীদের একটি অংশ অভিবাসীবিরোধী কট্টর ডানপন্থি আইনপ্রণেতা।

এর জেরে অ্যান্ডারসনের জোট সরকারের অন্যতম দল গ্রিন পার্টি জানায়, ‘ডানপন্থিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তৈরি করা নজিরবিহীন খসড়া বাজেটে’ সম্মত নয় দলটি।

অ্যান্ডারসন সাংবাদিকদের জানান, এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পার্লামেন্ট স্পিকারের কাছে পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানান তিনি। একদলীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করেন তিনি।

ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্রেট দলের এই নেতা বলেন, ‘জোট সরকার থেকে কোনো দল সরে গেলে সেই সরকারের পদত্যাগ করাই আমাদের সাংবিধানিক চর্চা। আমি এমন সরকারের নেতৃত্বে থাকতে চাই না, যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ আছে।’

অ্যান্ডারসনের পদত্যাগের পর পরবর্তী করণীয় নিয়ে দলনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন সুইডিশ পার্লামেন্টের স্পিকার।

চলতি মাসে ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের নেতা নির্বাচিত হন ৫৪ বছর বয়সী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। মঙ্গলবার বামপন্থিদের সঙ্গে তার চুক্তি চূড়ান্তের পরদিন পার্লামেন্টে ভোটে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে।

পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী স্তেফান লোফভেনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন অ্যান্ডারসন। সাত বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর গত ১০ নভেম্বর পদত্যাগ করেন স্তেফান লোফভেন।

শেয়ার করুন

প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে সুইডেন

প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে সুইডেন

সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পথে ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। ফাইল ছবি/এএফপি

পার্লামেন্টে ভোটে জিতলে রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তফের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শুক্রবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেবেন ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন; স্থলাভিষিক্ত হবেন পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী স্তেফান লোফভেনের। সাত বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর গত ১০ নভেম্বর পদত্যাগ করেন স্তেফান লোফভেন।

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি।

পার্লামেন্টে বুধবারের ভোটে চূড়ান্ত হবে তার ভাগ্য।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শেষ মুহূর্তে পর্যাপ্ত সমর্থন নিশ্চিত করেছেন অ্যান্ডারসন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন তিনি।

চলতি মাসে ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের নেতা নির্বাচিত হন ৫৪ বছর বয়সী এই নেত্রী। মঙ্গলবার বামপন্থিদের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয় তার।

পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধির শর্তে অ্যান্ডারসনকে সমর্থন দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে লেফট পার্টি। পার্লামেন্টে বুধবারের ভোটে অ্যান্ডারসনের পক্ষে রায় দেবেন দলটির আইনপ্রণেতারা।

স্টকহোমের স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে হবে ভোট।

সুইডেনের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমর্থন দরকার হয় না। প্রার্থীর বিরোধিতাকারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলেই চলে।

সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের জোটের অংশীদার গ্রিন আর সেন্টার পার্টির সমর্থনও আগেই নিশ্চিত করেছেন অ্যান্ডারসন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে সেন্টার পার্টি অ্যান্ডারসনের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

লেফট পার্টির প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল হলে অ্যান্ডারসনের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকি আগেই দিয়েছিল মধ্যপন্থিরা।

পার্লামেন্টে ভোটে জিতলে রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তফের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধামন্ত্রী হিসেবে শুক্রবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেবেন ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন; স্থলাভিষিক্ত হবেন পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী স্তেফান লোফভেনের।

সাত বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর গত ১০ নভেম্বর পদত্যাগ করেন স্তেফান লোফভেন।

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে টিভি নাটকে নারীদের অভিনয়ে মানা

আফগানিস্তানে টিভি নাটকে নারীদের অভিনয়ে মানা

নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে আফগানিস্তানের নারী সাংবাদিক ও উপস্থাপকদের ওপরও। ছবি: বিবিসি

নিষিদ্ধ করা হয়েছে শরিয়াহ বা ইসলামিক আইন এবং আফগানিস্তানের মূল্যবোধ-বিরুদ্ধ সব ধরনের সিনেমা। পুরুষদের ক্ষেত্রেও কোনো অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর কৌতুক ও বিনোদনের ক্ষেত্রে যেসব আফগানিস্তানের মূল্যবোধবিরোধী, সেগুলোও নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত হবে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

আফগানিস্তানে নারীদের ওপর আরও কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল তালেবান সরকার। এর মধ্যে রয়েছে টেলিভিশনে কোনো নাটকে নারীরা অভিনয় করতে পারবেন না

পাশাপাশি নারী সাংবাদিক ও উপস্থাপকদের মাথায় স্কার্ফ পরে পর্দার সামনে আসতে বলা হয়েছে। তবে কোন ধরনের স্কার্ফ ব্যবহার করতে হবে নির্দেশনায় তা পরিষ্কার করা হয়নি।

সাংবাদিকদরা বলছেন, নির্দেশনাগুলোর মধ্যে কয়েকটি অস্পষ্ট। এগুলো ব্যাখ্যা করা দরকার।

দুই দশক পর চলতি বছরের আগস্টের মাঝামাঝিতে ফের আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় কট্টর ইসলামপন্থি তালেবান। কিছুদিন পর গঠন করা হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

আর এই সরকার নারীদের ওপর একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চলছে। শুরুতেই মেয়েদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় তারা, যেমনটা ১৯৯০-এর দশকে ক্ষমতায় এসেও করেছিল তালেবান।

আফগানিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য নতুন আটটি নিয়ম জারি করেছে তালেবান সরকার। এসবে নারীদের অভিনয়ে বারণের পাশাপাশি আরও কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ করা হয়েছে শরিয়াহ বা ইসলামিক আইন এবং আফগানিস্তানের মূল্যবোধ-বিরুদ্ধ সব ধরনের সিনেমা। পুরুষদের ক্ষেত্রেও কোনো অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর কৌতুক ও বিনোদনের ক্ষেত্রে যেসব আফগানিস্তানের মূল্যবোধবিরোধী, সেগুলোও নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত হবে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

আফগানিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বেশির ভাগই বিদেশি নাটক দেখায়, যেগুলোতে নারী চরিত্রের প্রাধান্য থাকে।

নারীদের অভিনয় ও নারী সাংবাদিকদের ওপর এসব বিধিনিষেধ ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে উল্লেখ করেছেন আফগানিস্তানে একটি সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি হুজ্জাতুল্লাহ মুজাদ্দেদি।

বিবিসিকে তিনি বলেন, কয়েকটি বিধিনিষেধ বাস্তবিক নয়। এগুলো যদি সত্যিই বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে সম্প্রচারকারীরা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হবেন।

শেয়ার করুন

‘ঈশ্বরের পুত্র’ ধর্মযাজক জড়ালেন নারী পাচার মামলায়

‘ঈশ্বরের পুত্র’ ধর্মযাজক জড়ালেন নারী পাচার মামলায়

ফিলিপাইনের ডাভাও শহরে কিংডম অফ জেসাস ক্রাইস্ট গির্জার একটি অনুষ্ঠানে নিজেকে 'ঈশ্বরের পুত্র' দাবি করা ধর্মযাজক অ্যাপোলো কুইবোলয়। ছবি: ভাইস নিউজ

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ৭১ বছর বয়সী কুইবোলয় এবং তার সঙ্গে অভিযুক্ত দুই আসামি ১২ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিশু, কিশোরী ও তরুণীদের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিতেন। এরপর ভুক্তভোগীরা কুইবোলয়ের নাশতা প্রস্তুত করতেন, তার ঘরদোর পরিষ্কার করতেন এবং তার শরীর ম্যাসাজ করে দিতেন। ‘নৈশকালীন দায়িত্ব’ হিসেবে তাদের কুইবোলয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হতো।

নিজেকে ‘ঈশ্বরের নিযুক্ত পুত্র’ দাবি করেন ফিলিপিনো ধর্মযাজক অ্যাপোলো কুইবোলয়। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত গির্জার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার প্রশংসায় তরুণীদের গলা ছেড়ে গান গাওয়ার পর্ব বেশ নিয়মিত। ভূমিকম্পকে থেমে যাওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তেকে নির্বাচনী প্রচারের জন্য নিজের প্রাইভেট জেট আর হেলিকপ্টারও ধার দিয়েছিলেন কুইবোলয়।

দুতের্তের আধ্যাত্মিক উপদেষ্টা অ্যাপোলো কুইবোলয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, গির্জার নারী কর্মীদের অশালীন প্রস্তাব দিতেন তিনি। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ওই নারীদের ‘অনন্ত অভিশাপ’ দিয়ে ভয়ও দেখাতেন।

ভাইস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ডাভাও শহরে অবস্থিত ‘কিংডম অফ জেসাস ক্রাইস্ট, দ্য নেইম অ্যাবাভ এভ্রি নেইম’ গির্জার প্রধান অ্যাপোলো কুইবোলয়। তার বিরুদ্ধে করা হয়েছে নারী পাচারের মামলা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে গোপনে গির্জার নারী সদস্যদের পাঠানো, সেখানে তাদের ভুয়া দাতব্য কাজের জন্য অনুদান সংগ্রহে বাধ্য করা এবং বাকিদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনসহ নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাতেন কুইবোলয়।

কুইবোলয় ও তার ফিলিপাইনভিত্তিক মেগাচার্চের পাঁচজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কৌঁসুলিরা। এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্রের আইন বিভাগ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজীবনের জন্য অভিশপ্ত’ করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে কুইবোলয় তার সঙ্গে কিশোরী ও তরুণীদের যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করতেন।

এর আগে ২০২০ সালেও কুইবোলয়ের মেগাচার্চের আরও তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও একই অভিযোগে মামলা করা হয়।

কুইবোলয় বাদে মামলায় বাকি অভিযুক্তের সবাই নারী।

এ বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি এই ধর্মযাজক।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ৭১ বছর বয়সী কুইবোলয় এবং তার সঙ্গে অভিযুক্ত দুই আসামি ১২ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিশু, কিশোরী ও তরুণীদের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিতেন।

এরপর ভুক্তভোগীরা কুইবোলয়ের নাশতা প্রস্তুত করতেন, তার ঘরদোর পরিষ্কার করতেন এবং তার শরীর ম্যাসাজ করে দিতেন। ‘নৈশকালীন দায়িত্ব’ হিসেবে তাদের কুইবোলয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হতো।

অভিযোগপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে পাঁচ নারী ভুক্তভোগীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন অভিযোগ করার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। তাদের বলা হতো, ‘নৈশকালীন দায়িত্ব ঈশ্বরের ইচ্ছা, বিশেষ সুবিধা এবং ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে কুইবোলয়ের প্রতি আস্থার প্রদর্শন।’

বিষয়টি নিয়ে অসম্মতি জানালে নারীদের বলা হতো যে ‘তাদের ওপর শয়তান ভর করেছে এবং কথা না শুনলে তারা সারা জীবনের জন্য অভিশপ্ত হয়ে যাবে।’

কোনো কিশোরী বা তরুণী চার্চ ছেড়ে চলে যেতে চাইলে কিংবা রাতে কুইবোলয়ের কাছে যেতে না চাইলে তাদের শারীরিক নির্যাতনও করতেন তিনি। উল্টোদিকে কুইবোলয়কে সন্তুষ্ট করতে পারলে মিলত উপহার।

কোনো ভুক্তভোগী পালিয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে সমন জারি করতেন কুইবোলয়। সমনে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে অশ্লীল আচরণের অভিযোগ আনা হতো এবং তারা সারা জীবনের জন্য অভিশপ্ত বলে উল্লেখ করা হতো।

তদন্তে উঠে এসেছে, এসব অপকর্মের শুরু ২০০২ সালে। কমপক্ষে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

কুইবোলয়সহ আসামিদের তিনজন বর্তমানে পলাতক। কুইবোলয় ফিলিপাইনেই রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইন ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাডা ও হাওয়াইয়ে কুইবোলয়ের বাড়ি আছে।

২০১৮ সালে হনলুলুর বিমানবন্দরে স্বল্প সময়ের জন্য আটক করা হয়েছিল কুইবোলয়কে। মোজার ভেতরে নগদ সাড়ে তিন লাখ ডলার ভরে সেগুলো নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত বিমানে ওঠার সময় আটক হন তিনি। আগ্নেয়াস্ত্রের সরঞ্জামও উদ্ধার হয় তার কাছ থেকে।

ফিলিপাইনের ডাভাও শহরে কুইবোলয়ের সাবেক এক অনুসারী ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও আদম পাচারের অভিযোগ আনেন। সেসব অভিযোগ অস্বীকার করেন কুইবোলয়।

কুইবোলয়ের গির্জা কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশ্বজুড়ে গির্জাটির সদস্যের সংখ্যা ৭০ লাখ।

শেয়ার করুন

ইংল্যান্ড-ওয়েলসে বাল্যবিয়ে নিষিদ্ধে পার্লামেন্টে বিল

ইংল্যান্ড-ওয়েলসে বাল্যবিয়ে নিষিদ্ধে পার্লামেন্টে বিল

প্রতীকী ছবি।

গত বছর যুক্তরাজ্যের জোর করে বিয়ে দেয়ার ৭৫৩টি ঘটনা সামলেছিল প্রশাসন, যার এক-চতুর্থাংশই ছিল বাল্যবিয়ে। ব্রিটিশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে আইন মেনে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের বিয়ে হয়েছিল তিন হাজার ৯৬টি।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বাল্যবিয়ে বন্ধের লক্ষ্যে আজ (শুক্রবার) ভোট হবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে। এতে ১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ে নিষিদ্ধের পক্ষে ও বিপক্ষে মত দেবেন আইনপ্রণেতারা।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পারিবারিক ও যৌন সহিংসতা আর ‘অনার কিলিং’ জাতীয় অপরাধ ঠেকাতে পার্লামেন্টে বিলটি উপস্থাপন করবে ব্রিটিশ সরকার। এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বিয়ে ও আইনগত সম্পর্কের ন্যূনতম বয়স মা-বাবার অনুমতি সাপেক্ষে যথাক্রমে ১৬ ও ১৭ বছর।

ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা পলিন লাথাম বলেন, ‘এটা শুধু যে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, তা-ই নয়; এ আইনের ফাঁকফোকর নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করে।

‘বিলটি আইন হিসেবে কার্যকর হলে ছোট শিশু-কিশোরদের জীবনে নাটকীয় পরিবর্তন আসবে, কিশোরীদের ক্ষেত্রে তো বটেই, কিশোরদের ক্ষেত্রেও। তাদের জীবনে নতুন সুযোগ আর ভবিষ্যৎ পাল্টে দেবে এ আইন।’

বিলটি পার্লামেন্টে উপস্থাপন করবেন পলিন লাথাম। তবে এটি প্রস্তাব হিসেবে প্রথম উপস্থাপন করেছিলেন আরেক আইনপ্রণেতা সাজিদ জাভিদ।

গত বছর যুক্তরাজ্যে জোর করে বিয়ে দেয়ার ৭৫৩টি ঘটনা সামলেছিল প্রশাসন, যার এক-চতুর্থাংশই ছিল বাল্যবিয়ে।

ব্রিটিশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে আইন মেনে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের বিয়ে হয়েছিল তিন হাজার ৯৬টি।

বিয়ে ও আইনগত সম্পর্কের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ সাপেক্ষে নতুন আইন পাস হলে ১৮ বছরের কম বয়সীদের বিয়ে দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। সর্বোচ্চ শাস্তি হবে সাত বছরের কারাদণ্ড।

শেয়ার করুন