ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ‘হত্যার’ জট খোলেনি ৫ বছরেও

ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ‘হত্যার’ জট খোলেনি ৫ বছরেও

ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী। ফাইল ছবি

দিয়াজের বোন জুবাঈদা ছরওয়ার চৌধুরী নিপা বলেন, ‘আসামিরা সবাই প্রভাবশালী। তারা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। যতটুকু জানি এই মামলার যিনি বিভাগীয় প্রধান খালেদ শাহনেওয়াজ তিনি চবি সাবেক ছাত্র। উনার সঙ্গে আসামিদের পূর্বপরিচয় আছে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর হত্যা মামলার জট পাঁচ বছরেও খোলেনি। মামলার তদন্তে অনাস্থা প্রকাশ করেছে দিয়াজের পরিবার।

পরিবারের দাবি, তদন্তকাজকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে না। সময় ক্ষেপণ করে তদন্ত বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। তদন্ত চলছে দাবি করলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতির কথা জানাতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বর্তমানে মামলার তদন্ত করছেন সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবদুস সালাম মিয়া।

তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তের অগ্রগতি আছে। আরও সময় লাগবে।’

২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে নিজ বাসা থেকে দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দিয়াজ বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিলেন।

দিয়াজের বোন জুবাঈদা ছরওয়ার চৌধুরী নিপা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই মামলার তদন্তের কোনো অগ্রগতি নেই। পাঁচ বছর আগে যেমন ছিল এখনও তেমনই আছে।’

এর পেছনে কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আসামিরা সবাই প্রভাবশালী। তারা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। যতটুকু জানি এই মামলার যিনি বিভাগীয় প্রধান খালেদ শাহনেওয়াজ তিনি চবির সাবেক ছাত্র। উনার সঙ্গে আসামিদের পূর্বপরিচয় আছে।’

তদন্তে অনাস্থা প্রকাশ করে সিইআইডির হেডকোয়াটারে অভিযোগ দিয়েছে দিয়াজের পরিবার।

দিয়াজের বোন এ বিষয়ে বলেন, ‘বিষয়গুলো সিইআইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আমরা অভিযোগ দিয়েছি। বিভাগীয় প্রধানের বাড়ি চট্টগ্রামে, কিন্তু চট্টগ্রামে বাড়ি হলে তার চট্টগ্রামে নিয়োগ পাওয়ার কথা না। আমরা শুনেছি তাকে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ এনেছে।

‘আমাদের দুই একজন সাক্ষী আমাদের অভিযোগ করেছেন, তাদের উনি বায়াসড করার চেষ্টা করেছেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। বিভাগীয় প্রধানকে আসামিদের গ্রেপ্তারের কথা বললেও এই বিষয়ে তার কোনো বিকারই নাই। এইসব বিষয় উল্লেখ করে আমরা সিআইডি হেডকোয়াটারে অভিযোগ করেছিলাম।’

এ ঘটনায় দিয়াজের এক বান্ধবীও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন উল্লেখ করে জুবাঈদা ছরওয়ার চৌধুরী নিপা বলেন, ‘শুনেছি দিয়াজ যখন মারা যায় সে (দিয়াজের বান্ধবী) ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। একটা হত্যা মামলায় ঘটনাস্থলে থাকা মানে সেই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা। কিন্তু তার থেকে জবানবন্দি নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যেহেতু প্রথম থেকে তার নাম আসছে আমরা প্রথম থেকেই বলছি তাকে গ্রেপ্তার করা হোক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জিকে শামীমকে এরেস্ট করার জন্য আলাদতে আবেদন করেছি। আদালত ইনভেস্টিগেটিং অফিসারকে (আইও) নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু আইও এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’

দিয়াজের পরিবার ও চবি ছাত্রলীগের একাংশ দাবি করে আসছিলেন, তাকে ‘পরিকল্পিতভাবে হত্যা’ করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের দুই দিন পর ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তাকে হত্যার আলামত মেলেনি বলে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে দিয়াজের পরিবার।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর ১০ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।

এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ওই সময়ের সভাপতি আলমগীর টিপু, তৎকালীন সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা জামশেদুল আলম চৌধুরী, তাদের অনুসারী রাশেদুল আলম জিশান, আবু তোরাব পরশ, মনসুর আলম, আবদুল মালেক, মিজানুর রহমান, আরিফুল হক অপু ও মোহাম্মদ আরমানকে আসামি করা হয়।

দিয়াজ ও অভিযুক্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর সবাই সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

২০১৯ সালের নভেম্বরে ক্যাসিনো-কাণ্ডে গ্রেপ্তার ঠিকাদার জিকে শামীমকে দিয়াজের পরিবারের পক্ষ থেকে আসামি করা হলে আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

ওই সময় জাহেদা আমিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দিয়াজের লাশ কবর থেকে তুলে ফের ময়নাতদন্তের আদেশ দেয়।

২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর লাশ তুলে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ। ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, দিয়াজের শরীরে আঘাতজনিত জখমের মাধ্যমে ‘হত্যার আলামত’ আছে।

আদালতের নির্দেশে হাটহাজারী থানায় হত্যা মামলা রেকর্ড হয়। ওই সময়কার ওসি বেলাল উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর নিজেই তদন্ত শুরু করেন। পরে মামলার তদন্তভার যায় সিআইডির কাছে। সিআইডির প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান তদন্ত শুরুর পর বদলি হন। এরপর থেকে আরও দুই জন তদন্তকারী কর্মকর্তার পরিবর্তন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চমেক ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: ২০ দিনেও শেষ হয়নি তদন্ত 
‘বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করায়’ ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
চমেকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: এবার অন্য পক্ষের মামলা
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে চমেক বন্ধ: ফের সংকটে শিক্ষার্থীরা
চবিতে ভর্তিচ্ছুর মাথা ফাটাল ছাত্রলীগকর্মীরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মারধরে চালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার ৩

মারধরে চালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার ৩

বাসচালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার তিনজন। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ‘অজ্ঞাত মাইক্রোবাসটি শনাক্তের জন্য হাটহাজারী চৌধুরী হাট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত আমরা প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ঘটনার সময় রাতে হওয়ায় গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবুও একপর্যায়ে ওই গাড়ি শনাক্ত করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি।’

চট্টগ্রামে মারধরে বাসচালক নিহতের মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নগরীর বায়েজিদ থানার আমিন কলোনি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই তিনজন হলেন আনোয়ার হোসেন, মো. মোর্শেদ ও মো. রবিউল।

বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান সোমবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছিলেন, বায়েজিদ থানার আমিন জুট মিল এলাকায় ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় নোহা গাড়িকে সাইড না দেয়াকে কেন্দ্র করে প্রচণ্ড মারধরের শিকার হন ৩ নম্বর সিটি সার্ভিসের চালক আব্দুর রহিম।

পরে ওইদিন রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২৭ নভেম্বর সকালে হাটহাজারীতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে পরিবহন শ্রমিকরা।

সাড়ে তিন ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলেও চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে নগর পুলিশের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসে গাড়ি চলাচল শুরু করে।

ওইদিন রাতে বায়েজিদ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন আব্দুর রহিমের স্ত্রী জোছনা বেগম।

ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ‘অজ্ঞাত মাইক্রোবাসটি শনাক্তের জন্য হাটহাজারী চৌধুরী হাট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত আমরা প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ঘটনার সময় রাতে হওয়ায় গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবুও একপর্যায়ে ওই গাড়ি শনাক্ত করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি।’

কী হয়েছিল সেদিন?

ওসি জানান, হাটহাজারী থেকে আসার সময় চৌধুরী হাটের আগে ওভারটেক করা নিয়ে মাইক্রোবাসের যাত্রীদের সঙ্গে আব্দুর রহিমের ঝামেলা হয়। মিনিবাসে যাত্রী ওঠানামার কারণে মাইক্রোবাসের পথরোধ হয়েছিল।

এরপর চৌধুরী হাট এলাকায় পেট্রোল পাম্পের সামনে মাইক্রোবাসের যাত্রীরা দ্রুতযান পরিবহনের আরেকটি বাসের চালক আনোয়ার হোসেনকে মারধর করেন। মারধরে ওই চালক অজ্ঞান হয়ে যান। ভুল চালককে মারধরের বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা দ্রুত অক্সিজেনের দিকে চলে যান।

বালুছড়া এলাকায় আব্দুর রহিমের বাসটি চিনতে পেরে পিছু করা শুরু করেন। আমিন জুট মিলের সামনে তারা বাসের গতিরোধ করে চালককে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুর রহিমের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
চমেক ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: ২০ দিনেও শেষ হয়নি তদন্ত 
‘বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করায়’ ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
চমেকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: এবার অন্য পক্ষের মামলা
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে চমেক বন্ধ: ফের সংকটে শিক্ষার্থীরা
চবিতে ভর্তিচ্ছুর মাথা ফাটাল ছাত্রলীগকর্মীরা

শেয়ার করুন

বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা: এলাকা সুনসান

বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা: এলাকা সুনসান

বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার পর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের গাড়াগ্রামের মাঝাপাড়া এখন সুনসান নীরবতা। ছবি: নিউজবাংলা

হামলায় অভিযুক্ত পরাজিত প্রার্থীর চাচি ইয়ামিন বেগম জানান, ‘আমরা হেরে গেছি। তারপর কী হয়েছে আমাদের জানা নেই। রাত ২টার দিকে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে কিছু ব্যক্তি। আমার পরিবার থেকে দুজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কে বা কারা নিয়ে গেছে তা আমরা জানি না।’

নির্বাচনি সহিংসতায় এক বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার পর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের গাড়াগ্রামের মাঝাপাড়া এখন সুনসান।

ঘটনাস্থলে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গিয়ে দেখা গেছে গুমট পরিবেশ। পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আশপাশে কাউকে ভিড়তে দিচ্ছে না পুলিশ।

ফল ঘোষণার পর জাতীয় পার্টির পরাজিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকদের হামলায় বিজিবি সদস্য রুবেল হোসেন নিহত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। রুবেল বাহিনীটির নায়েক ছিলেন।

এ ঘটনার পর পরাজিত প্রার্থীর বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। দুজনকে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগও করেছেন ওই প্রার্থীর এক স্বজন।

সহিংসতার বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, গাড়াগ্রাম ইউপিতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী জোনাব আলীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই ফল প্রত্যাখান করেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকরা। কেন্দ্র থেকে ব্যালটসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম নিয়ে উপজেলা সদরে রির্টানিং কর্মকর্তার দপ্তরে যাওয়ার সময় কর্মকর্তাদের ওপর লাটিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান তারা।

তারা আরও জানান, ওই সময় আত্মরক্ষায় বিজিবি সদস্য রুবেল কেন্দ্রের একটি কক্ষে আশ্রয় নিলে বিক্ষুব্ধরা সেখানে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। পুলিশের গাড়ি ও ভোট কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের চেষ্টাও চলান তারা। আত্মরক্ষায় তখন কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায় বলেন, ‘ফল ঘোষণার পর লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিক লোকজন নিয়ে এসে ওই কেন্দ্রে তাকে জয়ী ঘোষণার দাবি জানিয়ে নির্বাচনি সরঞ্জাম নিতে বাধা দেন।

‘ওই সময় আমাদের ওপর আক্রমণ চালাতে শুরু করলে আমি নিজে, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কয়েকজন পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য আহত হই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরে আত্মরক্ষার্থে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন।’

বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা: এলাকা সুনসান



সরকার বিভাগের উপপরিচালক আবদুর রহমান বলেন, ‘হামলায় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসসহ নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন।’

নির্বাচনি সহিংসতার পর গাড়াগ্রামের মাঝাপাড়ায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা জোসনা বেগম জানান, প্রথম শোনা গেছে বর্তমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। পরে আবার জানা গেল সে হেরে গিয়ে জিতেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী। এনিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয় স্থানীয়দের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

শুনছি সে সময় বিজিবির এক সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকায় কোনো মানুষ নেই।

পরাজিত প্রার্থীর চাচি ইয়ামিন বেগম জানান, ‘আমরা হেরে গেছি। তারপর কী হয়েছে আমাদের জানা নেই। রাত ২টার দিকে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে কিছু ব্যক্তি।

‘আমার পরিবার থেকে দুজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কে বা কারা নিয়ে গেছে তা আমরা জানি না।’

প্রতিবেশী ফজিলা বেগম বলেন, ‘রাতে শুনেছি হাঙ্গামার খবর। সকাল থেকে এই এলাকায় কোনো মানুষ পাওয়া যায়নি।’

সহিংসতার ঘটনায় কেউ আটক আছে কিনা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তিনি কথা বলতে চাননি মামলা হওয়া প্রসঙ্গেও।

আরও পড়ুন:
চমেক ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: ২০ দিনেও শেষ হয়নি তদন্ত 
‘বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করায়’ ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
চমেকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: এবার অন্য পক্ষের মামলা
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে চমেক বন্ধ: ফের সংকটে শিক্ষার্থীরা
চবিতে ভর্তিচ্ছুর মাথা ফাটাল ছাত্রলীগকর্মীরা

শেয়ার করুন

মেয়র আব্বাস কোথায়

মেয়র আব্বাস কোথায়

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: সংগৃহীত

নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমরাও আব্বাস আলীকে খুঁজছি। ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তাও নিচ্ছি। আমরা আশা করছি তাকে পেয়ে যাব।’

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলায় রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার পর তাকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। স্থানীয়রা বলছেন, তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন।

মেয়রকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি চলছে।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে মেয়র আব্বাসের একটি অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এর পরই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান তিনি।

মেয়র অফিস করছেন না। তবে তার মোবাইল ফোনটি চালু। কখনও ফোন ধরছেন, কখনও সাড়া দিচ্ছেন না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে আব্বাস দাবি করেন, অডিওটি এডিট করা। তবে শুক্রবার বিকেলে তিনি ফেসবুকে লাইভে এসে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানো নিয়ে আপত্তির বিষয়টি স্বীকার করেন। এ জন্য তিনি ক্ষমাও চান।

ওই দিন তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি রাজশাহীর বাইরে আছি। আমি ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলব। সেখানেই অনেক বিষয়ে আপনারা ক্লিয়ার হবেন। আমি কন্টিনিউ লাইভে আসব, সেখানেই প্রশ্নের উত্তর দিব।’

কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর নামে গত ২৪ নভেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হয়। নগরীর বোয়ালিয়া থানায় করা মামলার বাদী নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও ১৩ নম্বর কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন। এ ছাড়া ২৩ নভেম্বর চন্দ্রিমা থানায় নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তহিদুল হক সুমান এবং রাজপাড়া থানায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন একই অভিযোগ এনে দুটি এজাহার জমা দেন।

অডিও প্রকাশের পর থেকে রাজশাহী শহর এবং কাটাখালীতে আলাদা কর্মসূচি থেকে আব্বাস আলীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। তবে এখন তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে।

কাটাখালী পৌরসভার কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ জানান, ‘গত ১৫ নভেম্বরের পর থেকেই আব্বাস আলী পৌরসভায় যাননি। আমরা তার গ্রেপ্তার ও শাস্তিসহ বিভিন্ন দাবি করেছি। কিন্তু তিনি কোথায় আছেন, এটি আমরাও নিশ্চিত হতে পারছি না।’

আব্বাসের অনুপস্থিতিতে পৌরসভার সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য কাউন্সিলররা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘আব্বাস আলী যে অপরাধ করেছেন তার জন্য তাকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। তিনি কোথায় সেটি নিশ্চিত হতে পারছি না। তবে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে শুনতে পারছি তিনি ঢাকায় থাকতে পারেন।’

নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমরাও আব্বাস আলীকে খুঁজছি। ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তাও নিচ্ছি। আমরা আশা করছি তাকে পেয়ে যাব।’

ওসি বলেন, ‘মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার তদন্ত চলছে। অডিও ক্লিপটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রক্রিয়ার মাঝেই তিনি ২৬ নভেম্বর নিজেই ফেসবুক লাইভে এসে স্বীকারোক্তি দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। কাজেই এটি আর খতিয়ে দেখার কিছু নাই।’

ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘তিনি যে মামলার আসামি তাতে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। এখন আমরা মূলত তাকে খুঁজে বের করার জন্য যা যা করার দরকার করছি।’

আরও পড়ুন:
চমেক ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: ২০ দিনেও শেষ হয়নি তদন্ত 
‘বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করায়’ ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
চমেকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: এবার অন্য পক্ষের মামলা
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে চমেক বন্ধ: ফের সংকটে শিক্ষার্থীরা
চবিতে ভর্তিচ্ছুর মাথা ফাটাল ছাত্রলীগকর্মীরা

শেয়ার করুন

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার

মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, আশিককে লালমনিরহাটের চন্ডীবাজার থেকে এবং আলমকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বড়জালা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। খুব শিগগিরই তাদের থানায় হস্তান্তর করা হবে।

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সঙ্গীকে গুলি করে হত্যা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলো চারজন।

কুমিল্লার র‍্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন মামলার ৬ নম্বর আসামি আশিকুর রহমান রকি ও ৭ নম্বর আসামি আলম মিয়া।

মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, আশিককে লালমনিরহাটের চন্ডীবাজার থেকে এবং আলমকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বড়জালা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। খুব শিগগিরই তাদের থানায় হস্তান্তর করা হবে।

কুমিল্লার চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড থেকে বৃহস্পতিবার আসামি মো. মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাসুম হত্যা মামলায় ৯ নম্বর আসামি। এর আগে মো. সুমন নামে একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ।

কাউন্সিলর সোহেল হত্যার ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মঙ্গলবার রাতে মামলা হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, মামলায় ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ১০-১২ জনকে।

নিজ কার্যালয়ে ২২ নভেম্বর (সোমবার) বিকেলে কাউন্সিলর সোহেলসহ গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ৬ জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ সাহার মৃত্যু হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওসি জানান, কাউন্সিলর সোহেল সুজানগরে তার কার্যালয়ে বসে ছিলেন। এ সময় মুখোশ পরা ১৫ থেকে ২০ জন তাকে গুলি করে। এতে কাউন্সিলর সোহেল লুটিয়ে পড়েন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন হরিপদ সাহা, পাথুরীয়াপাড়ার মো. রিজু ও মো. জুয়েল এবং সুজানগর এলাকার সোহেল চৌধুরী ও মাজেদুল।

চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে এ ঘটনা বলে জানান স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন:
চমেক ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: ২০ দিনেও শেষ হয়নি তদন্ত 
‘বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করায়’ ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
চমেকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: এবার অন্য পক্ষের মামলা
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে চমেক বন্ধ: ফের সংকটে শিক্ষার্থীরা
চবিতে ভর্তিচ্ছুর মাথা ফাটাল ছাত্রলীগকর্মীরা

শেয়ার করুন

এবার আ.লীগ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি

এবার আ.লীগ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: সংগৃহীত

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি দিয়ে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার মেয়র আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে এবার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়ে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভা শেষে এ কথা জানান সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুুদ দারা।

এর আগে গত বুধবার মেয়র আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আব্বাস আলী রাজশাহীর কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে তিনি প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

ঘরোয়া একটি আলোচনায় মেয়র আব্বাস বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের বিরোধিতা করে কথা বলেন। গত সোমবার এই আলোচনার অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তিনি একজনকে বলছেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে। … ফ্রার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে… যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটা… ওটা (ম্যুরাল)।’

মেয়র আব্বাস আলী বলছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না, যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে… আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এই বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে শুক্রবার বিকালে ফেসবুক লাইভে মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও মনঃপূত না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এতকিছু করা কী ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দল জীবনে থাকি তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

আরও পড়ুন:
চমেক ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: ২০ দিনেও শেষ হয়নি তদন্ত 
‘বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করায়’ ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
চমেকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: এবার অন্য পক্ষের মামলা
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে চমেক বন্ধ: ফের সংকটে শিক্ষার্থীরা
চবিতে ভর্তিচ্ছুর মাথা ফাটাল ছাত্রলীগকর্মীরা

শেয়ার করুন

নটর ডেমের ছাত্র নিহত: সেই গাড়ির মূল চালক গ্রেপ্তার

নটর ডেমের ছাত্র নিহত: সেই গাড়ির মূল চালক গ্রেপ্তার

ডিএসসিসির ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় নিহত নটর ডেম ছাত্রের কাছ থেকে পাওয়া যায় এ কার্ড। ফাইল ছবি

গুলিস্তানে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র নাঈমকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ধাক্কা দেয় ডিএসসিসির একটি ট্রাক। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান। গাড়ির মূল চালক ছিলেন হারুন মিয়া।

রাজধানীর গুলিস্তানের গোল চত্বরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লাবাহী যে গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসান নিহত হয়েছিলেন, তার মূল চালক হারুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‌্যাব-৩-এর অপারেশন্স অফিসার বীণা রানী দাস নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গুলিস্তানে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র নাঈমকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ধাক্কা দেয় ডিএসসিসির একটি ট্রাক।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান। গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ও টহল পুলিশ ট্রাক ও চালকের আসনে থাকা রাসেলকে আটক করে। পরে নাঈমের বাবার করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে তোলা হলে রাসেলকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান বিচারক।

এদিকে ময়লার গাড়ির চাপায় নাঈম হাসান নিহত হওয়ার ঘটনায় দুজনকে কর্মচ্যুত ও একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিএসসিসির মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত দপ্তর আদেশ পাঠান।

আরও পড়ুন:
চমেক ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: ২০ দিনেও শেষ হয়নি তদন্ত 
‘বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করায়’ ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
চমেকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: এবার অন্য পক্ষের মামলা
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে চমেক বন্ধ: ফের সংকটে শিক্ষার্থীরা
চবিতে ভর্তিচ্ছুর মাথা ফাটাল ছাত্রলীগকর্মীরা

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: লাইভে ক্ষমা চাইলেন মেয়র আব্বাস

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: লাইভে ক্ষমা চাইলেন মেয়র আব্বাস

ফেসবুক লাইভে কাঁদলেন রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি ভুল করেছি, তার জন্য আইন আছে। আমি আজ কয়েক দিন ধরে না খেয়ে আছি। আমি অসুস্থ হয়ে গেছি। আমাকে হেল্প করুন। আমাকে বাঁচান প্লিজ।’

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা ভুল ছিল জানিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন রাজশাহীর কাটাখালীর পৌর মেয়র আব্বাস আলী।

ফেসবুকে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লাইভে এসে তিনি তার ভাইরাল হওয়া অডিও রেকর্ডের বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চান। লাইভে তাকে কাঁদতেও দেখা গেছে।

তিনি বলেন, ‘ম্যুরাল নিয়ে ছড়ানো অডিওটা একটি ঘরোয়া আড্ডার। সেখানে আমি গল্পে কিছু কথা বলেছি, কিন্তু বাস্তবে আমি ম্যুরালের বিরোধিতা করিনি... এটি আমি ভুল করে থাকতে পারি। মানুষই তো ভুল করে। এ জন্য আমি ক্ষমা চাই, কিন্তু আমাকে এ জন্য যে শাস্তি দেয়া হচ্ছে তা অনেক বেশি।’

গত ২৩ নভেম্বর থেকে মেয়র আব্বাসের একটি অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তাতে আব্বাসকে বলতে শোনা যায়, ‘সিটি গেট আমার অংশে…ফ্রার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা, কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে…যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব, তবে শেষ মাথাতে যেটা…ওটা (ম্যুরাল)।’

এটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে শুরু হয় সমালোচনা। ২৩ নভেম্বর রাতে এক ফেসবুক পোস্টে আব্বাস দাবি করেন, ওই অডিও এডিট করা।

মেয়র আব্বাসকে বুধবার দুপুরে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার তার ওপর অনাস্থা জানান পৌরসভার সব কাউন্সিলর।

তাকে আওয়ামী লীগের পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবিতে শুক্রবার দিনভর রাজশাহী নগরীতে চলে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ-সমাবেশ।

ওই অডিও রেকর্ডের বক্তব্যের বিষয়ে লাইভে আব্বাস বলেন, ‘ম্যুরাল নিয়ে আমার কিছু কথা এখানে বলার আছে। কাটাখালীতে দুটি গেট করার জন্য আমি ভিডিও আপলোড দিয়েছিলাম। সবার মতামত চেয়েছিলাম। এখানে যে বিচ্যুতিটা আমার ঘটেছে, যে জিনিসটা নিয়ে কথা হচ্ছে। আমি একটা মানুষ, একটা দল করি, কিন্তু আমি মুসলমান। আমাদের এখানে একটা মাদ্রাসা আছে।

‘ম্যুরালের বক্তব্যটা নিয়ে যে কথা আসছে, ওই মাদ্রাসার যে বড় হুজুর, মাঝেমধ্যেই জানাজা বা অনুষ্ঠানের কারণে আমার যাওয়া হয়...মানুষটা বড় হুজুর, জামাল উদ্দিন মাহমুদ সন্দিপি... আমি মাদ্রাসায় বসেছি, কথা তুলতে তুলতে ভিডিওটা তো দেখলাম, ম্যুরালটার বিষয়ে কোনো চেঞ্জ আনা যায় না? কী সমস্যা? উনি ব্যাখা দিলেন। বোঝালেন। আমি শুনেছি। আমি তো মানুষ, আমি তো একটা মুসলমান। আল্লার কথায় আসলে কে না দুর্বল হয়। আমিও একটু দুর্বল হলাম। আমি সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করিনি। বলেছি, আমি ম্যুরালটা করলে ইসলামে ঠিক হবে না। এটা পাপ হবে। আড্ডার মধ্যে অনেক গল্পই তো করে। আমিও হয়তো করেছি। হয়তো ভুল করেছি, কত বড় ভুল করেছি?’

আব্বাস দাবি করেন, ওই অডিও ভাইরালের জেরে দল থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর কাউন্সিলরদের হুমকি দিয়ে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানাতে বাধ্য করা হয়। তার কাটাখালীর দোকানে হামলা হয়। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানাননি, কার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করছেন।

আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও মনঃপূত না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এত কিছু করা ক ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দল জীবনে থাকি তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

লাইভে তিনি সবার কাছে সাহায্য চেয়ে বলেছেন, ‘... যদি আমি মনে করেন, বড় অন্যায় করেছি, আমার পাশে দাঁড়ানোর দরকার নাই। যদি অন্যায় না হয় আমার পাশে দাঁড়ান, অনেক সহযোগিতা চাই। আমার অসহায় মাকে দেখতে দিন। কয়দিন আগে চিকিৎসা করিয়ে এসেছি। চার মাসের বাচ্চার কাছে যেতে চাই। আমার পাশে একটু দাঁড়ান প্লিজ। আল্লার ওয়াস্তে দাঁড়ান।

‘আমি ভুল করেছি, তার জন্য আইন আছে। আমি আজ কয়েক দিন ধরে না খেয়ে আছি। আমি অসুস্থ হয়ে গেছি। আমাকে হেল্প করুন। আমাকে বাঁচান প্লিজ।’

ভাইরাল ওই অডিও রেকর্ডের জেরে মেয়র আব্বাসের নামে গত বৃহস্পতিবার রাতে বোয়ালিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়।

এর আগে দলীয় কার্যালয়ে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি বৈঠকে বুধবার দুপুরে আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে কেন দলীয় সদস্যপদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হবে না, জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আব্বাস আলী রাজশাহীর কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে তিনি প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:
চমেক ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: ২০ দিনেও শেষ হয়নি তদন্ত 
‘বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করায়’ ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
চমেকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: এবার অন্য পক্ষের মামলা
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে চমেক বন্ধ: ফের সংকটে শিক্ষার্থীরা
চবিতে ভর্তিচ্ছুর মাথা ফাটাল ছাত্রলীগকর্মীরা

শেয়ার করুন