শতবর্ষ উপলক্ষে ঢাবিতে প্রায় ২৫০ গবেষণা

শতবর্ষ উপলক্ষে ঢাবিতে প্রায় ২৫০ গবেষণা

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা

উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘একযোগে ও পরিকল্পিতভাবে এতোগুলো গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করা একটি ল্যান্ড মার্ক । মৌলিক গবেষণা জোরদারের অংশ হিসেবে আমরা এই সংস্কৃতির ওপর জোর দিচ্ছি। এগুলো চলমান আছে। এই গবেষণাগুলো কখন শেষ করতে হবে সেই টাইম লিমিটও দেয়া আছে। পরিকল্পিতভাবে আমরা অগ্রসর হচ্ছি।’

শতবর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় ২৫৫টির বেশি মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সেন্টার, বিভাগ ও ইনিস্টিটিউট এসব গবেষণা পরিচালনা করছে।

এছাড়া বিভিন্ন বিভাগ ও ইনিস্টিটিউট তাদের নিজ নিজ অ্যাকাডেমিক ডিসিপ্লিনকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের অর্জন ও প্রত্যাশা নিয়ে ৫০টিরও বেশি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করবে।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি জানাতে উপাচার্য এই ‘মিট দ্য প্রেসের’ আয়োজন করেন। এই আয়োজনে শতবর্ষপূর্তির বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

উপাচার্য বলেন, ‘একযোগে ও পরিকল্পিতভাবে এতোগুলো গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করা একটি ল্যান্ড মার্ক । মৌলিক গবেষণা জোরদারের অংশ হিসেবে আমরা এই সংস্কৃতির ওপর জোর দিচ্ছি। এগুলো চলমান আছে। এই গবেষণাগুলো কখন শেষ করতে হবে সেই টাইম লিমিটও দেয়া আছে। পরিকল্পিতভাবে আমরা অগ্রসর হচ্ছি।’

৫০টির বেশি মৌলিক গ্রন্থ রচনার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘প্রকাশনার মানদণ্ডে এটিও একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ।’

শতবর্ষপূর্তি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আরও কিছু গ্রন্থ ও সংকলন প্রকাশিত হবে।

এগুলো হলো ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯২১-২০২১): ক্রমবিকাশ’ শীর্ষক গ্রন্থ, ‘The University of Dhaka and the Making and Shaping of Bangladesh’ শীর্ষক গ্রন্থ, ‘শতবর্ষের আলোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ স্মারক সংকলন, সমাবর্তন বক্তা এবং উপাচার্যদের বক্তব্য নিয়ে একটি সংকলনগ্রন্থ, শতবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দুর্লভ আলোকচিত্র নিয়ে ‘ফটো অ্যালবাম’, ‘শতবর্ষের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: অর্জন ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত প্রবন্ধ নিয়ে প্রবন্ধ সংকলন, কবিতা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত কবিতা নিয়ে ‘কবিতা সংকলন’ ইত্যাদি।

এছাড়া শতবর্ষের শুরুতে দেশ ও বিদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই এবং শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের নিয়ে ঢাকায় হওয়া ছয়টি আন্তর্জাতিক সেমিনার নিয়ে ছয়টি ভলিউম প্রকাশ করা হবে।

উপাচার্য বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী বিশ্ববিদ্যালয় বিনির্মাণ এবং দক্ষ মানব সম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন কর্মপ্রয়াস গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে।’

মিট দি প্রেসে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও শতবর্ষ উদযাপন কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মাকসুদ কামাল, ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রাব্বানী, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়াসহ অনেকে।

শতবর্ষপূর্তির পরিকল্পনায় আরও যা থাকছে

# শতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘শতবার্ষিক স্মৃতিস্তম্ভ’ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই মনুমেন্টের মূল থিম Monument of Infinity Reflecting Vastness, Inclusiveness and Magnanimity, বাংলায় যার র্অথ অসীমতার স্তম্ভে বিশালতা, অন্তর্ভুক্ততা ও উদারতা।

# ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু ওভারসিস স্কলারশিপ’ পুনঃপ্রবর্তন করা হয়েছে। এই স্কলারশিপের আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে তরুণ শিক্ষকরা বিদেশে উচ্চশিক্ষার্থে পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়নের জন্য সুযোগ পাবেন। এর আগে ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বঙ্গবন্ধু ওভারসিজ স্কলারশিপ’ প্রবর্তন করেছিলেন। ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর এটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৮ সাল থেকে এই স্কলারশিপ পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।

# জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন, আদর্শ, সংগ্রাম, ত্যাগ, দেশপ্রেম, নেতৃত্বসহ সকল বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস এন্ড লিবার্টি’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষকবৃন্দের সমন্বয়ে ‘বঙ্গবন্ধু বক্তৃতামালা’র আয়োজন করা হচ্ছে।

# ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বর্ণপদক’ প্রবর্তন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস এন্ড লিবার্টির বোর্ড অফ গভর্নসের প্রথম সভায় এই স্বর্ণপদক দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রতিবছর ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক প্রদান করা হবে। ২০২২ সাল থেকে এই পদক প্রদান শুরু হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস এন্ড লিবার্টি এই স্বর্ণপদক প্রদান করবে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য শুধুমাত্র বাংলাদেশের নাগরিকরা এই পদকের জন্য মনোনীত হবেন।

# গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক কর্মদক্ষতা, ভাষাদক্ষতা ও করপোরেট শিষ্টাচার জ্ঞান অর্জনসহ তাদের অধিকতর নিয়োগযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য গ্র্যাজুয়েট প্রমোশন অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক বিশেষ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমমণ্ডলে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজেদের মর্যাদাকর অবস্থান টিকিয়ে রাখা, এসডিজি অর্জনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে এই কর্মসূচির আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও ইনস্টিটিউট নিজ নিজ গ্র্যাজুয়েটদের স্বার্থে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আন্তঃসম্পর্ক ও আন্তঃসহযোগিতার জন্য সমঝোতা চুক্তি বা বিনিময় চুক্তি সম্পাদন করবে এবং গ্র্যাজুয়েটদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

# বিশ্ববিদ্যালয়ের Centre for Advanced Research in Sciences (CARS) ভবনে কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষার জন্য যে আরটি-পিসিআর ল্যাব তৈরি করা হয়েছিল সেটিকে ভাইরোলজি বিষয়ে গবেষণার জন্য একটি বিশেষায়িত গবেষণা ল্যাবে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এর নাম বায়োলজিক্যাল হ্যাজার্ড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ল্যাবরেটরি।

# একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা তথা চতুর্থ শিল্প বিপ্লব উপযোগী বাংলাদেশ গড়তে গবেষণা উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্য-প্রযুক্তি খাতে নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ‘আইটি হাব’ তৈরি করা হবে। ‘আইটি হাব’-এর মাধ্যমে দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমন্বিত করে জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে। এটি হবে শিক্ষাখাতে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব সবুজ প্রযুক্তির তৈরি প্রথম ভবন।

শতবর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানসূচি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের বর্ণাঢ্য ও জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই লোটে শেরিং ভার্চুয়ালি শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করবেন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শতবর্ষের তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও শতবর্ষের ‘থিম সং’ পরিবেশন করা হবে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ, ফটোগ্রাফি অ্যালবাম ও ওয়েবসাইট উদ্বোধন করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ওইদিন বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় খ্যাতিমান শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।

উৎসবের ২য়, ৩য় ও ৪র্থ দিন যথাক্রমে ২ ডিসেম্বর, ৩ ডিসেম্বর ও ৪ ডিসেম্বর ২০২১ কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বিকেল ৪টায় আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় খ্যাতিমান শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।

সর্বশেষ ১২ ডিসেম্বর ২০২১ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খ্যাতিমান শিল্পীদের ‘কনসার্ট’ পরিবেশনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের সমাপ্তি হবে।

আরও পড়ুন:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালী হলেই ডাকসু নির্বাচন : উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অহেতুক ঘোরাঘুরি নয়
ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতির ভর্তি পরীক্ষায় সন্তোষ উপাচার্যের
ঢাবিতে ছাত্র নির্যাতকদের বিচার চায় ছাত্র অধিকার পরিষদ
জ্বালানি তেল-বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনার নতুন ধাক্কা এলে বন্ধ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী

করোনার নতুন ধাক্কা এলে বন্ধ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী

করোনাভাইরাসের নতুন ঢেউ আসলে ফের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হতে পারে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে এই করোনাভাইরাস কিন্তু এখনই শেষ হয়ে যায়নি। আমরা ভ্যাকসিন দিচ্ছি, এখন শিক্ষার্থীদের দিচ্ছি। এখন আবার নতুন আরেকটি ওয়েব আসছে। কাজেই এটা মাথায় রেখে যেকোনো সময় এটা যদি বিস্তার লাভ করে তাহলে আবার কিন্তু স্কুলসহ সবকিছু বন্ধ হয়ে যাবে।’

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বেড়ে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফের বন্ধ করা লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিষয়টি মাথায় রেখে সময়কে সঠিক ব্যবহার এবং ক্লাসে মনোযোগী হতে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে বুধবার সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল উদ্বোধন এবং ধানমন্ডিতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য জয়িতা টাওয়ারের ভিত্তি স্থাপন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

কোভিড-১৯-এর নতুন ধরন ওমিক্রন সারা বিশ্বে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আফ্রিকায় শুরু হওয়া কোভিড-১৯-এর সর্বশেষ এই ভ্যারিয়েন্টকে সবচেয়ে মারাত্মক হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞানীরা। বাংলাদেশে ‘ওমিক্রন’ ঠেকাতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের রাস্তায় বাস ভাঙচুর না করে ক্লাসে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে এই করোনাভাইরাস, কিন্তু এখনই শেষ হয়ে যায়নি। আমরা ভ্যাকসিন দিচ্ছি, এখন শিক্ষার্থীদের দিচ্ছি। এখন আবার নতুন আরেকটা ওয়েব আসছে। কাজেই এটা মাথায় রেখে যেকোনো সময় এটা যদি বিস্তার লাভ করে তাহলে আবার কিন্তু স্কুল-সব বন্ধ হয়ে যাবে।’

তাই সময়ের সদ্ব্যবহার করতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান সরকারপ্রধানের। তিনি বলেন, ‘যেটুকু সময় পাওয়া যাচ্ছে সবাইকে অন্তত যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আমি আরেকটা কথা বলব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন করোনার জন্য বন্ধ ছিল।… এখন সব স্কুল-কলেজ খুলে গেছে। সবাইকে এখন পড়াশোনা করতে হবে। যার যার স্কুলে ফিরে যেতে হবে।’

‘রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না’

বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানীতে বিক্ষোভে নামা ছাত্রদের শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, যানবাহন ভাঙচুর করা তাদের কাজ নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙা এটা ছাত্রদের কাজ নয়, এটা কেউ করবেন না। দয়া করে যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যান, লেখাপড়া করেন। আর যারা দোষী তাদের খুঁজে বের করে অবশ্যই শাস্তি দেয়া হবে, সেটা আমরা করব।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘ভবিষ্যতে এই গাড়ি ভাঙচুর এবং আগুন দেয়ার ঘটনা যারা ঘটাবে তাদের খুঁজে বের করা হবে, শাস্তি দেয়া হবে। কেননা যে গাড়িতে আগুন দেয়া হচ্ছে সে গাড়িতে যদি কেউ মারা যায় বা আগুনে পোড়ে তার জন্য কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। এ কথাও মাথায় রাখতে হবে।

আরও পড়ুন:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালী হলেই ডাকসু নির্বাচন : উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অহেতুক ঘোরাঘুরি নয়
ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতির ভর্তি পরীক্ষায় সন্তোষ উপাচার্যের
ঢাবিতে ছাত্র নির্যাতকদের বিচার চায় ছাত্র অধিকার পরিষদ
জ্বালানি তেল-বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

জেএসসি সনদের ফরম পূরণ ১১ ডিসেম্বর থেকে

জেএসসি সনদের ফরম পূরণ ১১ ডিসেম্বর থেকে

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বছরের জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত না হলেও অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উর্ত্তীণ পরীক্ষার্থীরা যেন সনদ পান এ জন্য ফরম পূরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা জেএসসি সনদ দিতে অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

ফরম পূরণ শুরু হবে আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকে, যা চলবে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে ফরম পূরণে ব্যর্থ শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণিতে অনুত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে, অর্থাৎ নবম শ্রেণিতে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ পাবে না।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম আমিরুল ইসলামের সই করা অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বছরের জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত না হলেও অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উর্ত্তীণ পরীক্ষার্থীরা যেন সনদ পান এ জন্য ফরম পূরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

অফিস আদেশে বলা হয়, চলতি বছরের জেএসসি পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক বার্ষিক পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করতে হবে। ২০২১ সালের জেএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্টের মূল্যায়ন করে প্রস্তুত ফলের ভিত্তিতে বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ সনদ দিতে আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের জন্য নির্দেশ দেয়া হলো।

আরও বলা হয়, ফরম পূরণের জন্য সম্ভাব্য শিক্ষার্থীদের তালিকা আগামী ৭ ডিসেম্বর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে (https://dhakaeducationboard.gov.bd/) প্রকাশ করা হবে।

এরপর স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তার ইআইএন এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশ করে আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ইএফএফ (ইলেকট্রনিক ফরম পূরণ) করতে হবে। ইলেকট্রনিক ফরম পূরণ করতে কোনো ফি শিক্ষাবোর্ডকে দিতে হবে না।

করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরও হয়নি জেএসসি ও জেডিসি। উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দেয়া হয় অটোপাস।

করোনার কারণে গত বছর জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হয়নি। নিজ নিজ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করে স্কুল ও মাদ্রাসাগুলো।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

এখন চলতি বছরের ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে। আর অন্যান্য শ্রেণির মধ্যে অষ্টম, নবম, তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণিতে দুই দিন এবং অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক দিন ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালী হলেই ডাকসু নির্বাচন : উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অহেতুক ঘোরাঘুরি নয়
ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতির ভর্তি পরীক্ষায় সন্তোষ উপাচার্যের
ঢাবিতে ছাত্র নির্যাতকদের বিচার চায় ছাত্র অধিকার পরিষদ
জ্বালানি তেল-বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

৪৪তম বিসিএসের প্রিলি ২৭ মে

৪৪তম বিসিএসের প্রিলি ২৭ মে

৪৪তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ৭১০ জনকে নিয়োগ দেবে। ফাইল ছবি

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নূর আহমদের সই করা অফিস আদেশে বলা হয়, দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২২ সালের ২৭ মে, শুক্রবার হতে পারে। পরীক্ষার হল, আসন ব্যবস্থা ও পরীক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশাবলী গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ঠিক করেছে বাংলাদেশ কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নূর আহমদের সই করা মঙ্গলবারের অফিস আদেশে ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির সম্ভাব্য তারিখ জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২২ সালের ২৭ মে, শুক্রবার হতে পারে। পরীক্ষার হল, আসন ব্যবস্থা ও পরীক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশাবলী গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

এই বিসিএসের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ৭১০ জনকে নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ৩০ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন।

প্রিলিমিনারির নম্বর বণ্টন

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীকে ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার সময় ২ ঘণ্টা। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২০০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রার্থী প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাবেন। তবে ভুল উত্তর দিলে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত মোট নম্বর থেকে দশমিক ৫০ নম্বর কাটা যাবে। প্রিলিমিনারির বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস পিএসসির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

প্রিলিমিনারির বিষয় ও নম্বর বণ্টন

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ৩৫, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য ৩৫, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ৩০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ২০, ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব), পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ১০, সাধারণ বিজ্ঞান ১৫, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি ১৫, গাণিতিক যুক্তি ১৫, মানসিক দক্ষতা ১৫, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন ১০ নম্বরের ওপর পরীক্ষা হবে।

৪৪তম বিসিএসে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এ ক্যাডারে ৭৭৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

প্রশাসন ক্যাডারে ২৫০, পুলিশে ৫০, পররাষ্ট্রে ১০, আনসারে ১৪, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহাহিসাবরক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) পদে ৩০, সহকারী কর কমিশনার পদে ১১, সহকারী নিবন্ধক (সমবায়) পদে ৮ ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট/ট্রাফিক (রেলওয়ে) নিবন্ধক পদে ৭ জনকে নেয়া হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা পদে ১, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) পদে ৭, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক পদে ২, সহকারী পোস্টমাস্টার পদে ২৩, সহকারী নিয়ন্ত্রক (বাণিজ্য) পদে ৬, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (পরিবার পরিকল্পনা) ২৭ জন এবং ৩ জন সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক নেয়া হবে।

প্রফেশনাল ক্যাডারে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী ১ জন, সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী ৮ জন, সহকারী সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী ৬ জন, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ১ জন, সহকারী বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী ২ জন (তথ্য) ও ৫ জন সহকারী বন সংরক্ষক নেয়া হবে।

সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে ২৯, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পদে ৭, বিসিএস মৎস্যে ১৫, পশুসম্পদে ২১০, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পদে ৪২ ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে ২ জন নিয়োগ পাবেন।

এ ছাড়া সহকারী সার্জন ১০০ জন, সহকারী সার্জন (ডেন্টাল) ২৫ জন, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২২ জন ও সহকারী প্রকৌশলী ৬ জনকে এ বিসিএসে নিয়োগ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালী হলেই ডাকসু নির্বাচন : উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অহেতুক ঘোরাঘুরি নয়
ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতির ভর্তি পরীক্ষায় সন্তোষ উপাচার্যের
ঢাবিতে ছাত্র নির্যাতকদের বিচার চায় ছাত্র অধিকার পরিষদ
জ্বালানি তেল-বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ হবে ১৭১০ জন

৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ হবে ১৭১০ জন

পিএসসি কার্যালয়। ফাইল ছবি

৪৪তম বিসিএসে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এ ক্যাডারে ৭৭৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

সরকারি চাকরিতে জনবল নিয়োগে ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

এই বিসিএসের মাধ্যমে ১ হাজার ৭১০টি পদে নিয়োগ দেয়া হবে।

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নূর আহম্মদের সই করা মঙ্গলবারের অফিস আদেশে এসব তথ্য জানানো হয়।

আগ্রহীরা ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন।

৪৪তম বিসিএসে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এ ক্যাডারে ৭৭৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

প্রশাসন ক্যাডারে ২৫০, পুলিশে ৫০, পররাষ্ট্রে ১০, আনসারে ১৪, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহাহিসাবরক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) পদে ৩০, সহকারী কর কমিশনার পদে ১১, সহকারী নিবন্ধক (সমবায়) পদে ৮ ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট/ট্রাফিক (রেলওয়ে) নিবন্ধক পদে ৭ জনকে নেয়া হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা পদে ১, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) পদে ৭, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক পদে ২, সহকারী পোস্টমাস্টার পদে ২৩, সহকারী নিয়ন্ত্রক (বাণিজ্য) পদে ৬, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (পরিবার পরিকল্পনা) ২৭ জন এবং ৩ জন সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক নেয়া হবে।

প্রফেশনাল ক্যাডারে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী ১ জন, সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী ৮ জন, সহকারী সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী ৬ জন, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ১ জন, সহকারী বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী ২ জন (তথ্য) ও ৫ জন সহকারী বন সংরক্ষক নেয়া হবে।

সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে ২৯, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পদে ৭, বিসিএস মৎস্যে ১৫, পশুসম্পদে ২১০, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পদে ৪২ ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে ২ জন নিয়োগ পাবেন।

এ ছাড়া সহকারী সার্জন ১০০ জন, সহকারী সার্জন (ডেন্টাল) ২৫ জন, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২২ জন ও সহকারী প্রকৌশলী ৬ জনকে এ বিসিএসে নিয়োগ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালী হলেই ডাকসু নির্বাচন : উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অহেতুক ঘোরাঘুরি নয়
ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতির ভর্তি পরীক্ষায় সন্তোষ উপাচার্যের
ঢাবিতে ছাত্র নির্যাতকদের বিচার চায় ছাত্র অধিকার পরিষদ
জ্বালানি তেল-বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

এ অধ্যক্ষ ছাড়া কি ভিকারুননিসা চলবে না: হাইকোর্ট

এ অধ্যক্ষ ছাড়া কি ভিকারুননিসা চলবে না: হাইকোর্ট

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার। ফাইল ছবি

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের বিষয়ে বিচারপতিদের একজন বলেন, ‘তিনি এমন কোনো লোক না যে তাকে ছাড়া ভিকারুননিসা চলবে না। এসব কথা কোর্টে এসে বলবেন না।’

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ছাড়া প্রতিষ্ঠান চলবে কি না, সে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট।

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে মঙ্গলবার এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

বিচারপতিদের একজন বলেন, ‘তিনি এমন কোনো লোক না যে তাকে ছাড়া ভিকারুননিসা চলবে না। এসব কথা কোর্টে এসে বলবেন না।’

পরে অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ও অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।

এটাই শেষ সময় উল্লেখ করে আদালত বলেছে, ‘এরপর আর কোনো সময় দেয়া হবে না।’

মামলার শুনানির সময় রিটকারী আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া রাসেল আদালতে বলেন, ‘আদালতের আদেশের পরেও দীর্ঘ সময় নিয়ে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘উনি (কামরুন্নাহার) অধ্যক্ষ পদে থাকা অবস্থায় তদন্ত হলে তা ঠিকমতো হবে না। উনার বিপক্ষে কেউ রিপোর্ট দেবে না। তাই রিপোর্ট দাখিলের আগ পর্যন্ত কামরুন নাহারকে অধ্যক্ষ পদ থেকে বিরত রাখার আদেশ দেন। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি যাতে দ্রুত রিপোর্ট দাখিল করে সে নির্দেশ দেন।’

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ রিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার বলেন, ‘এই রিট গ্রহণযোগ্য নয়।’

একই দাবি করেন অধ্যক্ষের আইনজীবী মুশফিক উদ্দিন বখতিয়ারও।

তিনি বলেন, ‘মাই লর্ড, রিট তো চলে না প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ক্ষেত্রে একটা সিন্ডিকেটও আছে। কামরুন নাহার একজন বিসিএস ক্যাডার। তিনি একটি কলেজের অধ্যক্ষ পদে দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এখানে থাকতে চান না। তাকে জোর করে ভিকারুননিসায় আনা হয়েছে।’

তখন আদালত বলে, ‘উনাকে ছাড়া কি ভিকারুননিসা চলবে না?’

পরে আদালত ৩১ জানুয়ারি এই রিটের পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করে দিয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়।

গত ৮ জুলাই ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও অভিভাবক ফোরামের নেতার ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট করেন দুই ছাত্রীর অভিভাবক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।

এ রিটের শুনানির সময় গত ৯ আগস্ট আদালত বলেছিল, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ফোনালাপে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা সত্যি হয়ে থাকলে অবশ্যই নিন্দনীয়। এটা অপ্রত্যাশিত। তার মুখ থেকে এ ধরনের ভাষা আশা করা যায় না।

এরপর ৩১ অক্টোবরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। তারপর দুই দফায় সময় দিলেও রিপোর্ট জমা হয়নি।

অধ্যক্ষ ও অভিভাবক ফোরাম নেতার সাড়ে ৪ মিনিটের ওই কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

আরও পড়ুন:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালী হলেই ডাকসু নির্বাচন : উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অহেতুক ঘোরাঘুরি নয়
ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতির ভর্তি পরীক্ষায় সন্তোষ উপাচার্যের
ঢাবিতে ছাত্র নির্যাতকদের বিচার চায় ছাত্র অধিকার পরিষদ
জ্বালানি তেল-বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

৪২তম বিসিএস (বিশেষ): স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৬ ডিসেম্বর

৪২তম বিসিএস (বিশেষ): স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৬ ডিসেম্বর

সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) ভবন। ফাইল ছবি

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নূর আহম্মদ মঙ্গলবার বলেন, ‘পিএসসি থেকে ৪২তম বিসিএসে যেসব প্রার্থীদের সুপারিশ করা হয়েছিল, তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৬ ডিসেম্বর। বিষয়টি দেখভাল করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।’

৪২তম বিসিএসে (বিশেষ) সহকারী সার্জন পদে নির্বাচিতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৬ ডিসেম্বর। এ পরীক্ষা চলবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

রাজধানীর একাধিক কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হবে এ পরীক্ষা।

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নূর আহম্মদ মঙ্গলবার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘পিএসসি থেকে ৪২তম বিসিএসে যেসব প্রার্থীদের সুপারিশ করা হয়েছিল, তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৬ ডিসেম্বর। বিষয়টি দেখভাল করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।’

যেসব কেন্দ্রে হবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, শের-ই-বাংলা নগর, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে।

এর আগে গত ৯ সেপ্টম্বর ৪২তম বিসিএসের (বিশেষ) চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে পিএসসি।

এ বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চার হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।

দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিতে গত বছর ৪২তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি দেয় পিএসসি। এ বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (লিখিত টাইপ) হয় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি।

পরীক্ষার এক মাস পর ২৯ মার্চ ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে উত্তীর্ণ হন ৬ হাজার ২২ জন।

আরও পড়ুন:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালী হলেই ডাকসু নির্বাচন : উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অহেতুক ঘোরাঘুরি নয়
ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতির ভর্তি পরীক্ষায় সন্তোষ উপাচার্যের
ঢাবিতে ছাত্র নির্যাতকদের বিচার চায় ছাত্র অধিকার পরিষদ
জ্বালানি তেল-বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

বুয়েটের ইইইতে পড়বেন ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সিয়াম

বুয়েটের ইইইতে পড়বেন ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সিয়াম

বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের ছাত্র মেফতাউল আলম সিয়াম তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় তিন ইউনিট ও বিভাগে প্রথম হন। ছবি: নিউজবাংলা

বুয়েটের ইইইতে ভর্তি কেন হতে চান জানতে চাইলে সিয়াম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি একজন রিসার্চার হতে চাই। ইইইতে রিসার্চের ফিল্ডটা বেশি।’

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্নাতকের ভর্তি পরীক্ষায় প্রকৌশল এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগে প্রথম হয়েছেন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের ছাত্র মেফতাউল আলম সিয়াম।

এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা এবং গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির (আইইউটি) ভর্তি পরীক্ষায়ও প্রথম হন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় সিয়ামের অবস্থান ছিল ৫৯তম। এ ছাড়া তিন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় হন তিনি।

ধারাবাহিক এ সাফল্যের কারণ, অনুপ্রেরণাসহ প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে সিয়ামের সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার।

নিউজবাংলা: আইইউটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিট, বুয়েটের একটি বিভাগে আপনি প্রথম হয়েছেন। এ সাফল্যের মূল কারণ কী বলে মনে করেন?

সিয়াম: এইচএসসি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার পড়ালেখায় রেগুলার ছিলাম। বেশ কিছু রাইটারের বই ফলো করেছি। এইচএসসি থেকেই বিগত বছরের ভর্তি পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন সলভ করার প্র্যাকটিস ছিল, যার কারণে ভর্তি পরীক্ষার পূর্ব সময়ে প্রস্তুতি নিতে অসুবিধা হয়নি।

আগে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে ধারণা ছিল। আমি এইচএসসি ফার্স্ট ইয়ার থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা করেছি। নিয়মিত পরিশ্রম করাটা এ ক্ষেত্রে কাজে লেগেছে।

নিউজবাংলা: আপনার সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা কার?

সিয়াম: অবশ্যই মায়ের ভূমিকা বেশি। ছোটবেলা থেকে অনুপ্রেরণা জোগাত। সে-ই পাশে ছিল। বাবার ভূমিকাও কম নয়।

আব্বু অবসরপ্রাপ্ত এনজিও কর্মকর্তা। আম্মু গ্র্যাজুয়েশন করা। আম্মু প্রাইমারি পর্যন্ত আমাকে গাইড করেছেন। পরবর্তী সময়ে আমি নিজেই নিজেকে সামলে নিয়েছি।

বুয়েটের ইইইতে পড়বেন ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সিয়াম

নিউজবাংলা: কোনো পরীক্ষা দেয়ার আগে প্রথম হওয়ার লক্ষ্য ছিল কী?

সিয়াম: পরীক্ষার হলে ও রকম টার্গেট ছিল না। নিজের বেস্ট আউটপুটটা দেয়ার চেষ্টা করছি। হয়তো আশা ছিল ভালো কিছু করব। আমি ফার্স্ট হব, সে রকম কোনো টার্গেট ছিল না।

নিউজবাংলা: আপনার সামনে অনেকগুলো অপশন। কোথায় ভর্তি হবেন?

সিয়াম: বুয়েটের ইইইতে (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ)।

নিউজবাংলা: কেন?

সিয়াম: আমি একজন রিসার্চার হতে চাই। ইইইতে রিসার্চের ফিল্ডটা বেশি।

নিউজবাংলা: এসএসসি থেকেই কি এমন স্বপ্ন ছিল?

সিয়াম: এসএসসি পর্যন্ত আমার লক্ষ্য ছিল চিকিৎসক হওয়ার। আমার আম্মুও চেয়েছিলেন আমি চিকিৎসক হই, কিন্তু এইচএসসিতে এসে লক্ষ্য পাল্টে যায় একজন স্যারের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। আমি একজন সফল গবেষক হয়ে দেশ ও জাতির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে চাই।

নিউজবাংলা: আপনার সাফল্যে বন্ধু-বান্ধব কিংবা বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া কী?

সিয়াম: কলেজের শিক্ষকগণ অনেক খুশি। বন্ধুরা অনেক খুশি; তাদের ফ্রেন্ড ফার্স্ট হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ স্যার আমাকে ডেকে নিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

নিউজবাংলা: অনেকে বলে থাকেন তুখোড় মেধাবীরাও একসময় অতীতের সাফল্য ভুলে স্রোতে গা ভাসান। আপনি এ ব্যাপারে কতটা সতর্ক?

সিয়াম: আমরা যখন এসএসসি বা এইচএসসি লেভেলে পড়ি, তখন মা-বাবার গাইডলাইনে থাকি। বিশ্ববিদ্যালয়ে সে গাইডলাইন থাকে না। ফলে আমাদের ম্যাচিউরিটির অভাবে বা নতুন জীবনযাপনের সম্পর্কে ধারণা না থাকায় এমনটা হয়ে থাকে। অনেকে খাপ-খাইয়ে নিতে পারে না।

আমি মনে করি এ জায়গাগুলো বুঝে চললে কোনো সমস্যা হবে না।

নিউজবাংলা: আপনার জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী?

সিয়াম: একজন গবেষক হয়ে কাজ করা। ভালো কিছু করা, যা দেশের জন্য গর্বের হয়।

নিউজবাংলা: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের জন্য আপনার কোনো পরামর্শ আছে?

সিয়াম: পড়াশোনায় সবসময় রেগুলার থাকতে হবে। রেগুলার পড়ব। বুঝে পড়ার চেষ্টা করব। পাশাপাশি বিনোদনও থাকবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ব্যয় না হয়, সেটা খেয়াল রাখব। পড়াশোনায় যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেটা সবসময় খেয়াল রাখতে হবে।

নিউজবাংলা: আমাদের সময় দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

সিয়াম: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালী হলেই ডাকসু নির্বাচন : উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অহেতুক ঘোরাঘুরি নয়
ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতির ভর্তি পরীক্ষায় সন্তোষ উপাচার্যের
ঢাবিতে ছাত্র নির্যাতকদের বিচার চায় ছাত্র অধিকার পরিষদ
জ্বালানি তেল-বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন