পরিবেশমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার দাবি জাহাঙ্গীরনগরে

পরিবেশমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার দাবি জাহাঙ্গীরনগরে

মানববন্ধন পরবর্তী বিক্ষোভে জাবি শিক্ষার্থীরা।

গত বুধবার দেশের পাহাড়ি এলাকায় খাসিয়াসহ বেশ কিছু ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বসবাসের কারণে বন্যপশুরা নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বসবাসে বন্যপশুরা নিরাপদ নয়’ পরিবেশমন্ত্রীর এমন বক্তব্য প্রত্যাহার ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরিবহন চত্ত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

মানববন্ধনে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি রাকিবুল রনি বলেন, ‘বন্যপ্রাণী সংক্ষরণে পরিবেশমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বনবিভাগ ও ফরেস্ট অফিসারের আড়ালে একটি নির্দিষ্ট চক্র কারেন্ট, বর্শা দিয়ে হাতির করিডরে ফাঁদ পেতে বন্যপ্রাণী হত্যা করে আসছে। আর বন্যপ্রাণী হত্যা, পাহাড় দখল, পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণে সবসময় আদিবাসীরাই বাধা দিয়ে আসছে।’

রাকিবুল দাবি করেন, পাহাড়কে বাণিজ্যিকীকরণের পথে আদিবাসীরা যেন বাঁধা হয়ে না দাঁড়ায় তাই বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে তাদের সরিয়ে দিতেই কাজ করে যাচ্ছে একটি চক্র।

এ সময় শিক্ষার্থীরা আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান, হাতির করিডোর নিরাপদকরণ, বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিতকরণ এবং আদিবাসীদের ভূমি দখল করে পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ না করার দাবি জানান।

এর আগে গত বুধবার দেশের পাহাড়ি এলাকায় খাসিয়াসহ বেশ কিছু ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বসবাসের কারণে বন্যপশুরা নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘বন্য প্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য দমনে আইন প্রয়োগ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এক পরামর্শ সভা’য় এ বক্তব্য দেন তিনি।

আরও পড়ুন:
কার্বন নির্গমনে কীভাবে দায়ী ধনকুবেররা
চালু হলো বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র-তলদেশীয় বিদ্যুৎ ক্যাবল
২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ
সংরক্ষিত বনে প্রশিক্ষণ একাডেমি চায় না সংসদীয় কমিটি
১ দিনে দেড় হাজার ডলফিন হত্যা, রক্তে রাঙা সমুদ্রসৈকত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্কুলে ভর্তি শেষ করতে হবে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে

স্কুলে ভর্তি শেষ করতে হবে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে

ফাইল ছবি

মাউশি মহাপরিচালক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া যেন ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয় এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভর্তির ক্ষেত্রে যেন পরীক্ষা নেয়া না হয় এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত করা হয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। আর শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি ছাড়া ভর্তি পরীক্ষা নেয়া যাবে না।

বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুকের সই করা অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মাউশি মহাপরিচালক বলেন, সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া যেন ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয় এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভর্তির ক্ষেত্রে যেন পরীক্ষা নেয়া না হয় এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত করা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন ও ভর্তি প্রক্রিয়া অবশ্যই আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। লটারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভর্তি পরিচালনা কমিটি, ঢাকা মহানগরের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি অভিভাবক, ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষক প্রতিনিধির উপস্থিতি থাকতে হবে।

আরও বলা হয়, শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি নীতিমালা (সংশোধিত-২০২১) অনুসরণ করে লটারির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। কোনোভাবেই ১১০ টাকার বেশি ফি নেয়া যাবে না।

আগামী বছরের জন্য সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোতে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে ২৫ নভেম্বর। এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ৮ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

২০২২ শিক্ষাবর্ষে সরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিতে শিক্ষার্থীর বয়স ছয় বছরের বেশি হতে হবে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এই বয়স নির্ধারণ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।

ভর্তি কার্যক্রমের শর্তাবলী

সরকারি বিদ্যালয়: ঢাকা মহানগরে ৪৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় তিনটি ভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত থাকবে। আবেদনের সময় একজন শিক্ষার্থী একটি গ্রুপের পাঁচটি বিদ্যালয় নির্বাচন করতে পারবে। এখান থেকে লটারির মাধ্যমে একটি বিদ্যালয় নির্বাচন করা হবে।

সারা দেশে আবেদনকারীরা আবেদনের সময় প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকালে থানাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা পাবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীরা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি আবেদনে সর্বোচ্চ পাঁচটি স্কুল পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করতে পারবে।

ডাবল শিফটের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উভয় শিফট পছন্দ করলে দুটি পছন্দক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। একই পছন্দক্রমের বিদ্যালয় কিংবা শিফট দ্বিতীয় বার পছন্দ করা যাবে না।

এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির মোট শূন্য আসনের ১০ শতাংশ কোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

বেসরকারি বিদ্যালয়: ঢাকা মহানগরীর বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন কমপক্ষে একটি এবং সর্বোচ্চ তিনটি প্রশাসনিক থানা ক্যাচমেন্ট এরিয়া হিসেবে নির্ধারণ করা যাবে।

আবেদনকারীরা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকালে মহানগর পর্যায়ের জন্য বিভাগীয় সদরের মেট্রোপলিটন এলাকা এবং জেলা সদরের সদর উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাবে। এক্ষেত্রে প্রার্থীরা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি আবেদনে সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করতে পারবে।

ডাবল শিফটের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উভয় শিফট পছন্দ করলে দুটি পছন্দক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। একই পছন্দক্রমের বিদ্যালয় কিংবা শিফট দ্বিতীয় বার পছন্দ করা যাবে না।

করোনা মহামারির কারণে গত বছর প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এর আগে শুধু প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। আর দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তিতে পরীক্ষা নেয়া হতো। নবম শ্রেণিতে ভর্তি করা হতো জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে।

আরও পড়ুন:
কার্বন নির্গমনে কীভাবে দায়ী ধনকুবেররা
চালু হলো বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র-তলদেশীয় বিদ্যুৎ ক্যাবল
২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ
সংরক্ষিত বনে প্রশিক্ষণ একাডেমি চায় না সংসদীয় কমিটি
১ দিনে দেড় হাজার ডলফিন হত্যা, রক্তে রাঙা সমুদ্রসৈকত

শেয়ার করুন

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে রাবিতে ৭ দিনব্যাপী উৎসব

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে রাবিতে ৭ দিনব্যাপী উৎসব

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ চত্বর।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে, 'জাতির পিতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান। উৎসবের প্রথম দিনের দ্বিতীয় পর্বে বেলা ৩টা থেকে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪ ডিসেম্বর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভা এবং পরে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ডিসেম্বরও থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে উৎসবের শুরু হবে।

প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসবের উদ্বোধন করবেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর ও ১১ থেকে ১৪ ডিসেম্বর দুই ধাপে এ কর্মসূচি পালিত হবে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. আজিজুর রহমান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মাননীয় মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি মো. আয়েন উদ্দিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মলয় ভৌমিক।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ‘জাতির পিতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান।

উৎসবের প্রথম দিনে দ্বিতীয় পর্বে বেলা ৩টা থেকে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪ ডিসেম্বর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভা ও পরে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ডিসেম্বরও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।

এদিকে ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে শুরু হবে নাট্যোৎসব ও ১৪ ডিসেম্বর প্রামাণ্যচিত্র ‘বধ্যভূমিতে এক দিন’ প্রদর্শিত হবে।

আরও পড়ুন:
কার্বন নির্গমনে কীভাবে দায়ী ধনকুবেররা
চালু হলো বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র-তলদেশীয় বিদ্যুৎ ক্যাবল
২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ
সংরক্ষিত বনে প্রশিক্ষণ একাডেমি চায় না সংসদীয় কমিটি
১ দিনে দেড় হাজার ডলফিন হত্যা, রক্তে রাঙা সমুদ্রসৈকত

শেয়ার করুন

আগামী বছরে ক্লাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়নি

আগামী বছরে ক্লাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়নি

ওমিক্রনের প্রভাবে টেকনিক্যাল কমিটি ক্লাস সংখ্যা না বাড়াতে পরামর্শ দিয়েছে। ফাইল ছবি

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম আগামী বছরের শুরু থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস সংখ্যা বাড়াতে, তবে ওমিক্রনের প্রভাবে টেকনিক্যাল কমিটি ক্লাস সংখ্যা না বাড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন। সেটার ভিত্তিতে এখনই ক্লাস সংখ্যা বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামী বছরের ক্লাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর দিন বৃহস্পতিবার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম আগামী বছরের শুরু থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস সংখ্যা বাড়াতে, তবে ওমিক্রনের প্রভাবে টেকনিক্যাল কমিটি ক্লাস সংখ্যা না বাড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন। সেটার ভিত্তিতে এখনই ক্লাস সংখ্যা বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পরিস্থিতি খারাপ হলে টেকনিক্যাল কমিটির পরামর্শক্রমে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

‘এ ছাড়া প্রাক-প্রাথমিক ক্লাস চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, তবে আমি যতটুকু জানি এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।’

ওই সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম ফারুক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
কার্বন নির্গমনে কীভাবে দায়ী ধনকুবেররা
চালু হলো বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র-তলদেশীয় বিদ্যুৎ ক্যাবল
২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ
সংরক্ষিত বনে প্রশিক্ষণ একাডেমি চায় না সংসদীয় কমিটি
১ দিনে দেড় হাজার ডলফিন হত্যা, রক্তে রাঙা সমুদ্রসৈকত

শেয়ার করুন

ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে নির্ধারিত সময়ের আট মাস পর শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা। শিক্ষামন্ত্রী বলছেন, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে পরিস্থিতি খারাপ হলে আবার বন্ধ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ওমিক্রনের কারণে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হতে পারে। তবে আমাদের এ জাতীয় কোনো পরিকল্পনা এখনও নেই। আমরা চাই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু থাকুক।’

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

বৃহস্পতিবার সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ওমিক্রনের কারণে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হতে পারে। তবে আমাদের এ জাতীয় কোনো পরিকল্পনা এখনও নেই। আমরা চাই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু থাকুক।

‘আমরা আশা করছি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা লাগবে না। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের টেকনিক্যাল কমিটির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। আমরা বিজ্ঞানের বাইরে গিয়ে তো কিছু করতে পারব না। সবকিছুর ঊর্ধ্বে আমাদের সন্তানদের সুরক্ষা। তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে আমরা সবকিছু করতে প্রস্তুত আছি।’

ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

‘প্রশ্ন ফাঁসের সুযোগ নেই’

চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের যে পদ্ধতি তাতে প্রশ্ন ফাঁস হতে পারে না। তবুও এর গুজব ছড়ানো এবং ফাঁসের কাজের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

সামনে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন থাকলেও পরীক্ষায় কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না বলে জানিয়েছেন দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘২৩ তারিখেও আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা হবে। ওই দিন ইউপি নির্বাচনেরও তারিখ ছিল। আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করেছি। তারা নির্বাচন পিছিয়েছে। যার কারণে ২৩ তারিখে পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।’

আগামী বছরের পাবলিক পরীক্ষাগুলো নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা আগামী বছরের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরীক্ষা বছরের মাঝামাঝি নিয়ে আসার চেষ্টা করব।’

শিক্ষার্থীদের টিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের টিকা দেয়া হয়নি কিংবা টিকা প্রথম ডোজ দিয়েছে, তাদের পরীক্ষার পরপরই খুব দ্রুত টিকা দেয়া হবে।’

এইচএসসির পরীক্ষার ফল পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে দেয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম ফারুক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
কার্বন নির্গমনে কীভাবে দায়ী ধনকুবেররা
চালু হলো বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র-তলদেশীয় বিদ্যুৎ ক্যাবল
২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ
সংরক্ষিত বনে প্রশিক্ষণ একাডেমি চায় না সংসদীয় কমিটি
১ দিনে দেড় হাজার ডলফিন হত্যা, রক্তে রাঙা সমুদ্রসৈকত

শেয়ার করুন

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু

আজ থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। ছবিটি সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে তোলা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞানের পরীক্ষায় বসেছে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা হবে দুই শিফটে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া প্রথম শিফটের পরীক্ষা শেষ হবে সাড়ে ১১টায়। দ্বিতীয় শিফট দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে সাড়ে ৩টায়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে নির্ধারিত সময়ের আট মাস পর শুরু হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় বসছেন প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী।

সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞানের পরীক্ষায় বসেছেন শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা হবে দুই শিফটে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া প্রথম শিফটের পরীক্ষা শেষ হবে সাড়ে ১১টায়। দ্বিতীয় শিফট দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে সাড়ে ৩টায়।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষা অন্যান্য বছরের মতো হচ্ছে না। পরীক্ষা হবে শুধু নৈর্বাচনিক বিষয়ে। আর আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেয়া হবে। এ ছাড়া চতুর্থ বিষয়েরও পরীক্ষা নেয়া হবে না।

দেশে গত দেড় বছরে এসএসসির পর এটি দ্বিতীয় পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাধারণত প্রতিবছর এপ্রিল মাসে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হলেও এ বছর করোনা মহামারির কারণে এই পাবলিক পরীক্ষা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার।

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাত জীবাণুমুক্ত করা এবং তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাখা হয়েছে আইসোলেশন রুমও।

কেন্দ্র এলাকায় অভিভাবকদের বাড়তি চাপ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এর অংশ হিসেবে পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্রের কর্মী ছাড়া অন্য কাউকে পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ গজের ভেতরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৮ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫২ জন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, এবার সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা দেবে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৭ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১১৩ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৪ জন।

মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষা দেবে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪৪ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬১ হাজার ৭৩৮ জন এবং ছাত্রী ৫১ হাজার ৪০৬ জন।

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
আজ থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। ছবিটি ফার্মগেট তেজগাঁও কলেজ থেকে তোলা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) পরীক্ষা দেবে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৯ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৪ হাজার ৮২৭ জন এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৬৪২ জন।

আন্তশিক্ষা বোর্ড থেকে জানা যায়, এবার এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার জন্য ১৫ লাখ ৫৮ হাজার শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছিল। সে হিসাবে এ বছর এইচএসসিতে ঝরে পড়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩১০ জন। এবার ৯ হাজার ১৮৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬২১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবেন।

কবে কোন পরীক্ষা

২ ডিসেম্বর: পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত), সাধারণ বিজ্ঞান এবং খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র (রসায়ন), সাধারণ বিজ্ঞান এবং খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র (জীববিজ্ঞান), খাদ্য ও পুষ্টি প্রথম পত্র, লঘু সংগীত (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

৫ ডিসেম্বর: যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) এবং হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

৬ ডিসেম্বর: পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) এবং সাধারণ বিজ্ঞান এবং খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র (খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান), খাদ্য ও পুষ্টি দ্বিতীয় পত্র, লঘু সংগীত (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

৭ ডিসেম্বর: যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) এবং হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

৮ ডিসেম্বর: রসায়ন (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) এবং শিশু বিকাশ প্রথম পত্র, উচ্চাঙ্গ সংগীত (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

৯ ডিসেম্বর: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, ইতিহাস প্রথম পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন প্রথম পত্র, ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা প্রথম পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

১২ ডিসেম্বর: রসায়ন (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) এবং শিশু বিকাশ দ্বিতীয় পত্র, উচ্চাঙ্গ সংগীত (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

১৩ ডিসেম্বর: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র, ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন দ্বিতীয় পত্র, ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

১৫ ডিসেম্বর: জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র, উচ্চতর গণিত প্রথম পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) এবং গৃহ ব্যবস্থাপনা ও শিশুবর্ধন এবং পারিবারিক সম্পর্ক (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র, গৃহ ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক জীবন প্রথম পত্র, ইসলাম শিক্ষা প্রথম পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

১৯ ডিসেম্বর: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

২০ ডিসেম্বর: জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, উচ্চতর গণিত দ্বিতীয় পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) এবং গৃহ ব্যবস্থাপনা ও শিশু বর্ধন এবং পারিবারিক সম্পর্ক (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, গৃহ ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক জীবন দ্বিতীয় পত্র, ইসলাম শিক্ষা দ্বিতীয় পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

২১ ডিসেম্বর: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা দ্বিতীয় পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

২২ ডিসেম্বর: ভূগোল (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) এবং আরবি প্রথম পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

২৩ ডিসেম্বর: ভূগোল (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) এবং আরবি দ্বিতীয় পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

২৭ ডিসেম্বর: অর্থনীতি প্রথম পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) এবং ব্যাবহারিক শিল্পকলা এবং বস্ত্র ও পোশাক শিল্প (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

২৮ ডিসেম্বর: সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্র, সমাজ কর্ম প্রথম পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) এবং ক্রীড়া (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

২৯ ডিসেম্বর: অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) এবং ব্যাবহারিক শিল্পকলা এবং বস্ত্র ও পোশাক শিল্প (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

৩০ ডিসেম্বর: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, সমাজ কর্ম দ্বিতীয় পত্র (সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত) এবং ক্রীড়া (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র (২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা

০১. করোনা মহামারির কারণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

০২. পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে।

০৩. পরীক্ষার সময় হবে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। পরীক্ষার দিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র এবং ওএমআর শিট বিতরণ করা হবে। সকাল ১০টায় বহুনির্বাচনি প্রশ্নপত্র বিতরণ। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বহুনির্বাচনি উত্তরপত্র সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ।

০৪. দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে অলিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনি শিট বিতরণ। দুপুর ২টায় বহুনির্বাচনি প্রশ্নপত্র বিতরণ। দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে বহুনির্বাচনি উত্তরপত্র সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ।

০৫. পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

আরও পড়ুন:
কার্বন নির্গমনে কীভাবে দায়ী ধনকুবেররা
চালু হলো বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র-তলদেশীয় বিদ্যুৎ ক্যাবল
২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ
সংরক্ষিত বনে প্রশিক্ষণ একাডেমি চায় না সংসদীয় কমিটি
১ দিনে দেড় হাজার ডলফিন হত্যা, রক্তে রাঙা সমুদ্রসৈকত

শেয়ার করুন

এইচএসসি: কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

এইচএসসি: কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফাইল ছবি

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) থেকে এইচএসসি/ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজ, এইচএসসি (ভোকেশনাল), এইচএসসি (বিএম), ডিপ্লোমা ইন কমার্স ও আলিম পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রগুলোয় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ডিএমপি।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রগুলোর ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সব পরীক্ষা কেন্দ্রে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) থেকে এইচএসসি/ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজ, এইচএসসি (ভোকেশনাল), এইচএসসি (বিএম), ডিপ্লোমা ইন কমার্স ও আলিম পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রগুলোয় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

নিষেধাজ্ঞায় পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ আদেশ বৃহস্পতিবার থেকে পরীক্ষার দিনগুলোয় বহাল থাকবে।

আরও পড়ুন:
কার্বন নির্গমনে কীভাবে দায়ী ধনকুবেররা
চালু হলো বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র-তলদেশীয় বিদ্যুৎ ক্যাবল
২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ
সংরক্ষিত বনে প্রশিক্ষণ একাডেমি চায় না সংসদীয় কমিটি
১ দিনে দেড় হাজার ডলফিন হত্যা, রক্তে রাঙা সমুদ্রসৈকত

শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের আয়োজনে ‘আক্ষেপ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের আয়োজনে ‘আক্ষেপ’

বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই লোটে শেরিং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা

বিগত ১০০ বছরের অগ্রযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, সে অগ্রযাত্রার গতি নানা কারণে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হারানো সেই গৌরব ফিরিয়ে আনার কথা আমাদের ভাবতে হবে। তাই শতবর্ষের এই উৎসবের ক্ষণে আমাদের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে জোর দিতে হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত চার দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রথম দিন শেষ হয়েছে। আয়োজনে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অর্জনের পাশাপাশি কী করা যায়নি, তা নিয়ে আক্ষেপের কথা বলেন।

আগামীর বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ লোকবল তৈরিতে মানসম্মত শিক্ষার ওপর জোর দেন বক্তারা। বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে গর্ব করতে চান তারা।

বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

১৯২১ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১০০ বছর পূর্ণ করে গত ১ জুলাই। কিন্তু করোনার কারণে শতবর্ষের এই অনুষ্ঠান করা যায়নি সে সময়। মহামারি পরিস্থিতির উন্নতির কারণে পাঁচ মাস পর হচ্ছে এই আয়োজন।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই লোটে শেরিং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের আয়োজনে ‘আক্ষেপ’

শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের কলাভবন, মলচত্বর, টিএসসি, কার্জন হল, বিভিন্ন স্থাপনা বর্ণিলরূপে সাজানো হয়েছে। করা হয়েছে আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও।

এ ছাড়া ‘শতবর্ষের আলোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে আলোক বাক্স ও প্ল্যাকার্ডের রঙিন আবহে উৎসবের আমেজ বইছে ক্যাম্পাসজুড়ে।

চার দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান পুরোটাই হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। এ জন্য সেখানেই সাজানো হয়েছে অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ।

মঞ্চের সামনে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ১০ হাজার জনের বসার একটা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কাউটস টিম, বিএনসসি (নেভি, এয়ার, আর্মি) এবং রেঞ্জারের প্রায় তিন শতাধিক কর্মী অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে ছিলেন।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে প্রথম দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। অতিথিদের মঞ্চে আসন গ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হোন। এরপর গাওয়া হয় জাতীয় সংগীত।

সোয়া ১২টায় প্রদর্শন করা হয় শতবর্ষের তথ্যচিত্র প্রদর্শনী। বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে এই তথ্যচিত্রটি নির্মিত হয়। সাত মিনিটের এ তথ্যচিত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকাসহ সার্বিক দিক ফুটিয়ে তোলা হয়।

তথ্যচিত্র প্রদর্শন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, নৃত্যকলা বিভাগ এবং দেশের প্রথিতযশা শিল্পীদের সমন্বয়ে তৈরি শতবর্ষের থিম সং পরিবেশন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের আয়োজনে ‘আক্ষেপ’

সাড়ে ১২টায় রাষ্ট্রপতির পক্ষে বিশেষ স্যুভেনির গ্রহণ করেন উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দীন তার হাতে এটি তুলে দেন।

সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয় প্রথম দিনের সমাপনী পর্ব, অর্থাৎ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রূপা চক্রবর্তী এই পর্বের উপস্থাপনা করেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন আসাদুজ্জামান নূর।

ভারতের শ্রীকান্ত আচার্য ছাড়াও বাংলাদেশের ফরিদা পারভীন, ফাতেমা-তুজ-জোহরা, সামিনা নবী, সৈয়দ আব্দুল হাদী সংগীত পরিবেশন করেন।

সর্বশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠান শেষ হয়।

কে কী বললেন

শতবর্ষপূর্তি ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলেক্ষে প্রকাশিত ৬টি বই, ফটোগ্রাফি অ্যালবাম ও ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস মাকসুদ কামাল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই লোটে শেরিং।

প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অর্জনের পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এ জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পাঠ্যক্রম নির্ধারণ ও পাঠদানের ক্ষেত্রে বিশ্বমানের কথা বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মাতা-পিতা ও অভিভাবকরা অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছেলে-মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান। তাদের পেছনে দেশ ও জনগণের বিনিয়োগও যথেষ্ট। তাই শিক্ষার্থীদের পরিবার, দেশ ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।’

দুজন নারী শিক্ষার্থী নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ছাত্রীর সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি। দেশে নারীর ক্ষমতায়নের এটি একটি বিশাল সাফল্য বলেও মনে করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এগিয়ে চলছে। কয়েক বছর পরই পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের ঢেউ বইতে শুরু করবে। সে জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ লক্ষ্যে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, বিগত ১০০ বছরের অগ্রযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, সে অগ্রযাত্রার গতি নানা কারণে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হারানো সেই গৌরব ফিরিয়ে আনার কথা আমাদের ভাবতে হবে। তাই শতবর্ষের এই উৎসবের ক্ষণে আমাদের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে জোর দিতে হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বাজেট দিলে, বড় বড় বিল্ডিং হলে যে আপনার গবেষণা, অধ্যবসায় বাড়বে- এমনটি নয়। এরিস্টটল, সক্রেটিস কিংবা মার্শাল ম্যাকলুহানের বড় বড় অট্টালিকা ছিল না, ঘর-বাড়ি ছিল না। কিন্তু তাদের অধ্যবসায় ছিল, জ্ঞানের প্রচেষ্টা ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা আছেন, তারাও সেদিকে আরও একটু মনোযোগী হবেন, যাতে আমরা গর্ব করে বলতে পারি, আমার বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ।’

বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয় প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। এই পর্বের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘জন্মলগ্ন থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মেধা চর্চায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলছে।’

আলোচনায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতি রাষ্ট্র গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনন্য। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে বাঙালি জাতির উন্নয়নে এ বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় পথ দেখিয়েছে। …ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলন, বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, জনগণের অধিকার আদায়, নারী জাগরণ, নারী শিক্ষা বিস্তারসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘দেশের সব গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান ও শিক্ষা বিস্তারেই ভূমিকা রাখেনি, বরং দেশের সার্বিক উন্নয়নে রয়েছে এর অনন্য অবদান।’

সভাপতির ভাষণে ইমেরিটাস অধ্যাপক এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘পশ্চাৎপদ সমাজ পরিবর্তনের এক ঐতিহাসিক প্রয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সামাজিকতা, গণতান্ত্রিকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার শিক্ষা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আমরা শিখেছি।’

আরও পড়ুন:
কার্বন নির্গমনে কীভাবে দায়ী ধনকুবেররা
চালু হলো বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র-তলদেশীয় বিদ্যুৎ ক্যাবল
২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ
সংরক্ষিত বনে প্রশিক্ষণ একাডেমি চায় না সংসদীয় কমিটি
১ দিনে দেড় হাজার ডলফিন হত্যা, রক্তে রাঙা সমুদ্রসৈকত

শেয়ার করুন