অটোরিকশায় ২ ছাত্রীকে ইভটিজিং, চালকের জেল

অটোরিকশায় ২ ছাত্রীকে ইভটিজিং, চালকের জেল

ইভটিজিংয়ের দায়ে শিবচরে অটোচালক হিরু খানকে তিন মাসের জেল দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

শিবচর থানার এসআই সিদ্ধার্থ ব্রত কুন্ডু বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে ৯৯৯ এ কল পেয়ে আমরা দুই কলেজছাত্রীকে উদ্ধার এবং বখাটে অটোচালককে আটক করি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দণ্ড দেয়।’

মাদারীপুরে দুই কলেজছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অপরাধে এক অটোরিকশার চালককে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর পেট্রোল পাম্পের সামনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম রকিবুল হাসান এ দণ্ড দেন।

তিনি জানান, দুই কলেজছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অপরাধে অটোরিকশা চালক হিরু খানকে তিন মাসের জেল দেয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, শিবচর উপজেলার উত্তর বহেরাতলা ইউনিয়নের যাদুয়ারচর গ্রামের কলেজপড়ুয়া দুই বান্ধবী শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাঁচ্চর যাওয়ার উদ্দেশে একাত্তর সড়ক থেকে অটোরিকশায় ওঠেন।

অটোতে অন্য যাত্রী ছিল না। এই সুযোগে চালক হিরু খান চলন্ত অটোতে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে থাকেন। ছাত্রীরা অটো থামাতে বললেও চালক নির্দেশ মানছিলেন না। এক পর্যায় তারা পেছন থেকে হিরুর শার্টের কলার চেপে ধরে চিৎকার করেন।

তাদের চিৎকারে কয়েকজন যুবক পাঁচ্চর পেট্রোল পাম্পের কাছে অটোটি আটকায়।

এ সময় স্থানীয়রা ৯৯৯ এ ফোন দিলে শিবচর থানা পুলিশের একটি দল হিরুকে আটক করে।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম রকিবুল হাসান ইভটিজিংয়ের অপরাধে হিরুকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন।

সাজাপ্রাপ্ত হিরু খান উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের বড় বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ওই দুই কলেজছাত্রী বলেন, ‘৭১ সড়ক থেকে অটো ছাড়ার পর পথে আর কোনো যাত্রী ইচ্ছে করেই তোলেননি চালক। খানকান্দি এলাকা পার হওয়ার পরই তিনি বিভিন্ন খারাপ অঙ্গভঙ্গি শুরু করেন। এক পর্যায়ে বাজে মন্তব্যও করেন। আমরা ভয়ে অটোতে বসে কিছু বলিনি।

‘ভেবেছিলাম পাঁচ্চর নেমে প্রতিবাদ করব। কিন্তু তিনি আমাদের পাঁচ্চর না নামিয়ে যখন কাঁঠালবাড়ি ঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন আমরা চিৎকার দিলে স্থানীয়রা অটোটি আটকায়। পরে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে।’

শিবচর থানার এসআই সিদ্ধার্থ ব্রত কুন্ডু বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে ৯৯৯ এ কল পেয়ে আমরা দুই কলেজছাত্রীকে উদ্ধার এবং বখাটে অটোচালককে আটক করি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দণ্ড দেয়।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এনজিও কর্মকর্তা হত্যা: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবনে ৪

এনজিও কর্মকর্তা হত্যা: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবনে ৪

মানিকগঞ্জে এনজিও পরিচালককে হত্যায় যাবজ্জীবান পাওয়া আসামিরা আদালতে। ছবি: নিউজবাংলা

এনজিওর ফান্ডে জমা হওয়া ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতে ২০০৬ সালের ২১ মে শহিদুলকে গলাকেটে হত্যা করে শাহিন ও তার সহযোগীরা। আসামিদের মধ্যে দুইজন গ্রেপ্তার আছেন।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় একটি বেসরকারি সংস্থার পরিচালককে হত্যার ১৫ বছর পর এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক উৎপল ভট্টাচার্য্য বুধবার বিকালে এই রায় দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মথুর নাথ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডের আসামি হলেন শাহিন আলম এবং যাবজ্জীবন পেয়েছেন সাহেদ মিয়া, রাজা মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, ও বিষ্ণু সুইপার।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রহম আলী ও সেলিম মিয়া নামে দুইজনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে সাহেদ ও বিষ্ণু গ্রেপ্তার আছেন। অন্যরা পলাতক।

নিহত ব্যক্তির নাম মো. শহিদুল। তিনি ছিলেন প্রিয় বাংলা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামে স্থানীয় একটি এনজিওর পরিচালক। তিনি ও আসামি শাহিন মিলেই এই এনজিও প্রতিষ্ঠা করেন।

এনজিওর ফান্ডে জমা হওয়া ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতে ২০০৬ সালের ২১ মে শহিদুলকে গলাকেটে হত্যা করে শাহিন ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় মামলা করেন।

২০১৪ সালের ১০ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা সাটুরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জলিল।

২৫ জনের সাক্ষ্য নেয়া শেষে ১৫ বছর পর এই হত্যা মামলার রায় হয়।

শেয়ার করুন

বিজিবি সদস্য হত্যা একটি ‌দুর্ঘটনা: মহাপরিচালক

বিজিবি সদস্য হত্যা একটি ‌দুর্ঘটনা: মহাপরিচালক

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘এটিকে (সহিংসতা) ঘটনা না বলে; আমি দুর্ঘটনাই বলব। যারা ওই কেন্দ্রে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে; আর যারা ঘটনার পেছনে ছিলেন- তাদের কয়েকজনকে অলরেডি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও পুলিশ দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকালে বিজিবি সদস্য রুবেল হোসেন নিহতের ঘটনাকে ‘দুর্ঘটনা’ দাবি করে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘ঘটনাটি মর্মান্তিক।’

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক বুধবার দুপুরে রুবেল হোসেনের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এটিকে (সহিংসতা) ঘটনা না বলে; আমি দুর্ঘটনাই বলব। যারা ওই কেন্দ্রে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে; আর যারা ঘটনার পেছনে ছিলেন- তাদের কয়েকজনকে অলরেডি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও পুলিশ দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রুবেলের পরিবারের জন্য সরকার ও বাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়া আজকে বিজিবির তরফ থেকে ওদেরকে (রুবেলের পরিবার) কিছু অর্থ দিয়ে গেলাম। ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতা করাসহ তাদের একটি থাকার ঘর করে দেয়া হবে।’

এর আগে বিজিবি মহাপরিচালক ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে বগুড়ার সোনাতলায় অবতরণ করেন। পরে বাহিনীটির গাড়িতে করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের বেইগুনি গ্রামে রুবেল হোসেনের বাড়িতে যান।

প্রথমে রুবেলের কবর জিয়ারত করেন। পরে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা ও তাদের খোঁজ খবর নেন।

এ সময় বিজিবি মহাপরিচালক রুবেলের স্ত্রী জেসমিন বেগমের হাতে পাঁচ লাখ টাকার অনুদানের চেক ও বাবা নজরুল ইসলামকে তিন লাখ টাকার চেক দেন।

২০০৩ সালের ডিসেম্বরের বিজিবিতে যোগ দেন রুবেল হোসেন। তিনি নীলফামারী ৫৬ বিজিবির ল্যান্স নায়েক হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

গত ২৮ নভেম্বর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের গাড়ামারা ইউপি নির্বাচনের ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পরাজিত এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় নিহত হন তিনি। এ ঘটনায় কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং অফিসার একটি মামলা করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জে নিরাপরাধ কাউকে হয়রানি নয়: পুলিশ

পীরগঞ্জে নিরাপরাধ কাউকে হয়রানি নয়: পুলিশ

অতিরিক্ত ডিআইজি শাহ মিজান বলেন, ‘তদন্ত করে কেবল দোষীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা বলা হলেও আমরা চেষ্টা করছি আগে দেয়ার।’

ঠাকুরগাঁয়ের পীরগঞ্জে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় নিরাপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না বলে জানিয়েছেন রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শাহ মিজান শাফিউর রহমান।

উপজেলার ঘিডোব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

এই কেন্দ্রে গত রোববার ভোটের পর অবরুদ্ধ করা হয় তিন পুলিশ ও ১৫-১৬ জন আনসার সদস্যকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও দুই প্লাটুন বিজিবি সেখানে যায়। এলাকাবাসী তাদের ওপর হামলা চালায়। বিজিবি পরে গুলি চালালে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে মৃত্যু হয় তিনজনের।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে ওই গ্রাম এখন পুরুষশূন্য।

অতিরিক্ত ডিআইজি শাহ মিজান বলেন, ‘তদন্ত করে কেবল দোষীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা বলা হলেও আমরা চেষ্টা করছি আগে দেয়ার।’

এ সময় তদন্ত কমিটির সদস্য রংপুর রেঞ্জের পুলিশ সুপার খন্দকার খালিদ বিন নূর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পীরগঞ্জ সার্কেল) আহসান হাবিবসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

যুবলীগের ৭ কর্মীকে ছুরিকাঘাত

যুবলীগের ৭ কর্মীকে ছুরিকাঘাত

দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন এই যুবলীগ কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আহত টিটু জানান, তারা যশোর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় যোগ দিতে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে শহরে এসেছেন। দুপুরে সভায় যাওয়ার পথে মাইকপট্টি এলাকায় একদল লোক তাদের পথরোধ করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। 

যশোর শহরে বর্ধিত সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে সাত যুবলীগ কর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে।

শহরের মাইকপট্টি এলাকায় বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলায়েত হোসেন।

আহতরা হলেন শহরের মুড়লী এলাকার মো. রাব্বি, আরএন রোড এলাকার মো. হ্যাপী, শহরতলির বিরামপুর এলাকার খাইরুল ইসলাম, সদর চুড়ামনকাটি এলাকার মো. আকিবুর, রুপদিয়া এলাকার শামীম হোসেন, ঝুমঝুমপুর গ্রামের মো. রাসেল ও হামিদপুর গ্রামের মো. টিটু।

তারা যশোর সদর উপজেলা যুবলীগের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুলের কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আহত টিটু জানান, তারা যশোর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় যোগ দিতে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে শহরে এসেছেন। বেলা দেড়টার দিকে সার্কিট হাউস থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলে চিত্রা মোড়ের একটি আবাসিক হোটেলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মাইকপট্টি এলাকায় একদল লোক পথরোধ করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

আশপাশের লোকজন তাকে নিয়ে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানকার সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক মনিরুজ্জামান লর্ড জানান, আহতদের মধ্যে খাইরুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যরা শঙ্কামুক্ত।

ঘটনার বিষয়ে জানতে সদর উপজেলা যুবলীগের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ারকে কল দেয়া হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এএসপি বেলায়েত হোসেন জানান, ব্যক্তিগত রেষারেষির জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই।

শেয়ার করুন

বরিশালে ট্রলারডুবি: চালকের মরদেহ উদ্ধার

বরিশালে ট্রলারডুবি: চালকের মরদেহ উদ্ধার

বরিশালে সন্ধ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া এই ট্রলারের চালকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে গৌরনদীর টরকি বন্দর থেকে ট্রলারটি মুদির সরঞ্জাম নিয়ে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি যাচ্ছিল। সে সময় স্বরূপকাঠি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এমআর রাফসান নামের কাঠভর্তি আরেকটি ট্রলারের সঙ্গে এর সংঘর্ষ হয়।

বরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া ট্রলারের চালকের মরদেহ পাওয়া গেছে।

বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল বুধবার দুপুরে মরদেহটি উদ্ধার করে।

৫২ বছর বয়সী মৃত কামাল শেখের বাড়ি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার চিলতলা গ্রামে।

বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে গৌরনদীর টরকি বন্দর থেকে ট্রলারটি মুদির সরঞ্জাম নিয়ে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি যাচ্ছিল। সে সময় স্বরূপকাঠি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এমআর রাফসান নামের কাঠভর্তি আরেকটি ট্রলারের সঙ্গে এর সংঘর্ষ হয়। এতে গৌরনদীর ট্রলারটি ডুবে যায়, নিখোঁজ হন চালক কামাল।

ডুবুরির দল নদীতে অভিযান চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করলেও ট্রলারটি সন্ধ্যা পর্যন্ত তলিয়েই আছে। সেটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

বানারীপাড়া থানার ওসি হেলাল বলেন, এম আর রাফসান নামের ট্রলারটির চালক আল আমিনকে আটক করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

‘বর্জনের ভোটে’ চেয়ারম্যান বিএনপির ৯৬ জন

‘বর্জনের ভোটে’ চেয়ারম্যান বিএনপির ৯৬ জন

রোববারের ভোটে সবচেয়ে বেশি ৪৩৯ ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়াই করা আওয়ামী লীগ নেতারা। আরও বেশ কিছু ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা জিতেছেন অন্তত ২৬৭ এলাকায়। সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, যারা জিতেছে ১৫টির মতো ইউনিয়নে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীর ৮ জন নেতা জিতেছেন স্বতন্ত্র পরিচয়ে।

আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট বর্জন করলেও তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেশ ভালো ফল করেছেন বিএনপির নেতারা। রোববারের এই ভোটে সারা দেশে অন্তত ৯৬ জন বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিতে এসেছেন।

বিভাগওয়ারি হিসাব করলে বিএনপির এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সবচেয়ে ভালো করেছেন রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে। রংপুর বিভাগে জিতেছেন ২৪ জন আর রাজশাহী বিভাগে ২০ জন নেতা।

এ ছাড়া সিলেট বিভাগে ১৩ জন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন করে এবং খুলনা বিভাগে জিতেছেন ৯ জন নেতা। কেবল বরিশাল বিভাগে কেউ জিততে পারেননি।

তৃণমূলের ভোটে বিএনপি নেতাদের জিতে আসার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের সাধারণ জনগণ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তারা জনগণের সরকার চায়। তারই প্রতিচ্ছবি এটা; এখন যার প্রমাণ আপনারাও পাচ্ছেন।’

গত কয়েক বছরে বিএনপি জাতীয় ও স্থানীয় যেসব নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ নিয়েছে, তাতে তারা ভালো ফল করতে পারেনি। দলটির পক্ষ থেকে অবশ্য ভোট সুষ্ঠু না হওয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, তাদের সমর্থকদের ভোট দিতে দেয়া হয় না, প্রচারেও বাধা দেয়া হয়।

চলতি বছর পৌরসভা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনার পর বর্তমান সরকার আর নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো ভোটে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ফলে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও তাদের কোনো প্রার্থী নেই।

এই নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ভোট হয়েছে তিন ধাপে, যার মধ্যে সবশেষ ভোট হয় রোববার।

এই ধাপে নির্বাচন কমিশন ১ হাজার ৭টি ইউনিয়নে ভোটের তফসিল ঘোষণা করে। তবে রোববার ভোট হয় সাড়ে আটশর কিছু বেশি এলাকায়। এর আগেই বেশ কিছু এলাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে যান।

তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী না দিলেও বিভিন্ন এলাকায় দলের নেতারা ভোটে অংশ নেন স্বতন্ত্র পরিচয়ে। দলের পুরো সমর্থনও তারা পেয়েছেন নানা এলাকায়।

গত ২ নভেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যা বলেন, তাতে এটা স্পষ্ট যে বিএনপি এই ভোটে না থেকেও আছে।

তিনি সেদিন বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করাটা সঠিক নয়। তাই বিএনপি এ নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিচ্ছে না। তবে বিএনপি থেকে কেউ স্বতন্ত্র হয়ে অংশ নিলে সেখানে বাধা নেই।’

রোববারের ভোটে সবচেয়ে বেশি ৪৩৯ ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়াই করা আওয়ামী লীগ নেতারা। আরও বেশ কিছু ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জিতেছেন অন্তত ২৬৭ জন। দলীয় প্রতীকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, যারা জিতেছে ১৫টির মতো এলাকায়।

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীর ৮ জন প্রার্থী স্বতন্ত্র পরিচয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে জিতেছেন। এর মধ্যে রংপুর বিভাগে দুজন আর রাজশাহী বিভাগে আছেন ছয়জন।

এই ছয়জনের মধ্যে দুজন সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের। তিনজন আছেন রাজশাহীর নওগাঁর, দুজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আর একজন আছেন রাজশাহীর।

ইসলামী আন্দোলন, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ৩২ জন প্রার্থীও জিতে এসেছেন রোববারের ভোটে।

রংপুর বিভাগে জিতলেন বিএনপির যে নেতারা

এই জেলায় বিএনপির নেতারা সবচেয়ে ভালো করেছেন দিনাজপুরে। দুই উপজেলায় মোট ছয়টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন তারা।

এই জেলার ফুলবাড়ীর ১ নম্বর এলুয়াড়ী ইউনিয়নে নবিউল ইসলাম, বিরামপুর উপজেলায় ৪নং দিওড় ইউনিয়নে আব্দুল মালেক ও ৫নং বিনাইল ইউপিতে হুমায়ন কবীর বাদশা জয় পেয়েছেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলায় ২ নম্বর বিনোদনগড় ইউনিয়নে নজরুল ইসলাম, ৪ নম্বর শালখুরিয়া ইউনিয়নে তারা মিয়া এবং ৫ নম্বর পুটিমারা ইউনিয়নে আনিছুর রহমান জয় পেয়েছেন।

বিএনপি ভালো করেছে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটেও। দুই জেলাতেই পাঁচজন করে নেতা জয় পেয়েছেন।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ঘোগাদহ ইউনিয়নে আবদুল মালেক, ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে সাইদুর রহমান, নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নে শফিউল আলম শফি, রায়গঞ্জ ইউনিয়নে আরিফুল ইসলাম দীপ ও নারায়ণপুর ইউনিয়নে মো. মোস্তফা পেয়েছেন জয়।

লালমনিরহাটে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নে আব্দুল মজিদ মণ্ডল, কুলাঘাট ইউনিয়নে ইদ্রিস আলী, বড়বাড়ি ইউনিয়নে হবিবর রহমান হবি, দলগ্রাম ইউনিয়নে ইকবাল হোসেন এবং ভোটমারী ইউনিয়নে জিতেছেন ফরহাদ হোসেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে জিতেছেন বিএনপির তিন নেতা। এর মধ্যে পীরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে মোখলেছুর রহমান চৌধুরী, সেনগাঁওয়ে সাইদুর রহমান এবং বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নে জিতেছেন বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম।

আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থানের এই জেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৮টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে ১৪টিকে নৌকা আর একটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা জিতেছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও আওয়ামী লীগের মাহাবুবার রহমানের ভোট সমান হওয়ায় ফলাফল ড্র হয়েছে।

এই বিভাগের পঞ্চগড় ও গাইবান্ধায় জয় পেয়েছেন বিএনপির দুজন করে নেতা।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নে রবিউল ইসলাম ও আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে জিতেছেন আবদুস সামাদ, যাদেরকে বিএনপি মার্কা না দিলেও সমর্থন দিয়েছিল।

গাইবান্ধায় পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নে মাহাবুবুর রহমান মণ্ডল ও হরিনাথপুর ইউনিয়নে মো. কবির হোসাইন জাহাঙ্গীর জয় পেয়েছেন।

নীলফামারী জেলায় জিতেছেন বিএনপির একজন নেতা। কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নে জিতেছেন মোস্তাকিনুর রহমান।

রাজশাহী বিভাগে বিএনপির যে নেতাদের জয়

এই বিভাগের মধ্যে বিএনপির নেতারা সবচেয়ে বেশি জিতেছেন বগুড়ায়। দলটির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জেলাটিতে ১০ জন নেতা জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।

এদের মধ্যে সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নে সহিদুল ইসলাম সরকার, সাবগ্রাম ইউনিয়নে ফরিদ উদ্দিন সরকার, লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নে জুলফিকার আবু নাসের আপেল মাহমুদ, শেখেরকোলা ইউনিয়নে জিতেছেন রশিদুল ইসলাম মৃধা।

ধনুট উপজেলায় জিতেছেন কালেরপাড়া ইউনিয়নে সাজ্জাদ হোসেন, চিকাশি ইউনিয়নে জাকির হোসেন, গোসাইবাড়ী ইউনিয়নে মাসুদুল হক বাচ্চু, ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নে বেলাল হোসেন, শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নে আতিকুর রহমান এবং মাদলা ইউনিয়নে আতিকুর রহমান।

এই বিভাগে চারজন করে বিএনপির নেতা জিতেছেন নাটোর ও নওগাঁয়।

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ফাগুয়ারদিয়ার ইউনিয়নে এসএম লেলিন, জামনগরে গোলাম রাব্বানী, লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নে আব্দুল আজিজ রঞ্জু আর বিলমাড়িয়া ইউনিয়নে জিতেছেন সিদ্দিক আলী মিষ্টু।

নওগাঁর প্রসাদপুর ইউনিয়নে আব্দুল মতিন, বিষ্ণপুর ইউনিয়নে এসএম গোলাম আজম, গণেশপুর ইউনিয়নে শফিকুল ইসলাম বাবুল চৌধুরী এবং কাঁশোপাড়া ইউনিয়নে আব্দুস সালাম।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নে মাহমুদুল হক হায়দারী এবং পাঁকা ইউনিয়নে জিতেছেন আব্দুল মালেক।

সিলেট বিভাগে বিএনপির যে নেতারা জিতলেন

গোটা বিভাগে বিএনপির নেতারা সবচেয়ে ভালো করেছেন সুনামগঞ্জে। এই জেলার সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৭টি ইউনিয়নে। এর ছয়টিতে জিতেছেন বিএনপি নেতারা। পক্ষান্তরে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগ জিততে পেরেছে কেবল দুটি ইউনিয়নে।

‘বর্জনের ভোটে’ চেয়ারম্যান বিএনপির ৯৬ জন



সদর উপজেলা রঙ্গারচর ইউনিয়নে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে জিতেছেন বিএনপি নেতা মো. আব্দুল হাই, মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে জিতেছেন নুরুল হক, লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে জিতেছেন আব্দুল ওয়াদুদ৷

শান্তিগঞ্জে স্বতন্ত্র পরিচয়ে জয়ী বিএনপির নেতারা হলেন দরগাপাশা ইউনিয়নে ছুফি মিয়া, পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে মাসুক মিয়া ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে লুৎফর রহমান জায়গীরদার খোকন।

লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে নির্বাচিত জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের জবাব দিয়েছে। আমাদের শঙ্কা ছিল ক্ষমতাসীনরা কিছু করে কি না। তবে সবকিছুকে হারিয়ে জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে আমাকে জয়ী করেছে। আমি এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান হয়েছি। মানুষও জানে কাকে ভোট দিলে মেহনতি মানুষের উন্নয়ন হয়।’

হবিগঞ্জের ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা হলেন সদর উপজেলার গোপায়া ইউনিয়নে আব্দুল মন্নান, নবীগঞ্জ উপজেলার দিঘলবাগ ইউনিয়নে মোহাম্মদ ছালিক মিয়া এবং বাউসা ইউনিয়নে সাদিকুর রহমান শিশু।

সিলেট ও মৌলভীবাজারে জয় পেয়েছেন বিএনপির দুজন করে নেতা। এদের মধ্যে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্তে বাহারুল আলম বাহার ও গোয়াইনঘাটের রুস্তমপুরে জিতেছেন শাহাব উদ্দিন।

মৌলভীবাজারের এর মধ্যে বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নে জিতেছেন জয়নাল আবেদীন। কুলাউড়া উপজেলায় ভূকশিমইলে জিতেছেন আজিজুর রহমান। তিনি গতবারও জিতেছিলেন।

ঢাকা বিভাগে যারা জিতলেন

এই বিভাগে বিএনপির নেতারা সবচেয়ে টাঙ্গাইলে। এ জেলায় তিনজন সক্রিয় বিএনপি নেতা এবং একজন নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া নেতা জিতেছেন। এই জেলায় ভোট হয়েছে মোট তিনটি উপজেলায়। এর মধ্যে বিএনপি সম্পৃক্তরা জিতেছেন কেবল নাগরপুর ইউনিয়নে।

এরা হলেন গয়হাটা ইউনিয়নে সামছুল হক, ভাদ্রা ইউনিয়নে শওকত হোসেন ও সহবতপুর ইউনিয়নে তোফায়েল আহমেদ। পাকুটিয়া ইউনিয়নে জয়ী সিদ্দিকীকুর রহমানও বিএনপি করতেন। তবে সম্প্রতি তিনি দলীয় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান।

দ্বিতীয় দুজন করে নেতা জয় পেয়েছেন মুন্সীগঞ্জ ও ফরিদপুরে।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের তোতা মিয়া মুন্সী আর টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বেতকা ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন রোকনুজ্জামান রিগ্যান।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নে ইয়াকুব আলী (বিএনপি সমর্থক), বর্তমানে কোনো পদে নেই) এবং চরহরিরামপুর ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর কবির (বিএনপি সমর্থক), বর্তমানে কোনো পদে নেই)।

কিশোরগঞ্জে কুলিয়ারচর, নিকলী ও সদর উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ২৩টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে বিএনপি থেকে জিতেছেন একজন নেতা। সদর উপজেলায় চৌদ্দশত ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন দলটির নেতা আতহার আলী।

নরসিংদীতেও জয় পেয়েছেন বিএনপির একজন নেতা। চিনিশপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হয়েছেন মেহেদী হাসান ভূইয়া তুহিন।

চট্টগ্রাম বিভাগে জয় যাদের

এই বিভাগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলায় বিএনপির তিনজন করে নেতা জয় পেয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পাকশিমুল ইউনিয়নে কাওসার হোসেন, সদর ইউনিয়নে আবদুল জব্বার, চুন্টা ইউনিয়নে জিতেছেন মনসুর আহমেদ।

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর আলম, ঘাগটিয়া ইউনিয়নে মফিজুল ইসলাম গনি ও ঘারমোড়া ইউনিয়নে জিতেছেন শাহজাহান মোল্লা। বিএনপির এই তিন নেতার পক্ষে দলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রচারে ছিলেন।

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় জয় পেয়েছেন বিএনপির দুই নেতা। এরা হলেন ছাতারপাইয়া ইউনিয়নে আবদুর রহমান ও কাবিলপুর ইউনিয়নে বাহার হোসেন।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ছিপাতলী ইউনিয়নে জিতেছেন বিএনপি নেতা নূরুল আহসান লাভু।

চাঁদপুরে মতলব উত্তর উপজেলার এখলাশপুর ইউনিয়নে জিতেছেন বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুল ইসলাম।

খুলনা বিভাগে বিজয়ী বিএনপির নেতারা

এই বিভাগে এক জেলায় বিএনপির সর্বোচ্চ তিনজন নেতা জিতেছেন সাতক্ষীরায়। এরা হলেন কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগরে জাহাঙ্গীর আলম, পারুলিয়ায় গোলাম ফারুক বাবু এবং দেবহাটা উপজেলার দেবহাটা ইউনিয়নে আব্দুল মতিন।

বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দুজন নেতা জয় পেয়েছেন যশোরে। এরা হলেন মনিরামপুর উপজেলায় মনিরামপুর সদরে নিস্তার ফারুক এবং মনোহরপুরে আকতার ফারুক মিন্টু।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নে জিতেছেন খোয়াজ হোসেন মাস্টার।

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর ইউনিয়নে জিতেছেন আব্দুল মান্নান।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদী ইউনিয়নে বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী (মোটরসাইকেল) তোবারক হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন।

মাগুরার শালিখা উপজেলার শালিখা ইউনিয়নে জিতেছেন ইউনিয়নে বিএনপির আহ্বায়ক হুসেইন শিকদার।

ময়মনসিংহ বিভাগের জয়ীরা

এই বিভাগে বিএনপির নেতারা সবচেয়ে বেশি জিতেছেন শেরপুরে। এই জেলায় দলটির পাঁচজন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন।

তারা হলেন নকলা উপজেলার ৭ নম্বর টালকি ইউনিয়নের মোজাফফর আহমদ বুলবুল, নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের আতাউর রহমান, মরিচপুরান ইউনিয়নের আয়ুব আলী, কলসপাড় ইউনিয়নের আবদুল মজিদ ও নয়াবিল ইউনিয়নের মিজানুর রহমান।

নেত্রকোনায় জিতেছেন বিএনপির তিন নেতা। তারা হলেন কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের সাইদুর রহমান ভুইয়া, রংছাতি ইউনিয়নের আনিসুর রহমান খান পাঠান বাবুল ও দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের আব্দুল আওয়াল।

ময়মনসিংহে জিতেছেন দুজন। তারা হলেন ত্রিশাল উপজেলার ৩ নম্বর কাঁঠাল ইউনিয়নের নূরে আলম সিদ্দিকী ও মুক্তাগাছা উপজেলার ৬ নম্বর মানকোন ইউনিয়নের শহিদুল ইসলাম।

এই বিভাগের অন্য জেলা জামালপুরে বিএনপির কোনো নেতা চেয়ারম্যান হতে পারেননি।

প্রতিবেদনটি প্রস্তুত হয়েছে সারা দেশে নিউজবাংলার প্রতিবেদকদের তথ্যে

শেয়ার করুন

উড়োজাহাজে গরুর ধাক্কায় চাকরি গেল আনসারের চার জনের

উড়োজাহাজে গরুর ধাক্কায় চাকরি গেল আনসারের চার জনের

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা হোসেন বলেন, বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীর এলাকায় দায়িত্বে থাকা চার সদস্যকে দায়িত্বে গাফিলতির কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে গরুর সঙ্গে উড়োজাহাজের ধাক্কার ঘটনায় চার আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা হোসেন।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীর এলাকায় দায়িত্বে থাকা চার সদস্যকে দায়িত্বে গাফিলতির কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিমানবন্দরে মঙ্গলবার বিকেলে অল্পের জন্য রক্ষা পায় বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ। সেটি ওড়ার সময় রানওয়েতে ঢুকে পড়ে দুটি গরু। সেগুলোকে ধাক্কা দিয়েই যাত্রী নিয়ে আকাশে ওড়ে বিজি ৪৩৪ ফ্লাইটটি।

উড়োজাহাজ ও আরোহীরা নিরাপদে থাকলেও মারা গেছে বিমানের সঙ্গে ধাক্কা লাগা দুটি গরু।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের যাত্রা শুরু প্রায় ৭৫ বছর আগে। একে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করতে কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের জুলাইয়ে। তিন বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উদ্বোধন করেন। তবে রানওয়ের কাজ শেষ হওয়ায় ২০১৭ সাল থেকেই এখানে অবতরণ-উড্ডয়ন করছে আন্তর্জাতিক রুটের বিমান। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রতিদিনই আকাশপথে কক্সবাজার আসছেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।

এমন অবস্থায় মঙ্গলবার উড্ডয়নের সময় উড়োজাহাজের ধাক্কায় দুটি গরুর মৃত্যুর পর বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা দুর্বলতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

উড়োজাহাজে গরুর ধাক্কায় চাকরি গেল আনসারের চার জনের
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে মঙ্গলবার বিকালে উড়োজাহাজের ধাক্কায় দুটি গরু মারা গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক নিউজবাংলাকে জানান, বিমানের ফ্লাইটটি মঙ্গলবার উড্ডয়নের সময় ডান পাশের পাখায় ধাক্কা লেগে ছিটকে পড়ে গরু দুটি। সেখানেই সেগুলো মারা যায়। তবে উড়োজাহাজটি ৯৪ যাত্রী নিয়ে সফলভাবেই উড্ডয়ন করে।

২০০৫ সালে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উত্তরে বঙ্গোপসাগরে একটি কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে বিদেশি পাইলটসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। কার্গো উড়োজাহাজটি কক্সবাজার থেকে চিংড়ি পোনা নিয়ে যশোর যাচ্ছিল। এ ছাড়া ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি উড়োজাহাজের চাকায় পিষ্ট হয়ে রানওয়েতে তিনটি কুকুরের মৃত্যু হয়।

শেয়ার করুন