জলপথে শিশু পাচার প্রতিরোধে নৌকায় মানববন্ধন

জলপথে শিশু পাচার প্রতিরোধে নৌকায় মানববন্ধন

জলপথে শিশুপাচার রোধে রাজধানীর কদমতলী এলাকায় নৌকায় মানববন্ধন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

পাচারের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে লিডো। প্রকল্পের অংশ হিসেবে ব্যতিক্রমী এ মানববন্ধনের আয়োজন করে তারা।

জলপথে শিশু পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে নৌকায় মানববন্ধন করেছে লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন- লিডো।

রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন ওয়াইজঘাটে শনিবার নৌকায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করা হয়।

এ সময় ‘শিশু পাচার রোধে, রুখে দাঁড়াব একসাথে’; ‘আইনের হাতে দিব তুলে, শিশু পাচার যারা করে’; ‘আমরা কারও দেয়া কিছু খাব না, আমরা পাচার হব না’; ‘পাচার রোধে এক হই’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা।

‘শিশু পাচার বন্ধ করি, সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে লিডো বাংলাদেশ শিশু পাচার প্রতিরোধে ‘ইফেক্টিভ অ্যাওয়ারনেস অন অ্যান্টি ট্র্যাফিকিং প্রোগ্রাম’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

এর মাধ্যমে পাচারের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়। প্রকল্পের অংশ হিসেবে ব্যতিক্রমী এই মানববন্ধনের আয়োজন করে লিডো।

মানববন্ধনে শিশু পাচার কী এবং কীভাবে হয়, শিশু পাচারের ভয়াবহতা, পাচারকারীদের কীভাবে শনাক্ত করতে পারি এবং পাচারকারীদের থেকে সাবধান থাকার উপায়সহ নৌপথে কর্মরত বিভিন্ন লোকজন যেমন- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, লঞ্চ পরিবহনে কর্মরত বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারী, যাত্রী, স্থানীয় লোকজন এবং শিশুদের মধ্যে সচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়ে দেয়া হয়।

এ ছাড়া শিশু পাচার প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা সম্বলিত প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সদরঘাট নৌ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআাই) সিরাজুল ইসলাম, নায়েক রুহুল আমীন এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর দিনেশ কুমার সাহাসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।

আরও উপস্থিত ছিলেন আয়োজনের সমন্বয়ক এবং লিডোর তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, টিএসএসবি প্রকল্প কদমতলী শাখার সিনিয়র সোশ্যাল মোবিলাইজার নাজিরুল ইসলাম অপুসহ কদতমতলী টিমের সদস্যরা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নাঈমের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা দিতে রিট

নাঈমের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা দিতে রিট

নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের লাইব্রেরি কার্ড। ছবি: সংগৃহীত

রিটে অন্তর্বর্তীকালীন ৫০ লাখ টাকা ছাড়াও নাঈমের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লার গাড়ির চাপায় নিহত নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে।

রোববার জনস্বার্থে ‘জন অধিকার ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য পারভীন আক্তার এ রিট করেন। নাঈমের মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে পারভীন আক্তারের পক্ষে রিটটি জমা দেন আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক।

আবেদনটি সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য রয়েছে।

আবেদনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, বিআরটিসির চেয়ারম্যান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহাব্যবস্থাপককে (যানবাহন) বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে অন্তর্বর্তীকালীন ৫০ লাখ টাকা ছাড়াও নাঈমের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

পুরান ঢাকার আতঙ্ক কিশোর অপরাধ

পুরান ঢাকার আতঙ্ক কিশোর অপরাধ

প্রতীকী ছবি

লালবাগ, বংশাল, চকবাজার, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, ওয়ারী ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় গত এক বছরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে ১০ কিশোর নিহত হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন কারাগার ও কিশোর সংশোধনাগারে থাকলেও অন্য সদস্যরা জামিনে এসে মামলা তুলে নিতে ভিকটিমদের হুমকি দিচ্ছে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।

দিন দিন পুরান ঢাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাং ও এর সদস্যরা। তারা প্রতিনিয়ত চুরি-ছিনতাই, মেয়েদের লাঞ্ছিত করা ও মাদকের আসর বসানোর মতো অপরাধ করছে।

শুধু তা-ই নয়, লালবাগ, বংশাল, চকবাজার, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, ওয়ারী ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় গত এক বছরে এ চক্রের সদস্যদের হাতে ১০ কিশোর নিহত হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন কারাগার ও কিশোর সংশোধনাগারে থাকলেও অন্য সদস্যরা জামিনে এসে মামলা তুলে নিতে ভিকটিমদের হুমকি দিচ্ছে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।

গত মার্চে পবিত্র শবেবরাতের রাতে সূত্রাপুরের ফরাশগঞ্জ ঘাট এলাকায় সিগারেট খাওয়া নিয়ে কিশোরদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এরই একপর্যায়ে এক কিশোরের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারায় আরিফ হোসেন অনন্ত নামে আরেক কিশোর। হামলায় আহত হয় নিহতের বন্ধু সাজু আহমেদ ও সোহেল। হতাহতদের বয়স ১৪-১৫ বছরের মধ্যে।

গত ২১ জুন কিশোর গ্যাংয়ের হাতে বংশাল আগামসিহ লেনে আহমেদ বাওয়ানী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ইমন খুন হয়। এ ঘটনায় পাঁচ আসামিকে আটক করে জেলহাজতে পাঠালেও গত মাসে দুই আসামি জামিনে বেরিয়ে এসে মামলার বাদী ও পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। অভিযোগ আছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রশ্রয় পাচ্ছে তারা। ওই এলাকার বাংলাদেশ মাঠসংলগ্ন (পাকিস্তান মাঠ নামেও পরিচিত) আলাবাসুদ গ্রুপের সদস্য সাত রওজা এলাকার লিমন, আকাশ, সিহাব, বাচ্চা সিপাত ও দাঙ্গা রাও সোহাগ নামের কয়েক কিশোর এসব হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, তারা একটি গ্যাংয়ের সদস্য।

গত মার্চে বাংলাদেশ মাঠের পাশে মাজেদ সরদার কমিউনিটি সেন্টারের সামনে আহমেদ বাওয়ানী স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আকিব হোসেন আলতাবকে কুপিয়ে ফেলে রাখে একদল কিশোর। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর জখমের কারণে তার শতাধিক সেলাই লেগেছে। দুই মাস বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ছিল আকিব।

ফুটবল খেলার আলোচনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ মাঠের পাশে আকিবকে কুপিয়েছে উঠতি বয়সী ১০-১২ কিশোর। বাবু নামের এক কিশোর আকিবের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বলে, ‘তোর টিকটক বানানো ছুটাইয়া দিমু।’

এ সময় কালু নামের এক কিশোর পেছন থেকে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে। বাবু নামের এক কিশোর চাকু দিয়ে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ফুসফুস ফেটে যায়।

এ মামলার আসামিদের অনেককে জেলে পাঠানো হলেও পরে বের হয়ে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। সিফাত, শাহাদাত, জিহাদ ও বাবু প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে তাকে। এ নিয়ে বংশাল থানায় ফের জিডি করেও কোনো প্রতিকার পায়নি আকিবের পরিবার।

গত ২৭ জুন পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বাসার প্রয়োজনীয় বাজার নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় কবি নজরুল কলেজের পাশে উইনস্টন গলিতে প্রবেশ করলে একটি ছেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সেই ছাত্রী প্রথমে সূত্রাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি ও পরে মামলা করলেও এখন পর্যন্ত কেউ শনাক্ত হয়নি। প্রভাবশালী কোনো নেতার ছত্রছায়ার কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে শনাক্ত হতে দেরি হচ্ছে, দাবি করেন ওই এলাকায় থাকা তার সহপাঠীরা। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির নাট্যকলা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থীকে দুই কিশোর শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লক্ষ্মী বাজারের অনার্সের এক ছাত্রী বলেন, কিছুদিন আগে সন্ধ্যার দিকে লালকুঠিতে আমার এক বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে যাই। হঠাৎ সে সময় আমাদের ঘিরে ধরে ১০-১২ জন উঠতি বয়সী ছেলে। সবার চুল ও পোশাক দেখে বখাটে মনে হয়েছে। পরে চিৎকার দিয়ে আমরা চলে আসি।

পুরান ঢাকার বানিয়ানগরের কাঠের পুল লেনের বাসিন্দা জেসমিন আক্তার (ছদ্মনাম)। মেয়েসহ পরিবার নিয়ে যে নির্মাণাধীন ভবনে তারা থাকেন রাত হলেই সেখানে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রতিদিন ১০-১৫ জন কিশোর মাদক নিতে সেই ভবনে ওঠে। সবারই বয়স ১৫-২২ বছরের মধ্যে। মাদক গ্রহণসহ রাতে যেসব ফ্ল্যাটে মেয়ে আছে সেসব দরজায় তারা শব্দ করতে থাকেন অনবরত। তাদের অত্যাচারে ভবনের মালিক গেটে একাধিকবার তালা দিলেও সেটি ভেঙে ছাদে উঠে তারা। সারা রাত সেখানে মাদক সেবনসহ চিৎকার-চেঁচামেচি করে সকালে বের হয়।

তাদের বিপক্ষে কথা বললে উল্টো বিপদ আরও বাড়ে বলে জানান জেসমিন আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি চাকরি করি। কিছু বলতে পারি না, কারণ আমার ঘরে একটি মেয়ে রয়েছে। ওরা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকে। পুলিশের কথা বললে তারা বলে, আমাদের বের হতে কয়েক মিনিটের ব্যাপার।’

এ এলাকা ছাড়াও পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার, শাঁখারীবাজার, কলতাবাজার, পানিটোলা, লালকুঠি, শ্যামবাজার, ইসলামপুর, বাবুবাজারসহ সদরঘাটের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ফেরদৌস গ্রুপ, সাজু গ্রুপ, সিনিয়র গ্রুপ, জুনিয়র গ্রুপ, টাইগার গ্রুপ, চিতা গ্রুপ, বড় বাপের পোলাসহ অংসখ্য কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে। প্রতিটি গ্যাংয়ে ২০ থেকে ২৫ জনের বেশি কিশোর রয়েছে।

এদের কেউ স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েছে। কেউ এখনও পড়ছে। কেউ মাদকের মামলার আসামি। সন্ধ্যা হলেই পুরান ঢাকার গলিগুলো ভীতিকর অবস্থায় পরিণত হয়। গলিতে গলিতে জড়ো হয়ে চালায় বেপরোয়া মোটরসাইকেল।

এ ছাড়া আড্ডার সময় কোনো পথচারী, মেয়ে বা বৃদ্ধ রিকশাচালক সামনে পড়লে রেহাই নেই। কেউ হারায় কাছে থাকা অর্থ-সম্পদ সর্বস্ব। নারীরা হারায় সম্মান। হাতিয়ার হিসেবে তারা ব্যবহার করে ছুরি, চায়নিজ চাকু ও ব্লেড। বীরত্ব দেখাতে তুচ্ছ ঘটনায় প্রকাশ্যে রাস্তায় খুনোখুনি করতেও তাদের হাত কাঁপে না।

গত শবেবরাতের রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত হয় অন্তর নামের এক কিশোর। প্রথম তারাবির দিনেও একজন জখম হয়। এ ছাড়া তাদের মাধ্যমে ধর্ষণ ও ইভ টিজিংয়ের মতো ঘটনা অহরহ ঘটতে দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, লক্ষ্মীবাজারের অনেক ভবনের ছাদে ছাদে চলে মাদকের আসর। বাংলাবাজার ও সদরঘাটে কর্মরত কম বয়সী কিশোর-যুবকরা স্থানীয়দের নিয়ে ছাদে মদ, গাঁজা ও জুয়ার আসর বসায় বলে অভিযোগ।

এতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। মাদকাসক্ত এসব কিশোর-যুবক সুযোগ পেলেই বাসার মধ্যে ঢুকে পড়ে চুরির মতো অপরাধে জড়ায়। তারা মাদকের টাকার জন্য ছিনতাইও করে।

পুরান ঢাকায় ছিনতাইয়ের অধিকাংশ ঘটনা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের মাধ্যমে হয়ে থাকে বলে জানা গেছে। গলির ভেতরে কাউকে একা পেলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করা হয়। স্থানীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের পদধারী বা নামধারী কোনো না কোনো ‘বড় ভাই’-এর শেল্টারে থাকায় ছিনতাইয়ের ভাগ এসব বড় ভাই ও নেতাদের দিতে হয়।

সার্বিক বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিপ্রা সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা মহামারিতে উঠতি বয়সী ছেলেদের স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় বাইরে তাদের আড্ডা দেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। বয়সন্ধিকালের এ সময়ে তারা কখন কী করবে বুঝে উঠতে পারে না। আবেগ ও অনুভূতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এসব কিশোর পরিবারের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও থাকে না।

‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, দারিদ্র্য, পরিবারে ভাঙন ও প্রযুক্তির প্রভাবে তারা ছোট ছোট অপরাধ করতে করতে বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’

তিনি বলেন, হতাশা ও সমাজের নানা পারিপার্শ্বিকতায় তারা অপরাধী হয়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইন প্রয়োগের অভাবেও এসব অপরাধ বাড়ছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন কিশোরদের তালিকা রয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো অভিযান চলছে। এতে অনেককে আটক করা হয়েছে। বড় ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

‘আমরা সাম্প্রতিক সময়ে অনেককে ধরেছি। তাদের একেকজনের অপরাধ একেক রকম। যারা আড্ডার সময় মুরুব্বিদের ও মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে তাদের ধরে তাদের পরিবারের মাধ্যমে সংশোধনের ব্যবস্থা করছি। এ ছাড়া যারা বড় ধরনের অপরাধ করছে, তাদের ধরে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কারো কোনো অভিযোগ আমাদের জানালে আমরা অভিযান চালাব।’

শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি ট্রাইব্যুনাল

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি ট্রাইব্যুনাল

সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম

‘আদালত অভিযোগ শুনে বলেছেন, এটা আমলযোগ্য অপরাধ। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মামলা নিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে না এসে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বহিষ্কৃত মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা নেয়নি ট্রাইব্যুনাল। এ বিষয়ে থানায় মামলা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিচারক।

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন রোববার মামলার আবেদন শুনানির পর এ পরামর্শ দেন।

বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা করতে চেয়েছিলেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ওমর ফারুক আসিফ। তিনি আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করেন।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম শামীম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মামলার একটি আবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন এক আইনজীবী।

‘আদালত অভিযোগ শুনে বলেছেন, এটা আমলযোগ্য অপরাধ। তাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মামলা নিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে না এসে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। পরে মেয়র পদ থেকেও তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

কটূক্তির সে ঘটনা নিয়েই মামলা করতে চান আইনজীবী ওমর ফারুক আসিফ। আদালত মামলা না নিলে তিনি বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শেয়ার করুন

ছাত্রদের অর্ধেক ভাড়া আগে পারলে এখন কেন নয়: তথ্যমন্ত্রী

ছাত্রদের অর্ধেক ভাড়া আগে পারলে এখন কেন নয়: তথ্যমন্ত্রী

রোববার ৯ দফা দাবিতে ধানমন্ডির ৭ নম্বরে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন আমি নিজেও বাসে হাফ ভাড়া দিয়ে চলেছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় শহর থেকে বাসে যেতাম হাফ ভাড়া দিয়ে। তখন সরকার বাস মালিকদের কোনো প্রণোদনা দিত না। বাস মালিকরাও প্রণোদনা দাবি করে নাই। তারা বিনা প্রণোদনাতেই ছাত্রদেরকে হাফ ভাড়া দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজকে কেন প্রণোদনা লাগবে সেটি আমার ব্যক্তিগত জিজ্ঞাসা?’

নিজের ছাত্র জীবনের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ প্রশ্ন রেখেছেন, সে সময় বাস মালিকরা সরকারি প্রণোদনা ছাড়াই ছাত্রদের অর্ধেক ভাড়া দিতে পারলে এখন কেন পারবেন না।

বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে রাজধানীতে ছাত্রদের আন্দোলনের মধ্যে বাস মালিকরা এই দাবি মেনে নিতে প্রণোদনার শর্ত তোলার মধ্যে এই প্রশ্ন রাখলেন ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

রোববার রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে ঢাকা উত্তর মহানগর আওয়ামী লীগের দারুস সালাম থানার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ১০ ইউনিটের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর বাস ভাড়া বেড়ে গেলে ঢাকায় ছাত্ররা অর্ধেক ভাড়া নেয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামে। তাদের আন্দোলনের মধ্যেই নটর ডেম কলেজের এক ছাত্র ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় মারা যান।

ছাত্রদের আন্দোলনের মধ্যে এই ঘটনাটিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে একটি শর্ত হিসেবে বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবিও যুক্ত হয়েছে।

প্রায় প্রতি কর্মদিবসেই ছাত্ররা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে নেমে যান চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে। এই অবস্থায় অর্ধেক বাস ভাড়ার দাবি নিয়ে বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে সরকার। তবে মালিকরা জানিয়ে দেয়, সরকারি প্রণোদনা ছাড়া এই দাবি পূরণ সম্ভব নয়।

তবে সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসের বাসে অর্ধেক ভাড়া নেয়া হবে বলে ঘোষণা এসেছে। কেবল রাজধানী নয়, সারা দেশেই ১ ডিসেম্বর থেকে ভাড়ার এই কার কার্যকর হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন আমি নিজেও বাসে হাফ ভাড়া দিয়ে চলেছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় শহর থেকে বাসে যেতাম হাফ ভাড়া দিয়ে।’

মালিকদের প্রণোদনার দাবি নিয়ে এক প্রশ্নে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তখন সরকার বাস মালিকদের কোনো প্রণোদনা দিত না। বাস মালিকরাও প্রণোদনা দাবি করে নাই। তারা বিনা প্রণোদনাতেই ছাত্রদেরকে হাফ ভাড়া দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজকে কেন প্রণোদনা লাগবে সেটি আমার ব্যক্তিগত জিজ্ঞাসা?’

একটি বাসে ৪০ থেকে ৫০জন যাত্রী থাকলে দুই থেকে তিন বা পাঁচজন ছাত্র থাকে বলে মনে করেন মন্ত্রী। বলেন, ‘এতে বাস মালিকদের কী অসুবিধা হবে, সেটি আমার ব্যক্তিগত প্রশ্ন।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল, সরকার সহানুভূতিশীল এবং সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী সরকারি সংস্থা বিআরটিসির ভাড়া হাফ করে দিয়েছেন। যারা ছাত্র তারা আমাদের সন্তান, তাদেরও সন্তান। আমি আশা করব, পরিবহনের মালিকরাও তাদের সন্তানদের কথা চিন্তা করে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

শেয়ার করুন

নগর পরিবহন চালুর উদ্যোগ শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে

নগর পরিবহন চালুর উদ্যোগ শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে রোববার বাস রুট র‍্যাশনালাইজেশনের বৈঠক হয়। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমরা ১ ডিসেম্বর থেকে ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে পাইলটিং কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন খাতে অসহযোগিতার কারণে আমরা হোঁচট খেয়েছি। গণপরিবহনে দীর্ঘদিনের যে বিশৃঙ্খলা তাতে অনেক অংশীজন রয়েছে। সবাইকে শৃঙ্খলার আওতায় আনাটা দুরূহ কাজ।’

ঢাকায় পরিকল্পিত নগর পরিবহন চালুর উদ্যোগ শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে। কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে কাঙ্ক্ষিত নগর পরিবহন সেবা চালুর উদ্যোগ ঝুলে গেছে। ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকে এই রুটে বাস চলার কথা থাকলেও বাস মালিকদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ২৬ ডিসেম্বর থেকে এই রুটে একশ’ বাস নিয়মিত চলাচল করবে-এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকার দুই মেয়র।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে রোববার বাস রুট র‍্যাশনালাইজেশনের ১৯তম বৈঠক শেষে দুই মেয়র সংবাদ সম্মেলন করে এমন তথ্য জানান। ঢাকা শহরের পরিবহনে শৃঙ্খলা আনার জন্য বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন কমিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস সভাপতিত্ব করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাস মালিকদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ আনেন ঢাকার দুই সিটি মেয়র। তবে বাংলাদেশে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘সহযোগিতা ছিল, আছে এবং থাকবে। এটা ভুল বোঝাবুঝি মাত্র।’

মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমরা ১ ডিসেম্বর থেকে ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে পাইলটিং কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, নির্ধারিত তারিখে ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন খাতে অসহযোগিতার কারণে আমরা হোঁচট খেয়েছি। কিন্তু তাতে আমরা পিছপা হইনি। গণপরিবহনে দীর্ঘদিনের যে বিশৃঙ্খলা তাতে অনেক অংশীজন রয়েছে। সবাইকে শৃঙ্খলার আওতায় আনাটা দুরূহ কাজ।’

ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘আমরা দৃঢ়তার সঙ্গেই কাজটা হাতে নিয়েছি। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমরা সংকল্পবদ্ধ। ১ ডিসেম্বর না করা গেলেও ওই মাসেই তা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এর আগের মিটিংয়ে বলা হয়েছিল যে ৪২০টি রুট পারমিট দিলেই ১২০টি নতুন গাড়ি তারা নামাবেন। বাস মালিকরা গত মিটিংয়ে এমন প্রতিশ্রিুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা ৪২০টি রুটে পারমিশন দিতে চাইনি। তারপর দক্ষিণের মেয়র মহোদয়ের কাছে তারা অনুরোধ করলেন। কিন্তু শর্ত ছিল এটাই। সেই শর্তের ভিত্তিতে আমরা চুক্তিতে সই করেছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ওনারা যে কথা দিয়েছিলেন সে অনুযায়ী আমরা বাস পাইনি। এখানে কথার বড়খেলাপ হচ্ছে। রুটটিতে নির্ধারিত দিনে বাস সার্ভিস চালু না হওয়ার এটাই আসল কারণ।

‘এ অবস্থায় ঘাটার চর থেকে কাঁচপুরের সাইনবোর্ড পর্যন্ত বিআরটিসির সহায়তায় ২৬ ডিসেম্বর থেকে একশ’ বাস নামানোর উদ্যোগ নিতে আমরা বাধ্য হয়েছি। বিআরটিসি বাস দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে। এ ছাড়া ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে কেউ এই রুটে বাস চালানোর আবেদন করলে সুযোগ দেয়া হবে। আমরা এখন উন্মুক্ত করে দিয়েছি। আমাদের কিছুটা কঠোর হতে হয়েছে।’

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন রুটে গাড়ি চালাচলে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। আজকের মিটিংয়ে আরো সিদ্ধান্ত হয়েছে, ‘নির্দিষ্ট রুট ছাড়া অন্য রুটে কেউ বাস চালাতে পারবে না। ঢাকা শহরে রুট পারমিটবিহীন অনেক গাড়ি চলছে, সেগুলো আর চলতে দেয়া হবে না। ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ, ডিএমপিসহ আমরা অভিযানে নামবো। যারা এক রুটে পারমিট নিয়ে অন্য রুটে গাড়ি চালাচ্ছে তাদেরও ধরা হবে। আমরা সবকিছুকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চাচ্ছি। নতুন রুট পারমিটও আর দেয়া হবে না।’

উত্তর সিটির মেয়র বলেন, ‘ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর নতুন রুটে পিক আওয়ারে যাত্রী দাঁড়াবে (অপেক্ষার সময়) ৫ মিনিট আর অফ পিক আওয়ারে ১০ মিনিট। এ ছাড়া নতুন রুটে ই-টিকিটিং সিস্টেমে বাসগুলো চলবে।

রুট পারমিট ছাড়া চলা নিষিদ্ধ ও নতুন রুট পারমিট না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি কমিটির আছে কীনা জানতে চাইলে ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘গণপরিবহনকে শৃঙ্খলায় আনার জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেটির পূর্ণাঙ্গ কার্যপরিধির আওতায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মূল কথা হলো ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা।’

মেয়র তাপস বলেন, ‘এই রুটে একশ’ বাসের মধ্যে বিআরটিসি দিচ্ছে ৩০টি। বাকিগুলোর ক্ষেত্রে আমরা গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে নতুন বিনিয়োগকারী নেব। আমরা ৭০টি বাসকে রুট পারমিট দেব। সেটা একটি প্রতিষ্ঠান হতে পারে, আবার দশটিও হতে পারে। এরপর প্রয়োজন বুঝে বাসের সংখ্যা কমানো বা বাড়ানো হতে পারে। বাস মালিক সমিতিকে সুযোগ দেয়া হয়েছি। তারা ব্যর্থ হওয়ায় আমরা এটি উন্মুক্ত করে দিচ্ছি। এখন অন্যরাও আসতে পারবে।

ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে বর্তমানে চলাচল করা বাসগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে কীনা জানতে চাইলে মেয়র তাপস বলেন, ‘বিদ্যমান বাসগুলো চলতে পারবে। তবে শর্ত হলো, ২০১৯ সালের আগের কোন বাস চলতে পারবে না। রুট পারমিট ও বিআরটিএ’র রেজিস্ট্রেশন থাকতে হবে। এসব বাসের মালিক ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন করলে বিবেচনা করা হবে।

‘আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে চিহ্নিত এক হাজার ৬৪৬টি রুট পারমিটবিহীন বাসের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। রুট পারমিটবিহীন অবৈধ বাসগুলো জব্দ করে ধ্বংস করা হবে।’

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের মামলা খেল পুলিশ, সাংবাদিক ও সরকারি চালক

শিক্ষার্থীদের মামলা খেল পুলিশ, সাংবাদিক ও সরকারি চালক

ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই করছেন আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী। ছবি: সাইফুল ইসলাম

ট্রাফিক সার্জেন্ট হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রী নিজেরাই বিভিন্ন গাড়ির কাগজ চেক করছিল। বিশেষ করে সরকারি গাড়ি, পুলিশের গাড়ি ও সাংবাদিকদের গাড়ি পেলে তারা বেশি চেক করছিল।’

৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এ সময় তারা তাদের দাবি নিয়ে স্লোগান দেয়ার পাশাপাশি ধানমন্ডি-মিরপুর সড়কে চলচলকারী বিভিন্ন যানবাহন ও চালকের কাগজপত্র যাচাই করেন। যাচাইয়ে কারও অসংগতি পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে মামলা দিতে উপস্থিত ট্রাফিক সার্জেন্টকে উদ্বুদ্ধ করেন তারা। এভাবে দুই ঘণ্টার আন্দোলনে প্রায় ৫০টির মতো মামলা দেয়া হয়েছে।

ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন থেকে শুরু করে মামলার তালিকা থেকে বাদ যায়নি পুলিশ, সাংবাদিক ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের গাড়িচালকও।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়িচালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করে শিক্ষার্থীরা দেখতে পান, ওই চালকের লাইসেন্স থাকলেও তার মেয়াদ নেই। ২০১৩ সালে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর গত ৮ বছর তিনি লাইসেন্স নবায়ন করেননি। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে ওই চালককে ২ হাজার টাকার মামলা দেন ট্রাফিক সার্জেন্ট।

মোটরসাইকেলচালক দুই পুলিশ সদস্যের কাগজও যাচাই করেন তারা। হেলমেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় তাদের বিরুদ্ধেও মামলা দিতে বাধ্য করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের মামলা খেল পুলিশ, সাংবাদিক ও সরকারি চালক
পুলিশ, সাংবাদিক, সরকারি গাড়ি ছাড়াও ব্যক্তিগত ও গণপরিবহনের কাগজপত্রও যাচাই করেন শিক্ষার্থীরা

এভাবে দুই ঘণ্টার আন্দোলন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের চাপে ৫০টির বেশি মামলা করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক সার্জেন্ট হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রী নিজেরাই বিভিন্ন গাড়ির কাগজ চেক করছিল। বিশেষ করে সরকারি গাড়ি, পুলিশের গাড়ি ও সাংবাদিকদের গাড়ি পেলে তারা বেশি চেক করছিল। যাদের কাগজে অসংগতি পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ জরিমানা করা হয়েছে।’

শেয়ার করুন

দারুস সালামে ফারুক হত্যা: রিমান্ডে শাশুড়ি-শ্যালিকা

দারুস সালামে ফারুক হত্যা: রিমান্ডে শাশুড়ি-শ্যালিকা

২১ নভেম্বর এ দুই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানা পুলিশের উপপরিদর্শক আছিবুর রহমান তুষার। আদালত ২৩ নভেম্বর আসামিদের রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে। ওই দিন সেটি পিছিয়ে ২৮ নভেম্বর ঠিক করা হয়।

রাজধানীর দারুস সালামে ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা মামলায় শাশুড়ি জাহানারা বেগম ও শ্যালিকা জয়া হাসান মীমকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এক দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।

রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেয়।

২১ নভেম্বর এ দুই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) আছিবুর রহমান তুষার।

আদালত ২৩ নভেম্বর আসামিদের রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে। ওই দিন সেটি পিছিয়ে ২৮ নভেম্বর ঠিক করা হয়।

এদিন রিমান্ড শুনানির সময় আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী আবু তৈয়ব রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিমান্ড অনুমোদনের প্রার্থনা করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন বলে নিউজবাংলাকে জানান দারুস সালাম থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান।

এ মামলায় ২১ নভেম্বর ফারুক হোসেনের শ্যালক জাসফিকুর রহমান অশ্রু আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় করা অস্ত্র মামলায় এক দিনের রিমান্ডে রয়েছেন অশ্রু।

অভিযোগ রয়েছে, ২০ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাসফিকুর রহমান অশ্রু তার বোনের স্বামী ফারুক হোসেনকে গুলি করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ফারুক হোসেনের মা আজমেরী বেগম ৮ জনকে আসামি করে দারুস সালাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দারুস সালাম থানার এসআই রিয়াজুল ইসলাম অশ্রুকে একমাত্র আসামি করে অস্ত্র মামলা করেন।

শেয়ার করুন