রাস উৎসবে মেতেছে মণিপুরী পাড়া

রাস উৎসবে মেতেছে মণিপুরী পাড়া

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাধবপুর মণ্ডপে শুক্রবার রাতে মণিপুরী সম্প্রদায়ের রাস পূর্ণিমা উদযাপন। ছবি: নিউজবাংলা

মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ জানান, মাধবপুর জোড়ামণ্ডপে রাসোৎসব সিলেট বিভাগের মধ্যে ব্যতিক্রমী আয়োজন। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার আগমন ঘটে। বর্ণময় শিল্পসমৃদ্ধ বিশ্বনন্দিত মণিপুরী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবে সবার মহামিলন ঘটে।

ঢাক-ঢোল, মৃদঙ্গ, করতাল আর শঙ্খধ্বনির সঙ্গে ব্যাপক আনন্দ উল্লাসের মধ্যদিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শুরু হয়েছে মণিপুরী সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব রাসলীলা। রাধা-কৃষ্ণের লীলাকে ঘিরে এই উৎসব আয়োজনে রয়েছে জোরদার নিরাপত্তা।

রাস উৎসব মূলত মণিপুর সম্প্রদায়ের হলেও তা আর মণিপুরী সম্প্রদায়ে সীমাবদ্ধ নেই। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের লোকজনের অংশগ্রহণেই উদযাপিত হয় এই আনন্দ উৎসব।

সাদা কাগজের নকশায় নিপুণ কারুকাজে সজ্জিত করা হয় মণ্ডপগুলো। মহারাত্রির পরশ পাওয়ার জন্য হাজারো মানুষের মিলনতীর্থে পরিণত হয় মাধবপুর জোড়া মণ্ডপ আর আদমপুরের মণ্ডপগুলো।

মণ্ডপে মণিপুরী শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুণ নৃত্যাভিনয় রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে ভক্ত-দর্শনার্থীদের। মণিপুরী সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও মেতে ওঠে এই আনন্দ আয়োজনে।

শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে রাখাল নৃত্যের মাধ্যমে শুরু হয় এই উৎসব। রাত ১২টায় শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী রাসনৃত্য। এই আনন্দ আয়োজনে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কমলগঞ্জে হাজির হয়েছে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা পেশার হাজারো মানুষ। তাদের পদচারণায় শুক্রবার সকাল থেকে মুখর হয়ে ওঠে মণিপুরী পল্লীর এই দুটি এলাকা।

শনিবার ঊষালগ্নে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর জোড়া মণ্ডপ প্রাঙ্গণে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সম্প্রদায়ের ১৭৯তম, আদমপুরের মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মণিপুরী মী-তৈ সম্প্রদায়ের ৩৬তম এবং নয়াপত্তন যাদু ঠাকুর মণ্ডপ প্রাঙ্গণে ষষ্ঠ বারের মতো আয়োজন হয়েছে মহারাসোৎসব।

রাস উৎসব ঘিরে প্রতিবারের মতো এবারও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বসেছে রকমারি আয়োজনে বিশাল মেলা। ভিড় সামলাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়।

রাসলীলা উপলক্ষে কমলগঞ্জের তিনটি স্থানে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় খৈ, মুড়ি, বাতাসা, ছোটদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা, পোশাক-পরিচ্ছদ, ঘর সাজানোর বিভিন্ন উপকরণ ও প্রসাধনী, শ্রীকৃষ্ণের ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির ছবিসহ বাহারি পণ্য শোভা পাচ্ছে।

মাধবপুর শিববাজার এলাকায় মেলা প্রাঙ্গণে বসেছে মণিপুরী সম্প্রদায়ের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে বইপত্রের কয়েকটি স্টল।

বাঁশ ও কাগজ কেটে বিশেষ কারুকাজে রাসের মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। মণ্ডপের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে বসেন রাসধারী বা রাসের গুরু, সূত্রধারী ও বাদকরা। পাশাপাশি তিনটি মণ্ডপে দু’শতাধিক তরুণী এই রাসলীলায় অংশ নিচ্ছেন।

রাসের সাধারণ ক্রম হচ্ছে- সূত্রধারীর রাগালাপ ও বন্দনা, বৃন্দার কৃষ্ণ আবাহন, কৃষ্ণ অভিসার, রাধা ও সখীদের অভিসার, রাধা-কৃষ্ণের সাক্ষাৎ ও মান-অভিমান, ভঙ্গীপারেং, রাধার কৃষ্ণ-সমর্পণ, যুগলরূপ প্রার্থনা, আরতি ইত্যাদি।

মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ জানান, মাধবপুর জোড়ামণ্ডপে রাসোৎসব সিলেট বিভাগের মধ্যে ব্যতিক্রমী আয়োজন। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার আগমন ঘটে। বর্ণময় শিল্পসমৃদ্ধ বিশ্বনন্দিত মণিপুরী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবে সবার মহামিলন ঘটে।

মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা প্রভাস সিংহ জানান, সব ধরনের সুবিধা বিদ্যমান থাকায় এখানকার রাসলীলা বড় উৎসবে রূপ নিয়েছে। উৎসবে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী এসেছেন এখানে।

জানা যায়, ১৭৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ভাগ্যচন্দ্র সিংহের আয়োজনে মণিপুরীরা প্রথম রাসলীলা পালন করেন। সে সময় মণিপুরী রাজা স্বপ্নাদীষ্ট হয়ে কন্যা লাইরোবিকে রাধার ভূমিকায় অবতীর্ণ করে রাস অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন। মৈথিলি ও ব্রজবুলি ভাষার বিভিন্ন পদের মণিপুরী সঙ্গীতের নিজস্ব গায়কী ও মুদ্রা-পদবিক্ষেপে জটিল এবং ধ্রপদি ধারার গীতি-নৃত্যধারায় তা পালন করা হয়েছিল।

মণিপুরীদের আদিভূমি ভারতের মণিপুর থেকে এই রাস উপমহাদেশে তথা সমগ্র বিশ্বের নৃত্যকলার মধ্যে একটি বিশেষ স্থান করে দিয়েছে। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান হলেও এর নৃত্যশৈলী বরাবরই সব ধর্ম ও জাতির মানুষকে আর্কষণ করেছে।

আরও পড়ুন:
জ্যোৎস্না বিলাসে শ শ ফানুস
সুন্দরবনের আলোরকোলে চলছে রাস উৎসব
নাচে-গানে ওয়ানগালায় মেতেছেন গারোরা
মোমের আলোয় পরলোকগত স্বজন স্মরণ
ইডফা’য় কামারের ‌‘অন্যদিন’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৩ দিন আগে ‘সন্ত্রাসীদের তালিকা দিয়েছিলেন’ কাউন্সিলর সোহেল

৩ দিন আগে ‘সন্ত্রাসীদের তালিকা দিয়েছিলেন’ কাউন্সিলর সোহেল

কাউন্সিলর সোহেল

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের দিন তিনেক আগে কাউন্সিলর সোহেল কম্পিউটারে টাইপ করে সন্ত্রাসীদের মোবাইল নম্বর ও নাম এবং তাদের কার বিরুদ্ধে কী মামলা রয়েছে তা লিখে একটি তালিকা করে আমাকে দিয়েছিল। বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করতেও বলেছিল সে। সোহেল শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিল যে তালিকায় নাম থাকা সন্ত্রাসীরা যে কোনো মুহূর্তে তার ক্ষতি করতে পারে।’

কুমিল্লায় সোমবার নিজ কার্যালয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন কাউন্সিলর সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহা। এ সময় আরো চারজন গুলিবিদ্ধ হন।

তবে কাউন্সিলর সোহেল আগে থেকেই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের তা জানিয়েছিলেনও। এমনকি মোবাইল নম্বরসহ সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের তালিকা করে তা এক নেতাকে দিয়েছিলেন তিনি। এমন দাবি করেছেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত।

তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের দিন তিনেক আগে কাউন্সিলর সোহেল কম্পিউটারে টাইপ করে সন্ত্রাসীদের মোবাইল নম্বর ও নাম এবং তাদের কার বিরুদ্ধে কী মামলা রয়েছে তা লিখে একটি তালিকা করে আমাকে দিয়েছিল। বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করতেও বলেছিল সে। সোহেল শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিল যে তালিকায় নাম থাকা সন্ত্রাসীরা যে কোনো মুহূর্তে তার ক্ষতি করতে পারে।’

তালিকা পাওয়ার পর কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কীনা-এমন প্রশ্নে আরফানুল হক রিফাত বলেন, ‘আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। তবে এতো দ্রুত এমন কিছু ঘটে যাবে তা স্বপ্নেও চিন্তা করিনি। আমরা এই ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টিন্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

মাসুমের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

কাউন্সিলর সোহেলসহ জোড়া খুনের ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি মাসুমের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। শুক্রবার এই আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক কায়সার হামিদ।

তিনি জানান, শুক্রবার বিকেল ৪টায় ৮ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শামসুর রহমান আমাদের আবেদন গ্রহণ করেন। শনিবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করবে আদালত।

পরে আসামি মাসুমকে কারাগারে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাসুমকে জেলার চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তার করে।

আরও পড়ুন:
জ্যোৎস্না বিলাসে শ শ ফানুস
সুন্দরবনের আলোরকোলে চলছে রাস উৎসব
নাচে-গানে ওয়ানগালায় মেতেছেন গারোরা
মোমের আলোয় পরলোকগত স্বজন স্মরণ
ইডফা’য় কামারের ‌‘অন্যদিন’

শেয়ার করুন

আ.লীগের ১৬ বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার

আ.লীগের ১৬ বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার

বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার বলেন, ‘সরাইলের নয় ইউনিয়নে অনেকেই বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন। এরপর একাধিকবার দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেনি। তাই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে মর্মে গঠনতন্ত্রের ৪৭ ধারা মোতাবেক তাদের প্রত্যেককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ১৬ আওয়ামী লীগ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার।

বহিষ্কৃত নেতারা হলেন সরাইল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে চশমা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল জব্বার ও আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী ইউনুছ মিয়া, পানিশ্বর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোটর সাইকেল প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান এবং শাহজাদাপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী আঙ্গুর মিয়া ও মোটর সাইকেল প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকন।

এছাড়া শাহবাজপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ রানা রুবেল ও অটোরিকশা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী রাজী আহমেদ রাজ্জি, নোয়াগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী আফতাব মিয়া, টেলিফোন প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী এমরান মিয়া, অটোরিকশা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী কাজল চৌধুরী এবং ঘোড়া প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী সাইমন মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে আরও রয়েছেন পাকশিমুল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ঘোড়া প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী আলফু মিয়া, চশমা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল্লাহ্ মিয়া, দুটি পাতা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী কুতুবুল আলম ও অটোরিকশা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কাসেম। এছাড়া চুন্টা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ুন কবিরকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

এরা সবাই নিজ নিজ ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার বলেন, ‘সরাইলের নয় ইউনিয়নে অনেকেই বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন। এরপর একাধিকবার দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেনি। তাই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে মর্মে গঠনতন্ত্রের ৪৭ ধারা মোতাবেক তাদের প্রত্যেককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

রোববার সরাইলের নয়টি ইউনিয়নে ভোট নেয়া হবে। এর মধ্যে উপজেলার সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে চার জন, নোয়াগাঁও নয় জন, কালিকচ্ছ নয় জন, চুন্টা পাঁচ জন, উ: পানিশ্বরে ১০ জন, শাহবাজপুর আট জন, শাহজাদাপুরে পাঁচ জন, পাকশিমুল ইউনিয়নে ১৩ জন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

আরও পড়ুন:
জ্যোৎস্না বিলাসে শ শ ফানুস
সুন্দরবনের আলোরকোলে চলছে রাস উৎসব
নাচে-গানে ওয়ানগালায় মেতেছেন গারোরা
মোমের আলোয় পরলোকগত স্বজন স্মরণ
ইডফা’য় কামারের ‌‘অন্যদিন’

শেয়ার করুন

ডিমলার সাত ইউনিয়নে ৪০৩ মনোনয়নপত্র জমা

ডিমলার সাত ইউনিয়নে ৪০৩ মনোনয়নপত্র জমা

প্রতীকী ছবি

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২৯ নভেম্বর। ৬ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৭ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সাত ইউনিয়ন পরিষদে ৪০৩জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনের হিসাব অনুযায়ী এই তথ্য জানিয়েছে উপজেলা নির্বাচন দপ্তর। এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৬ ডিসেম্বর।

মনোনয়নপত্র দাখিল করা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪১, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড সদস্য পদে ৯৬ ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ২৬৬জন রয়েছেন।

নির্বাচন অফিস সূত্রমতে, ডিমলা সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড সদস্য পদে ১৬ ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৪৫জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এ ছাড়া পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড সদস্য পদে ১৩ ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ২৭; পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৮ ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ২৭; বালাপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৩ ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৪৫; খালিশা চাপানি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৬, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৮ ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৩৭; ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৯, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৭ ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৭ এবং নাউতারা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৮, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১১ ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৩৮জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ সাত ইউনিয়নে, বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি দুই ইউনিয়নে ও ইসলামী আন্দোলন একটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহাবুবা আকতার বানু জানান, ২৬ ডিসেম্বর এই সাত ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২৯ নভেম্বর। ৬ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৭ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
জ্যোৎস্না বিলাসে শ শ ফানুস
সুন্দরবনের আলোরকোলে চলছে রাস উৎসব
নাচে-গানে ওয়ানগালায় মেতেছেন গারোরা
মোমের আলোয় পরলোকগত স্বজন স্মরণ
ইডফা’য় কামারের ‌‘অন্যদিন’

শেয়ার করুন

ষড়যন্ত্র করে নৌকার প্রার্থী বদলের অভিযোগ

ষড়যন্ত্র করে নৌকার প্রার্থী বদলের অভিযোগ

নৌকার প্রার্থী বদলের অভিযোগে শুক্রবার নোয়াখালীর কবিরহাটে মানববন্ধন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

অভিযোগ উঠেছে, নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউপিতে নৌকার মনোনয়ন পান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন। পরে তার পরিবর্তে মনোনয়ন দেয়া হয় কামাল খান নামের একজনকে।

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে নৌকার প্রার্থী বদলের অভিযোগ উঠেছে।

ধানসিঁড়ি ইউপিতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন। পরে তার পরিবর্তে মনোনয়ন দেয়া হয় কামাল খান নামের এক ব্যবসায়ীকে। এমনটা অভিযোগ করে প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।

শুক্রবার দুপুরে ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নিমতলী বাজারে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়।

এ সময় বক্তব্য দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল, ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক সাহাব উদ্দিন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আবুল কাশেম দুলাল, জেবল হক, নুরেজ্জামান, আবুল কালাম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন বোর্ড গত ২৩ নভেম্বর ধানসিঁড়ি ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মো. কামাল উদ্দিনকে মনোনয়ন দিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করে। অথচ ২৪ নভেম্বর দলীয় মনোনয়নের চিঠিতে ব্যবসায়ী কামাল খানের নাম আসে।

তারা বলেন, ওই চিঠিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নাম ও সিলে একাধিক ভুল রয়েছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কামাল উদ্দিনের পরিবর্তে কামাল খানকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছে। বিষয়টি হয়তো জননেত্রী শেখ হাসিনা অবগত নন।

মানববন্ধন থেকে কামাল খানকে বাদ দিয়ে কামাল উদ্দিনকে নৌকা প্রতীক দেয়ার দাবি জানানো হয়।

আরও পড়ুন:
জ্যোৎস্না বিলাসে শ শ ফানুস
সুন্দরবনের আলোরকোলে চলছে রাস উৎসব
নাচে-গানে ওয়ানগালায় মেতেছেন গারোরা
মোমের আলোয় পরলোকগত স্বজন স্মরণ
ইডফা’য় কামারের ‌‘অন্যদিন’

শেয়ার করুন

চাকরি ছাড়লেন চট্টগ্রামে নালায় নিখোঁজ ছালেহর ছেলে

চাকরি ছাড়লেন চট্টগ্রামে নালায় নিখোঁজ ছালেহর ছেলে

১৩ অক্টোবর ছাদেকুল্লাহ মাহিনকে চাকরি দিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরশন।

মাহিন বলেন, ‘আমাকে তারা অফিসিয়াল কাজ দিবে বলেছিল। এছাড়া এই চাকরিটা শুরু করার সময়ও আমাকে রিসিট লেখার কাজ বলেছিল। কাজ করতে গিয়ে দেখি আমাকে গাড়িতে তেল ভরানোর কাজ করতে হচ্ছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করতে হয় সেখানে। তাহলে আমি পড়াশোনা করব কখন?’  

চট্টগ্রামে নালায় নিখোঁজ ছালেহ আহমেদের ছেলে ছাদেকুল্লাহ মাহিন সিটি করপোরেশনের গ্যাস পাম্পের চাকরিতে ইস্তফা দিয়েছেন।

নিউজবাংলাকে শুক্রবার রাতে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

২১ নভেম্বর বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পাম্পে দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে রিজাইন লেটার জমা দেন বলে জানান। চিঠিতে চাকরি ছাড়ার কারণ হিসেবে পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মাহিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাকে তারা অফিসিয়াল কাজ দিবে বলেছিল। এছাড়া এই চাকরিটা শুরু করার সময়ও আমাকে রিসিট লেখার কাজ বলেছিল। কাজ করতে গিয়ে দেখি আমাকে গাড়িতে তেল ভরানোর কাজ করতে হচ্ছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করতে হয় সেখানে। তাহলে আমি পড়াশোনা করব কখন? এমনিতেই আমার ইন্টারে সায়েন্স গ্রুপ।’

তিনি বলেন, ‘সব কিছু বিবেচনা করে চাকরিটা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি। রিজাইন লেটার জমা দিয়েছি। আপাতত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করতে চাই। এরপর দেখা যাক কী হয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের সুপারিনটেনডেন্ট প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) সুদীপ বসাক বলেন, ‘আমি যেহেতু এটার দায়িত্বে আছি, রিজাইন লেটার দিলে আমার কাছে আসার কথা। আমি রিজাইন লেটার পাইনি। মাহিন আমাদের বলেছিলেন, পরীক্ষার জন্য কিছুদিন আসবেন না।

‘গাড়িতে তেল ভরানোর কাজ তাকে দিয়ে করানো হয়নি, তার কাজ রিসিট লেখা। তবে তাকে নিজের জন্য টেকনিক্যাল কাজগুলো শিখে রাখার অনুরোধ করেছিলাম আমি।’

তিনি বলেন, ‘মাহিন জয়েন করার পর তিনদিন কর্মস্থলে এসেছেন। এর মধ্যে একদিনও ফুলটাইম কাজ করেননি। তিনদিনে একটা কাজ সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা পাওয়া কঠিন। আমরা তাকে শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকার অনুরোধ করেছিলাম, প্রয়োজনীয় আর্থিক সাপোর্টেরও ব্যবস্থা করার কথা বলেছিলাম। তিনি গুরুত্ব দেননি। পড়াশোনার জন্যও যেকোন সময় প্রয়োজনীয় ছুটির ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছিলাম। এরপরও তিনি চাকরির ব্যাপারে খুব একটা ইতিবাচক না।’

এর আগে ২৫ আগস্ট নগরীর মুরাদপুর এলাকায় নালায় পড়ে নিখোঁজ হন সবজি ব্যবসায়ী সালেহ আহমেদ। এখনও তার খোঁজ মেলেনি।

পরে ১৩ অক্টোবর মেয়রের আশ্বাস অনুযায়ী তার ছেলে ছাদেকুল্লাহ মাহিনকে চাকরি দেয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।

আরও পড়ুন:
জ্যোৎস্না বিলাসে শ শ ফানুস
সুন্দরবনের আলোরকোলে চলছে রাস উৎসব
নাচে-গানে ওয়ানগালায় মেতেছেন গারোরা
মোমের আলোয় পরলোকগত স্বজন স্মরণ
ইডফা’য় কামারের ‌‘অন্যদিন’

শেয়ার করুন

নরসিংদীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার

নরসিংদীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার

শাহরিয়ার শামস কেনেডি

পুলিশ জানায়, বিএনপির কর্মসূচি থেকে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় নরসিংদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার শামস কেনেডিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নরসিংদীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার শামস কেনেডিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে শহরের বাজীর মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নরসিংদী সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, বিএনপির নেতাকর্মীরা ২২ নভেম্বর নরসিংদী সদরের চিনিশপুর এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে দলীয় অনুষ্ঠান করছিল। পুলিশ তাদেরকে রাস্তা থেকে সরে যেতে বললে তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় ইটের আঘাতে আবু সাইদ ও সবুজ মিয়া নামে দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

ঘটনাস্থল থেকে পলানোর সময় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২০টি ইটের টুকরো, ৫টি লাঠি ও বিস্ফোরিত তিন/চারটি ককটেলের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ থানায় মামলা করে। ওই ঘটনায় শাহরিয়ার শামস কেনেডিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানায়।

আরও পড়ুন:
জ্যোৎস্না বিলাসে শ শ ফানুস
সুন্দরবনের আলোরকোলে চলছে রাস উৎসব
নাচে-গানে ওয়ানগালায় মেতেছেন গারোরা
মোমের আলোয় পরলোকগত স্বজন স্মরণ
ইডফা’য় কামারের ‌‘অন্যদিন’

শেয়ার করুন

নীলফামারীতে টানা ছয়-এর সামনে কামাল আহমেদ

নীলফামারীতে টানা ছয়-এর সামনে কামাল আহমেদ

ভোটের আগে শেষবারের প্রচারে শহরের প্রধান শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী পৌরসভার মেয়র কামাল আহমেদ। 

‘১৯৮৯ সাল থেকে টানা পাঁচবার আপনাদের সমর্থন নিয়ে আমি এলাকার মানুষের সেবা ও উন্নয়ন করে চলেছি। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে নীলফামারী পৌরসভা আজ দেশে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। সারাদেশের পৌরসভাগুলোর নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আমাকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

১৯৮৯ সাল থেকে নীলফামারী পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র তিনি। পাঁচবার ভোটের লড়াইয়ে নেমে প্রতিবারই এলাকাবাসীর মন জয় করতে পেরেছেন তিনি। এবার ষষ্ঠবারের ভোটের ময়দানে তিনি।

নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ এবারও মেয়র হতে পারবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত শহরবাসী জানাবে রোববার। সেদিন দেশের নানাপ্রান্তে কয়েক শ ইউনিয়নের পাশাপাশি কয়েকটি পৌরসভাতেও ভোট হবে।

ভোটের আগে শেষবারের প্রচারে শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা শহরের প্রধান শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বক্তব্য রাখেন কামাল আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘১৯৮৯ সাল থেকে টানা পাঁচবার আপনাদের সমর্থন নিয়ে আমি এলাকার মানুষের সেবা ও উন্নয়ন করে চলেছি। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে নীলফামারী পৌরসভা আজ দেশে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। সারাদেশের পৌরসভাগুলোর নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আমাকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

আবারও নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করে নীলফামারী পৌরসভাকে আধুনিক মানসম্মত পৌরসভায় গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন কামাল আহমেদ।

নগরবাসীকে কোনো ভূল কোন সিদ্ধান্ত না নেয়ার জন্য পৌরবাসীর প্রতি অনুরোধ করেন তিনি। বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সু-সম্পর্ক এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আসা যাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ঠদের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প এই পৌরসভায় নেয়ার সুযোগ হয়েছে। অন্য কেউ এটি পারবে না।’

কামাল আহমেদ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে চান বলে যে প্রচার আছে, সে বিষয়েও তার অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। জানান, সদর আসন নীলফামারী-২ এর সংসদ সদস্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর যতদিন প্রার্থী হবেন, তত দিন তিনি মনোনয়ন ফরম তুলবেন না।

তিনি বলেন, ‘তার (আসাদুজ্জামান নূর) মতো একজন মানুষের সাথে নিজেকে তুলনা করা বেয়াদবির শামিল। তার কাছ থেকে আমি শিখি, অভিজ্ঞতা অর্জন করি, তিনি অনেক বড় মাপের মানুষ।’

নীলফামারী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মসফিকুল ইসলাম রিন্টুর সভাপতিত্বে সমাবেশে পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র জাকিয়া খাতুন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হকও বক্তব্য দেন।

সমাবেশের আগে কয়েক হাজার নারী ও পুরুষ নৌকা প্রতীকের সমর্থনে মিছিল করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় খোলা জিপে জনতার উদ্দেশে হাত নাড়ান কামাল আহমেদ।

আরও পড়ুন:
জ্যোৎস্না বিলাসে শ শ ফানুস
সুন্দরবনের আলোরকোলে চলছে রাস উৎসব
নাচে-গানে ওয়ানগালায় মেতেছেন গারোরা
মোমের আলোয় পরলোকগত স্বজন স্মরণ
ইডফা’য় কামারের ‌‘অন্যদিন’

শেয়ার করুন