মেয়র জাহাঙ্গীর আর আওয়ামী লীগের নেতা নন

মেয়র জাহাঙ্গীর আর আওয়ামী লীগের নেতা নন

রেকর্ড ফাঁসের ঘটনায় আন্দোলনের মধ্যে গত ২৪ অক্টোবর জাহাঙ্গীর আলম সমাবেশ করে তার শক্তি দেখান

গত ২২ সেপ্টেম্বর ঘরোয়া আলোচনার রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষমতাসীন দলে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে গত ৩ অক্টোবর জাহাঙ্গীরের ব্যাখ্যা চায় আওয়ামী লীগ। এতে তাকে ১৫ দিন সময় দেয়া হয়। ব্যাখ্যায় জাহাঙ্গীর দাবি করেন, যে রেকর্ড ফাঁস হয়েছে, সেটি বানোয়াট। তবে তার দল এই ব্যাখ্যা মেনে নেয়নি।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার জেরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের দলীয় সদস্যপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ক্ষমতাসীন দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

জাহাঙ্গীর গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে তিনি রাজধানী লাগোয়া ক্ষমতাসীন দলের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হয়ে উঠেছিলেন গত কয়েক বছরে।

প্রায় দুই মাস ধরে জাহাঙ্গীরের শাস্তির দাবিতে ক্ষমতাসীন দলের একাংশের বিক্ষোভের মধ্যে শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

এদিন জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে, সে ইঙ্গিত আগেই ছিল। মেয়র নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, দলের সভাপতি শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা তিনি মেনে নেবেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর ঘরোয়া আলোচনার রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর আওয়ামী লীগের একটি অংশ জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বিক্ষোভে নামে।

সে সময় মেয়র ছিলেন দেশের বাইরে। দেশে ফিরে ২৪ অক্টোবর তিনি পাল্টা সমাবেশ ডেকে নিজের শক্তি দেখান। সেই সমাবেশের সময় তার বিরোধীদের পুলিশ সরিয়ে নেয়ার ঘটনায় তিনি পার পেয়ে যান কি না, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।

মেয়র জাহাঙ্গীর আর আওয়ামী লীগের নেতা নন
ফেসবুকে রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ার পর মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তির দাবিতে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে গাজীপুর ছিল উত্তপ্ত

ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে গত ৩ অক্টোবর জাহাঙ্গীরের ব্যাখ্যা চায় আওয়ামী লীগ। এতে তাকে ১৫ দিন সময় দেয়া হয়। ১৮ অক্টোবর সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই মেয়র তার ব্যাখ্যা দেন বলে নিউজবাংলাকে জানান।

ব্যাখ্যায় কী লিখেছেন- এমন প্রশ্নে তার বক্তব্য ছিল ‘আমি বলেছি এটা মিথ্যা, বানোয়াট। আমাকে ফাঁসানোর জন্য, ছোট করার জন্য এটা করা হয়েছে।’

শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রেখেই অপেক্ষা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার যিনি প্রধান, আমার গার্জিয়ান (অভিভাবক), উনি যেটা ভালো মনে করেন সেটাই হবে।’

২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, ১৯ নভেম্বর তাদের দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এই বৈঠকের আগে কয়েক দিনে মেয়রের পক্ষে-বিপক্ষে পোস্টারে সয়লাব হয়ে যায় গাজীপুর। মেয়রবিরোধীরা দাবি করতে থাকেন, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আসছে। তবে তার অনুসারীরা দাবি করতে থাকেন, তার কিছুই হবে না।

ফাঁস হওয়া রেকর্ড

গত ২২ সেপ্টেম্বর মেয়র জাহাঙ্গীরের একটি ঘরোয়া আলোচনার ৪ মিনিটের একটি রেকর্ড ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এর একটি অংশ ছিল ভিডিও, একটি অংশ ছিল অডিও।

ভিডিওটির প্রথম দিকে মেয়র জাহাঙ্গীরকে নীল রঙের জামা পরে চেয়ারে বসে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।

ভিডিওটির প্রথম দিকে মেয়রকে দেখা গেলে বাকি অংশে শুধু অডিও বক্তব্য শোনা যায়। কিছু কিছু অংশ ছিল অস্পষ্ট।

ভিডিওটি কে বা কারা কবে ধারণ করেছে, সেটি জানা যায়নি। কারাই-বা সেটি ফেসবুকে ছেড়েছে, সেটিও অজানা।

ভিডিওটির শুরুতে মেয়র জাহাঙ্গীরকে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে শোনা যায়। তার দাবি, বঙ্গবন্ধু তার স্বার্থে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তান ভাঙার পেছনে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাসনা কাজ করেছে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

তার ধারণা, বাংলাদেশ স্বাধীন না হয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি থাকত এখানকার মানুষ।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের প্রসঙ্গ টেনে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি রাসেল সাহেবকে এইখানে নিয়া ফালাইছি। আমি চাইছি রাসেল সাহেব ভুল করুক। আমি ইচ্ছা করেই চাইছি হেও মিছিলটাতে এটেন্ড করুক।’

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজমত উল্লাহ আমারে জীবনে মারার লাইগা লোক কন্টাক্ট করছে, সব করছে। এখন সে আমার কর্মী হইছে। ...আমারে জিগায় কী করছ? আমারে কয়দিন জিগাইছে কী করো, কেমনে সম্ভব? হেও সব জানে না! আমি তো খেলা জিতছি।’

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি মন্ত্রীরে নিয়া মাথা ঘামাই না। জাহিদ আহসান রাসেল আছে না? তারে নিয়া আমি এক মিনিটও চিন্তা করি না। খালি জাস্ট শুইনা রাখো, বিশ্বাস করার দরকার নাই। আমি চিন্তা করলাম সে তো মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠই। দরকারটা কী আমার এখানে, পরিবর্তনে কী হইব? এখানে পরিবর্তনের লাভটা কার?’

মেয়র জাহাঙ্গীর আর আওয়ামী লীগের নেতা নন
মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তির দাবিতে মহাসড়ক ছাড়াও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ হয়েছে গাজীপুরে

গত তিন বছরেও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে প্যানেল মেয়র নির্বাচন করা হয়নি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও চলছে। এ বিষয়ে ভিডিওটিতে মেয়রকে বলতে শোনা যায়, ‘প্যানেল মেয়র দেই না। দিলে কী হইব? আমারে কি কাউন্সিলররা মেয়র বানাইছে? আমার কি মেয়রগিরি যাইবগা? যেমন আমি এখানে প্যানেল মেয়র করি নাই। রাসেল এমপি অনেকরে মেয়র বানাইয়া দিতেছে, অনেকরে কাউন্সিলর বানাইয়া দিতেছে। প্রধানমন্ত্রী আরেকজনরে ভারপ্রাপ্ত দিব?’

বাংলাদেশের দুটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাব্যক্তি তার নিকটাত্মীয় উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বাতাসটা আমার কাছে বইলা যায়।’

বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এমনকি হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলার কথাও বলেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতের সাথে চলি না? বিএনপির সাথে চলি না? অন্য পার্টি আছে না সবার সাথেই তো কথা বলি। এই যে আমার সাথে ঘণ্টা তিনেক আগেও বাবুনগরী (হেফাজতের প্রয়াত আমির) প্রায় ৪৭ মিনিট কথা বলছে। সে আসতে চায়। আমি কথা বলছি না?

‘ধীরাশ্রম, ঝাঝর, চান্দরা আছে ৮/১০ বিঘা, দিঘিরচালা আছে ১৬ বিঘা, তেলিপাড়াও আছে। আমার এখানে সাড়ে তিন শ বিঘা জমি আছে। এই নির্বাচনের সময়েও দশ হাজার কোটি টাকা আনছি।’

রেকর্ডটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার সময় জাহাঙ্গীর ছিলেন দেশের বাইরে।

পরে ৫০ মিনিটের আরেকটি রেকর্ড প্রকাশ হয়। এটি থেকেই কেটে কেটে আগের ৪ মিনিটের রেকর্ডটি ফাঁস হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী অস্থায়ী, আজকে আছি কালকে নাই: মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে পোস্টারে সয়লাব গাজীপুর
শোকজে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ১৯ নভেম্বর
বিরোধীদের প্রতি ঐক্যের ডাক জাহাঙ্গীরের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে ভোটে কারচুপির ইঙ্গিত: ফখরুল

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে ভোটে কারচুপির ইঙ্গিত: ফখরুল

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে, আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। আবারও একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক যে বক্তব্য রেখেছেন, তা ভোট কারচুপির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আইনমন্ত্রীর কথায় আবার প্রমাণিত হয়েছে, সরকার ২০১৮ সালের মতো নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। …আবার ভোটের আগের রাতে অপজিশন পার্টিদের পিটিয়ে বের করে দিয়ে মাঠ খালি করে নির্বাচনে পদ দখল করে নেবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে চিকিৎসার সুযোগ করে দেয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে, আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। আবারও একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’

বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে বলেছেন, ‘এটা করা সরকারের জন্যই ভালো। আল্লাহ না করুক তার কোনো ক্ষতি হলে এই দেশের জনগণ আপনাদেন রেহাই দেবে না।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এখানে মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত হয়েছেন। তাদের রাইফেল একবার গর্জে উঠেছিল ১৯৭১ সালে। আরেকবার রাজপথে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব।’

সরকার উন্নয়নের দাবি করলেও দেশের অবস্থা ভালো নয় অভিযোগ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালগুলোতে গেলে কেউ চিকিৎসা পায় না। অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করে শেষ করে দিয়েছে। আর কথায় কথায় বলে উন্নয়নের রোল মডেল নাকি বাংলাদেশ।

‘রাস্তায় পড়ে থাকে মানুষ না খেয়ে, কৃষকরা তাদের ধানের দাম পায় না। আমাদের শ্রমিক ভাইরা তাদের মজুরি পায় না। আমাদের নিম্নবিত্ত আরও নিম্নবিত্ত হচ্ছে। মধ্যবিত্ত আরও নিম্নবিত্ত হয়ে যাচ্ছে। দারিদ্রের সীমা আরও নিচে নেমে গেছে।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবি যৌক্তিক। প্রয়োজন হলে সরকারকে ভর্তুকি দিয়ে হলেও হাফ পাসের ব্যবস্থা করতে হবে।’

জাতীয়বাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সিনিয়র সহসভাপতি কাজী আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ত আবদুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয় সম্পাদক জয়নাল আবেদিনও বক্তৃতা করেন।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী অস্থায়ী, আজকে আছি কালকে নাই: মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে পোস্টারে সয়লাব গাজীপুর
শোকজে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ১৯ নভেম্বর
বিরোধীদের প্রতি ঐক্যের ডাক জাহাঙ্গীরের

শেয়ার করুন

৫০তম বিজয় দিবস: শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী

৫০তম বিজয় দিবস: শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী

১৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বাংলাদেশে একটি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। ফাইল ছবি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ মিলিয়ে আমরা ইতিহাসের অসাধারণ সময় অতিক্রম করছি। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান হবে। আগে এ সব অনুষ্ঠান জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে হয়েছিল। জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি থেকে মহা বিজয়ের মহা নায়ক শিরোনামে ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠান হবে। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে সারা বাংলাদেশে একটি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন, সেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন। কি বিষয়ে শপথ হবে পরে জানানো হবে।’

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে ১৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শপথ পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ মিলিয়ে আমরা ইতিহাসের অসাধারণ সময় অতিক্রম করছি। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান হবে। আগে এ সব অনুষ্ঠান জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ বড় আকারে হবে। সেখানে ছয়টি দেশ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক একটা প্যারেড হবে। অনেকগুলো দেশের অংশগ্রহণ থাকবে।

‘জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি থেকে মহা বিজয়ের মহা নায়ক শিরোনামে ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠান হবে। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে সারা বাংলাদেশে একটি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন, সেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন। কি বিষয়ে শপথ হবে পরে জানানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে আলোচনা সভা শুরু হবে। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি অংশ নেবেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীও এতে অংশ নেবেন। পুরো অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সাজিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, প্রকৃতি, পরিবেশ সব মিলিয়ে দেশের ৫০ বছরের অগ্রগতি, এসবের সমন্বয়ে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হবে।

‘যাদের আমন্ত্রণ জানাবো সময়মত তাদের অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানো, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে যেন অনুষ্ঠানগুলো হয় সেটার নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও অন্যান্য বিষয়গুলো আজকে পর্যালোচনা করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে অংশ নেয়াদের করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক বলে জানান কামাল আবদুল নাসের। তিনি বলেন, ‘আমন্ত্রণপত্রে জানিয়ে দেয়া হবে কোথায় কোথায় করোনা পরীক্ষা করতে হবে। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়া কেউ সেখানে উপস্থিত হতে পারবেন না, যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে নমুনা পরীক্ষাটা বাধ্যতামূলক।

‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কিছু আমরা ফলো করবো। সব মিলিয়ে প্রতিদিন তিন হাজার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। অনুষ্ঠান সারা দেশের পাশাপাশি গোটা পৃথিবীতে সম্প্রচার হবে।’

আরও পড়ুন:
পৃথিবী অস্থায়ী, আজকে আছি কালকে নাই: মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে পোস্টারে সয়লাব গাজীপুর
শোকজে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ১৯ নভেম্বর
বিরোধীদের প্রতি ঐক্যের ডাক জাহাঙ্গীরের

শেয়ার করুন

‘হাফ ভাড়ার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করুন’

‘হাফ ভাড়ার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করুন’

বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

ওবায়দুল কাদের মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কথা দিয়ে কথা রাখুন। আপনাদের সিদ্ধান্ত আপনারাই কেন লঙ্ঘন করছেন?’

রাজধানীর বেশ কিছু পরিবহনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের শিক্ষার্থীদের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে হাফ ভাড়া বাস্তবায়নের অনুরোধ করেছেন।

নিজ সরকারি বাসভবনে বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে কাদের এ অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে হাফ ভাড়ার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করুন।’

ওই সময় কাদের মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কথা দিয়ে কথা রাখুন। আপনাদের সিদ্ধান্ত আপনারাই কেন লঙ্ঘন করছেন?’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে হাফ ভাড়ার দাবি মেনে নিয়েছে বাস মালিক সমিতি। তারা বলেছে, এ সিদ্ধান্ত কেবল কার্যকর হবে ঢাকা মহানগর এলাকায়।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ ৩০ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

ওই সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১ ডিসেম্বর থেকে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে। হাফ ভাড়া দেয়ার সময় আইডি কার্ড দেখাতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, ছুটির দিনে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না। হাফ ভাড়া ঢাকার বাইরে অন্য জেলার জন্য নয়।

মালিক সমিতি আরও জানায়, সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হাফ ভাড়া দিতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। ওই সময়ের পর বাসে উঠলে পুরো ভাড়া দিতে হবে।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী অস্থায়ী, আজকে আছি কালকে নাই: মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে পোস্টারে সয়লাব গাজীপুর
শোকজে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ১৯ নভেম্বর
বিরোধীদের প্রতি ঐক্যের ডাক জাহাঙ্গীরের

শেয়ার করুন

আমরা চাই খালেদা সুস্থ হোক, বিএনপি চায় মরে যাক: কাদের

আমরা চাই খালেদা সুস্থ হোক, বিএনপি চায় মরে যাক: কাদের

বুধবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও ঢাকা মহানগরের সংসদ সদস্যদের মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমরা তো তার মৃত্যু কামনা করছি না। আমরা চাই তিনি আরোগ্য লাভ করুক। … তাদের (বিএনপি নেতা) বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে একজন জীবিত মানুষকে তারা মেরে ফেলতে চাচ্ছে। তারা মনে হয় চাচ্ছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু হোক। আমরা শুনতে পাচ্ছি, বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, খালেদা জিয়া মরলে, বিএনপি কী পরিস্থিতি তৈরি করবে, কীভাবে এটা গণঅভ্যুত্থান তৈরি করবে, সে পরিকল্পনার নীলনকশা তারা তৈরি করছে।’

বিএনপি তার চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু কামনা করছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, তারা চান বিএনপি নেত্রী সুস্থ হয়ে উঠুন।

বুধবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও ঢাকা মহানগরের সংসদ সদস্যদের মতবিনিময় সভা শেষে এমন কথা বলেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঠিক করতে ওই সভা ডাকা হয়েছিল।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে রাখা বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতা বেশি কথা বলেন বিএনপির আন্দোলনের হুমকি ও দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ইস্যুতে।

খালেদা জিয়া মারা গেলে রাজনীতি প্রভাব পরবে বলে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে কাদের বলেন, ‘প্রভাব পরবে, কি না পরবে, সেটা তো পরের বিসয়। কিন্তু বেগম জিয়ার মৃত্যুর আগের কেন তারা এটা কামনা করছে? আমরা তো তার মৃত্যু কামনা করছি না। আমরা চাই তিনি আরোগ্য লাভ করুক।’

তিনি বলেন, ‘তাদের (বিএনপি নেতা) বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে একজন জীবিত মানুষকে তারা মেরে ফেলতে চাচ্ছে। তারা মনে হয় চাচ্ছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু হোক। আমরা শুনতে পাচ্ছি, বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, খালেদা জিয়া মরলে, বিএনপি কী পরিস্থিতি তৈরি করবে, কীভাবে এটা গণঅভ্যুত্থান তৈরি করবে, সে পরিকল্পনার নীলনকশা তারা তৈরি করছে। ওই গণ অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে কীভাবে তারেক জিয়াকে টেমস নদীর ওপার থেকে দেশে ফিরিয়ে এসে এদেশে খমিনী স্টাইলে একটা বিপ্লব করার স্বপ্ন তারা দেখছে। সে স্বপ্ন তাদের দুঃস্বপ্নই থাকবে।’

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে আইন নয়, সরকার বাধা বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি যত না উদ্যোগী, তার চেয়ে বেশি হচ্ছে তারা স্বাস্থ্যকে কেন্দ্র করে তারা রাজনীতির ইস্যু খুঁজে বেরাচ্ছে।

‘এটার মধ্য দিয়ে তারা রাজনীতির মাঠ গরম করতে চায়। তাদের ঝিমিয়ে পড়া নেতা-কর্মীদের চাঙা করতে চায়। তারা দেশে একটা বিশৃঙ্খলার আবর্ত তৈরি করতে চায়। সে কারণে বেগম জিয়াকে নিয়ে তারা একেক সময় একেক কথা বলছে।’

খালেদা জিয়াকে বিষ দেয়ার বিষয়ে মির্জা ফখরুল যে অভিযোগ এনেছেন, সেটি নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, ‘মির্জা ফখরুল কী করে বলেন স্লো পয়জনিং করে বেগম জিয়াকে মারা ষড়যন্ত্র করছে সরকার? ডাক্তার সব আপনাদের, আওয়ামী লীগের ডাক্তারদের তো ওখানে ‍ঢুকতে দেন না। গৃহপরিচালিকা আগেও ছিল, এখনও আছে, সঙ্গে মির্জা ফখরুলরা ঘুরঘুর করেন। স্লো পয়জনিং করলে তো আপনারাই করছেন।’

বিএনপি একটি অশুভ পরিস্থিতি তৈরির ‘প্রণান্তকর অপপ্রয়াস’ করছে বলেও মনে করেন সড়ক মন্ত্রী। কবলেন, ‘বিএনপি বিভিন্নভাবে সামাজিক আন্দোলগুলোতে, ছাত্রদের হাফভাড়ার দাবি, নিরাপদ সড়ক, গামেন্টর্স শ্রমিকদের আন্দোলনে বাতাস দিচ্ছে, উসকানি দিচ্ছে। মাঠে নামার জন্য বিভিন্নভাবে তারা একটা সহিংস বিশৃঙ্খলার আবর্ত তৈরি করার সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহিত রেখেছে।’

যে কোনো শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, আন্দোলনকে আমরা স্বাগত জানানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যদি সহিংসতা করা হয়, তাহলে তারা কঠোর হবেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সরকার ঢাকা শহরকে বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত করতে চায় বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘এখানে আলোকসজ্জা করবো। আমাদের কর্মসূচির মধ্যে ১৮ ডিসেম্বর বিশেষভাবে রয়েছে, উৎসবমুখর বিজয়শোভা যাত্রা করব, যা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তন থেকে শুরু হয়ে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত যাব।’

আরও পড়ুন:
পৃথিবী অস্থায়ী, আজকে আছি কালকে নাই: মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে পোস্টারে সয়লাব গাজীপুর
শোকজে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ১৯ নভেম্বর
বিরোধীদের প্রতি ঐক্যের ডাক জাহাঙ্গীরের

শেয়ার করুন

বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি

বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি

টিআইপিএস সাধারণ সম্পাদক ও বিএসএমএমইউ'র ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে তথ্য এসেছে যে তিনি লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত। তার কিডনি ফেইলিওর হয়ে গেছে। হার্টের অবস্থাও খারাপ। এমন রোগীকে ট্রান্সজুগুলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিআইপিএস) করা হলে চিকিৎসার পর নানা জটিলতা দেখা দেবে।

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা রয়েছে। এমন বাস্তবতায় বিদেশে নিয়ে যে চিকিৎসা দেয়া হবে তা খালেজা জিয়ার জন্য ঝুঁকির বলে মত দিয়েছে লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব লিভার ডিজিজেস বাংলাদেশ (এএসএলডিবি)।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে পরবর্তী চিকিৎসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের যথেষ্ট সচেষ্ট থাকারও পরামর্শ দিয়েছে এএসএলডিবি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আমাদের কাছে জানতে চাইছেন আসলেই এই রোগের চিকিৎসা দেশে সম্ভব কীনা। এমন পরিস্থিতিতে আমরা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি।’

ডা. মামুন আল মাহতাব বলেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে তথ্য এসেছে যে খালেদা জিয়া লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত। তার কিডনি ফেইলিওর হয়ে গেছে। হার্টের অবস্থাও খারাপ। এমন একজন রোগীকে ট্রান্সজুগুলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিআইপিএস) করা হলে চিকিৎসার পর নানা জটিলতা দেখা দেবে।

চিকিৎসায় ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টিআইপিএসের ক্ষেত্রে চিকিৎসা-পরবর্তী জটিলতা বিশেষ করে হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি অর্থাৎ লিভার রোগজনিত অজ্ঞান হওয়ার প্রবণতা বা অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এছাড়াও টিআইপিএস করার সময় হার্টের জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিরাপথে ডাই ব্যবহারে কিডনির জটিলতাও বহু মাত্রায় বাড়তে পারে। অর্থাৎ টিআইপিএস করার সময়ও হার্ট ডিজিজ বা কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের প্রসিডিউরজনিত জটিলতার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। এসব ঝুঁকি মাথায় রেখে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার বিষয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। সবার জন্য উন্নত চিকিৎসা আছে। তবে সব রোগীর জন্য সব চিকিৎসা নয়।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে পোর্টাল হাইপারটেনশনজনিত বিভিন্ন কারণ, যেমন ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক এন্ট্রাল ভাসকুলার একটাশিয়া ইত্যাদি থেকে খাদ্যনালী ও পাকস্থলীতে রক্তপাত হতে পারে।

ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধে ইসোফেজিয়াল ভ্যারিসিয়াল লাইগেশন (ইভিএল) একটি বহুল ব্যবহৃত স্বীকৃত চিকিৎসা। বার বার রক্তক্ষরণ বন্ধের ক্ষেত্রেও ইভিএল করা যায়। এছাড়া পোর্টাল হাইপারটেনশনের কারণে বার বার রক্তক্ষরণ এবং যথাযথ মাত্রার ওষুধ প্রয়োগের পরও বার বার আসা পেটের পানির (রিফ্র্যাক্টরি এসাইটিস) চিকিৎসার ক্ষেত্রেও টিআইপিএস করা যায়।

লিভার সিরোসিসের কারণে খালেদা জিয়ার শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে জানিয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসার সুপারিশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিএনপি নেত্রীর যকৃৎ বা লিভারে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। একবার এই রক্তক্ষরণ সামাল দেয়া গেছে। তবে এখন তার যে অবস্থা সেটি আবার সামাল দেয়া কঠিন হবে।

দুই থেকে তিনবার রক্তক্ষরণ সামাল দেয়ার কারিগরি সুযোগ বাংলাদেশে নেই দাবি করে যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

গত রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি নেত্রীর গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ব্রিফিং করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। তারা দাবি করেন, খালেদা জিয়ার যে রোগ হয়েছে তার চিকিৎসা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির অল্প কয়েকটি বিশেষায়িত সেন্টারে সম্ভব। বাংলাদেশে এই চিকিৎসার কারিগরি সুযোগ-সুবিধা যেমন নেই, তেমনি ওষুধও নেই। আরও চার মাস আগে বিএনপি নেত্রীকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে তার শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হতো না বলেও দাবি করেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিএনপির গঠন করা মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান।

এরপর সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) জানায়, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই এ রোগের বিশ্ব মানের চিকিৎসা সেবা দিতে সক্ষম। এবার লিভার বিশেষজ্ঞদের বিজ্ঞপ্তি এলো গণমাধ্যমে।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী অস্থায়ী, আজকে আছি কালকে নাই: মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে পোস্টারে সয়লাব গাজীপুর
শোকজে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ১৯ নভেম্বর
বিরোধীদের প্রতি ঐক্যের ডাক জাহাঙ্গীরের

শেয়ার করুন

খালেদাকে লন্ডনে নিয়ে অপরাজনীতির প্ল্যাটফর্ম খোলা হবে: মেয়র লিটন

খালেদাকে লন্ডনে নিয়ে অপরাজনীতির 
প্ল্যাটফর্ম খোলা হবে: মেয়র লিটন

টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতাশেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়র লিটন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক জিয়া অজস্র অপকর্মের নায়ক। হত্যা, খুনসহ বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি এখন লন্ডনে আছেন। তিনি তার মাকে লন্ডনে নিয়ে গিয়ে আরেকটি অপরাজনীতির প্লাটফর্ম যে খুলবেন না সেটা বলা যায় না। তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা পানি ঘোলা করার একটি অপচেষ্টা।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাকে লন্ডনে নিয়ে গিয়ে অপরাজনীতির আরেকটি প্ল্যাটফর্ম খোলা হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

মেয়র লিটন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক জিয়া অজস্র অপকর্মের নায়ক। হত্যা, খুনসহ বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি এখন লন্ডনে আছেন।

‘তিনি তার মাকে লন্ডনে নিয়ে গিয়ে আরেকটি অপরাজনীতির প্ল্যাটফর্ম যে খুলবেন না সেটা বলা যায় না। তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা পানি ঘোলা করার একটি অপচেষ্টা।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে যখন দৃশ্যমান উন্নয়ন চলছে, তখন একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করে দেশের মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে। সেই কারণে একসঙ্গে থেকে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

দলের সদস্যদেরই বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে বিরোধিতা করার বিষয়ে লিটন বলেন, ‘দু-একটি জায়গায় এমন ঘটনা ঘটছে। সে বিষয়ে আমাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। আমরা দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় রয়েছি। দেশের কল্যাণে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী।

‘তিনি দলের দিকে নজর রাখলেও ফাঁক-ফোকর দিয়ে কোনো ব্যক্তি যারা অন্য চেতনায় বিশ্বাসী তারা যে দলে চলে আসেনি তা বলা যাবে না।’

এর আগে ফুল ‍দিয়ে বঙ্গবন্ধু সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। পরে বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

ওই সময় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, প্যানেল মেয়র সরিফুল ইসলাম বাবুসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী অস্থায়ী, আজকে আছি কালকে নাই: মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে পোস্টারে সয়লাব গাজীপুর
শোকজে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ১৯ নভেম্বর
বিরোধীদের প্রতি ঐক্যের ডাক জাহাঙ্গীরের

শেয়ার করুন

খালেদার সুস্থ হওয়াকে বিপদ মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

খালেদার সুস্থ হওয়াকে বিপদ মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

‘খালেদা জিয়ার সুস্থ হওয়াকে তিনি বিপদ মনে করছেন। এই বিপদ দেখেই নানা টালবাহানা করছেন। কোনো টালবাহানা চলবে না, আপনি কিছুই করতে পারবেন না।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থ হওয়াকে বিপদ মনে করে তাকে দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর অনুমতি দিচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে রাজধানীর নয়াপল্টনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আপনাদের উদ্দেশ্য খারাপ। আপনারা খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) চান খালেদা জিয়ামুক্ত বিএনপিমুক্ত বাংলাদেশ। এইটা আপনার ইচ্ছা। সে কারণে যে করেই হোক খালেদা জিয়াকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে হবে।’

বিএনপি নেত্রীকে প্রধানমন্ত্রী হুমকি মনে করেন বলে মন্তব্য রিজভীর। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সুস্থ হওয়াকে তিনি বিপদ মনে করছেন। এই বিপদ দেখেই নানা টালবাহানা করছেন। কোনো টালবাহানা চলবে না, আপনি কিছুই করতে পারবেন না।

‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে যে আগুন জ্বলবে, এই আগুন মিট মিট করে জ্বলবে না, এই আগুন ধিকি ধিকি করে জ্বলবে না। এই আগুন দাউ দাউ করে জ্বলবে এবং অত্যাচারীদের সকল শৃঙ্খল ছারখার করে পুড়িয়ে দেবে।’

১৩ নভেম্বর বিকেলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরের দিন ভোরে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

বিএনপি থেকে বলা হচ্ছে, তাদের নেত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক, ভ্যারি ক্রিটিক্যাল। জরুরি ভিত্তিতে তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানো দরকার।

তবে এ বিষয়ে কোনো সবুজ সংকেত নেই সরকার থেকে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে একবার সাজা শিথিল করায় খালেদাকে বিদেশ যেতে অনুমতি দেয়ার আর কোনো আইনি সুযোগ নেই।

আইনমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আপনি কোথা থেকে আইন পেয়েছেন। আপনি অসত্য কথা বলছেন, আপনি মিথ্যা কথা বলছেন। তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে নির্যাতন করার জন্যই এই কথা বলছেন মিথ্যাবাদী আইনমন্ত্রী।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন বিএনপি নাকি চোরাগলি দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। কোথায় আমরা চেষ্টা করলাম? আমরা তো রাজপথে দাঁড়িয়ে আছি, রাজপথেই চেষ্টা করছি। আমাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন নেমে আসছে তার পরও আমরা রাজপথে আছি।

‘আজকে জাতীয়বাদী মহিলা দলের একটা মৌন মিছিল, যেখানে কোনো আওয়াজ হবে না সেই কর্মসূচিতেও পুলিশ বাধা দিচ্ছে। আপনারা কী এমন করছেন যে আপনাদের এত ভয়। মহিলা দলের একটা প্রোগ্রাম ঠিকমতো করতে দেন না। কেন এত ভয়? ভয় থাকে চোরদের, যারা চোরাপথে ক্ষমতায় গিয়ে থাকে তাদের ভয় থাকে। বেগম খালেদা কিন্তু কোনো দিন চোরাগলির ভোট করেননি। তিনি কখনও নিশিরাতের প্রধানমন্ত্রী হননি। তার বিরুদ্ধে প্রত্যেকটি ভোটে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করেছে শেখ হাসিনার নেত্রীত্বে।’

মৌন সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, নিলুফার চৌধুরী মনি, হেলেন জেরিন খানসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী অস্থায়ী, আজকে আছি কালকে নাই: মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে পোস্টারে সয়লাব গাজীপুর
শোকজে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ১৯ নভেম্বর
বিরোধীদের প্রতি ঐক্যের ডাক জাহাঙ্গীরের

শেয়ার করুন