অনুদান জোগাড়ে তাজরীন শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা আদায়

অনুদান জোগাড়ে তাজরীন শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা আদায়

অনুদানের চেক পাইয়ে দেয়ার কথা বলে একটি চক্র ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক লাখ টাকা। ৪৮ জন শ্রমিকের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে জনপ্রতি ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা। অনেকে এ টাকা দিয়েছেন সুদে ধার করে। এক বছরেও অনুদান না পাওয়ায় উল্টো সুদের টাকা গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে।

৯ বছর আগে সাভারের নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসে আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে একটি চক্র। উচ্চ সুদের ওপর ধার করে টাকা দেয়ার এক বছর পরও কোনো টাকা পাওয়া যায়নি বলে জানান ওই শ্রমিকরা। এখন সুদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে আরও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

বাংলাদেশে পোশাক খাতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী আগুনে ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর রাতে কারখানার ভেতর আগুনে দগ্ধ হয়ে ও লাফিয়ে পড়ে নিহত হন ১১৪ জন শ্রমিক। যারা বেঁচে আছেন, তাদের দিন কাটছে দুর্বিষহ যন্ত্রণা নিয়ে। নতুন করে কর্মজীবন শুরু করতে গিয়েও বাদ সাধছে শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতা।

৯ বছর ধরেই ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের আশায় বুক বেঁধে আছেন ক্ষতিগ্রস্ত অনেক শ্রমিক। এত দিন ধরে চালিয়ে আসছেন নানা আন্দোলন-সংগ্রাম।

গত বছরের নভেম্বরে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর তাজরীনের ৩৬ শ্রমিককে কেন্দ্রীয় শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদান দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানায়। তবে এক বছরেও সে প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।

অনুদান জোগাড়ে তাজরীন শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা আদায়

উল্টো অভিযোগ উঠেছে, অনুদানের চেক পাইয়ে দেয়ার কথা বলে একটি চক্র ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক লাখ টাকা। ৪৮ জন শ্রমিকের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে জনপ্রতি ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা।

অনেকে এ টাকা দিয়েছেন সুদে ধার করে, কিন্তু এক বছরেও অনুদান না পাওয়ায় উল্টো সুদের টাকা গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে। পরিবার নিয়ে দুই বেলা খাবার তো দূরের কথা, সুদ কারবারিদের চাপে দিশেহারা এখন তারা। প্রতিনিয়তই শিকার হচ্ছেন লাঞ্ছনা-বঞ্চনার।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাজরীন গার্মেন্টের সাবেক শ্রমিক জরিনা বেগম, মো. সোলাইমান ও এমদাদ হোসেন এই টাকা সংগ্রহ করেছেন। তবে কী কারণে টাকা তুলেছেন সে বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে দাবি শ্রমিক নেতাদের।

তাজরীন গার্মেন্টের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে নাছিমা বেগম একজন। তিন সন্তান ও তাজরীনের ঘটনায় পঙ্গু স্বামীকে নিয়ে থাকেন ভাড়া বাসায়। নাছিমারও দুই পা ভেঙে গিয়েছিল। শরীরের অনেক স্থানেই পেয়েছেন মারাত্মক ব্যথা। তারপরও পরিবার বাঁচানোর তাগিদে একটি ঝুট গুদামে কাজ নিয়েছেন তিনি।

অনুদান জোগাড়ে তাজরীন শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা আদায়
তাজরীন গার্মেন্টের সাবেক শ্রমিক জরিনা বেগম ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন

নাছিমা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত বছর আমরা প্রেস ক্লাবে আছিলাম তিন মাস। পরে ওইখান থাইকা পুলিশ আমাগো খ্যাদাই দিছে। অ্যারপর আমরা জলি আপার পার্টি অফিসে গেছিলাম। ওইখানে জরিনা আমাগো অনেক অত্যাচার করছে। ১৩ দিনে ওই খানে ২০০ ট্যাকার খাবার খাইছি। ওইখান থাইকা সব শ্রমিকরে অত্যাচার কইরা জরিনা বাসায় পাঠায় দিছে। তারপরের দিন জরিনা ফোন দিল যে, সবাই মিলা ট্যাকা রেডি করো এক-দুই দিনের ভিতর।’

তিনি বলেন, ‘তহন আমরা মনে করছি, এত কষ্ট করতেছি তাইলে ধারদেনা যে ভাবেই হোক আমরা করি। দুই-চার দিনকার লাইগা দিলে আমরা দিয়া দিমু। ওই অনুযায়ী দুই দিনকার কথা কইয়া সুদে ট্যাকা নিয়া আমরা দিছি। অনুদানের চেক পাওয়াই দিবে কইয়া এমন সবার কাছে ট্যাকা নিছে।

‘সবার কাছ থেকে ৬ হাজার করে ট্যাকা নিছে। অন্য লোকেরা যাগো দেওয়ার মতো সামর্থ্য, হ্যারা ১০ হাজার কইরাও দিছে। আমি আর আমার স্বামীর ১২ হাজার ট্যাকা দিছি। হাজারে ২০০ কইরা ট্যাকা সুদ কইরা নিছি। হেই ট্যাকার কী যে যন্ত্রণা! প্রায় এক বছর হইয়া গেছেগা ওই ট্যাকা। আমি একটা ঝুটের গোডাউনে কাজ নিছি। খাইতেই পারি না ঠিকমতো, সুদের ট্যাকা আর আসল কই থাইকা দিমু? আর এত দিন হইছে চেকও পাই নাই।’

তাজরীনে আরেক আহত শ্রমিক নাটা বেগম বলেন, ‘৬ মাস চলে সুদের উপরে টাহা আনছি। ৬ হাজার টাহা দিছি আমি। আরো অনেকে দিছে টাহা। সুদের টাহা, আসল টাহা সব চায়। ওরা (সুদ কারবারি) বকাবাজি গালিগালাজ করে, মারবার আহে। না দিলে পুলিশে ধরায় দিব বইলা হুমকি দেয়। পরে বাড়িয়ালা ওগো থামাইছে। অনেক লোক আছে সুদে টাকা নিয়া দিছিল। সবার একি অবস্থা।’

অনুদান জোগাড়ে তাজরীন শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা আদায়
অনুদান পেতে টাকা দিয়েছিলেন নাটা বেগমও

রূপা আক্তার নামের আরেক শ্রমিক অনুদানের টাকা পাওয়ার আশায় জরিনা বেগমকে ধারকর্য করে ৬ হাজার টাকা দিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে তাজরীনের শ্রমিক জরিনা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘না, অসম্ভব। মিথ্যা কথা কইলেই তো হইব না। এটা পুরা মিথ্যা কথা এহোন। কারও নাম বিক্রি কইরা কারো নামের উপরা টাকা নেয়া হয় নাই। সব শ্রমিকের মইদ্দে বইসা আলোচনা হইছে যে, আমরা যদি টাকা পাই তাইলে আমরা এহান থাইকা যামুগা। আমরা কিছু টাকা সবাই আগেই তুইলা দিয়া যাতে নেতারা কষ্ট করতাছে আমরাও খুশি হমু। ওদেরও আমরা খুশি কইরা যামু। কেউ তিন, চার, পাঁচ, ছয় হাজার আবার কেউ দুই হাজারও দিছে।’

মোট কত টাকা তোলা হয়েছে এবং ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নে বলেন, ‘অলরেডি অনেকের টাকা রিটার্ন দেয়া হইছে। এটার তালিকা সোলেমান ভাইয়ের কাছে, সঠিক আমার খেয়াল নাই। সোলেমান ভাই লিখছে। আর কিছু টাকা খরচ হইছে। নেতাগোরে পার্টি অফিসে খাওয়ানো হইছিল।’

তবে অনেকবার সোলাইমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

শ্রমিকদের তথ্য অনুযায়ী এই টাকা তোলা হয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ও সিপিবির সম্পাদক জলি তালুকদার ও কলকারখানার অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক এ কে এম সালাহ উদ্দীনের নাম ভাঙিয়ে।

জানতে চাইলে জলি তালুকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা তো আপনি অনেক দিন পরে বললেন। ওইটা আমরা সঙ্গে সঙ্গেই পদক্ষেপ নিছি। আমরা একটু দেরিতে ১০-১২ দিন পরে শুনেছি।’

তিনি বলেন, ‘অুনদানের চেক পাইয়ে দেবে এই আলাপ আমি জানি না। সোলেমান এবং জরিনাকে আমরা চাপ দিয়ে তখন বলছি যে, দ্রুত শ্রমিকদের টাকা ফেরত দেন। সম্ভবত তারা কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে দিছে। আর কিছু বাকি রইছে। ওইটার একটা হিসাব সোলেমান, জরিনা এবং শ্রমিকদের নিয়ে বসেই আমরা করছিলাম। কত জনকে দিছে আর কত জনকে দেয় নাই। ওইটার একটা ক্লিয়ার হিসাব আবার বসে ক্লিয়ার করার কথা যে, আসলেই ওরা কতজনকে পরিশোধ করতে পারছিল।’

অনুদান জোগাড়ে তাজরীন শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা আদায়
শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার

শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা কেন ওঠানো হয়েছিল- এমন প্রশ্নে বলেন, ‘আমি তো এটা জানি না। শ্রমিকরা ওইটা একসঙ্গে বসে করছে। আমি টোটালি জানি না।’

নেতা-কর্মীদের দেয়ার জন্য শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা উঠানো হয়েছিল কি না এমন অভিযোগ শুনে জলি তালুকদার কিছুটা রাগত স্বরে বলেন, ‘কাকে খাওয়াইছে? কার খাওয়া এখানে দরকার বলেন তো?’ টাকাটা কি আমি নিছি? আপনি আবার আমাকে এটা কেন জিজ্ঞেস করতেছেন? আপনি কি হ্যারাস করার জন্য ফোন করছেন? আমাকে হ্যারাস করার আগে কি আপনি এটা ভাবছেন- এটা আমাকে বলা উচিত কি উচিত না?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, ‘এটার সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত। এগুলা সব সিন্ডিকেট। এরা রানা প্লাজা, তাজরীনের শ্রমিকদের পুরা বারোটা বাজায় ছেড়ে দিচ্ছে।

‘ধরেন, তাদের (ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক) কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে টাকা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে, চিকিৎসা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা কেউ স্বীকার করে না, কিন্তু তারা যখন টাকা পায় না তখন তারা এসব আমাদের কাছে স্বীকার করে। এই শ্রমিকরা যারা তিনবেলা খাইতে পারে না ঠিক মতো। অথচ তাদের কাছ থেকে এই ভাবে দুর্নীতি করে টাকা নেয়াটা খুব কষ্টদায়ক।’

আরও পড়ুন:
৮ বছরের অসুস্থতা নিয়ে তাজরীন শ্রমিকের মৃত্যু
পুলিশি বাধায় ‘জিন্দা লাশের’ মিছিল
মোমবাতি জ্বালিয়ে তাজরীন ট্র্যাজেডি স্মরণ
তাজরীনে আগুন: ৪৫ জন কি ক্ষতিপূরণ পাবে না
জীবনের দাম কি আড়াই লাখ টাকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পন্টুনের ওপর এক্সকাভেটর, চরের মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়

পন্টুনের ওপর এক্সকাভেটর, চরের মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়

এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি তুলে রাখা হচ্ছে পন্টুনের ওপর। সেখান থেকে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর উপজেলার ডালভাঙা এলাকায় ৫৫৫ নামে একটি ইটভাটায় নেয়া হচ্ছে এই মাটি। ভাটার মালিক আবু জাফর প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের আপত্তি উপেক্ষা করেই ভাঙন কবলিত এলাকা থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে মাটি কাটায় তাদের বসতঘরসহ ফসলি জমি বড় ধরনের ভাঙন হুমকিতে পড়ছে।

নদীর তীরের কাছে পানিতে পন্টুনের ওপর এক্সকাভেটর। সেটি দিয়ে নদী থেকে মাটি তুলে রাখা হচ্ছে পন্টুনের ওপর। সেখান থেকে নৌকায় করে মাটি নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়।

অভিনব কায়দায় নদীর চর থেকে এভাবে মাটি তোলার দৃশ্য দেখা গেছে বরগুনায়। জেলার বিষখালী নদী তীরবর্তী ভাঙন কবলিত এলাকা থেকে তোলা হচ্ছে এই মাটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর উপজেলার ডালভাঙা এলাকায় ৫৫৫ নামে একটি ইটভাটায় নেয়া হচ্ছে এই মাটি। ভাটার মালিক আবু জাফর প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের আপত্তি উপেক্ষা করেই ভাঙন কবলিত এলাকা থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে মাটি কাটায় তাদের বসতঘরসহ ফসলি জমি বড় ধরনের ভাঙন হুমকিতে পড়ছে।

বিষখালী তীর ধরে পশ্চিম দিকে প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে মাটি কাটায় চরে গভীর খাদ দেখা গেছে। ইটভাটাটিতে গিয়ে দেখা যায়, বিষখালী তীর থেকে আনা মাটি বিশাল স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

ভাটার কয়েকজন শ্রমিক জানান, মাটি কাটার জন্য চট্টগ্রাম থেকে পন্টুনটি ভাড়া করে আনা হয়েছে। সেই পন্টুনে এক্সকেভেটর বসিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি কেটে ভাটায় আনা হয়।

সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে দেখা যায়, ইটভাটা থেকে আধা কিলোমিটার পশ্চিম দিকে ডালভাঙা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় খননযন্ত্রসহ মাটিভর্তি পন্টুনটি নোঙর করা রাখা হয়েছে।

খননযন্ত্রের চালক সুজন মিয়া অবশ্য দাবি করেন, নদীর তীর থেকে মাটি কাটা হয়নি। ওই মাটি বিভিন্ন মালিকদের কাছ থেকে কিনে কেটে আনা হয়েছে।

ওই এলাকার স্কুলশিক্ষক রেজাউল করিম অবশ্য জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে এক্সকেভেটর দিয়ে নদীর তীরের মাটি তুলছেন ভাটার লোকজন। তারা আপত্তি করলে উল্টো হুমকি দেয়া হয়েছে।

পন্টুনের ওপর এক্সকাভেটর, চরের মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়

ডালভাঙা এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের এলাকা বিষখালী নদীর ভাঙনে বিলীন প্রায়। এখানে বেড়িবাঁধও নেই। এমনিতেই আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। এ অবস্থায় তীরের মাটি কেটে নেয়া আমাদের জন্য বিপজ্জনক, কিন্তু কে শোনে কার কথা।

বরইতলা মাঝখালী এলাকার বাসিন্দা সবুজ হাওলাদার বলেন, ‘নদী তীরের মাটি তো কাটছেই, এর পাশাপাশি ভারী গাড়িতে ইট নেয়ায় আমাদের চলাচলের একমাত্র মাটির রাস্তাটিরও সর্বনাশ করা হয়েছে।

‘মাত্র কয়েক মাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড বেড়িবাঁধের মাটির কাজ করেছে। মাটি শক্ত হওয়ার আগেই ভারী গাড়ি চলায় দেবে গিয়ে এখন হাঁটার উপযোগী নেই।’
ভাটার মালিক আবু জাফরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ডালভাঙা এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার মাটি কিনেছি। ওই মাটি কেটে আনার জন্য পন্টুন ও ভেকু ভাড়া করা হয়েছে।

‘পন্টুনের মাটি নদী তীরের নয়। নদী তীর থেকে কোনো মাটি কাটা হয়নি, হবেও না।’

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নদী তীর থেকে মাটি কাটার কোনো নিয়ম নেই। ভাটায় যদি এখান থেকে মাটি কেটে ব্যবহার করে সেটা বিধিসম্মত নয়। আমরা এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
৮ বছরের অসুস্থতা নিয়ে তাজরীন শ্রমিকের মৃত্যু
পুলিশি বাধায় ‘জিন্দা লাশের’ মিছিল
মোমবাতি জ্বালিয়ে তাজরীন ট্র্যাজেডি স্মরণ
তাজরীনে আগুন: ৪৫ জন কি ক্ষতিপূরণ পাবে না
জীবনের দাম কি আড়াই লাখ টাকা

শেয়ার করুন

কমলাপুরে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা

কমলাপুরে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা

হায়দার হোসেন বলেন, ‘অনেকটা শখের বসেই কমলার চাষ শুরু করেছিলাম। এভাবে ফলন হবে ভাবিনি। এবারে কমলা যা ধরেছে সব আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের খাওয়ায়ে দেবো। আগামী বছর থেকে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করব।’

কমলাপুর গ্রামে এখন হায়দার মিয়ার বাগানে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা। সবুজ কমলায় আসা শুরু করেছে কমলা রং।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় এটিই প্রথম বাণিজ্যিক কমলার বাগান। স্থানীয়দের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে হায়দার মিয়ার কমলা চাষ।

হায়দার হোসেন জানান, ২০২০ সালে বাড়ির পাশের ৭৫ শতাংশ জায়গায় তিনি দার্জিলিং, চায়না ও নাগপুরি জাতের কমলালেবুর ৩ শ চারা লাগান। কমলা আদৌ ধরবে কি না সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই চারার পরিচর্যা করেছেন। তিন বছর পর কমলা ধরার কথা থাকলেও দুই বছরের মাথায় গাছে এসেছে কমলা।

কমলাপুরে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা

তিনি বলেন, ‘অনেকটা শখের বসেই কমলার চাষ শুরু করেছিলাম। এভাবে ফলন হবে ভাবিনি। এবারে কমলা যা ধরেছে সব আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের খাওয়ায়ে দেবো। আগামী বছর থেকে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করব।

‘এখন পর্যন্ত আমার এই কমলা চাষের পেছনে লাখ পাঁচেক টাকা খরচ হয়েছে। আগামী বছর আরও লাখ খানেক খরচ করব। আশা করছি সামনের বার কমলা বিক্রি করে এই খরচ তুলে ফেলতে পারব।’

কমলাপুরে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা

নিউজবাংলার প্রতিনিধি তার বাগানে যাওয়ার পর তিনি গাছের প্রথম কমলা ছিঁড়ে দেন। খেয়ে দেখা যায়, বেশ মিষ্টি হায়দার হোসেনের বাগানের কমলা।

কমলাপুরের মজিবর রহমান সরদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কমলা ধরার কথা শুনে দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই আসছেন দেখতে। এর আগে অনেকেই কমলাগাছ দেখেননি। গাছে ফল দেখে কেউ কেউ নিজেও বাগান করার ইচ্ছার কথা বলছে।’

কমলাপুরে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক অরবিন্দ কুমার রায় জানান, সাধারণত পানি জমে না এমন উঁচু জমি কমলা চাষের জন্য উপযোগী। তবে গোপালগঞ্জের জমি বেশ উঁচু। এখানে প্রথমবারের মতো কমলার চাষ হয়েছে। ফলও এসেছে ভালো। তাই ধারণা করা হচ্ছে জেলার অন্য কৃষকরাও কমলা চাষ করতে পারবেন। কেউ এই ফলের বাগান করতে চাইলে কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

আরও পড়ুন:
৮ বছরের অসুস্থতা নিয়ে তাজরীন শ্রমিকের মৃত্যু
পুলিশি বাধায় ‘জিন্দা লাশের’ মিছিল
মোমবাতি জ্বালিয়ে তাজরীন ট্র্যাজেডি স্মরণ
তাজরীনে আগুন: ৪৫ জন কি ক্ষতিপূরণ পাবে না
জীবনের দাম কি আড়াই লাখ টাকা

শেয়ার করুন

চাহিদার আখই পাচ্ছে না চিনিকল, গুনছে লোকসান 

চাহিদার আখই পাচ্ছে না চিনিকল, গুনছে লোকসান 

আখের অভাবে বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে নাটোরের নর্থবেঙ্গল চিনিকল। ছবি: নিউজবাংলা

নাটোর চিনিকলে গত অর্থবছরে আখ দেয়া চাষিদের জমির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৫৮৪ একর। এই অর্থবছরে সেখানে আখ চাষ হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৫৩৫ একর জমিতে। নর্থবেঙ্গল চিনিকলের অবস্থাও একই। ২৬ হাজার ৫০ একর জমি থেকে কমে এবার আখ চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ৫৬৪ একরে।

নতুন মৌসুমে আখ মাড়াই শুরু হয়েছে নাটোর চিনিকল ও নর্থবেঙ্গল চিনিকলে। কাজ শুরু হলেও নাটোরের এই দুই চিনিকল সক্ষমতার অর্ধেক সময়ও চলবে না আখ সংকটে।

তীব্র আখ সংকটের কারণে কয়েক বছর ধরেই চিনিকল দুটি গুনছে লোকসান। গত মৌসুমেও নাটোর চিনিকল গুনেছে ৩২ কোটি টাকা লোকসান। নর্থবেঙ্গলের ক্ষতি ছিল ২০ কোটি টাকা।

এমন পরিস্থিতিতে যেখানে আখ উৎপাদন বাড়ানোর কথা ছিল সেখানে এ বছর আখ উৎপাদন হয়েছে অর্ধেকেরও কম জমিতে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে নাটোর চিনিকলে আখ দেয়া চাষিদের জমির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৫৮৪ একর। ২০২০-২১ অর্থবছরে সেখানে আখ চাষ হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৫৩৫ একর জমিতে।

চিনিকলের কর্মকর্তারা বলছেন, এই জমির আখ দিয়ে চিনিকল চলবে মাত্র এক মাস, অথচ প্রায় ছয় মাস ধরে চলবে আখ মাড়াইয়ের মৌসুম।

নর্থবেঙ্গল চিনিকলের অবস্থাও একই। ২৬ হাজার ৫০ একর জমি থেকে কমে এবার আখ চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ৫৬৪ একরে।

আখ চাষিরা বলছেন, দাম কমসহ সময় মতো টাকা না পাওয়ায় আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন তারা। আবার সরকার থেকেও তাদের প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় না।

নাটোর চিনিকলে এ বছর আখ মাড়াই শুরু হয় ৩ ডিসেম্বর। আর ২৬ নভেম্বর মাড়াই শুরু করেছে নর্থবেঙ্গল চিনিকল।

চাহিদার আখই পাচ্ছে না চিনিকল, গুনছে লোকসান

গত দুই-তিন বছর ধরেই এ দুই চিনিকল চাহিদা অনুযায়ী আখ না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। এবারও একই অবস্থা হবে।

নাটোর সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আখচাষি মামুন হোসেন জানান, আগে তার বাবা-চাচারা প্রায় ৪৫ বিঘা জমিতে আখ চাষ করতেন। কম দামের পাশাপাশি সময় মতো পাওনা না পাওয়ায় তারা এখন পাঁচ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেন।

একই গ্রামের আখচাষি কামরুল ইসলাম জানান, এখন কৃষি জমিতে বছরে দুই-তিন ধরনের ফসল হয়। সেই ফসল নগদে বিক্রি করা যায়। অন্যদিকে বিঘা প্রতি আখের যা ফলন হয় তা দিয়ে লাভ হয় না।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে এক মণ আখের দাম ১৪০ টাকা, যা অন্য ফসলের তুলনায় খুবই কম। এ ছাড়া জমি তৈরি, সার, বীজ, শ্রমিক খরচ সব নগদ টাকায় করতে হলেও সুগার মিলে আখ সরবরাহ করে বছরের পর বছর টাকার জন্য ধরনা দিতে হয়। তাই তারা আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

চিনিকল বাঁচাতে সরকারকে উন্নতমানের বীজ, সারসহ সবকিছু কৃষকদের মাঝে সহজ শর্তে সরবরাহ করতে হবে বলেও জানান তিনি।

আখের দাম নিয়ে আখচাষি মামুন জানান, বর্তমান জাতে এক একর জমিতে এখন আখ পাওয়া যায় ৩০০ মণের মতো। ১৪০ টাকা মণ হিসাবে সেখান থেকে পাওয়া যায় ৪২ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ লাগে ১৮-২০ হাজার টাকা। এক একর জমিতে সারা বছরে মাত্র ১৫-২০ হাজার টাকা লাভে কিছুই হয় না।

চাহিদার আখই পাচ্ছে না চিনিকল, গুনছে লোকসান

তিনি আরও জানান, উন্নতজাতের আখের পাশাপাশি ভালো মতো সার ও পরিচর্যা করলে এই আখই একরে ৭৫০ মণ পাওয়া যায়। তাতে উৎপাদন খরচ বেড়ে ৩০-৩৫ হাজার টাকায় যাবে। মণপ্রতি দাম ২০০ টাকা দিলে সেক্ষেত্রে চিনিকলের পাশাপাশি তারাও লাভবান হতেন।

তবে সরকারি সহায়তা না থাকা ও পাওনা পেতে দেরি হওয়ায় তারা এখন আখ চাষের আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছেন।

নাটোর চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মসলেম উদ্দিন বলেন, ‘চিনিশিল্পকে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করে এদিকে সরকারের বিশেষ নজর দিতে হবে। আখচাষিদের প্রণোদনার আওতায় এনে তাদের মধ্যে উন্নতমানের বীজ সরবরাহের মাধ্যমে সংকট নিরসন হবে। সেই সঙ্গে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতসহ সময়মতো কৃষকদের টাকা পরিশোধ করতে হবে।’

আখ সংকটে নির্ধারিত সময়ের আগেই মিল বন্ধ করতে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নাটোর চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আনোয়ার হোসেন জানান, গত বছর এ চিনিকলে লোকসান ছিল ৩২ কোটি টাকা। তবে তারা সংকট নিরসনে কৃষকদের সময় মতো পাওনা টাকা দেয়া, উন্নতমানের বীজ সরবরাহসহ চিনিকলের উন্নয়নে সব উদ্যোগ নিচ্ছে।

এরই মধ্যে শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা এবং বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অতিরিক্ত সচিব আরিফুল ইসলাম তপু নাটোরের দুই চিনিকল পরিদর্শন করেছেন বলে জানালেন আনোয়ার।

চাহিদার আখই পাচ্ছে না চিনিকল, গুনছে লোকসান

তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষকদের প্রণোদনাসহ উন্নতমানের বীজ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছি। চলতি বছর নাটোর চিনিকলে এক লাখ টন আখ মাড়াই করে সাত হাজার ৬০০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।’

নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবীর জানান, এই চিনিকলে চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৮৬ টন আখ মাড়াই করে ১৩ হাজার ৬০০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গত বছর করোনাভাইরাসের কারণে কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের বীজ ও সার সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। এ বছর চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন চিনিকলের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগ আবারও চিনিকল লাভের মুখ দেখবে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
৮ বছরের অসুস্থতা নিয়ে তাজরীন শ্রমিকের মৃত্যু
পুলিশি বাধায় ‘জিন্দা লাশের’ মিছিল
মোমবাতি জ্বালিয়ে তাজরীন ট্র্যাজেডি স্মরণ
তাজরীনে আগুন: ৪৫ জন কি ক্ষতিপূরণ পাবে না
জীবনের দাম কি আড়াই লাখ টাকা

শেয়ার করুন

করতোয়ার তীরে মস্তকহীন নবজাতক

করতোয়ার তীরে মস্তকহীন নবজাতক

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। খণ্ডিত মাথাটি খোঁজার চেষ্টা চলছে।’

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় করতোয়া নদীর তীর থেকে মস্তকহীন এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের কালিগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকা থেকে শনিবার বিকেলে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। খণ্ডিত মাথাটি খোঁজার চেষ্টা চলছে।

‘ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতে কোনো একসময় শিশুটির জন্ম হয়েছিল। কিছু সময়ের মধ্যে হত্যা করা হয় নবজাতককে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

উল্লাপাড়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নবজাতকের মাথা উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্তে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে কাজ করছে পুলিশ। থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
৮ বছরের অসুস্থতা নিয়ে তাজরীন শ্রমিকের মৃত্যু
পুলিশি বাধায় ‘জিন্দা লাশের’ মিছিল
মোমবাতি জ্বালিয়ে তাজরীন ট্র্যাজেডি স্মরণ
তাজরীনে আগুন: ৪৫ জন কি ক্ষতিপূরণ পাবে না
জীবনের দাম কি আড়াই লাখ টাকা

শেয়ার করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৮

নবীনগর থানার সামনে দুপক্ষের সংঘর্ষে আটজন আহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে নবীপুর গ্রামের শাওন নামে এক যুবককে শ্রীরামপুর এলাকায় আলমনগর গ্রামের কয়েকজন মারধর করে। এ ঘটনার জেরে বিকেলে নবীনগর থানার সামনে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার সামনে পূর্ববিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ আটজন আহত হয়েছেন।

উপজেলার নবীপুর ও আলমনগর গ্রামের লোকজন শনিবার বিকেলে থানা গেটের সামনে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আজিজ, আশরাফুল ইসলাম ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুন। বাকিরা হলেন শাওন মিয়া, কাউছার মিয়া, ছুবুর মিয়া, পাবেল মিয়া ও রাজিব।

ওসি জানান, কয়েক মাস ধরে নবীনগর ইউনিয়নের নবীপুর ও পৌর এলাকার আলমনগর গ্রামের যুবকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। উভয়পক্ষ একে অন্যের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি আরও জানান, শনিবার সকালে নবীপুর গ্রামের শাওন নামে এক যুবককে শ্রীরামপুর এলাকায় আলমনগর গ্রামের কয়েকজন মারধর করেন। এ ঘটনার জেরে বিকেলে নবীনগর থানার সামনে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে পুলিশের তিন কর্মকর্তাসহ আটজন আহত হন। তাদের নবীনগর সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানেও সংঘর্ষ হয়।

দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান ওসি আমিনুর।

আরও পড়ুন:
৮ বছরের অসুস্থতা নিয়ে তাজরীন শ্রমিকের মৃত্যু
পুলিশি বাধায় ‘জিন্দা লাশের’ মিছিল
মোমবাতি জ্বালিয়ে তাজরীন ট্র্যাজেডি স্মরণ
তাজরীনে আগুন: ৪৫ জন কি ক্ষতিপূরণ পাবে না
জীবনের দাম কি আড়াই লাখ টাকা

শেয়ার করুন

ইন্সপেক্টরের সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ’, সেই নারী পুলিশকেও প্রত্যাহার

ইন্সপেক্টরের সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ’, সেই নারী পুলিশকেও প্রত্যাহার

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওই নারী কনস্টেবলকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি ছুটিতে থাকা অবস্থায় প্রদীপ কুমার দাসের কক্ষে রাতের বেলা কী কারণে গেলেন, তা জানাতে তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) আদালত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) প্রদীপ কুমার দাসের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ার অভিযোগে নারী কনস্টেবলকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে।

এর আগে একই অভিযোগে প্রদীপ কুমার দাসকেও ক্লোজড করা হয়।

অভিযুক্ত ওই নারী কনস্টেবল ছুটিতে ছিলেন। তার ছুটি বাতিল করে ক্লোজড করা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওই নারী কনস্টেবলকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে যুক্ত করা হয়।

পাশাপাশি ছুটিতে থাকা অবস্থায় প্রদীপ কুমার দাসের কক্ষে রাতের বেলা কী কারণে গেলেন, তা জানাতে তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার রাতে আদালতে নিজ কক্ষে নারী কনস্টেবলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগ উঠে প্রদীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছুটিতে থাকা ওই নারী কনস্টেবলকে রাতে কোর্ট বিল্ডিংয়ে নিজ কক্ষে ডেকে নেন কোর্ট ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার দাস। রাত ৯টার দিকে কোর্ট ইন্সপেক্টরের কক্ষের দরজা খোলা এবং ভেতরে আলো নেভানো দেখে অন্য পুলিশ সদস্যরা সেই কক্ষে ঢোকেন। আলো জ্বালানোর পর দুজনকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।

এরপর ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার দাসকে ক্লোজড করে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ লাইন্সে যুক্ত করা হয়।

অভিযুক্তের সত্যতা পেলে প্রদীপের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফউল্লাহ তাহের।

আরও পড়ুন:
৮ বছরের অসুস্থতা নিয়ে তাজরীন শ্রমিকের মৃত্যু
পুলিশি বাধায় ‘জিন্দা লাশের’ মিছিল
মোমবাতি জ্বালিয়ে তাজরীন ট্র্যাজেডি স্মরণ
তাজরীনে আগুন: ৪৫ জন কি ক্ষতিপূরণ পাবে না
জীবনের দাম কি আড়াই লাখ টাকা

শেয়ার করুন

দুই সন্তানকে ‘হত্যার’ পর মায়ের ‘আত্মহত্যা চেষ্টা’

দুই সন্তানকে ‘হত্যার’ পর মায়ের ‘আত্মহত্যা চেষ্টা’

প্রতীকী ছবি

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার জাকির হাসান (উত্তর) নিউজবাংলাকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে শিশু দুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন মা লিজা আক্তার। অচেতন লিজাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গাজীপুর সদরের মুক্তারটেক এলাকায় একটি বাড়ি থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলো চার বছরের তাসকিয়া জাহান ও ৯ মাস বয়সী তাসনিম জাহান।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার জাকির হাসান (উত্তর) নিউজবাংলাকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে শিশু দুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন মা লিজা আক্তার। অচেতন লিজাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিশুদের বাবা বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। সন্তানদের নিয়ে দুই মাস ধরে এই বাসায় ভাড়া থাকছেন তারা। কিছুদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছিল লিজা।

‘শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বাচ্চাদের জন্য নাস্তা কিনতে বাইরে গিয়েছিলাম। ১ ঘণ্টা পর বাড়ি ফিরে দেখি ওড়না পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে লিজা। বিছানায় পড়ে আছে বাচ্চাদের নিথর দেহ। আমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন লিজাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।’

পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) জাকির হাসান বলেন, ‘মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিশুদের মা সুস্থ হলে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
৮ বছরের অসুস্থতা নিয়ে তাজরীন শ্রমিকের মৃত্যু
পুলিশি বাধায় ‘জিন্দা লাশের’ মিছিল
মোমবাতি জ্বালিয়ে তাজরীন ট্র্যাজেডি স্মরণ
তাজরীনে আগুন: ৪৫ জন কি ক্ষতিপূরণ পাবে না
জীবনের দাম কি আড়াই লাখ টাকা

শেয়ার করুন