এইচএসসির নম্বর বণ্টন যেভাবে

এইচএসসির নম্বর বণ্টন যেভাবে

ফাইল ছবি।

স্বাভাবিক সময়ে এমসিকিউ ও তত্ত্বীয় পরীক্ষা নেয়া হতো ৭৫ নম্বরে। সময় দেয়া হতো তিন ঘণ্টা। তবে পরীক্ষার্থীদেরকে এবার বেশি সময় হলে রাখতে চাইছে না সরকার। তাই সময় কমিয়ে আনা হয়েছে। আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে এই পরীক্ষা।

করোনা পরিস্থিতিতে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদেরকে এমসিকিউ ২৫টির মধ্যে ১২ টির উত্তর দেবে। সময় থাকবে ১৫ মিনিট। তত্ত্বীয় পরীক্ষায় ৮ টি প্রশ্নের মধ্যে ২টির উত্তর দিতে হবে।

মানবিক ও ব্যবসায় শাখা পরীক্ষার্থীদেরকে ১৫ মিনিটের মধ্যে এমসিকিউ ৩০ টির মধ্যে ১৫ টির উত্তর দিতে হবে। তত্ত্বীয় পরীক্ষায় ১১ টি প্রশ্নের মধ্যে ৩টির উত্তর দিতে হবে।

এমসিকিউ ও তত্ত্বীয় মিলিয়ে পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট।

স্বাভাবিক সময়ে এমসিকিউ ও তত্ত্বীয় পরীক্ষা নেয়া হতো ৭৫ নম্বরে। সময় দেয়া হতো তিন ঘণ্টা। তবে পরীক্ষার্থীদেরকে এবার বেশি সময় হলে রাখতে চাইছে না সরকার। তাই সময় কমিয়ে আনা হয়েছে।

পরীক্ষা শুরুর পূর্বে এই বিষয়টি পরীক্ষার্থীদেরকে আগেভাগে জানিয়ে দেয়ার নির্দেশ এসেছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

গত বছর করোনা পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা না নিয়ে সবাইকে অটোপাস দেয়া হয়। তবে এবার সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই পরীক্ষা শুরু হবে ২ ডিসেম্বর।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা চলবে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা চলবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা চলবে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এ পরীক্ষায় অংশ নেবে অংশ নেবে প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী। এ পরীক্ষা কোন বিষয়ে কত সময় ও কত নম্বরে হবে সে বিষয়ে শিক্ষার্থী- অভিভাবকদের অনেকেরই পরিপূর্ণ ধারণা ছিল না।

এবার আবশ্যিক বিষয়ে সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে দেয়া হবে নম্বর। চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা নেয়া হবে না। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট এবং বেলা ২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে।

কত পরীক্ষার্থী অংশ নেবে

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে ১৫ লাখ ৫৮ হাজার শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করলেও পরীক্ষা দিচ্ছে ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০ জন। সে হিসাবে এ বছর এইচএসসিতে ঝরে পড়েছে এক লাখ ৫৮ হাজার ৩১০ জন। তারপরও গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৩৩ হাজার ৯০১জন।

সাধারণ ৯টি শিক্ষাবোর্ডে পরীক্ষা দিচ্ছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৭ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১১৩ ও ছাত্রী ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৪ জন।

মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪৪ জন। তাদের ৬১ হাজার ৭৩৮ জন ছাত্র এবং ৫১ হাজার ৪০৬ জন ছাত্রী।

এছাড়া এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) পরীক্ষা দিচ্ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৯ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৪ হাজার ৮২৭ ও ছাত্রী ৪৩ হাজার ৬৪২ জন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

আরও পড়ুন:
এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩৩,৯০১ জন
এইচএসসিতে হারিয়ে গেল দেড় লাখ শিক্ষার্থী
এইচএসসির ফরম পূরণে সময় ফের বাড়ল
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১১ নির্দেশনা
যে রুটিনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘শিক্ষক রাজনীতির স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করবেন না’

‘শিক্ষক রাজনীতির স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করবেন না’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন রামেন্দু মজুমদার। ছবি: নিউজবাংলা

রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘শিক্ষক রাজনীতি যেটা আছে, সেটা অনেক সময় খুবই পীড়াদায়ক মনে হয়। এটা আপনারা নিজেরাই ভাববেন। তবে আমার অনুরোধ, ছাত্রদের কোনো দিনই শিক্ষক রাজনীতির স্বার্থে কাজে লাগাবেন না।’

শিক্ষক রাজনীতির স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার না করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার।

তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষক রাজনীতি যেটা আছে, সেটা অনেক সময় খুবই পীড়াদায়ক মনে হয়। এটা আপনারা নিজেরাই ভাববেন। তবে আমার অনুরোধ, ছাত্রদের কোনো দিনই শিক্ষক রাজনীতির স্বার্থে কাজে লাগাবেন না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার চতুর্থ দিন শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রামেন্দু মজুমদার এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো শাহাদত আলী আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘আজ গোটা বাংলাদেশরই দুর্ভাগ্য যে মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং পরমতসহিষ্ণুতা আমাদের এখান থেকে উঠে গেছে। আমরা একেবারেই কারও কথা সহ্য করতে পারি না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তো আর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। সংস্কৃতি চর্চা থেকে আমরা দূরে চলে যাচ্ছি বলেই এই সংকটগুলো আসছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম খুবই জরুরি।’

সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান রামেন্দু।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর সুযোগ এসেছে। অতীত নিয়ে আমরা অবশ্যই গৌরব করব। তবে দৃষ্টিটা ভবিষ্যতের দিকে রাখতে হবে। আগামী ১০০ বছরে কী করে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বেশি অর্থবহ করে তুলতে পারি, সেটি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।’

রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক অপ্রয়োজনীয় বিভাগ এবং ইনস্টিটিউট আছে। এগুলো একটু দেখা উচিত। বর্তমান সময়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রেখেই যেন আমরা নতুন নতুন বিভাগ খুলি। উপাচার্য মহোদয় নিঃসন্দেহে সেটি খেয়াল রাখবেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণার মধ্যে থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের আলাদা একটি ইনস্টিটিউট আছে। সেখানে গবেষণার জন্য বৃত্তি দেয়া হয়। কিন্তু গবেষণা করার লোক পাওয়া কঠিন। সহজে মানুষ আসতে চান না। এটা একটা বিপজ্জনক ব্যাপার। আমি যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকি বা শিক্ষকতাই করতে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাকে গবেষণার মধ্যে থাকা প্রয়োজন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা এবং নৃত্যকলা বিভাগ নিয়ে আলাদা একটা অনুষদ করার আহ্বানও জানান রামেন্দু মজুমদার।

তিনি বলেন, ‘এই অনুষদের নাম হতে পারে ফ্যাকাল্টি অফ ফাইন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস। তাহলেই এই বিশেষায়িত শিক্ষার প্রতি আরও গুরুত্ব দেয়া যাবে।’

আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘রাষ্ট্রভাষাসহ বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন হয়েছে, সব অর্জনের মূল চালিকাশক্তি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ই আলোকবর্তিকা হয়ে জাতিকে সব সময় পথ দেখিয়েছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি রয়েছে। যেসব তরুণ দেশের জন্য অবদান রাখছে, তাদের অধিকাংশই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক ছাত্র হিসেবে আমি গর্ববোধ করি।’

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, ‘দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব দিয়েছে। যেখানেই রাষ্ট্র সংকটে পড়েছে, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেনি। দেশের গণতন্ত্রকে আজকের এই পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক এবং প্রতিটা ছাত্র সংগঠনের একটা বিশাল অবদান আছে। যেটা ইতিহাস লেখা আছে। এটাকে ম্লান করা যাবে না।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘অতীতের দিকে তাকিয়ে, বর্তমানকে বিশ্লেষণ করে এবং ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে যে মুক্তবুদ্ধির চর্চা সেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অব্যাহত রাখবে বলে আমি আশাবাদী।’

অগ্নিকন্যাখ্যাত সাবেক এই নেত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘স্কাই ইজ দ্য লিমিট। আকাশ ছোঁবে তোমরা; আকাশ ছুঁতে হবে তোমাদের। সেই পরিবেশ একদিকে সরকার যেমন রচনা করবে, মুক্তবুদ্ধির চর্চা করে তোমরাও এটি করবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামীম রেজার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া।

আরও পড়ুন:
এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩৩,৯০১ জন
এইচএসসিতে হারিয়ে গেল দেড় লাখ শিক্ষার্থী
এইচএসসির ফরম পূরণে সময় ফের বাড়ল
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১১ নির্দেশনা
যে রুটিনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা

শেয়ার করুন

কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যুতে অস্বাভাবিকতা থাকলে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যুতে অস্বাভাবিকতা থাকলে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সেলিম আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

গত ৩০ নভেম্বর বিকেলের দিকে কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যু হয়। এর পরই অভিযোগ ওঠে কিছু ছাত্রের লাঞ্ছনা ও অপদস্তের শিকার হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুতে অস্বাভাবিকতা পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংবাদমাধ্যমে শনিবার পাঠানো বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশের কথা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

গত ৩০ নভেম্বর বিকেলের দিকে কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যু হয়। এর পরই অভিযোগ ওঠে কিছু ছাত্রের লাঞ্ছনা ও অপদস্তের শিকার হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন সেলিম।

এ-সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ছাত্র ক্যাম্পাসের রাস্তায় ড. সেলিম হোসেনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছেন। পরে তারা সেলিমকে অনুসরণ করে তড়িৎ প্রকৌশল ভবনে ব্যক্তিগত কক্ষে প্রবেশ করেন। প্রায় ৩০ মিনিট পর তারা সেখান থেকে বের হয়ে যান। পরে অধ্যাপক সেলিম সেখান থেকে বের হয়ে বাসায় ফেরেন।

ওই শিক্ষকের স্ত্রী জানান, বাসায় ফেরার পর সেলিম টয়লেটে যান। বের হতে দেরি হওয়ায় তিনি দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন তার স্বামী। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কিছু ছাত্রের কারণে এ শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে দাবি তুলে বৃহস্পতিবার প্রতিবাদ র‍্যালি ও সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্রের অপমান, অবরুদ্ধ ও মানসিক নির্যাতনে অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যু হয়।

সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত শিক্ষকরা সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন বলেও ঘোষণা দেন।

এই প্রেক্ষাপটে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুয়েট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীরা হল ছেড়েছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পু‌লিশ মোতায়েন রয়েছে।

৯ ছাত্র বহিষ্কার

কুয়েট শিক্ষক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় ৯ ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কার হওয়া ছাত্রদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান আছেন।

কুয়েটের জনসংযোগ কর্মকর্তা মনোজ কুমার মজুমদার বলেন, সেলিমের মৃত্যুর ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজ দেখে শিক্ষকের সঙ্গে ওই ৯ ছাত্রের অসদাচরণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা হলেন সিএসই বিভাগের সাদমান নাহিয়ান সেজান, সিই বিভাগের তাহমিদুল হক ইশরাক, এলই বিভাগের সাদমান সাকিব, আ স ম রাগিব আহসান মুন্না, সিই বিভাগের মাহমুদুল হাসান, এমই বিভাগের মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান, সিএসই বিভাগের রিয়াজ খান নিলয়, এমই বিভাগের ফয়সাল আহমেদ রিফাত ও এমএসই বিভাগের নাইমুর রহমান অন্তু।

আরও পড়ুন:
এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩৩,৯০১ জন
এইচএসসিতে হারিয়ে গেল দেড় লাখ শিক্ষার্থী
এইচএসসির ফরম পূরণে সময় ফের বাড়ল
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১১ নির্দেশনা
যে রুটিনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা

শেয়ার করুন

এনটিআরসিএর সুপারিশ: দ্রুত নিয়োগের দাবি

এনটিআরসিএর সুপারিশ: দ্রুত নিয়োগের দাবি

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফল গত ১৫ জুলাই রাতে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। তবে ৫১ হাজার ৭৬১টি পদে সুপারিশ করার কথা থাকলেও সুপারিশ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৮৬ জন প্রার্থীকে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৬১০ জনকে এবং ননএমপিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৬৭৬ জনকে সুপারিশ করা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত ৩৮ হাজার শিক্ষক দ্রুত নিয়োগের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও শিক্ষা সচিব বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে প্রার্থীরা।

গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাশী শিক্ষক ফোরাম ও ১-১৫তম নিবন্ধিতদের পক্ষে প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকের প্রতিনিধি দল প্রথমে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও শিক্ষা সচিবের কাছে এই দাবি তুলে ধরে।

জানতে চাইলে গণবিজ্ঞপ্তিতে প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত শান্ত আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন, মুজিববর্ষে বেকারত্ব হ্রাসের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের আর্থিক দুরবস্থাসহ সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে এই ডিসেম্বর মাসেই যোগদানের ব্যবস্থা করতে হবে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফল গত ১৫ জুলাই রাতে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।

তবে ৫১ হাজার ৭৬১টি পদে সুপারিশ করার কথা থাকলেও সুপারিশ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৮৬ জন প্রার্থীকে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৬১০ জনকে এবং ননএমপিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৬৭৬ জনকে সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে ১৫ জুলাই এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়োগ নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৪ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দিতে আবেদনপ্রক্রিয়া শেষ করা হলেও আদালতে মামলার কারণে আবেদনকারীদের ফলাফল এত দিন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষক নিবন্ধনের ১ থেকে ১২তম পর্যন্ত পাস করেও চাকরি না পাওয়া ২ হাজার ৫০০ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে এনটিআরসিএকে সুপারিশ করে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। সে রায় ২৮ জুন বাতিল করে দেয় আপিল বিভাগ।

চলতি বছরের ৩০ মার্চ তৃতীয় ধাপে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫৪ হাজার ৩০৪ শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৫৪ হাজার ৩০৪টি শূন্যপদের মধ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ৩১ হাজার ১০১টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত পদ ২৬ হাজার ৮৩৮টি। মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে মোট শূন্যপদ ২০ হাজার ৯৯৬টি। এর মধ্যে ১৯ হাজার ১৫৪টি এমপিওভুক্ত। আর ২ হাজার ২০৭টি এমপিও পদে রিট মামলায় অংশগ্রহণদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়।

আরও পড়ুন:
এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩৩,৯০১ জন
এইচএসসিতে হারিয়ে গেল দেড় লাখ শিক্ষার্থী
এইচএসসির ফরম পূরণে সময় ফের বাড়ল
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১১ নির্দেশনা
যে রুটিনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা

শেয়ার করুন

শিক্ষানীতি বদলালেও মৌলিক বিষয় ঠিক রাখতে হবে

শিক্ষানীতি বদলালেও মৌলিক বিষয় ঠিক রাখতে হবে

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ড. কাজী খলীকুজ্জমান। ছবি: নিউজবাংলা

সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী ও অ্যালামনাই সবাই মিলে আমাদের প্রাণের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উজ্জ্বল করব- শতবর্ষের আজকের আয়োজন থেকে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

জাতীয় শিক্ষানীতিতে পরিবর্তন আনলে মৌলিক বিষয় যাতে অক্ষুণ্ন থাকে সেদিকে খেয়াল রাখার তাগিদ দিয়েছেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার তৃতীয় দিন শুক্রবার এক আলোচনা সভায় তিনি এই তাগিদ দিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত এই আলোচনায় ড. খলীকুজ্জমান বলেন, ‘আমাদের একটি শিক্ষানীতি আছে। তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। নতুন করে আবার নাকি শিক্ষানীতি করা হবে।

‘আমরা ‍যদি এ রকম দুই বছর বা পাঁচ বছর পর পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাই তাহলে শিক্ষার্থীদের কী অবস্থা হবে। তারা এক ব্যবস্থা থেকে অন্য ব্যবস্থায় যাচ্ছে। আমার মনে হয় একটি মৌলিক বিষয় ঠিক রেখে অন্যান্য বিষয় পরিবর্তন করা যায়। মৌলিক বিষয় ঠিক রেখে পরিবর্তনের কথা ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতেও বলা আছে।’

ড. খলীকুজ্জমান বলেন, ‘শিক্ষার মান এবং মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয়। মূল্যবোধের দিকে আমাদের বিশেষভাবে নজর দেয়া দরকার। তবে দক্ষতা ছাড়া শুধু মূল্যবোধ থাকলে হবে না। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই পারে দক্ষ ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরি করতে। তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক থেকে মূল্যবোধ ও দক্ষতার ওপর জোর দেয়া না হলে তা সম্ভব হবে না।’

শুক্রবার বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এই আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অনারারি অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান সভাপতিত্ব করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মুজাম্মেল হক বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি না হলে পাকিস্তানও সৃষ্টি হতো না। বাঙালিরাই পাকিস্তান সৃষ্টি করেছিল। আজ যারা পাকিস্তানি তারা ১৯৪৭ সালে অবিভক্ত ভারতের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন ছাত্রনেতা হিসেবে তাঁর গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে পাকিস্তান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছিলেন।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের গবেষণা বাড়াতে হবে। আমাদের জীবনমান ও চাহিদা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শিক্ষার যে বিষয়গুলো পরিবর্তন হচ্ছে সে ক্ষেত্রেও দৃষ্টি দিতে হবে। চিন্তা-চেতনায়ও পরিবর্তন আনতে হবে।’

সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘দেশের প্রতিটি আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল অগ্রণী ভূমিকায়। ছাত্র-ছাত্রীরা যেরকম অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে শিক্ষকরাও তাদের পাশে থেকেছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এই সম্পর্ক ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় বৈশিষ্ট্য। আজ আমরা ছাত্র-শিক্ষকের যে সম্পর্ক দেখি তা কাম্য নয়।’

ডাকসুর সাবেক এই সহসভাপতি বলেন, ‘আমরা উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হয়েছি। আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। নতুন এই চ্যালেঞ্জ কিভাবে মোকাবেলা করব, সেটা যদি নির্ধারণ করতে না পারি তাহলে উন্নয়নশীল দেশের তালিকা থেকে আবার আমরা ছিটকে পড়ব। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়কেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী, অ্যালামনাইসহ সবাই মিলে আমাদের প্রাণের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উজ্জ্বল করব- শতবর্ষের আজকের আয়োজন থেকে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে বিশ্বমানের জনসম্পদ গড়তে উন্নতমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছি। তবে এ জন্য আমাদের বাড়তি মনোযোগ ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। সেই সক্ষমতা নিশ্চয়ই আমাদের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের রয়েছে।’

সাবেক এই গভর্নর বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চয়ই বিশ্বমানের বিদ্যাপীঠ। এখনো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যেসব প্রকাশনা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হচ্ছে আমরা হয়তো সেভাবে সেগুলো রেকর্ড করতে পারছি না। আমরা এগুলো রেকর্ড করতে পারলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং নিশ্চয়ই আরো অনেক ওপরে উঠে যাবে।’

আলোচনা সভা শেষে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে একটি বিতর্ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘এই সংসদ মনে করে, শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবলই ঐতিহ্যনির্ভর’ শীর্ষক এই বিতর্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

বিতর্ক শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন নাহিদ আফরোজ সুমি। এই পর্বে নাটক পরিবেশন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সংগীত পরিবেশন করে। ফাহিম হোসেন চৌধুরী, সুজিত মোস্তফা, রফিকুল আলম এবং শুভ্র দেব একক সংগীত পরিবেশন করবেন। ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করেন দলছুটের বাপ্পা মজুমদার। বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হয়।

আরও পড়ুন:
এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩৩,৯০১ জন
এইচএসসিতে হারিয়ে গেল দেড় লাখ শিক্ষার্থী
এইচএসসির ফরম পূরণে সময় ফের বাড়ল
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১১ নির্দেশনা
যে রুটিনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা

শেয়ার করুন

হল ছাড়ার নির্দেশে ভোগান্তিতে কুয়েট শিক্ষার্থীরা

হল ছাড়ার নির্দেশে ভোগান্তিতে কুয়েট শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণার পর হল ছাড়ছেন কুয়েট শিক্ষার্থীরা।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘করোনায় ক্ষতি তো অনেক হয়েছে। এবারের বন্ধ ঘোষণার কারণে আরও কিছুটা ক্ষতি হবে। তবে যেহেতু তদন্তের স্বার্থে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাই আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীরা চিহ্নিত হোক।’

একজন শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পর হল ছাড়তে শুরু করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৮তম জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পরই হল ছাড়তে শুরু করেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এদিন বিকেল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়।

দুপুর থেকে ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করেন অনেক শিক্ষার্থী। এসময় বাস বা ট্রেনের টিকিট পাওয়া নিয়ে অনেকে শঙ্কিত হয়ে পড়েন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভোগের এক শিক্ষার্থী হল ছাড়ার সময় বলেন, ‘দিনাজপুর পর্যন্ত এখন কীভাবে যাব, সেই চিন্তায় আছি। হঠাৎ হল ছাড়ার সিদ্ধান্তে বিপাকেই পড়েছি। বিশেষ করে আমাদের মেয়েদের সমস্যা একটু বেশি। তবে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বাইরে তো কিছু করার থাকে না। আর বিষয়টা যেহেতু পলিটিক্যাল ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই আর কোনো বিষয়ে কথা বলতে চাই না।’

দীর্ঘ বিরতির পর এ বছরের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ক্যাম্পাস খোলার কিছুদিনের মধ্যে আবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেক শিক্ষার্থী।

ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিরিয়ারিং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মঈন ঢালী ঢাকার বাসা থেকে ২২ অক্টোবর ক্যাম্পাসে এসেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘হঠাৎ বন্ধ হওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েছি। এখন আর বাড়ি ফিরব না। আমার বন্ধুর মেসে থাকব। সে ঢাকায় চলে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ব্যাপক বিড়ম্বনা।’

যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হারুনুর রশীদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীর জন্য এটা চরম ভোগান্তির। ঠাকুরগাঁও সদরের টিকিট পেলে বাড়ি চলে যাব। আর না পেলে কী করব, তা এখনও ভাবিনি।’

যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওসমান গণি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘করোনার জন্য অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এত দিন তো পড়ালেখা শেষ হয়ে যেত। ২৫ অক্টোবর ক্যাম্পাসে এসেছিলাম। আবার ভ্যাকেন্ট। আমাদের জন্য কষ্টদায়ক। পড়াশোনা শেষ করতে কত দিন লাগবে, জানি না। সব মিলিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

৩০ নভেম্বর দুপুরে কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যু হয়।

কিছু ছাত্রের কারণে এই শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে এমন দাবি তুলে বৃহস্পতিবার প্রতিবাদ র‍্যালি ও সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্রের অপমান, অবরুদ্ধ ও মানসিক নির্যাতনে অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যু হয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত শিক্ষকরা সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘করোনায় ক্ষতি তো অনেক হয়েছে। এবারের বন্ধ ঘোষণার কারণে আরও কিছুটা ক্ষতি হবে। তবে যেহেতু তদন্তের স্বার্থে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাই আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীরা চিহ্নিত হোক।’

এদিকে শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ছাত্রলীগের একাংশ আবাসিক হল না ছাড়ার জন্য প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। পরে বিকেল ৪টার দিকে তারা প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে সরে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রতীক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘সিন্ডিকেট থেকে যেসব সিদ্ধান্ত এসেছে, তা দেখে বুঝলাম, শিক্ষকদের রিলেটেড কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তাই আমাদের দাবি মানা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পর্যালোচনা করার মতো কিছু আসেনি। আজকের সিদ্ধান্তটা সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং হলকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সাধারণ সভায় আগে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলোই বহাল থাকছে। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা ব্যতীত আমাদের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।’

আরও পড়ুন:
এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩৩,৯০১ জন
এইচএসসিতে হারিয়ে গেল দেড় লাখ শিক্ষার্থী
এইচএসসির ফরম পূরণে সময় ফের বাড়ল
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১১ নির্দেশনা
যে রুটিনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা

শেয়ার করুন

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য আমাদের তৈরি হতে হবে: দীপু মনি

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য আমাদের তৈরি হতে হবে: দীপু মনি

শুক্রবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে। তার জন্য আমাদের তৈরি হতে হবে। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথাগত পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে নতুন কিছুকে আলিঙ্গন করতে হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি বলেছেন, ‘আজকের যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে, তার জন্য আমাদের তৈরি হতে হবে। অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে, তা মোকাবিলার জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে শুক্রবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাশ বাংলাদেশ চত্বরে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে দীপু মনি বলেন, ‘আমাদের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথাগত পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে নতুন কিছুকে আলিঙ্গন করতে হবে।

‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। সেই গতির সঙ্গে আমাদের সবাইকে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তার সেই গতিকে আমরা যেন আমাদের কাজ দিয়ে আটকে না দেই। পেছনে টেনে না ধরি। আমরা যেন তার হাতকে আরো বেগবান করতে পারি সেই কাজই আমাদের করতে হবে।

‘সম্মিলিতভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। নতুন কিছুকে মেনে নিতে হবে। তা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য খোলা মন নিয়ে কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩৩,৯০১ জন
এইচএসসিতে হারিয়ে গেল দেড় লাখ শিক্ষার্থী
এইচএসসির ফরম পূরণে সময় ফের বাড়ল
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১১ নির্দেশনা
যে রুটিনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা

শেয়ার করুন

দক্ষতার ভিত্তিতে অনুদান পাবেন শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা

দক্ষতার ভিত্তিতে অনুদান পাবেন শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা

প্রকল্প পরিচালক চিত্তরঞ্জন দেবনাথ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, এসডিজি-৪-এর লক্ষ্য অর্জন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। আশা করছি, জানুয়ারি থেকে মাঠপর্যায়ে অনুদান দেয়ার কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’

মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দক্ষতার ভিত্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের অনুদান দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

উদ্যোগটি বাস্তবায়ন হলে দক্ষতা আর ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আর্থিক অনুদান দেয়া হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে নিয়ে যাওয়া হবে উন্নত দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে।

ইতিমধ্যে পারফরম্যান্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশন নামে একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকার বেশি।

সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, উদ্যোগটি বাস্তবায়ন হলে শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মানসম্মত শিক্ষাদানে উৎসাহ পাবেন।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষা বোর্ডের ফলের ভিত্তিতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) বা জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) স্তরে একজন শিক্ষার্থী পাবে ১০ হাজার টাকা। এসএসসি বা এইচএসসির ফলের ভিত্তিতে প্রতি বিভাগ (বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা) থেকে দুজন করে ছয়জন এবং মাদ্রাসা স্তরে দুজন এবং কারিগরি/ভোকেশনাল থেকে দুজন শিক্ষার্থীকে দেয়া হবে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার। এ ছাড়া উপজেলার একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং একজন শিক্ষিকাকে ১ লাখ টাকা করে দেয়া হবে।

শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থীই নয়, প্রতিবছর উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দেয়া হবে ৫ লাখ টাকার অনুদান। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে পুরস্কার হিসেবে নিয়ে যাওয়া হবে উন্নত দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে।

জানা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ২০ হাজার ৩০০ সাধারণ স্কুল, ৯ হাজার ৪০০ মাদ্রাসা, ১ হাজার ১৯০ ভোকেশনাল ইউনিটসহ সাধারণ স্কুলের ৩ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষক ও ১ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থী ফলের ভিত্তিতে অনুদান পাবে।

প্রকল্প পরিচালক চিত্তরঞ্জন দেবনাথ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, এসডিজি-৪-এর লক্ষ্য অর্জন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে।

‘প্রকল্পটির ম্যানুয়াল পাস হয়েছে। এখন ম্যানুয়ালটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বই আকারে পাস হয়ে আসবে। এরপর আমরা মাঠপর্যায়ে অনুদান দেয়া শুরু করব। আশা করছি, ডিসেম্বরে ম্যানুয়ালটি পাস হবে এবং নতুন বছরের জানুয়ারি থেকে মাঠপর্যায়ে অনুদান দেয়ার কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’

ফলের ভিত্তিতে অনুদান দেয়ার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগের ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা গড়ে উঠেবে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে এ ক্ষেত্রে যেন কোনো রকম অনিয়ম না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।’

এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজের অধ্যক্ষ রাফিয়া আক্তারও একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আছে, তারা এতে উৎসাহিত হবে। এতে সার্বিকভাবে দেশের শিক্ষার মান বাড়বে।

‘দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী আছেন। এই উদ্যোগে তারা উৎসাহিত হবেন এবং এর ফলে এক ধরনের ইতিবাচক প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে।

যেভাবে দেয়া হবে পুরস্কার

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ম্যানুয়ালটি পাস হওয়ার পর এর ভিত্তিতেই পুরস্কার দেয়া হবে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, যে কনটেন্ট তৈরি করতে দেয়া হলো তার পারফরম্যান্সসহ বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রতি উপজেলায় এ বিষয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি করা হবে। কমিটির প্রধান থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। কমিটিতে আরও থাকবেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিনিধি, কলেজ অধ্যক্ষসহ অন্যরা। কমিটির কাজ মূল্যায়ন করবেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় ২০১৮ সালের ২৪ জুন ‘পারফরম্যান্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশন’ শীর্ষক প্রকল্পটি পাস হয়। এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এটির কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। করোনা স্থবিরতা কাটতে শুরু করায় এবার প্রকল্পটির কার্যক্রম গতি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩৩,৯০১ জন
এইচএসসিতে হারিয়ে গেল দেড় লাখ শিক্ষার্থী
এইচএসসির ফরম পূরণে সময় ফের বাড়ল
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১১ নির্দেশনা
যে রুটিনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা

শেয়ার করুন