বড় বড় মাছে জমেছে মেলা

বড় বড় মাছে জমেছে মেলা

জয়পুরহাটে মেলায় বড় মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আয়োজকরা জানান, নবান্ন উৎসবকে ঘিরে প্রায় ১০ বছর ধরে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার পাঁচশিরা বাজারে বসে এই মাছের মেলা। এ উপলক্ষে আগের দিন রাত থেকেই এখানে মাছ নিয়ে আসেন স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা। মেলায় মাছ কিনতেও আসেন দূরদূরান্তের অনেকে। মূলত নবান্নে মেয়ে-জামাইসহ স্বজনদের আপ্যায়নে ব্যবহার করা হয় এই মাছ।

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব উপলক্ষে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পাঁচশিরা বাজারে বসেছে মাছের মেলা।

বৃহস্পতিবার ভোরে শুরু হওয়ায় মেলা চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। মেলা উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা এনেছেন নানা প্রজাতির ৫০০ মণ মাছ। ৩-৪ কেজি থেকে শুরু করে আনা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৫ কেজি ওজনের মাছও। এসব মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রকার ও আকারভেদে ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে।

আয়োজকরা জানান, নবান্ন উৎসবকে ঘিরে প্রায় ১০ বছর ধরে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার পাঁচশিরা বাজারে বসে এই মাছের মেলা। এ উপলক্ষে আগের দিন রাত থেকেই এখানে মাছ নিয়ে আসেন স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা। মেলায় মাছ কিনতেও আসেন দূরদূরান্তের অনেকে। মূলত নবান্নে মেয়ে-জামাইসহ স্বজনদের আপ্যায়নে ব্যবহার করা হয় এই মাছ।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় মেলায় গিয়ে দেখা যায়, বড় বড় রুই, কাতল, বিগহেড, সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন ব্যবসায়ীরা। দোকানে দোকানে শোভা পাচ্ছে তিন-চার কেজির পাশাপাশি ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ কেজি ওজনের কাতল মাছ।

তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ীর দোকানে পাঁচ থেকে আট কেজির মাছের সংখ্যা বেশি, যেগুলো বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি সাড়ে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত।

মেলায় আনা সবচেয়ে বড় মাছের ওজন ৩৫ কেজি। ৪২ হাজার টাকায় কাতল মাছটি বিক্রি হয়েছে বলে জানান এটি আনা ব্যবসায়ী।

মেলায় মাছ কিনতে আসা উপজেলার বামনগ্রামের কলেজশিক্ষক চিত্তরঞ্জন দেবনাথ জানান, কয়েক বছর ধরে তিনি এ মেলার মাছ কিনে পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে নবান্ন উৎসব পালন করেন। এবার ছয় কেজি ওজনের দুটি মাছ কিনতে মেলায় এসেছেন। এমন মাছের দাম চাওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজি।

বড় বড় মাছে জমেছে মেলা

ক্ষেতলাল উপজেলার ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী মাইনুর রহমান জানান, বড় আকারের কাতল মাছ কেনার জন্য তিনি মেলায় এসেছেন। দেড় হাজার টাকায় কিনেছেন ৫ কেজি ওজনের এমন একটি মাছ।

মাছ বাজারের ইজারাদার সানোয়ার হোসেন জানান, এ বছর মেলায় প্রায় ৫০০ মণ মাছ আনা হয়েছে। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। তবে গত বছর আরও বেশি মাছ এনেছিলেন ব্যবসায়ীরা।

মাছের ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম জানান, মেলায় বিক্রির জন্য বড় একটি ট্রাকভর্তি মাছ নিয়ে এসেছেন। তিনিই মেলার সবচেয়ে বড় মাছ ৩৫ কেজির কাতলটি এনেছেন। এটি বিক্রি করেছেন ৪২ হাজার টাকায়। এ ছাড়া ৬-৭ কেজি ওজনের কাতল ৬০০ টাকা কেজি এবং ৮-১০ কেজি ওজনের বিগহেড মাছ ৩৫০-৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মেলায় মাছের চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় তিনি খুশি বলেও জানান।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, ২০১২ সালে নবান্ন উৎসবে পাঁচশিরা বাজারে এই মাছের মেলা তারাই প্রথম শুরু করেছিলেন। সেই মেলা এখন পূর্ণতা লাভ করেছে। তিনিও মেলায় বিক্রির জন্য এক ট্রাক মাছ নিয়ে এসেছেন। এখন পর্যন্ত অর্ধেকের বেশি মাছ বিক্রি হয়ে গেছে।

কালাই উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন বলেন, ‘প্রতিবছর এ মেলা থেকে বড় বড় মাছ কেনার জন্য এলাকার মানুষ মুখিয়ে থাকেন। মানুষ বড় বড় মাছ যেমন কিনতে আসেন, আবার দেখতেও আসেন অনেকে। এ জন্য মেলায় মানুষের প্রচণ্ড ভিড় হয়। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি।’

আরও পড়ুন:
দুবলার চরে আর হবে না রাসমেলা
কলকাতা বইমেলায় এবার থিম কান্ট্রি বাংলাদেশ
রংপুরে কর মেলায় ৮৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা
বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানার উদ্বোধন
এ বছরও আয়কর মেলা হচ্ছে না

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বরখাস্ত মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে এবার নওগাঁয় মামলা

বরখাস্ত মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে এবার নওগাঁয় মামলা

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সদ্য সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ফাইল ছবি

মামলার বাদী নাহিদুজ্জামান রনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি একজন সচেতন নাগরিক। মহান স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও মুক্তিযোদ্ধাদের নামে জাহাঙ্গীর যে সব মন্তব্য করেছেন, তাতে চরম আঘাত পেয়েছি। তাই দণ্ডবিধি ৫০৪, ৫০৫ ও ৫০৫ (ক) ধারায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করি।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে নওগাঁর আদালতে মামলা হয়েছে।

নওগাঁর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে মামলাটি করেন নাহিদুজ্জামান রনি নামের ৩৭ বছরের এক যুবক।

নাহিদুজ্জামান ‘মানবিক বাংলাদেশ সোসাইটি’ নামে একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি নওগাঁ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক।

নওগাঁর আমলি আদালত ৫-এর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরোয়ার জাহান মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে ২০২২ সালের ৩০ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মোমিনুল ইসলাম স্বপন নিউজবাংলাকে জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও ধর্ষণের শিকার মা-বোনদের সংখ্যা নিয়ে বিবাদী বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ইতিহাস বিকৃত করেছেন। এ ধরনের বক্তব্যে দেশে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে নাহিদুজ্জামান রনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি একজন সচেতন নাগরিক। মহান স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও মুক্তিযোদ্ধাদের নামে জাহাঙ্গীর যে সব মন্তব্য করেছেন, তাতে চরমভাবে আঘাত পেয়েছি। তাই দণ্ডবিধি ৫০৪, ৫০৫ ও ৫০৫ (ক) ধারায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করি।’

এর আগে একই অভিযোগে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা হয় রাজবাড়ী ও মাদারীপুরে।

গত সেপ্টেম্বরে গোপনে ধারণ করা জাহাঙ্গীর আলমের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জেলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় জাহাঙ্গীরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। মেয়র পদ থেকে জাহাঙ্গীরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় ২৫ নভেম্বর।

আরও পড়ুন:
দুবলার চরে আর হবে না রাসমেলা
কলকাতা বইমেলায় এবার থিম কান্ট্রি বাংলাদেশ
রংপুরে কর মেলায় ৮৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা
বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানার উদ্বোধন
এ বছরও আয়কর মেলা হচ্ছে না

শেয়ার করুন

চবিতে ২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে বিতর্ক উৎসব

চবিতে ২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে বিতর্ক উৎসব

চিটাগং ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল আসআদ জানান, প্রতিযোগিতায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক সংঘ, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি, ইসলামিক প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটিসহ দেশের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮টি দল অংশ নেবে।

চিটাগং ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (সিইউডিএস) প্রতিষ্ঠার রজতজয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজন করেছে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক উৎসবের।

ডিএনসি-সিইউডিএস আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক উৎসব নামে প্রতিযোগিতার প্রথম পর্ব শুক্রবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় পর্বে ফাইনাল রাউন্ড, পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান হবে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে।

বিতর্ক উৎসবটির পৃষ্ঠপোষকতা করছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

চবি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানান সংগঠনের সভাপতি আবদুল্লাহ আল আসআদ।

তিনি জানান, প্রতিযোগিতায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক সংঘ, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি, ইসলামিক প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটিসহ দেশের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮টি দল অংশ নেবে। বিচারক হিসেবে থাকবেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিতার্কিকরা।

প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। গেস্ট অব অনার থাকবেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশ মহাপরিদর্শক আনোয়ার হোসাইন।

বিশেষ অতিথি থাকবেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার নিতাই কুমার ভট্টাচার্য, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পরিচালক মজিবুর রহমান পাটওয়ারী।

সভাপতিত্ব করবেন চবি আইন অনুষদের ডিন ও সিইউডিএস মডারেটর অধ্যাপক এবিএম আবু নোমান।

আরও পড়ুন:
দুবলার চরে আর হবে না রাসমেলা
কলকাতা বইমেলায় এবার থিম কান্ট্রি বাংলাদেশ
রংপুরে কর মেলায় ৮৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা
বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানার উদ্বোধন
এ বছরও আয়কর মেলা হচ্ছে না

শেয়ার করুন

ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরের রেল বন্ধ

ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরের রেল বন্ধ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় লাইনচ্যুত হয়েছে মালবাহী ট্রেন। ছবি: নিউজবাংলা

পাকশী রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী শিপন আলী জানান, দুর্ঘটনার কারণে চাটমোহর স্টেশনে ঢাকাগামী লালমনি এক্সপ্রেস ও উল্লাপাড়া স্টেশনে রাজশাহীগামী বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে আছে।

ঢাকা-ঈশ্বরদী রেলপথের পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ আছে।

ভাঙ্গুড়ার বড়ালব্রিজ রেলস্টেশনে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পাকশী রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী শিপন আলী নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণে চাটমোহর স্টেশনে ঢাকাগামী লালমনি এক্সপ্রেস ও উল্লাপাড়া স্টেশনে রাজশাহীগামী বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে আছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বড়ালব্রিজ স্টেশন পার হওয়ার সময় বিকট শব্দে ট্রেনটির পেছনের ১০টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি বগি হেলে পড়ে। আরেকটির চাকা লাইন থেকে পড়ে যায়।

বড়ালব্রিজ স্টেশনের বুকিং ক্লার্ক মো. মামুন জানান, পাকশী থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
দুবলার চরে আর হবে না রাসমেলা
কলকাতা বইমেলায় এবার থিম কান্ট্রি বাংলাদেশ
রংপুরে কর মেলায় ৮৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা
বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানার উদ্বোধন
এ বছরও আয়কর মেলা হচ্ছে না

শেয়ার করুন

সরকারি বাগানের রাবার পাচার, গ্রেপ্তার ২

সরকারি বাগানের রাবার পাচার, গ্রেপ্তার ২

মধুপুরে সরকারি বাগান থেকে ৪ হাজার ৮০ কেজি রাবার পাচারের সময় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

র‌্যাব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, টেংরীর আলোকদিয়া এলাকায় র‌্যাব অভিযান চালিয়ে রাবারভর্তি একটি কার্গো ট্রাকসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে সরকারি রাবার বাগান থেকে পাচার হওয়া অপরিশোধিত ৪ হাজার ৮০ কেজি রাবার জব্দ করা হয়। এসব কাঁচা রাবারের দাম আনুমানিক ৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

টাঙ্গাইলের মধুপুরে সরকারি বাগান থেকে রাবার পাচারের সময় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

উপজেলার টেংরী এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে ৪ হাজার ৮০ কেজি রাবারসহ অপূর্ব চন্দ্র দাস ও শামীম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-১২-এর ৩ নম্বর কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তারকৃত অপূর্ব চন্দ্র দাস মধুপুরের মাস্টারপাড়া এবং শামীম মণ্ডল কাজীপাড়ার বাসিন্দা।

র‌্যাব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গোপন তথ্যে টেংরীর আলোকদিয়া এলাকায় র‌্যাব অভিযান চালিয়ে রাবারভর্তি একটি কার্গো ট্রাকসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে সরকারি রাবার বাগান থেকে পাচার হওয়া অপরিশোধিত ৪ হাজার ৮০ কেজি রাবার জব্দ করা হয়। এসব কাঁচা রাবারের দাম আনুমানিক ৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা মধুপুর থানা এলাকার সরকারি বাগানের অপরিশোধিত রাবার অনেক দিন ধরে চুরি করে আসছেন। এসব রাবার তারা কার্গো ট্রাকে তুলে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে বিক্রি করেন।

দুজনের বিরুদ্ধে মধুপুর থানায় মামলা দিয়ে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আরও পড়ুন:
দুবলার চরে আর হবে না রাসমেলা
কলকাতা বইমেলায় এবার থিম কান্ট্রি বাংলাদেশ
রংপুরে কর মেলায় ৮৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা
বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানার উদ্বোধন
এ বছরও আয়কর মেলা হচ্ছে না

শেয়ার করুন

‘জমির বিরোধের বলি’ ২৫০ হাঁস

‘জমির বিরোধের বলি’ ২৫০ হাঁস

সাভারের এই খামারের ২৫০ হাঁস মরে পড়ে ছিল। ছবি: নিউজবাংলা

খামারমালিক রাশেদ বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের সঙ্গে জমি নিয়ে আমার বিরোধ চলছিল। গতকালকেও জাহাঙ্গীর খামারে দুইটা লোক পাঠায় ১০টা হাঁস চেয়েছিল খাওয়ার জন্য। আমি রাজি হইনাই দেখে সে হুমকি দিয়ে চলে যায়। আমি জিডিও করেছিলাম। এ কারণেই সে হাঁসগুলো মেরে ফেলসে।’

ঢাকার সাভারে ২৫০ হাঁস বিষ দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন এক খামারি। তিনি জানান, জমির বিরোধের জেরে খামারের ম্যানেজারকে মারধর করে হাঁসগুলোকে বিষ দেয়া হয়েছে।

আশুলিয়ার দরগার পাড় এলাকার রাশেদ ভূঁইয়ার খামারে বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, মরে পড়ে আছে হাঁসগুলো।

রাশেদ নিউজবাংলাকে জানান, চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে লিজ নেয়া জমিতে এক বছর আগে এই খামার গড়ে তোলেন তিনি। ১০০ বেলজিয়াম ও ১৫০ খাকি ক্যাম্বেল হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করে লালনপালন শুরু করেন। খামারের দেখভালের জন্য ম্যানেজারও রাখেন।

রাশেদ বলেন, ‘আজ দুপুরে ম্যানেজার ফোন করে জানায় যে জাহাঙ্গীর, ফারুক ও বশিরসহ কয়েকজন এসে শেডের চাবি চায়। চাবি না দেয়ায় তাকে মারধর করা হয়। সে পালিয়ে গিয়ে আমাকে ফোন করে। আমি খামারে গিয়ে দেখি একে একে সব হাঁস মারা যাচ্ছে।

‘জাহাঙ্গীরের সঙ্গে জমি নিয়ে আমার বিরোধ চলছিল। গতকালকেও জাহাঙ্গীর খামারে দুইটা লোক পাঠায় ১০টা হাঁস চেয়েছিল খাওয়ার জন্য। আমি রাজি হইনাই দেখে সে হুমকি দিয়ে চলে যায়। আমি জিডিও করেছিলাম। এ কারণেই সে হাঁসগুলো মেরে ফেলসে।’

অভিযোগের বিষয়ে পাশের গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জমি নিয়ে মামলা চলছে। দুইপক্ষের উকিল নিয়ে বসার কথা ছিল, কিন্তু রাশেদ আসেন নাই। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত ওনার সঙ্গে আমার কোনো কথা হয় নাই।

‘হাস কীভাবে আমি মারব। তার সঙ্গেতো আমার কোনো যোগাযোগই নেই। ষড়যন্ত্র করেই আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসওয়াদুর রহমান জানান, রাশেদ থানায় জিডি করেছেন যে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। তবে হাঁস মারা যাওয়ার কোনো অভিযোগ এখনও পাওয়া যায়নি।

সাভার উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, খামারমালিক থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের মাধ্যমে হাঁসগুলোর ময়নাতদন্ত করা হবে। তারপরই নিশ্চিত করা যাবে, কীভাবে সেগুলো মারা গেল।

আরও পড়ুন:
দুবলার চরে আর হবে না রাসমেলা
কলকাতা বইমেলায় এবার থিম কান্ট্রি বাংলাদেশ
রংপুরে কর মেলায় ৮৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা
বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানার উদ্বোধন
এ বছরও আয়কর মেলা হচ্ছে না

শেয়ার করুন

পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী

পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী

পাহাড়ের বাসিন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী মনে করছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত বাড়ার পেছনে মূল কারণ সংগঠনগুলোর স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও চাঁদার ভাগ-বাটোয়ারা।

শান্তি চুক্তির দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনও বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে শান্তি ফেরেনি। পাহাড়ে গুম, খুন, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। সহিংসতার ভয়ে কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন।

চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে সরকার ও পাহাড়ের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে রয়েছে ভিন্নমত।

সরকার বলছে, পার্বত্য চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত ও ১৫টি আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। এ ছাড়া ৯টি ধারার বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান।

তবে পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা বলছেন, এতো দীর্ঘ সময়ে মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে, ১৮টি আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি ২৯টি ধারার কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।

ভূমি সমস্যা সমাধানসহ চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলায় ক্ষোভ, হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন পাহাড়ের নেতারা।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সঙ্গে চুক্তি করেন, যেটিকে ‘শান্তি চুক্তি’ নামে অভিহিত করা হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পরও অস্ত্রের ঝনঝনানি থামেনি পাহাড়ে। নতুন নতুন সশস্ত্র গ্রুপের আবির্ভাব এবং সেগুলোর অন্তর্কোন্দলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেই চলেছে। নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের কলহে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো জড়িয়ে পড়ছে সংঘাতে।


পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী


দুই যুগে আড়াই হাজার খুন

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, শান্তি চুক্তির পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সামাজিক অপরাধের বাইরে তিন পার্বত্য জেলায় খুন হয়েছে ২ হাজার ৫৭৩ জন মানুষ। অপহৃত হয়েছে অন্তত ২ হাজার ৬২৬ জন। নিহতদের মধ্যে পাহাড়ি-বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের লোক আছে।

গত চার বছরে শুধুমাত্র রাঙামাটিতেই আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে খুন হয়েছে ১২৪ জন। পার্বত্য তিন জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হানাহানির ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে। এই দুই জেলায় নিহত হন ১০৫ জন। আর বান্দরবানে নিহত হন ১৯ জন।

পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী
ইউপি সদস্য সমর বিজয় চাকমাকে পিআইও অফিসে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

নিহতদের মধ্যে ৯২ জন পার্বত্য এলাকার চারটি আঞ্চলিক দলের নেতা-কর্মী। এর মধ্যে ইউপিডিএফের ৩৯ জন, জেএসএসের (লারমা) ৩৮ জন, পিসিজেএসএসের ১৩ জন ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের ২ জন। অন্যদের মধ্যে ২০ জন সাধারণ নাগরিক, একজন সেনাসদস্য, বিএনপির নেতা ১ জন, আওয়ামী লীগের ১০ জন ও মগ পার্টির ১ জন রয়েছেন।

পাহাড়ের রাজনীতির মারপ্যাঁচ

পাহাড়ে এক সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) নামে একটিমাত্র আঞ্চলিক দল ছিল। এই দলের সঙ্গেই ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি করেছিল সরকার। চুক্তির বিরোধিতা করে প্রথমে একটি অংশ জেএসএস থেকে বেরিয়ে ১৯৯৮ সালে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) নামে নতুন সংগঠন করে। পরে জেএসএস ভেঙে জেএসএস (সংস্কারপন্থি) নামে ২০০৭ সালে আরেকটি সংগঠন হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৭ সালে ইউপিডিএফ ভেঙে ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক নামে নতুন সংগঠন হয়।

পার্বত্য চুক্তির এক বছরের মধ্যে চুক্তির পক্ষের জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে ইউপিডিএফের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। ২০০৭ সালে জনসংহতি সমিতি ভেঙে গঠিত হয় জনসংহতি সমিতি (লারমা) বা জেএসএস (লারমা) নামের নতুন দল। ২০১৭ সালে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি হয়। ওই বছরের ১৫ নভেম্বর তপনজ্যোতি চাকমার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক নামের নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী


পার্বত্য চট্টগ্রামে এই চারটি সংগঠনের বাইরে আরও কয়েকটি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে আরাকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি)। এই দলের সদস্যদের অবস্থান বান্দরবানের গহীনে। ২০১৮ সালে এএলপি ভেঙে গঠিত হয় মগ পার্টি। তাদের অবস্থানও বান্দরবানে। তবে এই দুই দলের অবস্থান শুধু বান্দরবানে; রাঙামাটি কিংবা খাগড়াছড়িতে এদের কোনো তৎপরতা নেই।

কার শক্তি কোথায়?

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিদে যে চারটি গ্রুপ বা সংগঠন রয়েছে, সেগুলোর একেকটির অবস্থান একেক জায়গায় শক্ত। এর মধ্যে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের দুটি অংশের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। খাগড়াছড়ির স্থানীয় বাসিন্দা ও পাহাড়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের শক্ত অবস্থান রয়েছে। অন্যদিকে বান্দরবানে জেএসএসের দুইটি অংশের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। সেখানে জেএসএস শক্তিশালী। বান্দরবানের ইউপিডিএফের তৎপরতা নেই বললে চলে। আর রাঙামাটিতে জেএসএস এবং ইউপিডিএফের চার পক্ষই শক্তিশালী।

শান্তি না ফেরার কারণ কী?

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) নেতা ত্রিদিব চাকমা বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে সমস্যা সমাধান হবে না। দুই যুগেও চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক সুদর্শন চাকমা বলেন, চুক্তি ‘বাস্তবায়নের জন্য আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমরাও চাই পাহাড়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থা থাকুক। সবাই নিরাপদে শান্তিতে বসবাস করুক।’

ইউপিডিএফের সংগঠক অংগ মারমা বলেন, ‘পাহাড়ে অশান্তির মূল কারণ পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়া। চুক্তি বাস্তবায়নে যেসব কথা বলা হয়েছে, সেগুলো ন্যূনতম বাস্তবায়ন হয়নি। এ জন্য এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’

তবে, পাহাড়ের বাসিন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী মনে করছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত, হানাহানি বাড়ার পেছনে মূল কারণ সংগঠনগুলোর স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও চাঁদার ভাগ-বাটোয়ারা।

তবে আঞ্চলিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের হতাশা থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাই পাহাড়ে শান্তি ফেরেনি।

ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা বলেন, ‘প্রসীত খীসার ইউপিডিএফের জন্য আজ পাহাড়ে এত সংঘাত। তারা তখন চুক্তির বিরোধিতা না করলে হয়তো পাহাড়ে আজ চারটি আঞ্চলিক সংগঠন হতো না। পাহাড়ে রক্তপাত বন্ধ হোক, এটা আমরা সব সময় চাই।’

পাহাড়ের সংগঠনগুলো যা বলছে

পার্বত্য চুক্তির যতদিন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হবে, ততদিন শান্তি ফিরবে না বলে মনে করছে পাহাড়ের নাগরিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনরত সংগঠনের কর্মীরা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল বলেন, ‘আমরা চাই সরকার অবিলম্বে চুক্তির মৌলিক বিষয়সহ লিখিতভাবে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করুক।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, ‘চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো আইন-শৃঙ্খলা, ভূমি সমস্যার সমাধান, আঞ্চলিক পরিষদ আইন সংশোধন ও বিধিমালা তৈরি, ভারত প্রত্যাগত ৮৩ হাজার অভ্যন্তরীণ পাহাড়ি শরণার্থীর পুনর্বাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্যাঞ্চল শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ফসল। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য মঙ্গল ও শান্তি বয়ে আনবে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার আন্দোলন ও সংরক্ষণ কমিটির জেলা সমন্বয়ক জোয়াম লিয়ান আমলাই বলেন, ‘পার্বত্য চুক্তির যতদিন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হবে, ততদিন শান্তি তিমিরেই থাকবে।’

যা বলছেন সরকারদলীয় নেতারা

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু বলেন, শেখ হাসিনার সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তিন পার্বত্য জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো বেশি ক্ষমতায়িত করেছে।

শরণার্থীবিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন, কিছু সমস্যা থাকলেও চুক্তির অধিকাংশ ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে।

রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেন, ‘এখানকার মানুষের মধ্যে সমঝোতা, আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং চুক্তির পক্ষে সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে একটি পরিবেশ সৃষ্টি প্রধান শর্ত। শান্তিপূর্ণভাবে চুক্তি বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

আরও পড়ুন:
দুবলার চরে আর হবে না রাসমেলা
কলকাতা বইমেলায় এবার থিম কান্ট্রি বাংলাদেশ
রংপুরে কর মেলায় ৮৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা
বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানার উদ্বোধন
এ বছরও আয়কর মেলা হচ্ছে না

শেয়ার করুন

চকবাজারে বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

চকবাজারে বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

চন্দনপুরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্কুর ম্যানশন ভবনের ৩য় তলার ফ্ল্যাটে আগুনের সূত্রপাত। আমরা বিকেল সাড়ে তিনটার পরে ঘটনাস্থলে যাই। দুটি ইউনিট ১০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই ফ্ল্যাটে ১৩ বছরের এক শিশু আটকা পড়েছিল।’

চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকায় চারতলা ভবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।

ডিসি রোডের শুক্কুর ম্যানশন ভবনে লাগা আগুন বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার পরে নিয়ন্ত্রণে আসে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চন্দনপুরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র অফিসার শহিদুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্কুর ম্যানশন ভবনের ৩য় তলার ফ্ল্যাটে আগুনের সূত্রপাত। আমরা বিকেল সাড়ে তিনটার পরে ঘটনাস্থলে যাই। দুটি ইউনিট ১০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই ফ্ল্যাটে ১৩ বছরের এক শিশু আটকা পড়েছিল। তাকে আমরা উদ্ধার করেছি। সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তবে নিরাপদে আছে।’

আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত না করে বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
দুবলার চরে আর হবে না রাসমেলা
কলকাতা বইমেলায় এবার থিম কান্ট্রি বাংলাদেশ
রংপুরে কর মেলায় ৮৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা
বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানার উদ্বোধন
এ বছরও আয়কর মেলা হচ্ছে না

শেয়ার করুন