‘মাদক চোরাকারবারির বাড়ি’ সাইনবোর্ড নিয়ে সমালোচনা

‘মাদক চোরাকারবারির বাড়ি’ সাইনবোর্ড নিয়ে সমালোচনা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে মাধবপুর সীমান্ত পর্যন্ত অন্তত দেড় শ বাড়ির আশপাশে এমন সাইনবোর্ড বসিয়েছে বিজিবি। ছবি: নিউজবাংলা

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘একজনের অপরাধের শাস্তি পুরো পরিবারকে দেয়া যাবে না। এই অপমান ওই পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে। আর একজনের অপরাধের শাস্তি যদি পুরো পরিবার পায়, তাহলে সমাজ এবং রাষ্ট্রকে এর দায় নিতে হবে।’

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের হবিগঞ্জ অংশে ‘মাদক কারবারি’ ও ‘চোরাকারবারিদের বাড়ি’ চিহ্নিত করে লাল সাইনবোর্ড বসিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এমন উদ্যোগে মাদক ও চোরাচালান কমবে বলে মনে করছে বিজিবি। তবে আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, এর কোনো আইনি বৈধতা নেই। এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন।

বিজিবি বলছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত রয়েছে কয়েকটি চক্র। নানা কৌশলে তারা এই অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। বিভিন্ন সময় চক্রের সদস্যদের আটক করে মামলা দিলেও কারাগার থেকে বেরিয়ে ফের তারা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।

দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বলছে, বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেও মাদক এবং চোরাচালান বন্ধ করা যায়নি। এ অবস্থায় অপরাধে জড়িতদের চিহ্নিত করতে বাড়ির সামনে সাইনবোর্ড বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়।

বাহিনীটির হিসাবে, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে মাধবপুর সীমান্ত পর্যন্ত অন্তত দেড় শ বাড়ির আশপাশে এমন সাইনবোর্ড বসানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোনো বাড়ির সামনে ‘এটি মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি’ আবার কোনোটিতে ‘এটি চোরাকারবারির বাড়ি’ লেখা সাইনবোর্ড রয়েছে। লাল রঙের সাইনবোর্ডের ওপর সাদা অক্ষরগুলো দূর থেকেই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। সম্প্রতি এমন কিছু ছবি ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে।

বিজিবি ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এস এন এম সামীউন্নবী চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে চুনারুঘাট হয়ে মাধবপুর সীমান্ত পর্যন্ত আমার অধীনে। এই জায়গাগুলোতে অন্তত দেড় শ বাড়িতে এমন সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা আছে তাদের বাড়িতেই মূলত সাইনবোর্ডগুলো লাগানো হয়েছে। পুলিশের মামলাকে আমরা কাউন্ট (হিসাব) করিনি।’

তিনি বলেন, ‘অনেক চেষ্টার পরেও তাদের অপরাধজগৎ থেকে বের করা যাচ্ছে না। তাই সামাজিকভাবে চাপের মুখে থাকলে অপরাধমূলক কাজ ছেড়ে দিতে পারে, এই চিন্তা থেকেই সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বা তারা এ কারবার থেকে সরে এলে সাইনবোর্ডগুলো খুলে নেয়া হবে।’

সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব সমালোচনায় আমি কান দিই না। আমি আইন শক্ত করেই এই কাজে নেমেছি। সুতরাং সমালোচনায় কিছু আসে যায় না।’

একজনের জন্য পুরো পরিবার কেন চিহ্নিত হবে, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরিবারের ওই সদস্য কেন মাদক বা চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত? এর দায় পুরো পরিবারের ওপর পড়ে।’

এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হাফিজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা মাদক কারবারির বাড়ি, চোরাকারবারির বাড়ি, ডাকাতের বাড়ি এভাবে চিহ্নিত করে সাইনবোর্ড লাগানোর বৈধতা নেই। অপরাধ কর্মকাণ্ডের স্থানগুলো চিহ্নিত করতে পারে। এভাবে বাড়িঘর চিহ্নিত করা এককথায় আইনের ব্যত্যয়। এটা করতে হলে সংসদে আইন পাস করতে হবে।’

‘মাদক চোরাকারবারির বাড়ি’ সাইনবোর্ড নিয়ে সমালোচনা


তিনি বলেন, ‘একজনের অপরাধের শাস্তি পুরো পরিবারকে দেয়া যাবে না। এই অপমান ওই পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে। আর একজনের অপরাধের শাস্তি যদি পুরো পরিবার পায়, তাহলে সমাজ এবং রাষ্ট্রকে এর দায় নিতে হবে।’

তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘সীমান্তে চোরাকারবারি ঠেকাতে না পারার ব্যর্থতার দায় কী বিজিবির নেই?’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন বলেন, ‘বিজিবি যেটা করছে সেটা একেবারেই ঠিক করেনি। একজনের জন্য পুরো পরিবারকে এভাবে চিহ্নিত করা যাবে না। এই পরিবারগুলোতে শিশুরা থাকতে পারে, বিবাহ উপযুক্ত তরুণ-তরুণী থাকতে পারে। তারা হয়তো মাদক ও চোরাকারবারির বিরোধিতা করছে। তাদের এখন ভালো জায়গায় বিয়ে হবে না। এমনকি মানুষ তাদের খারাপ চোখে দেখবে, এড়িয়ে চলবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে আইন আছে। প্রচলিত আইনে মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের বিচার হবে। আমি মনে করি, এটা বিচারের আগে আরেকটি বিচার হয়ে গেল।’

সিলেটের মানবাধিকারকর্মী ও নর্থ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিন এমাদউল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আদালত থেকে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে কাউকেই মাদক কারবারি বা চোরকারবারি বলা যাবে না। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে নিবারণমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আইনে রয়েছে, থানায় যেমন অপরাধীদের ছবি টাঙানো থাকে। তবে কোনো অবস্থাতেই একজনের অপরাধের জন্য পুরো পরিবারকে হেনস্তা বা হেয় করা যাবে না। এমনটি করা হলে অপরাধীকে চিহ্নিত করার নামে আসলে আরেকটি অপরাধই করা হয়।’

সিলেটের নাগরিক সংগঠক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘এটা ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন। মাদক কারবারি হোক, চোরাকারবারি হোক আর ডাকাত হোক, কারও বাড়িকে এভাবে চিহ্নিত করে সমাজের কাছে আজীবনের জন্য দণ্ডিত করা কোনো বিচারেই ন্যায়সংগত নয়। এভাবে একজনের অপরাধের জন্য বাড়ির সবাইকে হেয় করাটাও অপরাধ।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তারা যেমন অপরাধী, তেমনি তাদের বাড়ির সামনে এই ধরনের সাইনবোর্ড বসিয়ে বিজিবিও অপরাধ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীকে ধরবে এবং আইনের মধ্যে থেকে বিচারের মুখোমুখি করবে। কিন্তু এ কারণে অপরাধীর পরিবারের অন্য সদস্যকে হয়রানি বা এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যার ফলে সমাজ তাদের অন্যভাবে দেখে।

তিনি আরও জানান, আদালতে প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত কেউ অপরাধী হয় না।

এ বিষয়ে বিজিবির অপারেশন শাখার পরিচালক লেফেটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে তার বাসায় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়ার কার্যক্রম সামনেও চলবে। তবে কেউ যেন অন্যায়ভাবে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন না হয়, সেজন্য আমরা আরও একটু বেশি সতর্ক থাকছি। মাদকসেবী আর মাদককারবারি এক বিষয় নয়।

‘মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে সমন্বিতভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই কাজ করছে। অন্যসব বাহিনীর মতো আমরাও মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণ করতে এই কাজ করছি। এটি কোনো আইনের প্রয়োগ নয় বরং আমরা এই প্রক্রিয়ায় সমাজে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করতে চাচ্ছি।’

এই কার্যক্রমে পুরো পরিবার বা নিরীহ কেউ সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি মাদক কারবার করছে এবং তার পরিবার জানার পরও তাকে সেপথ থেকে ফিরিয়ে না এনে সায় দিয়ে যাচ্ছে সেই পরিবারও তো সমানভাবে অপরাধী। এমন হলে তার পরিবারকে দায় নিতে হবে। আমরা অনুসন্ধান করে যেসব মাদক কারবারিদের পেছনে পরিবারের মদদ আছে, সেসব বাড়িতে সাইনবোর্ড লাগাচ্ছি।

‘মানবাধিকারকর্মীরা বিষয়কে তাদের দৃষ্টিতে একভাবে দেখলেও অপরাধ দমনে আমাদের কিছু স্টেপতো নিতে হবেই, তারমানে এই না যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মানবাধিকারের জায়গাটা রক্ষা করে না। এটা পুরোপুরি জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম। যেখানে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয় জনগণও অংশ নিচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
টেকনাফে বিজিবির গুলিতে প্রাণহানি
তক্ষক পাচারের সময় আটক ৬
শার্শার সীমান্ত থেকে অস্ত্র-গুলি জব্দ
দুই মহানগরসহ ৩৫ জেলায় বিজিবি
২২ জেলায় বিজিবি, প্রয়োজনে সারা দেশে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের মৃৎশিল্প

হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের মৃৎশিল্প

মৃৎশিল্প এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। যারা এখনও এ পেশায় আছেন তারাও দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার অলকা রানি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক যুগ আগেও এই উপজেলায় অনেক মৃৎশিল্পী ছিল। ধীরে ধীরে মাটির তৈজসপত্রের কদর কমে যাওয়ায় তারা এ পেশা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। শুধু আমাদের পরিবারটি এখনও টিকে আছে।’

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের খালবলা গ্রামের অলকা রানি। বংশ পরম্পরায় মাটির তৈজসপত্র বানানোর কাজ করেন তিনি৷

তার স্বামী কুমার স্বপন চন্দ্র পালসহ পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন নারী এ কাজ করেই সংসার চালান। তবে কয়েক বছর ধরে মৃৎশিল্পের কাজ করে তিন বেলা খাবার জোগাতে পারছেন না তারা।

মাটির তৈজসপত্রের বাজার এখন অনেকটাই দখলে কাঁচ, মেলামাইন, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল ও সিরামিকের সামগ্রীতে। টেকসই, দাম কম ও সহজলভ্য হওয়ায় ক্রেতারা মাটির তৈজসপণ্যের বদলে ওই পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।

এতে মৃৎশিল্প এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। যারা এখনও এ পেশায় আছেন তারাও দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

মাটি দিয়ে তৈজসপত্র বানানোর সময় কথা হয় অলকা রানির সঙ্গে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক যুগ আগেও এই উপজেলায় অনেক মৃৎশিল্পী ছিল। ধীরে ধীরে মাটির তৈজসপত্রের কদর কমে যাওয়ায় তারা এ পেশা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। শুধু আমাদের পরিবারটি এখনও টিকে আছে।’

হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের মৃৎশিল্প

তিনি আরও বলেন, ‘এক সময় আমাদের তৈরি মাটির তৈজসপত্র কিনতে বাড়িতে ভিড় জমাত লোকজন। কোথাও মেলা হলে এসব তৈজসপত্র বাড়ি থেকে কিনে বিক্রি করা হতো। ক্রেতারাও স্বাচ্ছন্দ্যে এসব মাটির জিনিস কিনে ব্যবহার করতেন।

‘তবে বর্তমানে মাটির জিনিস কেনার ক্রেতা নেই বললেই চলে। তাই আমরাও এ পেশা ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছি।’

কুমার স্বপন চন্দ্র পাল বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় হাঁড়ি-পাতিল, ডাবর-মটকি থেকে শুরু করে মাটির ব্যাংক, শো-পিস, গয়না, কলস, ফুলের টব, ফুলদানি, ঢাকনা, পিঠা তৈরির ছাঁচ এবং নানা রকম খেলনা তৈরি করছি নিয়মিত।

‘শহরবাসীর দালান-কোঠা সাজাতে মাটির তৈরি নানা পট-পটারি, ফুলদানি ও বাহারি মাটির হাঁড়ির কদর রয়েছে এখনও। সেগুলো বিক্রি করে কোনো রকমে খেয়ে পড়ে বেঁচে আছি। এগুলোতেও প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার হলে অন্য পেশায় শ্রমিক হিসেবে যোগ দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিবার বংশপরম্পরায় মাটির তৈজসপত্র তৈরি করছে। আগ্রহ আর মাটির তৈরি তৈজসপত্র ব্যবহারের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতেই অন্য পেশায় যাইনি।

‘তবে আমাদের ছেলেমেয়েরা এ কাজে আগ্রহী না। তারা পড়াশোনা করে ভালো চাকরি করতে ইচ্ছুক। এতে বোঝা যায়, মাটির তৈজসপত্র বানানো ধীরে ধীরে এক দিন বন্ধ হয়ে যাবে।’

আঠারোবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবের আলম রূপক বলেন, ‘প্লাস্টিক পণ্যের ওপর মজেছে মানুষ। ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টি ক্রমশই কমে যাচ্ছে। একটা সময় মাটির তৈরি বাসন ছাড়া বাঙালি পরিবারগুলোর দিন চলত না।

‘মেজবান অনুষ্ঠানেও খাবার পরিবেশন হতো মাটির তৈরি বাসনে। এখন আর এমন চাহিদা না থাকায় এই মৃৎশিল্পটি হারিয়ে যেতে বসেছে।’

হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের মৃৎশিল্প

তিনি আরও বলেন, ‘ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার শুধু আমাদের ইউনিয়নেই মাটির তৈজসপত্র বানানো হয়। আগে এই পেশার সঙ্গে অনেকে জড়িত থাকলেও এখন কয়েকজন জড়িত। এ পেশার সঙ্গে জড়িতদের যথাসম্ভব সহযোগিতা করব৷ তবে উপজেলা প্রশাসনেরও উচিত মৃৎশিল্পীদের আর্থিক সহায়তা করা।’

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজা জেসমিন বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও লোকজন কাঁধে করে মাটির তৈরি তৈজসপত্র বিক্রি করতেন। এখন আর সচরাচর তা চোখে পড়ে না।

‘মাটির তৈরি তৈজসপত্রের সঙ্গে বাঙালির ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। এই শিল্পটা বাঁচিয়ে রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
টেকনাফে বিজিবির গুলিতে প্রাণহানি
তক্ষক পাচারের সময় আটক ৬
শার্শার সীমান্ত থেকে অস্ত্র-গুলি জব্দ
দুই মহানগরসহ ৩৫ জেলায় বিজিবি
২২ জেলায় বিজিবি, প্রয়োজনে সারা দেশে

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল

২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর হাসপাতালটিকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করতে আরও ১ শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়। ২০১৯ সালের মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণ কার্যক্রমই শুরু হয়নি। চালু হয়নি শিশু হাসপাতালের কার্যক্রমও। কাজ না হওয়ায় বরাদ্দ করা ১ শ কোটি টাকা ফেরত যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি সিলেট সফরে এসে ১ শ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। এরপর হাসপাতালটি ২০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য ১ শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে প্রায় সাত বছর হতে চললেও এখনও এই শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফেরত গেছে বরাদ্দের টাকাও।

স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় ও লোকবল সংকটে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। আর গণপূর্ত বিভাগ ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীতায় ২ শ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজও শুরু হয়নি।

গত বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে এখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসা চলছে। এ কারণেও এই হাসপাতালকে শিশু হাসপাতালে উন্নীত করা যায়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকার সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে একশ’ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এরপর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই টাকায় অবকাঠামোগত কিছু সংস্কার করে গণপূর্ত বিভাগ।

২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর হাসপাতালটিকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করতে আরও ১ শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়। ২০১৯ সালের মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণ কার্যক্রমই শুরু হয়নি। চালু হয়নি শিশু হাসপাতালের কার্যক্রমও। কাজ না হওয়ায় বরাদ্দ করা ১ শ কোটি টাকা ফেরত যায়।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘২০০ শয্যার মা ও শিশু হাসপাতালের ডিজাইন রেডি ছিল, অর্থ বরাদ্দও ছিল। সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। এর জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

‘সিলেটের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী টাকা দিচ্ছেন। কিন্তু এই টাকার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। এটা খুবই দুঃখজনক।’

জানা যায়, ১৯৭৮ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (বর্তমান ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) চৌহাট্টা থেকে কাজলশাহ এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। ১৯৭৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৩ বছর অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে পুরনো হাসপাতালের স্থাপনা। ১৯৯২ সালে এটি সিলেট সদর হাসপাতাল হিসেবে পুনর্জন্ম লাভ করে। পরবর্তীতে ১৯৯২ সাল থেকে এটি একশ’ শয্যাবিশিষ্ট ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতাল ছিল। ১৯৯৮ সালে সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল নামকরণ করা হয়।

তবে তাড়াহুড়ো করে লোকবল ও যন্ত্রপাতি সঙ্কট নিয়ে চালু হয় শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল। একশ’ শয্যার হাসপাতালটিতে ৩০ শয্যার লোকবলও নেই। আনুষঙ্গিক অন্যান্য সুবিধাও অনুপস্থিত। জরুরি বিভাগ থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় শুরু থেকেই তা বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল হিসেবে চালু করতে পদ সৃষ্টি করে জনবল নিয়োগের জন্য ২০১৫-১৬ সালে চার দফা চিঠি পাঠানো হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। তবে এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এর মধ্যে গত বছরের মার্চ থেকে ‘করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল’ ঘোষণা করে সিলেট বিভাগের মধ্যে একমাত্র এই হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা শুরু হয়।

বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু না হওয়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেও বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনিক অনুমতি হয়নি। ফলে লোকবলও নিয়োগ হয়নি।

‘কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হাসপাতাল হয় না। হাসপাতালের জন্য লোকবল, যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন হয়। এসব না থাকায় বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা যায়নি।’

২০০ শয্যায় উন্নীত করতে বরাদ্দ অর্থ ফেরত যাওয়া প্রসঙ্গে ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘অর্থ বরাদ্দ হলেও কাজটি গণপূর্ত বিভাগ না স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ করবে তা নিয়ে ঝামেলা দেখা দেয়। শেষ সময়ে এসে সিদ্ধান্ত হয় গণপূর্ত বিভাগ কাজটি করবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তারা কাজের নকশা জমা দিতে পারেনি।

‘বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর জন্য আমি আরেকটি প্রস্তাব তৈরি করেছি। দ্রুতই তা মন্তণালয়ে পাঠাবো। করোনার কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে কাগজে-কলমে হাসপাতালটি একশ’ শয্যার হলেও জনবল নেই ৩০ শয্যা হাসপাতালেরও। করোনার সংক্রমণ বাড়ার পর ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিৎিসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়ে এসে চালানো হয় এই হাসপাতালের কার্যক্রম।

এ ব্যাপারে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের অধীক্ষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার বলেন, ‘বর্তমানে এখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসা চলছে। লোকবল সঙ্কট রয়েছে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। আর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করাটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিষয়। এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।’

আরও পড়ুন:
টেকনাফে বিজিবির গুলিতে প্রাণহানি
তক্ষক পাচারের সময় আটক ৬
শার্শার সীমান্ত থেকে অস্ত্র-গুলি জব্দ
দুই মহানগরসহ ৩৫ জেলায় বিজিবি
২২ জেলায় বিজিবি, প্রয়োজনে সারা দেশে

শেয়ার করুন

আগুনে পুড়ল বস্তির ২০০ ঘর

আগুনে পুড়ল বস্তির ২০০ ঘর

শনিবার ভোরের দিকে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিটের চেষ্টায় সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ইকবাল হাসান। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা এখন ডাম্পিংয়ের কাজ করছি।’

গাজীপুরের টঙ্গী বাজারের পার্শ্ববর্তী একটি বস্তিতে আগুনে দুই শতাধিক ঘর পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর চলছে ডাম্পিংয়ের কাজ।

শনিবার ভোরের দিকে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিটের চেষ্টায় সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ইকবাল হাসান। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা এখন ডাম্পিংয়ের কাজ করছি।’

প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, বস্তিটিতে ৪০০টির মতো ঘর। এর মধ্যে ২০০-এর বেশি ঘর পুড়ে গেছে।

বিস্তারিত আসছে...

আরও পড়ুন:
টেকনাফে বিজিবির গুলিতে প্রাণহানি
তক্ষক পাচারের সময় আটক ৬
শার্শার সীমান্ত থেকে অস্ত্র-গুলি জব্দ
দুই মহানগরসহ ৩৫ জেলায় বিজিবি
২২ জেলায় বিজিবি, প্রয়োজনে সারা দেশে

শেয়ার করুন

৩ দিন আগে ‘সন্ত্রাসীদের তালিকা দিয়েছিলেন’ কাউন্সিলর সোহেল

৩ দিন আগে ‘সন্ত্রাসীদের তালিকা দিয়েছিলেন’ কাউন্সিলর সোহেল

কাউন্সিলর সোহেল

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের দিন তিনেক আগে কাউন্সিলর সোহেল কম্পিউটারে টাইপ করে সন্ত্রাসীদের মোবাইল নম্বর ও নাম এবং তাদের কার বিরুদ্ধে কী মামলা রয়েছে তা লিখে একটি তালিকা করে আমাকে দিয়েছিল। বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করতেও বলেছিল সে। সোহেল শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিল যে তালিকায় নাম থাকা সন্ত্রাসীরা যে কোনো মুহূর্তে তার ক্ষতি করতে পারে।’

কুমিল্লায় সোমবার নিজ কার্যালয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন কাউন্সিলর সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহা। এ সময় আরো চারজন গুলিবিদ্ধ হন।

তবে কাউন্সিলর সোহেল আগে থেকেই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের তা জানিয়েছিলেনও। এমনকি মোবাইল নম্বরসহ সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের তালিকা করে তা এক নেতাকে দিয়েছিলেন তিনি। এমন দাবি করেছেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত।

তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের দিন তিনেক আগে কাউন্সিলর সোহেল কম্পিউটারে টাইপ করে সন্ত্রাসীদের মোবাইল নম্বর ও নাম এবং তাদের কার বিরুদ্ধে কী মামলা রয়েছে তা লিখে একটি তালিকা করে আমাকে দিয়েছিল। বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করতেও বলেছিল সে। সোহেল শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিল যে তালিকায় নাম থাকা সন্ত্রাসীরা যে কোনো মুহূর্তে তার ক্ষতি করতে পারে।’

তালিকা পাওয়ার পর কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কীনা-এমন প্রশ্নে আরফানুল হক রিফাত বলেন, ‘আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। তবে এতো দ্রুত এমন কিছু ঘটে যাবে তা স্বপ্নেও চিন্তা করিনি। আমরা এই ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টিন্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

মাসুমের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

কাউন্সিলর সোহেলসহ জোড়া খুনের ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি মাসুমের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। শুক্রবার এই আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক কায়সার হামিদ।

তিনি জানান, শুক্রবার বিকেল ৪টায় ৮ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শামসুর রহমান আমাদের আবেদন গ্রহণ করেন। শনিবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করবে আদালত।

পরে আসামি মাসুমকে কারাগারে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাসুমকে জেলার চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তার করে।

আরও পড়ুন:
টেকনাফে বিজিবির গুলিতে প্রাণহানি
তক্ষক পাচারের সময় আটক ৬
শার্শার সীমান্ত থেকে অস্ত্র-গুলি জব্দ
দুই মহানগরসহ ৩৫ জেলায় বিজিবি
২২ জেলায় বিজিবি, প্রয়োজনে সারা দেশে

শেয়ার করুন

আ.লীগের ১৬ বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার

আ.লীগের ১৬ বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার

বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার বলেন, ‘সরাইলের নয় ইউনিয়নে অনেকেই বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন। এরপর একাধিকবার দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেনি। তাই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে মর্মে গঠনতন্ত্রের ৪৭ ধারা মোতাবেক তাদের প্রত্যেককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ১৬ আওয়ামী লীগ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার।

বহিষ্কৃত নেতারা হলেন সরাইল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে চশমা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল জব্বার ও আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী ইউনুছ মিয়া, পানিশ্বর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোটর সাইকেল প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান এবং শাহজাদাপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী আঙ্গুর মিয়া ও মোটর সাইকেল প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকন।

এছাড়া শাহবাজপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ রানা রুবেল ও অটোরিকশা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী রাজী আহমেদ রাজ্জি, নোয়াগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী আফতাব মিয়া, টেলিফোন প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী এমরান মিয়া, অটোরিকশা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী কাজল চৌধুরী এবং ঘোড়া প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী সাইমন মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে আরও রয়েছেন পাকশিমুল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ঘোড়া প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী আলফু মিয়া, চশমা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল্লাহ্ মিয়া, দুটি পাতা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী কুতুবুল আলম ও অটোরিকশা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কাসেম। এছাড়া চুন্টা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ুন কবিরকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

এরা সবাই নিজ নিজ ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার বলেন, ‘সরাইলের নয় ইউনিয়নে অনেকেই বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন। এরপর একাধিকবার দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেনি। তাই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে মর্মে গঠনতন্ত্রের ৪৭ ধারা মোতাবেক তাদের প্রত্যেককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

রোববার সরাইলের নয়টি ইউনিয়নে ভোট নেয়া হবে। এর মধ্যে উপজেলার সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে চার জন, নোয়াগাঁও নয় জন, কালিকচ্ছ নয় জন, চুন্টা পাঁচ জন, উ: পানিশ্বরে ১০ জন, শাহবাজপুর আট জন, শাহজাদাপুরে পাঁচ জন, পাকশিমুল ইউনিয়নে ১৩ জন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

আরও পড়ুন:
টেকনাফে বিজিবির গুলিতে প্রাণহানি
তক্ষক পাচারের সময় আটক ৬
শার্শার সীমান্ত থেকে অস্ত্র-গুলি জব্দ
দুই মহানগরসহ ৩৫ জেলায় বিজিবি
২২ জেলায় বিজিবি, প্রয়োজনে সারা দেশে

শেয়ার করুন

ডিমলার সাত ইউনিয়নে ৪০৩ মনোনয়নপত্র জমা

ডিমলার সাত ইউনিয়নে ৪০৩ মনোনয়নপত্র জমা

প্রতীকী ছবি

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২৯ নভেম্বর। ৬ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৭ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সাত ইউনিয়ন পরিষদে ৪০৩জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনের হিসাব অনুযায়ী এই তথ্য জানিয়েছে উপজেলা নির্বাচন দপ্তর। এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৬ ডিসেম্বর।

মনোনয়নপত্র দাখিল করা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪১, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড সদস্য পদে ৯৬ ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ২৬৬জন রয়েছেন।

নির্বাচন অফিস সূত্রমতে, ডিমলা সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড সদস্য পদে ১৬ ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৪৫জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এ ছাড়া পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড সদস্য পদে ১৩ ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ২৭; পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৮ ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ২৭; বালাপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৩ ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৪৫; খালিশা চাপানি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৬, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৮ ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৩৭; ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৯, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৭ ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৭ এবং নাউতারা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৮, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১১ ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৩৮জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ সাত ইউনিয়নে, বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি দুই ইউনিয়নে ও ইসলামী আন্দোলন একটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহাবুবা আকতার বানু জানান, ২৬ ডিসেম্বর এই সাত ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২৯ নভেম্বর। ৬ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৭ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
টেকনাফে বিজিবির গুলিতে প্রাণহানি
তক্ষক পাচারের সময় আটক ৬
শার্শার সীমান্ত থেকে অস্ত্র-গুলি জব্দ
দুই মহানগরসহ ৩৫ জেলায় বিজিবি
২২ জেলায় বিজিবি, প্রয়োজনে সারা দেশে

শেয়ার করুন

ষড়যন্ত্র করে নৌকার প্রার্থী বদলের অভিযোগ

ষড়যন্ত্র করে নৌকার প্রার্থী বদলের অভিযোগ

নৌকার প্রার্থী বদলের অভিযোগে শুক্রবার নোয়াখালীর কবিরহাটে মানববন্ধন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

অভিযোগ উঠেছে, নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউপিতে নৌকার মনোনয়ন পান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন। পরে তার পরিবর্তে মনোনয়ন দেয়া হয় কামাল খান নামের একজনকে।

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে নৌকার প্রার্থী বদলের অভিযোগ উঠেছে।

ধানসিঁড়ি ইউপিতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন। পরে তার পরিবর্তে মনোনয়ন দেয়া হয় কামাল খান নামের এক ব্যবসায়ীকে। এমনটা অভিযোগ করে প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।

শুক্রবার দুপুরে ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নিমতলী বাজারে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়।

এ সময় বক্তব্য দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল, ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক সাহাব উদ্দিন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আবুল কাশেম দুলাল, জেবল হক, নুরেজ্জামান, আবুল কালাম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন বোর্ড গত ২৩ নভেম্বর ধানসিঁড়ি ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মো. কামাল উদ্দিনকে মনোনয়ন দিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করে। অথচ ২৪ নভেম্বর দলীয় মনোনয়নের চিঠিতে ব্যবসায়ী কামাল খানের নাম আসে।

তারা বলেন, ওই চিঠিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নাম ও সিলে একাধিক ভুল রয়েছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কামাল উদ্দিনের পরিবর্তে কামাল খানকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছে। বিষয়টি হয়তো জননেত্রী শেখ হাসিনা অবগত নন।

মানববন্ধন থেকে কামাল খানকে বাদ দিয়ে কামাল উদ্দিনকে নৌকা প্রতীক দেয়ার দাবি জানানো হয়।

আরও পড়ুন:
টেকনাফে বিজিবির গুলিতে প্রাণহানি
তক্ষক পাচারের সময় আটক ৬
শার্শার সীমান্ত থেকে অস্ত্র-গুলি জব্দ
দুই মহানগরসহ ৩৫ জেলায় বিজিবি
২২ জেলায় বিজিবি, প্রয়োজনে সারা দেশে

শেয়ার করুন