৫৬ বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

৫৬ বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নানা রঙে সেজেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদ মিনার থেকে আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কার্যক্রম। জারুলতলায় হবে আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ।

পাহাড়ঘেরা চির সবুজ ক্যাম্পাসের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর যাত্রা শুরুর পর ৫৬ বছরে পা রাখল দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়টি। এই দীর্ঘ সময়ে নানা অর্জন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে অবদানের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে ‘শাটল ট্রেনের’ ক্যাম্পাসটি।

দিবসটি উদযাপনের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সেজেছে বর্ণিল সাজে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনাগুলোতে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। সাবেক ও বর্তমানদের নিয়ে উদযাপনে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দিবসের কার্যক্রম। জারুলতলায় হবে আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ।

বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেক কাটার পর সাড়ে ১১টায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহীবুল আজিজ। দুপুর ১২টায় আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণা এবং বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠটি অবস্থিত চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পাহাড়ি ও সমতল ভূমির ওপর। ২ হাজার ১০০ একরের ক্যাম্পাসটি আয়তনে দেশের সর্ববৃহৎ। দেশের চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও একটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৬৬ সালে বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি ও ইতিহাস বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে ৫২টি বিভাগ, ৬টি ইনস্টিটিউট, ৫টি গবেষণা কেন্দ্র, ১৩টি হল, ৯২০ জন শিক্ষক এবং প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চলছে এখানে।

৫৬ বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

দেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিচিত আরেকটি কারণে, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চলাচল করা শাটল ট্রেন। শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ১৯৮০ সালে চালু হয় শাটল ট্রেন। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ১০ থেকে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী এতে যাওয়া-আসা করেন।

মুক্তিযুদ্ধেও অসামান্য অবদান রেখেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, স্বাধীনতার সংগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনেও ছিল তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে শহীদ হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ শিক্ষার্থী, একজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তরের কর্মচারী মোহাম্মদ হোসেনকে বীরপ্রতীক খেতাব দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে স্থাপিত স্মরণ স্মৃতিস্তম্ভে রয়েছে সাত মুক্তিযোদ্ধার ছবি ও পরিচয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারগুলোর মধ্যে একটি। এখানে রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বিরল বই, জার্নাল, অডিও-ভিজ্যুয়াল উপাদান, পাণ্ডুলিপি এবং অন্ধদের জন্য ব্রেইল।

৫৬ বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

দেশে একমাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে তিনটি জাদুঘর। ১৯৭৩ সালে মধ্যযুগের চারটি কামান নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের কার্যক্রম শুরু হয়। এখানে রয়েছে প্রাগৈতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গ্যালারি, ভাস্কর্য গ্যালারি, ইসলামিক আর্ট গ্যালারি, লোকশিল্প গ্যালারি এবং সমসাময়িক আর্ট গ্যালারি।

এ ছাড়া রয়েছে প্রাণিবিদ্যা জাদুঘর ও সমুদ্র সম্পদ জাদুঘর। তার মধ্যে প্রাণিবিদ্যা জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে প্রায় ৫৪০টি নমুনা।

আর হাঙ্গর থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক মাছ, আজব বাণাকেল, অক্টোপাস, শামুক, বিভিন্ন প্রজাতির সাপসহ অসংখ্য বিস্ময়কর জীববৈচিত্র্য নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে চবির সমুদ্রবিজ্ঞান জাদুঘর।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক দিয়েও অনন্য। এখানে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে বোটানিক্যাল গার্ডেন, হেলিপ্যাড, কলা অনুষদের পেছনের ঝরনা, ঝুলন্ত সেতু, চালন্দা গিরিপথ, জীববিজ্ঞান অনুষদ পুকুর, প্যাগোডা, স্লুইচ গেট, ভিসি হিল, টেলিটক হিল, হতাশার মোড়, দোলা সরণি, ফরেস্ট্রি ও বিশাল সেন্ট্রাল ফিল্ড।

৫৬ বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

জীববৈচিত্র‍্যের মধ্যে রয়েছে মায়া হরিণ, শজারু, নানা রঙের পাখি, বিভিন্ন প্রজাতির সাপসহ নানা প্রাণী।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান বলেন, ‘আমরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছি ত্রুটিহীনভাবে অনুষ্ঠান যেন সম্পন্ন করতে পারি। তারপরও কিছু মানবিক ভুলত্রুটি যদি থাকেও আমাদের আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা অনেক ওপরে উঠাতে চাই, এটা আমাদের স্বপ্ন ও পরিকল্পনার অংশ। সেটার জন্য সবার সহযোগিতা, সময় ও অনুকূল পরিবেশের দরকার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে প্রত্যাশা, সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

আরও পড়ুন:
সাপের কামড়ে হাসপাতালে চবি ছাত্র
হলের রুম পরিষ্কারের সময় কর্মচারীকে সাপের কামড়
চবির ডি ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাস ২৮ শতাংশ
চবির ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশে দেরি, অনিয়মের আশঙ্কা
চবি ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৩৪ শতাংশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনার নতুন ধাক্কা এলে বন্ধ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী

করোনার নতুন ধাক্কা এলে বন্ধ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী

করোনাভাইরাসের নতুন ঢেউ আসলে ফের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হতে পারে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে এই করোনাভাইরাস কিন্তু এখনই শেষ হয়ে যায়নি। আমরা ভ্যাকসিন দিচ্ছি, এখন শিক্ষার্থীদের দিচ্ছি। এখন আবার নতুন আরেকটি ওয়েব আসছে। কাজেই এটা মাথায় রেখে যেকোনো সময় এটা যদি বিস্তার লাভ করে তাহলে আবার কিন্তু স্কুলসহ সবকিছু বন্ধ হয়ে যাবে।’

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বেড়ে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফের বন্ধ করা লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিষয়টি মাথায় রেখে সময়কে সঠিক ব্যবহার এবং ক্লাসে মনোযোগী হতে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে বুধবার সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল উদ্বোধন এবং ধানমন্ডিতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য জয়িতা টাওয়ারের ভিত্তি স্থাপন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

কোভিড-১৯-এর নতুন ধরন ওমিক্রন সারা বিশ্বে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আফ্রিকায় শুরু হওয়া কোভিড-১৯-এর সর্বশেষ এই ভ্যারিয়েন্টকে সবচেয়ে মারাত্মক হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞানীরা। বাংলাদেশে ‘ওমিক্রন’ ঠেকাতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের রাস্তায় বাস ভাঙচুর না করে ক্লাসে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে এই করোনাভাইরাস, কিন্তু এখনই শেষ হয়ে যায়নি। আমরা ভ্যাকসিন দিচ্ছি, এখন শিক্ষার্থীদের দিচ্ছি। এখন আবার নতুন আরেকটা ওয়েব আসছে। কাজেই এটা মাথায় রেখে যেকোনো সময় এটা যদি বিস্তার লাভ করে তাহলে আবার কিন্তু স্কুল-সব বন্ধ হয়ে যাবে।’

তাই সময়ের সদ্ব্যবহার করতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান সরকারপ্রধানের। তিনি বলেন, ‘যেটুকু সময় পাওয়া যাচ্ছে সবাইকে অন্তত যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আমি আরেকটা কথা বলব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন করোনার জন্য বন্ধ ছিল।… এখন সব স্কুল-কলেজ খুলে গেছে। সবাইকে এখন পড়াশোনা করতে হবে। যার যার স্কুলে ফিরে যেতে হবে।’

‘রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রদের কাজ না’

বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানীতে বিক্ষোভে নামা ছাত্রদের শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, যানবাহন ভাঙচুর করা তাদের কাজ নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙা এটা ছাত্রদের কাজ নয়, এটা কেউ করবেন না। দয়া করে যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যান, লেখাপড়া করেন। আর যারা দোষী তাদের খুঁজে বের করে অবশ্যই শাস্তি দেয়া হবে, সেটা আমরা করব।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘ভবিষ্যতে এই গাড়ি ভাঙচুর এবং আগুন দেয়ার ঘটনা যারা ঘটাবে তাদের খুঁজে বের করা হবে, শাস্তি দেয়া হবে। কেননা যে গাড়িতে আগুন দেয়া হচ্ছে সে গাড়িতে যদি কেউ মারা যায় বা আগুনে পোড়ে তার জন্য কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। এ কথাও মাথায় রাখতে হবে।

আরও পড়ুন:
সাপের কামড়ে হাসপাতালে চবি ছাত্র
হলের রুম পরিষ্কারের সময় কর্মচারীকে সাপের কামড়
চবির ডি ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাস ২৮ শতাংশ
চবির ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশে দেরি, অনিয়মের আশঙ্কা
চবি ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৩৪ শতাংশ

শেয়ার করুন

জেএসসি সনদের ফরম পূরণ ১১ ডিসেম্বর থেকে

জেএসসি সনদের ফরম পূরণ ১১ ডিসেম্বর থেকে

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বছরের জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত না হলেও অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উর্ত্তীণ পরীক্ষার্থীরা যেন সনদ পান এ জন্য ফরম পূরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা জেএসসি সনদ দিতে অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

ফরম পূরণ শুরু হবে আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকে, যা চলবে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে ফরম পূরণে ব্যর্থ শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণিতে অনুত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে, অর্থাৎ নবম শ্রেণিতে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ পাবে না।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম আমিরুল ইসলামের সই করা অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বছরের জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত না হলেও অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উর্ত্তীণ পরীক্ষার্থীরা যেন সনদ পান এ জন্য ফরম পূরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

অফিস আদেশে বলা হয়, চলতি বছরের জেএসসি পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক বার্ষিক পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করতে হবে। ২০২১ সালের জেএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্টের মূল্যায়ন করে প্রস্তুত ফলের ভিত্তিতে বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ সনদ দিতে আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের জন্য নির্দেশ দেয়া হলো।

আরও বলা হয়, ফরম পূরণের জন্য সম্ভাব্য শিক্ষার্থীদের তালিকা আগামী ৭ ডিসেম্বর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে (https://dhakaeducationboard.gov.bd/) প্রকাশ করা হবে।

এরপর স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তার ইআইএন এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশ করে আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ইএফএফ (ইলেকট্রনিক ফরম পূরণ) করতে হবে। ইলেকট্রনিক ফরম পূরণ করতে কোনো ফি শিক্ষাবোর্ডকে দিতে হবে না।

করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরও হয়নি জেএসসি ও জেডিসি। উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দেয়া হয় অটোপাস।

করোনার কারণে গত বছর জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হয়নি। নিজ নিজ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করে স্কুল ও মাদ্রাসাগুলো।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

এখন চলতি বছরের ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে। আর অন্যান্য শ্রেণির মধ্যে অষ্টম, নবম, তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণিতে দুই দিন এবং অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক দিন ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সাপের কামড়ে হাসপাতালে চবি ছাত্র
হলের রুম পরিষ্কারের সময় কর্মচারীকে সাপের কামড়
চবির ডি ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাস ২৮ শতাংশ
চবির ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশে দেরি, অনিয়মের আশঙ্কা
চবি ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৩৪ শতাংশ

শেয়ার করুন

৪৪তম বিসিএসের প্রিলি ২৭ মে

৪৪তম বিসিএসের প্রিলি ২৭ মে

৪৪তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ৭১০ জনকে নিয়োগ দেবে। ফাইল ছবি

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নূর আহমদের সই করা অফিস আদেশে বলা হয়, দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২২ সালের ২৭ মে, শুক্রবার হতে পারে। পরীক্ষার হল, আসন ব্যবস্থা ও পরীক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশাবলী গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ঠিক করেছে বাংলাদেশ কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নূর আহমদের সই করা মঙ্গলবারের অফিস আদেশে ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির সম্ভাব্য তারিখ জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২২ সালের ২৭ মে, শুক্রবার হতে পারে। পরীক্ষার হল, আসন ব্যবস্থা ও পরীক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশাবলী গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

এই বিসিএসের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ৭১০ জনকে নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ৩০ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন।

প্রিলিমিনারির নম্বর বণ্টন

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীকে ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার সময় ২ ঘণ্টা। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২০০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রার্থী প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাবেন। তবে ভুল উত্তর দিলে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত মোট নম্বর থেকে দশমিক ৫০ নম্বর কাটা যাবে। প্রিলিমিনারির বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস পিএসসির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

প্রিলিমিনারির বিষয় ও নম্বর বণ্টন

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ৩৫, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য ৩৫, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ৩০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ২০, ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব), পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ১০, সাধারণ বিজ্ঞান ১৫, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি ১৫, গাণিতিক যুক্তি ১৫, মানসিক দক্ষতা ১৫, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন ১০ নম্বরের ওপর পরীক্ষা হবে।

৪৪তম বিসিএসে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এ ক্যাডারে ৭৭৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

প্রশাসন ক্যাডারে ২৫০, পুলিশে ৫০, পররাষ্ট্রে ১০, আনসারে ১৪, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহাহিসাবরক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) পদে ৩০, সহকারী কর কমিশনার পদে ১১, সহকারী নিবন্ধক (সমবায়) পদে ৮ ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট/ট্রাফিক (রেলওয়ে) নিবন্ধক পদে ৭ জনকে নেয়া হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা পদে ১, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) পদে ৭, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক পদে ২, সহকারী পোস্টমাস্টার পদে ২৩, সহকারী নিয়ন্ত্রক (বাণিজ্য) পদে ৬, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (পরিবার পরিকল্পনা) ২৭ জন এবং ৩ জন সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক নেয়া হবে।

প্রফেশনাল ক্যাডারে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী ১ জন, সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী ৮ জন, সহকারী সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী ৬ জন, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ১ জন, সহকারী বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী ২ জন (তথ্য) ও ৫ জন সহকারী বন সংরক্ষক নেয়া হবে।

সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে ২৯, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পদে ৭, বিসিএস মৎস্যে ১৫, পশুসম্পদে ২১০, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পদে ৪২ ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে ২ জন নিয়োগ পাবেন।

এ ছাড়া সহকারী সার্জন ১০০ জন, সহকারী সার্জন (ডেন্টাল) ২৫ জন, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২২ জন ও সহকারী প্রকৌশলী ৬ জনকে এ বিসিএসে নিয়োগ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
সাপের কামড়ে হাসপাতালে চবি ছাত্র
হলের রুম পরিষ্কারের সময় কর্মচারীকে সাপের কামড়
চবির ডি ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাস ২৮ শতাংশ
চবির ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশে দেরি, অনিয়মের আশঙ্কা
চবি ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৩৪ শতাংশ

শেয়ার করুন

৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ হবে ১৭১০ জন

৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ হবে ১৭১০ জন

পিএসসি কার্যালয়। ফাইল ছবি

৪৪তম বিসিএসে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এ ক্যাডারে ৭৭৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

সরকারি চাকরিতে জনবল নিয়োগে ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

এই বিসিএসের মাধ্যমে ১ হাজার ৭১০টি পদে নিয়োগ দেয়া হবে।

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নূর আহম্মদের সই করা মঙ্গলবারের অফিস আদেশে এসব তথ্য জানানো হয়।

আগ্রহীরা ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন।

৪৪তম বিসিএসে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এ ক্যাডারে ৭৭৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

প্রশাসন ক্যাডারে ২৫০, পুলিশে ৫০, পররাষ্ট্রে ১০, আনসারে ১৪, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহাহিসাবরক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) পদে ৩০, সহকারী কর কমিশনার পদে ১১, সহকারী নিবন্ধক (সমবায়) পদে ৮ ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট/ট্রাফিক (রেলওয়ে) নিবন্ধক পদে ৭ জনকে নেয়া হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা পদে ১, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) পদে ৭, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক পদে ২, সহকারী পোস্টমাস্টার পদে ২৩, সহকারী নিয়ন্ত্রক (বাণিজ্য) পদে ৬, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (পরিবার পরিকল্পনা) ২৭ জন এবং ৩ জন সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক নেয়া হবে।

প্রফেশনাল ক্যাডারে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী ১ জন, সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী ৮ জন, সহকারী সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী ৬ জন, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ১ জন, সহকারী বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী ২ জন (তথ্য) ও ৫ জন সহকারী বন সংরক্ষক নেয়া হবে।

সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে ২৯, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পদে ৭, বিসিএস মৎস্যে ১৫, পশুসম্পদে ২১০, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পদে ৪২ ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে ২ জন নিয়োগ পাবেন।

এ ছাড়া সহকারী সার্জন ১০০ জন, সহকারী সার্জন (ডেন্টাল) ২৫ জন, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২২ জন ও সহকারী প্রকৌশলী ৬ জনকে এ বিসিএসে নিয়োগ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
সাপের কামড়ে হাসপাতালে চবি ছাত্র
হলের রুম পরিষ্কারের সময় কর্মচারীকে সাপের কামড়
চবির ডি ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাস ২৮ শতাংশ
চবির ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশে দেরি, অনিয়মের আশঙ্কা
চবি ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৩৪ শতাংশ

শেয়ার করুন

এ অধ্যক্ষ ছাড়া কি ভিকারুননিসা চলবে না: হাইকোর্ট

এ অধ্যক্ষ ছাড়া কি ভিকারুননিসা চলবে না: হাইকোর্ট

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার। ফাইল ছবি

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের বিষয়ে বিচারপতিদের একজন বলেন, ‘তিনি এমন কোনো লোক না যে তাকে ছাড়া ভিকারুননিসা চলবে না। এসব কথা কোর্টে এসে বলবেন না।’

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ছাড়া প্রতিষ্ঠান চলবে কি না, সে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট।

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে মঙ্গলবার এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

বিচারপতিদের একজন বলেন, ‘তিনি এমন কোনো লোক না যে তাকে ছাড়া ভিকারুননিসা চলবে না। এসব কথা কোর্টে এসে বলবেন না।’

পরে অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ও অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।

এটাই শেষ সময় উল্লেখ করে আদালত বলেছে, ‘এরপর আর কোনো সময় দেয়া হবে না।’

মামলার শুনানির সময় রিটকারী আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া রাসেল আদালতে বলেন, ‘আদালতের আদেশের পরেও দীর্ঘ সময় নিয়ে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘উনি (কামরুন্নাহার) অধ্যক্ষ পদে থাকা অবস্থায় তদন্ত হলে তা ঠিকমতো হবে না। উনার বিপক্ষে কেউ রিপোর্ট দেবে না। তাই রিপোর্ট দাখিলের আগ পর্যন্ত কামরুন নাহারকে অধ্যক্ষ পদ থেকে বিরত রাখার আদেশ দেন। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি যাতে দ্রুত রিপোর্ট দাখিল করে সে নির্দেশ দেন।’

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ রিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার বলেন, ‘এই রিট গ্রহণযোগ্য নয়।’

একই দাবি করেন অধ্যক্ষের আইনজীবী মুশফিক উদ্দিন বখতিয়ারও।

তিনি বলেন, ‘মাই লর্ড, রিট তো চলে না প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ক্ষেত্রে একটা সিন্ডিকেটও আছে। কামরুন নাহার একজন বিসিএস ক্যাডার। তিনি একটি কলেজের অধ্যক্ষ পদে দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এখানে থাকতে চান না। তাকে জোর করে ভিকারুননিসায় আনা হয়েছে।’

তখন আদালত বলে, ‘উনাকে ছাড়া কি ভিকারুননিসা চলবে না?’

পরে আদালত ৩১ জানুয়ারি এই রিটের পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করে দিয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়।

গত ৮ জুলাই ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও অভিভাবক ফোরামের নেতার ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট করেন দুই ছাত্রীর অভিভাবক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।

এ রিটের শুনানির সময় গত ৯ আগস্ট আদালত বলেছিল, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ফোনালাপে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা সত্যি হয়ে থাকলে অবশ্যই নিন্দনীয়। এটা অপ্রত্যাশিত। তার মুখ থেকে এ ধরনের ভাষা আশা করা যায় না।

এরপর ৩১ অক্টোবরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। তারপর দুই দফায় সময় দিলেও রিপোর্ট জমা হয়নি।

অধ্যক্ষ ও অভিভাবক ফোরাম নেতার সাড়ে ৪ মিনিটের ওই কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

আরও পড়ুন:
সাপের কামড়ে হাসপাতালে চবি ছাত্র
হলের রুম পরিষ্কারের সময় কর্মচারীকে সাপের কামড়
চবির ডি ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাস ২৮ শতাংশ
চবির ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশে দেরি, অনিয়মের আশঙ্কা
চবি ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৩৪ শতাংশ

শেয়ার করুন

৪২তম বিসিএস (বিশেষ): স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৬ ডিসেম্বর

৪২তম বিসিএস (বিশেষ): স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৬ ডিসেম্বর

সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) ভবন। ফাইল ছবি

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নূর আহম্মদ মঙ্গলবার বলেন, ‘পিএসসি থেকে ৪২তম বিসিএসে যেসব প্রার্থীদের সুপারিশ করা হয়েছিল, তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৬ ডিসেম্বর। বিষয়টি দেখভাল করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।’

৪২তম বিসিএসে (বিশেষ) সহকারী সার্জন পদে নির্বাচিতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৬ ডিসেম্বর। এ পরীক্ষা চলবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

রাজধানীর একাধিক কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হবে এ পরীক্ষা।

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নূর আহম্মদ মঙ্গলবার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘পিএসসি থেকে ৪২তম বিসিএসে যেসব প্রার্থীদের সুপারিশ করা হয়েছিল, তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৬ ডিসেম্বর। বিষয়টি দেখভাল করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।’

যেসব কেন্দ্রে হবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, শের-ই-বাংলা নগর, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে।

এর আগে গত ৯ সেপ্টম্বর ৪২তম বিসিএসের (বিশেষ) চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে পিএসসি।

এ বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চার হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।

দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিতে গত বছর ৪২তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি দেয় পিএসসি। এ বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (লিখিত টাইপ) হয় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি।

পরীক্ষার এক মাস পর ২৯ মার্চ ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে উত্তীর্ণ হন ৬ হাজার ২২ জন।

আরও পড়ুন:
সাপের কামড়ে হাসপাতালে চবি ছাত্র
হলের রুম পরিষ্কারের সময় কর্মচারীকে সাপের কামড়
চবির ডি ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাস ২৮ শতাংশ
চবির ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশে দেরি, অনিয়মের আশঙ্কা
চবি ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৩৪ শতাংশ

শেয়ার করুন

বুয়েটের ইইইতে পড়বেন ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সিয়াম

বুয়েটের ইইইতে পড়বেন ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সিয়াম

বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের ছাত্র মেফতাউল আলম সিয়াম তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় তিন ইউনিট ও বিভাগে প্রথম হন। ছবি: নিউজবাংলা

বুয়েটের ইইইতে ভর্তি কেন হতে চান জানতে চাইলে সিয়াম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি একজন রিসার্চার হতে চাই। ইইইতে রিসার্চের ফিল্ডটা বেশি।’

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্নাতকের ভর্তি পরীক্ষায় প্রকৌশল এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগে প্রথম হয়েছেন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের ছাত্র মেফতাউল আলম সিয়াম।

এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা এবং গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির (আইইউটি) ভর্তি পরীক্ষায়ও প্রথম হন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় সিয়ামের অবস্থান ছিল ৫৯তম। এ ছাড়া তিন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় হন তিনি।

ধারাবাহিক এ সাফল্যের কারণ, অনুপ্রেরণাসহ প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে সিয়ামের সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার।

নিউজবাংলা: আইইউটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিট, বুয়েটের একটি বিভাগে আপনি প্রথম হয়েছেন। এ সাফল্যের মূল কারণ কী বলে মনে করেন?

সিয়াম: এইচএসসি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার পড়ালেখায় রেগুলার ছিলাম। বেশ কিছু রাইটারের বই ফলো করেছি। এইচএসসি থেকেই বিগত বছরের ভর্তি পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন সলভ করার প্র্যাকটিস ছিল, যার কারণে ভর্তি পরীক্ষার পূর্ব সময়ে প্রস্তুতি নিতে অসুবিধা হয়নি।

আগে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে ধারণা ছিল। আমি এইচএসসি ফার্স্ট ইয়ার থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা করেছি। নিয়মিত পরিশ্রম করাটা এ ক্ষেত্রে কাজে লেগেছে।

নিউজবাংলা: আপনার সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা কার?

সিয়াম: অবশ্যই মায়ের ভূমিকা বেশি। ছোটবেলা থেকে অনুপ্রেরণা জোগাত। সে-ই পাশে ছিল। বাবার ভূমিকাও কম নয়।

আব্বু অবসরপ্রাপ্ত এনজিও কর্মকর্তা। আম্মু গ্র্যাজুয়েশন করা। আম্মু প্রাইমারি পর্যন্ত আমাকে গাইড করেছেন। পরবর্তী সময়ে আমি নিজেই নিজেকে সামলে নিয়েছি।

বুয়েটের ইইইতে পড়বেন ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সিয়াম

নিউজবাংলা: কোনো পরীক্ষা দেয়ার আগে প্রথম হওয়ার লক্ষ্য ছিল কী?

সিয়াম: পরীক্ষার হলে ও রকম টার্গেট ছিল না। নিজের বেস্ট আউটপুটটা দেয়ার চেষ্টা করছি। হয়তো আশা ছিল ভালো কিছু করব। আমি ফার্স্ট হব, সে রকম কোনো টার্গেট ছিল না।

নিউজবাংলা: আপনার সামনে অনেকগুলো অপশন। কোথায় ভর্তি হবেন?

সিয়াম: বুয়েটের ইইইতে (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ)।

নিউজবাংলা: কেন?

সিয়াম: আমি একজন রিসার্চার হতে চাই। ইইইতে রিসার্চের ফিল্ডটা বেশি।

নিউজবাংলা: এসএসসি থেকেই কি এমন স্বপ্ন ছিল?

সিয়াম: এসএসসি পর্যন্ত আমার লক্ষ্য ছিল চিকিৎসক হওয়ার। আমার আম্মুও চেয়েছিলেন আমি চিকিৎসক হই, কিন্তু এইচএসসিতে এসে লক্ষ্য পাল্টে যায় একজন স্যারের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। আমি একজন সফল গবেষক হয়ে দেশ ও জাতির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে চাই।

নিউজবাংলা: আপনার সাফল্যে বন্ধু-বান্ধব কিংবা বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া কী?

সিয়াম: কলেজের শিক্ষকগণ অনেক খুশি। বন্ধুরা অনেক খুশি; তাদের ফ্রেন্ড ফার্স্ট হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ স্যার আমাকে ডেকে নিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

নিউজবাংলা: অনেকে বলে থাকেন তুখোড় মেধাবীরাও একসময় অতীতের সাফল্য ভুলে স্রোতে গা ভাসান। আপনি এ ব্যাপারে কতটা সতর্ক?

সিয়াম: আমরা যখন এসএসসি বা এইচএসসি লেভেলে পড়ি, তখন মা-বাবার গাইডলাইনে থাকি। বিশ্ববিদ্যালয়ে সে গাইডলাইন থাকে না। ফলে আমাদের ম্যাচিউরিটির অভাবে বা নতুন জীবনযাপনের সম্পর্কে ধারণা না থাকায় এমনটা হয়ে থাকে। অনেকে খাপ-খাইয়ে নিতে পারে না।

আমি মনে করি এ জায়গাগুলো বুঝে চললে কোনো সমস্যা হবে না।

নিউজবাংলা: আপনার জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী?

সিয়াম: একজন গবেষক হয়ে কাজ করা। ভালো কিছু করা, যা দেশের জন্য গর্বের হয়।

নিউজবাংলা: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের জন্য আপনার কোনো পরামর্শ আছে?

সিয়াম: পড়াশোনায় সবসময় রেগুলার থাকতে হবে। রেগুলার পড়ব। বুঝে পড়ার চেষ্টা করব। পাশাপাশি বিনোদনও থাকবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ব্যয় না হয়, সেটা খেয়াল রাখব। পড়াশোনায় যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেটা সবসময় খেয়াল রাখতে হবে।

নিউজবাংলা: আমাদের সময় দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

সিয়াম: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন:
সাপের কামড়ে হাসপাতালে চবি ছাত্র
হলের রুম পরিষ্কারের সময় কর্মচারীকে সাপের কামড়
চবির ডি ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাস ২৮ শতাংশ
চবির ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশে দেরি, অনিয়মের আশঙ্কা
চবি ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৩৪ শতাংশ

শেয়ার করুন