কৃষিতে ঋণ বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ

কৃষিতে ঋণ বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ

ধান ক্ষেতে সার প্রয়োগে ব্যস্ত কৃষক। ফাইল ছবি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলো কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও তৃতীয় মাস থেকে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন ঘটছে। তা অক্টোবরেও অব্যাহত ছিল।

দেশে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই- অক্টোবর) কৃষি ও পল্লী ঋণ খাতে সাত হাজার ৯০৫ কোটি টাকা দিয়েছে ব্যাংকগুলো। এটি লক্ষ্যমাত্রার ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এবার ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১৯ দশমিক ২৩ শতাংশ বা এক হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে কৃষি ও পল্লী ঋণ খাতে ছয় হাজার ৬২৯ কোটি টাকা বিতরণ করে ব্যাংকগুলো, যা ব্যাংকগুলোর বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ২৫ দশমিক ২২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলো কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও তৃতীয় মাস থেকে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন ঘটছে। তা অক্টোবরেও অব্যাহত ছিল।

কৃষি খাতে অক্টোবরে দুই হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। এর আগের মাসে ঋণ বিতরণ হয় দুই হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্য দিয়ে সামগ্রিকভাবে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দেয়।

গত আগস্টে এক হাজার ৭৩২ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করে ব্যাংকগুলো। জুলাইয়ে বিতরণ করা কৃষিঋণের পরিমাণ ছিল ৯৪২ কোটি টাকা। সব মিলে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কৃষি ও পল্লীঋণ খাতে পাঁচ হাজার ২১০ কোটি টাকা বিতরণ করে ব্যাংকগুলো, যা লক্ষ্যমাত্রার ১৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

এদিকে ঋণ বিতরণ বাড়লেও চার মাসে কৃষি ঋণ আদায় কমেছে। এই সময়কালে আদায় হয়েছে সাত হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে কৃষিঋণ আদায় হয়েছিল ৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা।

২০২০-২১ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার ৯৭ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে সক্ষম হয় ব্যাংকগুলো। ওই অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী খাতে ব্যাংকগুলোর ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঋণ দেয়া হয় ২৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকা।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারো বাড়তে থাকায় গত এপ্রিলে কৃষি খাতের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে গত ৩০ জুন পর্যন্ত চার হাজার ২৯৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়।

এছাড়া করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর কৃষি খাতের জন্য দ্বিতীয় মেয়াদে প্রণোদনার ঋণ চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার কৃষি খাতের জন্য আরও তিন হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিল থেকে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের শস্য ও ফসল চাষের জন্য এককভাবে জামানত ছাড়াই দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। ঋণের সুদের হার আগের মতো ৪ শতাংশই থাকছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের এই তহবিলের অর্থও বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব উৎস থেকে সরবরাহ করবে। তহবিলের মেয়াদ আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
সৌদি খেজুর চাষে ঋণ দেবে ব্যাংক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফরেন চেম্বারের নতুন সভাপতি নাসের এজাজ

ফরেন চেম্বারের নতুন সভাপতি নাসের এজাজ

এফআইসিসিআই নতুন সভাপতি নাসের এজাজ বিজয়।

নাসের এজাজ বিজয় বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির এই লগ্নে, আমরা নিজেদের ইতিহাস ও পরবর্তী অধ্যায় রচনার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের আগামী দিনের সফলতার মূল ভিত্তি হবে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগ আকর্ষণ ও তার বিকাশ। চেম্বারের পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ মিশন পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ায় আমি গর্বিত। আমি আমার পূর্বসূরির সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।’

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফআইসিসিআই) নতুন সভাপতি হয়েছেন নাসের এজাজ বিজয়। তিনি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ইউনাইটেড ঢাকা টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিল কোপল্যান্ড।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে এফআইসিসিআইয়ের ৫৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) সভাপতি, সহসভাপতিসহ ২০২২-২৩ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয় বলে সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এফআইসিসিআইর নতুন সভাপতি নাসের এজাজ বিজয় ২৯ বছর ধরে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে যুক্ত আছেন। বর্তমানে তিনি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি দ্য ডিউক অব এডিনবরা অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের বোর্ড; মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং ব্রিটিশ বিজনেস গ্রুপেও (বিবিজি) কাজ করেন।

সহসভাপতি নিল কোপল্যান্ড ইউনাইটেড ঢাকা টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের সদস্য। ভারতের কলকাতায় তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৭টি দেশে থেকেছেন। তিনি দীর্ঘদিন জেটিআইয়ের জন্য কাজ করেছেন। রোমানিয়া, পোল্যান্ড, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন।

নাসের এজাজ বিজয় বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির এই লগ্নে, আমরা নিজেদের ইতিহাস ও পরবর্তী অধ্যায় রচনার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের আগামী দিনের সফলতার মূল ভিত্তি হবে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগ আকর্ষণ ও তার বিকাশ। চেম্বারের পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ মিশন পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ায় আমি গর্বিত। আমি আমার পূর্বসূরির সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।’

নিল কোপল্যান্ড বলেন, ‘গেল বছর এফআইসিসিআইর নির্বাহীর কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এবার সহসভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সম্মানিত বোধ করছি। নতুন সভাপতি নাসের এজাজ বিজয়ের নেতৃত্বে এবং অত্যন্ত সম্মানীয় একটি নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করব। আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্য হলো সবার জন্য বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় সম্মুখভাগে থাকা।’

এফআইসিসিআইয়ের বিদায়ী সভাপতি রূপালী চৌধুরী বলেন, ‘গত দুই বছর এফআইসিসিআয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। এটি একটি ফলপ্রসূ এবং চমৎকার অভিজ্ঞতা। কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সহায়তায় আমরা মহামারির মধ্যেও বিভিন্ন মাইলফলক অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

‘আমি নবনির্বাচিত সভাপতি, সহসভাপতি এবং কার্যনির্বাহী কমিটিকে অভিনন্দন জানাই। আশা করি, নতুন কমিটি ২০৪১-এর লক্ষ্য পূরণে ও সংগঠনের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে উন্নত অংশীদারত্ব এবং সহযোগিতার জায়গা অব্যাহত রাখবে।’

আরও পড়ুন:
সৌদি খেজুর চাষে ঋণ দেবে ব্যাংক

শেয়ার করুন

বারভিডা নির্বাচন স্থগিত

বারভিডা নির্বাচন স্থগিত

২০১৯-২০ মেয়াদের নির্বাচনের ছবি।

২০২১-২০২৩ মেয়াদের নির্বাচন পুনঃতফসিলিকরণের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন বোর্ড নির্বাচন স্থগিত করেছে বলে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

২০২১-২০২৩ মেয়াদের নির্বাচন পুনঃতফসিলিকরণের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন বোর্ড এই নির্বাচন স্থগিত করেছে বলে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নির্বাচনের পরবর্তী তারিখ যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন বোর্ড।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। ঘোষিত তফসিল মোতাবেক ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

নির্বাচনে তিনটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বারভিডার সাবেক সভাপতি হাবিবুল্লা ডনের নেতৃত্বে ‌সম্মিলিত পরিষদ, বর্তমান সভাপতি আব্দুল হকের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পরিষদ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রচার প্রচারণা চালায়।

সারা দেশে বারভিডার মোট ভোটার ৬৭০ জন। এবারের নির্বাচনে পরিচালনা পর্ষদের ২৫টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন মোট ৭৮ জন প্রার্থী।

ভোটে নির্বাচিত নতুন ২৫ জন পরিচালকের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতি এবং তিনজনকে সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন পদে মনোনীত করা হবে।

প্রথা অনুযায়ী বিজয়ী প্যানেল প্রধান বারবিডার নতুন সভাপতি নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:
সৌদি খেজুর চাষে ঋণ দেবে ব্যাংক

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের রেয়াজুদ্দিন বাজারে এসবিএসি ব্যাংক

চট্টগ্রামের রেয়াজুদ্দিন বাজারে এসবিএসি ব্যাংক

রোববার উপশাখাটির উদ্বোধন করা হয়। এ নিয়ে ব্যাংকটির মোট শাখা ও উপশাখার সংখ্যা ১০২ টিতে উন্নীত হলো।

চট্টগ্রামের রেয়াজুদ্দিন বাজারে উপশাখা খুলেছে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক।

রোববার উপশাখাটির উদ্বোধন করা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে ব্যাংকের শাখা ও উপশাখার সংখ্যা ১০২ টিতে উন্নীত হলো।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং এসবিএসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার আব্দুস সালাম মাসুম।

সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শামসুল আরেফিন।

অন্যদের মধ্যে ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম চৌধুরী, পিআর অ্যান্ড ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন্স ডিভিশনের প্রধান মোহাম্মদ শফিউল আজম, তত্ত্বাবধায়ক শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইকরাম পাশা, সংশ্লিষ্ট উপশাখার প্রধান ইনামুল হকসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সৌদি খেজুর চাষে ঋণ দেবে ব্যাংক

শেয়ার করুন

নাহিদ এন্টারপ্রাইজের ২৭৫ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি

নাহিদ এন্টারপ্রাইজের ২৭৫ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি

মেসার্স নাহিদ এন্টারপ্রাইজের কার্যালয়ে ভ্যাট গোয়েন্দার অভিযানে বেরিয়ে আসে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকা প্রকৃত বিক্রয়মূল্য গোপন করে। ছবি:নিউজবাংলা

ভ্যাট কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগে নাহিদ এন্টারপ্রাইজ বন্ড লাইসেন্সের আওতায় শুল্কমুক্ত পণ্য এনে খোলা বাজারে বিক্রি করে দীর্ঘ সময় ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে ২০১৫ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

শুল্কমুক্ত সুবিধা অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজধানীর লালবাগে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২৭৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।

এই অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সোমবার মামলা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভ্যাট কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগে নাহিদ এন্টারপ্রাইজ বন্ড লাইসেন্সের আওতায় শুল্কমুক্ত পণ্য এনে খোলা বাজারে বিক্রি করে দীর্ঘ সময় ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে ২০১৫ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, মেসার্স নাহিদ এন্টারপ্রাইজ ভ্যাট চালান ছাড়া সেবা, যথাযথ রাজস্ব পরিশোধ না করা ও প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করেছে।

তদন্ত দেখা যায়, পাঁচ বছর প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট রিটার্নে বিক্রয়মূল্য দেখিয়েছে ২৯১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। কিন্তু জব্দকৃত দলিলাদি পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত বিক্রয়মূল্য ১ হাজার ৫৪০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট আরোপযোগ্য বিক্রয়মূল্য ১ হাজার ৩৩৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকা সমপরিমাণ প্রকৃত বিক্রয়মূল্য গোপন করেছে।

বিক্রয়মূল্য কম দেখানোয় সরকার প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে ১৫৭ কোটি ১২ লাখ টাকা।

সময়মতো পরিশোধ না করায় ২ শতাংশ জরিমানাসহ অতিরিক্ত ভ্যাট আসে ১১৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

সব মিলে সুদসহ মোট ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ ২৭৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
সৌদি খেজুর চাষে ঋণ দেবে ব্যাংক

শেয়ার করুন

সয়াবিন ও মরিচ চাষীদের ৪% সুদে ঋণ দিল এসআইবিএল

সয়াবিন ও মরিচ চাষীদের ৪% সুদে ঋণ দিল এসআইবিএল

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ৩৫০ জন চাষীকে এই ঋণ দেয়া হয় বলে ব্যাংকটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সয়াবিন ও মরিচ চাষীদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দিয়েছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল)।

সম্প্রতি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ৩৫০ জন সয়াবিন ও মরিচ চাষীকে এই ঋণ দেয়া হয় বলে ব্যাংকটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এ উপলক্ষে সুবর্ণচর উপজেলা কমপ্লেক্সে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান প্রধান অতিথি ছিলেন। এসআইবিএলে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাজুল ইসলাম ছিলেন বিশেষ অতিথি।

ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক. সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৈতী সর্ববিদ্যা, এসআইবিএলের এসএমই অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ফাইন্যান্স ডিভিশনের প্রধান সাদাত আহমাদ খান, মার্কেটিং অ্যান্ড ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনের প্রধান মো. মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের মাইজদি শাখার ম্যানেজার মুহাম্মদ আব্দুস শহিদ।

আরও পড়ুন:
সৌদি খেজুর চাষে ঋণ দেবে ব্যাংক

শেয়ার করুন

শাহ আমানত বিমানবন্দরে ইউসিবির লাউঞ্জ

শাহ আমানত বিমানবন্দরে ইউসিবির লাউঞ্জ

ইউসিবি ইম্পেরিয়াল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক এবং ইউসিবি ক্রেডিট কার্ড গ্রহীতারা এই অত্যাধুনিক লাউঞ্জে আতিথ্য গ্রহণ করতে পারবেন। 

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ইম্পেরিয়াল লাউঞ্জ উদ্বোধন করা হয়ে।

সোমবার ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি এর উদ্বোধন করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ইউসিবি ইম্পেরিয়াল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক এবং ইউসিবি ক্রেডিট কার্ড গ্রহীতারা এই অত্যাধুনিক লাউঞ্জে আতিথ্য গ্রহণ করতে পারবেন।

এসময় ইউসিবির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার এম ফারহাদ হোসেন খান, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি এ টি এম তাহমিদুজ্জামানসহ ব্যাংক ও বিমানবন্দরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সৌদি খেজুর চাষে ঋণ দেবে ব্যাংক

শেয়ার করুন

আর্থসামাজিক সূচকে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ: রেহমান সোবহান

আর্থসামাজিক সূচকে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ: রেহমান সোবহান

বিজয় দিবসে জাতীয় সংসদ ভবনে আলোকসজ্জা। ফাইল ছবি

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘স্বাধীনতার সময় ১৯৭২ সালে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্য, মাথাপিছু আয়সহ অনেক সূচকে আমরা পাকিস্তানের তুলনায় পিছিয়ে ছিলাম। পরবর্তী ৫০ বছরে সেই অবস্থান থেকে অনেক এগিয়েছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে গত ২৫ বছরে। তবে লক্ষণীয় অগ্রগতি হয়েছে গত দশকে।’

মাথাপিছু জাতীয় আয়, গড় আয়ু, জিডিপির প্রবৃদ্ধিসহ আর্থসামাজিক অনেক সূচকে পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। অথচ স্বাধীনতার সময় এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে ছিল।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এই সম্মেলনের আয়োজন করে সিপিডি। চার দিনব্যাপী ভার্চুয়ালি এ সম্মেলন সোমবার শুরু হয়েছে।

‘৫০ বছরে বাংলাদেশ: প্রত্যাবর্তন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক রওনক জাহান। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

রেহমান সোবহান বলেন, ‘স্বাধীনতার সময় ১৯৭২ সালে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্য, মাথাপিছু আয়সহ অনেক সূচকে আমরা পাকিস্তানের তুলনায় পিছিয়ে ছিলাম।

‘পরবর্তী ৫০ বছরে সেই অবস্থান থেকে অনেক এগিয়েছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে গত ২৫ বছরে। তবে লক্ষণীয় অগ্রগতি হয়েছে গত দশকে।’

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় পাকিস্তানের চেয়ে ৬১ শতাংশ কম ছিল। জিডিপির উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে মাথাপিছু আয় বাড়তে থাকে এবং ২০২০ সালে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে ৬২ শতাংশ বেশি হয়েছে মাথাপিছু আয়।

শুধু তা নয়, এই সময়ে সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে টপকে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। এর ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পাকিস্তানের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

রেহমান সোবহান বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর দেশ নয়। যে পরিমাণ বিদেশি ঋণ আমরা পাচ্ছি, তা জিডিপির ২ শতাংশ। অথচ পাকিস্তান এখনও বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।’

বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে জানান রেহমান সোবহান।

বলেন, ‘১৯৭২ সালে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে পিছিয়ে ছিলাম। দ্রুত বিদ্যুৎ খাতের প্রসার ঘটায় গত ১০ বছরে পাকিস্তানের চেয়ে দ্বিগুণ উৎপাদন বেড়েছে।

মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল। বর্তমানে এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। স্বাস্থ্যসেবা উন্নীতির ফলে আমাদের গড় আয়ু ও পাকিস্তানের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছে বলে জানান রেহমান সোবহান।

আরও পড়ুন:
সৌদি খেজুর চাষে ঋণ দেবে ব্যাংক

শেয়ার করুন