‘অশ্লীল’ গানে নাচতে বাধ্য হলেন দুই ঢাবি ছাত্রী

‘অশ্লীল’ গানে নাচতে বাধ্য হলেন দুই ঢাবি ছাত্রী

রিজুর অভিযোগ, অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জুলি মারমা এবং নাসরিন জাহান খুশি তাকে এবং তার সহপাঠীকে নাচতে বাধ্য করেছেন। আর অভিযুক্তদের সহযোগিতা করেছেন তাদের বন্ধু মার্কেটিং বিভাগের জান্নাত নিপু, দর্শন বিভাগের পূজা দাস এবং রিনাকী চাকমা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থীকে ‘অশ্লীল’ গানে নাচতে বাধ্য করা এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তৃতীয় বর্ষের কয়েক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাতে হলের অপরাজিতা ভবনের এক্সটেনশন চার-এ ওই ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী।

বুধবার ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে আয়েশা আক্তার রিজু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানীর কাছে লিখিত অভিযোগটি দিয়েছেন। পরে এই অভিযোগপত্র রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদার কাছে পাঠান প্রক্টর।

ভুক্তভোগী অন্যজনের প্রসঙ্গে রিজু বলেন, ‘অন্য জন আমার সহপাঠী। সে এসবে জড়াতে চাচ্ছে না, তাই তার নাম প্রকাশ করছি না।’

রিজুর অভিযোগ, অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জুলি মারমা এবং নাসরিন জাহান খুশি তাকে এবং তার সহপাঠীকে নাচতে বাধ্য করেছেন। আর অভিযুক্তদের সহযোগিতা করেছেন তাদের বন্ধু মার্কেটিং বিভাগের জান্নাত নিপু, পূজা দাস এবং রিনাকী চাকমা। নাসরিন জাহানের বিভাগের নাম জানা যায়নি।

অভিযোগপত্রে আয়েশা রিজু লিখেছেন, ‘গতকাল রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টা নাগাদ এক্সটেনশন তিন-এর কয়েকজন আপু আমার রুমে আসেন। তারা হাসি-তামাশা করে চলে যান এবং পুনরায় ফিরে আসেন। তখন ভাষাভিত্তিক বিভিন্ন আলোচনা চলছিল আপুদের মধ্যে। এরই ধারাবাহিকতায় যথেষ্ট সম্মান ও বিনয়ের সাথে আমি জুলি আপুকে জিগ্যেস করি, ‘আপু, আমি ভাত খাই’- এটাকে আপনাদের ভাষায় কীভাবে বলে?

এই কথায় তিনি রাগান্বিত হয়ে আমাকে ধমকিয়ে বলেন, ‘তুই আমাকে জিজ্ঞেস করিস, তর সাহস তো কম না! তোকে র‌্যাগ দিতে হবে।’

তারপর নাসরিন জাহান খুশি আপু বলে উঠল, ‘শুধু ওকে না, এই ফ্লোরের প্রত্যেকটারে র‍্যাগ দিতে হবে।’

তখন নিপু আপু আমার আরেকজন সহপাঠীকেও র‍্যাগ দেওয়ার জন্য আমার রুমে নিয়ে আসেন।

রিজু জানান, এরপর তাদের দুজনকে নানা কথা-বার্তার পর ‘অশ্লীল’ গান ছেড়ে নাচাতে বাধ্য করেন সিনিয়র আপুরা। এ ছাড়াও রাত একটা পর্যন্ত নানা প্রসঙ্গ টেনে তাদের মানসিক নির্যাতনও করা হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আয়েশা রিজু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের সব বক্তব্য সত্য। গত ২৫ অক্টোবর আমি আমার মায়ের পর বাবাকে হারাই। আমি সেই ট্রমা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি। আমার সেমিস্টার ফাইনাল চলছে। এ অবস্থায় এই ধরনের অমানবিক নিপীড়নের শিকার হয়ে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অমানবিক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি এবং এমন ঘটনা অন্য কোনো মেয়ের সঙ্গে যেন না ঘটে তার নিশ্চয়তা চাই।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জুলি মারমা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দুই রুমের মধ্যে ভালো সম্পর্ক। আমরা নেচে গেয়ে সব কাজ একসঙ্গে করি। তবে রিজুর আচরণটা অনেক আগে থেকেই অ্যাবনরমাল ছিল। সে যথেষ্ট ইগোয়েস্টিক মেয়ে। রিজুর রুমে আমার কয়েকজন বান্ধবী থাকে। গতকাল সেই রুমে গিয়ে আমরা বলিউড গানে নাচানাচি করছিলাম। সেখানে রিজু এবং তার অন্য এক সহপাঠীও ছিল। তারা আমাদের নাচ এনজয় করছিল। একপর্যায়ে তাদেরকে আমরা ডেকে বলেছি, তোদের সামনে সিনিয়র আপুরা নাচতেছে তোরা কেন জয়েন করছিস না।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জান্নাত নিপু এবং পূজা দাসকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘অভিযোগপত্রটি প্রাধ্যক্ষ মহোদয় বরাবর পাঠিয়েছি। বিষয়টি এখন তিনি দেখছেন।’

তবে, সার্বিক বিষয়ে জানতে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদাকে বিকাল পাঁচটা এবং সন্ধ্যা সাতটায় দুইবার ফোন দিলে তিনি দুইবারই ফোন কেটে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
গুলশানে ৯ তলা থেকে পড়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
পূর্ণিমার মৃত্যুতে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা
পূর্ণিমার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের বাঁক
পূর্ণিমার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
নিখোঁজের ১০ দিন পর বাসায় ফিরলেন ৩ কলেজছাত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নিরাপদ সড়কের দাবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন

নিরাপদ সড়কের দাবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বালন করেন। ছবি: নিউজবাংলা

নয় দফা দাবি বাস্তবায়নে মঙ্গলবার ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবার নিয়ে শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন তারা।

নিরাপদ সড়ক ও সারা দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য শর্তহীন হাফ পাস কার্যকরসহ ৯ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রাজধানীতে সোমবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালনের সময় প্রতিবাদী গান গেয়ে বিক্ষোভ করেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, সড়ক ব্যবস্থাপনায় ‘আলোর পথ’ দেখাতেই মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি।

৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে মঙ্গলবার ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। রোববার শাহবাগে প্রতীকী কফিন নিয়ে মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবার নিয়ে শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ইনজামুল হক রামিম বলেন, ‘বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ পাসের দাবিতে ৮ নভেম্বর আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ২৩ তারিখে তা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে দানা বাঁধে। আমরা ৯ দফা দাবি জানিয়েছি। মন্ত্রীরা আমাদের আন্দোলন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন।

‘৯ দফা বাস্তবায়ন না হলে আমরা প্রয়োজনে অনশনে যাব। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা ঢাকার রামপুরা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে আন্দোলন করেছেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।’

শিক্ষার্থীরা জানান, সড়ক, নৌ এবং রেলপথে হাফ পাস দাবি করা হয়েছে। শুধু সড়কে শর্তসাপেক্ষে যে হাফ পাস দেয়ার কথা বলা হচ্ছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। সব গণপরিবহনে শর্তহীন হাফ পাস দিতে হবে। এ ছাড়া নৌ এবং রেলপথে হাফ পাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

আন্দোলনকারীদের আরেক সমন্বয়ক মহিদুল হাসান দাউদ বলেন, ‘শর্তসাপেক্ষে শুধু মহানগরে হাফ পাস নয়, সারা দেশে শর্তহীন হাফ পাসের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। ৯ দফা দাবির বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে। অন্যথায় আমাদের আন্দোলন চলবে।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই বিধান সংবিধানে সংযোজন করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না। বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া যাবে না।

শিক্ষার্থীদের চলাচলে ফুটওভারব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা করা ও সড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিডব্রেকার দিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা সিগন্যাল দিলেই বাস থামিয়ে তাদের নিতে হবে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

আরও পড়ুন:
গুলশানে ৯ তলা থেকে পড়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
পূর্ণিমার মৃত্যুতে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা
পূর্ণিমার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের বাঁক
পূর্ণিমার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
নিখোঁজের ১০ দিন পর বাসায় ফিরলেন ৩ কলেজছাত্রী

শেয়ার করুন

এইচএসসির তৃতীয় দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ৪ হাজারের বেশি

এইচএসসির তৃতীয় দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ৪ হাজারের বেশি

পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছে পরীক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

এদিন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে সকালের শিফটের পরীক্ষায় কুমিল্লা, যশোর ও দিনাজপুর বোর্ডের তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এইচএসসি পরীক্ষার তৃতীয় দিনে দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে সাড়ে চার হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

এ ছাড়া এদিন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে সকালের শিফটের পরীক্ষায় কুমিল্লা, যশোর ও দিনাজপুর বোর্ডের তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সকালের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৪ হাজার ৫৭৩ জন। বিকেলের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ছয়জন। দুই শিফটে মোট অনুপস্থিত ছিল ৪ হাজার ৫৭৯ শিক্ষার্থী।

সকালে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ৮১৭ জন, রাজশাহী বোর্ডে ৭০৭ , কুমিল্লা বোর্ডে ৩৩০ ও যশোর বোর্ডে ৩১৭ জন।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল ২২৭ জন, সিলেট বোর্ডে ১৫২, বরিশাল বোর্ডে ২২৯, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৮৭ ও ময়মনসিংহ বোর্ডে ২০৭ জন।

বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সাধারণ বিজ্ঞান এবং খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, খাদ্য ও পুষ্টি দ্বিতীয় পত্র এবং লঘু সংগীত (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা। এতে রাজশাহী বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল ৩ জন, বরিশাল বোর্ডে ১ ও দিনাজপুর বোর্ডে ২ জন।

সাধারণত প্রতি বছরের এপ্রিলে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হলেও এ বছর করোনা মহামারির কারণে এই পাবলিক পরীক্ষা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার।

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে নিবন্ধন করেছে ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৮ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫২ জন।

সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৭ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১১৩ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৪ জন।

মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমের জন্য নিবন্ধন করেছে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪৪ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ৬১ হাজার ৭৩৮ জন এবং ছাত্রী ৫১ হাজার ৪০৬ জন।

এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৯ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৪ হাজার ৮২৭ জন এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৬৪২ জন।

দেশে ৯ হাজার ১৮৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ২ হাজার ৬২১টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

আরও পড়ুন:
গুলশানে ৯ তলা থেকে পড়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
পূর্ণিমার মৃত্যুতে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা
পূর্ণিমার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের বাঁক
পূর্ণিমার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
নিখোঁজের ১০ দিন পর বাসায় ফিরলেন ৩ কলেজছাত্রী

শেয়ার করুন

ভি রোল ফরম পাঠাতে হবে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে

ভি রোল ফরম পাঠাতে হবে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে

এনটিআরসিএ সচিব মো. ওবায়েদুর রহমান বলেন, ‘৩য় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন চলছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ২৯৫ প্রার্থী এখনও পুলিশ ভেরিফিকেশনের ভি রোল ফরম পাঠায়নি। তাদেরকে আগামী ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে ফরম পাঠানোর সুযোগ দেয়া হয়েছে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক পদে প্রাথমিক সুপারিশ পেয়েও অনেক প্রার্থী পুলিশ ভেরিফিকেশনের ভি রোল ফরম পাঠাতে পারেননি।

আগামী ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের ভি রোল ফরম পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে এনটিআরসিএ।

সোমবার বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

এ বিষয়ে এনটিআরসিএ সচিব মো. ওবায়েদুর রহমান বলেন, ‘৩য় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন চলছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ২৯৫ প্রার্থী এখনও পুলিশ ভেরিফিকেশনের ভি রোল ফরম পাঠায়নি। তাদেরকে আগামী ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে ফরম পাঠানোর সুযোগ দেয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩য় গণবিজ্ঞপ্তির আওতায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের পুলিশ-সিকিউরিটি ভেরিফিকেশনের জন্য পুলিশ প্রত্যয়ন ফরম (ভি-রোল) পূরণের জন্য সময় ছিল গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু উল্লিখিত সময়ের মধ্যে ৫ হাজার ২৯৫ জন প্রার্থীর ভি-রোল ফরম এনটিআরসিএ কার্যালয়ে আসেনি। যেসব প্রার্থীর ভি-রোল ফরম পাওয়া যায়নি তাদের তালিকা এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে (www.ntrca.gov.bd) প্রকাশ করা হয়েছে।

তারা এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে পুলিশ-সিকিউরিটি ভেরিফিকেশন বক্স থেকে ভি-রোল ফরম ডাউনলোড করে ফরমের চার কপি যথাযথ পূরণ করে উপরে রোল, ব্যাচ এবং খামের উপরে বড় অক্ষরে প্রার্থীর নিজ জেলার নাম, নিবন্ধন পরীক্ষার রোল, ব্যাচ এবং মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে ডাকযোগে এনটিআরসিএর কার্যালয়ে আগামী ২৬ ডিসেম্বর মধ্যে পাঠাতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেসব প্রার্থীর ভি রোল ফরম পাওয়া যায়নি তাদেরকে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের এসএমএসের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হবে। ২৬ ডিসেম্বরের পরে আর কোন ভি-রোল ফরম গ্রহণ করা হবে না। প্রার্থীদেরকে তাদের শিক্ষক নিবন্ধন সনদে উল্লিখিত স্থায়ী ঠিকানাই ডি-রোল ফরমের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফল গত ১৫ জুলাই রাতে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।

তবে ৫১ হাজার ৭৬১টি পদে সুপারিশ করার কথা থাকলেও সুপারিশ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৮৬ জন প্রার্থীকে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৬১০ জনকে এবং ননএমপিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৬৭৬ জনকে সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে ১৫ জুলাই এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়োগ নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৪ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দিতে আবেদনপ্রক্রিয়া শেষ করা হলেও আদালতে মামলার কারণে আবেদনকারীদের ফলাফল এত দিন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষক নিবন্ধনের ১ থেকে ১২তম পর্যন্ত পাস করেও চাকরি না পাওয়া ২ হাজার ৫০০ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে এনটিআরসিএকে সুপারিশ করে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। সে রায় ২৮ জুন বাতিল করে দেয় আপিল বিভাগ।

চলতি বছরের ৩০ মার্চ তৃতীয় ধাপে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫৪ হাজার ৩০৪ শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৫৪ হাজার ৩০৪টি শূন্যপদের মধ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ৩১ হাজার ১০১টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত পদ ২৬ হাজার ৮৩৮টি। মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে মোট শূন্যপদ ২০ হাজার ৯৯৬টি। এর মধ্যে ১৯ হাজার ১৫৪টি এমপিওভুক্ত। আর ২ হাজার ২০৭টি এমপিও পদে রিট মামলায় অংশগ্রহণদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়।

আরও পড়ুন:
গুলশানে ৯ তলা থেকে পড়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
পূর্ণিমার মৃত্যুতে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা
পূর্ণিমার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের বাঁক
পূর্ণিমার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
নিখোঁজের ১০ দিন পর বাসায় ফিরলেন ৩ কলেজছাত্রী

শেয়ার করুন

ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ্যালয়ে ভ‌র্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ্যালয়ে ভ‌র্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

প্রতি আসনের বিপরীতে ২৪ দশমিক ৮৬ প্রার্থী আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের আবেদন সর্বোচ্চ । এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির গুচ্ছভুক্ত ভর্তির আবেদনের ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে এই ফল প্রকাশ করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৪৪০টি আসনের বিপরীতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য এই তিন বিভাগে ৩৫ হাজার ৭৯২ জন আবেদন করেছেন। আবেদনে ‘এ’ (বিজ্ঞান) ইউনিটে ২০ হাজার ৫৬৮টি, ‘বি’ (মানবিক) ইউনিটে ৯ হাজার ৩২২টি এবং ‘সি’ (বাণিজ্য) ইউনিটে ৫ হাজার ৯০২টি আবেদন জমা পড়ে।

প্রতি আসনের বিপরীতে ২৪ দশমিক ৮৬ প্রার্থী আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের আবেদন সর্বোচ্চ । এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

‘এ’ ইউনিটে মেধাতালিকায় প্রথম হয়েছেন ঢাকা বোর্ডের ইত্তাসুম মাহমুদ আদিব। তার মোট স্কোর ৬৬ দশমিক ৫০। তিনি বিষয় পেয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং।

‘বি’ ইউনিটে মেধাতালিকায় প্রথম হয়েছেন রাজশাহী বোর্ডের মো. সজিব ইসলাম। তার মোট স্কোর ৮৩ দশমিক ২৫। তিনি আইন বিষয় পেয়েছেন।

‘সি’ ইউনিটে মেধাতালিকায় প্রথম হয়েছেন বরিশাল বোর্ডের ফারহানা খানম। তার মোট স্কোর ৭৯ দশমিক ৫০। তিনি ইংরেজি বিষয় পেয়েছেন।

৮ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশিত প্রথম তালিকা থেকে ভর্তি চলবে। ক্লাস শুরু হবে ২৩ জানুয়ারি থেকে। ভর্তিসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন:
গুলশানে ৯ তলা থেকে পড়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
পূর্ণিমার মৃত্যুতে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা
পূর্ণিমার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের বাঁক
পূর্ণিমার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
নিখোঁজের ১০ দিন পর বাসায় ফিরলেন ৩ কলেজছাত্রী

শেয়ার করুন

এইচএসসির দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত ৮ হাজার

এইচএসসির দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত ৮ হাজার

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, সকালের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ১১৯ জন। বিকেলের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ৫৮ জন। দুই শিফটে মোট অনুপস্থিত ছিল ৮ হাজার ১৭৭ জন শিক্ষার্থী।

এইচএসসি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে দেশের নয়টি শিক্ষা বোর্ডে আট হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। নকল করার অভিযোগে সকালের শিফটের পরীক্ষায় বরিশাল বোর্ডের দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

এদিন সকালের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ১১৯ জন। বিকেলের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ৫৮ জন। দুই শিফটে মোট অনুপস্থিত ছিল ৮ হাজার ১৭৭ জন শিক্ষার্থী।

রোববার সকালে অনুষ্ঠিত হয় যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র পরীক্ষা। এতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিত থাকে ৫৪৩ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৪৯২ জন, রাজশাহী বোর্ডে ৩৫৬ জন, বরিশাল বোর্ডে ১৭৫ জন।

এ ছাড়া সিলেট বোর্ডে অনুপস্থিত ৩২৭ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ৪৩৮ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৩২৭ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ১৪৫ জন, যশোর বোর্ডে ৩১৬ জন।

বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষা। এতে ঢাকা বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ৫৪৮ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৯৪ জন, রাজশাহী বোর্ডে ৫১৪ জন, বরিশাল বোর্ডের ৩৬০ জন, সিলেট বোর্ডের ২০০ জন, দিনাজপুর বোর্ডের ৪৫০ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪৪ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডের ৭১ জন, যশোর বোর্ডে ৩৮৪ জন।

সাধারণত প্রতি বছর এপ্রিল মাসে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হলেও এ বছর করোনা মহামারির কারণে এই পাবলিক পরীক্ষা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার।

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে নিবন্ধন করেছে ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৮ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫২ জন।

সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৭ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১১৩ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৪ জন।

মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমের জন্য নিবন্ধন করেছে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪৪ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ৬১ হাজার ৭৩৮ জন এবং ছাত্রী ৫১ হাজার ৪০৬ জন।

এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৯ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৪ হাজার ৮২৭ জন এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৬৪২ জন।

দেশে ৯ হাজার ১৮৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ২ হাজার ৬২১টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

আরও পড়ুন:
গুলশানে ৯ তলা থেকে পড়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
পূর্ণিমার মৃত্যুতে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা
পূর্ণিমার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের বাঁক
পূর্ণিমার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
নিখোঁজের ১০ দিন পর বাসায় ফিরলেন ৩ কলেজছাত্রী

শেয়ার করুন

খুলল চট্টগ্রাম মেডিক্যাল ছাত্রাবাস, নতুন করে সিট বরাদ্দ

খুলল চট্টগ্রাম মেডিক্যাল ছাত্রাবাস, নতুন করে সিট বরাদ্দ

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের প্রধান ছাত্রাবাস খুলে দেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

হোস্টেল কমিটির তত্ত্বাবধায়ক জানান, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নাছিরাবাদ হোস্টেলে সিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রোববার সকালে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার শেষে প্রধান ছাত্রাবাসে বরাদ্দ দেয়া হয়। আগামী তিন দিনে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে যাচাই-বাছাই করে সিট দেয়া হবে।

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বন্ধ হওয়ার ৩৫ দিন পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের প্রধান ছাত্রাবাস খুলে দেয়া হয়েছে। সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নতুন করে সিট বরাদ্দ দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে হোস্টেলে ওঠার অনুমতি পান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

হোস্টেল কমিটির তত্ত্বাবধায়ক সহকারী অধ্যাপক ডা. রিজওয়ান রেহান বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে হোস্টেলও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়। ২৩ নভেম্বর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় হোস্টেলের সব সিট বরাদ্দ বাতিল করে শিক্ষার্থীদের নতুন করে আবেদনের জন্য বলা হয়।

শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ অক্টোবর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় নির্ধারণ হয়। শনিবার থেকে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হল বরাদ্দ শুরু হয়।

তিনি বলেন, ‘প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নাছিরাবাদ হোস্টেলে সিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রোববার সকালে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার শেষে প্রধান ছাত্রাবাসে বরাদ্দ দেয়া হয়। আগামী তিন দিনে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে যাচাই-বাছাই করে সিট দেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন করে সিট বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সিট একসঙ্গে রাখা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলার আসামি এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর বাসিন্দাদের সিটের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।’

নূরশাদ জামান লিখন নামের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কলেজ খোলার পর ঢাকা থেকে এসে হোস্টেল বন্ধ থাকায় মসজিদে ছিলাম। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। এর মধ্যে মসজিদেও তালা দেয়া হয়েছে। এই কদিন অনেক কষ্টে ক্লাস করেছি। অবশেষে হোস্টেল খোলায় বাঁচলাম।’

এর আগে ২৯ অক্টোবর রাত ও ৩০ অক্টোবর সকালে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে দুই দফায় সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের জেরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়। ৩০ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

এদিন বিকেলে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়।

এই ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় একটি ও চকবাজার থানায় দুটি মামলা করা হয়েছে। পাঁচলাইশ থানার মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে দুই দফায় সময় বাড়ানোর পর ২২ নভেম্বর প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি। পরদিন অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ঘটনায় জড়িত ৩১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার এবং ২৭ নভেম্বর কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত নেয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, ২৭ নভেম্বর কলেজ খোলা হলেও হোস্টেল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন চট্টগ্রামের বাইরের শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
গুলশানে ৯ তলা থেকে পড়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
পূর্ণিমার মৃত্যুতে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা
পূর্ণিমার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের বাঁক
পূর্ণিমার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
নিখোঁজের ১০ দিন পর বাসায় ফিরলেন ৩ কলেজছাত্রী

শেয়ার করুন

করোনায় ঢাবি অধ্যাপক মাহমুদ হাসানের মৃত্যু

করোনায় ঢাবি অধ্যাপক মাহমুদ হাসানের মৃত্যু

অধ্যাপক মাহমুদ হাসান। ছবি: সংগৃহীত

মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘স্যারের করোনা পজিটিভ ছিল। প্রায় সাত দিন ধরে উনি হাসাপাতালে ভর্তি ছিলেন। শেষের দিকে তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। আজ সাড়ে ১২টায় তিনি মারা যান।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ হাসান।

রাজধানীর একটি হাসপাতালে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় তার মৃত্যু হয় বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘স্যারের করোনা পজিটিভ ছিল। প্রায় সাত দিন ধরে উনি হাসাপাতালে ভর্তি ছিলেন। শেষের দিকে তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। আজ সাড়ে ১২টায় তিনি মারা যান।’

আসরের নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে মাহমুদ হাসানের নামাজে জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হবে।

অবিবাহিত ছিলেন মাহমুদ হাসান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের মনিরুজ্জামান ভবনের একটি বাসায় থাকতেন তিনি।

আরও পড়ুন:
গুলশানে ৯ তলা থেকে পড়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
পূর্ণিমার মৃত্যুতে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা
পূর্ণিমার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের বাঁক
পূর্ণিমার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
নিখোঁজের ১০ দিন পর বাসায় ফিরলেন ৩ কলেজছাত্রী

শেয়ার করুন