খালেদাকে বাসায় থাকার সুযোগ দিয়েছি, এটাই বড়: প্রধানমন্ত্রী

খালেদাকে বাসায় থাকার সুযোগ দিয়েছি, এটাই বড়: প্রধানমন্ত্রী

হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

‘তারপরেও আমরা অমানুষ না। অমানুষ না দেখেই তাকে আমরা অন্তত তার বাসায় থাকার ব্যবস্থাটুকু… এক্সিকিউটিভ অথরিটি আমার হাতে যতটুকু আছে, সেটুকু দিয়ে তাকে বাসায় থাকার, চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আর বাকিটা আইনগত ব্যাপার।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেয়ার সুযোগ না দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্প্রতি বিদেশ সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একজন গণমাধ্যমকর্মীর এ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমার কাছে চান কীভাবে বলেন তো? খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বাসায় থাকতে দিয়েছি, চিকিৎসা করতে দিয়েছি, এটাই কি বেশি না?’

তিনি বলেন, ‘আপনাকে কেউ যদি হত্যা করার চেষ্টা করত, আপনি তাকে গলায় ফুলের মালা দিয়ে নিয়ে আসতেন? বলেন আমাকে?’

২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড হওয়া বিএনপি নেত্রীকে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বাসায় ফেরার সুযোগ করে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিএনপি নেত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদনে সাড়া দিয়ে নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিতের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে গুলশানের বাসভবনে পৌঁছেন বিএনপি নেত্রী।

সে সময় দুটি শর্তে এই দণ্ড স্থগিত করা হয়, যার একটি ছিল খালেদা জিয়া দেশের বাইরে যাবেন না। তবে গত এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের নেত্রীকে দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার দাবি জানানো হয়।

সম্প্রতি বিএনপি নেত্রী আবার অসুস্থ হয়ে গেছেন এবং তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও বিদেশে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

মাহমুদ আল ফয়সাল নামে একজন গণমাধ্যমকর্মী বলেন, ‘রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি বলেছে আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় তারা অংশ নেবে না। সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির এই ইস্যুতে কোনো বক্তব্য নেই। আমরা একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আগামী নির্বাচনে দেখতে চাই। এই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য আপনার সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো সংলাপের উদ্যোগ নেবেন কি না।

‘আরেকটি বিষয় আপনাকে বলি, মনজুরুল আহসান বুলবুল একটি প্রশ্ন করেছিলেন, তার একটি অংশ হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক বিরোধীদলীয় নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ট্রিটমেন্টের বিষয়টি এখন ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনি বিশেষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কি না?’

প্রধানমন্ত্রী প্রথম প্রশ্ন নিয়ে কিছু বলেননি, দ্বিতীয় প্রশ্নটির প্রসঙ্গে তিনি উপরিউক্ত মন্তব্য করার পাশাপাশি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর খুনিদের বিএনপি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলাসহ নানা প্রসঙ্গ টানেন।

সেই সাংবাদিককে তিনি বলেন, ‘আপনার পরিবারকে কেউ যদি হত্যা করত, আর সেই হত্যাকারীকে যদি কেউ বিচার না করে, পুরস্কৃত করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিত, তাদের জন্য আপনি কী করতেন?

‘আমি থাকতে হত্যাকারীকে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ৯৬ সালের ইলেকশনে ভোট দিয়ে পার্লামেন্টে বসাল। যেখানে আমি বিরোধী দলের নেতা বসতাম, সেখানে বসানো হল কর্নেল রশিদকে। কী করেছিল খালেদা জিয়া?’

খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে আরেক খুনি খায়রুজ্জামানকে চাকরি দেয়ার কথা তুলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘চাকরি দিল ফরেইন মিনিস্ট্রিতে, অ্যাম্বাসেডর করে পাঠাল। পাশা (আজিজ পাশা) একজন খুনি। মারা গেছে। মৃত ব্যক্তিকে ক্ষমতায় এসে প্রমোশন দিয়ে তার অবসর ভাতা দিয়ে দিল।’

২০০৪ সালে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পর সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নানা বক্তব্যের প্রসঙ্গও টানেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘গ্রেনেড হামলার পর বলে দিল কী? আমি ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে নিজেই আত্মহত্যা করতে নিজেই নিজেকে মেরেছিলাম।’

২০০১ সালে গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় ৭৬ কেজি বোমা পেতে হত্যাচেষ্টার বিষয়েও খালেদা জিয়ার বক্তব্য স্মরণ করান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘কোটালিপাড়ায় বোমা যখন পোঁতে, তার আগে তার বক্তব্য কী ছিল? শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা, কোনো দিন বিরোধী দলের নেতাও হতে পারবে না। সেই কথাও বলেছিল। ভেবেছিল, মরেই তো যাব।’

‘রাখে আল্লাহ মারে কে, আর মারে আল্লাহ রাখে কে?’ বহুল প্রচলিত এই কথাটি তুলে ধরে আওয়ামী লীগ-প্রধান বলেন, ‘আমার বেলায় সেটা হচ্ছে যে রাখে আল্লাহ মারে কে।’

প্রশ্নকর্তা সাংবাদিক মাহমুদ আল ফয়সালকে উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারপরও খালেদা জিয়ার জন্য এত দয়া দেখাতে বলেন? কেউ এই প্রশ্ন করলে আমার মনে হয় আপনাদের একটু লজ্জা হওয়া উচিত। দরকার নাই তো আমাকে বলার। যারা আমার বাপ, মা, ভাই, ছোট্ট রাসেলকে পর্যন্ত হত্যা করেছে…’

নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করিয়ে বাড়ি ফেরার সুযোগ করে দেয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারপরেও আমরা অমানুষ না। অমানুষ না দেখেই তাকে আমরা অন্তত তার বাসায় থাকার ব্যবস্থাটুকু… এক্সিকিউটিভ অথরিটি আমার হাতে যতটুকু আছে, সেটুকু দিয়ে তাকে বাসায় থাকার, চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আর বাকিটা আইনগত ব্যাপার।’

গ্রেনেড হামলার পর সে সময় সংসদের ঘটনা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এতজন আহত আমাদের, ২৪ জন মানুষ মারা গেছে, পার্লামেন্টে একদিন আলোচনা করতে দেয়নি। আমরা এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারিনি।

‘এত বড় অমানবিক যে, তাকেও আমি মানবতা দেখিয়েছি। আমার হাতে যেটুকু পাওয়ার সেটুকু আমি দেখিয়েছি। আর কত চান? আর কত চান আমাকে বলেন?’ সেই সাংবাদিককে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার প্র্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন সে অসুস্থ। ওই যে আমি বললাম না রাখে আল্লাহ মারে কে, মারে আল্লাহ রাখে কে। সেটি মনে করে বসে থাকেন। আমার কিছু করার নেই। আমার যতটুকু করার আমি করেছি। এটা এখন আইনের ব্যাপার।’

এই প্রশ্ন নেয়ার পর আরও একজন সাংবাদিক উঠে দাঁড়ালে তাকে সুযোগও দেননি সরকারপ্রধান। কিছুটা খেদের সুরে বলেন, ‘আমি আর প্রশ্ন নেব না। মানুষ এত নিষ্ঠুর আর অমানবিক হলে কাদের জন্য খাটি?’

আরও পড়ুন:
খালেদার দুই মামলায় চার্জ শুনানি ২ ডিসেম্বর
‘খালেদাকে বিদেশ নিতে সরকারকে চাপ দিতে হবে’
খালেদার চিকিৎসা নিয়ে আগের অবস্থানেই আইনমন্ত্রী
মানবতার স্বার্থে খালেদাকে বিদেশ নিতে দিন: ফখরুল
সিসিইউতেই আছেন খালেদা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মুরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে আওয়ামী লীগও

মুরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে আওয়ামী লীগও

ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা বিব্রত, লজ্জিত। এর বাইরে আর কী বলার আছে।’ আরেকজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। যে অডিওগুলো এসেছে এগুলো যদি সত্যি হয়, বানানো না হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা সুপারিশ করবে।’

মন্ত্রিসভা থেকে সরে যেতে হচ্ছে, এখানেই শেষ নয়, দল হিসেবেও মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুরাদের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে কোনো পদ নেই। তিনি তার নিজ জেলা জামালপুর শাখার স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নিতে হলে জেলা কমিটি থেকে সুপারিশ আসতে হবে। এরপর কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যবস্থা নেবে।

নিউজবাংলাকে ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এখনও দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়নি। আলোচনা হবে, এর পর আমি আপনাকে বলতে পারব কী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের দুই নেতার বক্তব্য ফেসবুকে প্রকাশ হলে ক্ষোভ বিক্ষোভের মধ্যে তারা স্থানীয় সরকার ও দলের পদ হারান। এরা হলেন গাজীপুরের জাহাঙ্গীর আলম ও রাজশাহীর কাটাখালীর আব্বাস হোসেন।

তবে মন্ত্রিত্ব হারালে আর দল কোনো ব্যবস্থা নিলে, এমনকি বহিষ্কার করলেও সংসদ সদস্য পদ যাবে না মুরাদের।

যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য দেয়ার ঘটনায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ ও দল থেকে বহিষ্কারের পর ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বরে তিনি নিজে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন।

মুরাদ প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ২০০৮ সালে। তবে তার আসন ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরেরবার নৌকা আবার প্রার্থী দেয় আর জিতে আসেন মুরাদ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মুরাদকে প্রথমে করা হয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। রাজধানীর একটি অভিজাত হাসপাতালে একটি ঘটনায় তার দপ্তর বদল করে করা হয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তবে মন্ত্রিসভা ও দলে তার অবস্থান বেশ সংহতই ছিল।

আওয়ামী লীগের গবেষণা শাখা সিআরআইএ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেতা সম্প্রতি ৭২ এর সংবিধানে ফিরে গিয়ে রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের দাবি তোলেন। তার এই দাবি সেক্যুলার রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের মধ্যে জনপ্রিয়ও হয়।

তবে তিনি সম্প্রতি একটি অনলাইট টকশোতে এসে যে ভাষায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তার নাতনি জাইমা রহমানকে আক্রমণ করেন, সেটিতে নিন্দার ঝড় উঠে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে অশালীন ভাষায় ঘায়েল করার এই চেষ্টার পর প্রতিবাদ জানায় বিএনপি। নারী নেত্রীরাও এর সামলোচনা করেন। তিনি এই ধরনের বক্তব্য দিয়েও কীভাবে মন্ত্রিসভায় থাকেন, সেই প্রশ্ন তোলে বিভিন্ন নারীবাদী সংগঠন।

এর মধ্যে প্রতিমন্ত্রীর কাছে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চান, তিনি দুঃখ প্রকাশ করবেন কি না। জবাবে মুরাদ বলেন, তিনি বক্তব্যে অটল আর রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সমালোচনাকে গা করছেন না।

এর মধ্যে ফেসবুকে একটি ফোন রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে, যাতে পুরুষ কণ্ঠের একজন মুরাদ হাসান বলে চিহ্নিত হন। তিনি একজন চিত্রনায়িকাকে তার কাছে যেতে বলেন। না গেলে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তুলে নেয়ার হুমকি দেন। আর সেই নায়িকাকে ধর্ষণ করার ইচ্ছাও পোষণ করেন।

এর আগে আরও একটি অনলাইন সাক্ষাৎকারে মুরাদ হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেত্রীদেরকে নিয়েও করেন আপত্তিকর মন্তব্য। এসব ঘটনায় ঘরে বাইরে সব জায়গায় অবস্থান হারান তিনি।

এসব ঘটনায় সোমবার রাতে মুরাদকে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। জানান, মঙ্গলবারের মধ্যেই তাকে পদত্যাগ করতে হবে।

এর মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ একটি প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করে মুরাদের শাস্তির দাবিতে। নেতারা বলেন, কেবল মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ নয়, মুরাদকে ক্ষমা চাইতে হবে, নইলে তিনি পার পাবেন না।

দিনভর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে নিউজবাংলার। তারা সবাই বলেছেন, মুরাদ যা করেছেন, তাতে তারা বিব্রত, এটা লজ্জাজনক।

ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা বিব্রত, লজ্জিত। এর বাইরে আর কী বলার আছে।’

আরেকজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। যে অডিওগুলো এসেছে এগুলো যদি সত্যি হয়, বানানো না হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা সুপারিশ করব।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে তো আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক মন্তব্য কথা বলেছেন। তার বক্তব্যই আমার বক্তব্য।’

মুরাদকে পদত্যাগ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ জানানোর আগে সোমবার দুপুরে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, মুরাদের বক্তব্যের সঙ্গে আওয়ামী লীগ বা সরকারের অবস্থানের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের বা সরকারের কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য এসব না। এই ধরনের বক্তব্য কেন সে দিল, অবশ্যই আমি বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব।’

আরও পড়ুন:
খালেদার দুই মামলায় চার্জ শুনানি ২ ডিসেম্বর
‘খালেদাকে বিদেশ নিতে সরকারকে চাপ দিতে হবে’
খালেদার চিকিৎসা নিয়ে আগের অবস্থানেই আইনমন্ত্রী
মানবতার স্বার্থে খালেদাকে বিদেশ নিতে দিন: ফখরুল
সিসিইউতেই আছেন খালেদা

শেয়ার করুন

মুরাদের বিচার চেয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ

মুরাদের বিচার চেয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ

সোমবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিমন্ত্রী মুরাদের কুশপুতুল দাহ করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। ছবি: নিউজবাংলা

বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে অনেকে অনেকে বলে থাকেন পাগল। কিন্তু তিনি পাগল বা উন্মাদ নন। তিনি জাতে মাতাল তালে ঠিক। ধর্ম নিয়ে শুরু করে তিনি নারী সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে কুরুচিকর বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। ছাত্র অধিকার পরিষদ এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।’

নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ ও ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য করায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের কুশপুতুল দাহ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। একই সঙ্গে তারা মুরাদ হাসানকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এই কুশপুতুল পোড়ানো হয়।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী মুরাদের কুশপুতুল নিয়ে জুতা মিছিল করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে শুরু হয়ে শামসুন নাহার হলের পাশ দিয়ে রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।

মিছিল শেষে মুরাদের কুশপুতুলে জুতা ছুড়ে মারেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ‘মুরাদের চামড়া, তুলে নিব আমরা’, ‘মুরাদের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘ম তে মুরাদ, তুই ধর্ষক তুই ধর্ষক’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

ছাত্র অধিকার পরিষদ সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদীবের নেতৃত্বে এতে অংশ নেন পরিষদের কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখার অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।

বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, 'প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে অনেকে অনেকে বলে থাকেন পাগল। কিন্তু তিনি পাগল বা উন্মাদ নন। তিনি জাতে মাতাল তালে ঠিক। ধর্ম নিয়ে শুরু করে তিনি নারী সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে কুরুচিকর বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। ছাত্র অধিকার পরিষদ এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।'

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি এই লাগামহীন বলদকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসুন। অন্যথায় আমরা ছাত্র সমাজের প্রতি আহ্বান জানাব- আপনারা তাকে (মুরাদ হাসান) যেখানে পাবেন সেখানে গণধোলাই দেবেন।’

ঢাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, ‘আমরা দেখেছি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য। এটা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বাংলাদেশের সব মেয়ের জন্য অপমানজনক।

‘এখন কেন ডিজিটাল আইনের প্রয়োগ দেখি না। কেন তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বিচার হবে না। তাকে বিচারের আওতায় আনা না হলে আমরা নারী শিক্ষার্থীরা সারা দেশে আন্দোলন শুরু করব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে পদত্যাগ করতে বলেছেন জানালে ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাবি শাখার দফতর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, ‘তাকে অপসারণ করলেই হবে না। তিনি যে মন্তব্য করেছেন তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

আরও পড়ুন:
খালেদার দুই মামলায় চার্জ শুনানি ২ ডিসেম্বর
‘খালেদাকে বিদেশ নিতে সরকারকে চাপ দিতে হবে’
খালেদার চিকিৎসা নিয়ে আগের অবস্থানেই আইনমন্ত্রী
মানবতার স্বার্থে খালেদাকে বিদেশ নিতে দিন: ফখরুল
সিসিইউতেই আছেন খালেদা

শেয়ার করুন

পাপ বাপকেও ছাড়ে না: ব্যারিস্টার সুমন

পাপ বাপকেও ছাড়ে না: ব্যারিস্টার সুমন

ফেসবুক লাইভে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ছবি: সংগৃহীত

‘একটু আগে খবর পেলাম যে প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’

বিতর্কিত মন্তব্য করে তুমুল সমালোচিত তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগ করতে বলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন- পাপ বাপকেও ছাড়ে না।

সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই আইনজীবী বলেন, ‘একটু আগে খবর পেলাম যে প্রধানমন্ত্রী উনাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।

‘শুধু মন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করলে হবে না। উনি যে এলাকার এমপি, জামালপুরের এমপি; এমপি হিসেবে বহু মানুষ, বহু মেয়ে তার কাছে যাবে সাহায্যের জন্য। উনার এই চরিত্র নিয়ে যদি এই মেয়েদের... যে ধরনের কথা আসতেছে, সেই চরিত্র নিয়ে কি এমপি থাকার ন্যূনতম যোগ্যতা তার আছে?’

প্রশ্ন তুলে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘এই ব্যক্তির নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সৈনিক হিসেবে দাবি করার কোনো যোগ্যতা আছে? ওনার যে তিন-চারটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়াতে আছে, আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, জরুরিভিত্তিতে সেগুলো অপসারণের ব্যবস্থা করুন। কারণ ভিডিওগুলো অপসারণ না করলে বাচ্চারা এ ধরনের গালাগালি ও অশ্লীল কথাবার্তা শুনে মানসিকভাবে অসুস্থ হবে। তারা এমন একটি অসুস্থ পরিবেশে বড় হবে।

‘আমি মনে করি, ওনার পদত্যাগও অতোটা জরুরি না, যতোটা জরুরি এই ভিডিওগুলো সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরানো। এই ভিডিওগুলো না সরালে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের যে বিতৃষ্ণা তা আরও বেড়ে যাবে।’

সুমন আরও বলেন, ‘আমি সবসময় বলতাম, মায়ের থেকে যখন মাসির দরদ বেশি হয়ে যায়...। এই ভদ্রলোককে যখন দেখছি কথায় কথায় এত বেশি দরদ দেখাচ্ছেন তখনই আমার সন্দেহ হয়েছিল। এটাকেই আমি সবচেয়ে অপছন্দ করি। আপনি নিজের কাজটুকু করে যান, আপনার এলাকায় মানুষের সেবা করে যান। আপনার দায়িত্ব স্বয়ং বিধাতা নিতেন। আপনি যদি ভালো কাজ করেন, আপনার নেত্রী এমনিই টানবেন।

‘পাপ বাপরেও ছাড়ে না। পাপ যখন ম্যাচিউর হয় তখন নাকি কাউকেই ছাড়ে না। আমি জানি না উনি মন্ত্রিত্ব পেয়ে কেন দলকে এত বিতর্কিত করলেন। আমরা যারা সাপোর্ট করি, আমাদেরকে কেন বিতর্কিত করলেন। আমি মনে করি যে তাকে পদত্যাগ করতে বলাটা যথার্থ সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী মুরাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের তথ্য উল্লেখ করে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘অধ্যাপক মতিউর রহমান উনার বাবা, অত্যন্ত সম্মানীয় মানুষ। উনার ইজ্জতের দিকে তাকিয়ে হলেও এই পদ থেকে উনার রিজাইন করা উচিত বলে আমি মনে করি। এতে তার পরিবারটা বেচে যাবে। এর দায় পরিবারকে বহন করতে হবে না। তা না হলে যে ইতিহাস তিনি সৃষ্টি করেছেন, আমার মনে হয় সেই ইতিহাসে উনার পরিবারও অনেক বেশি প্রভাবিত হবে।’

আরও পড়ুন:
খালেদার দুই মামলায় চার্জ শুনানি ২ ডিসেম্বর
‘খালেদাকে বিদেশ নিতে সরকারকে চাপ দিতে হবে’
খালেদার চিকিৎসা নিয়ে আগের অবস্থানেই আইনমন্ত্রী
মানবতার স্বার্থে খালেদাকে বিদেশ নিতে দিন: ফখরুল
সিসিইউতেই আছেন খালেদা

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপি নেতাদের ধন্যবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপি নেতাদের ধন্যবাদ

‘আমি আপনার থেকে প্রথম শুনলাম (মুরাদের পদত্যাগের নির্দেশ)। যদি এটি হয়ে থাকে, তাহলে এটি সঠিক কাজ হয়েছে। যদি এই সিদ্ধান্ত তিনি (প্রধানমন্ত্রী) নিয়ে থাকেন, তাহলে আমি বলব বহুদিন পর উনি একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি ওনাকে আমার ব্যক্তিগত জায়গা থেকে ধন্যবাদ জানাই।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার পর ফাঁস হওয়া ফোনালাপে নারীর প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করা তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা।

মুরাদের পদত্যাগের দাবি তোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারপ্রধান এই নির্দেশ দেয়ার পর নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও সেলিমা রহমান।

আব্বাস বলেন, ‘আমি আপনার থেকে প্রথম শুনলাম (মুরাদের পদত্যাগের নির্দেশ)। যদি এটি হয়ে থাকে, তাহলে এটি সঠিক কাজ হয়েছে। যদি এই সিদ্ধান্ত তিনি (প্রধানমন্ত্রী) নিয়ে থাকেন, তাহলে আমি বলব বহুদিন পর উনি একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি ওনাকে আমার ব্যক্তিগত জায়গা থেকে ধন্যবাদ জানাই।’

দুই দিন আগে একটি অনলাইন টকশোয় এসে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য দেন।

এ নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যেই ফেসবুকে একটি টেলিফোনালাপ ভাইরাল হয়েছে। বলা হচ্ছে, এটি মুরাদের। সেখানে শোনা যায়, তিনি একজনকে ফোন করে এক চিত্রনায়িকাকে তার কাছে যেতে বলেন। এই কথোপকথনে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘অসভ্য’ উল্লেখ করে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যও দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার বিকেলে রাজধানীতে এক আলোচনায় বিএনপি নেতাদের তীব্র প্রতিবাদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের মধ্যে সরে যেতে হবে মুরাদকে। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ তাকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

এই নির্দেশের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা আব্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, ওনার নিজেরও সন্তান আছে। আমাদেরও সন্তান আছে। আমরা রাজনীতি করি, মাঠেঘাটে মার খাই। কিন্তু আমাদের রাজনীতির বলি কেন আমাদের সন্তানরা হবে?’

বিএনপি নেতা বলেন ‘শুধু আমাদের কথা কেন, এই যে নারী নেত্রীরা এটা নিয়ে সমালোচনা করছেন। সাংবাদিকতার জায়গা থেকে বলুন, যে শব্দ তিনি (মুরাদ) ব্যবহার করেছেন, যে অশ্রাব্য কথা তিনি বলেছেন, সেটা গ্রহণযোগ্য কি না?’

মির্জা আব্বাস এও মনে করেন, মুরাদকে পদত্যাগের জন্য নির্দেশ না দিয়ে তাকে বরখাস্ত করতে পারতেন প্রধানমন্ত্রী। তাহলে তিনি আরও খুশি হতেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সেলিমা রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ওনার (প্রধানমন্ত্রী) বিবেচনাবোধে ধরেছে, তা থেকে তিনি এটা করেছেন, এ জন্য আমরা খুশি। তাই কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘যে অশ্রাব্য ভাষা এই প্রতিমন্ত্রী ব্যবহার করেছেন, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনীতি আমিও করি, আমিও একজন নারী, উনিও (প্রধানমন্ত্রী) একজন নারী। আমরা রাজনীতি করব, কিন্তু আমাদের সন্তানরা তো রাজনীতি করে না। আর রাজনীতি করলেই বা কী, রাজনীতির একটা ভাষা আছে। সমালোচনা করার একটা ভাষা আছে। কিন্তু তিনি (মুরাদ) যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, সেটি পুরো দেশের জন্য একটি কলঙ্কময়।‘

দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওনাকে (মুরাদ) আরও আগেই পদত্যাগ করিয়ে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। এখন সেটা হয়েছে, ঠিক আছে, কিন্তু শাস্তির কী হবে?’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা। তিনি ফোন ধরে প্রশ্ন শুনে বলেন, ‘আমি এই মাত্র ঘরে ফিরেছি। আপনি ৫ মিনিট পরে ফোন দিন।’

তবে ৫ মিনিট পর কল করলে বিএনপি নেতা আর ফোন ধরেননি। একবার কলটি কেটে দেয়া হয়, পরে ফোন বেজে চললেও সেটি আর ধরেননি তিনি।

আরও পড়ুন:
খালেদার দুই মামলায় চার্জ শুনানি ২ ডিসেম্বর
‘খালেদাকে বিদেশ নিতে সরকারকে চাপ দিতে হবে’
খালেদার চিকিৎসা নিয়ে আগের অবস্থানেই আইনমন্ত্রী
মানবতার স্বার্থে খালেদাকে বিদেশ নিতে দিন: ফখরুল
সিসিইউতেই আছেন খালেদা

শেয়ার করুন

মুরাদকে ক্ষমা চাইতে হবে: ঢাবি ছাত্রলীগ নেত্রীরা

মুরাদকে ক্ষমা চাইতে হবে: ঢাবি ছাত্রলীগ নেত্রীরা

২৯ নভেম্বর অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সভায় রকস্টারের ভূমিকায় প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি এবং কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি যাদের ভালোবাসা-শ্রদ্ধা আছে তাদের কেউ প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে সমর্থন করতে পারে না।

নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ ও ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়া তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে প্রত্যাখ্যান করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের নারী নেত্রীরা। তারা বলছেন, নারীর প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে মুরাদকে।

নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ ও ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য করে আগে থেকেই তীব্র সমালোচনার মধ্যে আছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। এর মধ্যে একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে তোপের মুখে পড়েন তিনি।

তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার মধ্যে সোমবার রাতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, মুরাদকে মঙ্গলবারের মধ্যে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ১ ডিসেম্বর রাতে ‘অসুস্থ খালেদা, বিকৃত বিএনপির নেতাকর্মী’ শিরোনামে এক ফেসবুক লাইভে এসে তুমুল বিতর্কের জন্ম দেন প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। এরপর রোববার রাতে আরেকটি লাইভেও আপত্তিকর বিভিন্ন মন্তব্য করেন তিনি। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেত্রীদের নিয়েও অশোভন উক্তি করেন মুরাদ।

প্রতিমন্ত্রী মুরাদ বলেন, ‘এরা আবার জয়বাংলার কথা বলে। এরা আবার ছাত্রলীগ করছে নাকি। এরা নাকি আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। এরা নাকি আবার নেত্রী ছিল হলের। কেউ কেউ বলে শামসুন নাহার হল, কেউ কেউ আবার রোকেয়া হল, বিভিন্ন হলের নাকি নেত্রী টেত্রী ছিল।

‘কিন্তু রাতের বেলায় এরা নিজেদের রুমে থাকতেন, ঘুমাতেন হোটেলে হোটেলে। কারণ ফাইভ স্টার হোটেলে থাকার মজা আর রোকেয়া হল, শামসুন নাহার হলে থাকা, এটা কি এক কথা?’

তিনি বিদ্রূপের স্বরে আরও বলেন, ‘আমি এর থেকে বেশি বললে আপনার এই শো শেষ হইতে না হইতেই মিছিল শুরু হয়ে যাইতে পারে কিন্তু…’ এরপর উচ্চস্বরে হাসতে থাকেন মুরাদ।

রোববার রাতের লাইভটি প্রতিমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি নাহিদ রেইনসের পেজ নাহিদ রেইনস পিকচার্সেও যে ভিডিওটি আছে, সেখান থেকে বাদ দেয়া হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেত্রীদের নিয়ে প্রতিমন্ত্রী মুরাদের বক্তব্য।

মুরাদের এসব বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি এবং কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুধু ছাত্রলীগ নয়, আওয়ামী লীগের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করে। যেই বঙ্গবন্ধু নারীদের এতো উপরের আসনে আসীন করেছেন, সেই বঙ্গবন্ধুর নামে রাজনীতি করে যদি কেউ নারীদের নিয়ে কটূক্তি করে এ ধরনের মন্তব্য করে সে আসলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসই করে না।'

বঙ্গবন্ধুর প্রতি যাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আছে তাদের কেউ প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে সমর্থন করতে পারে না বলে মনে করেন তিলোত্তমা। তিনি বলেন, ‘জাতির সামনে এসে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি উনাকে তার এই বক্তব্য উঠিয়ে নিতে হবে।’

তিলোত্তমা বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী নেতৃত্বের আলেকবর্তিকা নিয়ে সারা বিশ্বে এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীও নারীর প্রতি এ ধরনের কোন বক্তব্যকে প্রশ্রয় ও সমর্থন করবেন না বলে আমি বিশ্বাস করি।’

গণমাধ্যমে এসে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ছাত্রলীগ শামসুন নাহার হল শাখার সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তা।

নিজের ফেসবুকে লেখা স্ট্যাটাসে এই ছাত্রলীগ নেত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আসনে বসা কোন ব্যক্তির মুখের ভাষার এই শ্রী শুনে মনে হচ্ছে আমরা দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। এসব নিয়ে কথা বলার রুচি আসলেই নাই। কিন্তু ডোন্ট কেয়ার মুডে থাকলে বা নীরব থাকলে সমাজের অতি বুঝদার শ্রেণী মনে করে অপরাধী, তাই হয়ত চুপ মেরে আছে।’

এসব প্রসঙ্গে কথা বলা উচিত বলে মনে করেন জিয়াসমিন শান্তা। তিনি বলেন, ‘আমাদেরই বলতে হবে; নয়তো এসব ফালতু লোকের মুখ দিয়ে বের হওয়া বিষে সব ধ্বংস হয়ে যাবে। এই লোক এতবড় স্পর্ধা নিয়ে কথা বলে যদি বহালতবিয়্যতে থাকে তাহলে দলের সবাইকে বলছি-রাজনীতি করা একটি মেয়েও যদি নৈতিক, চরিত্রবান থেকে থাকে তার দীর্ঘশ্বাস থেকে কেউ রক্ষা পাবে না।’

শান্তা বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী সাহেব, চাওয়া বা যোগ্যতার চেয়ে বেশি পেয়ে গেছেন। তাই হজম না হয়ে বদহজম হওয়াতেই এসব কথাবার্তা বলছেন। আপনার রিহ্যাবে যাওয়া উচিত।’

প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে ‘সাইকো’ ছাড়া আর কিছুই মনে হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর বাতুল লোক সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় পদে থাকার যোগ্য নয়। তার যে মুখের ভাষা সে মুখে পবিত্র জয়বাংলার কথা শুনলে লজ্জা, ঘৃণা ও ক্রোধ হয়।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সদস্য ফরিদা পারভিন বলেন, ‘মুরাদ হাসানের এমন বক্তব্য কুরুচিপূর্ণ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের নিয়ে যে অশোভন এবং নারী বিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করেছেন তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচার বা সংস্কৃতি না বুঝে, তিনি হলে না থাকার বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন এটির আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। মাননীয় নেত্রীর কাছে আমাদের আবেদন, তার বিরুদ্ধে যেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়।’

এদিকে নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ ও ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য করার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সোমবার বিকালে ক্যাম্পাসে প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের কুশপুতুলে আগুন দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
খালেদার দুই মামলায় চার্জ শুনানি ২ ডিসেম্বর
‘খালেদাকে বিদেশ নিতে সরকারকে চাপ দিতে হবে’
খালেদার চিকিৎসা নিয়ে আগের অবস্থানেই আইনমন্ত্রী
মানবতার স্বার্থে খালেদাকে বিদেশ নিতে দিন: ফখরুল
সিসিইউতেই আছেন খালেদা

শেয়ার করুন

স্বৈরাচারের উত্থান এরশাদ পতনের পর: জাতীয় পার্টি

স্বৈরাচারের উত্থান এরশাদ পতনের পর: জাতীয় পার্টি

‘এখন রাস্তায় নেমেই কেউ স্লোগান দিতে পারে না, স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক। এ থেকেই বোঝা যায় দেশের মানুষ কতটা গণতন্ত্র ভোগ করছে।’

সামরিক সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময়কার স্লোগান ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’কে দুর্ভাগ্যজনক বলেছেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তার দাবি, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পতনের পরই স্বৈরাচারের উত্থান হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরেও আমাদের বলতে হচ্ছে, স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর হতে পারে না।’

গণ-অভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের ৩১তম বার্ষিকীতে সোমবার বনানীতে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন জাপা নেতা। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দিবসটিকে ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ হিসেবে পালন করলে জাতীয় পার্টি এটি পালন করে ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ হিসেবে। দলটির দাবি, এরশাদ সেদিন পদত্যাগ করে সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছিলেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘কিছু মানুষ অন্যায়ভাবে পল্লিবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে স্বৈরাচার বলেন। কিন্তু কেন স্বৈরাচার বলেন তার উত্তর দিতে পারেন না। পল্লিবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চেয়ে ছোট স্বৈরাচার কে?’

এরশাদ সংবিধান মেনে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন বলে দাবি করে তার ভাই বলেন, ‘১৯৮২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে সামরিক বাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। আবার ১৯৯০ সালে সংবিধান সমুন্নত রেখে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সংবিধানিক নিয়মনীতি মেনেই ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন।’

জি এম কাদেরের দাবি, তার ভাই ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকেই স্বৈরাচারের উত্থান হয় আর গণতন্ত্র নিপাত যেতে শুরু করে।

এরশাদ সরকারের আমলের চেয়ে বর্তমান শাসন আরও কঠোর বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘এখন রাস্তায় নেমেই কেউ স্লোগান দিতে পারন না, স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক। এ থেকেই বোঝা যায় দেশের মানুষ কতটা গণতন্ত্র ভোগ করছে।’

দেশে সাংবিধানিকভাবেই একনায়কতন্ত্র চলছে- এই বিষয়টি বেশ কয়েক দিন ধরেই বলছেন জি এম কাদের। সেটি আবার উল্লেখ করে বলেন, ‘একটি দলের প্রধান সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দেশের নির্বাহী বিভাগের প্রধান হন তিনি। আবার সরকারপ্রধানের সিদ্ধান্তের বাইরে দলীয় সংসদ সদস্যরা ভোট দিতে পারে না, তাই সরকারপ্রধান যা বলেন তার বাইরে কিছুই হতে পারে না।

‘এতে আইন সভা সরকারপ্রধানের অধীনে। অপর দিকে বিচার বিভাগ রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে শতকরা ৯৫ ভাগই সরকারপ্রধানের অধীনে। তাই রাষ্ট্রে প্রধান তিনটি বিভাগ এক ব্যক্তির অধীনে থাকায় এক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, যাকে সাংবিধানিক একনায়কতন্ত্র বলা যায়।’

এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তরের পর বিএনপি ও আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে মানুষে মানুষে বৈষম্য তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ করেন জি এম কাদের। বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের কর্মী না হলে পরীক্ষায় প্রথম হয়েও কেউ চাকরি পায় না। সরকারি দলের সদস্য না হলে কেউ ব্যবসা করতে পারে না। তেমনিভাবে সরকারি দলের হলে এক ধরনের আইন আর বিরোধীদের জন্য আলাদা আইন।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, জহিরুল ইসলাম জহির, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শেরীফা কাদেরও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
খালেদার দুই মামলায় চার্জ শুনানি ২ ডিসেম্বর
‘খালেদাকে বিদেশ নিতে সরকারকে চাপ দিতে হবে’
খালেদার চিকিৎসা নিয়ে আগের অবস্থানেই আইনমন্ত্রী
মানবতার স্বার্থে খালেদাকে বিদেশ নিতে দিন: ফখরুল
সিসিইউতেই আছেন খালেদা

শেয়ার করুন

মন্ত্রিসভায় নোংরা লোক: মির্জা আব্বাস

মন্ত্রিসভায় নোংরা লোক: মির্জা আব্বাস

‘এগুলো সহ্য করা যায় না, এগুলো আমরা সহ্য করব না। এর প্রতিবাদ করতে হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই সমস্ত নোংরা লোকজনকে মন্ত্রিসভায় স্থান নিয়ে বাংলাদেশের সচিবালয়কে অপবিত্র করা হয়েছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে ‘নোংরা লোক’ উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, তাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে সচিবালয়কে অপবিত্র করা হয়েছে।

অনলাইন টক শোতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের ছেলে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রাখার মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে আছেন। নারী সংগঠনগুলো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও জানিয়েছে। এর মধ্যে ফেসবুকে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপে প্রতিমন্ত্রীর নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গী নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীতে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ স্মরণে এক আলোচনায় বিএনপি নেতারাও মুরাদের তীব্র নিন্দা করলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ফুটপাত থেকে ধরে এনে মন্ত্রী বানিয়েছে। বাংলাদেশের লোক ফুটপাতের মন্ত্রী দেখতে চায় না, বাংলাদেশের লোক চোর-বাটপার দেখতে চায় না, বাংলাদেশের ঘুষখোর লোক মন্ত্রী দেখতে চায় না, বাংলাদেশের লোক তাদের অশ্রাব্য, অকথ্য কথাবার্তা শুনতে চায় না।’

বেগম খালেদা জিয়া ও জাইমা রহমানকে নিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো সহ্য করা যায় না, এগুলো আমরা সহ্য করব না। এর প্রতিবাদ করতে হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই সমস্ত নোংরা লোকজনকে মন্ত্রিসভায় স্থান নিয়ে বাংলাদেশের সচিবালয়কে অপবিত্র করা হয়েছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকারকে বলতে চাই, এত মারপ্যাঁচ না করে আপনারা সোজাসুজি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেবেন কি দেবেন না। আমরা সাফ সাফ কথা জানতে চাই, এখনই জানতে চাই। আপনাদের এত কথা শুনতে চাই না। নইলে দেশের জনগণ এই সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে সুচিকিৎসার জন্য নেবে।'

রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সাবেক সামরিক শাসক প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদ পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে বিএনপি এই দিনকে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ হিসেবে উদযাপন করে আসছে।

ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মিলনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় নব্বইযের সাবেক ছাত্র নেতার মধ্যে আসাদুজ্জামান রিপন, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নাজিম উদ্দিন আলম, জহির উদ্দিন স্বপন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলও বক্তব্য রাখেন।

এই আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সভাস্থলে ব্যাপক হাঙ্গামা হয়।

ফখরুল জানিয়েছিলেন, প্রতিমন্ত্রী মুরাদ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদল করতেন। তখন যুবদলের এক নেতা তার সঙ্গে বাক বিতণ্ডায় পড়িয়ে পড়লে সভাস্থলে হৈ চৈ শুরু হয়।

আরও পড়ুন:
খালেদার দুই মামলায় চার্জ শুনানি ২ ডিসেম্বর
‘খালেদাকে বিদেশ নিতে সরকারকে চাপ দিতে হবে’
খালেদার চিকিৎসা নিয়ে আগের অবস্থানেই আইনমন্ত্রী
মানবতার স্বার্থে খালেদাকে বিদেশ নিতে দিন: ফখরুল
সিসিইউতেই আছেন খালেদা

শেয়ার করুন