পূর্ণাঙ্গ রায়ে নেই ‘৭২ ঘণ্টা পর মামলা না নেয়ার’ নির্দেশনা

পূর্ণাঙ্গ রায়ে নেই ‘৭২ ঘণ্টা পর মামলা না নেয়ার’ নির্দেশনা

বিচারক কামরুন্নাহারের স্বাক্ষরসহ পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি প্রকাশিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বিচারক লিখেছেন, ‘যৌনজীবনে অভ্যস্ত প্রাপ্তবয়স্ক অনেক নারী এখানে বিচারের জন্য আসেন, যেখানে দেখা যায় কথিত ঘটনার অনেক দিন পর তাদের মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়েছে। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর ওপর যৌন সহিংসতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। মামলা করার সময় বিষয়টিতে নজর রাখা হলে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হলে, ধর্ষণের যে কোনো ধরনের নমুনা যথাযথভাবে পাওয়া গেলে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় সেগুলো প্রমাণ হলে, তা ধর্ষণ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে গ্রহণ করা যায়।’

আলোচিত রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলায় বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারের দেয়া রায়ের লিখিত কপি প্রকাশিত হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ রায়ে ধর্ষণের ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পরে মামলা না নিতে পুলিশকে নির্দেশনা দেয়ার কোনো উল্লেখ নেই।

আলোচিত ওই ধর্ষণ মামলার লিখিত রায় মঙ্গলবার রাতে প্রকাশ হয়। বিচারক কামরুন্নাহারের স্বাক্ষরসহ পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাঠানো হয়েছে আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্টে।

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে চার বছর আগে দুই তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় গত ১১ নভেম্বর রায় দেন কামরুন্নাহার। সে সময় তিনি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক ছিলেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ের লিখিত কপিতেও কামরুন্নাহার সই করেন ১১ নভেম্বর।

রায়ে পাঁচ আসামির সবাইকে খালাস দেয়া হয়। তারা হলেন, আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু সাদমান সাকিফ, নাঈম আশরাফ, সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন।

রায় ঘোষণার সময় পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, আক্রান্ত হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেডিক্যাল টেস্ট করা না হলে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায় না। এতে মামলা প্রমাণ করা দুরূহ হয়ে পড়ে।

ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পর এ সংক্রান্ত মামলা না নিতে কামরুন্নাহার মৌখিক পরামর্শ দেন বলেও সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়।

বিচারক কামরুন্নাহারের এমন মন্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যে গত রোববার প্রধান বিচারপতি তার বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার করেন। এছাড়া তাকে ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রত্যাহার করে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়।

তবে ৫০ পৃষ্ঠার লিখিত রায়ে ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পর পুলিশকে মামলা না নিতে বিচারক কামরুন্নাহারের কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

ইংরেজিতে লেখা পূর্ণাঙ্গ রায়ে সুনির্দিষ্টভাবে মামলাকারী তরুণীদের ‘যৌনকাজে অভ্যস্ত’ বলেও মন্তব্য করা হয়নি।

ট্রাইব্যুনাল বহু ধর্ষণ মামলা দেখেছেন উল্লেখ করে বিচারক লিখেছেন, ‘যৌনজীবনে অভ্যস্ত প্রাপ্তবয়স্ক অনেক নারী এখানে বিচারের জন্য আসেন, যেখানে দেখা যায় কথিত ঘটনার অনেক দিন পর তাদের মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়েছে। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর ওপর যৌন সহিংসতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। মামলা করার সময় বিষয়টিতে নজর রাখা হলে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হলে (বহু মামলায় চিকিৎসকেরা যেমন মতামত দিয়েছেন), ধর্ষণের যে কোনো ধরনের নমুনা যথাযথভাবে পাওয়া গেলে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় সেগুলো প্রমাণ হলে, তা ধর্ষণ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে গ্রহণ করা যায়।

‘তখন ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার এবং ন্যায়বিচার সর্বোত্তমভাবে করা সম্ভব।’

রেইনট্রি মামলার দুই বাদীর বিষয়ে বিচারক কামরুন্নাহার লিখেছেন, ‘প্রাপ্তবয়স্ক দুই ভুক্তভোগীর মেডিক্যাল পরীক্ষা যদি ঘটনার পরপরই হতো অথবা যত দ্রুত সম্ভব করা হতো, তাহলে বিচারের ক্ষেত্রে ধর্ষণের আলামত পাওয়া সম্ভব হতো। এমনকি তারা ঘটনার পরপরই বা ওই দিনই মামলা করলে পুলিশ তাদের মুখ, গাল বা শরীরের অন্য কোনো অংশে যৌন সহিংসতার আলামত চিহ্নিত করতে পারত। আর বিচারের ক্ষেত্রে সেগুলো হতো নথিভুক্ত প্রমাণ।’

ঘটনার ৩৮ দিন পর মামলা হওয়ায় এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণের অভাবে অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণ করা যায়নি বলেও রায়ে উল্লেখ করেন বিচারক কামরুন্নাহার।

বিচারক লিখেছেন, ‘বাদীরা প্রথমে মামলা করতে যাননি। বরং ঘটনার দীর্ঘ সময় পর সাফাতের সাবেক স্ত্রী ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করাতে বাদীদেরকে নিয়ে যান। এতে প্রমাণ হয় মামলাটি সাজানো।

‘এছাড়া বাদীপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণে রয়েছে অসঙ্গতি, অসামঞ্জস্যতা, যেটি ঘটনা বিশ্বাসযোগ্য করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে না। এটি মামলাটির গোড়ায় আঘাত করেছে।’

রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও লিখিত রায়ে উল্লেখ করেন বিচারক।

রায়ের আদেশ অংশে তিনি লিখেছেন, ‘অভিযুক্ত সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিব, বিল্লাল হোসেন ও রহমত আলীর বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যে কারণে তাদেরকে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১)/৩০ ধারায় অপরাধ থেকে খালাস দেয়া হলো।’

আরও পড়ুন:
সেই বিচারককে নিয়ে চিঠি দিয়ে অন্যায় করিনি: আইনমন্ত্রী
রেইনট্রি মামলার এমন রায়ের পেছনে টাকা, ক্ষমতা: ফখরুল
রেইনট্রি ধর্ষণ মামলা: ‘সঠিক তদন্ত না হওয়ায় এমন রায়’
‘রায়ের আগে প্রচার না করাই ভালো ছিল’
খালাস পেয়ে আসামিরা বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ছাত্রদল নেতার মৃত্যু: ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৮ জনের নামে মামলা

ছাত্রদল নেতার মৃত্যু: ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৮ জনের নামে মামলা

পাঁচবিবি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি নেতা ডালিম নিউজবাংলাকে জানান, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হঠাৎ এসে তার মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মামলা করতে পাঁচবিবি থানায় যান। সেখান থেকে ফোনে ছাত্রদল নেতা ফারুককে পৌর পার্কে ডেকে নিয়ে মারধর করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীরা।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের আট নেতা-কর্মীর নামে মামলা করেছেন নিহতের মা।

পাঁচবিবি থানায় বুধবার সন্ধ্যায় করা এই মামলায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে।

এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতা-কর্মীকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তারা হলেন মহীপুর হাজী মহাসীন সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, কুসুম্বা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম, যুবলীগ সদস্য আনিছুর রহমান ও মুজাহিদুল ইসলাম।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মৃত ফারুক হোসেনের মা বিলকিস বেগম এজাহারে লিখেছেন, ফোন করে ডেকে নিয়ে তার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার মধ্যরাতে মারা যান পাঁচবিবি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন। তার বাড়ি পৌর শহরের দানেজপুর এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ওসি পলাশ জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা যুবলীগের সদস্য আনিছুর রহমান শিপনের সঙ্গে বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ডালিমের তর্ক হয়। এর জেরে শিপন ডালিমের মোটরসাইকেলে পুড়িয়ে দেন।

বিএনপি নেতা ডালিম নিউজবাংলাকে জানান, দলীয় কার্যালয়ে বসে তারা সন্ধ্যায় আলোচনা করছিলেন। সে সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হঠাৎ এসে তার মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মামলা করতে পাঁচবিবি থানায় যান। সেখান থেকে ফোনে ছাত্রদল নেতা ফারুককে পৌর পার্কে ডেকে নিয়ে মারধর করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীরা।

ডালিম আরও জানান, ফারুককে তারা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক মিন্নুর বলেন, ‘ফারুক হত্যার সঙ্গে যুবলীগ নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়।’

পাঁচবিবি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ধীমান চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘ছাত্রলীগের কোনো নেতা-কর্মী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকবে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রাফসান জানি বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই ফারুকের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার পকেটে নাইট্রো গ্লিসারিনের একটি প্যাকেট পাওয়া গেছে। হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’

পাঁচবিবি থানার ওসি পলাশ জানান, বিএনপি নেতার মোটরসাইকেল পোড়ানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সেই বিচারককে নিয়ে চিঠি দিয়ে অন্যায় করিনি: আইনমন্ত্রী
রেইনট্রি মামলার এমন রায়ের পেছনে টাকা, ক্ষমতা: ফখরুল
রেইনট্রি ধর্ষণ মামলা: ‘সঠিক তদন্ত না হওয়ায় এমন রায়’
‘রায়ের আগে প্রচার না করাই ভালো ছিল’
খালাস পেয়ে আসামিরা বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’

শেয়ার করুন

মদ উদ্ধারে গিয়ে পুলিশ আহতের ঘটনায় ২ মামলা

মদ উদ্ধারে গিয়ে পুলিশ আহতের ঘটনায় ২ মামলা

বৃন্দাবনপাড়ার জাম্বু মাহাতো বলেন, ‘আগামী শনিবার আমার দুই মেয়ের বিয়ে। আমাদের সামাজিক রীতি অনুযায়ী বরপক্ষের জন্য বাড়িতে চোলাই মদ তৈরি করে রাখা হয়। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ আমার বাড়িতে হানা দেয়। তল্লাশির সময় নারী-পুরুষদের লাঠিপেটা করতে থাকে। এতে আমাদের পাড়ার লোকজন পুলিশকে ঘেরাও করে তাদের ওপর চড়াও হয়।’

বগুড়ার নন্দীগ্রামে মদ উদ্ধারে গিয়ে পুলিশসহ ১৫ জন আহতের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে।

নন্দীগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বুধবার সকালে মামলা দুটি করেন।

পুলিশ বলছে, তাদের ওপর স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলা হয়েছিল। এ ঘটনায় নয়জনের নামে মামলা হয়েছে। আর মাদক মামলায় আসামি করা হয়েছে মাহাতো সম্প্রদায়ের একজনকে।

তবে নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের দাসগ্রাম বৃন্দাবনপাড়ার জাম্বু মাহাতো জানান, তার বাড়িতে মদ উদ্ধারে গিয়ে পুলিশ হামলা চালালে তাদের সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গেই সংঘর্ষ হয়েছে।

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, চোলাই মদ মজুত ও কেনাবেচা চলছে এমন খবরে পুলিশ মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ বৃন্দাবনপাড়ায় অভিযান চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় আট পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন আহত হন।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এটিএম রফিকুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, আল-আমিন ও রেজাউল করিম নামে আরও দুজন এসআই এবং এএসআই আবুল কালাম, কনস্টেবল আশরাফ ও কনস্টেবল সজল। তাদের মধ্যে একজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃন্দাবনপাড়া থেকে ১৮ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাদক উদ্ধার ও পুলিশের ওপর হামলায় দুটি মামলা হয়েছে। হামলা মামলায় নয়জনের নামসহ ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

‘হামলাকারীরা আদিবাসী নয়, স্থানীয় সন্ত্রাসী। তাই এ মামলায় তাদের নাম দেয়া হয়নি। শুধু মাদক মামলায় আদিবাসী একজনকে আসামি করা হয়েছে।’

তদন্তের স্বার্থে এখনই আসামিদের নাম জানানো হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত দুই মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে না বৃন্দাবনপাড়ার জাম্বু মাহাতোর কথা।

তিনি বলেন, ‘আগামী শনিবার আমার দুই মেয়ের বিয়ে। আমাদের সামাজিক রীতি অনুযায়ী বরপক্ষের জন্য বাড়িতে চোলাই মদ তৈরি করে রাখা হয়। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ আমার বাড়িতে হানা দেয়। তল্লাশির সময় নারী-পুরুষদের লাঠিপেটা করতে থাকে।

‘এতে আমাদের পাড়ার লোকজন পুলিশকে ঘেরাও করে তাদের ওপর চড়াও হয়। মারপিটে হরিদাস মাহাতো, ভক্তি রানী মাহাতো, অন্তরা মাহাতোসহ সাতজন আহত হয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
সেই বিচারককে নিয়ে চিঠি দিয়ে অন্যায় করিনি: আইনমন্ত্রী
রেইনট্রি মামলার এমন রায়ের পেছনে টাকা, ক্ষমতা: ফখরুল
রেইনট্রি ধর্ষণ মামলা: ‘সঠিক তদন্ত না হওয়ায় এমন রায়’
‘রায়ের আগে প্রচার না করাই ভালো ছিল’
খালাস পেয়ে আসামিরা বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’

শেয়ার করুন

‘তুলে নিয়ে বিয়ে’: স্ত্রীর যৌতুকের মামলায় কারাগারে স্বামী

‘তুলে নিয়ে বিয়ে’: স্ত্রীর যৌতুকের মামলায় কারাগারে স্বামী

ভাইরাল ভিডিও থেকে নেয়া ছবি

ফেসবুকে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, নাজমুল ও পাখি পাশাপাশি দুটি চেয়ারে বসে আছেন। নাজমুলের পেছনে দাঁড়ানো একজন তার ঘাড়ের দুই পাশ ধরে আছেন। অন্য পাশ থেকে পাখি ও নাজমুলের মুখে মিষ্টিজাতীয় কিছু তুলে দিচ্ছেন। এই ভিডিও পোস্ট করে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা দাবি করেছিলেন, প্রেমিককে তুলে নিয়ে জোর করে বিয়ে করেছেন প্রেমিকা।

অভিযোগ আছে, তুলে নিয়ে বিয়ে করেছিলেন প্রেমিকা ইশরাত জাহান পাখি। সে ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে প্রেমিকার বিরুদ্ধে অপহরণের মামলাও করেন নাজমুল হাসান। সে বিয়ের ৪৩ দিনের মাথায় নাজমুলের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করেন পাখি। সে মামলায় এখন কারাগারে নাজমুল।

এ ঘটনা পটুয়াখালী সদরের। স্ত্রীর যৌতুকের মামলায় নাজমুলকে সোমবার জেলা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে বিচারক আশিকুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নাজমুল এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন। সোমবার আদালতে জামিনের আবেদন করতে হাজির হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, ‘আমরা আগে অপহরণের মামলা করি। সেই মামলা থেকে গা বাঁচানোর জন্য আসামি পরে মিথ্যা যৌতুকের মামলা দেয়। আগামী সপ্তাহে আমরা আবার নাজমুলের জামিনের আবেদন করব।’

যেভাবে ঘটনার শুরু

গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ফেসবুকে ভাইরাল হয় একটি ভিডিও, যাতে দেখা যায় নাজমুল ও পাখি পাশাপাশি দুটি চেয়ারে বসে আছেন। নাজমুলের পেছনে দাঁড়ানো একজন তার ঘাড়ের দুই পাশ ধরে আছেন। অন্য পাশ থেকে পাখি ও নাজমুলের মুখে মিষ্টিজাতীয় কিছু তুলে দিচ্ছেন। সেখানে নাজমুলকে চুপচাপ দেখা গেলেও তরুণী ছিলেন চঞ্চল।

এই ভিডিও পোস্ট করে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা দাবি করেছিলেন, প্রেমিককে তুলে নিয়ে জোর করে বিয়ে করেছেন প্রেমিকা।

বিয়ের এই ঘটনা গত ২৭ সেপ্টেম্বরের বলে নাজমুল ও পাখির আইনজীবী নিশ্চিত করেছেন।

নাজমুলের আইনজীবী আবদুল্লাহ জানান, এ ঘটনার পর নাজমুল গত ৩ অক্টোবর পটুয়াখালী জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে অপহরণ ও জোর করে তুলে নিয়ে সই নেয়ার অভিযোগে মামলার আবেদন করেন। আসামি করা হয় পাখিসহ ছয় থেকে সাতজনকে।

পরে বিচারক মামলাটি নথিভুক্ত করতে পটুয়াখালী সদর থানাকে নির্দেশ দেন।

পাখির আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ জানান, যৌতুকের অভিযোগে পাখি গত ৯ অক্টোবর নাজমুলের নামে সদর থানায় মামলা করেন।



যা বলেছেন নাজমুল ও পাখি

ঘটনার পরপর নাজমুল জানান, কয়েক মাস ধরে তাকে মেসেঞ্জারে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন পাখি, কিন্তু রাজি হননি তিনি। একপর্যায়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাবও দেয়া হয়। তাতেও রাজি ছিলেন না নাজমুল।

একপর্যায়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সাত থেকে আটজন পুরুষ শহরের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে নাজমুলকে তুলে নিয়ে যান। অজ্ঞাত এক স্থানে নিয়ে জোর করে কাবিননামায় সই রেখে দেন।

নাজমুল বলেন, ‘আমাকে জোর করে মিষ্টি খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। পরে সেখান থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিছুদিন পরে মিষ্টি খাওয়ানো আর সই নেয়ার ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেয়া হয়। এতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। একপর্যায়ে আইনের আশ্রয় নেই।’

অভিযোগ অস্বীকার করে পাখি বলেন, নাজমুলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। তার ইচ্ছাতেই বিয়ে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যতটুকু ঝামেলা হয়েছে তা শুধু কাবিননামার টাকা নিয়ে। আমিসহ আমার বড় ভাইদের দাবি ছিল কাবিন ৫ লাখ টাকা হবে। আর নাজমুল চেয়েছে, কাবিন ৫০ হাজার টাকা হবে। এ বিষয়টি নিয়ে সামান্য একটি ঝামেলা হয়েছে, যেটা ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে।’

ইশরাত বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। কারণ গত ২৭ তারিখ আমাদের বিয়ে হয়েছে ঢাকাতে বসে। আর ২৭ তারিখ আমি নাকি ওকে (নাজমুল) পটুয়াখালী শহর থেকে অপহরণ করেছি। এক দিনে আমি দুই জায়গায় থাকি কীভাবে?’

নাজমুল অবশ্য পাখির সব বক্তব্য অস্বীকার করে আগের অভিযোগেই অটল ছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন, পুলিশের প্রতিবেদন ও আদালতের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

আরও পড়ুন:
সেই বিচারককে নিয়ে চিঠি দিয়ে অন্যায় করিনি: আইনমন্ত্রী
রেইনট্রি মামলার এমন রায়ের পেছনে টাকা, ক্ষমতা: ফখরুল
রেইনট্রি ধর্ষণ মামলা: ‘সঠিক তদন্ত না হওয়ায় এমন রায়’
‘রায়ের আগে প্রচার না করাই ভালো ছিল’
খালাস পেয়ে আসামিরা বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’

শেয়ার করুন

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আরও ২ আসামি রিমান্ডে

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আরও ২ আসামি রিমান্ডে

কুমিল্লার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ। ছবি: নিউজবাংলা

নতুন করে যাদের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ তারা হলেন, মামলার ২ নম্বর আসামি সোহেল ও ১০ নম্বর আসামি সায়মন। তাদের সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আদর্শ সদর উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

কুমিল্লায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহা হত্যা মামলায় সবশেষ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ৫ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে দুই আসামিকে ১০ দিন করে রিমান্ডে চায় পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক চন্দন কান্তি নাথ ৫ দিন মঞ্জুর করেন।

এসব নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক পরিমল দাশ।

নতুন করে যাদের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ তারা হলেন, মামলার ২ নম্বর আসামি সোহেল ও ১০ নম্বর আসামি সায়মন।

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আরও ২ আসামি রিমান্ডে
মামলার ১০ নম্বর আসামি সায়মন (বাঁয়ে) ও ২ নম্বর আসামি সোহেল। ছবি: নিউজবাংলা

আদর্শ সদর উপজেলার পালপাড়া গোমতীনদীর ব্রীজ এলাকা থেকে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ।

এর আগে সোমবার একই আদালতে মামলার ৪ আসামিকে তোলা হলে, ৫ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন বিচারক। তারা হলেন, মামলার ৬ নম্বর আসামি আশিকুর রহমান রকি, ৭ নম্বর আসামি আলম, ৮ নম্বর আসামি জিসান ও ৯ নম্বর আসামি মাসুম।

সুজানগরে নিজ কার্যালয়ে ২২ নভেম্বর বিকেলে কাউন্সিলর সোহেলসহ গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ছয়জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ সাহার মৃত্যু হয়।

পরদিন সোহেলের ভাই সৈয়দ মো. রুমন থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছে ৯ জনকে। তাদের মধ্যে ৭ জন এজাহারভুক্ত। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন প্রধান আসামি শাহ আলম, ৩ নম্বর আসামি সাব্বির হোসেন ও ৫ নম্বর আসামি মো. সাজেন।

আরও পড়ুন:
সেই বিচারককে নিয়ে চিঠি দিয়ে অন্যায় করিনি: আইনমন্ত্রী
রেইনট্রি মামলার এমন রায়ের পেছনে টাকা, ক্ষমতা: ফখরুল
রেইনট্রি ধর্ষণ মামলা: ‘সঠিক তদন্ত না হওয়ায় এমন রায়’
‘রায়ের আগে প্রচার না করাই ভালো ছিল’
খালাস পেয়ে আসামিরা বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’

শেয়ার করুন

মুরাদ মাইক পেলে ‘বেশি হাইপার’: নাহিদ

মুরাদ মাইক পেলে ‘বেশি হাইপার’: নাহিদ

ডা. মুরাদ হাসান (বাঁয়ে) ও ফেসবুকার নাহিদ। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

নাহিদ বলেন, ‘এ রকম একটা লাইভ শোতে আসলে, যখন এটি ভয়েস কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে হয় তখন অপজিট গেস্টকে কন্ট্রোল করা অনেক টাফ হয়। আমরা জানি যে ডা. মুরাদ হাসান একটু হাইপার টাইপের মানুষ। উনি অনেক বেশি এক্সাইটেড থাকেন সব সময়। ইফ হি হ্যাজ আ মাইক, যখন তিনি একটা টকশোতে থাকেন, তখন আরও বেশি হাইপার থাকেন।’

নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য দিয়ে তীব্র সমালোচিত ডা. মুরাদ হাসান প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাকে পদত্যাগ করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেয়ার পর আলোচিত টকশোটির সঞ্চালক নাহিদ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগে দম্ভের প্রশ্রয় নেই।’

গত ১ ডিসেম্বর রাতে ‘অসুস্থ খালেদা, বিকৃত বিএনপির নেতাকর্মী’ শিরোনামে এক ফেসবুক লাইভে যুক্ত হন মুরাদ। লাইভটির সঞ্চালক ছিলেন ইউটিউবার ও ফেসবুকার নাহিদ।

লাইভে বিএনপির রাজনীতি সমালোচনার একপর্যায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন মুরাদ হাসান। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্ম ও পরিবার নিয়েও কথা বলেন তিনি।

মুরাদ হাসানের আপত্তিকর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এর মধ্যে রোববার রাতে আবারও নাহিদের সঙ্গে লাইভ আলোচনায় আসেন মুরাদ। তার ওই লাইভেও ছিল বিতর্কিত অজস্র মন্তব্য। এ ছাড়া তার ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপ নিয়েও শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।

এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবারের মধ্যে মুরাদকে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার নির্দেশ দেন বলে সোমবার জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এর পরপরই ফেসবুকার ও ইউটিউবার নাহিদ তার ফেসবুক পেজ নাহিদরেইনসে এক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ, দাম্ভিকতা ও অশ্লীলতাকে প্রশ্রয় দেয় না। আগামীকালের (মঙ্গলবার) মধ্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।’

স্ট্যাটাস দেয়ার পর লাইভেও আসেন নাহিদ। তিনি দাবি করেন, মুরাদের বক্তব্য আপত্তিকর মনে হলেও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার কারণে তাকে থামাতে পারেননি।

নাহিদ বলেন, ‘আমার খুব বেশি যে কন্ট্রোল আছে তা না, হি ইজ আ মিনিস্টার, কাম-অন। আই অ্যাম জাস্ট গাই নেক্সট ডোর। আমি যত কথাই বলি না কেন, আমার কথায় খুব বেশি কিছু একটা হবে না। হি হ্যাজ টু কন্ট্রোল হিমসেলফ’।

‘তাও বলব, আমার লাইভে যেহেতু হয়েছে অ্যান্ড আই ওয়াজ হোস্টিং ইট, আমারও কিছু দায় আছে ওনাকে থামিয়ে দেয়ার। আমাদের দেশের একটা মন্ত্রীকে থামিয়ে দেয়ার প্র্যাকটিসটা আমরা এখনও করে উঠতে পারিনি। আই লার্নড মাই লেসন। আমি একটা জিনিস শিখেছি যে, আমার যখন থামানো উচিত মনে হবে, তাকে থামিয়ে দিতে হবে।’

মুরাদ যা বলেছেন তার প্রতি কোনো সমর্থন নেই বলেও জানান নাহিদ। তিনি বলেন, ‘তিনি যা করেছেন এটা আমি মোটেও তা সাপোর্ট করি না। ডেফিনিটলি ইটস রিয়েলি ব্যাড। তিনি ক্ষমা চাইবেন এ ব্যাপারে। আমার রেসপনসিবিলিট হচ্ছে আমার শোতে হয়েছে। আই অ্যাম রিয়েলি স্যরি ফর দ্যাট।’

ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে নাহিদ বলেন, বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জানতে চাওয়া হয় প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের কাছে, কিন্তু মুরাদ হাসান যে ভাষায় উত্তর দিয়েছেন, সেটা ছিল অপ্রত্যাশিত।

তিনি বলেন, ‘এ রকম একটা লাইভ শোতে আসলে, যখন এটি ভয়েস কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে হয়, তখন অপজিট গেস্টকে কন্ট্রোল করা অনেক টাফ হয়। আমরা জানি যে ডা. মুরাদ হাসান একটু হাইপার টাইপের মানুষ। উনি অনেক বেশি এক্সাইটেড থাকেন সব সময়। ইফ হি হ্যাজ আ মাইক, যখন তিনি একটা টকশোতে থাকেন, তখন আরও বেশি হাইপার থাকেন।’

জাইমা রহমান ইস্যুতে রাখা বক্তব্য নিয়ে ডা. মুরাদ হাসানের উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন নাহিদ।

তিনি বলেন, ‘উই ট্রাইড টু মেক হিম আন্ডারস্ট্যান্ড, মেক হিম কাম অ্যাবাউট হিজ স্টেটমেন্ট। এবং উনি আসলে কোন প্রশ্নের কী জবাব দেবেন সেটা সম্পূর্ণ ওনার ব্যক্তিগত মতামত ছিল। যেখানে আমাদের বা আমার কোনো কন্ট্রোল ছিল না। আই অলওয়েজ ট্রাইড মাই বেস্ট। আমি ওনাকে প্রশ্ন করেছি একটা, উনি জবাব দিছ্ছিলেন আরেকভাবে। হি ওয়াজ ইন হাইপার মুড।’

জাইমাকে নিয়ে মুরাদ হাসানের বক্তব্যের কড়া সমালোচনাও করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘জাইমাকে নিয়ে অনেকগুলো কমেন্ট করেছেন মে বি ফিউ সেকেন্ডসের মধ্যে, যে কমেন্টগুলো হি ওয়াজ নট দ্যাট আই ওয়াজ সাপোর্টিং হিম, ইট ওয়াজ বিকজ সো আনএক্সপেক্টেড।’

মুরাদ যখন জাইমা রহমানকে নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন টকশো সঞ্চালক নাহিদকে হাসতে দেখা যায়। বিষয়টি অস্বীকার করেননি নাহিদ নিজেও। আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি দাবি করেন, সে সময় কী করা উচিত বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

তিনি বলেন, ‘আমি যে প্রশ্ন করেছিলাম, সেই প্রশ্নের উত্তরে খুবই আনএক্সপেক্টেড ছিল। আই ওয়াজ অ্যাকচুয়ালি বিগ সারপ্রাইজড। আই ডিডনট নো হোয়াট টু ডু। আই ওয়াজ অ্যাকচুয়েলি লাফিং।’

তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে মুরাদ হাসানের করা মন্তব্য সমর্থনযোগ্য নয় বলেও জানান নাহিদ।

তিনি বলেন, ‘ওনার স্টেটমেন্টগুলো অনেককেই হার্ট করেছে। যে কারণে আমি ওনাকে আবারও দুদিন পরে লাইভে আসার জন্য রিকোয়েস্ট করেছিলাম। যাতে উনি স্যরি বলেন সবাইকে।’

আওয়ামী লীগের অনেক নেতাসহ আরও অনেকে রোববার রাতের লাইভে আসার জন্য মুরাদ হাসানকে অনুরোধ করেন বলেও দাবি করেন নাহিদ।

তিনি বলেন, ‘কষ্ট করে বুঝিয়ে রাজি করে বলেছিলাম যে ইউ হ্যাভ টু সে স্যরি। আপনি যে স্টেটমেন্ট দিয়েছেন, সেই স্টেটমেন্টটা নট আপ টু দ্য স্ট্যান্ডার্ড। আপনার স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে যায় না। আওয়ামী লীগের স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে যায় না। ইউ হ্যাভ টু সে স্যরি।’

নাহিদ বলেন, ‘এটা শেইমিং হয়ে গেছে, ক্যারেক্টার শেইমিং হয়ে গেছে। এটা ডেফিনিটলি নট আ গুড থিং। বিশেষ করে আমাদের নারী সমাজের জন্য।’

রোববার রাতে লাইভে আসার পরে মুরাদ হাসান দুঃখ প্রকাশে আগ্রহী ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ। তবে লাইভ শুরুর পর সেটি আর ঘটেনি।

নাহিদ বলেন, ‘লাইভে আসার পরে, হি ওয়াজ সাপোসড টু সে স্যরি। আমি অনেকবার চেষ্টাও করেছি, উনি যেন স্যরিটা বলে অ্যাজ হি প্রমিজড, অ্যাজ হি সেইড। উনি স্যরি বলবেন সবাইকে টু কাম পিপল ইউ নো। বাট উনি ওইদিকে যাননি।

‘উনি বেসিক্যালি ওনার মতোই উত্তেজিত ছিলেন। যদিও উনি কিছু স্যরি বলার চেষ্টা করেছেন, বাট হি ওয়াজ নট রিয়েলি অ্যাপোলজিটিক। ওনার হয়ে আমি নিজেই স্যরি বলেছিলাম। বিকজ দ্যাটস দ্য লিস্ট আই ক্যান ডু। আমি একজন মন্ত্রীকে ফোর্স করতে পারি না। উনি কী স্টেটমেন্ট দেবেন না দেবেন সেটা সম্পূর্ণ ওনার ব্যক্তিগত মতামত।’

নাহিদ বলেন, ‘সেই লাইভেও অনেক কথাবার্তা চলে এসেছে। উনি স্যরি বলার ভাবটা আনার পরেও ইনফ্যাক্ট আরও অনেক কথাবার্তা চলে এসেছে, হুইচ আই রিয়েলি ডিডনট লাইক। যেগুলো বেসিক্যালি নারীদের হার্ট করবে। নারী অধিকারকে হার্ট করবে। শেইমিং করবে। দ্যাটস হোয়াই আই ডিলিটেড দ্য লাইভ ইয়েস্টার ডে।’

আরও পড়ুন:
সেই বিচারককে নিয়ে চিঠি দিয়ে অন্যায় করিনি: আইনমন্ত্রী
রেইনট্রি মামলার এমন রায়ের পেছনে টাকা, ক্ষমতা: ফখরুল
রেইনট্রি ধর্ষণ মামলা: ‘সঠিক তদন্ত না হওয়ায় এমন রায়’
‘রায়ের আগে প্রচার না করাই ভালো ছিল’
খালাস পেয়ে আসামিরা বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’

শেয়ার করুন

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: ৪ আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: ৪ আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

কুমিল্লার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কায়সার হামিদ জানান, এই জোড়া খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত এজাহারনামীয় পাঁচজন ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‍্যাব। পুলিশের সঙ্গে ‘গোলাগুলি’তে নিহত হয়েছেন প্রধান আসামি শাহ আলম, সাব্বির হোসেন ও মো. সাজন। এখনও পলাতক এজাহারনামীয় তিন আসামি।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ হত্যা মামলার চার আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।

আসামিদের সোমবার বিকেলে জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে বিচারক চন্দন কান্তি নাথ তাদের রিমান্ডে পাঠান।

রিমান্ডে নেয়া আসামিরা হলেন আশিকুর রহমান রকি, মো. আলম, মো. জিসান ও মো. মাসুম।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কায়সার হামিদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এই জোড়া খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত এজাহারনামীয় পাঁচজন ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। পুলিশের সঙ্গে ‘গোলাগুলি’তে নিহত হয়েছেন প্রধান আসামি শাহ আলম, সাব্বির হোসেন ও মো. সাজন। এখনও পলাতক এজাহারনামীয় তিন আসামি।

সুজানগরে নিজ কার্যালয়ে ২২ নভেম্বর বিকেলে কাউন্সিলর সোহেলসহ গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ছয়জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ সাহার মৃত্যু হয়। পরদিন সোহেলের ভাই সৈয়দ মো. রুমন থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
সেই বিচারককে নিয়ে চিঠি দিয়ে অন্যায় করিনি: আইনমন্ত্রী
রেইনট্রি মামলার এমন রায়ের পেছনে টাকা, ক্ষমতা: ফখরুল
রেইনট্রি ধর্ষণ মামলা: ‘সঠিক তদন্ত না হওয়ায় এমন রায়’
‘রায়ের আগে প্রচার না করাই ভালো ছিল’
খালাস পেয়ে আসামিরা বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’

শেয়ার করুন

রায়হান হত্যা মামলার সাক্ষীর ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু

রায়হান হত্যা মামলার সাক্ষীর ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু

মারা যাওয়া ছোলাই লাল নগরের কাস্টঘর এলাকার হরিজন পল্লীর বাসিন্দা। গত বছরের ১০ অক্টোবর তার ঘর থেকেই বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ রায়হানকে ধরে নিয়ে যায়। ফাঁড়িতে নির্যাতনে পরদিন সকালে তিনি মারা যান। রায়হান হত্যায় তার স্ত্রীর করা মামলার ১২ নম্বর সাক্ষী ছোলাই।

সিলেটে রায়হান আহমেদ হত্যা মামলার এক সাক্ষীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে মামলার সাক্ষীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে রহস্যজনক বলছেন রায়হানের মা। তার অভিযোগ, এই হত্যা মামলার আরেক সাক্ষীকে হুমকি দেয়া হচ্ছে।

রোববার রায়হান হত্যা মামলার শুনানির নির্ধারিত তারিখে সালমা বেগমই এক সাক্ষীর মৃত্যুর খবর প্রথম সংবাদ মাধ্যমকে জানান।

মারা যাওয়া ছোলাই লাল নগরের কাস্টঘর এলাকার হরিজন পল্লীর বাসিন্দা। গত বছরের ১০ অক্টোবর তার ঘর থেকেই বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ রায়হানকে ধরে নিয়ে যায়। ফাঁড়িতে নির্যাতনে পরদিন সকালে তিনি মারা যান। রায়হান হত্যায় তার স্ত্রীর করা মামলার ১২ নম্বর সাক্ষী ছোলাই।

সিলেট কতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, গত বুধবার ছোলাই লাল নিজের ঘরে আত্মহত্যা করেন।

ওসি জানান, গত ১ ডিসেম্বর সকাল ১১টার দিকে ছোলাই লালের দেহ গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলছে দেখতে পান তার পরিবারের সদস্যরা। তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ছোলাই লালকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি মুহাম্মদ আলী মাহমুদ আরও জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ছোলাই লালের বোন প্রতিমা বলেন, ‘ছোলাই বেশিরভাগ সময় নিজের ঘরে দরজা লাগিয়ে বসে মদ পান করতেন। ১ ডিসেম্বর সকালে অনেকক্ষণ দরজায় ডাকাডাকি করে তার সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে দেহ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখতে পাই।’

রোববার আদালত চত্বরে সালমা বেগম বলেন, ‘রায়হানকে ছুলাই লালের ঘর থেকে সুস্থভাবে ধরে আনে পুলিশ। তাকে মারধর করে রায়হানকে ধরে আনা হয়। ছুলাই লাল হলেন প্রথম সাক্ষী। তিনি নাকি মারা গেছেন। এখন আমি শুনছি, কেউ কেউ বলছে, পুলিশও বলছে, তিনি নাকি আত্মহত্যা করেছেন। আমি সঠিক জানি না- তিনি আত্মহত্যা করেছেন, কী তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই মৃত্যু রহস্যজনক।’

আরেক সাক্ষীকে হুমকি দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে সালমা বলেন, আসামিরা জেলে থাকলেও তাদের সঙ্গীরা এখনও প্রশাসনে আছেন। তারা সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছে।

গত বছরের ১০ অক্টোবর গভীর রাতে সিলেট শহরের আখালিয়ার এলাকার বাসিন্দা রায়হানকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে নেয়া হয়। সেখানে মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরদিন সকালে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনি সেখানে মারা যান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী হেফাজতে মৃত্যু আইনে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

মামলাটির তদন্তে প্রথমে পুলিশ ছিল। পরে সে বছরের ১৩ অক্টোবর মামলাটি স্থানান্তর করা হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে। চলতি বছরের ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক আওলাদ হোসেন আদালতে চার্জশিট জমা দেন। এতে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

যে ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়, তাদের পাঁচজনই পুলিশ সদস্য। তারা হলেন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়া, এসআই হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল টিটুচন্দ্র দাস ও হারুনুর রশিদ।

অভিযুক্ত অপরজন আব্দুল্লাহ আল নোমান, যার বাড়ি কোম্পানীগঞ্জে। তার বিরুদ্ধে ঘটনার পর ভিডিও ফুটেজ গায়েব করার অভিযোগ আছে।

অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য কারাগারে থাকলেও নোমান এখনও পলাতক আছেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর আদালতের বিচারক আবুল মোমেন রায়হান হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণ করে নোমানের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন।

আব্দুল্লাহ আল নোমানের মালামাল ক্রোকের বিষয়ে পরোয়ানার শুনানির দিন ধার্য ছিলো রোববার। ওইদিন সিলেট অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জারি করা ক্রোক পরোয়ানা তামিল হয়ে না আসায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।

আরও পড়ুন:
সেই বিচারককে নিয়ে চিঠি দিয়ে অন্যায় করিনি: আইনমন্ত্রী
রেইনট্রি মামলার এমন রায়ের পেছনে টাকা, ক্ষমতা: ফখরুল
রেইনট্রি ধর্ষণ মামলা: ‘সঠিক তদন্ত না হওয়ায় এমন রায়’
‘রায়ের আগে প্রচার না করাই ভালো ছিল’
খালাস পেয়ে আসামিরা বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’

শেয়ার করুন