বদরুন্নেসার শিক্ষক রুমা সরকারের জামিন নাকচ

বদরুন্নেসার শিক্ষক রুমা সরকারের জামিন নাকচ

শুনানিতে লিটন কুমার সাহা বলেন, ‘রুমা সরকার একজন সরকারি চাকরিজীবী। সরকারের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো বক্তব্য তিনি দেননি। তার সাত বছরের দুটি বাচ্চা রয়েছে। তিনি একজন নারী, সরকারি চাকরিজীবী। জামিন দিলে পলাতক হবেন না। তাই জামিন প্রার্থনা করছি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক রুমা সরকারের জামিনের আবেদন নাকচ করেছে আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন।

রুমা সরকারের পক্ষে আইনজীবী লিটন কুমার সাহা, সুব্রত বিশ্বাস শুভ্রসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিন শুনানিতে অংশ নেন।

শুনানিতে লিটন কুমার সাহা বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে যে ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, তার একটিও তার সঙ্গে যায় না। তিনি ফেসবুক লাইভে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দিয়ে কোনো হিন্দু মুসলিমের ওপর হামলা করেনি। কোনো মসজিদ, মাদ্রাসায়ও হামলা হয়নি। তার ভিডিওতে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘রুমা সরকার একজন সরকারি চাকরিজীবী। সরকারের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো বক্তব্য তিনি দেননি। তার সাত বছরের দুটি বাচ্চা রয়েছে। তিনি একজন নারী, সরকারি চাকরিজীবী। জামিন দিলে পলাতক হবেন না। তাই জামিনের প্রার্থনা করছি।’

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করেন বলে নিউজবাংলাকে জানান রুমা সরকারের আইনজীবী সুব্রত বিশ্বাস শুভ্র।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু নিম্ন আদালত থেকে আমরা জামিন পাইনি, তার জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে যাব।’

১৯ অক্টোবর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর বেইলি রোডের বাসা থেকে রুমা সরকারকে আটক করে র‌্যাব-৩। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র‌্যাব-৩-এর নায়েব সুবেদার মনির উদ্দিন বাদী হয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগে রমনা থানায় মামলা করেন।

২১ অক্টোবর রুমা সরকারের দুই দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। রিমান্ড শেষে ২৪ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।

আরও পড়ুন:
বদরুন্নেসার শিক্ষক রুমা ২ দিনের রিমান্ডে
গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বদরুন্নেসার শিক্ষক আটক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পন্টুনের ওপর এক্সকাভেটর, চরের মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়

পন্টুনের ওপর এক্সকাভেটর, চরের মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়

এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি তুলে রাখা হচ্ছে পন্টুনের ওপর। সেখান থেকে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর উপজেলার ডালভাঙা এলাকায় ৫৫৫ নামে একটি ইটভাটায় নেয়া হচ্ছে এই মাটি। ভাটার মালিক আবু জাফর প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের আপত্তি উপেক্ষা করেই ভাঙন কবলিত এলাকা থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে মাটি কাটায় তাদের বসতঘরসহ ফসলি জমি বড় ধরনের ভাঙন হুমকিতে পড়ছে।

নদীর তীরের কাছে পানিতে পন্টুনের ওপর এক্সকাভেটর। সেটি দিয়ে নদী থেকে মাটি তুলে রাখা হচ্ছে পন্টুনের ওপর। সেখান থেকে নৌকায় করে মাটি নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়।

অভিনব কায়দায় নদীর চর থেকে এভাবে মাটি তোলার দৃশ্য দেখা গেছে বরগুনায়। জেলার বিষখালী নদী তীরবর্তী ভাঙন কবলিত এলাকা থেকে তোলা হচ্ছে এই মাটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর উপজেলার ডালভাঙা এলাকায় ৫৫৫ নামে একটি ইটভাটায় নেয়া হচ্ছে এই মাটি। ভাটার মালিক আবু জাফর প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের আপত্তি উপেক্ষা করেই ভাঙন কবলিত এলাকা থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে মাটি কাটায় তাদের বসতঘরসহ ফসলি জমি বড় ধরনের ভাঙন হুমকিতে পড়ছে।

বিষখালী তীর ধরে পশ্চিম দিকে প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে মাটি কাটায় চরে গভীর খাদ দেখা গেছে। ইটভাটাটিতে গিয়ে দেখা যায়, বিষখালী তীর থেকে আনা মাটি বিশাল স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

ভাটার কয়েকজন শ্রমিক জানান, মাটি কাটার জন্য চট্টগ্রাম থেকে পন্টুনটি ভাড়া করে আনা হয়েছে। সেই পন্টুনে এক্সকেভেটর বসিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি কেটে ভাটায় আনা হয়।

সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে দেখা যায়, ইটভাটা থেকে আধা কিলোমিটার পশ্চিম দিকে ডালভাঙা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় খননযন্ত্রসহ মাটিভর্তি পন্টুনটি নোঙর করা রাখা হয়েছে।

খননযন্ত্রের চালক সুজন মিয়া অবশ্য দাবি করেন, নদীর তীর থেকে মাটি কাটা হয়নি। ওই মাটি বিভিন্ন মালিকদের কাছ থেকে কিনে কেটে আনা হয়েছে।

ওই এলাকার স্কুলশিক্ষক রেজাউল করিম অবশ্য জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে এক্সকেভেটর দিয়ে নদীর তীরের মাটি তুলছেন ভাটার লোকজন। তারা আপত্তি করলে উল্টো হুমকি দেয়া হয়েছে।

পন্টুনের ওপর এক্সকাভেটর, চরের মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়

ডালভাঙা এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের এলাকা বিষখালী নদীর ভাঙনে বিলীন প্রায়। এখানে বেড়িবাঁধও নেই। এমনিতেই আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। এ অবস্থায় তীরের মাটি কেটে নেয়া আমাদের জন্য বিপজ্জনক, কিন্তু কে শোনে কার কথা।

বরইতলা মাঝখালী এলাকার বাসিন্দা সবুজ হাওলাদার বলেন, ‘নদী তীরের মাটি তো কাটছেই, এর পাশাপাশি ভারী গাড়িতে ইট নেয়ায় আমাদের চলাচলের একমাত্র মাটির রাস্তাটিরও সর্বনাশ করা হয়েছে।

‘মাত্র কয়েক মাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড বেড়িবাঁধের মাটির কাজ করেছে। মাটি শক্ত হওয়ার আগেই ভারী গাড়ি চলায় দেবে গিয়ে এখন হাঁটার উপযোগী নেই।’
ভাটার মালিক আবু জাফরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ডালভাঙা এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার মাটি কিনেছি। ওই মাটি কেটে আনার জন্য পন্টুন ও ভেকু ভাড়া করা হয়েছে।

‘পন্টুনের মাটি নদী তীরের নয়। নদী তীর থেকে কোনো মাটি কাটা হয়নি, হবেও না।’

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নদী তীর থেকে মাটি কাটার কোনো নিয়ম নেই। ভাটায় যদি এখান থেকে মাটি কেটে ব্যবহার করে সেটা বিধিসম্মত নয়। আমরা এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
বদরুন্নেসার শিক্ষক রুমা ২ দিনের রিমান্ডে
গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বদরুন্নেসার শিক্ষক আটক

শেয়ার করুন

কমলাপুরে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা

কমলাপুরে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা

হায়দার হোসেন বলেন, ‘অনেকটা শখের বসেই কমলার চাষ শুরু করেছিলাম। এভাবে ফলন হবে ভাবিনি। এবারে কমলা যা ধরেছে সব আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের খাওয়ায়ে দেবো। আগামী বছর থেকে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করব।’

কমলাপুর গ্রামে এখন হায়দার মিয়ার বাগানে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা। সবুজ কমলায় আসা শুরু করেছে কমলা রং।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় এটিই প্রথম বাণিজ্যিক কমলার বাগান। স্থানীয়দের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে হায়দার মিয়ার কমলা চাষ।

হায়দার হোসেন জানান, ২০২০ সালে বাড়ির পাশের ৭৫ শতাংশ জায়গায় তিনি দার্জিলিং, চায়না ও নাগপুরি জাতের কমলালেবুর ৩ শ চারা লাগান। কমলা আদৌ ধরবে কি না সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই চারার পরিচর্যা করেছেন। তিন বছর পর কমলা ধরার কথা থাকলেও দুই বছরের মাথায় গাছে এসেছে কমলা।

কমলাপুরে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা

তিনি বলেন, ‘অনেকটা শখের বসেই কমলার চাষ শুরু করেছিলাম। এভাবে ফলন হবে ভাবিনি। এবারে কমলা যা ধরেছে সব আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের খাওয়ায়ে দেবো। আগামী বছর থেকে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করব।

‘এখন পর্যন্ত আমার এই কমলা চাষের পেছনে লাখ পাঁচেক টাকা খরচ হয়েছে। আগামী বছর আরও লাখ খানেক খরচ করব। আশা করছি সামনের বার কমলা বিক্রি করে এই খরচ তুলে ফেলতে পারব।’

কমলাপুরে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা

নিউজবাংলার প্রতিনিধি তার বাগানে যাওয়ার পর তিনি গাছের প্রথম কমলা ছিঁড়ে দেন। খেয়ে দেখা যায়, বেশ মিষ্টি হায়দার হোসেনের বাগানের কমলা।

কমলাপুরের মজিবর রহমান সরদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কমলা ধরার কথা শুনে দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই আসছেন দেখতে। এর আগে অনেকেই কমলাগাছ দেখেননি। গাছে ফল দেখে কেউ কেউ নিজেও বাগান করার ইচ্ছার কথা বলছে।’

কমলাপুরে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক অরবিন্দ কুমার রায় জানান, সাধারণত পানি জমে না এমন উঁচু জমি কমলা চাষের জন্য উপযোগী। তবে গোপালগঞ্জের জমি বেশ উঁচু। এখানে প্রথমবারের মতো কমলার চাষ হয়েছে। ফলও এসেছে ভালো। তাই ধারণা করা হচ্ছে জেলার অন্য কৃষকরাও কমলা চাষ করতে পারবেন। কেউ এই ফলের বাগান করতে চাইলে কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

আরও পড়ুন:
বদরুন্নেসার শিক্ষক রুমা ২ দিনের রিমান্ডে
গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বদরুন্নেসার শিক্ষক আটক

শেয়ার করুন

চাহিদার আখই পাচ্ছে না চিনিকল, গুনছে লোকসান 

চাহিদার আখই পাচ্ছে না চিনিকল, গুনছে লোকসান 

আখের অভাবে বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে নাটোরের নর্থবেঙ্গল চিনিকল। ছবি: নিউজবাংলা

নাটোর চিনিকলে গত অর্থবছরে আখ দেয়া চাষিদের জমির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৫৮৪ একর। এই অর্থবছরে সেখানে আখ চাষ হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৫৩৫ একর জমিতে। নর্থবেঙ্গল চিনিকলের অবস্থাও একই। ২৬ হাজার ৫০ একর জমি থেকে কমে এবার আখ চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ৫৬৪ একরে।

নতুন মৌসুমে আখ মাড়াই শুরু হয়েছে নাটোর চিনিকল ও নর্থবেঙ্গল চিনিকলে। কাজ শুরু হলেও নাটোরের এই দুই চিনিকল সক্ষমতার অর্ধেক সময়ও চলবে না আখ সংকটে।

তীব্র আখ সংকটের কারণে কয়েক বছর ধরেই চিনিকল দুটি গুনছে লোকসান। গত মৌসুমেও নাটোর চিনিকল গুনেছে ৩২ কোটি টাকা লোকসান। নর্থবেঙ্গলের ক্ষতি ছিল ২০ কোটি টাকা।

এমন পরিস্থিতিতে যেখানে আখ উৎপাদন বাড়ানোর কথা ছিল সেখানে এ বছর আখ উৎপাদন হয়েছে অর্ধেকেরও কম জমিতে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে নাটোর চিনিকলে আখ দেয়া চাষিদের জমির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৫৮৪ একর। ২০২০-২১ অর্থবছরে সেখানে আখ চাষ হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৫৩৫ একর জমিতে।

চিনিকলের কর্মকর্তারা বলছেন, এই জমির আখ দিয়ে চিনিকল চলবে মাত্র এক মাস, অথচ প্রায় ছয় মাস ধরে চলবে আখ মাড়াইয়ের মৌসুম।

নর্থবেঙ্গল চিনিকলের অবস্থাও একই। ২৬ হাজার ৫০ একর জমি থেকে কমে এবার আখ চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ৫৬৪ একরে।

আখ চাষিরা বলছেন, দাম কমসহ সময় মতো টাকা না পাওয়ায় আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন তারা। আবার সরকার থেকেও তাদের প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় না।

নাটোর চিনিকলে এ বছর আখ মাড়াই শুরু হয় ৩ ডিসেম্বর। আর ২৬ নভেম্বর মাড়াই শুরু করেছে নর্থবেঙ্গল চিনিকল।

চাহিদার আখই পাচ্ছে না চিনিকল, গুনছে লোকসান

গত দুই-তিন বছর ধরেই এ দুই চিনিকল চাহিদা অনুযায়ী আখ না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। এবারও একই অবস্থা হবে।

নাটোর সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আখচাষি মামুন হোসেন জানান, আগে তার বাবা-চাচারা প্রায় ৪৫ বিঘা জমিতে আখ চাষ করতেন। কম দামের পাশাপাশি সময় মতো পাওনা না পাওয়ায় তারা এখন পাঁচ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেন।

একই গ্রামের আখচাষি কামরুল ইসলাম জানান, এখন কৃষি জমিতে বছরে দুই-তিন ধরনের ফসল হয়। সেই ফসল নগদে বিক্রি করা যায়। অন্যদিকে বিঘা প্রতি আখের যা ফলন হয় তা দিয়ে লাভ হয় না।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে এক মণ আখের দাম ১৪০ টাকা, যা অন্য ফসলের তুলনায় খুবই কম। এ ছাড়া জমি তৈরি, সার, বীজ, শ্রমিক খরচ সব নগদ টাকায় করতে হলেও সুগার মিলে আখ সরবরাহ করে বছরের পর বছর টাকার জন্য ধরনা দিতে হয়। তাই তারা আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

চিনিকল বাঁচাতে সরকারকে উন্নতমানের বীজ, সারসহ সবকিছু কৃষকদের মাঝে সহজ শর্তে সরবরাহ করতে হবে বলেও জানান তিনি।

আখের দাম নিয়ে আখচাষি মামুন জানান, বর্তমান জাতে এক একর জমিতে এখন আখ পাওয়া যায় ৩০০ মণের মতো। ১৪০ টাকা মণ হিসাবে সেখান থেকে পাওয়া যায় ৪২ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ লাগে ১৮-২০ হাজার টাকা। এক একর জমিতে সারা বছরে মাত্র ১৫-২০ হাজার টাকা লাভে কিছুই হয় না।

চাহিদার আখই পাচ্ছে না চিনিকল, গুনছে লোকসান

তিনি আরও জানান, উন্নতজাতের আখের পাশাপাশি ভালো মতো সার ও পরিচর্যা করলে এই আখই একরে ৭৫০ মণ পাওয়া যায়। তাতে উৎপাদন খরচ বেড়ে ৩০-৩৫ হাজার টাকায় যাবে। মণপ্রতি দাম ২০০ টাকা দিলে সেক্ষেত্রে চিনিকলের পাশাপাশি তারাও লাভবান হতেন।

তবে সরকারি সহায়তা না থাকা ও পাওনা পেতে দেরি হওয়ায় তারা এখন আখ চাষের আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছেন।

নাটোর চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মসলেম উদ্দিন বলেন, ‘চিনিশিল্পকে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করে এদিকে সরকারের বিশেষ নজর দিতে হবে। আখচাষিদের প্রণোদনার আওতায় এনে তাদের মধ্যে উন্নতমানের বীজ সরবরাহের মাধ্যমে সংকট নিরসন হবে। সেই সঙ্গে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতসহ সময়মতো কৃষকদের টাকা পরিশোধ করতে হবে।’

আখ সংকটে নির্ধারিত সময়ের আগেই মিল বন্ধ করতে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নাটোর চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আনোয়ার হোসেন জানান, গত বছর এ চিনিকলে লোকসান ছিল ৩২ কোটি টাকা। তবে তারা সংকট নিরসনে কৃষকদের সময় মতো পাওনা টাকা দেয়া, উন্নতমানের বীজ সরবরাহসহ চিনিকলের উন্নয়নে সব উদ্যোগ নিচ্ছে।

এরই মধ্যে শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা এবং বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অতিরিক্ত সচিব আরিফুল ইসলাম তপু নাটোরের দুই চিনিকল পরিদর্শন করেছেন বলে জানালেন আনোয়ার।

চাহিদার আখই পাচ্ছে না চিনিকল, গুনছে লোকসান

তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষকদের প্রণোদনাসহ উন্নতমানের বীজ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছি। চলতি বছর নাটোর চিনিকলে এক লাখ টন আখ মাড়াই করে সাত হাজার ৬০০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।’

নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবীর জানান, এই চিনিকলে চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৮৬ টন আখ মাড়াই করে ১৩ হাজার ৬০০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গত বছর করোনাভাইরাসের কারণে কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের বীজ ও সার সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। এ বছর চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন চিনিকলের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগ আবারও চিনিকল লাভের মুখ দেখবে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
বদরুন্নেসার শিক্ষক রুমা ২ দিনের রিমান্ডে
গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বদরুন্নেসার শিক্ষক আটক

শেয়ার করুন

পুনম সিনেমা হলের পাশে আগুন নেভাতে ৭ ইউনিট

পুনম সিনেমা হলের পাশে আগুন নেভাতে ৭ ইউনিট

পুনম সিনেমা হলে পাশে এভাবেই আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

ফায়ার সা‌র্ভিসের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, আগুনে এখনও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষ‌তি তদন্ত সা‌পে‌ক্ষে জানা যাবে।

রাজধানীর রায়েরবাগ কদমতলীতে পুনম সিনেমা হলের পাশে একটি কয়েল ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এই মুহূর্তে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট।

শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে এই সংবাদ পাওয়া গেছে।

প্রায় দেড় ঘন্টা পর রাত ৩টার দিকে ওই কয়েল ফ্যাক্টরির আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন ফায়ার সা‌র্ভিস কর্মীরা।

ফায়ার সা‌র্ভিসের কন্ট্রোল রুম থেকে সংস্থাটির মিডিয়া কর্মকর্তা মো. রায়হান এ সব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, আগুনে এখনও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষ‌তি তদন্ত সা‌পে‌ক্ষে জানা যাবে।

বিস্তারিত আসছে...

আরও পড়ুন:
বদরুন্নেসার শিক্ষক রুমা ২ দিনের রিমান্ডে
গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বদরুন্নেসার শিক্ষক আটক

শেয়ার করুন

দক্ষিণাঞ্চলে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, হতে পারে আরও ৩ দিন

দক্ষিণাঞ্চলে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, হতে পারে আরও ৩ দিন

বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়েছে বরিশাল নগরীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ছবি: নিউজবাংলা

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আরও দুই থেকে তিনদিন টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জাওয়াদের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে তেমন ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে শনিবার সকাল থেকে দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। আরও দুই থেকে তিনদিন টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে। বলেছে, জাওয়াদের প্রভাবে বরিশাল অঞ্চলে তেমন ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

সাগর উত্তাল থাকায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে মাছ ধরার সব ট্রলার। দিনভর বৃষ্টির কারণে বরিশাল নগরীতে মানুষের আনাগোনাও ছিল কম।

ভোলায় ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ৬৯২টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

ভোলা-ঢাকা নৌ রুটের লঞ্চ ও ভোলা-লক্ষীপুর-ভোলা-বরিশাল ফেরিগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় চলাচল করছে। তবে সর্তক সংকেত বাড়লে এসব চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা।

ভোলায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)র উপপরিচালক আব্দুর রশীদ জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সবশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’। ক্রমেই এটি ভারতের উড়িষ্যা উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশের উপকূলে জাওয়াদের আঘাত হানার সম্ভাবনা কম। তবে জাওয়াদের প্রভাবে রোববার ভোরে উপকূলীয় জেলাগুলোতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দিনভর মেঘলা থাকতে পারে আকাশ।

তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর দূরবর্তী সংকেত এবং নদী বন্দরে ১ নম্বর সংকেত জারি করা হয়েছে। জেলায় মানুষকে সচেতন করতে ১৩ হাজার ৬০০ সিপিপি ভলেন্টিয়ার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সতর্ক সংকেত বাড়লে উপকূলজুড়ে করা হবে মাইকিং।

ভোলা বিআইডব্লিউটি এর সহকারী পরিচালক মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভোলার সব রুটের নৌযান চলাচল এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। কর্তৃপক্ষ থেকে ঘোষণা আসলে বন্ধ রাখা হবে। ভোলা-লক্ষীপুর-ভোলা-বরিশাল ফেরিগুলো এখন স্বাভাবিক অবস্থায় চলাচল করছে।’

ভোলা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ‘আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের উপকূলে জাওয়াদের আঘাত হানার সম্ভাবনা কম। এর প্রভাবে ৪ নম্বর সর্তক সংকেত দেখাতে বললে আমরা স্থানীয় জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে প্রস্তুতি সভা করব। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় জেলা ভোলার ৬৯২টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যাদের সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।’

জাওয়াদের প্রভাবে সকাল থেকেই বরগুনায় গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করছে। সকাল ৯টার দিকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলেও কিছুসময় পর থেমে যায়। দিনভর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। শেষ বিকেলের দিকে ফের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার পর বৃষ্টি বাড়তে শুরু করে। তবে এখন পর্যন্ত ঝড়ো বাতাস বা বজ্রপাত হয়নি।

সাগরে মাছ শিকাররত জেলেরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল রয়েছে। তারা তীরের কাছাকাছি নিরাপদ অবস্থানে থেকে মাছ শিকার করছেন। এ ছাড়া বরগুনার বিষখালী বলেশ্বর ও পায়রা নদীর পানি সামান্য বেড়েছে। তবে তা বিপদসীমা অতিক্রম করেনি বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক মাহতাব উদ্দীন।

সন্ধ‌্যা থে‌কে পটুয়াখালী‌তেও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃ‌ষ্টি হচ্ছে। এর আগে দিনভর মেঘাচ্ছন্ন ছিল আকাশ। তার সঙ্গে গত ক‌য়েক‌দি‌নের তুলনায় শী‌তের তীব্রতাও বে‌শি। সমুদ্রবন্দরগু‌লো‌তে ৩নম্বর সতর্ক সং‌কেত জা‌রি হওয়ায় সাগ‌রে মাছ ধরায় নি‌য়ো‌জিত ট্রলারগু‌লো ফিরে আস‌তে শুরু ক‌রে‌ছে।

বরগুনার আলীপুর মৎস‌্যজী‌বী সমবায় স‌মি‌তির সভাপ‌তি আনছার উ‌দ্দিন মোল্লা জানান, দূ‌র্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কার‌ণে সাগর থে‌কে ফির‌তে শুরু ক‌রে‌ছে ট্রলারগু‌লো। ই‌তোম‌ধ্যে আলীপুর ও ম‌হিপুর মৎস‌্যবন্দ‌রে নোঙ্গর ক‌রে‌ছে ট্রলারগু‌লো। ত‌বে কিছু ট্রলার এখনও সাগ‌রে আ‌ছে, যেগু‌লো রা‌তের ম‌ধ্যে ফি‌রে আস‌বে।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অ‌ফি‌সের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মো. মাসুদ রানা জানান, সন্ধ‌্যা থে‌কে কিছু কিছু স্থা‌নে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃ‌ষ্টি হ‌চ্ছে।

পিরোজপুরে সকাল থেকে দেখা মেলেনি সূর্যের। সারাদিন থেমে থেমে হয়েছে বৃষ্টি। আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে নদ-নদীর পানি। জেলার কাউখালী, ইন্দুরকানী, মঠবাড়িয়াসহ কয়েকটি এলাকায় নদীর তীরে বেড়িবাঁধ না থাকায়, সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পিরোজপুর জেলা দুর্যোগ ব্যাস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বঙ্গপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আমরা আপডেট নিচ্ছি। এ বিষয়ে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে রোববার বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জাওয়াদের প্রভাবে ঝালকাঠিতে শনিবার দুপুর থেকে থমথমে আবহাওয়া বিরাজ করছে। বিকেল থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। তবে নদীর পানির উচ্চতা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বিভাগ।

ঝালকাঠি জেলা দুর্যোগ ব্যাস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা আবহওয়া পর্যাবেক্ষণ করছি। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ঝড়ের সতর্কতা সংকেত বাড়ানো হলে প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলার সব উপজেলায় সাইক্লোন সেল্টার প্রস্তুত রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন পটুয়াখালী থেকে জাকারিয়া হৃদয়, বরগুনা থেকে রুদ্র রুহান, ঝালকাঠি থেকে হাসনাইন তালুকদার দিবস ও ভোলা থেকে আদিল তপু।

আরও পড়ুন:
বদরুন্নেসার শিক্ষক রুমা ২ দিনের রিমান্ডে
গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বদরুন্নেসার শিক্ষক আটক

শেয়ার করুন

বাণিজ্য উন্নয়নের মহাপরিকল্পনায় এফবিসিসিআই

বাণিজ্য উন্নয়নের মহাপরিকল্পনায় এফবিসিসিআই

সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন তুলে ধরেন আগামীর বাণিজ্য পরিকল্পনা। ছবি: সংগৃহীত

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার পর বাংলাদেশের জন্য বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানি খাতে চাহিদা তৈরি হবে নতুন পণ্যের। অর্থনীতির আকারও বড় হবে।'

আগামী দশকের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির চাহিদা বিবেচনায় কর্মকৌশল নির্ধারণ করছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই)। এ জন্য ১০ বছর মেয়াদি একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে।

রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার এ তথ্য জানান সংগঠনটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার পর বাংলাদেশের জন্য বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানি খাতে চাহিদা তৈরি হবে নতুন পণ্যের। অর্থনীতির আকারও বড় হবে। সরকারের নেয়া নানা অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন শেষ হলে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে। তখন পণ্য পরিবহন, বন্দরের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

‘সবকিছুকে বিবেচনায় রেখে এফবিসিসিআই আগামী দশকের অর্থনীতির চাহিদার উপযোগী কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে ১০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘এলডিসি-পরবর্তী বৈশ্বিক চাহিদা মোকাবিলায় খাতভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে একটি ইনোভেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে এফবিসিসিআই। আগামী মাসেই এ-সংক্রান্ত ধারণাপত্রটি সরকারের কাছে জমা দেয়া হবে।’

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে কাজ করছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়- এমন তথ্য দিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, ‘চলমান এ কার্যক্রম শেষ হলে দেশের বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকৃত পণ্যের উৎপাদন করা হবে।’

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশি প্রবাসীদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্ম দেশ দুটির মূল অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। কিন্তু তাদের বাংলাদেশ সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে ওই সব প্রবাসী উদ্যোক্তাকে যুক্ত করতে পারলে দেশ দুটির মূল বাজার ধরা সহজ হবে।’

এ লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মূল ধারার বাণিজ্য সংগঠনের সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথাও জানান তিনি।

এ ছাড়া তৈরি পোশাকের বাইরে নতুন নতুন সম্ভাবনাময় পণ্যের তালিকা, সেগুলো রপ্তানির সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা বিষয়ে গবেষণা করতে এইচএসবিসির সঙ্গেও সমঝোতা স্মারক সই করেছে এফবিসিসিআই।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এসব কার্যক্রমের ফলে এলডিসি-পরবর্তী সময়ের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চাকা বেগবান হবে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এফিবিসিসিআইয়ের আয়োজনে ‘বিজয়ের ৫০ বছর: লাল সবুজের মহোৎসব’ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে। ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এ উৎসব।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও লাখো শহীদের প্রতি ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতাবোধের প্রকাশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মহোৎসব করছে এফবিসিসিআই।’ তিনি সবাইকে এ মহোৎসবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহসভাপতি এম এ মোমেন, মো. আমিনুল হক শামীম, মো. আমিন হেলালী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, এম.এ রাজ্জাক খান রাজসহ বর্তমান কমিটির পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বদরুন্নেসার শিক্ষক রুমা ২ দিনের রিমান্ডে
গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বদরুন্নেসার শিক্ষক আটক

শেয়ার করুন

‘পোয়া বারেটার ভিতুর আইবো হই, ন আইলো আর’

‘পোয়া বারেটার ভিতুর আইবো হই, ন আইলো আর’

দুর্ঘটনা কবলিত সিএনজি ঘিরে মানুষের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

সাতরাজের মরদেহ বাড়িতে নেয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা। নিউজবাংলার কাছে বলতে থাকেন, ‘আঁর পোয়া হদ্দে বিএনসিসির জরুরি হাজ, যনই পরিবো। হিতারা পাঁচজনেরে ডাইক্কি। হয়জে (বলছে), বই থাকক (বইগুলো এভাবে থাক), আঁই আইয়িনে পইত্তাম বস্সুম (পড়তে বসব)। যঅন আর আইয়্যুন শুধু (যাব আর আসব)। ওমা.... আঁর পোয়া বারেটার ভিতুর আইবো হই, ন আইলো আর।’

বাসা থেকে বের হয়ে কিছু সময় পরই আবার ফিরতে চেয়েছিলেন কিশোর সাতরাজ উদ্দিন শাহিন। তবে তা আর হয়নি। ফিরেছে তার মরদেহ। সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা শামিমা আক্তার। বিলাপ করতে করতে যেন পাথর হয়ে গেছেন।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে ডেমু ট্রেন, বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং মাহিন্দ্রের সংঘর্ষে ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবলসহ যে তিনজন নিহত হন তাদের একজন সাতরাজ।

সাতরাজের মরদেহ বাড়িতে নেয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা। নিউজবাংলার কাছে বলতে থাকেন, ‘আঁর পোয়া হদ্দে বিএনসিসির জরুরি হাজ, যনই পরিবো। হিতারা পাঁচজনেরে ডাইক্কি। হয়জে (বলছে), বই থাকক (বইগুলো এভাবে থাক), আঁই আইয়িনে পইত্তাম বস্সুম (পড়তে বসব)। যঅন আর আইয়্যুন শুধু (যাব আর আসব)। ওমা.... আঁর পোয়া বারেটার ভিতুর আইবো হই, ন আইলো আর।’

জানা যায়, সাতরাজের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছিল। সোমবার ছিল তার পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা। এদিন সকালে বিএনসিসির জরুরি কাজে কলেজে যাচ্ছিলেন তিনি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর হামজারবাগের বাসা থেকে জিইসি হয়ে মাহিন্দ্রতে পাহাড়তলী কলেজের উদ্দেশে যাওয়ার পথে খুলশীতে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। এ দুর্ঘটনায় নিহত হন সাতরাজসহ তিনজন। আহত হন অন্তত ছয়জন।

একমাত্র ভাইকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল ইসতিয়াক উদ্দিন সায়েম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকালে আম্মু, আমি আর ভাইয়া তিনটা রুটি দিয়ে নাস্তা করেছিলাম। আমি কোচিং থেকে আসার পর আরবি পড়তে বসি। এ সময় ভাইয়া পড়ছিলেন। কিছুক্ষণ পর দেখি ভাইয়া বাইরে যাচ্ছে। আম্মুকে বলছে ১২টার মধ্যে চলে আসব৷ ’

নিহত সাতরাজের মামা ইউসুফ সিদ্দিক আজম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই ভাইয়ের মধ্যে সাতরাজ উদ্দিন বড়। পাহাড়তলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি দিচ্ছিল এবার। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সঙ্গে যুক্ত ছিল, বিএনসিসি এয়ার উইংয়ের ক্যাডেট আন্ডার অফিসার ছিল সাতরাজ। বিএনসিসির কাজেই কলেজে যাচ্ছিল সে।

‘চট্টগ্রাম শহরের হামজারবাগ এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতো৷ ওই এলাকায় বাবা ফজল করিমের একটি মুদি দোকান আছে। দোকানের আয় দিয়েই দুই ছেলেকে পড়াশোনা করাচ্ছিলেন তিনি।’

আরও পড়ুন:
বদরুন্নেসার শিক্ষক রুমা ২ দিনের রিমান্ডে
গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বদরুন্নেসার শিক্ষক আটক

শেয়ার করুন