× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
After training in China Bangladesh team is now in global competition
hear-news
player
print-icon

চীনের ট্রেনিং শেষে এখন গ্লোবাল কম্পিটিশনে বাংলাদেশ দল

চীনের-ট্রেনিং-শেষে-এখন-গ্লোবাল-কম্পিটিশনে-বাংলাদেশ-দল
এ বছর বাংলাদেশ ও অন্য দেশের শিক্ষার্থীরা হুয়াওয়ে সদর দপ্তর থেকে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ পান এবং প্রযুক্তিগত নানা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন। টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, আইসিটির গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ফাইভজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ক্লাউড কম্পিউটিং ইত্যাদি বিষয়ে তারা ধারণা লাভ করেন। এর পাশাপাশি এ প্রোগ্রামে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে একটি বিশেষ সেশনেও অংশ নেন। 

হুয়াওয়ে সদর দপ্তরের সমন্বয়ে অনলাইন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সিডস ফর দ্য ফিউচার ২০২১-এর গ্র্যাজুয়েশন শেষ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার দেশের আটটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত সেরা ১৬ শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং হুয়াওয়ে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা।

এ বছর বাংলাদেশ ও অন্য দেশের শিক্ষার্থীরা হুয়াওয়ে সদর দপ্তর থেকে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ পান এবং প্রযুক্তিগত নানা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন। টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, আইসিটির গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ফাইভজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ক্লাউড কম্পিউটিং ইত্যাদি বিষয়ে তারা ধারণা লাভ করেন। এর পাশাপাশি, এ প্রোগ্রামে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে একটি বিশেষ সেশনেও অংশ নেন।

টেক ফর অল থিমের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশন জমা দিয়েছেন, যা এই প্রতিযোগিতার পরের রাউন্ডের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই রাউন্ডে ১৩০টি দেশ ও অঞ্চলের শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। বিভিন্ন মাপকাঠির বিচারে শীর্ষ তিন প্রকল্প ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ঘোষণা করা হবে।

গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের অসংখ্য উদ্ভাবনী আইডিয়া রয়েছে। সঠিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে তারা এসব আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা এ ব্যাপারে সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু, ইকোসিস্টেমও গুরুত্বপূর্ণ। সব সময় আমাদের পাশে থেকে ভবিষ্যতের কল্যাণে আইসিটিতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলায় কাজ করার জন্য আমি হুয়াওয়েকে ধন্যবাদ জানাই। আমি মনে করি, এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন কিছু শিখেছে, যা তারা দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাবে।’

হুয়াওয়ে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ঝ্যাং ঝেংজুন বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক জনসম্পদ রয়েছে, যার একটি বড় অংশ হলো প্রতিভাবান তরুণ। হুয়াওয়ে বিশ্বাস করে ডিজিটাল অগ্রগতির পাশাপাশি উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে তরুণ সমাজ। হুয়াওয়ে তরুণদের মূল্যবান বলে মনে করে এবং তাদের দক্ষতাকে মূল্যায়ন করে। তারা যাতে সঠিক পথ বেছে নিতে পারে, তাদের নিজেদের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে এবং সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, এ জন্য তাদের সঠিক পথ দেখানোকে আমরা দায়িত্ব বলে মনে করি। এই অনুপ্রেরণা থেকেই হুয়াওয়ে দেশে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’

হুয়াওয়ে বাংলাদেশের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান হুয়াং বাওশিওং বলেন, ‘হুয়াওয়ে তরুণদের অঙ্কুর হিসেবে বিবেচনা করে। তারা উদ্ভাবক, সৃষ্টিশীল এবং নেতৃত্বের অধিকারী; এবং তারাই একটি টেকসই সমৃদ্ধির দিকে বিশ্বকে পরিচালিত করবে। আর তাই, তাদের শিক্ষানুরাগী, সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম উদ্যোক্তা ও ডেভেলপার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এটিই সিডস ফর দ্য ফিউচারের লক্ষ্য।’

গত ১৩ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এ বছর বাংলাদেশে সিডস ফর দ্য ফিউচার প্রোগ্রাম শুরু হয়। প্রোগ্রামের ঘোষণার পর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয় যেখানে ছিল ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি (ইডব্লিউ), আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এইউএসটি)। পাশাপাশি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)-এর মতো আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়। পরবর্তীতে বাছাই পর্বের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ১৬ জন দক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থী (প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন ছেলে এবং একজন মেয়ে শিক্ষার্থী) নির্বাচিত হয়।

‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ বিশ্বব্যাপী এসটিইএম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশলবিদ্যা ও গণিত) শিক্ষার্থীদের জন্য হুয়াওয়ের বিশেষ একটি ফ্ল্যাগশিপ সিএসআর প্রোগ্রাম। এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে আইসিটি খাতের মেধাবী শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করা হয়। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে চালু হওয়ার পর থেকেই এ প্রোগ্রামটি আইসিটি খাতের প্রতিভাবানদের মেধা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। এর আগে, এই প্রোগ্রামের কয়েকজন বিজয়ী হুয়াওয়ের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

আরও পড়ুন:
হুয়াওয়ে ক্লাউডে প্রথম ভার্চুয়াল মানুষ
তরুণদের নিয়ে আবার শুরু হুয়াওয়ের সিডস ফর দ্য ফিউচার
স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরির সরঞ্জাম দিল হুয়াওয়ে
বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও চমক হুয়াওয়ের
‘অনার’ ব্র্যান্ড বেচেই দিল হুয়াওয়ে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Accused of killing a dog by mixing poison in rice demanded punishment

ভাতে বিষ মিশিয়ে কুকুর হত্যায় অভিযুক্তের শাস্তি দাবি

ভাতে বিষ মিশিয়ে কুকুর হত্যায় অভিযুক্তের শাস্তি দাবি ভাতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে চারটি কুকুর হত্যা করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
চুয়াডাঙ্গা সদরের ইউএনও শামীম ভুইয়া বলেন, ‘ভাতের সঙ্গে দানাদার বিষ মিশিয়ে কুকুর হত্যার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রাণী হত্যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

চুয়াডাঙ্গায় ভাতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে চারটি কুকুর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি চেয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে অভিযোগ করেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘পানকৌড়ি’র সভাপতি বখতিয়ার হামিদ বিপুল।

তিনি জানান, খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে চারটি কুকুর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে সদর ইউএনও এর কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অসুস্থ কুকুর দুটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদরের ইউএনও শামীম ভুইয়া।

তিনি বলেন, ‘ভাতের সঙ্গে দানাদার বিষ মিশিয়ে কুকুর হত্যার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রাণী হত্যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

এর আগে উপজেলার বেলগাছি গ্রামের মাসুম আলীর বাড়ি থেকে মুরগি ধরে খায় একটি কুকুর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার বিকেলে ভাতের সঙ্গে দানাদার বিষ মিশিয়ে ৬টি কুকুরকে খেতে দেন মাসুম। খাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে চারটি কুকুর মারা যায়।

অসুস্থ রয়েছে দুটি কুকুর। কুকুর দুটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও একটির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন:
ভাতে বিষ মিশিয়ে কুকুর হত্যা
বিশ্বের সবচেয়ে থুত্থুড়ে বুড়ো কুকুর ‘পেবলস’
সাইবেরিয়ান হাস্কি কুকুরের খামারে সফল শহীদুল
সেফো ফিরে এসেছে
কুকুর নিধন বন্ধ করলেন মেয়র

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Another youth was arrested for opening the Padma Bridge

পদ্মা সেতুর নাট খোলা আরেক যুবক গ্রেপ্তার

পদ্মা সেতুর নাট খোলা আরেক যুবক গ্রেপ্তার বাইজীদের পর পদ্মা সেতুর নাট খুলে ভাইরাল হ্য়ওয়া মাহদি গ্রেপ্তার। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মাহদি হাসান নামের ওই যুবককে। রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিটিটিসির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

পদ্মা সেতুর নাট খুলে ভিডিও ধারণ করার ঘটনায় আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মাহদি হাসান নামের ওই যুবককে।

রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিটিটিসির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

গত ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ উঠে পড়েন মূল সেতুতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরে তাদের সরিয়ে দেন।

পরদিন সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার পর দিনের বিভিন্ন সময়ে বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। এরই ফাঁকে নাট খোলার ভিডিওটি করেন মো. বাইজীদ নামের এক যুবক।

পদ্মা সেতুর নাট খোলা আরেক যুবক গ্রেপ্তার

বাইজীদের নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। এর আগেই তিনি আটক হয়েছিলেন।

এদিকে বাইজীদের নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলার ঘোষণার মধ্যেই নাট খোলার আরও একটি ভিডিও ছড়ায়। দুটি ভিডিও পর্যালোচনা করলে দেখে মনে হয়, দুটো একই জায়গায় করা হয়েছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা (সিআইডি) সে সময় জানায়, তারা বেশ কয়েকটি ঘটনা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছে। এসব বিষয়ে পরে জানানো হবে।

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুর নাট বল্টু খোলা বাইজীদ ‘খালেদার অনুসারী’: নৌ প্রতিমন্ত্রী
পদ্মা সেতুর বিরোধিতাকারীদের বিচারের পক্ষে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী
কোথা থেকে, কীভাবে মেটানো হলো সেতুর খরচ
পদ্মা সেতুর টাকাতেই উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ সঞ্চালনের পিলার
যানবাহনের চাপ কম পদ্মার টোল প্লাজায়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Husband sentenced to death for murdering housewife

গৃহবধূ হত্যায় প্রথমপক্ষের শ্যালকসহ স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

গৃহবধূ হত্যায় প্রথমপক্ষের শ্যালকসহ স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
এজাহারে বলা হয়, সাইফুল ইসলাম ২০১৬ সালের ৩০ জুলাই তার প্রথম স্ত্রী পারভীন বেগমের ভাই করিম মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী পারভীন আকতারকে গলা কেটে হত্যা করেন। সেই মরদেহ কয়েক দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

গৃহবধূ হত্যা মামলায় প্রথমপক্ষের শ্যালকসহ স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে গাইবান্ধার একটি বিচারিক আদালত। একই সঙ্গে তিন আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফেরদৌস ওয়াহিদ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ রায় দেন।

দণ্ডিতরা হলেন, সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিন ব্যাপারির ছেলে সাইফুল ইসলাম ও একই উপজেলার বসন্তেরপাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে করিম মিয়া। তারা সম্পর্কে শালা-দুলাভাই।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্যা কনক নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এজাহারে বলা হয়, সাইফুল ইসলাম ২০১৬ সালের ৩০ জুলাই তার প্রথম স্ত্রী পারভীন বেগমের ভাই করিম মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী পারভীন আকতারকে গলা কেটে হত্যা করেন। সেই মরদেহ কয়েক দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত পারভীন আকতারের ভাই আজিজুল রহমান সাঘাটা থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন সাইফুল ও করিম।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্যা কনক বলেন, ‘হত্যায় অংশ নেয়া দুইজনের সর্বোচ্চ শাস্তি হয়েছে। তবে বাকি তিন আসামি নিরপরাধ হওয়ায় তাদের খালাস দিয়েছে আদালত।’

আরও পড়ুন:
কালুখালীতে ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা
শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যায় জিতু গ্রেপ্তার
শিক্ষক হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাবিতে আমরণ অনশন
ছেলের প্রেমে মাকে পুড়িয়ে হত্যা, দম্পতি কারাগারে
শিক্ষক হত্যায় জিতুর বাবা রিমান্ডে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Teachers soaked in rain demand punishment for killers

বৃষ্টিতে ভিজে শিক্ষক হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি

বৃষ্টিতে ভিজে শিক্ষক হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি শিক্ষক উৎপলকে পিটিয়ে হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি করেছেন অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
মানববন্ধনে ফেডারেশন অব কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সাভার অঞ্চলের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষক হত্যার মতো এমন নেক্কারজনক ঘটনার সাক্ষীও আমাদের হতে হচ্ছে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাদের শিক্ষকরা আজ নিরাপদ বোধ করছেন না।’

ঢাকার সাভারে শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারের খুন হওয়ার ঘটনা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার সহকর্মী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

তাই বৃষ্টিতে ভিজেই মহাসড়কে দাড়িয়ে শিক্ষক উৎপলের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সাভার উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজী ইউনুছ আলী কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ছাড়াও ফেডারেশন অব কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন সাভারের আওতাধীন অন্তত ২১টি শিক্ষক সংগঠনের ১০০ জনের বেশি শিক্ষক এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

বৃষ্টিতে ভিজে শিক্ষক হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি

মানববন্ধনে ফেডারেশন অব কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সাভার অঞ্চলের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষক হত্যার মতো এমন নেক্কারজনক ঘটনার সাক্ষীও আমাদের হতে হচ্ছে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাদের শিক্ষকরা আজ নিরাপদ বোধ করছেন না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই দেরিতে হলেও ঘটনার মূল আসামি জিতুকে গ্রেপ্তার করার জন্য। একই সঙ্গে দাবি জানাই, দ্রুত এই মামলার বিচার কার্য শেষ করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের। পাশাপাশি নিহত শিক্ষকের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানাই।’

মানববন্ধনে তিনি সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকদের সঙ্গে অমানবিক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে সকল শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিও করেন।

মানববন্ধনে হাজী ইউনুস আলী কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের অন্যতম দাবি, দ্রুত ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী জিতুর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, যাতে আর কখনও কোনো শিক্ষকের উপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার সাহস কেউ দেখাতে না পারে। একই সঙ্গে আর কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি আমাদের।’

বৃষ্টিতে ভিজে শিক্ষক হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি
ছাত্রের মারধরে নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার। ছবি: সংগৃহীত

একই দাবিতে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গত শনিবার দুপুরে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ছাত্রীদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক উৎপল কুমারকে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে আহত করে একই প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতু। পরদিন রোববার সকালে সাভারের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। একই দিন উৎপলের বড় ভাই অসীম কুমার আশুলিয়া থানায় জিতুকে প্রধান আসামিসহ অজ্ঞাত তিন থেকে চারজনের নামে হত্যা মামলা করেন।

পরে বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে জিতুর বাবা উজ্জ্বল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। একই দিন রাতে গাজীপুর থেকে মামলার প্রধান আসামি জিতুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

শিক্ষক উৎপলের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার এঙ্গেলদানি গ্রামে। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Conflict over the meaning of the mosque hacked to death

মসজিদের অর্থের হিসাব নিয়ে দ্বন্দ্ব, একজনকে কুপিয়ে হত্যা

মসজিদের অর্থের হিসাব নিয়ে দ্বন্দ্ব, একজনকে কুপিয়ে হত্যা
নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসক শামিমুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই কামরুলের মৃত্যু হয়। আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের কোপ ছিল। তাদের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাদের খুলনায় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।’

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় বাড়িতে ঢুকে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে আরও পাঁচজন।

পুরুলিয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার সকালে হামলার এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ৪০ বছর বয়সী ব্যক্তির নাম কামরুল শেখ। আহতরা হলেন জাকির শেখ, মো. ইমরুল শেখ, সবুর শেখ, মনসুর শেখ ও মনজুর শেখ।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নড়াইল কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাসমীম আলম।

নিহতের ভাই ও সাবেক মেম্বার বেলাল হোসেন জানান, পুরুলিয়া জামে মসজিদের অর্থের হিসাব নিয়ে গত শুক্রবার স্থানীয় নয়ন সরদার ও আলিম গাজীর সঙ্গে কামরুল শেখ ও ইমরুল শেখের কথা-কাটাকাটি হয়।

এরই জেরে সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে নয়ন, আলিমসহ ১৫ থেকে ২০ জন কামরুলের বাড়িতে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। কামরুলসহ গুরুতর আহতদের নড়াইল সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক কামরুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

নড়াইল সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শামিমুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই কামরুলের মৃত্যু হয়। আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের কোপ ছিল। তাদের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাদের খুলনায় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।’

ওসি তাসমীম আলম জানান, ‘কামরুল শেখের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। আমরা অভিযুক্তদের ধরতে চেষ্টা করছি।’

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা: অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলার সাক্ষ্য শুরু
শিক্ষক হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাবিতে আমরণ অনশন
ছেলের প্রেমে মাকে পুড়িয়ে হত্যা, দম্পতি কারাগারে
শিক্ষক হত্যায় জিতুর বাবা রিমান্ডে
ছাগলের জন্য বড় ভাইকে হত্যায় গ্রেপ্তার ছোট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The driver was killed in a truck motorcycle collision

ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল চালকের

ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল চালকের প্রতীকী ছবি
ওসি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ট্রাকটি জব্দ করেছে পুলিশ। তবে ট্রাকচালক পলাতক আছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

চাঁদপুরের কচুয়ায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন।

কচুয়া-গৌরিপুর সড়কের বায়েক এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মোটরসাইকেল চালকের নাম শফিকুল ইসলাম। তিনি নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার হোসাইন নগর গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে।

কচুয়া সাচার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কচুয়া থেকে মোটরসাইকেলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন শফিকুল। এ সময় ঢাকা থেকে কচুয়া আসার পথে বায়েক মোড় এলাকায় একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলচালক শফিকুল ইসলাম মারা যান।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ট্রাকটি জব্দ করেছে পুলিশ। তবে ট্রাকচালক পলাতক আছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত
প্রবাসীকে আনতে গিয়ে খুঁটিতে মাইক্রোর ধাক্কা, নিহত ৩
ধাক্কা দিয়ে কাভার্ড ভ্যানের চালক নিহত
দুই বাইকের সংঘর্ষে চালকরা নিহত
ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল অটোচালক ও যাত্রীর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Teacher Utpal beaten to death for showing heroism Radhab

হিরোইজম দেখাতে শিক্ষক উৎপলকে পিটিয়ে হত্যা: র‍্যাব

হিরোইজম দেখাতে শিক্ষক উৎপলকে পিটিয়ে হত্যা: র‍্যাব ছাত্রের মারধরে নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার। ছবি: সংগৃহীত
র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘ঘটনার কয়েকদিন আগে ওই স্কুলের এক ছাত্রীর সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত জিতুর অযাচিতভাবে ঘোরাফেরা হতে বিরত থাকার বিষয়ে শিক্ষক উৎপল কুমার প্রেষণা প্রদান করেন। এই ঘটনায় সে তার শিক্ষকের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ও ওই ছাত্রীর নিকট নিজের হিরোইজম প্রদর্শন করার জন্য তার ওপর হামলার পরিকল্পনা করে।’

ঢাকার সাভারে স্কুলছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতু হিরোইজম দেখাতে গিয়ে তার শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে পিটিয়ে হত্যা করেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে বৃহস্পতিবার ব্রিফিংয়ে বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানিয়েছেন।

উৎপল হত্যা মামলার প্রধান আসামি জিতুকে গাজীপুরের শ্রীপুরের নগরহাওলা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি বুধবার সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন র‍্যাবের কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন।

জিতুকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদে কী জানা গেল, তা নিয়ে পরের দিন ব্রিফিংয়ে আসেন র‌্যাবের মুখপাত্র।

কোথায় ছিলেন জিতু

ঘটনার পর থেকে জিতু পালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেন বলে জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক।

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই জিতুকে ধরতে গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে র‌্যাব। ঘটনার দিন বিকেলে জিতু যখন বুঝতে পারে যে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুঁজছে, তখনই সে তার বাড়ি থেকে পালিয়ে মানিকগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেয়। সেখানে রাত কাটিয়ে পরদিন সে তার অবস্থান পরিবর্তন করে আরিচা ফেরিঘাটে পৌঁছায় এবং ট্রলারে করে নদী পার হয়ে পাবনার আতাইকুলাতে তার এক পরিচিতের বাড়িতে আত্মগোপন করে।

‘পরদিন ভোরে সে আবারও তার অবস্থান পরিবর্তন করার জন্য আতাইকুলা থেকে বাসে করে কাজিরহাট লঞ্চ টার্মিনালে এসে লঞ্চে করে আরিচাঘাট পৌঁছায় এবং সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুরের শ্রীপুরের ধনুয়া গ্রামে আত্মগোপন করে। সেখান থেকেই আশরাফুল ইসলাম জিতু ওরফে জিতু দাদাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।’

হিরোইজম দেখাতে শিক্ষক উৎপলকে পিটিয়ে হত্যা: র‍্যাব

শিক্ষার্থীদের প্রেষণা দিতেন উৎপল

খন্দকার আল মঈন জানান, মারধরে নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি ২০১৩ সালে আশুলিয়ার হাজি ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।

তিনি জানান, উৎপল কলেজের শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম, চুলকাটা, ধূমপান করা ও উত্ত্যক্তকরণসহ বিভিন্ন নিয়মশৃঙ্খলা ভঙ্গজনিত বিষয় থেকে দূরে রাখতে প্রেষণা বা মোটিভেশন দিতেন। এ ছাড়াও তিনি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলাধুলা পরিচালনা করাসহ শিক্ষার্থীদের সুপরামর্শের মাধ্যমে সৃজনশীলতা বিকাশে ভূমিকা রাখতেন।

‘উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র হিসেবে পরিচিত জিতু’

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার জিতু ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তিনি শিক্ষা জীবনে বিরতি দিয়ে প্রথমে স্কুল ও পরে মাদ্রাসায় পড়েন। সর্বশেষ আবার স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে বর্তমানে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

হিরোইজম দেখাতে শিক্ষক উৎপলকে পিটিয়ে হত্যা: র‍্যাব

জিতুর বিষয়ে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সে স্কুলে সকলের নিকট একজন উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময় শৃঙ্খলাভঙ্গ, মারামারিসহ স্কুলের পরিবেশ নষ্টের জন্য তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

‘স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ও স্কুল চলাকালীন ছাত্রীদের ইভটিজিং ও বিরক্ত করত। স্কুল প্রাঙ্গনে সকলের সামনে ধূমপান, স্কুল ইউনিফর্ম ব্যতীত স্কুলে আসা-যাওয়া, মোটরসাইকেল নিয়ে বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করত। সে তার নেতৃত্বে এলাকায় একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তোলে। পাশাপাশি গ্যাং সদস্যদের নিয়ে মাইক্রোবাসে করে যত্রতত্র আধিপত্য বিস্তার করত।

‘পরিবারের নিকট তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলে গ্রেপ্তারকৃত জিতু তার অনুসারী গ্যাং সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হতো ও বিভিন্ন সময় এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে হামলা ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে শোডাউন দিত বলে জানা যায়। একইভাবে স্কুল কমিটিতে তার পরিবারের প্রভাব থাকায় স্কুলেও শিক্ষকদের পরোয়া করত না জিতু।’

জিজ্ঞাসাবাদে কী বেরিয়ে এলো

জিতুকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘ঘটনার কয়েকদিন আগে ওই স্কুলের এক ছাত্রীর সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত জিতুর অযাচিতভাবে ঘোরাফেরা হতে বিরত থাকার বিষয়ে শিক্ষক উৎপল কুমার প্রেষণা প্রদান করেন। এই ঘটনায় সে তার শিক্ষকের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ও ওই ছাত্রীর নিকট নিজের হিরোইজম প্রদর্শন করার জন্য তার ওপর হামলার পরিকল্পনা করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সে ঘটনার দিন সকালে একটি ক্রিকেট খেলার স্টাম্প স্কুলে নিয়ে আসে এবং তা শ্রেণিকক্ষের পেছনে লুকিয়ে রাখে ও তার শিক্ষককে আঘাত করার সুযোগ খুঁজতে থাকে।

‘পরবর্তী সময়ে কলেজ মাঠে ছাত্রীদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালীন শিক্ষক উৎপল কুমারকে মাঠের এক কোনে শিক্ষককে একাকী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গ্রেপ্তারকৃত জিতু তার কাছে থাকা ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে অতর্কিতভাবে বেধড়ক আঘাত করতে থাকে। গ্রেপ্তারকৃত জিতু তার শিক্ষককে প্রথমে পেছন থেকে মাথায় আঘাত করে এবং পরবর্তী সময়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতরভাবে জখম করে পালিয়ে যায়।’

জিতুর বয়স ১৯

র‌্যাব কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘জিতুর শিক্ষাজীবন অনিয়মিত ছিল। প্রথমে সে স্কুলে ভর্তি হলেও পরবর্তী সময়ে সে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। এরপর সবশেষ মাদ্রাসা ছেড়ে নবম শ্রেণিতে এই স্কুলে ভর্তি হয়। এর মাঝে তার পড়াশোনায় গ্যাপও সৃষ্টি হয়েছিল। জিতুর সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার জন্মসাল ২০০৩।

‘সে অনুযায়ী জিতুর বয়স ১৯ বছর, কিন্তু মামলার এজাহারে তার বয়স ১৬ উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়টি মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করা হবে।’

যা ঘটেছিল

সাভারে হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা ছেলেদের ফুটবল ও মেয়েদের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছি। শনিবার স্কুলে মেয়েদের ক্রিকেট খেলা চলছিল। এ সময় প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় তলা ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিল ছেলে শিক্ষার্থীরা।

‘অভিযুক্ত ছাত্রও দ্বিতীয় তলায় ছিল। হঠাৎ সে নেমে মাঠের এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষক উৎপলকে স্টাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় উৎপলকে উদ্ধার করে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই সোমবার সকালে উৎপলের মৃত্যু হয়।’

অধ্যক্ষ জানান, উৎপলের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার এঙ্গেলদানি গ্রামে। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

তিনি আরও জানান, দায়িত্বের অংশ হিসেবেই উৎপল শিক্ষার্থীদের আচরণগত সমস্যা নিয়ে কাউন্সেলিং করতেন এবং তাদের নানা অপরাধ বা নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিচার করতেন।

আরও পড়ুন:
দুর্বৃত্তের গুলিতে হত্যা মামলার আসামি নিহত
অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা ওসির সামনেই
কালুখালীতে ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা
শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যায় জিতু গ্রেপ্তার
শিক্ষক হত্যা ও অপদস্থের ঘটনায় চবি শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ

মন্তব্য

p
উপরে