‘ম্যাজিস্ট্রেট আছে, সাবধানে আহিস’

‘ম্যাজিস্ট্রেট আছে, সাবধানে আহিস’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যে পয়েন্টে অবস্থান নেন, তা পার না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া থেকে বিরত থাকেন সুপারভাইজার বা কন্ডাক্টররা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

যে সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা অবস্থান নেন, সেই সড়ক ধরে চলাচলকারী গণপরিবহনগুলোর চালক ও সুপারভাইজারদের আগে থেকে সতর্ক করে দিচ্ছেন মালিক প্রতিনিধিরা। এতে করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যে পয়েন্টে অবস্থান নেন, তা পার না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া থেকে বিরত থাকেন সুপারভাইজার বা কন্ডাকটররা।

বাসে বেশি ভাড়া আদায় বন্ধে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), কিন্তু অভিযান পরিচালনার আগেই খবর পেয়ে সতর্ক হয়ে যাচ্ছে বাস চালকরা।

প্রতিটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে থাকছে পরিবহন সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা। তারাই ফাঁস করে দিচ্ছে কখন কোথায় অভিযান।

যে সড়কে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা অবস্থান নেন, সেই সড়ক ধরে চলাচলকারী গণপরিবহনগুলোর চালক ও সুপারভাইজারদের আগে থেকেই সতর্ক করে দিচ্ছেন প্রতিনিধিরা। এতে করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যে পয়েন্টে অবস্থান নেন, তা পার না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া থেকে বিরত থাকেন সুপারভাইজার বা কন্ডাকটররা।

‘ম্যাজিস্ট্রেট আছে, সাবধানে আহিস’

এতে করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ওই পয়েন্টে বাসগুলো চেক করার সময় বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ পান না। চেক পয়েন্ট পার হয়ে গেলেই ভাড়া নেয়া শুরু হয়।

কয়েক দিন ধরে চলা বিভিন্ন পয়েন্টের ভ্রাম্যমাণ আদালতগুলোর অভিযান ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। শনিবার সকাল থেকে মানিক মিয়া এভিনিউতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফখরুল ইসলাম।

তার এই অভিযান চলাকালে পর্যবেক্ষণে এসেছিলেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। তার সঙ্গে সংগঠনের অন্যান্য নেতা ও বিভিন্ন পরিবহনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে এই প্রতিনিধিদের বিকাশ, ভিআইপি ২৭, মিরপুর সুপার লিংকসহ অন্যান্য পরিবহনের বাসগুলোকে ফোন কল করে সতর্ক করতে দেখা গেছে। তারপরও বাড়তি ভাড়া আদায় করছে এমন কয়েকটি বাসকে জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় ও পুনর্নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা না রাখার অভিযোগে বিকাশ পরিবহন, স্বাধীন ও ৮ নম্বর বাসকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যখন বিভিন্ন কোম্পানির বাস থামাচ্ছিলেন, তখন পেছনে দাঁড়িয়ে টেলিফোনে ‘সতর্ক হয়ে’ ভাড়া তুলতে বলতে শোনা যায় এক ব্যক্তিকে। তিনি ফোনে বলছিলেন, ‘আড়ং পুলিশ বক্সের পরে ম্যাজিস্ট্রেট আছে। সাবধানে আহিস; গাড়ি কিন্তু আটকাইতাছে।’

‘ম্যাজিস্ট্রেট আছে, সাবধানে আহিস’

ফোনে কথা বলা ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে গেলে জানা যায়, তিনি মিরপুর সুপার লিংক পরিবহনের মালিক হাসান শেখ। এই কোম্পানিতে তার বাস রয়েছে ছয়টি।

ফোন কল করে নিজের বাসের চালক বা সুপারভাইজারকে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতির ব্যাপারে সতর্ক করছিলেন কি না জানতে চাইলে হাসান শেখ তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে সতর্ক করিনি। আমরা এখানে সরকারের দায়িত্বশীলদের সাহায্য করতে এসেছি।’

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ জানান, রাজধানীতে তাদের আটটি সার্ভেইলেন্স টিম কাজ করছে। প্রতিটি টিমে মালিক-শ্রমিক মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ জন করে থাকেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সহায়তা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তাদের টিমগুলো কাজ করছে বলে জানান তিনি।

তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার খরব সড়কে থাকা চালক-সুপারভাইজারদের জানিয়ে দেয়ার বিষয়ে সমিতির মহাসচিবের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগটি স্বীকার করেছেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক সামদানী খন্দকার।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিভিন্ন অভিযান চলার সময় গাড়ি ঘুরিয়ে দেয়ার চর্চা আমাদের মধ্যে আছে। এটা সত্য, খবর পৌঁছে দেয়া হয়, কিন্তু শহরজুড়ে ৮-১০টি টিম কাজ করলে কোথাও না কোথাও ধরা পড়তেই হবে। কেউ খবর দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে দিলে অন্য সড়কে গিয়ে তো ধরা পড়তে পারে।’

ভ্রাম্যমাণ আদালতের তথ্য ফাঁস হলেও এ অভিযানে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে মনে করেন সামদানী খন্দকার। তিনি বলেন, ‘শতভাগ ঠিক করা হয়তো সম্ভব না, কিন্তু এভাবে নজরদারি রাখলে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ঠিক করা সম্ভব।’

অন্যান্য দিনের মতো রোববার বিআরটিএ ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও সিটিং সার্ভিসের নামে অবৈধ স্টিকার লাগানোর অপরাধে ২৪৭টি বাস ও মিনিবাসকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই ২৪৭টি গণপরিবহনের মধ্যে ১৯৮টি ডিজেল চালিত ও ৪৯টি সিএনজিচালিত বাস ও মিনিবাস পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন:
ভারত সীমান্ত দিয়ে ডিজেল পাচারের চেষ্টা, গ্রেপ্তার দুই
অবশেষে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমছে
সংসদ অধিবেশন: তেলের দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহার চায় জাপা
চট্টগ্রামে বাসে বাসে পুলিশের স্টিকার
ডাইরেক্ট গাড়ি বলে ৯৩ টাকার ভাড়া ১৫০

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রামপুরায় ছাত্র নিহতের ঘটনায় সড়ক মন্ত্রীর নানা প্রশ্ন

রামপুরায় ছাত্র নিহতের ঘটনায় সড়ক মন্ত্রীর নানা প্রশ্ন

অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হয় এসএসসি পরীক্ষা দেয়া এক শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত

ঘটনার ১২ মিনিটেই নিরাপদ সড়ক চাই পেইজ লাইভে গেল কীভাবে?  নাকি তারা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল? বাঁশেরকেল্লা ১৫ মিনিটের মধ্যেই সব খবর পেয়ে গেল কীভাবে?  আর বাকি ১০ মিনিটেই ১০ টি গাড়িতে আগুন কীভাবে দেয়া হলো? এত জনবল রাত ১১ টার পর ঘটনাস্থলে এলো কীভাবে?  তাহলে তার কি আগেই প্রস্তুত ছিল?’

রামপুরায় বাস চাপায় শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনাটি পরিকল্পিত কি না, জাতির বিবেকের কাছে সে প্রশ্ন রেখেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছাত্র নিহতের ঘটনার ১৫ মিনিটের মধ্যেই ফেসবুক পেজে লাইভ এবং গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।

বুধবার আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত " ফাইভ জি: দ্য ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি’ শীর্ষক সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ নেতা এও বলেন, ছাত্র নিহত হওয়ায় গভীর শোকাহত ও ব্যথিত।

তিনি বলেন, ঘটনাটি ঘটে রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে। এর ১২ মিনিট পর ১০ টা ৫৭ মিনিটে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ ফেসবুক পেইজে সেই স্থান থেকে লাইভ করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে ১৭ টি বাসে আগুন দেয়া হয় এবং অসংখ্য গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রাত ১১ টায় জামায়াত পরিচালিত টেলিগ্রাম চ্যানেলে খবরটি প্রকাশিত হয় এবং দুর্ঘটনার স্থান থেকেই সমস্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই প্রায় ১৫টি বাসে আগুন দেয়াও শেষ হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিষয়টি আসলেই দুর্ঘটনা কিনা?

তিনি বলেন, ‘ঘটনার ১২ মিনিটেই নিরাপদ সড়ক চাই পেইজ লাইভে গেল কীভাবে? নাকি তারা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল? বাঁশেরকেল্লা ১৫ মিনিটের মধ্যেই সব খবর পেয়ে গেল কীভাবে? আর বাকি ১০ মিনিটেই ১০ টি গাড়িতে আগুন কীভাবে দেয়া হলো?’

এত রাতে দুর্ঘটনার পর পর ঘটনাস্থলে মানুষের জটলা নিয়েও প্রশ্ন রাখেন সড়ক মন্ত্রী। বলেন, ‘এত জনবল রাত ১১ টার পর ঘটনাস্থলে এলো কীভাবে? তাহলে তার কি আগেই প্রস্তুত ছিল?’

মন্ত্রী বলেন, ‘সেনাবাহিনী, পুলিশ বা ফায়ার বিগ্রেড এতো তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে পারে না, যত দ্রুত গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। এতে রাতে অল্প বয়সী শিক্ষার্থীরা কি এত দ্রুত পৌঁছে গেছে?’

তিনি বলেন ‘এমনিতেই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আন্দোলন চলছে। যারাই দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছেন তারা সবাই শিক্ষার্থী। গাড়ীতে কি ছাত্র ছাড়া অন্য আর যাত্রী থাকে না?‘

এসব প্রশ্ন করে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি মোটেই দুর্ঘটনা নয়।… এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

ওবায়দুল কাদের বলেন ২০২৩ সালের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে এই ফাইভ- জি সেবা দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শরর, শিল্প প্রতিষ্ঠাননির্ভর এলাকায় বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এ পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
ভারত সীমান্ত দিয়ে ডিজেল পাচারের চেষ্টা, গ্রেপ্তার দুই
অবশেষে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমছে
সংসদ অধিবেশন: তেলের দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহার চায় জাপা
চট্টগ্রামে বাসে বাসে পুলিশের স্টিকার
ডাইরেক্ট গাড়ি বলে ৯৩ টাকার ভাড়া ১৫০

শেয়ার করুন

বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত: কনডাক্টর-হেলপার রিমান্ডে

বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত: কনডাক্টর-হেলপার রিমান্ডে

অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন নিহত হয়। ফাইল ছবি

ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম বুধবার বাসের কনডাক্টর গোলাম রাব্বী ওরফে বিন রহমান ও হেলপার চাঁন মিয়াকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন ইসলাম নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার অনাবিল পরিবহনের বাসের কনডাক্টর ও হেলপারকে এক দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম বুধবার তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এ আদেশ দেন।

রিমান্ডের আদেশ পাওয়া দুজন হলেন সেই বাসের কনডাক্টর গোলাম রাব্বী ওরফে বিন রহমান ও হেলপার চাঁন মিয়া।

আদালতে রামপুরার থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার এসআই মোহাম্মদ আল আমিন মীর সড়ক পরিবহন আইনে মাইনুদ্দিনের মায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। আদালত তাদের এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় মাইনুদ্দিন নামে শিক্ষার্থীর।

মাইনুদ্দিন একরামুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অনাবিল পরিবহনের একাধিক বাসসহ অন্তত আটটি বাসে আগুন ও চারটি বাস ভাঙচুর করে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ এসে রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুর্ঘটনার সময় চালক মো. সোহেলকে আটক করে প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে দেয়া হয়। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।

পরের দিন মঙ্গলবার ভোরে সায়েদাবাদ এলাকা থেকে হেলপার চাঁন মিয়াকে আটক করে র‌্যাব। পরে তাকে রামপুরা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

একই দিন সন্ধ্যায় সায়েদাবাদ থেকে কনডাক্টর রাব্বীকে আটক করে র‌্যাব। তাকেও রামপুরা থানা পুলিশের কাছে দেয়া হয়।

তিনজনকেই পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয় সড়ক পরিবহন আইনে মাইনুদ্দিনের মায়ের করা মামলায়।

আরও পড়ুন:
ভারত সীমান্ত দিয়ে ডিজেল পাচারের চেষ্টা, গ্রেপ্তার দুই
অবশেষে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমছে
সংসদ অধিবেশন: তেলের দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহার চায় জাপা
চট্টগ্রামে বাসে বাসে পুলিশের স্টিকার
ডাইরেক্ট গাড়ি বলে ৯৩ টাকার ভাড়া ১৫০

শেয়ার করুন

রাস্তা ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা, কর্মসূচি সীমিতের ঘোষণা

রাস্তা ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা, কর্মসূচি সীমিতের ঘোষণা

নিরাপদ সড়কের দাবিতে রামপুরার রাস্তায় শিক্ষার্থীরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

মহিদুল ইসলাম দাউদ বলেন, ‘আগামীকাল থেকে সারা দেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। আমরা চাই না আমাদের আন্দোলনের কারণে কোনো পরীক্ষার্থীর অসুবিধা হোক। তাই বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত আন্দোলন চলবে।’

সারা দেশেই ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য হাফ পাস চালুর দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার কর্মসূচি শিথিলের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে বৃহস্পতিবার কোনো রাস্তা অবরোধ না করার কথা জানিয়েছেন নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ২০২১-এর মুখপাত্র মহিদুল ইসলাম দাউদ।

রামপুরায় বাসের চাপায় স্কুলছাত্র নিহতের ঘটনায় বুধবারও সকাল ১০টা থেকে রামপুরায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

টানা ৫ ঘণ্টার বেশি সময় অবরোধের পর বেলা ৩টা ১০ মিনিটে পর সড়ক ছাড়ের শিক্ষার্থীরা। এরপর শুরু হয় যান চলাচল।

মহিদুল ইসলাম দাউদ বলেন, ‘আগামীকাল থেকে সারা দেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। আমরা চাই না আমাদের আন্দোলনের কারণে কোনো পরীক্ষার্থীর অসুবিধা হোক। তাই বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত আন্দোলন চলবে।’

ওই সময়ে দেশের সবগুলো প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবেন শিক্ষার্থীরা।

দাউদ বলেন, ‘কর্মসূচির সময় কোনো শিক্ষার্থী রাস্তায় দাঁড়াবে না, সবাই ফুটপাতে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়াবে। এ সময় সবাই কালো ব্যাজ ধারণ করে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সবাইকে স্মরণ করতে ১ মিনিটের নীরবতা পালন করবে।’

এই কর্মসূচি সুশৃঙ্খলভাবে যথাসময়ে শেষ করতে দেশের সব শিক্ষার্থীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া সারা দেশে শিক্ষার্থীদের বাসে হাফ পাস নিশ্চিতে যদি কোনো ভর্তুকির প্রয়োজন পড়ে, তা হলে তা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্যাহকে দেয়ার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

গণমাধ্যমে এরই মধ্যে এনায়েত উল্যাহর চাঁদাবাজির খবর প্রকাশ হয়েছে জানিয়ে শিক্ষার্থীরা ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।

এই দাবি মানা না হলে এনা পরিবহন বর্জনসহ আরও কঠোর কর্মসূচির দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।

গণপরিবহনে হাফ পাসের দাবিতে রাজধানীতে বেশ কিছুদিন থেকেই বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। সে দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে বুধবার থেকে রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখানো সাপেক্ষে হাফ ভাড়া কার্যকর করেছে বাস পরিবহন মালিক সমিতি।

এ ছাড়া নিরাপদ সড়কসহ আরও কয়েকটি দাবিতে গত দুই দিন রাজধানীর বেশ কিছু সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
ভারত সীমান্ত দিয়ে ডিজেল পাচারের চেষ্টা, গ্রেপ্তার দুই
অবশেষে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমছে
সংসদ অধিবেশন: তেলের দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহার চায় জাপা
চট্টগ্রামে বাসে বাসে পুলিশের স্টিকার
ডাইরেক্ট গাড়ি বলে ৯৩ টাকার ভাড়া ১৫০

শেয়ার করুন

অধ্যাপক রফিকুলের দাফন আজিমপুর কবরস্থানে

অধ্যাপক রফিকুলের দাফন আজিমপুর কবরস্থানে

বাংলা একাডেমিতে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের মরদেহবাহী কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

শ্রদ্ধা জানানো শেষে বাংলা একাডেমি থেকে অধ্যাপক রফিকুলের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান অধ্যাপককে। পরে জানাজা শেষে আসরের নামাজের পর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বুধবার জানাজা শেষে বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয় তাকে।

এর আগে বাংলা একাডেমি থেকে শেষ বিদায় জানানো হয় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক মহাপরিচালককে।

দুপুর দেড়টায় রফিকুল ইসলামের মরদেহ একাডেমি প্রাঙ্গণে আনা হয়। নজরুল গবেষক এই অধ্যাপকের মরদেহবাহী কফিন একাডেমির নজরুল মঞ্চে রাখা হয়। সেখানে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান তার সহকর্মী ও পরিচিতজনরা।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। এরপর বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক মো. নুরুল হুদার নেতৃত্বে একাডেমি পরিবার, কবি কাজী নজরুল ইনস্টিটিউট, শালুক, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, স্বাধীনতা ফাউন্ডেশন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন ও জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। সর্বশেষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কলকাতার কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোনালিসা দাস।

শ্রদ্ধা জানানো শেষে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের একমাত্র ছেলে বর্ষণ ইসলাম বলেন, “আমার বাবার সম্পূর্ণ জীবনই সফলতা। আমি কখনো কোনো ব্যর্থতা দেখিনি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সময় আব্বুর ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবিগুলোই ইতিহাস।

“সেগুলো যদি না থাকত তাহলে আমরা আজকে ইতিহাস জানতে পারতাম না। আমি আব্বুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘কোনো ছবিতে আপনার নাম দেখলাম না।’ আব্বু বলেছেন, ‘আমার নামের তো দরকার নেই। সবাই ইতিহাস জানতে পারছে, তাতেই হবে।’”

বর্ষণ বলেন, ‘আমরা আব্বুকে বিদেশ নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আব্বু দেশেই থাকতে চেয়েছেন। তাই আমরা উনাকে বিদেশ নিয়ে যেতে পারিনি।’

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোনালিসা দাস বলেন, ‘আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন নজরুল গবেষণা সেন্টার তৈরি হয়, তখনই রফিকুল ইসলাম স্যার এবং আনিসুজ্জামান স্যার পথিকৃৎ হয়ে নজরুলবিষয়ক গবেষণাকে কেন্দ্র করে গবেষণাগার তৈরি করে দেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রফিকুল ইসলাম স্যারকে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি দেয়ার কথা। যে বছর দেয়ার কথা ছিল, তার পরের বছর করোনা হয়ে গেছে।

‘করোনায় সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য আমরা এখনও দিতে পারিনি। নিশ্চয়ই আমরা সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। গবেষণার মাধ্যমে নজরুলকে দেশে-বিদেশে আমাদের সকলের মধ্যে যেভাবে তুলে ধরেছেন, তা একমাত্র রফিকুল ইসলাম স্যারের পক্ষেই সম্ভব।’

শ্রদ্ধা জানানো শেষে বাংলা একাডেমি থেকে এ অধ্যাপকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান অধ্যাপককে। পরে জানাজা শেষে আসরের নামাজের পর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

আরও পড়ুন:
ভারত সীমান্ত দিয়ে ডিজেল পাচারের চেষ্টা, গ্রেপ্তার দুই
অবশেষে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমছে
সংসদ অধিবেশন: তেলের দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহার চায় জাপা
চট্টগ্রামে বাসে বাসে পুলিশের স্টিকার
ডাইরেক্ট গাড়ি বলে ৯৩ টাকার ভাড়া ১৫০

শেয়ার করুন

রামপুরায় বাস পোড়ানোর ২ মামলায় আসামি ৭৫০

রামপুরায় বাস পোড়ানোর ২ মামলায় আসামি ৭৫০

শিক্ষার্থী নিহতের জেরে রামপুরায় বাসে ধরানো আগুন নেভান ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা। ফাইল ছবি

নাশকতার দুই মামলার মধ্যে রামপুরা থানারটিতে অজ্ঞাতনামা ৫০০ জনকে এবং হাতিরঝিল থানায় করা মামলায় অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রাজধানীর রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন নিহতের জেরে বাস পোড়ানোর ঘটনায় দুটি মামলা করেছে রামপুরা ও হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

নাশকতার দুই মামলার মধ্যে রামপুরা থানারটিতে অজ্ঞাতনামা ৫০০ জনকে এবং হাতিরঝিল থানায় করা মামলায় অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দুটি মামলাই মঙ্গলবার দুপুরে করা হয় বলে নিশ্চিত করেন রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ও হাতিরঝিল থানার ওসি আবদুর রশীদ।

গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় মাইনুদ্দিন নামের শিক্ষার্থীর।

মাইনুদ্দীন একরামুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অনাবিল পরিবহনের একাধিক বাসসহ অন্তত আটটি বাসে আগুন ও চারটি বাস ভাঙচুর করে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ এসে রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুর্ঘটনার সময় চালক মো. সোহেলকে আটক করে প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে দেয়া হয়। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।

পরের দিন মঙ্গলবার ভোরে সায়েদাবাদ এলাকা থেকে হেলপার চাঁন মিয়াকে আটক করে র‌্যাব। পরে তাকে রামপুরা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

একই দিন সন্ধ্যায় সায়েদাবাদ থেকে কনডাক্টর রাব্বীকে আটক করে র‌্যাব। তাকেও রামপুরা থানা পুলিশের কাছে দেয়া হয়।

তিনজনকেই পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয় সড়ক পরিবহন আইনে মাইনুদ্দিনের মায়ের করা মামলায়।

আরও পড়ুন:
ভারত সীমান্ত দিয়ে ডিজেল পাচারের চেষ্টা, গ্রেপ্তার দুই
অবশেষে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমছে
সংসদ অধিবেশন: তেলের দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহার চায় জাপা
চট্টগ্রামে বাসে বাসে পুলিশের স্টিকার
ডাইরেক্ট গাড়ি বলে ৯৩ টাকার ভাড়া ১৫০

শেয়ার করুন

রামপুরার শিক্ষার্থীদের ১১ দাবি

রামপুরার শিক্ষার্থীদের ১১ দাবি

নিরাপদ সড়কের দাবিতে রামপুরায় ফের বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীরা রামপুরা ব্রিজের দুই পাশের সড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহন, চালকদের কাগজ ও লাইসেন্স যাচাই করতে দেখা যায়। সেই সঙ্গে শুধু ঢাকাই নয়, সারা দেশে ছাত্রদের জন্য বাসে হাফ পাস চালুসহ ১১ দফা দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন তারা।

রাজধানীর রামপুরার ব্রিজের ওপর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা ১১ দফা দাবি দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম দাবি, শুধু ঢাকাই নয় সারা দেশে ছাত্রদের জন্য বাস ভাড়া অর্ধেক করা।

গত কয়েক দিনের আগের দিনের মতো বুধবার সকাল ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা রামপুরা ব্রিজের ওপর রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এ সময় তাদের রামপুরা ব্রিজের দুই পাশের সড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহন ও চালকদের কাগজ ও লাইসেন্স যাচাই করতে দেখা যায়। সেই সঙ্গে শুধু ঢাকাই নয়, সারা দেশে ছাত্রদের জন্য বাসে হাফ পাস চালুসহ ১১ দফা দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন তারা।

ছাত্রদের ১১ দফা দাবি

০১. সড়কে নির্মম কাঠামোগত হত্যার শিকার নাঈম ও মাঈনউদ্দিনের হত্যার বিচার করতে হবে। তাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গুলিস্তান ও রামপুরা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় পথচারী পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।

০২. সারা দেশে সব গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ পাস সরকারি প্রজ্ঞাপন দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। হাফ পাসের জন্য কোনো সময় বা দিন নির্ধারণ করে দেয়া যাবে না। বর্ধিত বাসভাড়া প্রত্যাহার করতে হবে। সব রুটে বিআরটিসির বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।

০৩. গণপরিবহনে ছাত্র-ছাত্রী এবং নারীদের অবাধ যাত্রা ও সৌজন্যমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

০৪. ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্সবিহীন চালককে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বিআরটিএর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

০৫. সব রাস্তায় ট্রাফিক লাইট, জেব্রা ক্রসিং নিশ্চিত করাসহ জনবহুল রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

০৬. বাসগুলোর মধ্যে বেপরোয়া প্রতিযোগিতা বন্ধে এক রুটে এক বাস এবং দৈনিক আয় সব পরিবহন মালিকের মধ্যে তাদের অংশ অনুযায়ী সমানভাবে বণ্টন করার নিয়ম চালু করতে হবে।

০৭. শ্রমিকদের নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র নিশ্চিত করতে হবে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করতে হবে। চুক্তির ভিত্তিতে বাস দেয়ার বদলে টিকিট ও কাউন্টারের ভিত্তিতে গোটা পরিবহনব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। শ্রমিকদের জন্য বিশ্রামাগার ও টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে।

০৮. গাড়িচালকের কর্মঘণ্টা একনাগাড়ে ৬ ঘণ্টার বেশি হওয়া যাবে না। প্রতিটি বাসে দুজনচালক ও দুজন সহকারী রাখতে হবে। পর্যাপ্ত বাস টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে। পরিবহন শ্রমিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

০৯. যাত্রী-পরিবহন শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে সড়ক পরিবহন আইন সংস্কার করতে হবে এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

১০. ট্রাক, ময়লার গাড়িসহ অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে।

১১. মাদকাসক্তি নিরসনে সমাজজুড়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। চালক-সহকারীদের জন্য নিয়মিত ডোপ টেস্টের ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, মালিকপক্ষ শুধু ঢাকা শহরের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস করার কথা ঘোষণা দিয়েছেন, কিন্তু ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য হবে না বলে তারা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মালিকপক্ষের এই শর্ত আমরা মানি না। আমরা চাই শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এই নিয়ম থাকবে। সারা দেশে শিক্ষার্থীরা গণপরিবহনে হাফ পাস ভাড়া দিয়ে চলাচল করবেন। নিরাপদ সড়কের পাশাপাশি এটিও আমাদের একটি দাবি। এই দাবি বাস্তবায়ন না হলেও আমরা রাস্তা ছাড়ব না।’

রামপুরা ব্রিজ এলাকায় দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা রামপুরা ব্রিজের ওপর দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছেন। যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে বিভিন্ন পরিবহনের বাস রাস্তার দুই পাশে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন তারা। ফলে রামপুরা এয়ারপোর্ট রোডের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া রামপুরা থেকে বনশ্রীতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীরা জরুরি সেবার পরিবহনকে প্রমাণ সাপেক্ষে ছেড়ে দিচ্ছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন পরিবহনের লাইসেন্স ও কাগজপত্র আছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষার্থীরা তা দেখছেন। যাদের কাছে এসব কাগজপত্র নেই এসব গাড়ির চালকদের নামিয়ে নিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশের কাছে দাবি জানাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য।

আরও পড়ুন:
ভারত সীমান্ত দিয়ে ডিজেল পাচারের চেষ্টা, গ্রেপ্তার দুই
অবশেষে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমছে
সংসদ অধিবেশন: তেলের দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহার চায় জাপা
চট্টগ্রামে বাসে বাসে পুলিশের স্টিকার
ডাইরেক্ট গাড়ি বলে ৯৩ টাকার ভাড়া ১৫০

শেয়ার করুন

পুলিশি বাধায় পণ্ড মহিলা দলের মৌন মিছিল

পুলিশি বাধায় পণ্ড মহিলা দলের মৌন মিছিল

নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিলে বাধা পেয়ে সেখানেই সমাবেশ করে বিএনপির মহিলা দল। ছবি: নিউজবাংলা

মতিঝিল জোনের পুলিশের এডিসি এনামুল হক মিঠু বলেন, ‘এমনিতেই নগরীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যে তারা যদি সড়কে নামে তাহলে যানজটসহ নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।  এ কারণে তাদের বিক্ষোভ মিছিল করতে দেয়া হয়নি। দলীয় কার্যালয়ের সামনে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর দাবিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের মৌন মিছিল পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে।

বুধবার সকাল ১০টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে মিছিলটি শুরু করতে গেলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়।

পুলিশি বাধা পেয়ে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, কেন্দ্রীয় নেতা নিলোফার চৌধুরী মনিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তারা সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, ‘প্রশাসন আমাদের মৌন মিছিল করতে দেয়নি। আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। আমরা এই অবৈধ সরকারের পতনের অপেক্ষায় আছি।’

মহিলা দলের মৌন মিছিলে বাধা প্রসঙ্গে মতিঝিল জোনের পুলিশের এডিসি এনামুল হক মিঠু সাংবাদিকদের জানান, মহিলা দলের মিছিলেন কোনো অনুমতি ছিল না।

তিনি বলেন, ‘এমনিতেই নগরীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যে তারা যদি সড়কে নামে তাহলে যানজটসহ নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে তাদের বিক্ষোভ মিছিল করতে দেয়া হয়নি। দলীয় কার্যালয়ের সামনে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি ও বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবিতে বেশ কিছুদিন থেকেই নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছে।

গণঅনশন, বিক্ষোভ সমাবেশ, সারা দেশে ডিসিদের কাছে স্মারকলিপি দেয়াসহ আরও কিছু কর্মসূচি এরই মধ্যে করেছে দলটির নেতা-কর্মীরা।

এসব কর্মসূচি থেকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুব শোচনীয় উল্লেখ করে তাকে বিদেশ নেয়ার দাবি জানায় বিএনপি।

আরও পড়ুন:
ভারত সীমান্ত দিয়ে ডিজেল পাচারের চেষ্টা, গ্রেপ্তার দুই
অবশেষে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমছে
সংসদ অধিবেশন: তেলের দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহার চায় জাপা
চট্টগ্রামে বাসে বাসে পুলিশের স্টিকার
ডাইরেক্ট গাড়ি বলে ৯৩ টাকার ভাড়া ১৫০

শেয়ার করুন