‘সিডর বেবি’ মারিয়াও বাল্যবিয়ের শিকার

‘সিডর বেবি’ মারিয়াও বাল্যবিয়ের শিকার

২০০৭ সালের সিডরের সময় জন্মের পরে মা জাকিয়ার কোলে শিশু মারিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

সিডরের দিন জন্ম নেয়ায় মারিয়া পরিচিতি পায় সিডর বেবি নামে। জন্মের সময় তাকে অনেকে সহায়তার আশ্বাস দিলেও কেউ কথা রাখেনি। ১৪ বছর বয়সী মারিয়ার বিয়ে হয় ১৩ বছরে। আক্ষেপের সুরে বলল, ‘সিডরের সময় জন্ম লইয়া মোর জীবনডাও সিডরের মতো অইয়্যা গেসে। নানুর বাড়িত থাহি, আব্বায় যা রোজগার করে হ্যাতে মোগো সংসার চালাইতে একছের কষ্ট। অভাব দেইখা পড়ালেহাও বন্ধ কইরা মোরে বিয়া দিয়া দেছে।’

উপকূলে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সুপার সাইক্লোন সিডর যখন আঘাত হানে তখন বরগুনার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা গ্রামের আশ্রয়কেন্দ্রে ভূমিষ্ঠ হয় এক কন্যাশিশু, যার নাম রাখা হয় মারিয়া। সিডরের সময় জন্মানোয় দেশে তো বটেই, সারা বিশ্বে সে পরিচিতি পায় ‘সিডর বেবি’ হিসেবে।

মারিয়া ও তার পরিবারকে নতুন ঘর দেয়ার পাশাপাশি ভরন-পোষণের আশ্বাস দেয় একাধিক উন্নয়ন সংস্থা। কথা রাখেনি কেউই। অভাব-অনটনের মধ্যেই বেড়ে উঠছে ‘সিডর বেবি’।

মারিয়ার বয়স এখন ১৪। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলেশ্বর পাড়ের পদ্মা গ্রামের মা-বাবার সঙ্গে থাকে। বাবা ফারুক মোল্লা ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসারের খরচ মেটান।

‘সিডর বেবি’ মারিয়াও বাল্যবিয়ের শিকার
১৪ বছর আগে সিডরের সময় তোলা ছবি মারিয়ার হাতে। ছবি: নিউজবাংলা

থাকার জন্য তেমন কোনো ঘর নাই মারিয়াদের। মা জাকিয়া বেগমের পৈতৃকসূত্রে পাওয়া এক খণ্ড জমিতে ঘর তুলে কোনো রকম বসবাস করেন তারা।

অভাবের সংসারে পড়াশোনার সুযোগ হয়নি মারিয়ার। ১৩ বছরেই বসতে হয় বিয়ের পিঁড়িতে। বরগুনা পৌরশহরের নয়ন মিয়ার সঙ্গে ২০২০ সালে বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর নয়নও আশ্রয় নেয় শ্বশুর বাড়িতে। সেখানে থেকে সাগর নদীতে ইলিশ ধরেন তার স্বামী।

মারিয়ার মা জাকিয়া বেগম বলেন, ‘সিডরের সময় আমার এই বাচ্চাডা যহন জন্ম নেয় তহন ব্র্যাক এনজিও আমাগো একটা ঘর দিছিল। বাপের দেয়া জমিতে ঘরটা তুইল্লা সেই ঘরেই মোরা এহনো থাহি। হেরা কইছিল মোর মাইয়ারে পড়ালেহা হরাইবে, গরু দেবে আরও কত্তকিছু কইছিল তহন, কিন্তু ওই ঘরডা ছাড়া কিছু দেয় নাই। মোর মাইয়ার ভরণ-পোষণ তো দূরে থাউক, পড়ালেহার খরচাডাও দেয় নাই। গরিব মানু মোরা। মাইয়া বড় অইছে, বিয়া দিয়া দিছি। ১৪ বচ্ছর আগে দেয়া ঘরডাও ভাইঙ্গা গ্যাছে। হেরা কেউ মোগো আর খবরই লয় নাই।’

মারিয়ার নানা গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘সিডরের সময় মোর নাতিরে কত্তকিছু দেবে কইয়া গ্যালো হেরা। কিছছু দেয় নাই। মুই মোর নাতিডা থাহার লাইগ্যা এট্টু জাগা দিছি। একখান ঘর দিছিল ব্র্যাক, হেই জাগায় ওই ঘরডায় এহন নাতিডা জামাই লইয়্যা বড় কষ্টে দিন কাডায়।’

‘সিডর বেবি’ মারিয়াও বাল্যবিয়ের শিকার
১৪ বছর বয়সী কিশোরী বধূ মারিয়া। ছবি: নিউজবাংলা


‘সিডর বেবি মারিয়া’ বলে, ‘সিডরের সময় জন্ম লইয়া মোর জীবনডাও সিডরের মতো অইয়্যা গেসে। নানুর বাড়িত থাহি, আব্বায় যা রোজগার করে হ্যাতে মোগো সংসার চালাইতে একছের কষ্ট। অভাব দেইখা পড়ালেহাও বন্ধ কইর‌্যা মোরে বিয়া দিয়া দেছে। মোর স্বামী জাইল্লা, যা কামাই রোজগার হরে হেইয়া দিয়া মা বাপের লগে একলগে থাইক্কা খাই।

মারিয়া বলে, ‘মোর লেহাপড়াডা যদি কেউ চালাইয়্যা নেতে তয় মুই অনেক বড় অইতে পারতাম। এই বয়সে মোর স্বামীর সংসার করণ লাগত না।’

মারিয়ার জন্মের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে ছিল পদ্মা গ্রামের বেশ কিছু বাসিন্দা।

ওই এলাকার ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘সিডরের পরপরই মারিয়াকে দেখতে আসে অনেক দেশি-বিদেশি এনজিওর প্রতিনিধিরা। তারা তখন মারিয়ার ভরণ-পোষণসহ সব দায়িত্ব নেয়ার কথা দিয়ে ছিল। কিন্তু কেউই পরে আর কোনো খোঁজ রাখেনি।’

‘সিডর বেবি’ মারিয়াও বাল্যবিয়ের শিকার
মায়ের সঙ্গে মারিয়া


বাস্তবায়ন তো দূরের কথা, দুর্যোগ মুহূর্তে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যারা, সেই এনজিও কর্মকর্তাদের কাছেও খোঁজ নেই সিডর বেবি মারিয়ার। সে সময় মারিয়াকে নানা সহায়তার কথা দিয়েছিল যেসব এনজিও তাদের মধ্যে অন্যতম ব্র্যাক।

ব্র্যাক বরগুনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সমন্বয়ক মারুফ পারভেজ বলেন, ‘মারিয়াকে সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তারপরও আমরা মারিয়ার বিষয়ে খোঁজ নেব। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সহায়তা দেয়া হবে। আমাদের বিভিন্ন কম্পোনেন্ট আছে। আমরা তাকে যেকোনো কম্পোনেন্টের আওতায় আনার চেষ্টা করব।’

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সিডর বেবি মারিয়ার সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে আমরা তাকে সরকারের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করব। সুপার সাইক্লোন সিডরের নির্দয় ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছে উপকূলবাসী। সে সময় অনেকেই সহায়তার হাত বাড়ালে পরে গুটিয়ে নিয়েছে নিজেদের।’

১৪ বছর পর অনেকটা ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ক্ষতিগ্রস্তরা। কিন্তু যে দুর্যোগে মারিয়ার জন্ম, এখনও দুর্ভোগ কাটেনি তার, বরং বেড়েই চলছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টাকার অভাবে জীবনযুদ্ধে হারছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা

টাকার অভাবে জীবনযুদ্ধে হারছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছকেল উদ্দিন। ছবি: নিউজবাংলা

বীর মুক্তিযোদ্ধা ছকেল উদ্দিন বলেন, ‘যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলাম। আর এখন বিনা চিকিৎসায় মরতেছি… হাসপাতালে ভর্তি, কেউ দেখতেও আসে নাই। দেশের জন্য যুদ্ধ করলাম, বুকে গুলি খাইলাম আর এখন বিনা চিকিৎসায় মরতেছি।’

যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেও টাকার অভাবে জীবনযুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন মানিকগঞ্জের সিংগাইরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ছকেল উদ্দিন।

বয়সের ভারে শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ, সব শেষে ক্যানসার। টাকার অভাবে তার চিকিৎসাও করতে পারছেন না স্বজনরা, ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ছেন এই দেশপ্রেমিক।

স্বজনদের অভিযোগ, প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠনের কাছে সাহায্য চেয়েও মেলেনি কিছু।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন সিংগাইর উপজেলার গাড়াদিয়া এলাকার ছকেল উদ্দিন। যুদ্ধে বুকে ও পায়ে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিও তাকে টলাতে পারেনি। সুস্থ হয়ে লড়েছেন ফের, স্বাধীন করেছেন প্রিয় মাতৃভূমি।

দেশের সেই সূর্যসন্তান এখন মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের ষষ্ঠ তলার ১৭ নম্বর শয্যায় ভর্তি। নানা রোগে আক্রান্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছকেল এখন বিছানা থেকে উঠতেই পারেন না।

মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দেশ স্বাধীনের পর কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতেন। চার ছেলেকে বড় করতে প্রবাসেও কাজ করেছেন। শারীরিক সমস্যায় চার বছর আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে ডায়াবেটিক ও কিডনির সমস্যা। পরে ধরা পড়ে মারণব্যাধি ব্ল্যাড ক্যানসার।

এরপর জমানো অর্থ আর ছেলেদের সহায়তায় অপারেশন করা হয় তার। এখন ছেলেদের টাকাও শেষ। অর্থাভাবে তাই তার সঠিক চিকিৎসাও হচ্ছে না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ছকেল উদ্দিন বলেন, ‘যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলাম। আর এখন বিনা চিকিৎসায় মরতেছি। সঠিক চিকিৎসার জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতাদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম। কিন্তু কেউ আমাকে সাহায্য করে নাই।

‘এখন হাসপাতালে ভর্তি, কেউ দেখতেও আসে নাই। দেশের জন্য যুদ্ধ করলাম, বুকে গুলি খাইলাম আর এখন বিনা চিকিৎসায় মরতেছি।’

ছকেল উদ্দিনের বড় ছেলে প্রবাসী মাহাবুব আলম জানান, তাদের চার ভাইয়ের মধ্যে তিনজন প্রবাসে থাকেন। ছোট ভাই পুলিশের কনস্টেবল। তিন বছর ধরে তারা ভাইরা প্রবাসে থাকেন। বাবার অসুস্থতার খবর শুনে দেশে আসেন।

তিনি বলেন, ‘ডাক্তারের পরামর্শে বাবাকে ঢাকায় অপারেশন করাই। চার ভাইয়ের যে টাকা-পয়সা ছিল সব শেষ হয়েছে। টাকার অভাবে এখন ঢাকায় নিতে পারছি না, থেরাপিও দিতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করছি।

‘টাকার অভাবে চোখের সামনে বাবা মৃত্যুর দিকে চলে যাচ্ছে। আর ছেলে হয়ে তা দেখতে হচ্ছে। এর চেয়ে বড় দুঃখ আর থাকতে পারে।’

ছকেল উদ্দিনের চিকিৎসায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা লাগবে বলে জানান ছেলে মাহাবুব।

মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘কাগো জন্য আমার স্বামী দেশ স্বাধীন করল। সরকার আর প্রশাসনের লোকজন তো আমাগো খোঁজ নিল না। সবাই জানে তিনি অসুস্থ, তাও কেউ আইল না।

‘তার অবস্থা ভালো না, খুব খারাপ। সরকার যদি এখন আমাগো সাহায্য করে তাইলে তার সঠিক চিকিৎসা হইব। তিনি আগের মতো সুস্থ হবে। এখন আল্লাহ আর সরকারের মুখের দিকে তাকাইয়া আছি।’

চিকিৎসক ওসমান গনি বলেন, ‘ছকেল উদ্দিনের অবস্থা ভালো না। দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে। আমাদের সাধ্যমতো চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া উচিত। উন্নত চিকিৎসা হলে তাকে সুস্থ করা সম্ভব। না হলে তাকে বাঁচানো যাবে না।’

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মহীউদ্দীন জানান, ছকেল উদ্দিন যে অসুস্থ, তা তিনি জানেন না। আবেদন করলে তার চিকিৎসার জন্য সাহায্য করবেন।

জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ বলেন, ‘বিষয়টি জানা ছিল না, আমি হাসপাতালে খোঁজ নিচ্ছি। একজন মুক্তিযোদ্ধা বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে- এটা তো হতেই পারে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে অবশ্যই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।’

শেয়ার করুন

শুনানিতে আটকে আছে রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধার

শুনানিতে আটকে আছে রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধার

বেগম রোকেয়ার বিশাল সম্পত্তির কিছুই এখন তার পরিবারের ভোগ দখলে নেই। ছবি: নিউজবাংলা

বেগম রোকেয়ার পৈতৃক সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন স্থানীয় অনেকে। অনেক জমির মালিকের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধারের চেষ্টা করলেও সফলতা আসেনি। ২০১২ সালে হাইকোর্টে রিট করা হলেও তার চূড়ান্ত শুনানি হয়নি ৯ বছর পরও।

বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া তার প্রবন্ধ নার্স নেলী-তে লিখেছেন, ‌‌'আমাদের অবস্থা সচ্ছল ছিল- আমার পরম সুখে খাইয়া পরিয়া গা-ভরা গহনায় সাজিয়া থাকিতাম। আমাদের এ নিবিড় অরণ্যবেষ্টিত বাড়ির তুলনা কোথায়? সাড়ে তিন শ বিঘা লা-খেরাজ জমির মাঝখানে কেবল আমাদের এই সুবৃহৎ বাড়ি। বাড়ির চতুর্দ্দিকে ঘোর বন, তাহাতে বাঘ, শূকর, শৃগাল- সবই আছে।'

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তার লেখায় এভাবেই নিজের পরিবারের সাড়ে তিন শ বিঘা সম্পত্তির বর্ণনা দিয়েছিলেন। তবে বিশাল সেই সম্পত্তির এখন কিছুই রোকেয়া পরিবারের ভোগদখলে নেই।

দীর্ঘদিন ধরে তা স্থানীয় অনেকে ভোগ করে আসছেন। অনেক জমির মালিকের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধারের চেষ্টাও সফল হয়নি। ২০১২ সালে হাইকোর্টে রিট করা হলেও তার চূড়ান্ত শুনানি হয়নি ৯ বছর পরও।

এমন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে উদযাপন করা হবে রোকেয়া দিবস। দিনটি উপলক্ষে বেগম রোকেয়ার পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার, স্বজন ও অনুরাগীরা।

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দের খোর্দ্দ মুরাদপুর গ্রামে জন্ম বেগম রোকেয়ার। তার বাবার নাম জহির উদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের ও মা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী। বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি এ নারীবাদীর মৃত্যু হয় ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায়।

১৯৭৪ সাল থেকে পায়রাবন্দবাসী বেগম রোকেয়ার স্মরণে রোকেয়া দিবস পালন করে আসছেন। সরকারিভাবে ১৯৯৪ সাল থেকে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় বেশ ঘটা করেই দিবসটি পালন করা হয়। সারা দেশে দিনটি উদযাপন করা হয় রোকেয়া দিবস হিসেবে।

শুনানিতে আটকে আছে রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধার
আগামী বৃহস্পতিবার রোকেয়া দিবসে তার পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার, স্বজন ও অনুরাগীরা।

জানা যায়, বেগম রোকেয়ার বাবা জহির উদ্দিন আবু আলী হায়দার সাবের পায়রাবন্দের শেষ জমিদার ছিলেন। ১৯১৩ সালে তার মৃত্যু হয়। জনশ্রুতি অনুযায়ী, তার মৃত্যুর আগেই জমিদারি শেষ হয়েছিল।

জমিদার জহির উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার জমিও ধীরে ধীরে দখলদার ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায়। এমনকি পারিবারিক কবরস্থানটিও এখন প্রভাবশালীদের দখলে। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে রোকেয়া পরিবার, স্বজন ও অনুরাগীদের।

রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধারে উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১২ সালে। ওই বছরের ২২ মার্চ ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠনের হয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ১৩ জনকে বিবাদী করা হয়।

৮ এপ্রিল ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি মির্জা হুসাইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের বেঞ্চ রোকেয়া পরিবারের জমি কোথায় কী অবস্থায় আছে তা জানাতে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করে।

রুলের পর একই বছরের ২ মে পায়রাবন্দ ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম প্রধান মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে বেগম রোকেয়ার পৈতৃক সম্পত্তির বিবরণ দিয়ে প্রতিবেদন দেন।

সেই প্রতিবেদনে বেগম রোকেয়ার ওয়ারিশদের নামে সিএস রেকর্ড অনুযায়ী ২৪৮ সি.এস. খতিয়ানে ৯ দশমিক ৯৫ একর এবং ৭২ খতিয়ানে ৬ দশমিক ৬৫ একর জমিসহ মোট ১৬ দশমিক ৬০ একর জমির হিসাব দেয়া হয়। বাকি জমির কোনো হদিস দিতে পারেননি তিনি।

ভূমি কর্মকর্তা আমিনুল ১২ মে আরও একটি প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে ৬ দশমিক ৭৯ একর জমিতে বেগম রোকেয়ার নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্মৃতিকেন্দ্র, স্মৃতিস্তম্ভ, ডাকবাংলোসহ ৯টি প্রতিষ্ঠানের কথা জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বেগম রোকেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৪ শতক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১ একর, এক বিঘা জমিতে ডাকবাংলা, ৩০ শতকে স্মৃতিফলক, ৩ দশমিক ১৫ একরে স্মৃতিকেন্দ্র, বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৬০ শতক, ৪২ শতক জমির ওপর বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, নারী কল্যাণ সংস্থার নামে ৩৩ শতক, স্মৃতিস্তম্ভ ৪২ শতক, ৫৮ শতক জমিতে কুটিরশিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের হিসাব দেয়া হয়।

বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোকেয়ার বাবা মারা যাবার পর রোকেয়ার পরিবার ও স্বজনরা এই জায়গাজমির প্রতি তাকায়নি। এই অবস্থায় সিএস (৪০ সালের রেকর্ড) এর সময় কিছু ভূমিদস্যু রোকেয়ার জমিগুলো নিজ নামে রেকর্ড করে নেয়। আজ পর্যন্ত তারা ভোগদখল করে খাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তখন (৪০ সালের রেকর্ড) রোকেয়ার চার ভাই-বোন বেঁচে ছিলেন। আইন অনুযায়ী, তাদের নামে জমিগুলো রেকর্ড হবার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। এ ক্ষেত্রে তৎকালীন অসাধু কিছু ভূমি কর্মকর্তা জড়িত বলে আমরা মনে করি। এসব জমি উদ্ধারে একটি মামলা হয়েছে, কিন্তু অগ্রগতি নেই। কারণ সরকার পক্ষ চূড়ান্ত শুনানিতে এগিয়ে আসছে না।’

বেগম রোকেয়ার ভাইয়ের মেয়ে রণজিনা সাবের বলেন, ‘রোকেয়া পরিবারের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে তিন শ বিঘা জমি অন্যরা ভোগদখল করে খাচ্ছে। বাজার, হাট, পুকুর, আবাদি জমি সবই রোকেয়ার।

‘এসব জমি উদ্ধারে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। এই জমিগুলো উদ্ধার করে সরকার সংরক্ষণ করতে পারে। আমরা মনে করি, সরকার চাইলে দ্রুত জমিগুলো উদ্ধার হবে।’

শুনানিতে আটকে আছে রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধার
রোকেয়া পরিবারের ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রায় সাড়ে তিন শ বিঘা জমি অন্যরা ভোগ দখল করে খাচ্ছে।

কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর চৌধুরী নামে স্থানীয় একজন বেগম রোকেয়ার কিছু জমিতে চাষ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি অবশ্য বলেন, ‘জমিগুলো আমাদের দাদির নামে রেজিস্ট্রি। ৪০ ও ৬২ সালে তারই নামে রেকর্ড আছে। তাহলে জমি রোকেয়ার হইল কেমনে। এখনও মামলার কাগজ পাই নাই, পাইলে আমরাও আদালতে লড়ব।’

আতাউর রহমান লেলিন নামে আরেকজন বলেন, ‘মামলা হয়েছে কি না জানি না। এগুলো আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি।’

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, ‘বেগম রোকেয়ার যেসব সম্পত্তি রয়েছে তার মামলার কাগজ, ভুলভাবে রেকর্ড হওয়াসহ যে কথাগুলো আসছে সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। রোকেয়া দিবসে আমরা সে বিষয়টি সবাইকে জানাব। একই সঙ্গে আগামী রোকেয়া দিবসের আগে এসব বিষয়ে অগ্রগতি করতে পারব।’

সম্পত্তি উদ্ধারে রিট করা আইনজীবী মঞ্জিল মোরশেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেগম রোকেয়ার যে সম্পত্তি আছে, সেগুলো সংরক্ষণের জন্য আমরা একটা রিট করেছিলাম। কোর্টের একটা আদেশ ছিল, সে বিষয়ে তারা সময় চেয়ে আবেদন করেছিল। চূড়ান্ত শুনানি এখনও হয়নি। পেন্ডিং অবস্থায় আছে। গভর্নমেন্ট এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি।’

শেয়ার করুন

সাভারে সড়ক-মহাসড়কে হাঁটু পানি, যানজট

সাভারে সড়ক-মহাসড়কে হাঁটু পানি, যানজট

টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সাভারের সড়ক-মহাসড়ক। ছবি: নিউজবাংলা

সাভার বাজারে মো. মিলন নামের স্থানীয় একজন বলেন, ‘আমি শিমুলতলা যাচ্ছিলাম। পুরো সড়কে পানি জমে যাওয়ায় আমার সাইকেল তলিয়ে গেছে। প্যান্ট গুঁজেও লাভ হয়নি, সব ভিজে গেছে। এই জায়গাটায় একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে। অথচ কিছুদিন আগে সড়কে সুয়ারেজ লাইন তৈরি করা হয়েছে, সেই লাইন কোনো কাজে আসছে না। টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কেই হাঁটু পানি হয়ে গেছে৷ বাস-ট্রাক গেলে বিশাল ঢেউ হয়। এতে পথচারীরা পুরো ভিজে যায়।’

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সাভারের সড়ক-মহাসড়ক। হাঁটু পানিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকসহ স্থানীয়রা।

সোমবার সকাল থেকে সারা দিন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক এবং টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে রাত সাড়ে ১১টার দিকেও জলাবদ্ধতার কারণে যানজট লেগে ছিল।

বৃষ্টির পানিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাসস্ট্যান্ড থেকে রেডিও কলোনি পর্যন্ত আরিচামুখী লেনে হাটুঁ পরিমাণ পানি জমে আছে। যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। এতে সড়কের পাশ দিয়ে চলাচলেও চরম দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা।

অন্যদিকে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের ইউনিক বাসস্ট্যান্ড থেকে জামগড়া পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমেছে। সড়কে আগে থেকেই খানাখন্দ থাকায় দিনভর যানবাহন চলাচলে ছিল ধীরগতি।

সাভার বাজারে মো. মিলন নামের স্থানীয় একজন বলেন, ‘আমি শিমুলতলা যাচ্ছিলাম। পুরো সড়কে পানি জমে যাওয়ায় আমার সাইকেল তলিয়ে গেছে। প্যান্ট গুঁজেও লাভ হয়নি, সব ভিজে গেছে।

‘এই জায়গাটায় একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে। অথচ কিছুদিন আগে সড়কে সুয়ারেজ লাইন তৈরি করা হয়েছে, সেই লাইন কোনো কাজে আসছে না। টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কেই হাঁটু পানি হয়ে গেছে৷ বাস-ট্রাক গেলে বিশাল ঢেউ হয়। এতে পথচারীরা পুরো ভিজে যায়।’

জামগড়া এলাকার পোশাক শ্রমিক রোকেয়া বেগম বলেন, ‘সকালে অফিসে গেলাম হালকা পানি পাড়িয়ে। দুপুরে খাবারের সময় এসে দেখি অনেক পানি। ড্রেনের ময়লা পানিও রাস্তায় এসে পড়েছে।’

সৌরভ পরিবহনের বাসচালক ইসতিয়াক হোসেন বলেন, ‘রাস্তাটা এমনিতে ভাঙা। তার মধ্যে দুই দিন থেকে টানা বৃষ্টি। এতে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড়বড় গর্ত তৈরি হইছে। গাড়ি খুব সাবধানে চালাইতে হইতেছে।’

শেয়ার করুন

নৌকা পেয়েও ভোট করতে চান না আ.লীগ নেতা

নৌকা পেয়েও ভোট করতে চান না আ.লীগ নেতা

বগুড়ার মোকামতলা ইউপি নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পাওয়া ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

ওয়াশিম রেজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার আপন চাচাতো ভাই আওলাদ চৌধুরী প্রতিবার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ভোট করেন। মনোনয়ন চাওয়ার আগে আওলাদ পারিবারিকভাবে ওয়াদা করেছিলেন আমি নৌকা প্রতীক পেলে তিনি নির্বাচন থেকে সরে আসবেন। তবে তার কথা তিনি রাখেননি। আমি মনে করছি, একই বাড়ি ও পরিবার থেকে দুই ভাই ভোট করলে কেউ উঠতে পারব না। আমি হেরে গেলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।’

ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেতে যেকোনো নির্বাচনে মুখিয়ে থাকেন প্রার্থীরা। চলে নানা ধরনের তদবির। তবে উল্টো ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে।

এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েও ভোট করতে চান না দলের নেতা ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরী। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাহার চেয়ে শনিবার লিখিত আবেদনও করেছেন।

দলের মনোনয়ন পেয়েও সরে যাওয়ার পেছনে ওয়াশিম রেজার দেখানো কারণ অনেকটাই পারিবারিক। দলের ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টার কথাও উঠে এসেছে তার কথায়।

ওয়াশিম রেজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার আপন চাচাতো ভাই আওলাদ চৌধুরী প্রতিবার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ভোট করেন। মনোনয়ন চাওয়ার আগে আওলাদ পারিবারিকভাবে ওয়াদা করেছিলেন আমি নৌকা প্রতীক পেলে তিনি নির্বাচন থেকে সরে আসবেন। তবে তার কথা তিনি রাখেননি।

‘আমি মনে করছি, একই বাড়ি ও পরিবার থেকে দুই ভাই ভোট করলে কেউ উঠতে পারব না। আমি হেরে গেলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। এর চেয়ে ভালো অন্য কেউ নৌকা মার্কা নিয়ে ভোট করুক। আমি তার পক্ষে কাজ করব।’

ছোট ভাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে আওলাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি কয়েক যুগ থেকে নির্বাচন করছি। কে ভোট করবে আর করবে না, সেটা তার ব্যক্তিগত। আমার বিরুদ্ধে এগুলো অপপ্রচার। আমি মাঠে ছিলাম, আছি এবং থাকব।’

ওয়াশিম রেজা আবেদনের পর এখন ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে দলকে নৌকার জন্য নতুন মুখ বেছে নিতে হবে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, রাজা চৌধুরী সরে যাওয়ায় এখানে নৌকার মাঝি হতে পারেন শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আহসান হাবিব সবুজ অথবা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান আপেল।

শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা বলেন, ‘তৃণমূলের সিদ্ধান্তক্রমে আমরা তিনজনের নাম জেলা কমিটির কাছে পাঠিয়েছিলাম। তারা হলেন মোকামতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরী, শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আহসান হাবিব সবুজ ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান আপেল।

‘পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরীকে নৌকার মনোনয়ন দেন। মনোনয়ন পাবার তিন দিন পর মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন করেন তিনি।’

মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রত্যাহারের আবেদন করায় আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা অবশ্য জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসম্মান করার অভিযোগ এনে তাকে দল থেকে বহিষ্কার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি আবদুল হালিম বলেন, ‘নৌকা পাবার পর ভোট না করার সিদ্ধান্ত দুঃখজনক। এই ঘটনা দলের প্রধান শেখ হাসিনা ও নৌকা প্রতীককে অবমাননার শামিল। এ জন্য আমরা ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।’

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজী জুয়েল জানান, ‘আমরা জেলা থেকে কেন্দ্রের কাছে কয়েকজনের নাম দিয়েছিলাম। কেন্দ্র এখন সিদ্ধান্ত দেবে মোকামতলা থেকে নৌকা প্রতীকে কে ভোট করবেন।’

সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত অবশ্য এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি।

শেয়ার করুন

মুরাদের আসনে আ.লীগের আনন্দ মিছিল

মুরাদের আসনে আ.লীগের আনন্দ মিছিল

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে বলায় তার নির্বাচনি এলাকা জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত

পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বিদ্যুৎ ফেসবুকে লেখেন, ‘অবশেষে উইকেট পড়ে গেল।’

তুমুল সমালোচিত তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে বলায় তার নির্বাচনি এলাকা জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আনন্দ মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ।

রাতে তারাকান্দি শহীদ মিনার চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা আনন্দ মিছিল বের করেন। মিষ্টিও বিতরণ করেন তারা। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

উপজেলার কয়েকটি স্থানে মানুষ পটকা ফুটিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ ও ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য করে আগে থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপে এক চিত্রনায়িকাকে ধর্ষণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবারের মধ্যে তাকে পদ ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার রাতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং আমি আজ রাত ৮টায় প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে বার্তাটি পৌঁছে দিই।’

মুরাদের একান্ত সচিব (রাজনৈতিক) জাহিদ নাঈম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিনি (মুরাদ) পদত্যাগ করবেন শুনেছি। তবে তার সঙ্গে আমার সরাসরি কথা হয়নি। তাই বলতে পারছি না কখন পদত্যাগ করবেন।’

মুরাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের খবর ফেসবুকে ছড়ালে সেখানেও প্রতিক্রিয়া জানান জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। কমেন্টসহ নানা রিঅ্যাক্ট দিতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকেও।

ফেসবুক পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বিদ্যুৎ লেখেন, ‘অবশেষে উইকেট পড়ে গেল।’

তবে ঘোষণাটি প্রচারের পর প্রতিমন্ত্রীর কর্মী-সমর্থকদের এলাকায় দেখা যায়নি।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মোড়ে মোড়ে দোকানপাটে লোকজনের জটলা। অনেকেই চোখ রেখেছেন টেলিভিশনের পর্দায়। কেউ কেউ অনলাইনে পড়ছেন মুরাদকে নিয়ে প্রকাশিত সবশেষ খবর।

নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা গেছে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের বাড়িতেও।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান হেলাল বলেন, ‘দলকে বিতর্কের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন, এটা প্রশংসনীয়।’

মুরাদ জামালপুরের সরিষাবাড়ী থেকে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে তার আসনটি জোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে আবার তাকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনের পর মুরাদকে প্রথমে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়। একটি বেসরকারি হাসপাতালে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়।

শেয়ার করুন

সরকারবিরোধী বক্তব্য: পৌর মেয়র বরখাস্ত

সরকারবিরোধী বক্তব্য: পৌর মেয়র বরখাস্ত

সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল সাময়িকভাবে বরখাস্ত। ছবি: নিউজবাংলা

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘আপনি (আমিনুল ইসলাম রাবেল) ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে মতবিনিময় সভায় সরকার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে হানিকর ও রাষ্ট্রের জন্য হানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। আপনার এ ধরনের জনহানিকর বক্তব্য স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ এর (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী মেয়রের পদ থেকে অপসারণযোগ্য অপরাধ।’

সরকারবিরোধী বক্তব্য দেয়ায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

সোমবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু, আপনি (আমিনুল ইসলাম রাবেল) ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে হানিকর ও রাষ্ট্রের জন্য হানিকর বক্তব্য দিয়েছেন; তাই, আপনার এ ধরনের জনহানিকর বক্তব্য স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ এর (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী মেয়রের পদ থেকে অপসারণযোগ্য অপরাধ।’

‘যেহেতু, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১(১) মোতাবেক যে ক্ষেত্রে কোন পৌরসভার মেয়র অথবা কোন কাউন্সিলর অপসারণের কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়েছে অথবা তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হয়েছে, সেই ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় মেয়র অথবা কাউন্সিলর কর্তৃক ক্ষমতা প্রয়োগ পৌরসভার স্বার্থের পরিপন্থি অথবা প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন না হলে, সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে মেয়র অথবা কাউন্সিলরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘যেহেতু, আপনি জনাব আমিনুল ইসলাম রাবেল, মেয়র, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা, সিলেট স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ উপ-ধারা ১(খ) ও ১(ঘ) মোতাবেক বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে হানিকর ও জনহানিকর বক্তব্য দেয়ায় আপনার এমন অপরাধমূলক কার্যক্রম পৌর পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থি মর্মে সরকার মনে করে।’

‘সেহেতু, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১(১) অনুযায়ী আপনাকে মেয়র, সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেলকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।’

এ আদেশ শিগগির কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

গত ৩০ জানুয়ারি সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রাবেল। দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার রাবেলকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। বহিষ্কার হওয়ার আগে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন রাবেল।

দলীয় পদ যাওয়ার পর এবার পৌরসভা মেয়রের পদও হারালেন রাবেল।

শেয়ার করুন

ভোটে ‘পক্ষে না থাকায়’ টিউবওয়েল তুলে নিলেন চেয়ারম্যান

ভোটে ‘পক্ষে না থাকায়’ টিউবওয়েল তুলে নিলেন চেয়ারম্যান

চেয়ারম্যান মুকুল বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে এ টিউবওয়েল দিয়েছি। আমার ইচ্ছায় আবার নিয়ে এসেছি।’

নীলফামারীর জলঢাকার গুচ্ছগ্রাম থেকে অনুদানের টিউবওয়েল তুলে নিয়েছেন নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান। ওই গ্রামের মানুষের অভিযোগ, তাদের একজন নির্বাচনে প্রতিপক্ষের হয়ে কাজ করায় চেয়ারম্যান টিউবওয়েলটি নিয়ে গেছেন।

টিউবওয়েল তুলে নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও এর কারণ স্পষ্ট করে জানাননি ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মুকুল।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দুপুরে ইউনিয়নের নেকবক্ত বাজারের পাশের গুচ্ছগ্রামে। টিউবওয়েলটি সেখানকার দবির উদ্দিনের বাড়িতে বসানো ছিল।

গুচ্ছগ্রামবাসী জানান, চেয়ারম্যান মুকুলের সুপারিশে প্রায় ৮ মাস আগে অনুদানের টিউবওয়েলটি পেয়েছিলেন গুচ্ছগ্রামের দবির উদ্দিন। গত ২৮ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে মুকুল নয়, লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী রোকনুজ্জামান খোকনের পক্ষে কাজ করেন দবির। এতে ক্ষিপ্ত হওয়ায় টিউবওয়েলটি খুলে নেয়ার নির্দেশ দেন মুকুল।

দবির উদ্দিন বলেন, ‘আমি দীর্ঘকাল ধরে মুকুল চেয়ারম্যানের সমর্থক ছিলাম। গত নির্বাচনগুলোতে আমার ভূমিকা ছিল। আমার বাড়িতে টিউবওয়েল না থাকায় তার সুপারিশে পানি খাওয়ার জন্য এই টিউবওয়েলটি পেয়েছিলাম উপজেলা থেকে।

‘গেল নির্বাচনের আগে তার আচরণগুলো ভাল ছিল না। সেজন্য আমি তার প্রতিপক্ষ রোকোনুজ্জান খোকনের লাঙ্গল মার্কায় ভোট করি। সেই অপরাধে আজ উনি আমার বাড়িতে তিনজন গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে টিউবওয়েলটি তুলে নিয়ে যায়। এখন ৫টা মানুষের পরিবার নিয়ে এখন বিপাকে পরতে হলো।’

গ্রাম পুলিশ রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমাকে টিউবওয়েলটি নিয়ে আসতে বলেছে তাই আমরা দবিরের বাড়ি থেকে টিউবওয়েল নিয়ে এসেছি।’

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মুকুল বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে এ টিউবওয়েল দিয়েছি। আমার ইচ্ছায় আবার নিয়ে এসেছি।’

শেয়ার করুন