নড়াইলে কিডনি সেবা দিতে মাশরাফির সঙ্গে জেএমআইয়ের চুক্তি

নড়াইলে কিডনি সেবা দিতে মাশরাফির সঙ্গে জেএমআইয়ের চুক্তি

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে করমর্দন করেন জেএমআই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুর রাজ্জাক ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। ছবি: নিউজবাংলা

মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় নড়াইল অনেকটাই পিছিয়ে। এই চুক্তির আওতায় নড়াইলে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার হলে মানুষের দুর্ভোগ কমে আসবে।

নড়াইলে কিডনি রোগীদের সেবা দিতে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে জেএমআই গ্রুপ। এ জন্য জাপানি প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি দিয়ে নড়াইলে স্থাপন করা হবে অত্যাধুনিক কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার। সেখানে কম খরচে উন্নত প্রযুক্তির ডায়ালাইসিস সেবা পাবেন নড়াইলবাসী।

এ উপলক্ষে জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড ও নড়াইলের সংসদ সদস্য মাশরাফির মধ্যে শনিবার একটি চুক্তি সই হয়েছে। জেএমআই গ্রুপের পক্ষে এর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক এবং নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের পক্ষে এর চেয়ারম্যান মাশরাফি বিন মুর্তজা চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনায় জাপানি যন্ত্রপাতি এবং কারিগরি দক্ষতা দেবে জেএমআই। আর ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের জায়গা, অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং দক্ষ চিকিৎসক-নার্সের মাধ্যমে রোগীদের সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করবে নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেন, ‘দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় স্বাস্থ্যসেবায় অনেক পিছিয়ে আছে নড়াইল। আশপাশের বিভিন্ন জেলায় কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার থাকলেও নড়াইলে সেই সুবিধা নেই। জেএমআইয়ের সঙ্গে চুক্তির আওতায় কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপিত হলে নড়াইলবাসীর দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে আমি মনে করি।’

মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের প্রতিষ্ঠান জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত মাস্ক, গ্লাভসসহ বিভিন্ন পণ্য দেশের বাজারে সরবরাহের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। করোনার মধ্যে দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে সূক্ষ্ম ভাইরাস প্রতিরোধী কেএন৯৫ মাস্ক বানিয়েছে জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড।’

জেএমআই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আরও বলেন, ‘কিডনি রোগীদের সেবায় সারা দেশে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে জেএমআই গ্রুপের। এই উদ্যোগের আওতায় রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে একটি ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু রয়েছে। নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের সঙ্গেও চুক্তি সই হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলো জেএমআই।’

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেএমআই গ্রুপের চেয়ারম্যান জাবেদ ইকবাল পাঠান, নিপ্রো-জেএমআই ডায়ালাইসিস সেন্টার লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক কুনিও (কেনি) তাকামিদো এবং নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম অনিক।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইসেস লিমিটেডের পরিচালক (অর্থ) হিরোশি সাইতো, জেএমআই গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মো. মহিউদ্দিন আহমেদ ও মো. তানভীর হোসাইন এবং প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম।

আরও পড়ুন:
৩৩ কোটি ইউরো সহায়তা দেবে ফ্রান্স
সেপা চুক্তি: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়বে কয়েক গুণ
যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া মিথ্যাচার করেছে: ফ্রান্স
অকাস চুক্তি নিয়ে কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল

২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর হাসপাতালটিকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করতে আরও ১ শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়। ২০১৯ সালের মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণ কার্যক্রমই শুরু হয়নি। চালু হয়নি শিশু হাসপাতালের কার্যক্রমও। কাজ না হওয়ায় বরাদ্দ করা ১ শ কোটি টাকা ফেরত যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি সিলেট সফরে এসে ১ শ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। এরপর হাসপাতালটি ২০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য ১ শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে প্রায় সাত বছর হতে চললেও এখনও এই শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফেরত গেছে বরাদ্দের টাকাও।

স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় ও লোকবল সংকটে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। আর গণপূর্ত বিভাগ ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীতায় ২ শ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজও শুরু হয়নি।

গত বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে এখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসা চলছে। এ কারণেও এই হাসপাতালকে শিশু হাসপাতালে উন্নীত করা যায়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকার সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে একশ’ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এরপর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই টাকায় অবকাঠামোগত কিছু সংস্কার করে গণপূর্ত বিভাগ।

২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর হাসপাতালটিকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করতে আরও ১ শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়। ২০১৯ সালের মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণ কার্যক্রমই শুরু হয়নি। চালু হয়নি শিশু হাসপাতালের কার্যক্রমও। কাজ না হওয়ায় বরাদ্দ করা ১ শ কোটি টাকা ফেরত যায়।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘২০০ শয্যার মা ও শিশু হাসপাতালের ডিজাইন রেডি ছিল, অর্থ বরাদ্দও ছিল। সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। এর জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

‘সিলেটের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী টাকা দিচ্ছেন। কিন্তু এই টাকার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। এটা খুবই দুঃখজনক।’

জানা যায়, ১৯৭৮ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (বর্তমান ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) চৌহাট্টা থেকে কাজলশাহ এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। ১৯৭৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৩ বছর অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে পুরনো হাসপাতালের স্থাপনা। ১৯৯২ সালে এটি সিলেট সদর হাসপাতাল হিসেবে পুনর্জন্ম লাভ করে। পরবর্তীতে ১৯৯২ সাল থেকে এটি একশ’ শয্যাবিশিষ্ট ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতাল ছিল। ১৯৯৮ সালে সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল নামকরণ করা হয়।

তবে তাড়াহুড়ো করে লোকবল ও যন্ত্রপাতি সঙ্কট নিয়ে চালু হয় শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল। একশ’ শয্যার হাসপাতালটিতে ৩০ শয্যার লোকবলও নেই। আনুষঙ্গিক অন্যান্য সুবিধাও অনুপস্থিত। জরুরি বিভাগ থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় শুরু থেকেই তা বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল হিসেবে চালু করতে পদ সৃষ্টি করে জনবল নিয়োগের জন্য ২০১৫-১৬ সালে চার দফা চিঠি পাঠানো হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। তবে এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এর মধ্যে গত বছরের মার্চ থেকে ‘করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল’ ঘোষণা করে সিলেট বিভাগের মধ্যে একমাত্র এই হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা শুরু হয়।

বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু না হওয়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেও বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনিক অনুমতি হয়নি। ফলে লোকবলও নিয়োগ হয়নি।

‘কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হাসপাতাল হয় না। হাসপাতালের জন্য লোকবল, যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন হয়। এসব না থাকায় বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা যায়নি।’

২০০ শয্যায় উন্নীত করতে বরাদ্দ অর্থ ফেরত যাওয়া প্রসঙ্গে ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘অর্থ বরাদ্দ হলেও কাজটি গণপূর্ত বিভাগ না স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ করবে তা নিয়ে ঝামেলা দেখা দেয়। শেষ সময়ে এসে সিদ্ধান্ত হয় গণপূর্ত বিভাগ কাজটি করবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তারা কাজের নকশা জমা দিতে পারেনি।

‘বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর জন্য আমি আরেকটি প্রস্তাব তৈরি করেছি। দ্রুতই তা মন্তণালয়ে পাঠাবো। করোনার কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে কাগজে-কলমে হাসপাতালটি একশ’ শয্যার হলেও জনবল নেই ৩০ শয্যা হাসপাতালেরও। করোনার সংক্রমণ বাড়ার পর ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিৎিসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়ে এসে চালানো হয় এই হাসপাতালের কার্যক্রম।

এ ব্যাপারে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের অধীক্ষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার বলেন, ‘বর্তমানে এখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসা চলছে। লোকবল সঙ্কট রয়েছে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। আর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করাটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিষয়। এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।’

আরও পড়ুন:
৩৩ কোটি ইউরো সহায়তা দেবে ফ্রান্স
সেপা চুক্তি: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়বে কয়েক গুণ
যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া মিথ্যাচার করেছে: ফ্রান্স
অকাস চুক্তি নিয়ে কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

শেয়ার করুন

টিকা নেয়ার পর ১৬ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

টিকা নেয়ার পর ১৬ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

বরগুনায় টিকা নেয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

সিভিল সার্জন মারিয়া হাসান বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখেছি ওদের প্রেসার-পালস সবকিছু ঠিক আছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটাকে সাইকোজেনিক ইলনেস বলতে পারি। এটা ফিমেলদের মধ্যে বেশি হয়ে থাকে। বিষয়টি কনফার্ম হওয়ার জন্য ডব্লিউএইচও থেকে ইনভেস্টিগেশন টিম আসবে।’

বরগুনায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেয়ার পর ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের সবাইকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বরগুনা জিলা স্কুলের কেন্দ্রে টিকা নেয়ার পরপরই এ ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই শিক্ষার্থীদের ফাইজারের টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রিমু, লিজা, কারিমা, কলিলা, মীম, জুই, মারিয়া, ইলমাসহ ১২ জন পাথরঘাটা সরকারি হাজি জালাল উদ্দিন মহিলা কলেজের এইচএসসির শিক্ষার্থী। বাকি চারজন একই উপজেলার মাজহারুদ্দিন টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।

মাজহারুদ্দিন টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানান, দুপুর ১২টার দিকে টিকা দেয়ার পর শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান।

তবে কেউ পদক্ষেপ না নেয়ায় বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনকে জানান। পরে তার পরামর্শে শিক্ষার্থীদের বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ শিক্ষার্থীরা জানায়, টিকা নেয়ার পরপরই তাদের প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

সরকারি হাজি জালাল উদ্দিন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার পাল বলেন, ‘শিক্ষার্থীর অসুস্থ বোধ করার পর আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

বেলা আড়াইটার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের দেখতে আসেন সিভিল সার্জন মারিয়া হাসান। তিনি বলেন, ‘আমাদের ফাইজারের টিকা ক্যাম্প চলছে গত দুই দিন ধরে। এইচএসসি ও সমমানের শিক্ষার্থীদের এ টিকা দেয়ার কার্যক্রম চলছে।

‘আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখেছি ওদের প্রেসার-পালস সবকিছু ঠিক আছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটাকে সাইকোজেনিক ইলনেস বলতে পারি। এটা ফিমেলদের মধ্যে বেশি হয়ে থাকে। বিষয়টি কনফার্ম হওয়ার জন্য ডব্লিউএইচও থেকে ইনভেস্টিগেশন টিম আসবে।’

আরও পড়ুন:
৩৩ কোটি ইউরো সহায়তা দেবে ফ্রান্স
সেপা চুক্তি: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়বে কয়েক গুণ
যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া মিথ্যাচার করেছে: ফ্রান্স
অকাস চুক্তি নিয়ে কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

শেয়ার করুন

করোনার নতুন ধরনে এশিয়া-ইউরোপে অস্থিরতা

করোনার নতুন ধরনে এশিয়া-ইউরোপে অস্থিরতা

ফাইল ছবি।

বৈশ্বিক মহামারির দেড় বছর পর চলতি মাসেই করোনাকালীন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ভারত। নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা না দিলেও সব রাজ্যকে সাউথ আফ্রিকা ও অন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে আগত ভ্রমণকারীদের নিবিড় স্বাস্থ্যপরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সীমান্ত নীতিমালা কঠোর করছে সিঙ্গাপুর, জাপান। তাইওয়ানে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলো থেকে আসা ব্যক্তিদের ১৪ দিন সরকার পরিচালিত কোয়ারেন্টিন সেন্টারে থাকতে হবে।

করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন ধরনে উদ্বেগ বাড়তে থাকার মধ্যেই সীমান্ত নীতি কঠোর করেছে এশিয়ার কয়েকটি দেশ। ছোঁয়াচে ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার থেকে সীমান্তপথে আসা-যাওয়ায় বিধিনিষেধ কঠোর করেছে ভারত, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ।

সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন ধরনটি টিকাপ্রতিরোধী- এমন শঙ্কায় আগেই আফ্রিকার ছয় দেশকে লাল তালিকাভুক্ত করেছে নতুন ভ্রমণ নীতি আরোপ করে যুক্তরাজ্য।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে চিহ্নিত নতুন ধরনটির বিষয়ে এখনও খুব বেশি তথ্য জানতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এর খবরেই শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের পুঁজিবাজারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

বিশেষ করে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলোতে; তেলের দামেও ধস নেমেছে তিন শতাংশের বেশি।

সাউথ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়ার পর বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইন ভাইরাসটি বতসোয়ানা আর হংকংয়েও শনাক্ত হয়েছে।

সবশেষ শুক্রবার সুদূর ইসরায়েলেও ভাইরাসটি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মালাউই থেকে ভ্রমণ করে দেশে ফেরা এক নাগরিকের দেহে শনাক্ত হয়েছে ভাইরাসটি। বিদেশফেরত আরও দুইজনকে কোয়ারেন্টিনে রেখেছে ইসরায়েল।

যুক্তরাজ্যে ভাইরাসটি শনাক্ত না হলেও পূর্বসতর্কতা হিসেবে আগেই দেশটি সাউথ আফ্রিকা, নামিবিয়া, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, লেসোথো ও ইসওয়াতিনিতে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে লন্ডন। নতুন করে জারি করেছে হোটেল কোয়ারেন্টিন নীতিমালা।

একই নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে জার্মানি, সিঙ্গাপুর আর জাপানও। সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, সাউথ আফ্রিকাসহ আশপাশের দেশগুলো থেকে সিঙ্গাপুরে ভ্রমণ স্থগিত রাখা হবে। জাপান সরকারও এমন পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বৈশ্বিক মহামারির দেড় বছর পর চলতি মাসেই করোনাকালীন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ভারত। নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা না দিলেও সব রাজ্যকে সাউথ আফ্রিকা ও অন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে আগত ভ্রমণকারীদের নিবিড় স্বাস্থ্যপরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

তাইওয়ানে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলো থেকে আসা ব্যক্তিদের ১৪ দিন সরকার পরিচালিত কোয়ারেন্টিন সেন্টারে থাকতে হবে।

নতুন ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আহডার্ন।

আরও পড়ুন:
৩৩ কোটি ইউরো সহায়তা দেবে ফ্রান্স
সেপা চুক্তি: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়বে কয়েক গুণ
যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া মিথ্যাচার করেছে: ফ্রান্স
অকাস চুক্তি নিয়ে কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

শেয়ার করুন

করোনা: ভারত-যুক্তরাজ্যে ফের ভ্রমণ বিধিনিষেধ, কোয়ারেন্টিন

করোনা: ভারত-যুক্তরাজ্যে ফের
ভ্রমণ বিধিনিষেধ, কোয়ারেন্টিন

করোনার নতুন ধরনের কারণে আবারও ভ্রমণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ জারি করেছে ভারত ও যুক্তরাজ্য। ফাইল ছবি

ভারত-যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইন ভাইরাসটি শনাক্ত হয়নি। সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত ভাইরাসটিতে গউতেং প্রদেশে নিশ্চিত আক্রান্ত ৭৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে; চারজন বতসোয়ানায় আর হংকংয়ে একজন- যিনি সাউথ আফ্রিকা ভ্রমণ করে সম্প্রতি দেশে ফেরেন। তবে ভাইরাসটি আরও অনেক অঞ্চলে, আরও বড় পরিসরে ছড়িয়েছে বলে ইঙ্গিত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সাউথ আফ্রিকায় শনাক্ত করোনাভাইরাসের নতুন ধরন নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিভিন্ন দেশে। এরই মধ্যে সতর্ক অবস্থানে ভারত-যুক্তরাজ্য, জারি করেছে ভ্রমণবিষয়ক বিধিনিষেধ।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাউথ আফ্রিকা, বতসোয়ানা ও হংকং থেকে ভারতে প্রবেশের সময় ভ্রমণকারীদের চুলচেরা স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। বৃহস্পতিবারই এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

তাদের পাশাপাশি নজরদারিতে রাখা হবে তাদের সংস্পর্শে যাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকেও।

মহামারিকালীন দীর্ঘ বিধিনিষেধের পর সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নীতিমালা শিথিল করে করোনায় বিপর্যস্ত বিশ্বের অন্যতম দেশ ভারত।

অন্যদিকে আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ থেকে ইংল্যান্ডে পৌঁছানো ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে রাখার নির্দেশনা জারি করেছে ব্রিটিশ সরকারও।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুক্রবার থেকে কার্যকর নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় ছয় দেশকে লাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দেশগুলোতে ফ্লাইট চলাচলও সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছে।

দেশগুলো হলো সাউথ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, লেসোথো ও ইসওয়াতিনি।

হোটেল কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে চালু হওয়া পর্যন্ত পূর্ব সতর্কতা হিসেবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রশাসন। রোববার থেকে হোটেল কোয়ারেন্টিন শুরুর কথা রয়েছে দেশটিতে।

এ ছাড়া ব্রিটিশ ও আইরিশ নাগরিকত্ব না থাকা কোনো ব্যক্তি গত ১০ দিনের মধ্যে লালতালিকাভুক্ত ছয় দেশে ভ্রমণ করে থাকলে আজ থেকে তারাও ইংল্যান্ডে ঢুকতে পারবেন না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এযাবৎকালে আবিষ্কৃত করোনার পরিবর্তিত রূপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ নতুন ধরনটি। এটিতে এত বেশিবার পরিবর্তন ঘটেছে যে একজন বিজ্ঞানী বিষয়টিকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভয়ংকর’ বলে। আরেক বিজ্ঞানী নতুন ধরনটিকে এখন পর্যন্ত দেখা করোনার সবচেয়ে মারাত্মক ধরন বলে উল্লেখ করেছেন।

যদিও যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইন ভাইরাসটি শনাক্ত হয়নি।

সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত ভাইরাসটিতে গউতেং প্রদেশে নিশ্চিত আক্রান্ত ৭৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে; চারজন বতসোয়ানায় আর হংকংয়ে একজন- যিনি সাউথ আফ্রিকা ভ্রমণ করে সম্প্রতি দেশে ফেরেন।

তবে ভাইরাসটি আরও অনেক অঞ্চলে, আরও বড় পরিসরে ছড়িয়েছে বলে ইঙ্গিত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

শনাক্তকরণ পরীক্ষায় করোনার নতুন ধরনটিতে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ‘এস-জিন ড্রপআউট’ নামে পরিচিত অদ্ভুত একটি বৈশিষ্ট্যের দেখা মিলছে। জিনগত বিশ্লেষণ সম্পন্ন ছাড়াই এই ‘এস-জিন ড্রপআউট’ বৈশিষ্ট্য শনাক্তের মাধ্যমেই মানবদেহে বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব।

এই পদ্ধতিতে ধারণা মিলছে যে গউতেংয়ে সাম্প্রতিক সময়ে করোনা শনাক্তদের ৯০ শতাংশই বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইনে আক্রান্ত। সাউথ আফ্রিকার বেশির ভাগ প্রদেশে করোনার নতুন ধরনটি পৌঁছে গেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
৩৩ কোটি ইউরো সহায়তা দেবে ফ্রান্স
সেপা চুক্তি: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়বে কয়েক গুণ
যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া মিথ্যাচার করেছে: ফ্রান্স
অকাস চুক্তি নিয়ে কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

শেয়ার করুন

দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া: ভাসানীর মেয়ে

দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া: ভাসানীর মেয়ে

হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভাসানীর ছোট মেয়ে মাহমুদা খানম ভাসানী। তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া কথা বলতে পারছেন, তবে খুব ধীরে ধীরে। তিনি খুবই দুর্বল। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রোগমুক্তির জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মেয়ে মাহমুদা খানম ভাসানী।

হাসপাতালে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান মজলুম জননেতা ভাসানীর পরিবারের ৫ সদস্য। ৩০ মিনিটের মতো তারা হাসপাতালে ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভাসানীর ছোট মেয়ে মাহমুদা খানম ভাসানী।

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া কথা বলতে পারছেন, তবে খুব ধীরে ধীরে। তিনি খুবই দুর্বল। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

‘তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তাকে বিদেশে পাঠিয়ে সুচিকিৎসার সুযোগ দেয়ার জোর দাবি জানাই।’

দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া: ভাসানীর মেয়ে
হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান মওলানা ভাসানীর পরিবারের সদস্যরা

ভাসানীর নাতি হাবিব হাসান মনার বলেন, ‘আমরা বেগম জিয়াকে দেখতে গিয়েছিলাম। তার ডাক্তাররা বলেছেন, বেগম জিয়ার অবস্থা খারাপ। তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানাই ভাসানী পরিবারের পক্ষ থেকে।’

ভাসানীর আরেক নাতি মাহমুদুল হক শানু বলেন, ‘মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী আজীবন মজলুমের পক্ষে লড়াই করেছেন। যেখানে অন্যায়, সেখানেই তিনি ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠ। পাকিস্তান সরকারের ফাঁসির দড়ি থেকে তিনি যেমনিভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্ত করেছিলেন, তেমনি দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে নিপীড়নের হাত থেকেও তিনি রক্ষা করেছিলেন।

‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেয়ার জন্য মওলানা ভাসানীর পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

খালেদাকে দেখতে যাওয়া ভাসানী পরিবারের অন্য সদস্যরা হলেন জননেতার বড় মেয়ে রিজিয়া ভাসানী ও নাতনি সুরাইয়া সুলতানা।

ওই সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার।

গত ১৩ নভেম্বর বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরের দিন ভোরে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুতই বিদেশে নেয়া দরকার।

আরও পড়ুন:
৩৩ কোটি ইউরো সহায়তা দেবে ফ্রান্স
সেপা চুক্তি: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়বে কয়েক গুণ
যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া মিথ্যাচার করেছে: ফ্রান্স
অকাস চুক্তি নিয়ে কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

শেয়ার করুন

করোনার নতুন ধরন সবচেয়ে মারাত্মক?

করোনার নতুন ধরন সবচেয়ে মারাত্মক?

কোভিডের কয়েকটি ধরন গবেষণাপত্রে অনেক ভয়ংকর হিসেবে উঠে এলেও বাস্তবে তেমন আহামরি ক্ষমতাধর নয়- এমন উদাহরণ কম নয়। চলতি বছরের শুরুতেই বিশ্বে মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল করোনার বেটা প্রজাতি। কারণ মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দেয়ায় সেরা ছিল বেটা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেটাকে ছাড়িয়ে যায় ডেল্টা; বিশ্বজুড়ে করোনা শনাক্তদের বেশির ভাগই আক্রান্ত হয়েছিল ডেল্টায়। বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় না এলেও সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বিজ্ঞানীদের।

করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন ধরনে আবারও উদ্বেগ ছড়িয়েছে সারা বিশ্বে। বলা হচ্ছে- এখন পর্যন্ত করোনার যত পরিবর্তিত রূপ চিহ্নিত হয়েছে, তাদের মধ্যে সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইন ভাইরাসটি সবচেয়ে বেশি পরিবর্তিত।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এযাবৎকালে আবিষ্কৃত করোনার পরিবর্তিত রূপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণও এই নতুন ধরনটি। এটিতে এত বেশিবার পরিবর্তন ঘটেছে যে একজন বিজ্ঞানী বিষয়টিকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভয়ংকর’ বলে। আরেক বিজ্ঞানী নতুন ধরনটিকে এখন পর্যন্ত দেখা করোনার সবচেয়ে মারাত্মক ধরন বলে উল্লেখ করেছেন।

নতুন ধরনটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়েই আছে। যাদের দেহে এটি শনাক্ত হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই সাউথ আফ্রিকার একটি প্রদেশের বাসিন্দা। কিন্তু অন্যান্য অঞ্চলেও এটি ছড়িয়েছে বলে আভাস মিলেছে।

আপাতত নতুন ধরনটির বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেসব প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞানীরা খুঁজছেন, সেগুলো হলো- এটি কত দ্রুত ছড়ায়, টিকার কার্যকারিতাকে ফাঁকি দিতে কতটা সক্ষম এটি এবং একে প্রতিরোধের উপায় কী।

ভাইরাসটি নিয়ে নানা ধারণা থাকলেও স্পষ্ট উত্তর নেই বললেই চলে।

করোনার নতুন ধরন নিয়ে আমরা কী জানি

করোনার বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইন ধরনটিকেও আলফা, ডেল্টার মতো কোনো গ্রিক প্রতীকী নাম দেয়া হতে পারে। শুক্রবারই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আসতে পারে এ-সংক্রান্ত ঘোষণা।

বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইন ধরন নাটকীয় মাত্রায় পরিবর্তিত; এতটাই যে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত করোনার সঙ্গে সাউথ আফ্রিকায় সবশেষ আবিষ্কৃত নতুন ধরনের কোনো মিলই নেই।

সাউথ আফ্রিকার সেন্টার ফর এপিডেমিক রেসপন্স অ্যান্ড ইনোভেশনের পরিচালক অধ্যাপক তুলিও ডি অলিভেইরা বলেন, ‘করোনার অন্য যেসব ধরন ছড়িয়েছে, সেগুলোর তুলনায় নতুন ধরনটি একেবারেই আলাদা এবং এটি অস্বাভাবিক মাত্রায় পরিবর্তিত।

‘নতুন ধরনটি চমকে দিয়েছে আমাদের। এক লাফে বড় ধরনের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে ভাইরাসটি। আবার সদ্য আবিষ্কৃত এই ধরনটিতেও আরও অনেক পরিবর্তন যোগ হতে পারে বলে ধারণা করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক অলিভেইরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৫০টি পরিবর্তন শনাক্ত হয়েছে নতুন ধরনে। এর বহিঃ আবরণীতে থাকা আমিষের যে অংশটি ভাইরাসকে কোষের সঙ্গে যুক্ত থাকতে সাহায্য করে, সেই ‘স্পাইক প্রোটিন’-এর সংখ্যা ৩০টি।

করোনা প্রতিরোধী টিকা মূলত ভাইরাসের এই ‘স্পাইক প্রোটিন’-কেই আক্রমণ করে। কারণ ‘স্পাইক প্রোটিন’ ব্যবহার করেই ভাইরাসটি দেহের কোষে প্রবেশের পথ উন্মুক্ত করে।

ভাইরাস তার যে অংশ ব্যবহার করে প্রথমবার মানবদেহের কোষের সংস্পর্শে আসে, করোনার নতুন ধরনেই সেই অংশে ১০টি পরিবর্তন শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো আগের ধরনটি, অর্থাৎ করোনার ডেল্টা ভাইরাসে এ পরিবর্তনের সংখ্যা ছিল মাত্র দুই।

একজন রোগীর দেহে প্রাপ্ত ভাইরাসেই এ পরিমাণ পরিবর্তন দেখা গেছে। নতুন এ ধরনটিতে আক্রান্ত ওই রোগী শেষ পর্যন্ত হার মেনেছেন মৃত্যুর কাছে।

ভাইরাসে অনেক পরিবর্তন মানেই যে সেটি খারাপ, তা নয়। এই পরিবর্তনের ফলে কী ঘটছে, তা জানা জরুরি।

বিজ্ঞানীদের উদ্বেগের কারণ হলো করোনার নতুন ধরনটি উহান থেকে ছড়ানো কোভিড নাইনটিনের প্রজাতি হলেও আদি ভাইরাস থেকে নতুনটি একেবারেই ভিন্ন। এর অর্থ হলো কোভিড নাইনটিন প্রতিরোধে তৈরি টিকা নতুন ধরনটির বিস্তার ঠেকাতে একই রকম কার্যকর নাও হতে পারে।

বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইনে শনাক্ত কয়েকটি পরিবর্তন কোভিডের আগের ধরনগুলোতেও দেখেছিলেন বিজ্ঞানীরা। তুলনামূলক বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইন সহজে সংক্রমণযোগ্য। অ্যান্টিবডি যেন ভাইরাসটিকে চিনতে না পারে, তেমন কিছু বৈশিষ্ট্যও যুক্ত হয়েছে নতুন ধরনে; ফলে টিকার কার্যকারিতা এর ওপর কম হওয়াই স্বাভাবিক।

উল্টোদিকে বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইনে শনাক্ত কয়েকটি পরিবর্তন একেবারেই নতুন, অর্থাৎ কোভিডের আগের বিভিন্ন ধরনে এসব পরিবর্তন ছিল না। এসব পরিবর্তনের ফল অজানা।

সাউথ আফ্রিকার ইউনিভার্সিটি অফ কোয়াজুলু-নাতালের অধ্যাপক রিচার্ড লেসেলস বলেন, ‘সংক্রমণে আগের চেয়েও বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছে নতুন ধরনটি। মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর ক্ষমতা তো বেড়েছেই, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও আক্রান্ত করার সক্ষমতা থাকতে পারে এর।’

অবশ্য কোভিডের কয়েকটি ধরন গবেষণাপত্রে অনেক ভয়ংকর হিসেবে উঠে এলেও বাস্তবে তেমন আহামরি ক্ষমতাধর নয়- এমন উদাহরণ কম নয়।

চলতি বছরের শুরুতেই বিশ্বে মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল করোনার বেটা প্রজাতি। কারণ মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দেয়ায় সেরা ছিল বেটা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেটাকে ছাড়িয়ে যায় ডেল্টা; বিশ্বজুড়ে করোনা শনাক্তদের বেশির ভাগই আক্রান্ত হয়েছিল ডেল্টায়।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবি গুপ্তা বলেন, ‘বেটার একটা শক্তি ছিল, তা হলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দেয়া। বাকি সবদিক থেকেই দুর্বল ছিল ভাইরাসটি। আর ডেল্টার সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি ছিল; রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দেয়ার দিক থেকে মৃদু থেকে শক্তিশালী মাত্রায়।

তাই বৈজ্ঞানিক গবেষণায় স্পষ্ট চিত্র মিললেও প্রকৃত পরিস্থিতি কী, তা জানা যাবে বিশ্বজুড়ে ভাইরাসটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পর।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় না এলেও বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বিজ্ঞানীদের।

সাউথ আফ্রিকার গউতেং প্রদেশে বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইনে নিশ্চিত আক্রান্ত ৭৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে; চারজন বতসোয়ানায় আর হংকংয়ে একজন- যিনি সাউথ আফ্রিকা ভ্রমণ করে দেশে ফিরেছেন।

কিন্তু ভাইরাসটি আরও অনেক অঞ্চলে, আরও বড় পরিসরে ছড়িয়েছে বলে ইঙ্গিত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

শনাক্তকরণ পরীক্ষায় করোনার নতুন ধরনটিতে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ‘এস-জিন ড্রপআউট’ নামে পরিচিত অদ্ভুত একটি বৈশিষ্ট্যের দেখা মিলছে। জিনগত বিশ্লেষণ সম্পন্ন ছাড়াই এই ‘এস-জিন ড্রপআউট’ বৈশিষ্ট্য শনাক্তের মাধ্যমেই মানবদেহে বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব।

এই পদ্ধতিতে ধারণা মিলছে যে গউতেংয়ে সাম্প্রতিক সময়ে করোনা শনাক্ত ব্যক্তিদের ৯০ শতাংশই বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইনে আক্রান্ত। সাউথ আফ্রিকার বেশির ভাগ প্রদেশে করোনার নতুন ধরনটি পৌঁছে গেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।

কিন্তু এসব তথ্যে এটা স্পষ্ট নয় যে বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইন ভাইরাসটি ডেল্টার চেয়েও দ্রুতগতিতে ছড়ায় কি না; টিকার মাধ্যমে অর্জিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দিতে এটি আগের অন্য ধরনগুলোর বেশি সক্ষম কি না।

সাউথ আফ্রিকার মোট জনগোষ্ঠীর বড় অংশ কোনো না কোনো সময় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে; ২৪ শতাংশেরই করোনা প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর চেয়েও বেশি হার যেসব দেশে, সেসব দেশে বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইন ছড়াবে কি না কিংবা কীভাবে ছড়াবে- সে বিষয়টিও স্পষ্ট নয়।

সবমিলিয়ে বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইনের বিষয়ে মানুষের জ্ঞানভাণ্ডারে বিশাল ফাঁক থেকে গেলেও নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই। বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ এবং একে নিয়ে করণীয় ও কখন কী করতে হবে- সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।

কারণ বৈশ্বিক মহামারির মূল শিক্ষাই হলো- সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া পর্যন্ত সব সময় বসে থাকার উপায় নেই মানুষের।

আরও পড়ুন:
৩৩ কোটি ইউরো সহায়তা দেবে ফ্রান্স
সেপা চুক্তি: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়বে কয়েক গুণ
যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া মিথ্যাচার করেছে: ফ্রান্স
অকাস চুক্তি নিয়ে কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরেই রোগীদের নিয়ে দালালদের টানাহ্যাঁচড়া

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরেই রোগীদের নিয়ে দালালদের টানাহ্যাঁচড়া

রোগীদের অভিযোগ, শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। দক্ষ লোকবলের অভাবে এখানে অনেক সেবা না মিললেও এখানকার চিকিৎসকরাই বাইরের ক্লিনিকে গেলে স্বনামধন্য চিকিৎসক বনে যান।

ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হওয়া মাত্রই হাত থেকে ব্যবস্থাপত্র কেড়ে নেন দালালরা। পরে তারা তাদের পছন্দমতো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম বলে দেন। তাদের ক্লিনিকে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, এ পরীক্ষাটা শুধু সেখানেই করা হয়।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী এভাবেই তার ভোগান্তির কথা জানান।

তবে শুধু ওই রোগী নন, উপজেলার ১৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বাসিন্দাদের জন্য একমাত্র সরকারি হাসপাতালটির বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসে প্রতিদিনই দালালদের হয়রানির শিকার হন অনেকে।

রোগীদের অভিযোগ, শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। দক্ষ লোকবলের অভাবে এখানে অনেক সেবা না মিললেও এখানকার চিকিৎসকরাই বাইরের ক্লিনিকে গেলে স্বনামধন্য চিকিৎসক বনে যান।

সিজার থেকে শুরু করে ক্লিনিকে সব ধরনের জটিল রোগের চিকিৎসাই করেন তারা। উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক দিয়েই চলে শিবচরের ১৮ থেকে ২০টি ক্লিনিক ও ডায়াগস্টিক সেন্টার। মূলত তাদের সহযোগিতায় হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য দিন দিন সীমা ছাড়াচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ বছর সিজারিয়ান অপারেশন না হলেও ক্লিনিকগুলোতে এক্সরে-আলট্রাসনোগ্রামসহ অহরহই প্রসূতিদের সিজার করানো হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরেই রোগীদের নিয়ে দালালদের টানাহ্যাঁচড়া

হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শশাংক চন্দ্র ঘোষ নিজেও শিবচর বাজারের ‘মা ও শিশু হাসপাতালে’ নিয়মিত রোগী দেখেন। সেখানে সিজার থেকে শুরু করে সব রোগের চিকিৎসা দিলেও সরকারি হাসপাতালে সেই সেবা মেলে না।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগী মাহবুবুল আলম অভিযোগ করেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা সব সময় হাসপাতালের ভেতরে ঘোরাঘুরি করে। অনেকে আবার চিকিৎসকের চেম্বারের মধ্যে অবস্থান করে। চিকিৎসকরা রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিলেই এসব দালাল পাগল হয়ে যায় তাদের প্রতিষ্ঠানে নেয়ার জন্য। এতে রোগী ও স্বজনদের প্রতিদিনই নাজেহাল হতে হয়।

কাঁঠালবাড়ি এলাকা থেকে আসা রোগী ফয়জুল শেখের অভিযোগ, শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৌচাগারের অবস্থা বেহাল। সুস্থ মানুষও এখানে একদিন থাকলে রোগী হয়ে যাবে।

আরেক রোগী বাবুল খাঁ জানান, হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তিন থেকে চার দিন পর আসেন। দুর্গন্ধে হাসপাতালে থাকা যায় না। কেউ কোনো ব্যবস্থাও নেয় না।

মাদারীপুর জেলা পরিষদের সদস্য আয়শা সিদ্দিকা জানান, উপজেলায় অবকাঠামো, শিক্ষা, যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি হলেও স্বাস্থ্য সেবায় করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। উপজেলার ১৯ ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার বাসিন্দা বঞ্চিত হচ্ছে উন্নত চিকিৎসা থেকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কিছুদিন আগে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সেবার মান কমে গেছে। কোনো রাগী এলে চিকিৎসকরা রেফার্ড করে দেন অন্য হাসপাতালে। পাঠিয়ে দেন তাদের পছন্দমতো ক্লিনিকে। চিকিৎসকরা কোনো দায়িত্বই নিতে চান না।

শিরুয়াইল থেকে আসা রোগী বজলুর রহমান জানান, প্রতিদিনই শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান নেয় নির্দিষ্ট কিছু দালাল সিন্ডিকেট। তাদের সঙ্গে চিকিৎসকদের যোগসাজশ রয়েছে। কারণ প্রায় সব চিকিৎসকই কোনো না কোনো ক্লিনিক বা ডায়াগস্টিক সেন্টারে বসে রোগী দেখেন। বিনিময়ে এসব দালালকে দেন কমিশনের টাকা।

খানকান্দি গ্রামের রাজু খান অভিযোগ করেন, হাসপাতালের সামনের গেটে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক রাখা থাকে। রোগী পাঠাতে এদের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়। সেই অতিরিক্ত ভাড়া থেকেও কমিশন নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস থেকে জানা যায়, এখানে ২৭ জন চিকিৎসক আছেন। এ ছাড়া নার্স রয়েছেন ২৪ জন, অফিস সহকারী তিনজন, ইপিআই দুজন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী একজন, এমএলএস ও ঝাড়ুদার রয়েছেন দুজন করে।

রোগীরা জানান, শিবচরে প্রায় ১৮ থেকে ২০টি ক্লিনিক রয়েছে। হাসপাতালের ভেতরে প্রতিদিনই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং চক্রের ১০-১৫ সদস্য সক্রিয় থাকেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরাই সেসব ক্লিনিকে গিয়ে রোগী দেখেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, দালালদের উৎপাতের বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতনদের নজরে দিয়েও সমাধান হয়নি। এমনকি ক্লিনিক মালিকপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তারা কথা দিয়েও কথা রাখেননি।

দালালদের উৎপাতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মিঠুন বিশ্বাস বলেন, ‘হাসপাতালের অভ্যন্তরে অনেক সময় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ করে এমন ছেলে-মেয়েদের দেখা যায়। ক্লিনিকের দালালদের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। আমরা কয়েকবার এর সমাধান করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ক্লিনিক মালিকদের কোনোভাবে দমানো যায় না।

‘আর ক্লিনিকগুলো চালিয়ে রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তাররাই। এখানকার ডাক্তাররা ক্লিনিকে গেলেই তো অভিজ্ঞ হয়ে যান। দালালরা এসে চোখাচোখি হলে তারা সালাম দিয়ে কেটে পড়ে। কখনোই চেম্বারে প্রবেশ করেনি।’

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ শুনেছি। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের প্রবেশ নিষেধ করা হবে। তবে দালাল নির্মূল করা আমার একার দায়িত্ব না।’

কর্মঘণ্টার বাইরে কোনো চিকিৎসক ক্লিনিকে রোগী দেখলে তার কিছু করার নেই দাবি করে বলেন, ‘অফিস টাইমের বাইরে কোথায় কে কী করল, তা দেখার দায়িত্ব আমার নয়। ডাক্তাররা ক্লিনিকে বা অন্য কোথাও প্র্যাকটিস করতেই পারে।’

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে জানান, হাসপাতালে মাত্র একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করেন। এ বিষয়ে অনেকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েও সমাধান পাননি।

আরও পড়ুন:
৩৩ কোটি ইউরো সহায়তা দেবে ফ্রান্স
সেপা চুক্তি: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়বে কয়েক গুণ
যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া মিথ্যাচার করেছে: ফ্রান্স
অকাস চুক্তি নিয়ে কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

শেয়ার করুন