নারীকে ‘দুশ্চরিত্র’ প্রমাণের দুটি ধারা বাতিল চেয়ে রিট

নারীকে ‘দুশ্চরিত্র’ প্রমাণের দুটি ধারা বাতিল চেয়ে রিট

প্রতীকী ছবি

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), নারীপক্ষ ও ব্লাস্টের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন রোববার রিট করেন। রিটে আইন মন্ত্রণালয়কে বিবাদী করা হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা সাক্ষ্য আইনের দুটি ধারা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), নারীপক্ষ ও ব্লাস্টের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন রোববার এ রিট করেন।

রিটে আইন মন্ত্রণালয়কে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটকারী ব্যারিস্টার সারা হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ ও ১৪৬ দুটি ধারা বাতিল চেয়ে রিট দায়ের করেছি। রিটে এ ধারা দুটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।’

রিটটি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।

ব্রিটিশ আমলে প্রণীত সাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যখন বলাৎকার বা শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হন, তখন দেখানো যেতে পারে যে, অভিযোগকারিণী সাধারণভাবে দুশ্চরিত্র নারী (When a man is prosecuted for rape or an attempt to ravish, it may be shown that the prosecutrix was of generally immoral character)।’

১৪৬ ধারার ৩ উপধারায় বলা হয়, ‘যখন একটি সাক্ষী ক্রস-পরীক্ষা করা হয়, তিনি প্রশ্ন করার পূর্বে এখানে প্রশ্ন করতে পারেন, যেকোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হবে তার চরিত্র আহত করার মাধ্যমে তার কৃতিত্বকে হ্রাস করার জন্য, যদিও এই ধরনের প্রশ্নগুলির উত্তর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাকে দোষারোপ করতে পারে অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রকাশ করতে পারে বা তাকে জরিমানা অথবা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে।’

সাক্ষ্য আইনের এসব ধারা বাতিলে বিভিন্ন সময় দাবি ওঠে। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষ্য আইনের ধারা বাতিলের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এক আলোচনায় আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সাধারণত দুশ্চরিত্র হলেই যে ধর্ষণ করা যাবে, এই বিষয়টি আমরা অনুমোদন দিতে পারি না। এই কারণে সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ (৪) ধারা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। সাক্ষ্য আইন সংশোধন হচ্ছে। সাক্ষ্য আইনের পরিববর্তন আমরা করছি।

‘ভার্চুয়াল কোর্ট করার জন্য সাক্ষ্য আইনের যে যে জায়গায় পরিবর্তন করা দরকার, সেগুলো আমরা পরিবর্তন করব।’

প্রস্তাবটি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের কথা বলেছিলেন মন্ত্রী।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিজয়ের ৫০ উৎসবে আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি

বিজয়ের ৫০ উৎসবে আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি

ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ। ফাইল ছবি। এএফপি

করোনা পরীক্ষা ছাড়া কেউই বিজয় দিবসের কোন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বলেন, ‘কোভিড দেশে থেকে যায়নি সেটি মাথায় রেখেই কোভিড টেস্ট বাধ্যতামূলক। যারা দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন তারাই সেখানে আসবেন। আমরা অবশ্যই নেগেটিভ সার্টিফিকেট পরীক্ষা করব। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখানে আসতে সবাইকে আহ্বান করছি।’

বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে থাকবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বিজয় দিবস উদযাপন সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত জেনেছি একজন রাষ্ট্রপ্রধান আসবেন। বিদেশি মেহমান আরও কিছু আসার কথা।’

গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার এই আগমনকে ঘিরে সে সময় দেশে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা ব্যাপক হাঙ্গামা করেছিলেন।

প্রতিবাদ থেকে সহিংস হয়ে উঠে সংগঠনের কর্মীরা। পরে পুলিশের অভিযান শুরু হলে হেফাজতের নেতৃত্বেও ধরে ভাঙন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিজয় দিবসের ৫০ বছরের পূর্তি হতে যাচ্ছে। সেজন্য মানুষের মধ্যে একটা আগ্রহ রয়েছে। তারা সবাই উন্মুখ হয়ে আছেন তারা সবাই অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশের যে যেখানে থাকেন তারা এই অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নেবেন, যাতে নিরাপত্তার অভাব অনুভব না করেন, সেজন্য আমরা মিটিং করেছি।’

অনুষ্ঠানগুলো ঘিরে ট্রাফিক ব্যবস্থা কী হবে, নিরাপত্তার জন্য কী কী চ্যালেঞ্জ হতে পারে- সবকিছু নিয়ে আমরা আলাপ করার কথা জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘যার যা করণীয় সেগুলো আমরা ভাগ করে দিয়েছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি মেহমান যারাই আসবেন, তাদের নিরাপত্তা, তাদের আসা-যাওয়া, তাদের অবস্থান...বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ার ও জাতীয় সংসদের সামনে মুজিব জন্মশতবর্ষের শেষ অনুষ্ঠান এবং বিজয় দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সব মিলে আমরা যে অনুষ্ঠানগুলো করতে যাচ্ছি, এর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে।’

করোনা পরীক্ষা ছাড়া কেউই বিজয় দিবসের কোন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘কোভিড দেশে থেকে যায়নি সেটি মাথায় রেখেই কোভিড টেস্ট বাধ্যতামূলক। যারা দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন তারাই সেখানে আসবেন। আমরা অবশ্যেই নেগেটিভ সার্টিফিকেট পরীক্ষা করব। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখানে আসতে সবাইকে আহ্বান করছি।’

শেয়ার করুন

বিশ্বে বাংলাদেশি অভিবাসী ৭৪ লাখ: আইওএম

বিশ্বে বাংলাদেশি অভিবাসী ৭৪ লাখ: আইওএম

প্রতীকী ছবি

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী বসবাস করা বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৭.৪ মিলিয়ন বা ৭৪ লাখ।

বিশ্বে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা সাত দশমিক ৪ মিলিয়ন বা ৭৪ লাখ বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

সে হিসাবে অভিবাসী থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ।

আইওএমের বৃহস্পতিবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে বুধবার ‘বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন ২০২২’ প্রকাশ করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা ১৯৭০ সালে বিশ্বব্যাপী ৮৪ মিলিয়ন থেকে ২০২০ সালে ২৮১ মিলিয়নে উন্নীত হয়েছে যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৩.৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী বেশিরভাগ মানুষই (৯৬.৪ শতাংশ) যে দেশে জন্মগ্রহণ করে, সে দেশেই বসবাস করে। কোভিড-১৯ এর কারণে ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা ২ মিলিয়নের মতো কম ছিল।

আইওএম তাদের এ প্রতিবেদনের বিশ্বকে সতর্ক করে বলে, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ক্রমাগতভাবে সারা বিশ্বে অভিবাসীর সংখ্যা বাড়িয়ে চলছে। বর্তমানে পৃথিবীতে ২৮ কোটি ১০ লাখ অভিবাসী রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ৭৪ লাখ (৭.৪০ মিলিয়ন)। আর রেমিট্যান্স পাঠানোয় অষ্টম।

প্রতিবেদনে গত দুই বছরে বিশ্বব্যাপী অভিবাসন খাতের আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিষয় বিশ্লেষণ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে অভিবাসনের ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক কারণগুলো।

আইওএম বলছে, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী চলাচলে নিয়ন্ত্রণ এবং ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিপর্যয়, সংঘাত এবং সহিংসতার কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি বেড়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বব্যাপী আকাশপথে যাত্রীর সংখ্যা ৬০ শতাংশ কমেছে। ২০১৯ সালে যাত্রীসংখ্যা ছিল ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন, যা ২০২০ সালে ১ দশমিক ৮ বিলিয়নে দাঁড়ায়। একই সময়ে দুর্যোগ, সংঘাত এবং সহিংসতার ফলে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪০ দশমিক ৫ মিলিয়ন, যা এক বছর আগে ছিল ৩১ দশমিক ৫ মিলিয়ন।

প্রতিবেদন সম্পর্কে আইওএমর মহাপরিচালক অ্যান্টোনিও ভিটোরিনো বলেন, ‘আমরা একটি বৈপরীত্য লক্ষ্য করছি, যা মানব ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি। কোভিড-১৯ এর কারণে শত কোটি মানুষ আটকা পড়েছে। তারপরও লাখ লাখ বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় বিপুলসংখ্যক মানুষ গৃহহীন হতে বাধ্য হয়েছে।’

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী বসবাস করা বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৭.৪ মিলিয়ন বা ৭৪ লাখ।

এতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করেও প্রবাসীরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি অভিবাসীরা ২০১৯ সালে ১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি দেশে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে এসেছে যারা গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) দেশগুলোতে প্রধানত আধা দক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। এই রেমিট্যান্স, জিডিপির ৬ শতাংশের বেশি এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক আয়ের উৎস।’

প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সম্পর্কে বলা হয়, অভিবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোয় উদ্বুদ্ধ করার জন্য নীতিনির্ধারকদের নেয়া পদক্ষেপের ফলে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

‘বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৯ সালে নগদ প্রণোদনা স্কিমের সর্বোচ্চ সীমা তিন গুণেরও বেশি বাড়িয়েছে, যার ফলে রেমিট্যান্স সুবিধাভোগীরা আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে টাকা পাঠানোর ওপর দুই শতাংশ বোনাস পান ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত। এ ছাড়া রেমিট্যান্স পাঠানোর উৎসাহ আরও বাড়াতে কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক অতিরিক্ত এক শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে’, বলা হয় প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনটির সম্পাদক ম্যারি ম্যাকঅলিফ বলেন, বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন সিরিজের ১১তম সংস্করণটিতে অভিবাসন বিষয়ে সাম্প্রতিক তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে অভিবাসন প্রবণতা তুলে ধরা হয়েছে। ব্যাখ্যা করা হয়েছে অভিবাসন নীতির নতুন নতুন দিক।

আইওএমের বাংলাদেশ অফিসার ইন চার্জ ফাতিমা নুসরাত গাজ্জালি বলেন, ‘রেমিট্যান্সের প্রবাহের ওপর কোভিড-১৯ অতিমারির নেতিবাচক প্রভাব সত্ত্বেও ২০২০ সালে ২১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছে। অভিবাসন বাংলাদেশের উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

‘অভিবাসীরা গন্তব্য দেশে উন্নত অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য অভিবাসন করে এবং তারপরে নিজ দেশে জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সহায়তা করে।’

শেয়ার করুন

স্কুলে ভর্তি শেষ করতে হবে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে

স্কুলে ভর্তি শেষ করতে হবে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে

ফাইল ছবি

মাউশি মহাপরিচালক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া যেন ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয় এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভর্তির ক্ষেত্রে যেন পরীক্ষা নেয়া না হয় এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত করা হয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। আর শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি ছাড়া ভর্তি পরীক্ষা নেয়া যাবে না।

বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুকের সই করা অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মাউশি মহাপরিচালক বলেন, সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া যেন ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয় এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভর্তির ক্ষেত্রে যেন পরীক্ষা নেয়া না হয় এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত করা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন ও ভর্তি প্রক্রিয়া অবশ্যই আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। লটারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভর্তি পরিচালনা কমিটি, ঢাকা মহানগরের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি অভিভাবক, ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষক প্রতিনিধির উপস্থিতি থাকতে হবে।

আরও বলা হয়, শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি নীতিমালা (সংশোধিত-২০২১) অনুসরণ করে লটারির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। কোনোভাবেই ১১০ টাকার বেশি ফি নেয়া যাবে না।

আগামী বছরের জন্য সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোতে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে ২৫ নভেম্বর। এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ৮ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

২০২২ শিক্ষাবর্ষে সরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিতে শিক্ষার্থীর বয়স ছয় বছরের বেশি হতে হবে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এই বয়স নির্ধারণ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।

ভর্তি কার্যক্রমের শর্তাবলী

সরকারি বিদ্যালয়: ঢাকা মহানগরে ৪৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় তিনটি ভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত থাকবে। আবেদনের সময় একজন শিক্ষার্থী একটি গ্রুপের পাঁচটি বিদ্যালয় নির্বাচন করতে পারবে। এখান থেকে লটারির মাধ্যমে একটি বিদ্যালয় নির্বাচন করা হবে।

সারা দেশে আবেদনকারীরা আবেদনের সময় প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকালে থানাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা পাবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীরা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি আবেদনে সর্বোচ্চ পাঁচটি স্কুল পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করতে পারবে।

ডাবল শিফটের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উভয় শিফট পছন্দ করলে দুটি পছন্দক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। একই পছন্দক্রমের বিদ্যালয় কিংবা শিফট দ্বিতীয় বার পছন্দ করা যাবে না।

এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির মোট শূন্য আসনের ১০ শতাংশ কোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

বেসরকারি বিদ্যালয়: ঢাকা মহানগরীর বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন কমপক্ষে একটি এবং সর্বোচ্চ তিনটি প্রশাসনিক থানা ক্যাচমেন্ট এরিয়া হিসেবে নির্ধারণ করা যাবে।

আবেদনকারীরা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকালে মহানগর পর্যায়ের জন্য বিভাগীয় সদরের মেট্রোপলিটন এলাকা এবং জেলা সদরের সদর উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাবে। এক্ষেত্রে প্রার্থীরা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি আবেদনে সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করতে পারবে।

ডাবল শিফটের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উভয় শিফট পছন্দ করলে দুটি পছন্দক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। একই পছন্দক্রমের বিদ্যালয় কিংবা শিফট দ্বিতীয় বার পছন্দ করা যাবে না।

করোনা মহামারির কারণে গত বছর প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এর আগে শুধু প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। আর দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তিতে পরীক্ষা নেয়া হতো। নবম শ্রেণিতে ভর্তি করা হতো জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে।

শেয়ার করুন

আফ্রিকা ফেরতদের বোর্ডিং পাস নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আফ্রিকা ফেরতদের বোর্ডিং পাস নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘আফ্রিকায় আমাদের বিমান যায় না। তবে অন্য কোনো এয়ারলাইনসে সেদেশ থেকে এলে, তাদেরকে বোর্ডিং পাস দেয়া হবে না। আর বোডিং পাস যদি দিতেও হয়, তবে যাদের ডাবল ভ্যাক্সিন আছে এবং টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ তাদেরকে দেয়া হবে। দেশে এসে তাদের ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।’ 

সাউথ আফ্রিকা ফেরতদের বোর্ডিং পাস দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, যাদের ডাবল ভ্যাক্সিন আছে এবং টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ তাদেরকে কেবল বোর্ডিং দেয়া হবে। তবে দেশে এসে তাদের ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

সিলেটে সালুটিকর এলাকায় বৃ্হস্পতিবার বিকেলে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কেপ ফাউন্ডেশনের ‘আরফান ভিলেজ’ এর উদ্বোধনকালে ওমিক্রন সতর্কতা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আফ্রিকায় আমাদের বিমান যায় না। তবে অন্য কোনো এয়ারলাইনসে সেদেশ থেকে এলে, তাদেরকে বোর্ডিং পাস দেয়া হবে না। আর বোর্ডিং পাস যদি দিতেও হয়, তবে যাদের ডাবল ভ্যাক্সিন আছে এবং টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ তাদেরকে দেয়া হবে। দেশে এসে তাদের ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।’

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন গত ২৪ নভেম্বর শনাক্ত হয় সাউথ আফ্রিকায়। দ্রুত এটি ছড়িয়ে পড়ে যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, বতসোয়ানা, হংকং ও ইসরায়েলে।

যেসব দেশে এই ধরন পাওয়া গেছে সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হতে পারে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে স্থগিত করা হয়েছে যোগাযোগ।

এই প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আফ্রিকার আশপাশের দেশগুলোতে যারা আছেন, তাদের ডিসকারেজ করার জন্য অথবা এখন দেশে না ফেরার জন্য সবগুলো মিশনকে বলে দেয়া হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ প্রস্তুত, এটা সমস্যা হবে না বলেও জানান তিনি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সংক্ষিপ্ত সফরে বিমানযোগে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। বিকালে ক্যাপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ওরফান ভিলেজ স্থাপনের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও ক্যাপ ফাউন্ডেশনের সিইও মো. আব্দুল নূর, সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, চ্যানেল এস এর চেয়ারম্যন আহমেদুস সামাদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

শর্ত ভেঙে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠান প্রচারে ব্যবস্থা

শর্ত ভেঙে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠান প্রচারে ব্যবস্থা

প্রতীকী ছবি

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে অ্যাটকোর নেতৃবৃন্দের সাথে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো বিষয় আমরা আলোচনা করেছি। অ্যাটকোর পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয় তোলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে মোবাইল অপারেটররা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছে।’

লাইসেন্সের শর্ত ভেঙে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠান প্রচার করলে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাটকোর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

বৈঠকে আইপি টিভির নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, তা তথ্যমন্ত্রীকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে অ্যাটকো।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে অ্যাটকোর নেতৃবৃন্দের সাথে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো বিষয় আমরা আলোচনা করেছি। অ্যাটকোর পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয় তোলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে মোবাইল অপারেটররা, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছে।

‘অ্যাটকোর বক্তব্য হচ্ছে এর জন্য তারা কোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত নন। সেখান থেকে উপার্জন করছে, কনটেন্ট বানাচ্ছে এবং সেগুলো অনলাইনে প্রচার করছে, যেটি তাদের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ। আমরা বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব। টেলিকম মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি এবং একই সাথে মোবাইল অপারেটরদের আমরা নোটিফাই করব যে, তারা কেন এটি করছে। তারা যদি নিয়ম-বহির্ভূতভাবে এটা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘আরেকটি বিষয় আলোচনা এসেছে, সেটি হচ্ছে আইপি টিভি। আপনারা জানেন আমরা আইপি টিভির রেজিস্ট্রেশন দেয়া শুরু করেছি। আইপি টিভি পৃথিবীর বাস্তবতা, তবে ব্যাঙের ছাতার মতো আইপি টিভি সমীচীন নয়। অ্যাটকোর পক্ষ থেকে যেটা বলা হয়েছে যে, আইপি টিভির রেজিস্ট্রেশন দেয়ার প্রয়োজন আছে কি না, সে প্রশ্ন তারা তুলেছেন।

‘আমরা ইতিমধ্যে ১৪টি আইপি টিভি রেজিস্ট্রেশনের অনুমতি দিয়েছি। আইপি টিভি কিন্তু কোনোভাবেই সংবাদ প্রচার করতে পারবে না। একই সাথে আইপি টিভি কোনোভাবেই কেবলের মাধ্যমে সম্প্রচার করতে পারবে না। সেটা শুধু ইন্টারনেটের মাধ্যমেই প্রচার করতে পারবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অত্যন্ত যত্ন সহকারে আমরা আইপি টিভির বিষয়ে অগ্রসর হতে চাই। যথেচ্ছভাবে রেজিস্ট্রেশন আমরা মনে করি সমীচীন হবে না।’

এর আগে অ্যাটকোর জ্যেষ্ঠ নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদের আমন্ত্রণে আমরা একটি নির্ধারিত বৈঠকে বসেছিলাম। আমাদের দুটি সমস্যা আছে। যেমন: টিআরপির বিষয়ে আমরা আগেও আলাপ করেছি। সেটিও তারা (মন্ত্রণালয়) সমাধান করার পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।

‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বিষয়ে টিআরপি নির্ধারণের সম্ভাবনা তারা বিবেচনা করছেন। আমরা আশা করছি এ সমস্যাটিও সমাধান হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আজকে বলেছি, আমাদের আইপি টিভির নামে নতুন করে কিছু নিবন্ধন দেয়া হচ্ছে, সেখানে আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর পক্ষ থেকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। আমরা বলেছি, আইপি টিভি কোনো টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সিদ্ধান্তের মধ্যে আসে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরে এখন প্রায় ৩ ডজনের মতো টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচার করছে, তথ্য প্রচার করছে ও অনুষ্ঠান প্রচার করছে, সেখানে আইপি টিভি অনুমোদনের কোনো প্রয়োজন আছে কি না সেটা আমরা মন্ত্রীকে উদ্বেগের কথা বলেছি।

‘সেখানে বলেছি, আইপি টিভি যেন এগজিস্টিং টিভিগুলোর বিকল্প সেটা ব্যবসা বলুন বা অনুষ্ঠান সম্প্রচার বলুন, তার যেন বিকল্প না হতে পারে। এর জন্য আমরা তাকে অনুরোধ জানিয়েছি। আমরা বলেছি এটি দেয়ার আগে একটি নীতিমালা হওয়া দরকার। সেটি যেন করা হয়।’

ইকবাল সোবহান বলেন, ‘আমরা আরেকটি দাবি জানিয়েছি। বর্তমানে মোবাইল ফোন অপারেটররা ওটিটির মাধ্যমে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করছেন। এমনকি সংবাদও সেখানে প্রচার করছেন। আমরা বলেছি তাদের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে মোবাইল সেবা দেয়ার জন্য। তাদের কিন্তু ওটিটির মাধ্যমে কোনো অনুষ্ঠানের অনুমোদন কিন্তু দেয়া হয়নি।

‘তাই আমরা মনে করি, এটি অবৈধভাবে যারা ওটিটির মাধ্যমে যেটা করছেন, এটাকে বন্ধ করার জন্য দাবি জানিয়েছি। মন্ত্রী আমাদের কথা অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে শুনেছেন এবং তিনি এ বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন বলেই আমরা আশা করছি।’

শেয়ার করুন

৫০তম বিজয় দিবস: শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী

৫০তম বিজয় দিবস: শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী

১৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বাংলাদেশে একটি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। ফাইল ছবি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ মিলিয়ে আমরা ইতিহাসের অসাধারণ সময় অতিক্রম করছি। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান হবে। আগে এ সব অনুষ্ঠান জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে হয়েছিল। জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি থেকে মহা বিজয়ের মহা নায়ক শিরোনামে ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠান হবে। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে সারা বাংলাদেশে একটি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন, সেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন। কি বিষয়ে শপথ হবে পরে জানানো হবে।’

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে ১৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শপথ পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ মিলিয়ে আমরা ইতিহাসের অসাধারণ সময় অতিক্রম করছি। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান হবে। আগে এ সব অনুষ্ঠান জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ বড় আকারে হবে। সেখানে ছয়টি দেশ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক একটা প্যারেড হবে। অনেকগুলো দেশের অংশগ্রহণ থাকবে।

‘জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি থেকে মহা বিজয়ের মহা নায়ক শিরোনামে ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠান হবে। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে সারা বাংলাদেশে একটি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন, সেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন। কি বিষয়ে শপথ হবে পরে জানানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে আলোচনা সভা শুরু হবে। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি অংশ নেবেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীও এতে অংশ নেবেন। পুরো অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সাজিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, প্রকৃতি, পরিবেশ সব মিলিয়ে দেশের ৫০ বছরের অগ্রগতি, এসবের সমন্বয়ে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হবে।

‘যাদের আমন্ত্রণ জানাবো সময়মত তাদের অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানো, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে যেন অনুষ্ঠানগুলো হয় সেটার নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও অন্যান্য বিষয়গুলো আজকে পর্যালোচনা করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে অংশ নেয়াদের করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক বলে জানান কামাল আবদুল নাসের। তিনি বলেন, ‘আমন্ত্রণপত্রে জানিয়ে দেয়া হবে কোথায় কোথায় করোনা পরীক্ষা করতে হবে। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়া কেউ সেখানে উপস্থিত হতে পারবেন না, যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে নমুনা পরীক্ষাটা বাধ্যতামূলক।

‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কিছু আমরা ফলো করবো। সব মিলিয়ে প্রতিদিন তিন হাজার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। অনুষ্ঠান সারা দেশের পাশাপাশি গোটা পৃথিবীতে সম্প্রচার হবে।’

শেয়ার করুন

ইউপি নির্বাচন: ভোটের দিন ঠিক রেখে পঞ্চম ধাপের পুনঃতফসিল

ইউপি নির্বাচন: ভোটের দিন ঠিক রেখে পঞ্চম ধাপের পুনঃতফসিল

পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ভোট হবে ৫ জানুয়ারি। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার কথা জানানো হলেও পুনঃতফসিলে বলা হয়েছে, প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই ৯ ডিসেম্বরের বদলে হবে ১২ ডিসেম্বর।

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের পঞ্চম ধাপের ভোটের তফসিল পুনর্নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৫ জানুয়ারিতে পঞ্চম ধাপের ভোট হবে। তবে পরিবর্তন এসেছে ভোটের অন্যান্য কার্যক্রমে।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব আতিয়ার রহমানের সই করা এক চিঠিতে নির্বাচনের তফসিল পুনর্নির্ধারণের কথা জানোনো হয়।

নির্বাচন কমিশনের ৯০তম কমিশন সভা শেষে গত শনিবার পঞ্চম ধাপের তফসিল ঘোষণা করেন ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। এই ধাপে ৭০৭ ইউপিতে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার কথা জানানো হলেও পুনঃতফসিলে বলা হয়েছে, প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই ৯ ডিসেম্বরের বদলে হবে ১২ ডিসেম্বর।

পুনর্নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আপিল দায়েরেরে সুযোগ থাকছে ১৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১৮ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ঠিক করা হয়েছে ১৯ ডিসেম্বর।

দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। মেয়াদ শেষের আগেই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনগুলো শেষ করার পরিকল্পনা করেছে ইসি।

গত জুন থেকে ধাপে ধাপে নির্বাচন হচ্ছে। প্রথম ধাপে গত ২১ জুন ২০৪ ইউপি ও ২০ সেপ্টেম্বর ১৬০ ইউপির ভোট হয়। দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৬ ইউপির ভোট হয় ১১ নভেম্বর। তৃতীয় ধাপে এক হাজার ইউপির ভোট হয় ২৮ নভেম্বর। চতুর্থ ধাপে ৮৪০ ইউপিতে ভোট হবে ২৬ ডিসেম্বর।

শেয়ার করুন