দেবীগঞ্জে জমজমাট জলপাই হাট

দেবীগঞ্জে জমজমাট জলপাই হাট

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবদারু তলার জলপাই হাট থেকে সারা দেশে পাঠানো হয় জলপাই। ছবি: নিউজবাংলা

জলপাই বাগানের মালিকরা জানান, মৌসুম শুরুর আগেই তাদের আগাম জামানত দিয়ে বাগান কিনে নেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। পরিপক্ক হলে নিজেরাই বাগান থেকে জলপাই তুলে তা নিয়ে যান দেবদারু তলার আড়তে। এতে তাদের কোনো বিড়ম্বনাই থাকে না।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবদারু তলার মৌসুমি ফলের বাজারটি এখন পরিচিত জলপাই হাটের জন্য। মৌসুমজুড়ে জমজমাট বাজারটিতে প্রতিদিন জলপাই বিক্রি করতে আসেন হাজারও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

দেশের সর্ববৃহৎ এই জলপাই হাট থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে জলপাই পাঠানো হয়। মান ও গুণের কারণে চাহিদা বেশি থাকায় ভালো দামও পাচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা। এতে প্রতি বছর জলপাই বাগান বাড়ছে দেবীগঞ্জে।

স্থানীয় বাগান মালিকরা জানান, মৌসুম শুরুর আগেই তাদের আগাম জামানত দিয়ে বাগান কিনে নেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। পরিপক্ব হলে নিজেরাই বাগান থেকে জলপাই তুলে তা নিয়ে যান দেবদারু তলার আড়তে। এতে তাদের কোনো বিড়ম্বনাই থাকে না।

তবে শুধু জলপাই নয় জাম্বুরা, কলা, পেঁপেসহ নানা মৌসুমি ফলেও বড় বাজার দেবীগঞ্জের এই দেবদারু তলা। সুষ্ঠু বিপণন ব্যবস্থার কারণে উত্তরের এই জনপদের বাসিন্দাদের অর্থনৈতিক অবস্থাও সমৃদ্ধ হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেবীগঞ্জের এই বাজারে জলপাইসহ নানা মৌসুমি ফল বিক্রি হয়। প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ টাকার জলপাই বিক্রি হয় এখানে। প্রতি কেজি জলপাইয়ের দাম থাকে প্রকারভেদে ১০ থেকে ৪০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানান, এ বাজারে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৬০ টন জলপাই কেনাবেচা হয়। হাজারখানেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এখানে জলপাই আনেন। ট্রেন ও সড়ক পথে পরিবহনের সুযোগ থাকায় এখানে জলপাই কিনতে আসেন দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা।

দেবীগঞ্জে জমজমাট জলপাই হাট

লাভজনক ও বিপণন সুবিধা থাকায় উপজেলায় এখন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে বাগান। জলপাইকে ঘিরে দেবীগঞ্জসহ আশেপাশের অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

জলপাই বাগানের মালিক আলমগীর হোসেন জানান, প্রায় ১১ বছর থেকে জলপাই বাজারজাত করছেন। ঝুঁকি এবং প্রায় পরিচর্যা ছাড়াই প্রতি মৌসুমে জলপাই বিক্রি করে যে অর্থ আয় করেন তা দিয়ে তার সারা বছরের খরচ চলে যায়।

চুয়াডাঙ্গা থেকে জলপাই কিনতে আসা ব্যবসায়ী শরিফুল হক জানান, এই এলাকার জলপাইয়ের আকার ও স্বাদে ভালো হওয়ায় বাজারে চাহিদা অনেক। এ জন্য তিনি মৌসুমের পুরোটা জুড়েই দেবীগঞ্জ থেকে জলপাই কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাফিয়ার রহমান জানান, দেবীগঞ্জে জলপাইয়ের ছোট-বড় অনেক বাগান রয়েছে। নতুন নতুন আরও বাগান গড়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ এলাকার জলপাইয়ের চাহিদা থাকায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের মধ্যে বাগান করার প্রবণতা বাড়ছে।

দেবীগঞ্জে জমজমাট জলপাই হাট

পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান জানান, অর্থকরী ফসলের পাশাপাশি মাল্টা, কমলা, পেয়ারা, জাম্বুরা এবং জলপাই চাষে আশাতীত সাফল্য পাওয়ায় অনেকে এসব ফল চাষ করছেন। তাদের সহযোগিতায় কৃষি বিভাগ তদারকি বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:
১৬-তে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
পাহাড়ে জাম্বুরার চাহিদা, বেড়েছে উৎপাদন
বিনা ধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক
বিনা-১৭ ধানে কৃষকের হাসি
‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঝোপঝাড়ে নান্দনিক বাগান কুমিল্লার ডিসির

ঝোপঝাড়ে নান্দনিক বাগান কুমিল্লার ডিসির

ডিসি বলেন, ‘আমি ছোট বেলা থেকেই সবজি বাগান করতাম। যখন সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করি তখন সবজি বাগান করা আমার নেশা হয়ে দাঁড়ায়। ওই সময় আমি ছাদ বাগান গড়ি।’

কুমিল্লা বোটানিক্যাল গার্ডেনের প্রবেশপথের দুপাশে কয়েক মাস আগেও ছিল ঝোপঝাড় ও খানাখন্দ। জঙ্গল পরিষ্কারের পর ভূমি সমতল করে সেখানে লাগানো হয়েছে সবজি ও ফলের গাছ।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান প্রায় একশ শতক পতিত জমিতে এই বাগান গড়ে তুলেছেন।

তার বাগানে আছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ধনেপাতা, মরিচ, শিমসহ হরেক রকম শীতকালীন সবজি। আছে আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, জামরুল, আনারস ও সফেদার গাছ। এ ছাড়া ভেষজ উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে হরিতকি, বাসক, বহেরা ও অর্জুন।

বেশ কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান নিজেও সবজি ও ফলবাগান পরিচর্যা করেন নিয়মিত।

ঝোপঝাড়ে নান্দনিক বাগান কুমিল্লার ডিসির
পতিত জমিতে কাজ করছেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান

ডিসি বলেন, ‘আমি ছোট বেলা থেকেই সবজি বাগান করতাম। যখন সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করি তখন সবজি বাগান করা আমার নেশা হয়ে দাঁড়ায়। ওই সময় আমি ছাদ বাগান গড়ি।’

‘বিশেষ করে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি প্রচুর সবজি বাগান করি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে আমি আমার বাগানে উৎপাদিত সবজি বিতরণ করে থাকি।’

তিনি আরও বলেন, আমার বাগানে সূর্যমুখী, গাঁদা, গোলাপসহ নানা প্রজাতির ফুলের গাছ রয়েছে। কিছুদিন পর বাগান থেকে সবজি ও বিভিন্ন ফল পাওয়া যাবে। পরিকল্পনা আছে বাগানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসব। তাদের মাঝে সবজি ও ফল বিতরণ করব। যেন শিক্ষার্থীরা বাগান করতে উদ্বুদ্ধ হয়।

বাগান করার ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুপ্রেরণা রয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, ‘আমার স্ত্রী উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাগান করার ক্ষেত্রে তার অনুপ্রেরণা আমাকে উৎসাহিত করে।’

বাগানের বড় গাছগুলোতে পাখিদের জন্য গাছে টানিয়েছেন মাটির কলস। যেখানে পাখি এসে আবাস গড়েছে।

আরও পড়ুন:
১৬-তে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
পাহাড়ে জাম্বুরার চাহিদা, বেড়েছে উৎপাদন
বিনা ধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক
বিনা-১৭ ধানে কৃষকের হাসি
‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

শেয়ার করুন

ফলন ভালো হলেও দামে হতাশ কপি চাষিরা

ফলন ভালো হলেও দামে হতাশ কপি চাষিরা

কৃষকরা বলছেন, বিঘাপ্রতি কপি চাষে যে খরচ হয় সেই হিসাবে বর্তমান বাজারদর কম। এভাবে দাম কমতে থাকলে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠবে না।

নওগাঁ জেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ হয়েছে। বাজারে উঠতেও শুরু করেছে শীতকালীন সবজিটি। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম ১০-৫ টাকা কমায় হতাশা প্রকাশ করেছেন জেলার কপি চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নওগাঁয় ১ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে কপির চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগ কম হওয়ায় ফলনও ভালো হয়েছে।

জেলায় সবচেয়ে বেশি কপির চাষ হয়েছে সদর উপজেলার কৃত্তিপুর, সালেবাস, বর্ষাইল ও চকআতিতা এলাকায়। এসব এলাকার চাষিরা প্রতিবছরই শীতকালীন এই সবজি চাষ করেন। এবার লাভের আশায় অনেকে কপি চাষ করলেও দাম কমতে থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।

কৃষকরা বলছেন, বিঘাপ্রতি কপি চাষে যে খরচ হয় সেই হিসাবে বর্তমান বাজারদর কম। এভাবে দাম কমতে থাকলে লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচই উঠবে না।

তবে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কম।

সদর উপজেলার চকআতিতা গ্রামের মুহাম্মদ আলী জানান, এ বছর তিনি এক বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। গত সপ্তাহে প্রতি পিস কপি ২০ টাকায় বিক্রি করেছেন। সেই কপিই এখন ১২-১৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষে সেচ, সার, বীজ, ওষুধের পেছনে খরচ হয় ২০-২৫ হাজার টাকার মতো। দেড় হাত দূরত্বে একটি করে বীজ হিসাবে প্রতি বিঘায় কপির বীজ থাকে ৩ হাজার পিস। কিছু নষ্টও হয়। আবার কপি হাটে নিয়ে বিক্রি করতে পরিবহন ও শ্রমিক খরচও হয়।

সেই হিসাবে বর্তমানে বাজার দরে খুব বেশি লাভ হবে না। যদি প্রতি পিস ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি করা যায়, তাহলে ভালো লাভ থাকে।

তিনি বলেন, ‘এক সপ্তাহে অর্ধেকের মতো দাম কমে গেছে। আশঙ্কা করছি, যদি আরও দাম কমে যায় তবে লস হবে। কারণ গত বছর শীতের শেষের দিকে ৩ টাকা পিস কপি বিক্রি করতে হয়েছে।’

ফলন ভালো হলেও দামে হতাশ কপি চাষিরা

সালেবাজ গ্রামের চাষি আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘এ বছর হামি দেড় বিঘা জমিত বাঁধাকপির চাষ করিছি। ৫-৬ দিন আগেও প্রতি পিস কপি ৩০ টেক্যা দরে পাইকারি বিক্রি করিছি। বর্তমানে ১৫-১৮ টেক্যা করা বিক্রি করা লাগিচ্ছে।

‘কপি চাষে প্রতি বিঘাত খরচ হয় ২০-২৫ হাজার টেক্যার মতো। একন দাম যদি এত কম পাই তালে লাভ বেশি হবে। যেহেতু দাম কমা গেছে আর বাড়বে বলা মনে হচ্চে না। যদি দাম আর কমবার লাগে তালে লস হইয়া যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি এক বিঘাত ক্ষেতের কপি ৩০ টেক্যা দরে বিক্রি করবার পারি, তালে সব খরচ বাদ দিয়া ৬০-৭০ হাজার টেক্যার মতো লাভ করা যাবে। একন দাম কমার লাগিচ্ছে কী যে হয় বুঝবার পারিচ্চি না।

‘গত বছর কিন্তু শীতের শেষের দিকে ২-৩ টেক্যা করাও বিক্রি করা লাগিছে। অনেকে কপি বিক্রি না করা গরু দিয়া খাইয়াইছি মনের দুক্কে।’

সদর উপজেলার হাটচকগৌড়ি বাজারের পাইকারি বিক্রেতা রবিউল ইসলাম জানান, কপির দাম কমছে। গত সপ্তাহে ফুলকপি পিস হিসেবে ৩০ টাকায় কিনে ৩৫ টাকায় বিক্রি করেছেন। বাঁধাকপি ৪০ টাকায় কিনে বেচেছেন ৪৫ টাকায়।

এখন ফুলকপি পাইকারিতে ১০-১২ টাকায় কিনে ১৫-২০ টাকা দরে এবং বাঁধাকপি প্রতি পিস ২০-২৫ টাকায় কিনে ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি করছেন।

নওগাঁয় কপির উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে বলেও জানান তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর প্রশিক্ষণ বিষয়ক কর্মকর্তা এ কে এম মনজুরে মাওলা জানান, চলতি বছর জেলায় বাঁধাকপির চাষ হয়েছে ৫১০ হেক্টর জমিতে এবং ফুলকপি চাষ হয়েছে ৬১০ হেক্টরে। জেলায় সবজির আবাদ গত বছরের চেয়ে কিছু বেড়েছে।

কপির দাম কমা নিয়ে তিনি বলেন, ‘নওগাঁসহ দেশের সব জেলায় কপিসহ সবজির সরবরাহ বাড়ায় বর্তমানে দাম কিছুটা কম। তবে শীত মৌসুমজুড়েই কপি উৎপাদন হয়ে থাকে। আশা করছি, কপি চাষিরা লাভবান হবেন।

‘কৃষি অফিস থেকে আমরা চাষি ভাইদের সব সময় মাঠপর্যায়ে গিয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। চলতি মৌসুমে কপি চাষে তেমন কোনো রোগবালাই নেই। যার কারণে জেলায় কপির ফলন ভালো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
১৬-তে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
পাহাড়ে জাম্বুরার চাহিদা, বেড়েছে উৎপাদন
বিনা ধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক
বিনা-১৭ ধানে কৃষকের হাসি
‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

শেয়ার করুন

প্রযুক্তি, ভালো জাত আর দামে কৃষিতে সুদিন

প্রযুক্তি, ভালো জাত আর দামে কৃষিতে সুদিন

কৃষিতেই এখন সফলতা দেখছেন কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা

কুষ্টিয়ার বানিয়াপাড়ার কৃষক মুনসাফ শেখ বলেন, ‘লাভ পাওয়ায় ধানের চাষ বাড়াচ্ছি। কয় বছর আগে ৫০০-৬০০ টাকা মণ ধান বিক্রি করে লোকসান খেয়ে চাষ ছেড়েই দিয়েছিলাম। সরকার আবার ধানের দাম দিচ্ছে। তারাই কিনে নিচ্ছে। এখন ধানের আবাদ বাড়াচ্ছি। সব কৃষকই বাড়াচ্ছে।’

কয়েক বছর আগেও কৃষিতে একের পর এক লোকসান গুনেছেন কুষ্টিয়ার চাষিরা। অলাভজনক সেই কৃষিতেই এখন সফলতা দেখছেন তারা।

কৃষকরা বলছেন, নতুন প্রযুক্তি আর উচ্চ ফলনশীল জাতের কারণে ভালো ফলন পাচ্ছেন তারা। পাশাপাশি কৃষিপণ্যের দামও এখন ভালো পাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন। বিশেষ করে ধান, পেঁয়াজ ও সবজিতে ভালো লাভ হচ্ছে কুষ্টিয়ায়।

কৃষি বিভাগ বলছে, নতুন নতুন প্রযুক্তি ও উচ্চ ফলনশীল জাতে বেড়েছে ফলন। সেই সঙ্গে সরকারের ভর্তুকি ও প্রণোদনায় উৎপাদন খরচ কমেছে কৃষকের।

জেলার কয়া ইউনিয়নের বানিয়াপাড়ার কৃষক মুনসাফ শেখ এ বছর ধান চাষ করেছিলেন ৬ বিঘা জমিতে। প্রতি বিঘায় লাভ পেয়েছেন ১২-১৪ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, ‘লাভ পাওয়ায় ধানের চাষ বাড়াচ্ছি। কয় বছর আগে ৫০০-৬০০ টাকা মণ ধান বিক্রি করে লোকসান খেয়ে চাষ ছেড়েই দিয়েছিলাম। সরকার আবার ধানের দাম দিচ্ছে। তারাই কিনে নিচ্ছে। এখন ধানের আবাদ বাড়াচ্ছি। সব কৃষকই বাড়াচ্ছে।’

প্রযুক্তি, ভালো জাত আর দামে কৃষিতে সুদিন

ধান চাষের খরচ নিয়ে জানান, ধানে প্রতি বিঘায় খরচ হয় ৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে সার, সেচ, জমি চাষ, রোপন ও ধান কাটার শ্রমিক খরচ রয়েছে। বিঘায় এখন ১৮-২০ মণ ধান পাচ্ছেন। খড় বিক্রি করে আসে আরও ৪ হাজার টাকা। সেই হিসাবে হাজার টাকা মণে ধান বেচতে পারলে বিঘায় ১৪ হাজার টাকা লাভ থাকে।

মুনসাফ বলেন, ‘সব জমিতে এক রকম ফলন হয় না। কম-বেশি হয়। তবে গড় হিসাবে বিঘায় ১২-১৪ হাজার টাকা লাভ থাকছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কৃষিতে লাভবান হচ্ছি। ধান-পেঁয়াজের দাম ভালো আছে। সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চ ফলনশীল ভালো বীজ দেয়া হয়েছে।

‘মাঠে সবাই ধান আর পেঁয়াজের আবাদ বাড়াচ্ছে। আমি নিজে আগে ৫ কাঠা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতাম। বাড়াতে বাড়াতে এবার করছি ১২ বিঘায়। কয়েক বছর আগে একবার পেঁয়াজ ২২ টাকা কেজি বিক্রি করে অনেক টাকা লোকসান খেয়েছি। গতবার অবশ্য লাভ করেছি। মৌসুমে আমাদের পেঁয়াজ ওঠার সময় সরকার আমদানি বন্ধ রাখলে ভালো দাম পাব।

মূলকাটা পেঁয়াজে খরচ বেশি আর চারার পেঁয়াজে খরচ কম জানিয়ে কুষ্টিয়ার এ কৃষক বলেন, ‘মূলকাটায় এক বিঘা জমিতে সাত থেকে আট মণ বীজ দরকার হয়। এই পদ্ধতিতে ছোট সাইজের পেঁয়াজ রোপণ করা হয়। জমি প্রস্তুত, সেচ, সার, ওষুধ মিলিয়ে ২৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অন্তত ৪৫ মণ পেঁয়াজ তুলতে পারব। হাজার টাকা মণ বিক্রি করতে পারলেও ১০ হাজার টাকার কাছে লাভ থাকবে।

‘পেঁয়াজ তোলার পর সব জমিতে ভুট্টা লাগিয়ে দেব। ওটাও এখন লাভজনক ফসল। সারা বছরই ক্ষেত করছি। কোনো জমিই পড়ে থাকছে না। আবহাওয়া খারাপ না হলে বা কোনো রোগ-বালাই না থাকলে এখন আর ক্ষতি নেই। লাভই হচ্ছে।’

একই এলাকার কৃষক হবিবার রহমান বলেন, ‘নতুন জাতের বিএডিসি রেড নাসিক এন-৫৩ পেঁয়াজের বীজ দিয়েছে সরকার। এক বিঘা জমি চাষের সার, কীটনাশকসহ সব খরচ দিচ্ছে তারা। বলেছে, এটার ভাল ফলন হবে। দেখি গ্রীষ্মকালীন এই পেঁয়াজ যদি ভালো হয়, তাহলে পরে আমরা এটাই করব।

প্রযুক্তি, ভালো জাত আর দামে কৃষিতে সুদিন

‘ডিসেম্বরে মূলকাটা পেঁয়াজ আসার ২০-৩০ দিন পর উঠবে এই জাতের পেঁয়াজ। আর চারার পেঁয়াজ উঠবে মার্চ-এপ্রিলে। নতুন এই জাত আসায় বছরে এখন তিন ধাপে পেঁয়াজ উঠবে। এভাবে আগে পিছে উঠলে ভালো হবে। দাম ভালো পাওয়া যাবে।’

কয়ায় গড়াই নদী পাড়ের জমিতে লাল শাকের সঙ্গে টমেটো চাষ করেছেন কৃষক ফারুক শেখ। তিনি এরই মধ্যে ২০ হাজার টাকার লালশাক বিক্রি করেছেন। এতেই সব খরচ তুলে ১২ হাজার টাকা লাভ করেছেন। কিছু দিনের মধ্যে টমেটো ওঠা শুরু হবে। সেখানে আরও ৮-১০ হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন।

ফারুক বলেন, ‘অল্প দিনের ফসল লাল শাক। ২০-২৫ দিনের মধ্যেই বেচাকেনা শেষ। এখন টমেটো ক্ষেতে মনোযোগ দিয়েছি। এটাও ভালো হচ্ছে।’

সারের দাম নিয়ে অবশ্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার দাম ধরে দিলেও দোকানিরা বাড়িয়ে বেচছেন। অভিযোগ দিলেও কেউ সমাধানে এগিয়ে আসছেন না।’

সরেজমিনে কুষ্টিয়া অঞ্চলে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে দোল খাচ্ছে সোনালি ধানের শীষ। কোনো কোনো এলাকায় হালকা সবুজ আভার ছোট পেঁয়াজ কলিও দুলছে।

এর সঙ্গে দুলছে কৃষকের মন। তারা বলছে, ধানে মনপ্রতি আগের মতো দাম পেলে ভালো লাভ ঘরে তুলতে পারবেন তারা। আর পেঁয়াজের দাম এখনও পড়েনি। তারা এখনকার দামই পেতে চান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে বাংলাদেশে সবচেয়ে ভালো পেঁয়াজ উৎপাদন হয় যে পাঁচ জেলায় তার মধ্যে কুষ্টিয়া অন্যতম। জেলায় এ বছর ১২ হাজার ৯১৪ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। এতে ১ লাখ ৮০ হাজার ৭১৪ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে বলে আশা তাদের।

নতুন জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। আগামীতে এর উৎপাদন আরও বাড়বে বলছে কৃষি বিভাগ।

ধান উৎপাদনে কুষ্টিয়াকে অপার সম্ভাবনার জেলা হিসেবে ধরে কৃষি বিভাগ। তারা বলছে, গত বছর জেলায় ৮৮ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়। সেখানে উৎপাদন হয় ৪ লাখ ৪৬ হাজার টন ধান। এ বছর আমন চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৮ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে, চাষ হয়েছে ৮৮ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে। এবার ফসল ভালো হয়েছে, সাড়ে ৪ লাখ টন ধান উৎপাদন হবে বলে আশা তাদের।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বিত্তিপাড়ার আশপাশে হয় নানা রকমের সবজির চাষ। ভালো দাম পাওয়ায় সবজি চাষিরও লাভ ঘরে তুলতে পারছেন। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার তারা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ওই এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ডিজেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সেচ ও জমি চাষ করতে এখন অনেকটা ডিজেলচালিত যন্ত্রের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। আর পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাপারিরা সবজির দাম কমিয়ে দিতে চাচ্ছেন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়ার প্রধান কর্মকর্তা উপপরিচালক ড. হায়াত মাহমুদ বলেন, ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দিকে হাঁটছে সরকার। আধুনিক প্রযুক্তি দেয়া হচ্ছে কৃষকদের। ভালো মানের বীজ সরবরাহ করে সুষম সারের পরামর্শ দিয়ে ফলন বাড়িয়ে দিচ্ছেন সম্প্রসারণ কর্মীরা।

‘আবার কৃষিবান্ধব সরকার খেয়াল রাখছে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্যের বিষয়টিও। সব মিলিয়ে কৃষি এখন লাভজনক।’

কৃষকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘অনেক কৃষক নিজেরাই এতটা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন যে, বিশেষজ্ঞদেরও হার মানায়। এরা আবার অন্য কৃষকদেরও লাভজনক চাষের দিকে মনোযোগী করছেন। যেমন কুমারখালীর কৃষক আবু তালেব পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে অভিজ্ঞ। তিনি সব কৃষককে সহযোগিতা করে থাকেন।’

সারের দাম বেশি রাখার বিষয়ে এ কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘মনিটরিং করা হচ্ছে। এসব সমস্যারও সমাধান করা হবে।’

আরও পড়ুন:
১৬-তে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
পাহাড়ে জাম্বুরার চাহিদা, বেড়েছে উৎপাদন
বিনা ধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক
বিনা-১৭ ধানে কৃষকের হাসি
‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

শেয়ার করুন

তামাক চাষ বন্ধে সরকার খুবই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে: কৃষিমন্ত্রী

তামাক চাষ বন্ধে সরকার খুবই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘ভাল আয় আসছে তামাক থেকে। সরকার খুবই দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে রয়েছে। তবে পলিসি লেভেলে আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত, আমরা আস্তে আস্তে তামাক থেকে বেরিয়ে আসব। তামাক এই দেশে ফসল হিসেবে থাকবে না।’

দেশে এই মুহুর্তে তামাক চাষ বন্ধ করা নিয়ে সরকারের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। তবে নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধীরে ধীরে তামাক চাষ বন্ধের কথা বলেছেন তিনি।

ইউরোপ সফর শেষে বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তামাক চাষ বন্ধে সরকার পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে তামাক চাষ একদম উৎসাহিত করি না। আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলো, এটাকে নিরুৎসাহিত করা। তারপরও আমাদের এখনও কিছু মানুষ তামাক খায়।’

তিনি বলেন, ‘জাপানের মতো একটি দেশ যারা নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে...মানবিক দিকগুলো নিয়ে তারা অনেক কাজ করে এবং নীতিতে খুবই অটল। তারাও এদেশে এসে বিনিয়োগ করছে তামাকের ওপরে, রপ্তানি করার জন্য।

‘ভাল আয় আসছে তামাক থেকে। সরকার খুবই দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে রয়েছে। তবে পলিসি লেভেলে আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত, আমরা আস্তে আস্তে তামাক থেকে বেরিয়ে আসব। তামাক এই দেশে ফসল হিসেবে থাকবে না।’

সারে ভর্তুকি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেলেও এখনই দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী। বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টার ওপরেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে আমরা একটা বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে চাই, যে সারের দাম ২৫০, ২৩০-২৭০ ডলার ছিল, সেটা এখন ৮০০-৯০০ ডলার। চারগুণ বেড়েছে।

‘আমরা সারে ৯০০ কোটি টাকা দেই সাবসিডি (ভর্তুকি)। এটা এবার মনে হয় ২০ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন পর্যন্ত আমাদের বলেছেন, উনি সারের কোনো দাম বাড়াবেন না।’

সম্প্রতি সরকার ডিজেলের যে দাম বৃদ্ধি করেছে তার প্রভাব কৃষিখাতে পড়বে কি না, জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রভাব তো অবশ্যই পড়বে, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এমনি আমাদের কৃষকরা নানান সমস্যায় জর্জরিত। পিক সিজনে তারা ফসলের দাম পায় না।

‘সেজন্য কৃষিপণ্য প্রসেসিংয়ের কথা আমরা বলছি, বাণিজ্যিকরণ কিংবা বিদেশে রপ্তানি...বাজারে গিয়ে তারা যাতে ভাল দাম পায়, এগুলোর উদ্যোগ গ্রহণ করা।’

তিনি বলেন, ‘৪০ শতাংশ সেচ মেশিন বিদ্যুতে চলে, তাদের খুব অসুবিধা হবে না, কিন্তু ডিজেলে ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। দেখা যাক দামের ট্রেন্ডটা তো কমের দিকে আছে, যদি কমে সরকারও ডিজেলের দাম কমাবে।

‘ডিজেলে ভর্তুকি দিলে এটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এটা নিয়ে বিক্রি করে দেবে। সেচ যন্ত্রের কথা বলে অন্য কাজে ডিজেল ব্যবহার করবে। ডিজেলে সাবসিডি দেয়া কঠিন হবে।’

আরও পড়ুন:
১৬-তে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
পাহাড়ে জাম্বুরার চাহিদা, বেড়েছে উৎপাদন
বিনা ধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক
বিনা-১৭ ধানে কৃষকের হাসি
‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

শেয়ার করুন

ইঁদুরের আক্রমণে দিশেহারা আমনচাষি

ইঁদুরের আক্রমণে দিশেহারা আমনচাষি

বরগুনায় আমন ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রবে দিশেহারা কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা

পাথরঘাটার কালমেঘা ইউনিয়নের কৃষক আইয়ুব আলী হাওলাদার জানান, ফসলের মাঠে সামান্য পানি জমা আছে। এই পানিতে নেমে ইঁদুর শিষ কেটে শেষ করছে। ইঁদুর নিধনে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উপায় অবলম্বন করেও তারা কিছুতেই আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না।

বরগুনায় রোপা আমনের ক্ষেতে বিপজ্জনক পর্যায়ে বেড়েছে ইঁদুরের উপদ্রব। এরই মধ্যে হাজার হাজার হেক্টর জমির আমন ধানের শিষ কেটেছে ইঁদুর।

কৃষকদের নিয়ে কৃষি বিভাগ সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করেও দমন করতে পারছে না ইঁদুর। কষ্টের ফসলের শিষ কেটে ফেলায় মহাবিপাকে কৃষক। তেমনি আমন ফসলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের (খামার বাড়ি) তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় এ বছর মোট ৯৮ লাখ ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আবাদ হয়েছে ৯৮ লাখ ৯৪০ হেক্টরে। এর মধ্যে বরগুনা সদরে ২৫ হাজার ৪০০, আমতলীতে ২৩ হাজার ৩৭১, তালতলীতে ১৬ হাজার ২৩০, বেতাগীতে ১০ হাজার ৬৯২, বামনায় ৬ হাজার ৩৩০ ও পাথরঘাটা উপজেলায় ১৬ হাজার ৮২৭ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, উচ্চফলনশীল ও স্থানীয় জাতের আমনের আবাদ হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের প্রধান ফসল রোপা আমন। বিভিন্ন এলাকার আবাদি মাটি গবেষণা করে কৃষকদের বীজ দিয়ে সহায়তা করে কৃষি বিভাগ। এই জেলার ৫৫ ভাগ জমিতে বি-আর, ব্রি-ধান ও বিনা এই তিন জাতের উফশী আবাদ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাকি ৪৫ ভাগ জমিতে স্থানীয় জাতের রোপা আমনের আবাদ হয়েছে।

ইঁদুরের আক্রমণে দিশেহারা আমনচাষি

কৃষি বিভাগ আরও জানায়, নভেম্বর মাসে সাধারণত আমনের শিষ ধরতে শুরু করে। আর শিষ ধরার পরই ইঁদুরের উপদ্রব শুরু হয়।
কৃষকরা জানান, এ বছর ইঁদুরের উপদ্রব অন্য বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এরই মধ্যে হাজার হাজার হেক্টর জমির আবাদি রোপা আমনের শিষ কেটেছে ইঁদুর।

বরগুনা সদর উপজেলার ক্রোক বৈঠাকাটা এলাকার কৃষক আলম মিয়া জানান, তিনি মৌসুমে চার একর জমিতে রোপা আমন আবাদ করেছেন। শিষ আসতেই ইঁদুরের উপদ্রব বেড়ে যায়। জমির এক-তৃতীয়াংশ ফসলের শিষ কেটে নষ্ট করেছে ইঁদুর।

ঠিক একই অবস্থা এলাকার কৃষক শাহজাহান, মজিদ, আফজাল, কুদ্দুস ও কামালসহ এলাকার প্রায় সব আমনচাষির।

পাথরঘাটার কালমেঘা ইউনিয়নের কৃষক আইয়ুব আলী হাওলাদার জানান, ফসলের মাঠে সামান্য পানি জমা আছে। এই পানিতে নেমে ইঁদুর শিষ কেটে শেষ করছে। ইঁদুর নিধনে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উপায় অবলম্বন করেও তারা কিছুতেই আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুর রশীদ বলেন, উপকূলীয় এলাকায় সাধারণত জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। আবার ভাটিতে নেমে যায়। এতে ক্ষেতে সামান্য পানি জমে থাকে। ওই ক্ষেতগুলোতেই ইঁদুর আক্রমণ করে।

তিনি আরও বলেন, ‘জানুয়ারি থেকে শুরু করে নভেম্বর মাস পর্যন্ত কৃষি বিভাগের ইঁদুর নিধন অভিযানে মোট ৩ লাখ ২৮ হাজার ২১৩টি ইঁদুর মারা পড়েছে। আমরা কৃষকদের নিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে ফাঁদ ও রাসায়নিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর নিধন করেছি।

‘আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতার মাধ্যমে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। তা না হলে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে।’

আরও পড়ুন:
১৬-তে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
পাহাড়ে জাম্বুরার চাহিদা, বেড়েছে উৎপাদন
বিনা ধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক
বিনা-১৭ ধানে কৃষকের হাসি
‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

শেয়ার করুন

চাল ছেঁটে মিনিকেট নামে বিক্রি বন্ধ নয় কেন, প্রশ্ন হাইকোর্টের

চাল ছেঁটে মিনিকেট নামে বিক্রি বন্ধ নয় কেন, প্রশ্ন হাইকোর্টের

মোটা চাল মেশিনে কেটে তৈরি করা হয় সরু চাল। ফাইল ছবি

মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম প্রধান খাদ্য চাল। তবে সম্প্রতি অনেক ব্যবসায়ী চালের খাদ্যগুণ নষ্ট করে কেটে বা ছেঁটে ভিন্ন নামে বাজারজাত বা বিক্রি করছে। এমনকি যে নামে চালগুলো বিক্রি হচ্ছে সে রকম ধান বাংলাদেশে উৎপাদনই হচ্ছে না।’

পুষ্টিগুণ নষ্ট করে বিভিন্ন অটোরাইস মিলে চাল কেটে বাজারজাত ও বিক্রি বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে চাল কেটে বা ছেঁটে পুষ্টিগুণ নষ্ট করে বাজারজাত বা বিক্রি করা বন্ধে গাইডলাইন তৈরির কেন নির্দেশ দেয়া হবে না রুলে সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।

রোববার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ জনস্বার্থে এই রিট করে। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাইনুল হাসান।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম প্রধান খাদ্য চাল। তবে সম্প্রতি অনেক ব্যবসায়ী চালের খাদ্যগুণ নষ্ট করে কেটে বা ছেঁটে ভিন্ন নামে বাজারজাত বা বিক্রি করছে। এমনকি যে নামে চালগুলো বিক্রি হচ্ছে সে রকম ধান বাংলাদেশে উৎপাদনই হচ্ছে না।’

চাল ছেঁটে মিনিকেট নামে বিক্রি বন্ধ নয় কেন, প্রশ্ন হাইকোর্টের
ফাইল ছবি

এ নিয়ে এর আগে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট করা হয়।

মিলে চাল ছেঁটে সরু করার অভিযোগ নিয়ে গত বছর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা। তবে সে সময় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মিল মালিকরা দাবি করেন, তাদের জানামতে এমন কোনো মেশিন নেই যাতে মোটা চাল কেটে চিকন করা যায় বা চিকন চাল কেটে আরও সরু করা হয়।

হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের রিটে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্যসচিব, খাদ্যসচিব, কৃষি এবং বাণিজ্যসচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, র‌্যাবের প্রধান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের পরিচালক, বিএসটিআই, রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ৭ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং অটোরাইস মিলস মালিক সমিতির সভাপতি বা সেক্রেটারিকে বিবাদী করা হয়।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘রুলের পাশাপাশি আদালত কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে। এগুলো হলো যেসব অটোরাইস মিল চাল কেটে বা ছেঁটে মিনিকেট, নাজিরশাইল চাল নামে বিক্রি করছে তাদের তালিকা দিতে বলেছে আদালত।’

এ ছাড়া চাল কেটে বা ছেঁটে উৎপাদনের কারণে জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে কি না এবং খাদ্যের পুষ্টিমান ক্ষতি হয় কি না সে সম্পর্কে গবেষণা প্রতিবেদন বা রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
১৬-তে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
পাহাড়ে জাম্বুরার চাহিদা, বেড়েছে উৎপাদন
বিনা ধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক
বিনা-১৭ ধানে কৃষকের হাসি
‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

শেয়ার করুন

বছরজুড়ে ধান ফলবে যে জাতে

বছরজুড়ে ধান ফলবে যে জাতে

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় চাষ হওয়া পঞ্চব্রীহি ধানগাছে এ বছর পাঁচবার ফলন হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

নতুন জাতের এই ধানের নাম রাখা হয়েছে ‘পঞ্চব্রীহি’। নামকরণ প্রসঙ্গে আবেদ চৌধুরী বলেন, ‘ধানকে ব্রীহি বলা হয়। এটা যেহেতু পাঁচবার ফলন দিয়েছে, তাই এর নাম পঞ্চব্রীহি রেখেছি।’ আবেদের খামারের লোকজন জানিয়েছেন, এই ধানগাছে ৪৫ দিন পরপর ধান আসে। এতে একবার বোরো, দুইবার আউশ এবং দুইবার আমন ধানের ফলন হয়।

একটি ধানগাছে সাধারণত একবারই ফসল হয়। ফসল সংগ্রহের পর কেটে ফেলতে হয় ওই গাছ। তবে জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীর উদ্ভাবন করা নতুন জাতের ধানগাছে পাঁচবার ধান হবে। এতে বছরজুড়েই ধানের ফলন মিলবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

কেবল জাত উদ্ভাবনই নয়, মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার নিজ গ্রামে এই জাতের ধানের চাষও করেছেন আবেদ চৌধুরী। তাতে মিলেছে সাফল্যও।

এ ধান চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই জাতের ধানে কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে জনসংখ্যার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের চাহিদা বাড়লেও কমছে কৃষিজমি। এ অবস্থায় আবেদ চৌধুরীর উদ্ভাবিত এই নতুন জাতের ধানে খাদ্যসংকট দূর হবে।

জিন গবেষক আবেদ চৌধুরীর বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কানিহাটি গ্রামে। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় জাতীয় গবেষণা সংস্থার প্রধান ধানবিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত।

প্রবাসে থাকলেও দেশের ধানের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনে কাজ করছেন তিনি। নিজের উদ্ভাবিত জাতের ধান চাষে কানিহাটি গ্রামের পারিবারিক জমিতে গড়ে তুলেছেন খামার।

এই খামারেই নতুন উদ্ভাবিত ধান চাষ করা হয়। এতে প্রথমবারের মতো একই গাছে পাঁচবার ফলন এসেছে।

নতুন জাতের এই ধানের নাম রাখা হয়েছে ‘পঞ্চব্রীহি’। এই ধানের বিষয়ে জানতে ফোনে যোগাযোগ করা হয় আবেদ চৌধুরীর সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘ধানকে ব্রীহি বলা হয়। এটা যেহেতু পাঁচবার ফলন দিয়েছে, তাই এর নাম পঞ্চব্রীহি রেখেছি।’

বছরজুড়ে ধান ফলবে যে জাতে

আবেদের খামারের লোকজন জানিয়েছেন, এই ধানগাছে ৪৫ দিন পরপর ধান আসে। এতে একবার বোরো, দুইবার আউশ এবং দুইবার আমন ধানের ফলন হয়।

ছয়বার ফলন হবে এমন একটি জাতের ধান নিয়েও গবেষণা চলেছ জানিয়ে আবেদ চৌধুরী বলেন, ‘ষষ্ঠবার ফলনে সফল হলে এই জাতের নামকরণ ষষ্ঠব্রীহি করা যেতে পারে। তবে এর নাম এখনও চূড়ান্ত করিনি।’

আবেদ চৌধুরীর গবেষণা সহকারী সৈয়দ নুর আহমদ জানান, পঞ্চব্রীহিতে অন্য ধানগাছের চাইতে উৎপাদন প্রায় পাঁচ গুণ বেশি হবে। কম সময়ে পাকা এই ধানের উৎপাদন খরচও কম।

তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই জাতের ধান দুই বিঘা জমিতে রোপণ করা হয়। পরিমাণমতো ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা হয়। সঠিকভাবে সেচ ও পরিচর্যা করার পর ১১০ দিনের মধ্যে ৮৫ সেন্টিমিটার থেকে এক মিটার উচ্চতার গাছে ফসল আসে। পরে মাটি থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায় ওই ধান কেটে ফেলা হয়।

মে মাসের প্রথম দিকে প্রথমবার কাটা ধানে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয়েছে চার টন। তারপর থেকে ৪৫ দিন অন্তর প্রতিটি মৌসুমে হেক্টরপ্রতি কখনও দুই টন, কখনও তিন টন ফলন এসেছে। সবগুলো জাত মিলে হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৬ টন ফলন হয়েছে।

খামার সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে কানিহাটি গ্রামে ২৫ বর্গমিটার জমিতে ২০টি ধানের জাত নিয়ে গবেষণা শুরু করেন আবেদ চৌধুরী। এর মধ্যে চীন, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের ও স্থানীয় ধানের জাত ছিল।

যে জাতগুলোর ধান পাকার পর কেটে নিয়ে গেলে আবার শীষ বের হয়, সেগুলো তিনি আলাদা করেন। এভাবে ১২টি জাত বের করেন। তিন বছর ধরে জাতগুলো চাষ করে দেখেন, নিয়মিতভাবে এগুলো দ্বিতীয়বার ফলন দিচ্ছে।

এরপর তিনি একই গাছে তৃতীয়বার ফলনের গবেষণা শুরু করেন। তাতেও সফল হন। তবে এর মধ্যে চারটি জাত ছাড়া বাকিগুলো চতুর্থবার ফলন দিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

বছরজুড়ে ধান ফলবে যে জাতে

আবেদ চৌধুরী বলেন, ‘আম-কাঁঠালের মতো বছরের পর বছর টিকে থাকার সৌভাগ্য ধানগাছের হয় না- এটা কোনোভাবেই মানতে পারছিলাম না। তাই নেমে পড়ি গবেষণায়।

‘দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে জাতগুলো করা হয়েছে। স্থানীয় জাতের সঙ্গে বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাত এবং স্থানীয় জাতের সঙ্গে স্থানীয় হাইব্রিড জাতের সংকরায়ন ঘটানো হয়েছে। ১০-১২ বছর আগে এগুলো থেকে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়বার ফলন দেয়ার জন্য উপযোগী করে চিহ্নিত করা হয়। সারা বছর যেহেতু ধান দিচ্ছে, সেহেতু এই জাতকে বর্ষজীবী বলা যেতে পারে।’

তিনি জানান, একটি ঋতুর পরই সাধারণত ধানের জীবনের অবসান ঘটে। তবে পঞ্চব্রীহির ধান বোরো, আউশ ও আমন তিন মৌসুমে পুরো বছর ধরে ফসল দিয়েছে।

আবেদ চৌধুরী অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন বলে তার কুলাউড়ার খামার দেখভাল করেন রাসেল মিয়া।

তিনি বলেন, ‘এই ধান উৎপাদনে খরচ কম এবং ফলন বেশি। এতে চিটা নেই। যদি পোকামাকড়ে ধরে তাহলে সামান্য কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। এই ধানের গাছ খুব শক্ত হওয়ায় মেঘবৃষ্টি নষ্ট করতে পারে না। এলাকার কৃষকরা এ ধানের ফলন দেখে চাষাবাদ করতে আগ্রহী হয়েছেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, ‘এক গাছে পাঁচবার ধান উৎপাদন নতুন দেখেছি। এটি দেশের জন্য সুখবর। এর অধিক ফলন সম্ভব হলে দেশের খাদ্যসংকট দূর করা সম্ভব হবে। এই উদ্ভাবনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।’

আরও পড়ুন:
১৬-তে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
পাহাড়ে জাম্বুরার চাহিদা, বেড়েছে উৎপাদন
বিনা ধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক
বিনা-১৭ ধানে কৃষকের হাসি
‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

শেয়ার করুন