আবার এভারকেয়ারে যাচ্ছেন খালেদা

আবার এভারকেয়ারে যাচ্ছেন খালেদা

২৬ দিন চিকিৎসা নিয়ে সম্প্রতি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

শনিবার বেলা ৩টায় খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসা থেকে এভারকেয়ারে নিয়ে যাওয়া হবে বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার এক সপ্তাহের মধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ফের হাসপাতালটিতে নেয়া হচ্ছে।

শনিবার বেলা ৩টায় খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসা থেকে এভারকেয়ারে নিয়ে যাওয়া হবে বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

রেগুলার চেকআপের জন্য আবার খালেদাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে শায়রুল বলেন, ‘এ বিষয়ে চিকিৎসকরা জানাবেন।’

এর আগে ২৬ দিন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফেরেন খালেদা জিয়া।

তখন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া আগে থেকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন, আছেন। ওনার সুচিকৎসা হয়নি চার বছর ধরে। তিনি যখন জেলখানায় ছিলেন, তখন সত্যিকার অর্থে কোনো সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হয়নি। এ অবস্থায় ওনার সুচিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।’

গত ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন বলা হয়, খালেদা জিয়া কিছুদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। জ্বর সেরে গেলেও শারীরিক দুর্বলতাসহ স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতা দেখা দেয়ায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত ২৫ অক্টোবর খালেদা জিয়ার শরীর থেকে নেয়া টিস্যুর বায়োপসি করা হয়। এ পরীক্ষার পর তার চিকিৎসকরা জানান, খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে উঠছেন। বায়োপসিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এর আগে এপ্রিলে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। বাসায় চিকিৎসা নিয়ে করোনা থেকে সেরে উঠলেও শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়ায় ২৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একপর্যায়ে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। গত ১৯ জুন তিনি বাসায় ফেরেন।

ইতিমধ্যে করোনার টিকা নিতে খালেদা জিয়া দুই দফায় মহাখালীর শেখ রাসেল ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যান।

৭৭ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত। দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে তাকে কারাগারে যেতে হয়।

২০০৮ সালের ৮ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদার। পরে উচ্চ আদালত সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে। ওই বছরই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর বিএনপি নেত্রীকে দেশের বাইরে না যাওয়া ও বাড়িতে বসে চিকিৎসা নেয়ার শর্তে ছয় মাসের জন্য দণ্ড স্থগিত করিয়ে মুক্তি দেয়া হয়। এরপর দফায় দফায় বাড়ানো হয় দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, হাঁটুর জটিলতা ছাড়াও নানা ধরনের রোগ আছে বলে তার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে তার চোখেও অপারেশন করা হয়।

আরও পড়ুন:
হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া
হাসপাতাল ছাড়লেন খালেদা জিয়া
খালেদাকে বাসায় আনতে হাসপাতালে কোকোর স্ত্রী
বিকেলে বাসায় ফিরবেন খালেদা জিয়া
খালেদার নাইকো দুর্নীতি মামলা: আংশিক অব্যাহতি শুনানি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শীত উপেক্ষা করে চরফ্যাশনে ভোটারদের লাইন

শীত উপেক্ষা করে চরফ্যাশনে ভোটারদের লাইন

চর মানিকা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের লাইন। ছবি: নিউজবাংলা

ভোলা জেলা নির্বাচন অফিসার আলাউদ্দিন আল মামুন বলেন, ‘সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। বেলা বাড়লে ভোটার আরও বাড়বে। কেন্দ্রগুলোতে পুরুষের পাশাপাশি নারী ভোটারদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রতীকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।’

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাত ইউনিয়নে চলছে ভোট। শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতিও বাড়ছে।

সাত ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে চারজনসহ ২৫৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাত ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১১ হাজার ৬৩৪ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৮ হাজার ৩২৮ জন এবং নারী ভোটার ৫৩ হাজার ৩০৬ জন।

ইউনিয়নগুলো হচ্ছে ওসমানগঞ্জ, আবাদুল্লাহপুর, রসুলপুর, চর মানিকা, অধ্যক্ষ নজরুল নগর, কুকরি-মুকরি ও আবু বকরপুর ইউনিয়ন।

এ দিকে সাত ইউনিয়নের ৬৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২৮টি কেন্দ্রে ঝুঁকিপূর্ণ। ওইসব কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

শীত উপেক্ষা করে চরফ্যাশনে ভোটারদের লাইন
কেন্দ্রগুলোতে পুরুষ ভোটারের পাশাপাশি নারী ভোটারদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। ছবি: নিউজবাংলা

সাত ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে নৌকার প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে। এর ফলে সাত ইউপিতে মেম্বার (সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য) পদে নির্বাচন হলেও চেয়ারম্যান পদে ভোট হচ্ছে দুই ইউনিয়নে। ইউনিয়ন দুটি হলো কুকরি-মুকরি ও ওসমানগঞ্জ।

এদিকে বিচ্ছিন্ন চর কুকরি মুকরিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিয়া কবিরের এজেন্ট বের করে দেয়া, ভোটারদের সামনে ভোট প্রদান করার অভিযোগ করেছে।

ভোটকে কেন্দ্র করে রয়েছে ৪ স্তরের নিরাপত্তা। মাঠে রয়েছে পুলিশ, আনসার, র‍্যাব ও কোস্টগার্ড সদস্যরা। এ ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মোবাইল টিম, স্টাইকিং ফোর্স নিয়োজিত আছেন।

ভোলা জেলা নির্বাচন অফিসার আলাউদ্দিন আল মামুন বলেন, ‘সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। বেলা বাড়লে ভোটার আরও বাড়বে। কেন্দ্রগুলোতে পুরুষের পাশাপাশি নারী ভোটারদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রতীকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।’

আরও পড়ুন:
হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া
হাসপাতাল ছাড়লেন খালেদা জিয়া
খালেদাকে বাসায় আনতে হাসপাতালে কোকোর স্ত্রী
বিকেলে বাসায় ফিরবেন খালেদা জিয়া
খালেদার নাইকো দুর্নীতি মামলা: আংশিক অব্যাহতি শুনানি

শেয়ার করুন

হাজার ইউপিতে চলছে ভোট

হাজার ইউপিতে চলছে ভোট

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিলাশবাড়ি ইউনিয়নের মল্লিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন এক নারী। ছবি: নিউজবাংলা

দ্বিতীয় ধাপের আগে-পরে ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানির পর এ পর্যায়ের ভোটে রক্তপাত বন্ধে ব্যবস্থার কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। সে আশ্বাসের বাস্তবায়ন দেখা যাবে সময় গড়ালেই।

তৃতীয় ধাপে ১ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোট শুরু হয়েছে।

রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ ভোট চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

দ্বিতীয় ধাপের আগে-পরে ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানির পর এ পর্যায়ের ভোটে রক্তপাত বন্ধে ব্যবস্থার কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। সে আশ্বাসের বাস্তবায়ন দেখা যাবে সময় গড়ালেই।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী তৃতীয় ধাপে এক হাজার সাতটি ইউপিতে ভোট হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নানা কারণে সাত ইউপিতে ভোট স্থগিত করা হয়।

একই দিনে অষ্টম ধাপে ৯টি পৌরসভায়ও ভোট হচ্ছে ইভিএমে। নীলফামারীর জলঢাকা ও কক্সবাজার পৌরসভায় শুধু কাউন্সিলর পদে ভোট হচ্ছে।

এর আগে প্রথম ধাপে গত ২১ জুন ২০৪ ইউপি ও ২০ সেপ্টেম্বর ১৬০ ইউপির ভোট হয়। দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৬ ইউপির ভোট হয় ১১ নভেম্বর।

তৃতীয় ধাপে ১০০০ ইউপির ভোট হচ্ছে আজ। চতুর্থ ধাপে ৮৪০ ইউপিতে ভোট হবে ২৬ ডিসেম্বর। পঞ্চম ধাপে ৭০৭ ইউপিতে ভোট হবে ৫ জানুয়ারি।

তৃতীয় ধাপের প্রার্থী, কেন্দ্র ও ভোটার

১ হাজার ইউপিতে ৫৬৯ জন প্রার্থী এরই মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যানের সংখ্যা ১০০। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য ৩৩৭ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীর সংখ্যা ১৩২।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় শুক্রবার এসব তথ্য জানিয়েছে।

ইসি জানায়, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীদের বাদ দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫০ হাজার ১৪৬ প্রার্থী। চেয়ারম্যান পদে মাঠে আছেন ৪ হাজার ৪০৯ জন। সংরক্ষিত সদস্যপদে ১১ হাজার ১০৫ এবং সাধারণ সদস্যপদে ৩৪ হাজার ৬৩২ জন ভোটে লড়াই করছেন।

মোট ১০ হাজার ১৫৯টি কেন্দ্রে হচ্ছে ভোট। এগুলোতে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ৬১ হাজার ৮৩০টি। ৩৩টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হচ্ছে।

১ হাজারটি ইউপিতে ভোটারসংখ্যা ২ কোটি ১৪ লাখ ৯ হাজার ২৭৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ২১ লাখ ৫ হাজার ৪২৩ জন । নারী ভোটার ৯৯ লাখ ৩২ হাজার ৫৩০ জন। এর বাইরে ট্রান্সজেন্ডার ভোটার আছেন ১৯ জন।

নিরাপত্তা

ভোটের সার্বিক পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ২২ জন সদস্য রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশের একজন এসআই বা এএসআই বা নায়েক থাকছেন। আর পুলিশের কনস্টেবল থাকছেন চারজন। অস্ত্রসহ পিসি ও এপিসি মর্যাদার আনসার থাকবেন দুজন।

লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার-ভিডিপি সদস্য থাকবেন ১৫ জন। তাদের মধ্যে নারী থাকবেন ৭ জন। বাকি ৮ জন পুরুষ।

পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে গঠিত একটি মোবাইল ফোর্স প্রতি ইউনিয়নে আর স্ট্রাইকিং ফোর্স আছে প্রতি তিন ইউনিয়নে একটি।

প্রতি উপজেলায় র‌্যাবের মোবাইল টিম আছে দুটি আর স্ট্রাইকিং ফোর্স আছে একটি। প্রতি উপজেলায় বিজিবির মোবাইল টিম আছে দুই প্লাটুন। স্ট্রাইকিং ফোর্স রয়েছে এক প্লাটুন।

প্রতিটি উপকূলীয় উপজেলায় কোস্ট গার্ডের মোবাইল ফোর্স দুই প্লাটুন এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স আছে এক প্লাটুন।

ভোটের আগের দুই দিন, ভোটের দিন ও পরের দিন মিলে চার দিন মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই পদ্ধতিতে প্রতি উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন তিনজন। আর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন একজন।

আরও পড়ুন:
হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া
হাসপাতাল ছাড়লেন খালেদা জিয়া
খালেদাকে বাসায় আনতে হাসপাতালে কোকোর স্ত্রী
বিকেলে বাসায় ফিরবেন খালেদা জিয়া
খালেদার নাইকো দুর্নীতি মামলা: আংশিক অব্যাহতি শুনানি

শেয়ার করুন

গাজীপুরে মন্ত্রী বনাম মেয়র

গাজীপুরে মন্ত্রী বনাম মেয়র

টঙ্গী থানা কম্পাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয় খেলাটি। ছবি: নিউজবাংলা

মুহূর্মুহু হাততালি দিয়ে দুই দলকেই উৎসাহ দেন উপস্থিত স্থানীয় নেতা-কর্মী ও পুলিশ সদস্যরা।

ব্যাডমিন্টন ব্যাট হাতে এক সঙ্গীকে নিয়ে নিজেই মাঠে নেমে পড়েছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। বিপক্ষ দলও কম যায় না! পুলিশ কর্মকর্তাকে সঙ্গী করে সেই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সদ্য দায়িত্ব পাওয়া মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ।

শনিবার রাতে বৈদ্যুতিক আলোয় মন্ত্রী বনাম মেয়রের খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানা কম্পাউন্ডে।

খেলা শেষে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘শৈশবে খেলার প্রতি আমার বিশেষ টান ছিল। ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টন ছিল পছন্দের। শীত মৌসুমে বন্ধুদের নিয়ে ব্যাডমিন্টন কোর্ট বানিয়ে খেলতাম।

‘খেলাধুলা শরীর ও মনকে চাঙা রাখে। মাদকের হাত থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে খেলাধুলার প্রতি তাদের আকর্ষণ বাড়াতে হবে। সে লক্ষ্যে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছি।’

সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর খেলার সময় আর হয়ে ওঠে না। অনেক বছর পর খেলতে পেরে ভালো লাগছে।’

দর্শক সারিতে বসে খেলা উপভোগ করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু।

তিনি বলেন, ‘রাজনীতির মাঠের দুই জনপ্রতিনিধির খেলা খুবই উপভোগ্য ছিল। এমনটি সচরাচর দেখা যায় না। এই আয়োজনের জন্য গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।’

স্থানীয় নেতা-কর্মী ছাড়া পুলিশ সদস্যরা উপভোগ করেন খেলা। তারা মুহূর্মুহু করতালি দিয়ে প্রতিযোগীদের উৎসাহ দেন। শেষে ২০-০৯ পয়েন্টে প্রতিমন্ত্রীর দল জয় পায়।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী ও ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে ফুল দিয়ে বরণ করেন মহানগর পুলিশের উপকমিশনার ইলতুৎ মিশসহ অন্যরা।

আরও পড়ুন:
হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া
হাসপাতাল ছাড়লেন খালেদা জিয়া
খালেদাকে বাসায় আনতে হাসপাতালে কোকোর স্ত্রী
বিকেলে বাসায় ফিরবেন খালেদা জিয়া
খালেদার নাইকো দুর্নীতি মামলা: আংশিক অব্যাহতি শুনানি

শেয়ার করুন

মেয়র আব্বাসের উত্থান যেভাবে

মেয়র আব্বাসের উত্থান যেভাবে

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, ২০০২ সালের পর আব্বাস আলী যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ওঠাবসা শুরু করেন। এর তিন বছরের মাথায় তিনি মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি পদ পেয়ে যান। এর পর থেকে তিনি রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে থাকেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে তিনি উপরে উঠে আসেন।

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা রাজশাহীর কাটাখালীর নৌকার মেয়র আব্বাস আলীকে দলে অনুপ্রবেশকারী বলেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা। তার রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের ভূমিকা আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে আব্বাসকে নৌকা প্রতীক দিতে সুপারিশ করেছিলেন তারা।

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ইস্যু নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর ওই সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন এখন আব্বাসের শাস্তি দাবি করছেন। আর আব্বাস বলছেন, তিনি বিপদে পড়েছেন, এ জন্য তাকে ঘিরে অপপ্রচার চলছে। তিনি দলে সব সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিই করেছেন।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ২০০২ সালের পর আব্বাস আলী যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ওঠাবসা শুরু করেন। এর তিন বছরের মাথায় তিনি মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি পদ পেয়ে যান। এর পর থেকে তিনি রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে থাকেন। দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বিরোধে। এরই জেরে ২০০৭ সালে তিনি যুবলীগের সহসভাপতি পদ থেকে বহিষ্কৃত হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মেরাজউদ্দিন মোল্লা। আব্বাস তার সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করেন এবং কাটাখালী এলাকায় নিজের আধিপত্য পাকাপোক্ত করেন। গড়ে তোলেন নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। পশুর হাটের ইজারাসহ শ্যামপুর বালু মহাল দখলের অভিযোগ ওঠে তার বিরদ্ধে।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান আয়েন উদ্দিন। তখন মেরাজ উদ্দিন মোল্লা হন বিদ্রোহী প্রার্থী। নৌকার প্রার্থী আয়েন উদ্দিনের বিপক্ষে মাঠে ছিলেন আব্বাস ও তার সমর্থকরা। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়ায় আব্বাস বাহিনী।

নির্বাচনে আয়েন উদ্দিন বিজয়ী হলে আব্বাস আবার তার অবস্থান পাল্টান। এমপি আয়েনও তাকে কাছে টেনে নেন নিজের অবস্থান শক্ত করার আশায়। ফলে এমপি বদল হলেও আব্বাসের আধিপত্য থেকেই যায়। এর সুবাদে দলে কোনো পদে না থাকলেও ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর কাটাখালী পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে যান আব্বাস আলী। মেয়র হওয়ার পর তার প্রতাপ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয় আব্বাসের। এই সময়ে তার বেপরোয়া আচরণে ক্ষুব্ধ হলেও ত্যাগী নেতা-কর্মীরা হয়ে যান নিরুপায়।

মেয়র নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পর ২০১৮ সালে কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটি (আহ্বায়ক কমিটি) দেয়া হয়। এই কমিটির আহ্বায়ক হন আব্বাস।

২০২০ সালের পৌরসভা নির্বাচনে একটি বড় অংশ তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। কিন্তু সুবিধা করতে পারেননি তারা। সেবারও আওয়ামী লীগের টিকিট পান মেয়র আব্বাস। দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়ে আব্বাস হয়ে যান লাগামহীন। নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তিনি থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পৌরসভা ভবনে শুক্রবার প্রতিবাদ সভায় কাউন্সিলররা মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঞ্জুর রহমান বলেন, ‘রাজস্ব আদায় বাবদ পৌরসভার ফান্ডে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ছিল। অথচ এখন চা খাওয়ার টাকাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ করে পৌর ফান্ডের টাকা গায়েব হয়ে গেছে। বিষয়টি আমি দ্রুত তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘করোনাকালীন অনুদান দেয়ার জন্য কাটাখালী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেন মেয়র আব্বাস। কিন্তু সে টাকা কাউকে দেয়া হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।

‘কারোনাকালে চা দোকানদারদের অনুদান দেয়ার নামে কয়েক লাখ টাকা পৌরসভার ফান্ড থেকে হাতিয়ে নেন মেয়র। কিন্তু কোনো চায়ের দোকানদার করোনাকালে অনুদান পাননি।’

৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ জানান, পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৩৬ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া আছে। ফান্ডে টাকা থাকার পরও মেয়র আব্বাস এই বেতন-ভাতা দেননি। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোর করে বিভিন্ন কাগজে সই করতে বাধ্য করেন। কেউ সই না করলে তাকে চাকরিচ্যুতিসহ নানা হুমকি দেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবাদ করলে কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালিগালাজ করতেন মেয়র। আত্মীয়-স্বজনদের নামে ঠিকাদারী লাইসেন্স করে নগর অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ মেয়র নিজে করতেন। আত্মীয়-স্বজনদের নামে হাট-ঘাট ও যানবাহনের টোল আদায়ের ইজারা নিয়েছেন। এসব টোল আদায়ের নামে নিজের লোকজন দিয়ে চাঁদাবাজি করেন।’

পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘মেয়র ভোটের পর থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের কারও সঙ্গে চলেন না। তার সঙ্গে থাকেন বিএনপি নেতারা। কৃষি প্রণোদনাও পায় বিএনপি নেতারা। তার আপন ভাই বিএনপি করে। অন্য এক পক্ষের ভাই করে জাতীয় পার্টি।’

কাঁটাখালি পৌরসভার যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জনি ইসলাম বলেন, ‘মেয়র বিভিন্ন জায়গা দখল করেছেন। স্কুলের জমি দখল করে তার বাড়ি যাওয়ার রাস্তা তৈরি করছেন। জমি দখল করে তার বাবার নামে স্কুল করেছেন। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার দোকানদারদের হয়রানি করে চাঁদাবজি করেছেন। সরকারি খাল দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছেন।’

মেয়র আব্বাসের উত্থান যেভাবে
শুক্রবার ফেসবুক লাইভে এসে কাঁদেন রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী

কাটাখালি পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোত্তালেব বলেন, ‘মেয়রের অপকর্মের শেষ নেই। একেবারে জিরো থেকে হিরো। প্রথম মেয়র হওয়ার সময় তেমন টাকা ছিল না, অথচ এখন এখন তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক।’

তিনি বলেন, ‘৯০ সালের দিকে তিনি (আব্বাস) জাতীয়তাবাদী তরুণ দল করতেন। তারপর তিনি জাতীয় পার্টি করতেন। গোপনে গোপনে জামায়াতের সঙ্গে তার আঁতাত ছিল। তার প্রমাণ হচ্ছে ২০১১ সালের নির্বাচনে দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে বিদ্রোহী হওয়া। ওই নির্বাচনে তিনি নিজেও হারেন, দলীয় প্রার্থীকেও হারান। জিতে যান জামায়াতের নেতা।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের কাছে বৃহস্পতিবার আব্বাসের উত্থান প্রসঙ্গে জানতে চান সংবাদ কর্মীরা। এ সময় তিনি জানান, তাকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়নপত্র দেয়ার দায়িত্ব আসলে মহানগর আওয়ামী লীগের নয়। এটি কেন্দ্রীয় কমিটি যাচাই-বাছাই করে দেয়। এখানে জেলা আওয়ামী লীগের হয়তো সুপারিশ থাকে। এভাবে হয়তো সুপারিশের ভিত্তিতে নৌকা পেয়ে থাকতে পারেন।

ডাবলু সরকার বলেন, ‘আমরা জানি, আব্বাসের পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার এক ভাই হত্যা মামলার আসামি। তার ভাই যুবদল করে। আমাদের বুঝতে দেরি হয়েছে, তিনি একজন অনুপ্রবেশকারী।’

কার ছত্রছায়ায় তিনি আওয়ামী লীগে প্রবেশ করলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলেন, সে বিষয়ে তদন্ত হবে বলেও জানান ডাবলু সরকার।

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে জানান, ওই সময় কে বা কারা তাকে দলে ঢোকাল, কার সুপারিশে আব্বাস আলী নৌকার মনোনয়ন পেল, এটা তারও প্রশ্ন। তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ওই সময়ের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই সময়ে পৌর আওয়ামী লীগ এবং থানা আওয়ামী লীগের রেজুলেশনে মনোনয়নের জন্য চার জনের নামের তালিকা দেয়া হয়েছিল। তার মধ্যে আব্বাসের নাম এক নম্বরে দিয়েছিল তারা। আমি আর জেলা সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সম্পাদক, কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক বসেছিলাম।

‘তখন এমপি আয়েন উদ্দিন বলল, আব্বাসকে দিলে আমরা জিততে পারব। প্রস্তাবিত চার জনের নামই আমরা পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। সেখান থেকেই তাকে মনোনয়োন দেয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকেই তাকে দেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে যে প্রস্তাব এসেছিল সেই প্রস্তাবগুলো আমার শুধু বাহক হিসেবে পৌঁছে দিয়েছি কেন্দ্রে।’

মেয়র আব্বাস আলীর উত্থানের জন্য অনেকে দায়ী করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আয়েন উদ্দিনের ভূমিকার। তবে আব্বাসের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সংবাদ সম্মেলন করে তার শাস্তির দাবি করেন এমপি আয়েন।

দলে তার অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা তো অনেক সময় বুঝতে পারি না। যদি বুঝতেই পারতাম...তাহলে জাতির পিতাকে হারাইতাম না। খন্দকার মোশতাকের অনুসারীরা অনেক সময় অনেক ঘটনা ঘটায়। সেটি শুধু দলের নয়, দেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জা ও দুঃখজনক ঘটনা।’

আয়েন বলেন, ‘এটাও সত্য তার (আব্বাস) ভাই যুবদল করত। সে অন্য দলের সঙ্গে জড়িত ছিল। আপনারা নিশ্চই জানেন, এক ভাই বিএনপি করে, এক ভাই আওয়ামী লীগ করে - এটি দেশের অনেক জায়গাতেই আছে। সংসদ সদস্য নির্বাচনে রহিম ভরসা, করিম ভরসার মতো দুই ভাই দু দলের হিসেবে কাজ করেন। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা হয়তো সেটি মনে করেছে।’

অভিযোগের বিষয়ে মেয়র আব্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পৌরসভার ফান্ড থেকে টাকা নেয়ার প্রশ্নই আসে না। অনুপ্রবেশকারী নয়, আমি শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি। এখন আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া
হাসপাতাল ছাড়লেন খালেদা জিয়া
খালেদাকে বাসায় আনতে হাসপাতালে কোকোর স্ত্রী
বিকেলে বাসায় ফিরবেন খালেদা জিয়া
খালেদার নাইকো দুর্নীতি মামলা: আংশিক অব্যাহতি শুনানি

শেয়ার করুন

লিটনের শূন্যপদ পেলেন কামাল

লিটনের শূন্যপদ পেলেন কামাল

এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ শূন্য হয়। এ অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামালকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল। এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় শূন্য হওয়া ওই পদে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। লিটন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্বও পালন করছেন।

এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হওয়ায় মহানগর সভাপতির পদটি শূন্য হয়েছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামালকে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া
হাসপাতাল ছাড়লেন খালেদা জিয়া
খালেদাকে বাসায় আনতে হাসপাতালে কোকোর স্ত্রী
বিকেলে বাসায় ফিরবেন খালেদা জিয়া
খালেদার নাইকো দুর্নীতি মামলা: আংশিক অব্যাহতি শুনানি

শেয়ার করুন

ছাত্র-শ্রমিক আ‌ন্দোলন ছাড়া মু‌ক্তি নাই: দুদু

ছাত্র-শ্রমিক আ‌ন্দোলন ছাড়া মু‌ক্তি নাই: দুদু

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। ফাইল ছবি

দুদু বলেন, ‘১৯৬২ থেকে ১৯৮৯ যতগুলো আন্দোলন সব ছাত্ররা করেছে এবং সমাপ্তির দিকে নিয়ে গেছে। আর প্রবীণরা পেছনে থেকেছে। যারা ছাত্রনেতা আছে তাদের সমালোচনা করার জন্য নয়। এখন কেন জানি মনে হয়, সেই সময়ের আন্দোলনের নায়করা ঢেকে যাচ্ছে।’

ছাত্র আর শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলা না হলে খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি বলেছেন, ‘ছাত্র আন্দোলন আর শ্রমিক আন্দোলন যদি গড়ে তোলা না হয় তাহলে আমরা মুক্তি পাব না। ছাত্র ও শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে মিলনের হত্যাকারীদের বিচার করতে পারব। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারব। বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হওয়া ছাড়া দেশে কখনও গণতন্ত্র ফিরে আসবে না।’

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ডিআরইউতে ডা. মিলন দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দুদু বলেন, ‘আজ দেশনেত্রী সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে। খুব কষ্ট লাগে, যার সঙ্গে এত বছর রাজনীতি করছি, তার জীবন সংকটাপন্ন অথচ আমরা কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘১৯৬২ থেকে ১৯৮৯ যতগুলো আন্দোলন সব ছাত্ররা করেছে এবং সমাপ্তির দিকে নিয়ে গেছে। আর প্রবীণরা পেছনে থেকেছে। যারা ছাত্রনেতা আছে তাদের সমালোচনা করার জন্য নয়। এখন কেন জানি মনে হয়, সেই সময়ের আন্দোলনের নায়করা ঢেকে যাচ্ছে।’

দুদু বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠান বর্তমান ছাত্রনেতারা আয়োজন করে আমাদের কে ডাকবে। আমরাও ছাত্র অবস্থায় আমাদের সিনিয়রদেরকে ডেকে নিয়ে অনুষ্ঠান করে শিখেছি। তারপর আমরা ছাত্র আন্দোলন করেছি।’

বিএন‌পির এই নেতা ব‌লেন, ‘আমরা একে অপরের অনেক সমালোচনা করতে পারি। তবে

ছাত্র আন্দোলন আর শ্রমিক আন্দোলন যদি গড়ে তোলা না হয় তাহলে আমরা মুক্তি পাব না।’

নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে এ আলোচনা সভায় আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও ফজলুল হক মিলনের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস‌্য গ‌য়েশ্বর চন্দ্র রায়।

এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন হাবিবুর রহমান, খায়রুল কবির খোকন, জহির উদ্দিন স্বপন, নাজিম উদ্দিন আলম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া
হাসপাতাল ছাড়লেন খালেদা জিয়া
খালেদাকে বাসায় আনতে হাসপাতালে কোকোর স্ত্রী
বিকেলে বাসায় ফিরবেন খালেদা জিয়া
খালেদার নাইকো দুর্নীতি মামলা: আংশিক অব্যাহতি শুনানি

শেয়ার করুন

খালেদার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ হচ্ছে: ফখরুল

খালেদার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ হচ্ছে: ফখরুল

হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে অসুখ, সেই অসুখটা হচ্ছে প্রধানত তার পরিপাকতন্ত্রে। তার অনেক অসুখ। এখন যেটা তার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে, সেটা হচ্ছে তার পরিপাকতন্ত্র থেকে যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ হচ্ছে জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।

তিনি জানান, খালেদা জিয়ার রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত প্রযুক্তি নেই বলেই দিন দিন তার অবস্থা খারাপ হচ্ছে। অতি দ্রুত তাকে বিদেশে নেয়া প্রয়োজন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) শনিবার শহীদ ডা. মিলন দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আয়োজন করে এ আলোচনা সভার।

এতে দেয়া বক্তব্যে ফখরুল বলেন, ‘এখানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে অসুখ, সেই অসুখটা হচ্ছে প্রধানত তার পরিপাকতন্ত্রে। তার অনেক অসুখ। এখন যেটা তার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে, সেটা হচ্ছে তার পরিপাকতন্ত্র থেকে যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন ঠিক কোন জায়গায় তার রক্তপাত হচ্ছে, এটাকে বের করার জন্যে আমাদের ডাক্তাররা, বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ডাক্তার তারা, গত কয়েক দিন ধরে তারা বিভিন্ন রকম কাজ করছেন। চিকিৎসার যে পদ্ধতি আছে, সেই পদ্ধতিতে তারা করেছেন, কিন্তু একটা জায়গায় এসে তারা এগোতে পারছেন না।

‘কারণ আর সেই ধরনের কোনো টেকনোলজি বাংলাদেশে নাই, যে টেকনোলজি দিয়ে তারা সঠিক জায়গায় পৌঁছাতে পারেন, যে কারণে ডাক্তাররা বারবার বলছেন যে, তাকে একটা অ্যাডভান্স সেন্টারে নেয়া দরকার যেখানে এই ডিভাইসগুলো আছে, এই টেকনোলজিগুলো আছে, সেই যন্ত্রপাতিগুলো আছে। সেখানে গেলে তার যে সঠিক রোগ, সেই রোগের জায়গাটা তারা ধরতে পারেন।’

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুর্ভাগ্যের ব্যাপার যে, আমাদের দেশে যারা সরকারি দলের রাজনীতি করছেন, তাদের ন্যূনতম রাজনৈতিক শিষ্টাচার তো নেই, তাদের মানবিক বোধ তো নেই। আর নিজের সম্পর্কে তাদের এত বেশি দাম্ভিকতা যে, তারা যেকোনো ব্যক্তি সম্পর্কে, বিশেষ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে কটূক্তি করতে এতটুকু দ্বিধা করেন না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারা একবারও মনে করেন না যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন সেই মহিয়সী নারী যিনি ১৯৭১ সালে তার স্বামী যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন তার শিশুপুত্রকে হাতে ধরে পালিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন এবং সেখানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে ক্যান্টনমেন্টের কারাগারে ছিলেন। অর্থাৎ দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।’

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা তুলে ধরেন ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক; স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক।’

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে সব শ্রেণির মানুষকে, সব পেশার মানুষকে, সমস্ত রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কারণ আমি আগেই বলেছি, স্বৈরাচার আর ফ্যাসিবাদ এক নয়। এই ফ্যাসিবাদ আরও ভয়ংকর। ইতিমধ্যে আমাদের সকল অর্জন তারা ধ্বংস করে দিয়েছে।

‘ইতিমধ্যে আমরা স্বাধীনতার যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, যে আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের নতুন প্রজন্মের যে সম্ভাবনা আছে, তাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে, অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে, স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে তারা। আসুন গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হই।’

শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন জানিয়ে তাকে দ্রুত বিদেশ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছেন বিএনপি নেতারা।

আরও পড়ুন:
হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া
হাসপাতাল ছাড়লেন খালেদা জিয়া
খালেদাকে বাসায় আনতে হাসপাতালে কোকোর স্ত্রী
বিকেলে বাসায় ফিরবেন খালেদা জিয়া
খালেদার নাইকো দুর্নীতি মামলা: আংশিক অব্যাহতি শুনানি

শেয়ার করুন