গুলশানে ৯ তলা থেকে পড়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

গুলশানে ৯ তলা থেকে পড়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ। ফাইল ছবি

গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিল্পী আক্তার বলেন, ‘গুলশান-২ সার্কেলের ৪১ নম্বর রোডের ৪৮ নম্বরের ১২ তলা বাসার ৯ তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকত সানা। ওই বাসার সামনের রাস্তা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’

রাজধানীর গুলশানে ১২ তলা ভবনের ৯ তলার রেলিং থেকে পড়ে সানা রেজওয়ান সেলিম নামের ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

গুলশান থানার পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় মরদেহ পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

সানার বাবা রেজওয়ান সেলিম গার্মেন্ট ব্যবসায়ী। সানা উত্তরার একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিল্পী আক্তার বলেন, ‘গুলশান-২ সার্কেলের ৪১ নম্বর রোডের ৪৮ নম্বরের ১২ তলা বাসার ৯ তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকত সানা। ওই বাসার সামনের রাস্তা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এলাকার লোকজনের মুখে শুনেছি, ওই ভবনের ৯ তলার রেলিং থেকে সে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’

এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান শিল্পী আক্তার।

আরও পড়ুন:
বাইসাইকেল পেল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১০ স্কুলছাত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মালিবাগে ট্রেনের ধাক্কায় কিশোর নিহত

মালিবাগে ট্রেনের ধাক্কায় কিশোর নিহত

পথচারী আতিকুর রহমান সানি ও জুবায়ের বলেন, ‘মালিবাগ রেলগেটের পাশে দুই ট্রেনের মাঝখানে পড়ে যায় ওই কিশোর। এ সময় ট্রেনের ধাক্কায় সে গুরুতর আহত হয়। ’

রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় এক কিশোর নিহত হয়েছে। তার বয়স আনুমানিক ১৬ বছর।

বুধবার রাত ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পথচারী আতিকুর রহমান সানি ও জুবায়ের বলেন, ‘আমরা মালিবাগ রেলগেটের পাশের পাশে চায়ের দোকানে বসে ছিলাম। রাত ৮টার দিকে কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন ও কমলাপুর অভিমুখী একটি ট্রেনের মাঝখানে পড়ে যায় ওই কিশোর। এ সময় ট্রেনের ধাক্কায় সে গুরুতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক রাত সোয়া ৯টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।’

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত কিশোরের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তার পরনে ছিল কালো রঙের জিন্স প্যান্ট ও সাদা ডোরাকাটা টি-শার্ট।

আরও পড়ুন:
বাইসাইকেল পেল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১০ স্কুলছাত্রী

শেয়ার করুন

রামপুরায় ছাত্র নিহতের ঘটনায় সড়ক মন্ত্রীর নানা প্রশ্ন

রামপুরায় ছাত্র নিহতের ঘটনায় সড়ক মন্ত্রীর নানা প্রশ্ন

রাজধানীর রামপুরায় বাসের ধাক্কায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর অন্তত ৮টি বাস পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে আরও চারটি বাস। বাসের আগুন নেভাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

ঘটনার ১২ মিনিটেই নিরাপদ সড়ক চাই পেইজ লাইভে গেল কীভাবে?  নাকি তারা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল? বাঁশেরকেল্লা ১৫ মিনিটের মধ্যেই সব খবর পেয়ে গেল কীভাবে?  আর বাকি ১০ মিনিটেই ১০ টি গাড়িতে আগুন কীভাবে দেয়া হলো? এত জনবল রাত ১১ টার পর ঘটনাস্থলে এলো কীভাবে?  তাহলে তার কি আগেই প্রস্তুত ছিল?’

রামপুরায় বাস চাপায় শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনাটি পরিকল্পিত কি না, জাতির বিবেকের কাছে সে প্রশ্ন রেখেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছাত্র নিহতের ঘটনার ১৫ মিনিটের মধ্যেই ফেসবুক পেজে লাইভ এবং গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।

বুধবার আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত " ফাইভ জি: দ্য ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি’ শীর্ষক সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ নেতা এও বলেন, ছাত্র নিহত হওয়ায় গভীর শোকাহত ও ব্যথিত।

তিনি বলেন, ঘটনাটি ঘটে রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে। এর ১২ মিনিট পর ১০ টা ৫৭ মিনিটে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ ফেসবুক পেইজে সেই স্থান থেকে লাইভ করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে ১৭ টি বাসে আগুন দেয়া হয় এবং অসংখ্য গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রাত ১১ টায় জামায়াত পরিচালিত টেলিগ্রাম চ্যানেলে খবরটি প্রকাশিত হয় এবং দুর্ঘটনার স্থান থেকেই সমস্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই প্রায় ১৫টি বাসে আগুন দেয়াও শেষ হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিষয়টি আসলেই দুর্ঘটনা কিনা?

তিনি বলেন, ‘ঘটনার ১২ মিনিটেই নিরাপদ সড়ক চাই পেইজ লাইভে গেল কীভাবে? নাকি তারা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল? বাঁশেরকেল্লা ১৫ মিনিটের মধ্যেই সব খবর পেয়ে গেল কীভাবে? আর বাকি ১০ মিনিটেই ১০ টি গাড়িতে আগুন কীভাবে দেয়া হলো?’

এত রাতে দুর্ঘটনার পর পর ঘটনাস্থলে মানুষের জটলা নিয়েও প্রশ্ন রাখেন সড়ক মন্ত্রী। বলেন, ‘এত জনবল রাত ১১ টার পর ঘটনাস্থলে এলো কীভাবে? তাহলে তার কি আগেই প্রস্তুত ছিল?’

মন্ত্রী বলেন, ‘সেনাবাহিনী, পুলিশ বা ফায়ার বিগ্রেড এতো তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে পারে না, যত দ্রুত গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। এতে রাতে অল্প বয়সী শিক্ষার্থীরা কি এত দ্রুত পৌঁছে গেছে?’

তিনি বলেন ‘এমনিতেই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আন্দোলন চলছে। যারাই দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছেন তারা সবাই শিক্ষার্থী। গাড়ীতে কি ছাত্র ছাড়া অন্য আর যাত্রী থাকে না?‘

এসব প্রশ্ন করে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি মোটেই দুর্ঘটনা নয়।… এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

ওবায়দুল কাদের বলেন ২০২৩ সালের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে এই ফাইভ- জি সেবা দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শরর, শিল্প প্রতিষ্ঠাননির্ভর এলাকায় বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এ পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
বাইসাইকেল পেল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১০ স্কুলছাত্রী

শেয়ার করুন

রাজারবাগ পিরের সম্পত্তির খোঁজে ১২২ প্রতিষ্ঠানে দুদকের চিঠি

রাজারবাগ পিরের সম্পত্তির খোঁজে ১২২ প্রতিষ্ঠানে দুদকের চিঠি

পির মো. দিল্লুর রহমান থাকেন রাজারবাগের এই দরবার শরিফে। ছবি: নিউজবাংলা

দুদকের চিঠি দেয়া ১২২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি ৫৬টি ব্যাংক, ৬৪ জেলার রেজিস্ট্রার, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন।

রাজারবাগ শরিফের পির দিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্মের নামে মানুষকে ধোঁকা জমি দখলের অভিযোগ অনুসন্ধানে ১২২ প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বুধবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

দুদকের চিঠি দেয়া ১২২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি ৫৬টি ব্যাংক, ৬৪ জেলার রেজিস্ট্রার, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন।

মু. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুদকের অনুসন্ধানে রাজারবাগের পির সাড়া না দিলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রচলিত আইনে দুদককে অসহযোগিতা করার সুযোগ কারো নেই।’

তিনি জানান, রাজারবাগ পিরের দুর্নীতি অনুসন্ধানে তিন সদস্যের টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম কার্যক্রম শুরু করেছে। তার বিরুদ্ধে জমি দখলের যে অভিযোগ তার মধ্যে বনবিভাগের জমি, খাস জমি আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিরকে তলব করা হবে কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব বলেন, ‘অনুসন্ধান টিম রাজারবাগ এলাকা পরিদর্শন করেছে। টিমের কর্মকর্তা যদি মনে করেন, তাহলে তাকে (রাজারবাগ পির) জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।’

অভিযোগ অনুসন্ধানে গত ১৬ নভেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যদের টিম করা হয়। অন্য সদস্যরা হলেন, সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও মো. আলতাফ হোসেন। আর তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাত হাজার একর জমি দখল ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজারবাগ পির দিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত তদন্ত করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছে।

অনুসন্ধান টিমকে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে।

দুদক সচিব বলেন, ‘আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমরা আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো। আর না পারলে আদালতের কাছে সময় চাওয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বাইসাইকেল পেল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১০ স্কুলছাত্রী

শেয়ার করুন

দক্ষিণ ঢাকায় রুট পারমিটবিহীন বাসের বিরুদ্ধে অভিযান

দক্ষিণ ঢাকায় রুট পারমিটবিহীন বাসের বিরুদ্ধে অভিযান

রাজধানীতে রুট পারমিটবিহীন বাস চলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফাইল ছবি

অভিযানের প্রথম দিন রুট পারমিট ছাড়া চলাচল করা দুটি বাস ডাম্পিং করা হয়। এছাড়া রুট পারমিট ও ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদোত্তীর্ণ ছয়টি গাড়িকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রুট পারমিটবিহীন এবং এক রুটের পারমিট নিয়ে অন্য রুটে চলাচল করা বাসের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ এবং পুলিশ।

অভিযানের প্রথম দিন বুধবার রুট পারমিট ছাড়া চলাচল করা দুটি বাস ডাম্পিং করা হয়। এছাড়া রুট পারমিট ও ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদোত্তীর্ণ ছয়টি গাড়িকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সামাদ সিকদার, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলাম এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদস্যরা রাজধানীর বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে দিনব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করেন।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের নিউজবাংলাকে জানান, অভিযানে রুট পারমিট ছাড়া চলাচলকারী দুটি বাস ডাম্পিং করা হয়েছে।

এছাড়া রুট পারমিট ও ট্যাক্স টোকেন মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সাভার, শ্রাবণ, হিমাচল, ট্রান্স সিলভা, দোলা ও গ্রীন ঢাকা পরিবহনের একটি করে মোট ছয়টি গাড়ীকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ অভিযান বৃহস্পতিবারও চলবে বলে জানা আবু নাছের।

আরও পড়ুন:
বাইসাইকেল পেল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১০ স্কুলছাত্রী

শেয়ার করুন

সব আদালতে ই-ফাইলিং চালু হবে: আইনমন্ত্রী

সব আদালতে ই-ফাইলিং চালু হবে: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ফাইল ছবি

আনিসুল হক বলেন, 'ডিজিটাল আর্কাইভিং এবং ই-ফাইলিং ব্যবস্থাপনা বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়াকে বেগবান করবে। বিচার বিভাগে বিচারপ্রার্থীর একসেস টু জাস্টিস নিশ্চিতকরণ ত্বরান্বিত করবে। মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমে সহনীয় পর্যায়ে আনতে তা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।'

ই-ফাইলিংয়ে ব্যবস্থা কার্যকর হলে মামলার নথি পেতে আর ঝামেলা থাকবে না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সব আদালতে চালু হবে ই-ফাইলিং ব্যবস্থা।

সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে বুধবার ডিজিটাল আর্কাইভিং এবং ই-ফাইলিং ব্যবস্থার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আনিসুল হক বলেন, 'ডিজিটাল আর্কাইভিং এবং ই-ফাইলিং ব্যবস্থাপনা বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়াকে বেগবান করবে। বিচার বিভাগে বিচারপ্রার্থীর একসেস টু জাস্টিস নিশ্চিতকরণ ত্বরান্বিত করবে। মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমে সহনীয় পর্যায়ে আনতে তা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।'

মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি বৈষম্যহীন সমাজ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। একটি স্বাধীন বিচার বিভাগের ভিত বঙ্গবন্ধুই রচনা করেছিলেন। তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

‘আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অধিকারকে অব্যাহত রাখতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিচার বিভাগের ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করা একটি যুগান্তকারি পদেক্ষপ।’

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ই-জুডিসিয়ারি প্রজেক্টের মাধ্যমে সব আদালতে ই-ফাইলিং ব্যবস্থা চালু হবে। ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে মামলা দায়ের করা হলে বিচারপ্রার্থী জনগণ ও আইনজীবীদের সাথে আদালতের প্রত্যক্ষ সংযোগ স্থাপিত হবে। সুপ্রীম কোর্টে ডিজিটাল ফাইলিং বাস্তবায়নের মাধ্যমে সকল মামলার ফাইল দ্রুততার সাথে দায়ের, গ্রহণ ও অনুমোদন করা যাবে। ফলে সাশ্রয় হবে আদালতের কর্ম-ঘন্টার। তাছাড়া বিচারপ্রার্থীর বিচারপ্রাপ্তির অধিকার অধিকতর স্বচ্ছ, দ্রুত এবং সহজলভ্য হবে।’

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় আর্কাইভের মাধ্যমে ডিজিটাল আর্কাইভ ও ই-ফাইলিং উদ্বোধন করা হয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এছাড়া আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরসহ উভয় বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বাইসাইকেল পেল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১০ স্কুলছাত্রী

শেয়ার করুন

ঢাকার সড়ক নিয়ে হুটহাট সিদ্ধান্তে কাজ হবে না: মেয়র তাপস

ঢাকার সড়ক নিয়ে হুটহাট সিদ্ধান্তে কাজ হবে না: মেয়র তাপস

বুধবার গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের দুর্ঘটনাস্থলে পথচারী পারাপার সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমাদেরকে বিশেষজ্ঞ মহলের মাধ্যমে পরিপূর্ণ ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট প্লানিংয়ের মাধ্যমে সুদূরপ্রসারী চিন্তা করতে হবে। শুধুমাত্র একটা কিছু করে ফেললে তা কাজে দেবে না। আমরা চাই কার্যকর ব্যবস্থা।’

নানা সময় নেয়া নানা উদ্যোগ রাজধানীর সড়ককে নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে পারেনি উল্লেখ করে এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত একটি পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

রাজধানীর গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের দুর্ঘটনাস্থলে পথচারী পারাপার সেতু (ফুটওভার ব্রিজ) নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন শেষে বুধবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মেয়র বলেন, ‘আমাদেরকে বিশেষজ্ঞ মহলের মাধ্যমে পরিপূর্ণ ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট প্লানিংয়ের মাধ্যমে সুদূরপ্রসারী চিন্তা করতে হবে। শুধুমাত্র একটা কিছু করে ফেললে তা কাজে দেবে না।

‘আমরা চাই কার্যকর ব্যবস্থা। যত দিন যাবে এই এলাকায় যান চলাচল ততই বাড়বে। তবে এখানে আমরা যেটাই (স্থাপনা) করি, সেটাই আমাদের মেধাবী ছাত্র নাঈম হাসানকে উৎসর্গ করব।’

যে এলাকায় নাঈম মারা গেছেন, সেখানে পথচারী পারাপারে দুই যুগেরও বেশি সময় আগে আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সেই পথ দিয়ে পথচারীরা পারাপার হয় না বললেই চলে। তারা সড়কের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হন।

আবার ভূগর্ভস্থ পারাপারের পথে সিটি করপোরেশনই নানা দোকান বরাদ্দ দিয়ে রেখেছে। সেখানে দিনভর থাকে ক্রেতাদের ভিড়। ফলে ওই পথ দিয়ে যাতায়াতও একটি কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা। আবার যে পথ দিয়ে পাতালে ঢুকতে হয়, সেগুলো অনেকটাই নির্জন। একাধিক দিন সেই ফটকগুলোতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

মেয়র বলেন, ‘এখানে (বঙ্গবন্ধু চত্বর) যদিও বা আগে থেকেই পাতালে (মাটির নিচ দিয়ে) পথচারী চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, কিন্তু সেই পথচারী পারাপার বিভিন্নভাবে দখলের কারণে অকার্যকর হয়ে আছে। যার কারণে সাধারণ যাত্রী ও জনগণ নিচে নেমে পারাপার না করে রাস্তার উপর দিয়েই পারাপার করতে বাধ্য হয়।

‘এজন্য আমাদেরকে নতুনভাবে চিন্তা করতে হচ্ছে। তাই পুরো বঙ্গবন্ধু চত্বর ও আশাপাশের অলি-গলি নিয়েই একটা সড়ক পরিকল্পনা করতে হবে, পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে কোনো উদ্যোগই এখানে কার্যকর হবে না। বঙ্গবন্ধু চত্বর ও পুরো এলাকা নিয়েই পথচারীবান্ধব সড়ক পরিকল্পনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

গুলিস্তানে আগেও অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে কিন্তু কোনোটাই ফলপ্রসূ হয়নি উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘এখানে কয়েকমুখী যাতায়াত ব্যবস্থা (লক্ষ্য করা য়ায়)। প্রত্যেকটি যাতায়াত ব্যবস্থাকে কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করব এবং আমরা নিজস্ব অর্থায়নেই সেই কার্যক্রম আরম্ভ করব।’

ঢাকার সড়ক নিয়ে হুটহাট সিদ্ধান্তে কাজ হবে না: মেয়র তাপস
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের নিহতের ঘটনায় দোষীদের বিচার চেয়ে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীরা নগর ভবনে জড়ো হয়ে ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সাক্ষাৎ চেয়েছেন। ফাইল ছবি

ময়লাবাহী গাড়ির চালক সংকট কেন?

ময়লাবাহী গাড়ির চালক সংকট নিয়ে এক প্রশ্নে মেয়র বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরেই এই বিষয়টা আমার নজরে আসে যে, আমাদের পর্যাপ্ত গাড়ি চালক নেই। এরপর আমরা নিয়োগের উগ্যোগ গ্রহণ করেছি। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত আমরা ৫০ জন ভারী গাড়ি চালকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম। আমরা ৩২ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করতে পেরেছিলাম। কিন্তু বিআরটিএ থেকে যথাসময়ে লাইসেন্স প্রদান না করার কারণে আমরা মাত্র ১৯ জনকে নিয়োগ দিতে পেরেছি।

‘আমাদের সাংগঠনিক কাঠামোতে (অর্গানোগ্রাম) ১৮৩টি পদ আছে। সেই হিসেবে আমাদের পর্যাপ্ত গাড়ি চালক নেই। কিন্তু যে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেই গাড়িতে আমাদের নিয়মিত গাড়ি চালককেই দায়িত্ব দেয়া ছিল। কিন্তু সেই চালক দায়িত্বে অবহেলা করে, গাফিলতি করে আরেকজন ভাড়াটিয়া চালককে দিয়েই গাড়ি চালিয়েছে। সেটি জঘন্যতম অন্যায় হয়েছে।’

ঢাকার সড়ক নিয়ে হুটহাট সিদ্ধান্তে কাজ হবে না: মেয়র তাপস

সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় তিন দিনের মাথায় দুজন নিহতের ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়িটি ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকার সড়কে চালকবিহীন অবস্থায় ছিল। ছবি: নিউজবাংলা

এর আগে মেয়র নগরীর ৫৬ নং ওয়ার্ডে অন্তবর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র এবং বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নে অংশ হিসেবে মতিঝিলে নির্মিত যাত্রী ছাউনি পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন:
বাইসাইকেল পেল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১০ স্কুলছাত্রী

শেয়ার করুন

বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত: কনডাক্টর-হেলপার রিমান্ডে

বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত: কনডাক্টর-হেলপার রিমান্ডে

অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন নিহত হয়। ফাইল ছবি

ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম বুধবার বাসের কনডাক্টর গোলাম রাব্বী ওরফে বিন রহমান ও হেলপার চাঁন মিয়াকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন ইসলাম নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার অনাবিল পরিবহনের বাসের কনডাক্টর ও হেলপারকে এক দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম বুধবার তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এ আদেশ দেন।

রিমান্ডের আদেশ পাওয়া দুজন হলেন সেই বাসের কনডাক্টর গোলাম রাব্বী ওরফে বিন রহমান ও হেলপার চাঁন মিয়া।

আদালতে রামপুরার থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার এসআই মোহাম্মদ আল আমিন মীর সড়ক পরিবহন আইনে মাইনুদ্দিনের মায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। আদালত তাদের এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় মাইনুদ্দিন নামে শিক্ষার্থীর।

মাইনুদ্দিন একরামুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অনাবিল পরিবহনের একাধিক বাসসহ অন্তত আটটি বাসে আগুন ও চারটি বাস ভাঙচুর করে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ এসে রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুর্ঘটনার সময় চালক মো. সোহেলকে আটক করে প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে দেয়া হয়। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।

পরের দিন মঙ্গলবার ভোরে সায়েদাবাদ এলাকা থেকে হেলপার চাঁন মিয়াকে আটক করে র‌্যাব। পরে তাকে রামপুরা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

একই দিন সন্ধ্যায় সায়েদাবাদ থেকে কনডাক্টর রাব্বীকে আটক করে র‌্যাব। তাকেও রামপুরা থানা পুলিশের কাছে দেয়া হয়।

তিনজনকেই পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয় সড়ক পরিবহন আইনে মাইনুদ্দিনের মায়ের করা মামলায়।

আরও পড়ুন:
বাইসাইকেল পেল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১০ স্কুলছাত্রী

শেয়ার করুন