দুই প্রার্থীর ভোট সমান হওয়ার পর এক ভোট কারচুপির অভিযোগ

দুই প্রার্থীর ভোট সমান হওয়ার পর এক ভোট কারচুপির অভিযোগ

বালিয়াতলী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী নাজমুল ইসলাম নাসির।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী একটি কেন্দ্র থেকে পাওয়া ব্যালট পেপার দেখিয়ে বলছেন, এই ভোটটি কারচুপি করায় দুই জনের ভোট সমান হয়েছে। ব্যালটটি গ্রহণ করে তাকে বিজয়ী ঘোষণার দাবিতে সমাবেশ করেছেন তিনি। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেছেন, সেই কেন্দ্র দখল করতে গিয়েছিলেন নৌকার প্রার্থী। কিন্তু সফল হননি। এ সময় ব্যালট পেপারটি বাইরে আনা হয়। কেন্দ্রের বাইরে ব্যালট আনায় আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

দুই প্রার্থীর ভোট সমান হওয়ায় বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আবার ভোট হবে জানানোর পর নৌকার প্রার্থী নাজমুল ইসলাম নাসিরকে বিজয়ী ঘোষণার দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী সমাবেশ করা ছাড়াও জেলা প্রশাসকের কাছে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করতে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ বারী বাদল নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর আস্থা রেখেছেন।

বৃহস্পতিবারের ভোট সদর উপজেলার এই ইউনিয়নের ফল সারা দেশের মধ্যে ব্যতিক্রমী হয়ে উঠে। রাত সাড়ে আটটার দিকে রিটানিং কর্মকর্তা ফল ঘোষণার পর তৈরি হয় বিস্ময়।

তিনি জানান, আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাজমুল ইসলাম নাসিরের নৌকা প্রতীক আর স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ বারী বাদল আনারস প্রতীকেও ভোট পড়েছে সমানসংখ্যক ৫ হাজার ৭০০টি। ফলে চেয়ারম্যান পদে ফলাফল অমীমাংসিত ঘোষণা করেন রিটানিং কর্মকর্তা।

কিন্তু এতে অসন্তোষ জানান নৌকার প্রার্থী নাজমুল। তিনি দাবি করেন একটি কেন্দ্রে তার ভোট জালিয়াতি করে ফেলে দেয়া হয়েছে। তিনি নৌকায় সিল দেয়া একটি ব্যালট পেপার নির্বাচন কর্মকর্তাকে দেখিয়ে সেটি সংযোজন করে নৌকাকে বিজয়ী ঘোষণা করার দাবি জানান। কিন্ত নির্বাচন কর্মকর্তা নাসিরের দাবি গ্রহণ না করে ফলাফল ঘোষণা কার্যক্রম বন্ধ করে চলে যান।

শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নাজমুল কয়েক হাজার সমর্থক নিয়ে বরগুনা প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশও করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘ডিএন কলেজ কেন্দ্রে তার ভোট কারচুপি হয়েছে।’

ওই কেন্দ্র থেকে নৌকার সিল দেয়া ব্যালট উদ্ধার করে নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জমা দিলেও তিনি গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দিয়েছেন- এমন অভিযোগ তুলে ওই ভোটটি গ্রহণ করে নৌকার জয় ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএম বারী বাদল এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী ডিএন কলেজ কেন্দ্র দখল করে ভোট কাটার চেষ্টা করেছিল। তখন তারা ব্যালট কেড়ে নিয়ে সিল দিয়ে বাক্সে ফেলেছে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।’

যে ব্যালটটি নাজমুল দেখিয়েছেন, সেটি কেন্দ্র দখলের চেষ্টার সময় নিজেরাই বের করেছেন- এমন অভিযোগ তুলে স্বতন্ত্র প্রার্থী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘কারো কাছে সিল দেয়া ব্যালট পাওয়া গেলে সেটা আইনে অপরাধ। তিনি ভোট না কাটলে আমি নিশ্চিত জয়লাভ করতাম।’

বারী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে ডিসিশন নিবে আমি মানতে বাধ্য।’

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন রিটানিং কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ‘চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট সমান সংখ্যক হওয়ায় ফলাফল অমিমাংসিত ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে জানানোর পর বিধিমোতাবেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’

জেলা নির্বাচন কর্মকতা দীলিপ কুমার হালদার বলেন,‘দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট সমান হওয়ার বিষয়টি রিটানিং কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানাবেন। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’

আরও পড়ুন:
ভোট শেষেও থামেনি সহিংসতা
ইউপি ভোট: সিলেট বিভাগে আ.লীগের ভরাডুবির ‘যত কারণ’
সাম্প্রদায়িক হামলার আসামি চেয়ারম্যান নির্বাচিত
আ.লীগের ঘাঁটিতে জামানত হারালেন নৌকার প্রার্থী
বাবা চেয়ারম্যান, ছেলে মেম্বার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মেয়র আব্বাসের উত্থান যেভাবে

মেয়র আব্বাসের উত্থান যেভাবে

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, ২০০২ সালের পর আব্বাস আলী যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ওঠাবসা শুরু করেন। এর তিন বছরের মাথায় তিনি মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি পদ পেয়ে যান। এর পর থেকে তিনি রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে থাকেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে তিনি উপরে উঠে আসেন।

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা রাজশাহীর কাটাখালীর নৌকার মেয়র আব্বাস আলীকে দলে অনুপ্রবেশকারী বলেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা। তার রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের ভূমিকা আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে আব্বাসকে নৌকা প্রতীক দিতে সুপারিশ করেছিলেন তারা।

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ইস্যু নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর ওই সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন এখন আব্বাসের শাস্তি দাবি করছেন। আর আব্বাস বলছেন, তিনি বিপদে পড়েছেন, এ জন্য তাকে ঘিরে অপ্রপ্রচার চলছে। তিনি দলে সব সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিই করেছেন।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ২০০২ সালের পর আব্বাস আলী যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ওঠাবসা শুরু করেন। এর তিন বছরের মাথায় তিনি মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি পদ পেয়ে যান। এর পর থেকে তিনি রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে থাকেন। দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বিরোধে। এরই জেরে ২০০৭ সালে তিনি যুবলীগের সহসভাপতি পদ থেকে বহিষ্কৃত হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মেরাজউদ্দিন মোল্লা। আব্বাস তার সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করেন এবং কাটাখালী এলাকায় নিজের আধিপত্য পাকাপোক্ত করেন। গড়ে তোলেন নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। পশুর হাটের ইজারাসহ শ্যামপুর বালু মহাল দখলের অভিযোগ ওঠে তার বিরদ্ধে।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান আয়েন উদ্দিন। তখন মেরাজ উদ্দিন মোল্লা হন বিদ্রোহী প্রার্থী। নৌকার প্রার্থী আয়েন উদ্দিনের বিপক্ষে মাঠে ছিলেন আব্বাস ও তার সমর্থকরা। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়ায় আব্বাস বাহিনী।

নির্বাচনে আয়েন উদ্দিন বিজয়ী হলে আব্বাস আবার তার অবস্থান পাল্টান। এমপি আয়েনও তাকে কাছে টেনে নেন নিজের অবস্থান শক্ত করার আশায়। ফলে এমপি বদল হলেও আব্বাসের আধিপত্য থেকেই যায়। এর সুবাদে দলে কোনো পদে না থাকলেও ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর কাটাখালী পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে যান আব্বাস আলী। মেয়র হওয়ার পর তার প্রতাপ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয় আব্বাসের। এই সময়ে তার বেপরোয়া আচরণে ক্ষুব্ধ হলেও ত্যাগী নেতা-কর্মীরা হয়ে যান নিরুপায়।

মেয়র নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পর ২০১৮ সালে কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটি (আহ্বায়ক কমিটি) দেয়া হয়। এই কমিটির আহ্বায়ক হন আব্বাস।

২০২০ সালের পৌরসভা নির্বাচনে একটি বড় অংশ তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। কিন্তু সুবিধা করতে পারেননি তারা। সেবারও আওয়ামী লীগের টিকিট পান মেয়র আব্বাস। দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়ে আব্বাস হয়ে যান লাগামহীন। নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তিনি থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পৌরসভা ভবনে শুক্রবার প্রতিবাদ সভায় কাউন্সিলররা মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঞ্জুর রহমান বলেন, ‘রাজস্ব আদায় বাবদ পৌরসভার ফান্ডে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ছিল। অথচ এখন চা খাওয়ার টাকাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ করে পৌর ফান্ডের টাকা গায়েব হয়ে গেছে। বিষয়টি আমি দ্রুত তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘করোনাকালীন অনুদান দেয়ার জন্য কাটাখালী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেন মেয়র আব্বাস। কিন্তু সে টাকা কাউকে দেয়া হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।

‘কারোনাকালে চা দোকানদারদের অনুদান দেয়ার নামে কয়েক লাখ টাকা পৌরসভার ফান্ড থেকে হাতিয়ে নেন মেয়র। কিন্তু কোনো চায়ের দোকানদার করোনাকালে অনুদান পাননি।’

৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ জানান, পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৩৬ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া আছে। ফান্ডে টাকা থাকার পরও মেয়র আব্বাস এই বেতন-ভাতা দেননি। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোর করে বিভিন্ন কাগজে সই করতে বাধ্য করেন। কেউ সই না করলে তাকে চাকরিচ্যুতিসহ নানা হুমকি দেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবাদ করলে কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালিগালাজ করতেন মেয়র। আত্মীয়-স্বজনদের নামে ঠিকাদারী লাইসেন্স করে নগর অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ মেয়র নিজে করতেন। আত্মীয়-স্বজনদের নামে হাট-ঘাট ও যানবাহনের টোল আদায়ের ইজারা নিয়েছেন। এসব টোল আদায়ের নামে নিজের লোকজন দিয়ে চাঁদাবাজি করেন।’

পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘মেয়র ভোটের পর থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের কারও সঙ্গে চলেন না। তার সঙ্গে থাকেন বিএনপি নেতারা। কৃষি প্রণোদনাও পায় বিএনপি নেতারা। তার আপন ভাই বিএনপি করে। অন্য এক পক্ষের ভাই করে জাতীয় পার্টি।’

কাঁটাখালি পৌরসভার যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জনি ইসলাম বলেন, ‘মেয়র বিভিন্ন জায়গা দখল করেছেন। স্কুলের জমি দখল করে তার বাড়ি যাওয়ার রাস্তা তৈরি করছেন। জমি দখল করে তার বাবার নামে স্কুল করেছেন। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার দোকানদারদের হয়রানি করে চাঁদাবজি করেছেন। সরকারি খাল দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছেন।’

মেয়র আব্বাসের উত্থান যেভাবে
শুক্রবার ফেসবুক লাইভে এসে কাঁদেন রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী

কাটাখালি পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোত্তালেব বলেন, ‘মেয়রের অপকর্মের শেষ নেই। একেবারে জিরো থেকে হিরো। প্রথম মেয়র হওয়ার সময় তেমন টাকা ছিল না, অথচ এখন এখন তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক।’

তিনি বলেন, ‘৯০ সালের দিকে তিনি (আব্বাস) জাতীয়তাবাদী তরুণ দল করতেন। তারপর তিনি জাতীয় পার্টি করতেন। গোপনে গোপনে জামায়াতের সঙ্গে তার আঁতাত ছিল। তার প্রমাণ হচ্ছে ২০১১ সালের নির্বাচনে দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে বিদ্রোহী হওয়া। ওই নির্বাচনে তিনি নিজেও হারেন, দলীয় প্রার্থীকেও হারান। জিতে যান জামায়াতের নেতা।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের কাছে বৃহস্পতিবার আব্বাসের উত্থান প্রসঙ্গে জানতে চান সংবাদ কর্মীরা। এ সময় তিনি জানান, তাকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়নপত্র দেয়ার দায়িত্ব আসলে মহানগর আওয়ামী লীগের নয়। এটি কেন্দ্রীয় কমিটি যাচাই-বাছাই করে দেয়। এখানে জেলা আওয়ামী লীগের হয়তো সুপারিশ থাকে। এভাবে হয়তো সুপারিশের ভিত্তিতে নৌকা পেয়ে থাকতে পারেন।

ডাবলু সরকার বলেন, ‘আমরা জানি, আব্বাসের পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার এক ভাই হত্যা মামলার আসামি। তার ভাই যুবদল করে। আমাদের বুঝতে দেরি হয়েছে, তিনি একজন অনুপ্রবেশকারী।’

কার ছত্রছায়ায় তিনি আওয়ামী লীগে প্রবেশ করলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলেন, সে বিষয়ে তদন্ত হবে বলেও জানান ডাবলু সরকার।

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে জানান, ওই সময় কে বা কারা তাকে দলে ঢোকাল, কার সুপারিশে আব্বাস আলী নৌকার মনোনয়ন পেল, এটা তারও প্রশ্ন। তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ওই সময়ের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই সময়ে পৌর আওয়ামী লীগ এবং থানা আওয়ামী লীগের রেজুলেশনে মনোনয়নের জন্য চার জনের নামের তালিকা দেয়া হয়েছিল। তার মধ্যে আব্বাসের নাম এক নম্বরে দিয়েছিল তারা। আমি আর জেলা সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সম্পাদক, কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক বসেছিলাম।

‘তখন এমপি আয়েন উদ্দিন বলল, আব্বাসকে দিলে আমরা জিততে পারব। প্রস্তাবিত চার জনের নামই আমরা পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। সেখান থেকেই তাকে মনোনয়োন দেয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকেই তাকে দেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে যে প্রস্তাব এসেছিল সেই প্রস্তাবগুলো আমার শুধু বাহক হিসেবে পৌঁছে দিয়েছি কেন্দ্রে।’

মেয়র আব্বাস আলীর উত্থানের জন্য অনেকে দায়ী করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আয়েন উদ্দিনের ভূমিকার। তবে আব্বাসের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সংবাদ সম্মেলন করে তার শাস্তির দাবি করেন এমপি আয়েন।

দলে তার অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা তো অনেক সময় বুঝতে পারি না। যদি বুঝতেই পারতাম...তাহলে জাতির পিতাকে হারাইতাম না। খন্দকার মোশতাকের অনুসারীরা অনেক সময় অনেক ঘটনা ঘটায়। সেটি শুধু দলের নয়, দেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জা ও দুঃখজনক ঘটনা।’

আয়েন বলেন, ‘এটাও সত্য তার (আব্বাস) ভাই যুবদল করত। সে অন্য দলের সঙ্গে জড়িত ছিল। আপনারা নিশ্চই জানেন, এক ভাই বিএনপি করে, এক ভাই আওয়ামী লীগ করে - এটি দেশের অনেক জায়গাতেই আছে। সংসদ সদস্য নির্বাচনে রহিম ভরসা, করিম ভরসার মতো দুই ভাই দু দলের হিসেবে কাজ করেন। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা হয়তো সেটি মনে করেছে।’

অভিযোগের বিষয়ে মেয়র আব্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পৌরসভার ফান্ড থেকে টাকা নেয়ার প্রশ্নই আসে না। অনুপ্রবেশকারী নয়, আমি শুরু থেকেই আওয়মী লীগের রাজনীতি করেছি। এখন আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
ভোট শেষেও থামেনি সহিংসতা
ইউপি ভোট: সিলেট বিভাগে আ.লীগের ভরাডুবির ‘যত কারণ’
সাম্প্রদায়িক হামলার আসামি চেয়ারম্যান নির্বাচিত
আ.লীগের ঘাঁটিতে জামানত হারালেন নৌকার প্রার্থী
বাবা চেয়ারম্যান, ছেলে মেম্বার

শেয়ার করুন

ভোটকেন্দ্র কাছেই স্ট্রোকে মৃত্যু প্রিসাইডিং কর্মকর্তার

ভোটকেন্দ্র কাছেই স্ট্রোকে মৃত্যু প্রিসাইডিং কর্মকর্তার

প্রিসাইডিং অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রোববার তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে শ‌নিবার দুপুরে অন্য সদস্যদের নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যান তিনি। সব কাজ শেষে সন্ধ্যায় হুমায়ুন কেন্দ্র সংলগ্ন প্রয়াত ইসমাইল হোসেন চেয়ারম্যান বাড়িতে যাওয়ার পথে স্ট্রোক করেন।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ভোটের কাজ শেষে কে‌ন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে এক সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার ভাজনা কদমতলা নূরানী আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রে শ‌নিবার সন্ধ‌্যায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত হুমায়ুন কবির ওই কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি দুমকি উপজেলায়। তিনি দুমকী উপজেলা সমাজসেবা অফিসের ফিল্ড সুপারভাইজার ছিলেন।

বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন উপজেলা রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন।

কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রোববার তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে শ‌নিবার দুপুরে অন্য সদস্যদের নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যান তিনি। সব কাজ শেষে সন্ধ্যায় হুমায়ুন কেন্দ্র সংলগ্ন প্রয়াত ইসমাইল হোসেন চেয়ারম্যান বাড়িতে যাওয়ার পথে স্ট্রোক করেন।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া ফেরদৌস জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আরও পড়ুন:
ভোট শেষেও থামেনি সহিংসতা
ইউপি ভোট: সিলেট বিভাগে আ.লীগের ভরাডুবির ‘যত কারণ’
সাম্প্রদায়িক হামলার আসামি চেয়ারম্যান নির্বাচিত
আ.লীগের ঘাঁটিতে জামানত হারালেন নৌকার প্রার্থী
বাবা চেয়ারম্যান, ছেলে মেম্বার

শেয়ার করুন

শার্শায় ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা, নিহত যুবক

শার্শায় ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা, নিহত যুবক

নিহত কুতুবউদ্দিন আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

নিহতের নাম কুতুবউদ্দিন আহমেদ। ৪০ বছরের কুতুবুদ্দিনের বাড়ি কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে। তিনি কায়বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলতাফ হোসেনের সমর্থক।

যশোরের শার্শায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে প্রতিপক্ষের হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭ জন।

শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি জানাজানি হয় সন্ধ্যায়।

নিহতের নাম কুতুবউদ্দিন আহমেদ। ৪০ বছরের কুতুবুদ্দিনের বাড়ি কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে। তিনি কায়বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলতাফ হোসেনের সমর্থক।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ডিবি) রুপন কুমার সরকার।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ টিংকুর সমর্থকদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলতাফ হোসেনের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন কুতুবউদ্দিন। হাসপাতালে নেয়ার পথে সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক নাহিদ শাহরিয়ার সাব্বির বলেন, ‘আমি তাকে মৃত পেয়েছি। তার মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

আরও পড়ুন:
ভোট শেষেও থামেনি সহিংসতা
ইউপি ভোট: সিলেট বিভাগে আ.লীগের ভরাডুবির ‘যত কারণ’
সাম্প্রদায়িক হামলার আসামি চেয়ারম্যান নির্বাচিত
আ.লীগের ঘাঁটিতে জামানত হারালেন নৌকার প্রার্থী
বাবা চেয়ারম্যান, ছেলে মেম্বার

শেয়ার করুন

আমদিয়ায় নৌকার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ  

আমদিয়ায় নৌকার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ  

সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম উদ্দিন ভুইয়া রিপন। ছবি: নিউজবাংলা

স্বতন্ত্র প্রার্থী রিপন বলেন, ‘আরচণবিধি ভঙ্গ করায় নৌকার প্রার্থী আব্দুল্লাহ ইবনে রহিজ মিঠুর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছিলাম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ও তার সমর্থকরা দুপুরে আমার বাড়িতে হামলা চালান। এতে আমার পরিবারের ৫ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুরের একপর্যায়ে হামলাকারীরা গুলিও ছোড়েন।’

নরসিংদীর আমদিয়া ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম উদ্দিন ভুইয়া রিপন।

নরসিংদী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রিপন।

তিনি বলেন, ‘আরচণবিধি ভঙ্গ করায় নৌকার প্রার্থী আব্দুল্লাহ ইবনে রহিজ মিঠুর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছিলাম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ও তার সমর্থকরা দুপুরে আমার বাড়িতে হামলা চালান। এতে আমার পরিবারের ৫ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুরের একপর্যায়ে হামলাকারীরা গুলিও ছোড়েন।’

নাজিম উদ্দিন ভুইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়রাম্যান। দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হয়ে লড়ছেন তিনি। আর নৌকা প্রতীক পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ইবনে রহিজ মিঠু।

সংবাদ সম্মেলনে রিপন আরও বলেন, ‘নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে শুরু থেকেই আমাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। কয়েক দফা আমার সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছে। এসবের মদত দিচ্ছেন নৌকার প্রার্থী।

‘আমি গত ১৯ বছর ধরে এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছি। ভোটে সহিংসতা না হলে এবারও আমার জয় নিশ্চিত।’

বিষয়টি জানতে নৌকার প্রার্থী আব্দুল্লাহ ইবনে রহিজ মিঠুর মোবাইলে ফোন দেয়া হলে, প্রশ্নের জবাব দেয়ার আগে সংযোগটি কেটে যায়। পরে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির শাহসহ বিভিন্ন মাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নরসিংদীর ২২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
ভোট শেষেও থামেনি সহিংসতা
ইউপি ভোট: সিলেট বিভাগে আ.লীগের ভরাডুবির ‘যত কারণ’
সাম্প্রদায়িক হামলার আসামি চেয়ারম্যান নির্বাচিত
আ.লীগের ঘাঁটিতে জামানত হারালেন নৌকার প্রার্থী
বাবা চেয়ারম্যান, ছেলে মেম্বার

শেয়ার করুন

লিটনের শূন্যপদ পেলেন কামাল

লিটনের শূন্যপদ পেলেন কামাল

এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ শূন্য হয়। এ অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামালকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল। এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় শূন্য হওয়া ওই পদে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। লিটন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্বও পালন করছেন।

এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হওয়ায় মহানগর সভাপতির পদটি শূন্য হয়েছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামালকে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভোট শেষেও থামেনি সহিংসতা
ইউপি ভোট: সিলেট বিভাগে আ.লীগের ভরাডুবির ‘যত কারণ’
সাম্প্রদায়িক হামলার আসামি চেয়ারম্যান নির্বাচিত
আ.লীগের ঘাঁটিতে জামানত হারালেন নৌকার প্রার্থী
বাবা চেয়ারম্যান, ছেলে মেম্বার

শেয়ার করুন

জয়পুরহাট আইনজীবী সমিতিতে বিএনপিপন্থিদের জয়

জয়পুরহাট আইনজীবী সমিতিতে বিএনপিপন্থিদের জয়

রফিকুল ইসলাম (বাঁয়ে) ও শাহনুর রহমান শাহীন। ছবি: সংগৃহীত

সভাপতি হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত পরিষদের রফিকুল ইসলাম তালুকদার তরুণ। তিনি পেয়েছেন ৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল পেয়েছেন ৮১ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে একই পরিষদের শাহনুর রহমান শাহীন ১০৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আফজাল হোসেন পেয়েছেন ৭৭ ভোট।

জয়পুরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।

১১টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১০টি পদে জয় পেয়েছে জাতীয়তাবাদীরা।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী ও মহাজোট ঐক্য পরিষদ।

শনিবার ভোট শেষে সন্ধ্যা ৭টায় ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান।

সভাপতি পদে জয়ী হয়েছেন রফিকুল ইসলাম তালুকদার তরুণ। তিনি পেয়েছেন ৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল পেয়েছেন ৮১ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে শাহনুর রহমান শাহীন ১০৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আফজাল হোসেন পেয়েছেন ৭৭ ভোট।

জাতীয়তাবাদী পরিষদের বিজয়ী অন্যরা হলেন, সহসভাপতি আইয়ুব আলী, অর্থ সম্পাদক এ কে এম আবু সুফিয়ান পলাশ, প্রচার ও গ্রন্থাগার সম্পাদক রিনাত ফেরদৌসী রিনি, আপ্যায়ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মামুনুর রশিদ।

তিনটি সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন শহিদুল ইসলাম, গোলাম মওদুদ ও নূর-ই-আলম সিদ্দিকী।

বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী ও মহাজোট ঐক্য পরিষদ থেকে জয়ী যুগ্ম সম্পাদক খলিলুর রহমান মণ্ডল।

জয়পুরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি বছর নভেম্বরের শেষ শনিবার নির্বাচন হয়। এবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হয়। ১৯৭ ভোটারের মধ্যে ১৯১ জন ভোট দেন।

আরও পড়ুন:
ভোট শেষেও থামেনি সহিংসতা
ইউপি ভোট: সিলেট বিভাগে আ.লীগের ভরাডুবির ‘যত কারণ’
সাম্প্রদায়িক হামলার আসামি চেয়ারম্যান নির্বাচিত
আ.লীগের ঘাঁটিতে জামানত হারালেন নৌকার প্রার্থী
বাবা চেয়ারম্যান, ছেলে মেম্বার

শেয়ার করুন

ভাড়া নিয়ে তর্কে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা, পা ভেঙেছে শিক্ষকের

ভাড়া নিয়ে তর্কে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা, পা ভেঙেছে শিক্ষকের

মো. মিজাম বলেন, তিনি নগরীর অক্সিজেন থেকে ৮ নম্বর বাসে করে সদরঘাট পিটিআইয়ে (প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট) যাচ্ছিলেন। তবে নামার সময় ভাড়া নিয়ে চালকের সহকারীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। তিনি বটতল এলাকায় নেমে যেতে চাইলেও তাকে পুরাতন রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে যান চালক। পরে তাকে ধাক্কা মেরে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেন চালকের সহকারী। এরপর পায়ের ওপর দিয়েই বাস চালিয়ে দেন চালক।

চট্টগ্রামে বাস ভাড়া নিয়ে তর্কের জেরে রহমত উল্লাহ নামের এক স্কুলশিক্ষককে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পায়ের ওপর দিয়ে বাস চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার বেলা ২টার দিকে নগরীর বড়তল রেলস্টেশন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আহত রহমত উল্লাহ নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন হাবিবুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

রহমত উল্লাহর সহকর্মী মো. মিজাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিনি নগরীর অক্সিজেন থেকে ৮ নম্বর বাসে করে সদরঘাট পিটিআইয়ে (প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট) যাচ্ছিলেন। তবে নামার সময় ভাড়া নিয়ে চালকের সহকারীর সাথে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। তিনি বটতল এলাকায় নেমে যেতে চাইলেও তাকে পুরাতন রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে যান চালক। পরে তাকে ধাক্কা মেরে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেন চালকের সহকারী। এরপর পায়ের ওপর দিয়েই বাস চালিয়ে দেন চালক। এতে তার হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখম হয়।’

‘আমরা গাড়িটি আটক করেছি। চালক ও তার সহকারী পালিয়েছে। তাকে উদ্ধার করে নগরীর ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন ‘গাড়িটি আটক আছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। চালক ও তার সহকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
ভোট শেষেও থামেনি সহিংসতা
ইউপি ভোট: সিলেট বিভাগে আ.লীগের ভরাডুবির ‘যত কারণ’
সাম্প্রদায়িক হামলার আসামি চেয়ারম্যান নির্বাচিত
আ.লীগের ঘাঁটিতে জামানত হারালেন নৌকার প্রার্থী
বাবা চেয়ারম্যান, ছেলে মেম্বার

শেয়ার করুন