চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ: জয়

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ: জয়

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অন ইনফরমেশন টেকনোলজির মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। ছবি: নিউজবাংলা

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘আমরা শুধু আজকের কথাই ভাবছি না। আমরা ভবিষ্যতের কথা ভাবছি। আগামীতে আমাদের কোন কোন খাতে নজর দিতে হবে তাও এখন থেকে চিন্তা করছি। ভবিষ্যতের ভাবনা থেকে ৫টি খাতকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স, ব্লক চেইন, আইওটি, রোবটিকস, মাইক্রো প্রসেসর চিপ ডিজাইনের মতো প্রযুক্তির ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। মাইক্রো প্রসেসর চিপ ডিজাইন খুব কম দেশেই রয়েছে। আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দিকে নজর দিচ্ছি। এতে নেতৃত্ব দিতে চায় বাংলাদেশ।’

আগামী শিল্প বিপ্লব হবে প্রযুক্তি নির্ভর। আর এই শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দিতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ভবিষ্যত প্রযুক্তির ৫ খাতকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এ চলার পথে আগামী ৫ বছরে আইটি খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের স্বপ্নের কথাও জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অন ইনফরমেশন টেকনোলজির (ডব্লিউসিআইটি) মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে ‘টেকসই অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সমাজ নির্মাণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনও করেন তিনি।

‘আইসিটি দ্য গ্রেট ইকুলাইজার’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ৪ দিনব্যাপী ডব্লিউসিআইটি ২৫তম আসর শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। সম্মেলনে থাকছে সেমিনার, মিনিস্টেরিয়াল কনফারেন্স, বিটুবি সেশন। অনলাইনে নিবন্ধিত হয়ে সেমিনারগুলোতে বিশ্বের যে কোন স্থান থেকে অংশ নেয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য ডিজিটাইজেশনের সুবিধা সবার জন্য হবে। শুধু শহর নয় প্রত্যন্ত অঞ্চলেও তা পৌঁছে দেয়া হবে। ডিজিটাইজেশন টেকসই হতে হবে। শুধু ৫ বা দশ বছরের বছরের লক্ষ্যমাত্রা নয়। আমাদের ভিশন আগামী ৪০ বছরের।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু আজকের কথাই ভাবছি না। আমরা ভবিষ্যতের কথা ভাবছি। আগামীতে আমাদের কোন কোন খাতে নজর দিতে হবে তাও এখন থেকে চিন্তা করছি। সে জন্য কোন কোন খাতে দক্ষতা বাড়াতে, বিশেষজ্ঞ তৈরি করতে হবে তার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতের ভাবনা থেকে ৫টি খাতকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স, ব্লক চেইন, আইওটি, রোবটিকস, মাইক্রো প্রসেসর চিপ ডিজাইনের মতো প্রযুক্তির ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। মাইক্রো প্রসেসর চিপ ডিজাইন খুব কম দেশেই রয়েছে। আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দিকে নজর দিচ্ছি। এতে নেতৃত্ব দিতে চায় বাংলাদেশ। তাই আমরা ভবিষ্যত টেকনোলটিতে জোর দিচ্ছি। এতে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহ দিচ্ছি।’

জয় বলেন, ‘বর্তমানে রপ্তানি খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে তৈরি পোশাক খাত। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য রয়েছে আইটি খাতকে সামনে নিয়ে যাওয়া। ২০২৫ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আমার বিশ্বাস আইটি রপ্তানি এক সময় পোশাক খাতকে ছাড়িয়ে যাবে।’

‘এ খাতে বিনিয়োগের প্রচুর সুযোগও রয়েছে। দেশব্যাপী ৩৯ হাইটেক পার্ক তৈরি হচ্ছে। এরই মধ্যে ৮টি বিনিয়োগকারীদের জন্য তৈরি। এসব পার্কে বিনিয়োগে কর অব্যাহতি, বিদেশিদের জন্য শতভাগ মালিকানার নিশ্চয়তা, আয়কর অব্যাহতিসহ নানা সুযোগ রাখা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনেক ধরনের সুবিধা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া দক্ষতা বাড়াতেও বেশ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজিস (শিফট), দেশের সব জেলায় শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটরস, ৫ বছরের মধ্যে ৩৫ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবস স্থাপন, সেন্টার পর ফোরথ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন, ডিজিটাল লিডারশিপ একাডেমি, স্কুল ফর ফিউচার ইতাদি।

জয় বলেন, ‘দেশে প্রচুর স্টার্টআপ তৈরি জচ্ছে। মহামারিকালে তথ্য প্রযু্ক্তির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে গেছে। মোবাইল ইন্টারনেট, ই-কমার্স, ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের প্রসার বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘বিনিয়োগ সুবিধার কারণে প্রযুক্তি কোম্পনিগুলো বাংলাদেশে আগ্রহী হচ্ছে। বর্তমানে স্যামসাংসহ কয়েকটি কোম্পানি বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদন শুরু করেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম কনজুমার মার্কেট, এখানে বিশাল মধ্যবিত্ত শ্রেণি রয়েছে। এখানে স্টার্টআপদের জন্য বিশাল সুযোগ রয়েছে। আমার বিশ্বাস, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে মেইড ইন চায়না বা ভিয়েতনামের মত বাংলাদেশের তৈরি মোবাইল হ্যান্ডসেট, হার্ডড্রাইভে ‘মেইন ইন বাংলাদেশ’ দেখা যাবে।’

তিনি বলেন, ১০টি ডিজিটাল সেবা জাতি রূপান্তর করছে। এগুলো হচ্ছে- ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ন্যাশনাল পোর্টাল সেবা, তথ্য ও সেবা ৩৩৩, সরকারের ই-নথি, সরকারি কেনাকাটায় ই-জিপি, মাই-গভ অ্যাপ, জিআরপি, জিআরএস, পরিচয় ও ডিজিটাল লেনদেন।

জয় বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে, ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়নের মডেল জাতিতে পরিণত হবে, ২০৪১ সালে উন্নয়ন উন্নত দেশ, ২০৭১ সালে শীর্ষ দেশের একটা এবং ২০১০০ সালে ভবিষ্যত নাগরিকদের জন্য একটা ডেল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়।

একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এর পলিসি অ্যাডভাইজার আনির চৌধুরীর সঞ্চালনায় সেমিনারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে আবেদনের সময় বাড়ল ৭ দিন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফেসবুক-গুগলের অ্যালগরিদম খতিয়ে দেখবে অস্ট্রেলিয়া

ফেসবুক-গুগলের অ্যালগরিদম খতিয়ে দেখবে অস্ট্রেলিয়া

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর অ্যালগরিদমের ধরন, কীভাবে কোম্পানিগুলো একজন ব্যবহারকারীর পরিচয় ও বয়স নিশ্চিত হয়, কোন ধরনের বিধিনিষেধ তাদের উপর আরোপ করা যেতে পারে তাও খতিয়ে দেখবেন আইন প্রণেতারা।

বিশ্বের বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব হলো তাদের নিজেদের প্ল্যাটফর্ম নিরাপদ রাখা। এমনটাই মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

আল জাজিরা জানাচ্ছে, স্কট মরিসন বলেছেন, ‘বিশ্বের বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যাবলী পর্যবেক্ষণ ও সে সংক্রান্ত নতুন আইন প্রণয়নের জন্য শিগগির অস্ট্রেলিয়া বিস্তৃত পরিসরে সংসদীয় তদন্ত চালাবে।‘

তিনি জানান, তদন্ত এটি হবে বৃহৎ পরিসরে। গুগল, ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর অ্যালগরিদমের ধরন, কীভাবে কোম্পানিগুলো একজন ব্যবহারকারীর পরিচয় ও বয়স নিশ্চিত হয়, কোন ধরনের বিধিনিষেধ তাদের উপর আরোপ করা যেতে পারে, তাও খতিয়ে দেখবেন আইন প্রণেতারা।

মরিসন বলেন, ‘বৃহৎ কোম্পানিকে বৃহৎ প্রশ্নের উত্তরই দিতে হবে। বড় কোম্পানিগুলোই এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, তাদেরকেই এই প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

নতুন তদন্তের এই ঘোষণা অস্ট্রেলিয়া ও ফেসবুকের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ফেসবুক ভবিষ্যতের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে নাম পরিবর্তন করে ‘মেটা’ করেছে।

এ বছরের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়া নতুন আইন বাস্তবায়ন করে, যেখানে ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোকে স্থানীয় কনটেন্ট ব্যাবহারের জন্য টাকা দিতে হয়। নতুন আইনে সামাজিক মাধ্যমগুলোকে যেসব একাউন্টের বিরুদ্ধে মানহানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। সেসব বেনামী একাউন্টের পরিচয় প্রকাশে বাধ্য করা হয়।

যদিও শুরুর দিকে এইসব আইন মানতে চায়নি বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। আলফাবেটের সহপ্রতিষ্ঠান গুগল এমনকি হুমকিও দিয়েছিল যে, তারা অস্ট্রেলিয়ান সার্চ ইঞ্জিন বন্ধ করে দেবে। ফেসবুকও সে সময় অনেক কনটেন্ট বন্ধ করে দেয়।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে অনুমতি না নিয়ে গ্রাহকের তথ্য ব্যবহারের বেশকিছু অভিযোগ আছে। যার জেরে ক্যামব্রিজ এনালিটিকার মতো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ফেসবুককে গুনতে হয় ৫ বিলিওন ডলার জরিমানা।

একই ধরনের অভিযোগে এর আগে আমেরিকান কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে হয় ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে।

আরও পড়ুন:
জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে আবেদনের সময় বাড়ল ৭ দিন

শেয়ার করুন

প্রযুক্তি-বিপ্লব ভবিষ্যতের হুমকি: এমআই সিক্স

প্রযুক্তি-বিপ্লব ভবিষ্যতের হুমকি: এমআই সিক্স

এমআই সিক্স প্রধান রিচার্ড মোর। ছবি: এএফপি

কোয়ান্টাম ইঞ্জিনিয়ারিং ও জৈব প্রকৌশল শিল্প ব্যবস্থাকে পাল্টে দেবে জানিয়ে রিচার্ড আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে তথ্যের এখন ছড়াছড়ি, যা কম্পিউটার ও তথ্য-বিজ্ঞানের ক্ষমতার নির্দেশক। এটা আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মিশ্রণ। যার প্রভাব পড়ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে।’

আগামী দশ বছরে বিশ্ব ব্যবস্থায় (ওয়ার্ল্ড অর্ডার) প্রযুক্তি-বিপ্লব বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্য সরকারের গুপ্তচর বিভাগের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান এমআই সিক্স প্রধান রিচার্ড মোর।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন এমআই সিক্স প্রধান।

এক ভাষণে সোমবার মোর বলেন, ‘কম্পিউটার ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক ব্যবহার জীবনযাত্রাকে পুরোপুরি বদলে দেবে; যা কল্পনাতীত।’

এমআই৬ এর প্রধান হিসেবে ২০২০ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেন ৫৮ বছরের রিচার্ড। এর আগে তিনি তুরস্কে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন। প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনকে তিনি ১৮ ও ১৯ শতাব্দীর শিল্প-বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

বলেন, ‘এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের সংস্কৃতি ও নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে হবে।’

যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দারা গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছেন উল্লেখ করে রিচার্ড বলেন, ‘তারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেশি যুক্ত হয়ে পড়ছেন।’

কোয়ান্টাম ইঞ্জিনিয়ারিং ও জৈব প্রকৌশল পুরো শিল্প ব্যবস্থাকে পাল্টে দেবে জানিয়ে রিচার্ড আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে তথ্যের এখন ছড়াছড়ি, যা কম্পিউটার ও তথ্য-বিজ্ঞানের ক্ষমতার নির্দেশক। এটা আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মিশ্রণ। যার প্রভাব পড়ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে।’

‘অন্যরা হয়তো এসবের ইতিবাচক দিকগুলোই আপনাদের কাছে তুলে ধরবে, কিন্তু আমার কাজই হচ্ছে এসবের নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে চিন্তা করা। পৃথিবী যেমন এমআই সিক্স ঠিক সেরকম আরচণ করে, নিজ থেকে কিছু করে না।’

আরও পড়ুন:
জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে আবেদনের সময় বাড়ল ৭ দিন

শেয়ার করুন

মিথ্যা বললে রক্ষা নেই

মিথ্যা বললে রক্ষা নেই

মিথ্যা বলার সময় মানুষের অজান্তেই সক্রিয় হয় মুখের বেশ কিছু পেশি। ছবি: নিউজবাংলা

মিথ্যাবাদীর চেহারায় তার মনের ভাবের ছাপ পড়ে এমন ধারণা নতুন নয়। চার্লস ডারউইনের আমল থেকে এ ধারণা চলে এসেছে। তিনি নিজেও বেশ কিছু মনোবিদ্যার পরীক্ষা করেছিলেন। ১৮৭২ সালে এক গবেষণায় তিনি দেখেন, ‘মুখের যে সব পেশি আমাদের ইচ্ছার অধীনে নেই সেগুলো কখনও কখনও নিজে থেকে কোনো অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে পারে।’

কিছু মানুষ অবলীলায় বলে যান একের পর এক মিথ্যা। তাদের ভাবলেশহীন চোখ-মুখ দেখে মিথ্যা ধরা কঠিন। তবে এসব চতুর মিথ্যাবাদীর সামনে আসছে দুঃসময়। বিজ্ঞানীরা এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যাতে মিথ্যা বলে পার পাওয়া হবে কঠিন।

এই প্রযুক্তির বিশেষ সেন্সর মুখের পেশির অতি ক্ষুদ্র কম্পনকেও ঠিক ধরে ফেলতে সক্ষম। আর এর মাধ্যমে বোঝা যাবে, মনের ভেতরে কথা লুকিয়ে রেখে বাইরে আপনি কতটা মিথ্যা বলছেন। বিজ্ঞান বিষয়ক সাইট সায়েন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রযুক্তি গড়পড়তা যে কোনো ব্যক্তির চেয়ে মিথ্যা কথা শনাক্তে অনেক ভালো কাজ করে।

ইসরায়েলের তেল আভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি এই সিস্টেম ৭৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ঠিকঠাক মিথ্যা ধরতে পেরেছে। এই প্রক্রিয়ায় দুই ধরনের মিথ্যাবাদীকে ধরা গেছে।
বিহেভিওরাল নিওরোসায়েন্টিস্ট ডিনো লিভি বলেন, ‘এটি পুরোপুরি নিঁখুত নয়, কিন্তু অন্য অনেক ফেশিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তির চেয়ে বেশ ভালো।’

সত্যি ও মিথ্যা কথা বলা ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে লাগানো ইলেক্ট্রোড মুখের পেশির নড়াচড়া মেপে মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমকে তথ্য দিয়েছে। এতে করে ওই অ্যালগরিদমে মানুষের মুখের ভাবভঙ্গী থেকে ইঙ্গিতগুলো চিনতে শিখেছে আর্টিফিসিয়াল প্রযুক্তি।

গবেষকেরা বলছেন, পলিগ্রাফের মতো প্রচলিত সাধারণ মিথ্যা ধরার যন্ত্রগুলো হৃৎকম্পন, রক্তচাপ ও নিঃশ্বাসের মাত্রার হেরফেরের মতো শরীরিক বৈশিষ্ট্যগুলোর ওপর নির্ভর করে। তবে যে কেউ এ বৈশিষ্ট্যগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পলিগ্রাফ মেশিন ব্যবহার করলেও এ থেকে পাওয়া ফলকে নিঁখুত বলার উপায় নেই।

মিথ্যাবাদীর চেহারায় তার মনের ভাবের ছাপ পড়ে এমন ধারণা নতুন নয়। চার্লস ডারউইনের আমল থেকে এ ধারণা চলে এসেছে। তিনি নিজেও বেশ কিছু মনোবিদ্যার পরীক্ষা করেছিলেন। ১৮৭২ সালে এক গবেষণায় তিনি দেখেন, ‘মুখের যে সব পেশি আমাদের ইচ্ছার অধীনে নেই সেগুলো কখনও কখনও নিজে থেকে কোনো অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে পারে।’

তবে এসব পেশির পরিমাপ, নিয়ন্ত্রণ বা চিহ্নিত করা সহজ নয়। অনিচ্ছাকৃত, অনিয়ন্ত্রিত ক্ষুদ্র-অভিব্যক্তিগুলো শুধু এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশের জন্য দেখা যায়। ৪০ থেকে ৬০ মিলিসেকেন্ডের পরে অভিব্যক্তিগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়।

অভিব্যক্তি তৈরি করে মুখের এমন নির্দিষ্ট পেশি শনাক্ত করার জন্য বেশিরভাগ গবেষণায় ফেসিয়াল সারফেস ইলেক্ট্রোমাইয়োগ্রাফি বা এসইএমজি নামের একটি কৌশল ব্যবহার করা হয়। এটি মুখের পেশির বৈদ্যুতিক কর্মকাণ্ড পরিমাপ করে এবং মানুষের পক্ষে শনাক্ত করা কঠিন এমন সব সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি চিহ্নিত করতে পারে।

ইসরায়েলি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় একটি নতুন ধরনের পরিধানযোগ্য ইলেক্ট্রোড পরীক্ষা করা হয়েছে। এটি এসইএমজি ডিভাইসের চেয়ে বেশি সংবেদনশীল ও আরামদায়ক। ভিডিও ফুটেজে মুখের অভিব্যক্তি পড়ার জন্য প্রশিক্ষিত একটি মেশিন লার্নিং টুলকেও গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে।

লিভি ব্যাখ্যা করেন, ‘এটা শুরুর দিককার একটা গবেষণা ছিল, যে কারণে খুব সাধারণ মিথ্যা কথা দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে।’

পরীক্ষায় দুই জন ব্যক্তিকে সামনাসামনি ইলেক্ট্রোড লাগিয়ে বসানো হয়। একজন হেডফোন লাগিয়ে কানে যা শুনছেন সেটা বলেন বা ভিন্ন কিছু বলেন। আর তার সামনে বসা ব্যক্তি ধরার চেষ্টা করেন কখন তিনি সঠিক কথা বলছেন।

দুই অংশগ্রহণকারী যখন অডিও শুনছে, কথা বলছে ও প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে সে সময় গবেষকেরা তাদের দুই ভ্রুর মাঝের পেশি (যাকে করুগেটর সুপারসিলিয়া বলা হয়) ও গালের পেশির (জাইগোম্যাটিকাস মেজর) কার্যকলাপ রেকর্ড করেন।

গবেষণায় ৪৮ জন অংশগ্রহণকারীর মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নিদর্শন বা ‘সূত্র’ পাওয়া গেছে। কিছু লোক মিথ্যা বলার সময় তাদের গালের পেশিগুলিকে সক্রিয় করে, কেউ বা তাদের ভ্রুর কাছে পেশি কুঁচকে ফেলে।

লিভি ও তার সহকর্মীরা গবেষণাপত্রে লিখেছেন, ‘আমরা সব অংশগ্রহণকারীর মিথ্যা সফলভাবে ধরতে পেরেছি। মানুষের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ পাওয়া যন্ত্রের চেয়ে এর সফলতা অনেক বেশি।’
মিথ্যা কথা ধরার অ্যালগরিদমটি দিয়ে লিভি ও তার দল ২২ থেকে ৭৩ শতাংশ সময় যথাযথভাবে মিথ্যা কথা ধরতে পেরেছে।
গবেষকেরা বলছেন, পরীক্ষামূলক অ্যালগরিদমটির আরও উন্নতি দরকার। কারণ দেখা গেছে, মানুষের যেসব পেশি তথ্য প্রকাশ করে সেগুলো বদলাতে থাকে।

তবে দুর্ভাবনার বিষয় হলো, যেসব ব্যক্তি সফলভাবে তাদের পার্টনারকে প্রতারিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন, তাদেরকে মেশিন-লার্নিং অ্যালগরিদমও খুব একটা শনাক্ত করতে পারেনি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাস্তব জীবনে বা জটিল পরিস্থিতিতে মিথ্যা শনাক্ত করা আরও চ্যালেঞ্জিং। মিথ্যাবাদীরা সাধারণত মিথ্যা ও অর্ধ-সত্য মেশানো দীর্ঘ গল্প শোনান। এছাড়া মিথ্যা বলার সময় অনেকে শব্দ বাদ দিয়ে দেন, এড়িয়ে যান বা সত্য ঢাকতে দুর্বোধ্যভাবে কথা বলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

দ্য টাইমস অফ ইসরায়েলকে লিভি বলেন, ‘ আমরা আশা অরি আরও উন্নতি ও সফল পরীক্ষার পর এটি পলিগ্রাফের শক্ত বিকল্প হিসেবে দাঁড়াবে।’

লিভি ও তার সহকর্মীদের ধারণা, ইমেজ প্রসেস করার যে যন্ত্র সেটিকে আরও উন্নত করে কণ্ঠের পরিবর্তন নিয়ে যে সব প্রযুক্তি কাজ করে সেগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা যাবে।

আরও পড়ুন:
জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে আবেদনের সময় বাড়ল ৭ দিন

শেয়ার করুন

ভার্চুয়াল মিটিং সহজ করতে আসছে কনভে

ভার্চুয়াল মিটিং সহজ করতে আসছে কনভে

রূপায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘ কনভে-এর ইনোভেশন অনেক সমস্যার সহজ সমাধান দেবে। এখন চার দেশের মানুষজন এই ইনোভেশনে কাজ করছে। কনভে একটি ভার্চুয়াল কোলাবরেশন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ভিডিও কনফারেন্সিং, বিভিন্ন কোলাবরেশন টুলস ও ভিজ্যুয়াল বোর্ডের সমন্বয়ে কর্মীদের মধ্যে খুবই কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলা যায়।’

ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়াতে দেশে তৈরি হয়েছে বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ‘কনভে’। ভার্চুয়াল এ মিটিং প্ল্যাটফর্মটিতে একসঙ্গে ৩০০ জনের বৈঠকের ব্যবস্থা আছে।

সিনেসিস আইটি নামের প্রতিষ্ঠান আগামী বছরের শুরুতে ভার্চুয়াল অফিস কোলাবরেশন প্ল্যাটফর্ম ‘কনভে’ নিয়ে আসছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী (সিইও) রূপায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া গেলে সমস্যায় পড়ি টিম সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে। একপর্যায়ে পুরো টিম বাধ্য হয়ে রিমোট কোলাবরেশন ব্যবহার শুরু করি। করোনা আগে থেকে সিনেসিস ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবহার শুরু হয়।

‘রিমোট কোলাবরেশন এখনো নতুন, এখানে অনেক কিছু দরকার। কনভে-এর ইনোভেশন অনেক সমস্যার সহজ সমাধান দেবে। এখন চার দেশের মানুষজন এই ইনোভেশনে কাজ করছে। কনভে একটি ভার্চুয়াল কোলাবরেশন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ভিডিও কনফারেন্সিং, বিভিন্ন কোলাবরেশন টুলস ও ভিজ্যুয়াল বোর্ডের সমন্বয়ে কর্মীদের মধ্যে খুবই কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়েছে তথ্য নিরাপত্তায়, যা জুমের একটা বড় দুর্বলতা। কনভে তৈরি করা হয়েছে গ্লোবাল মার্কেটের জন্য। এটি প্রচলিত অন্য যে কোনও অ্যাপের চেয়ে বহুগুণে ভালো।

‘বর্তমানে অনায়াসে ৩০০ জনের মিটিং করা যাবে, যা আগামীতে ১২০০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা আছে। সিনেসিসের কয়েকটি টিম এখন কনভে ব্যবহার করছে। আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে সীমিত কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য মার্কেটে আসবে কনভে।’

আরও পড়ুন:
জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে আবেদনের সময় বাড়ল ৭ দিন

শেয়ার করুন

পেগাসাস-নির্মাতা ইসরায়েলি ফার্মের বিরুদ্ধে অ্যাপলের মামলা

পেগাসাস-নির্মাতা ইসরায়েলি ফার্মের বিরুদ্ধে অ্যাপলের মামলা

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত এনএসও কুখ্যাত হ্যাকার। একবিংশ শতাব্দীর অনৈতিক কাজ সম্পাদনকারী এই সংস্থাটি অত্যন্ত উন্নতমানের সাইবার নজরদারি যন্ত্রপাতি তৈরি করেছে। যা অপব্যবহারের ইন্ধন জোগায়।

নিজেদের আইফোন ও অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহার করা ব্যক্তিদের টার্গেট করার জন্য ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার পেগাসাসের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে অ্যাপল।

মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার মার্কিন ফেডারেল আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়। এর মাধ্যমে ১০ কোটি আইফোন ব্যবহারকারী যেন এনএসও গ্রুপের টার্গেট থেকে মুক্ত থাকে তার নিশ্চয়তা চাইছে অ্যাপল।

মামলার পর অ্যাপল জানায়, ব্যবহারকারীদের ক্ষতি রোধ করতে এনএসও গ্রুপকে নিজেদের কোনও সফ্টওয়্যার, পরিষেবা বা ডিভাইস ব্যবহারে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানিয়েছে তারা।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত এনএসও কুখ্যাত হ্যাকার। একবিংশ শতাব্দীর অনৈতিক কাজ সম্পাদনকারী এই সংস্থাটি অত্যন্ত উন্নতমানের সাইবার নজরদারি যন্ত্রপাতি তৈরি করেছে। যা অপব্যবহারের ইন্ধন জোগায়।

গত জুলাইয়ে ইসরায়েলি স্পাইওয়ার পেগাসাস ঘিরে হইচই শুরু হয় বিশ্বজুড়ে। দ্য গার্ডিয়ান দাবি করে, সারা বিশ্বের ১৮০ জনের বেশি সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, শিল্পপতি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ফোন হ্যাক করা হয়েছে পেগাসাসের মাধ্যমে।

সম্প্রতি পেগাসাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই বিষয়ে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, মানবাধিকারের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জো বাইডেন প্রশাসন।

তবে, এনএসও-এর বিরুদ্ধে মামলা করা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৯ সালে গুপ্তচর সরঞ্জাম তৈরি করা সংস্থাটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল ফেসবুক। সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং অন্যদের ওপর সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে আঁড়িপাতার অভিযোগ দিয়েছিল সংস্থাটি।

আরও পড়ুন:
জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে আবেদনের সময় বাড়ল ৭ দিন

শেয়ার করুন

ব্ল্যাকফ্রাইডে উপলক্ষে এক্সনহোস্টে ৭০% পর্যন্ত ছাড়

ব্ল্যাকফ্রাইডে উপলক্ষে এক্সনহোস্টে ৭০% পর্যন্ত ছাড়

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭০ দেশে ডোমেইন হোস্টিং সেবা প্রদান করছে এক্সনহোস্ট । এরই মধ্যে সিপ্যানেল, লাইটস্পিডসহ বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়েছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানটি।

দেশের শীর্ষস্থানীয় হোস্টিং কোম্পানি এক্সনহোস্ট প্রতিবারের মতো এবারও আয়োজন করেছে ব্ল্যাকফ্রাইডে সেল।

ব্ল্যাকফ্রাইডে হলো বিশ্বের শপিং দুনিয়ার বহুল প্রতীক্ষিত মেগা সেলের দিন। যা পশ্চিমা বিশ্বে থ্যাংকস গিভিং ডের পরের দিন ব্ল্যাকফ্রাইডে হিসেবে পরিচিত। এদিন ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় বিশেষ মূল্য ছাড় দেন।

ব্ল্যাকফ্রাইডে উপলক্ষে ওয়েব হোস্টিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এক্সনহোস্ট হোস্টিং সার্ভিসে ২৫ থেকে ৭০ শতাংশ ছাড় ঘোষণা করেছে। এক্সনহোস্টের ওয়েবসাইট থেকে খুব সহজেই কুপন কোড ব্যবহার করে ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যাবে।

কাস্টমাররা বিকাশ, ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে সহজেই এক্সনহোস্ট থেকে ডোমেইন, ওয়েব হোস্টিং, ভিপিএস এবং ডেডিকেটেড সার্ভার কিনতে পারবেন।

আইসিএনএন স্বীকৃত রেজিস্ট্রার কোম্পানি পার্পল আইটি লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এক্সনহোস্ট ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন সেবা দিয়ে থাকে।

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭০ দেশে ডোমেইন হোস্টিং সেবা প্রদান করছে এক্সনহোস্ট । এরই মধ্যে সিপ্যানেল, লাইটস্পিডসহ বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়েছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে কর্পোরেট ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেইন, ওয়েব হোস্টিং, ভার্চুয়াল সার্ভার, ডেডিকেটেড সার্ভার ও ক্লাস্টার সার্ভার সলিউশন দিচ্ছে এক্সনহোস্ট।

আরও পড়ুন:
জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে আবেদনের সময় বাড়ল ৭ দিন

শেয়ার করুন

আরও ১০ হাজার স্কুলে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব

আরও ১০ হাজার স্কুলে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব

ফাইল ছবি

একনেক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে সরকার নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন’ প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এর মাধ্যমে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন আইটি সেবা সহজ করা হবে।’

ছাত্রজীবন থেকে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিমনস্ক করে গড়ে তুলতে দেশের প্রায় আট হাজার স্কুলে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আরও ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের নতুন প্রকল্প নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে ১ লাখ ১০ হাজার উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগও দেয়া হবে।

এ সংশ্লিষ্ট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ‘ইস্টাবলিশিং ডিজিটাল কানেকটিভিটি’ বা ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন’ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

একনেকের মঙ্গলবারের সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একনেকের অন্য সদস্যরা শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সভায় অংশ নেন।

একনেক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে সরকার নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন’ প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এর মাধ্যমে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন আইটি সেবা সহজ করা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলমসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। ৫ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকার এ প্রকল্পে ৩ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা ঋণ দেবে চীন সরকার। এর মাধ্যমে সরকারের সেবাগুলোকে ই-সেবায় রূপান্তরের মাধ্যমে জনগণের কাছে দ্রুত ও সহজে পৌঁছে দেয়া এবং সকল ক্ষেত্রে আইসিটির ব্যবহার বৃদ্ধিকল্পে প্রয়োজনীয় আইসিটি অবকাঠামো স্থাপন করা হবে।

প্রকল্পটির আওতায় দেশব্যাপী ১ লাখ ৯ হাজার ২৪৪টি ব্রডব্যান্ড অ্যান্ড ইউজার সংযোগ দেয়া হবে, ১০ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, জেলা পর্যায়ে ৫৭টি বিশেষায়িত ল্যাব, সেন্ট্রাল ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম এবং ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি সেন্টার অব এক্সিলেন্স স্থাপন করা হবে।

জেলা ও উপজেলা কমপ্লেক্সে আইটি অবকাঠামোসহ ল্যান, নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) স্থাপন, ৫৫৫টি ডিজিটাল সার্ভিস স্টোরেজ অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন, মাঠ পর্যায়ের ক্লাউড ফাইল সার্ভিস স্থাপন করা হবে।

ডিজিটাল স্টোরেজের জন্য কেন্দ্রীয় সার্ভার অবকাঠামো স্থাপন, আইসিটি ল্যাব, স্মার্ট ভার্চুয়াল ক্লাসরুম, ডিসট্যান্স লার্নিং প্ল্যাটফর্মসহ প্রয়োজনীয় আইসিটি অবকাঠামো সুবিধাসংবলিত একটি ডিজিটাল লিটারেসি সেন্টার স্থাপন, সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস (সিআরভিএস) বাস্তবায়নে সিআরভিএস সেন্ট্রাল আইএসডিপি সার্ভার স্থাপন এবং ১টি ২১ তলাবিশিষ্ট ‘ডিও আইসিটি টাওয়ার’ নির্মাণ করা হবে।

তাছাড়া মাঠ পর্যায়ে সাড়ে ৫ হাজার এনরোলমেন্ট অবকাঠামো স্থাপন এবং ১৭ হাজার ৩১৪টি সার্ভিস ডেলিভারি ডিভাইস বিতরণ, ১০টি ডিজিটাল ভিলেজ স্টেশন স্থাপন, ৪৯২টি অনাবাসিক ভবন নির্মাণ, উপজেলা শেয়ারড আইসিটি অপারেশন সেন্টারের জন্য ৪৯১ উপজেলা বিল্ডিং একতলা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হবে। ১০টি ডিজিটাল ভিলেজ স্টেশনের আওতায় ফিল্ড সার্ভে এবং ২০ হাজার কৃষককে স্মার্ট সেন্সর ডিভাইস দেয়া হবে।

এ ছাড়া দক্ষতা বাড়াতে ৪০ জনকে বৈদেশিক প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে, জাতীয়ভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে ৩ হাজার ৩৩৫ জনকে এবং স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ পাবেন ১৬ হাজার ৮২১ জন। সেমিনার এবং কনফারেন্সও আয়োজন করা হবে।

আইসিটি বিভাগ বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চগতিসম্পন্ন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত হবে, প্রান্তিক পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি ব্যবহার ও চর্চা বৃদ্ধি পাবে, ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন ও গবেষণা সম্ভব হবে, সরকারি সেবা স্বচ্ছ ও সহজ করার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সব নাগরিকের জন্য ডিজিটাল সেবা গ্রহণ, জ্ঞানভিত্তিক দক্ষ সমাজ গঠন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের আনুষঙ্গিক কাজের জন্য ২টি জিপ, ২টি মাইক্রোবাস, ২টি ডাবল কেবিন পিকআপ ক্রয়, ২৮ ধরনের পরামর্শক সেবা ক্রয়; কম্পিউটার এক্সেসরিজ এবং সফটওয়্যার সংগ্রহ, ১০২টি অফিস ইক্যুইপমেন্ট ও ৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৮২টি ফার্নিচার সংগ্রহ করা হবে।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ বলছে, সরকারের ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তিসমূহের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা লাভের জন্য নীতি ও কৌশল গ্রহণের সার্বিক নির্দেশনা রয়েছে।

এ ছাড়া ডিজিটাল অর্থনীতি বাস্তবায়ন ও মানবসম্পদ বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক আইসিটি ল্যাবে সজ্জিতকরণ; স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জনগণের নিকট সেবা সরবরাহ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বরান্বিত করা; আইসিটিভিত্তিক মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রসার এবং তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনশক্তি বিনির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ প্রকল্প সে লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন:
জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে আবেদনের সময় বাড়ল ৭ দিন

শেয়ার করুন