অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের শর্ট ডকুমেন্টরি

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের শর্ট ডকুমেন্টরি

নির্মাতা রেমন্ড সালোমন বলেন, ‘মাত্র ৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ডকুমেন্টরিটিতে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের নিপীড়নের বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। জাতি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার জন্মদিন ঠিক সেই দিনেই উদযাপিত হয়, যেদিন এই ভূমিতে আদিবাসীদের ওপর নিপীড়নের সূচনা হয়েছিল। এটি মানবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’    

অস্ট্রেলিয়া দিবস ও দেশটির আদিবাসীদের ওপর নির্যাতনের ইতিহাস নিয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রেমন্ড সালোমন নির্মিত শর্ট ডকুমেন্টরি ‘What is Australia Day?’ স্থান পেয়েছে ক্যানবেরা শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।

ক্যানবেরার ডেন্ডি সিনেমা হলে ১৭ নভেম্বর প্রদর্শিত হবে ডকুমেন্টরিটি।

চার মিনিটের এই ডকুমেন্টরিতে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৮ বছরের আদৃতা আকাশ। নেপথ্যে কণ্ঠ দিয়েছেন শামা রেইন।

সিনেমাটোগ্রাফি ও সম্পাদনা করেছেন শিমুল শিকদার। ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা রিয়াজ আহমেদের তত্ত্বাবধানে ডকুমেন্টরিটির পরিকল্পনা সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান পিঙ্ক ক্রিয়েটিভ।

অস্ট্রেলিয়ার জাতিগত চেতনা, অস্ট্রেলিয়া দিবস উদযাপনের তারিখ হিসেবে ২৬ জানুয়ারিকে বেছে নেয়া এবং এর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের ওপর নির্যাতনের যোগসূত্রকে তুলে ধরা হয়েছে ডকুমেন্টরিটিতে।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ব্রিটিশদের প্রথম আগমন ঘটে ১৭৮৮ সালের ২৬ জানুয়ারি। শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের ওপর চালাতে থাকে বর্বরতা। এক শ বছরের বেশি সময় ধরে হত্যা, লুটপাট, ভূমি দখল, ভাষা ও সংস্কৃতি ধ্বংস করার পাশাপাশি বর্ণবাদী আইন প্রণয়ন করে আদিবাসীদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে।

আর এ কারণে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীরা দুঃসহ অভিজ্ঞতা শুরুর দিন হিসেবে ২৬ জানুয়ারিকে স্মরণ করে। দিনটিকে রাষ্ট্রীয় দিবস হিসেবে আজও মেনে নিতে পারেনি তারা।

ডকুমেন্টরিটির সব কলাকুশলী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। দেশটির আদিবাসীদের মতো আমাদের পূর্বপুরুষরাও এমন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন দুই শ বছর ধরে।

নির্মাতা রেমন্ড সালোমন ২৬ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া দিবস পালনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এমন উদযাপন আমাদের জাতিগত বিবেককে আহত করে।’

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের শর্ট ডকুমেন্টরি

তিনি বলেন, ‘মাত্র ৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ডকুমেন্টরিটিতে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের নিপীড়নের বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। জাতি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার জন্মদিন ঠিক সেই দিনেই উদযাপিত হয়, যেদিন এই ভূমিতে আদিবাসীদের ওপর নিপীড়নের সূচনা হয়েছিল।

‘এটি মানবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। দেশ ও জাতিগত উন্নয়নের যে স্বপ্ন আমরা দেখি, তা কখনো পরিপূর্ণভাবে অর্জন করা যাবে না যতদিন ২৬ জানুয়ারিকে জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করে যাব।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হাসন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে...

হাসন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে...

বাউল সাধক হাসন রাজা। ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের পরিচিতিও হয়ে উঠেছে ‘হাসন রাজার শহর’ হিসেবে। তবে নিজ শহরেই হাসন রাজার মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নেই কোনো আয়োজন। এতে ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীরা।

নামের সঙ্গে যুক্ত ‘রাজা’। উত্তরাধিকার সূত্রে ছিলেন জমিদার। কিন্তু কর্মে ও চিন্তায় ছিলেন আপাদমস্তক এক বাউল।

তিনি হাসন রাজা। নিজের কাছেই যার জিজ্ঞাসা ছিল- বাউলা কে বানাইলোরে/ হাসন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে।

বাংলা গানের এই খেয়ালি রাজার ৯৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯২২ সালের ৬ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় তার। আর জন্মেছিলেন ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের লক্ষণশ্রীতে।

সুনামগঞ্জের তাই পরিচিতিও হয়ে উঠেছে ‘হাসন রাজার শহর’ হিসেবে। তবে নিজ শহরেই হাসন রাজার মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নেই কোনো আয়োজন। এতে ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীরা।

গানে গানে প্রেম, বিরহ, জীবনদর্শন, আধ্যাতিকতার কথা বলে গেছেন হাসন রাজা। গানকে তিনি নিয়েছিলেন সাধনা হিসেবে। বাংলা গানের যে মরমী ধারা, যুগের পর যুগ ধরে সংগীতপিপাসুদের তৃষ্ণা মিটিয়ে চলছে আর জিজ্ঞাসু করে তুলছে, সেই ধারার অন্যতম সাধক পুরুষ হাসন রাজা। যদিও গানে গানে তিনি নিজের সম্পর্কে বলে গেছেন- ‘আমি কিছু নয় রে, আমি কিছু নয়’।

নিজেকে ‘কিছু নয়’ বলে যাওয়া হাসন রাজা মৃত্যুর ৯৯ বছর পরও প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করে বাংলার মাটিগন্ধা গান আর শেকড়ের সংস্কৃতিতে। জীবদ্দশায় প্রায় ২০০ গান লিখে গেছেন তিনি, যা আজও ঘুরে বেড়ায় লোকের মুখে মুখে। গীত হয় নানা শিল্পীর কণ্ঠে।

হাসন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে...

তবে হাসন রাজার সৃষ্টিকে সংরক্ষণ আর তার সংগীতের শুদ্ধ প্রচারের জন্যও এখন পর্যন্ত নেই তেমন কোনো উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে হাসন রাজার নামে একটি একাডেমি গঠনের দাবি জানানো হলেও তা থেকে গেছে উপেক্ষিতই।

সুনামগঞ্জ জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাসন রাজাকে নিয়ে আমাদের চর্চা দিন দিন কমে যাচ্ছে আর সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ না নেয়া হলে আগামীতে এটি হারিয়ে যাবে। এ ছাড়া একটি হাসন রাজা একাডেমি যদি তৈরি করা হয় এবং সেখানে হাসন রাজার গানগুলো যদি শুদ্ধরূপে গাওয়ানো হয় তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তার গানের সুর ও কথাগুলোর সঠিক ধারণা পাবে।

হাসন রাজার নামে একটি একাডেমি গড়ার উদ্যোগ স্বাধীনতার পরপরই নেয়া হয়েছিল জানিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মী মলয় চক্রবর্তী রাজু বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই সময়েই হাসন রাজা একাডেমি তৈরির জন্য ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে অনেক দৌড়াদৌড়ি করার পর হাসন রাজা একাডেমি তৈরির জন্য মন্ত্রণালয় থেকে টাকা এলেও সেটিকে একটি মহল শিল্পকলা একাডেমি নামকরণ করে নেয়।

তিনি বলেন, ইউনিসকো হাসন রাজা চর্চার ওপর কিছু টাকা দিয়েছিল, সেই টাকা দিয়েই আমরা হাসন রাজার শতাধিক গান আবারও নতুন করে গাওয়া হয় এবং হাসন রাজার প্রপৌত্র সামারীন দেওয়ান হাসন জীবনী ও গানের দুটি বই লেখেন। তবে সরকারি উদ্যোগে হাসন রাজার সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ ও প্রচারে তেমন উদ্যোগ নেই।

মলয় চক্রবর্তী আরও বলেন, সুনামগঞ্জে হাসন রাজার মৃত্যুবার্ষিকী পালন হয় না এটি দুঃখের বিষয়। তবে আমরা তার জন্মশতবার্ষিকী বড় করে আয়োজন করব।

হাসন রাজা জন্ম ও মৃত্যবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী বলেন, হাসন রাজার নামে সুনামগঞ্জ জেলার পরিচিতি গড়ে উঠলেও এখানে তার সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ ও চর্চার কোনো উদ্যোগ নেই। তার জীবনী, ইতিহাস ও গানগুলো ধরে রাখতে হলেও হাসন রাজাকে নিয়ে চর্চা করার জন্য একটি একাডেমির দরকার।

সরকারিভাবে মৃত্যুবার্ষিকীতে কোনো আয়োজন নেই জানিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা আহমেদ মঞ্জুরুল চৌধুরী বলেন, ৬ ডিসেম্বর কোনো আয়োজন নেই, তবে সামনে একটি উৎসব আছে ১১-১২ জানুয়ারি। সেখানে আমরা তাকে স্মরণ করব।

রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ না থাকলে পারিবারিক উদ্যোগে সুনামগঞ্জে গড়ে তোলা হয়েছে হাসন রাজা স্মৃতি জাদুঘর। সেখানে সংরক্ষিত তার স্মৃতিগুলো দেখতে অনেকেই আসেন দূর-দূরান্ত থেকে।

আর তার গান তো ছড়িয়ে আছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে। যার কথা ও সুর সংসারি মানুষের মধ্যেও আচমকা জাগিয়ে তুলে বাউলা মন। আপন মনেই গেয়ে ওঠে- ‘পরের জায়গা পরের জমি/ ঘর বানাইয়া আমি রই/ আমি তো সেই ঘরের মালিক নই।’

শেয়ার করুন

আবৃত্তি সংগঠন কজনা’র নতুন কমিটি

আবৃত্তি সংগঠন কজনা’র নতুন কমিটি

আবৃত্তি সংগঠন কজনা’র দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা

আগামী ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল কজনা ৩২ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে কজনার নতুন প্রযোজনা অলোক বসু রচিত ও গ্রন্থিত ‘কমলা রঙের রোদ অথবা জীবনানন্দ’ পরিবেশিত হবে। এ ছাড়া বছরজুড়ে সাড়ম্বরে মুজিববর্ষ উদযাপন করতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে কজনা।

দেশের অন্যতম আবৃত্তি সংগঠন কজনা’র নতুন কমিটি গঠন হয়েছে। রাজধানীর গুলশানে হোটেল বেঙ্গল ইনে শনিবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির দ্বিবার্ষিক সভায় এই কমিটি অনুমোদন পায়।

নতুন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অলোক বসু, সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ কর।

সহসভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন লুৎফুল আহমেদ লিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেরুননেছা ছোট, দপ্তর ও অর্থ সম্পাদক কামরুল হাসান ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মুরশিদ মিজান রাসেল।

কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ফারহানা ডোরা, সুমনা সিদ্দিকী, নাহিদা আনন্দ, বুশরা সারাজিন ও দেলোয়ারা নার্গিস‌।

সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তৌফিক রহমান, আহমেদ বদরুদ্দোজা মুশতাক, ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু, শারমিন রেজা ইভা, আহসান রাসেল, নাফিজুল কাদিম, ড. শিহাব শাহরিয়ার, ড. নিমাই মণ্ডল ও রিজাউল করিম মিন্টু।

আবৃত্তি সংগঠন কজনা’র নতুন কমিটি
নতুন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অলোক বসু (ডানে) ও সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ কর। ছবি: নিউজবাংলা

সভায় তিন সদস্যের সাবজেক্ট কমিটি তাদের মনোনীত করলে সর্বসম্মতিক্রমে সমর্থন দেন কাউন্সিলররা।

বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সভা। এরপর অনিমেষ করের তোলা সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদনের ওপর আলোচনা করেন সদস্যরা।

আগামী ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল কজনা ৩২ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে কজনার নতুন প্রযোজনা অলোক বসু রচিত ও গ্রন্থিত ‘কমলা রঙের রোদ অথবা জীবনানন্দ’ পরিবেশিত হবে। নির্দেশনায় থাকবেন তৌফিক রহমান। এ ছাড়া বছরজুড়ে সাড়ম্বরে মুজিববর্ষ উদযাপন করতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে কজনা।

শেয়ার করুন

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে গীতিকার বিজয় সরকারের বসতবাড়ি

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে গীতিকার বিজয় সরকারের বসতবাড়ি

চারণ কবি বিজয় সরকার

বিজয় সরকারের নাতি বিভাষ চন্দ্র সিকদার বলেন, ‘কবির বসতভিটা এলাকায় বর্তমানে আমার পরিবারই বসবাস করছে। অন্যরা ডুমদি ছেড়ে বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন অনেক আগেই। কবির বসতভিটা এবং বাসভবন দেখার কেউ নেই। মেঝের টাইলস ভেঙে গর্ত হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে এই ভবনটির বেশিরভাগ অংশ। খুবই এলোমেলো অবস্থা। থাকার-বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা এখানে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যান।’

‘এ পৃথিবী যেমন আছে, তেমনই ঠিক রবে, সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে’, ‘নবী নামের নৌকা গড়’, ‘আল্লাহ নামের পাল খাটাও’, ‘বিসমিল্লাহ বলিয়া মোমিন’ কিংবা স্ত্রী বীনাপাণির মৃত্যুর খবরে ‘পোষা পাখি উড়ে যাবে সজনী’...এমনই অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা বিজয় সরকার।

প্রকৃত নাম বিজয় অধিকারী হলেও সুর, সঙ্গীত ও অসাধারণ গায়কীর জন্য ‘সরকার’ উপাধি লাভ করেন। তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক ছিলেন। লিখেছেন ১৮ শর বেশি গান।

চারণ কবি হিসেবে পরিচিত এই সংগীত সাধকের ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। বার্ধক্যজনিত কারণে ১৯৮৫ সালের এই দিনে কলকাতায় পরলোকগমন করেন তিনি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ায় তাকে সমাহিত করা হয়।

বিজয় সরকারের জন্ম ১৩০৯ বঙ্গাব্দের ৭ ফাল্গুন নড়াইলের নিভৃতপল্লী ডুমদি গ্রামে। বাবার নাম নবকৃষ্ণ অধিকারী ও মা হিমালয়া দেবী। তার দুই স্ত্রী বীণাপানি ও প্রমোদা অধিকারীর কেউই বেঁচে নেই। সন্তানদের মধ্যে কাজল অধিকারী ও বাদল অধিকারী এবং মেয়ে বুলবুলি অধিকারী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন।

মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই সুরস্রষ্টার মৃত্যুর ৩৬ বছরের মাথায় তার বসতভিটা এখন অবহেলায় নষ্ট হওয়ার পথে। ২০০৯ সালে জেলা পরিষদের অর্থায়নে বিজয় সরকারের বাড়ি নড়াইল সদরের ডুমদিতে ভবন ও বিজয় মঞ্চ নির্মিত হলেও অযত্ন আর অবহেলায় দিন দিন তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বেহালদশা বিজয় মঞ্চেরও।

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে গীতিকার বিজয় সরকারের বসতবাড়ি
বিজয় সরকারের বাড়িতে নির্মিত বিজয় মঞ্চের ভেতরের নোংরা অবস্থা

যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হওয়ার পথে কবির ব্যবহৃত খাটসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। এসব যেন দেখার কেউ নেই। এ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ এলাকাবাসীর মধ্যে।

বিজয় সরকারের নাতি বিভাষ চন্দ্র সিকদার বলেন, ‘কবির বসতভিটা এলাকায় বর্তমানে আমার পরিবারই বসবাস করছে। অন্যরা ডুমদি ছেড়ে বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন অনেক আগেই। কবির বসতভিটা এবং বাসভবন দেখার কেউ নেই।

‘মেঝের টাইলস ভেঙে গর্ত হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে ভবনটির বেশিরভাগ অংশ। খুবই এলোমেলো অবস্থা। থাকার-বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা এখানে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যান।’

চারণ কবি বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের যুগ্ম-আহবায়ক এসএম আকরাম শাহীদ চুন্নু বলেন, ‘কবিয়াল বিজয় সরকার বাংলার গর্ব। তাকে নিয়ে দুই বাংলায় কাজ শুরু হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বিজয় সরকারের অবদান রয়েছে। তিনি কবিগান গেয়ে যে টাকা উর্পাজন করতেন, তা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয় করতেন।

‘তাই ‘কণ্ঠযোদ্ধা’ হিসেবে বিজয় সরকারকে ‘স্বাধীনতা পদক’ দেয়ার দাবিসহ জাতীয় চারণকবির স্বীকৃতি প্রদান, বিজয় সরকারের নামে নড়াইলে ফোকলোর ইনস্টিটিউট নির্মাণ এবং পাঠ্যপুস্তকে কবির রচনা ও জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।’

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে গীতিকার বিজয় সরকারের বসতবাড়ি
অযত্নে নষ্ট হচ্ছে কবির ব্যবহৃত খাট

নড়াইল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সদস্য সচিব শরফুল আলম লিটুও স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় সরকারের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘স্বাধীনতা পদক’ দেয়ার দাবি জানান।

বিজয়ভক্তদের দাবি, পাঠ্যপুস্তকে কবির রচনা ও জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি তার গান পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষণ ও তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী জন্মভূমি নড়াইলের ডুমদিতে পালন করতে হবে।

নড়াইল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, বসতভিটা রক্ষণাবেক্ষণসহ তার স্মৃতি রক্ষার্থে স্মৃতি সংগ্রহশালা অথবা জাদুঘর নির্মাণ, সামাজিক পরিবেশসহ নানা উন্নয়ন করার বিষয়টি তারা চিন্তা করছেন।

শেয়ার করুন

শিল্পকলায় ১১ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব শুরু

শিল্পকলায় ১১ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব শুরু

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ছবি: নিউজবাংলা/ সাইফুল ইসলাম

প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীন বাংলাদেশের সংস্কৃতির অগ্রযাত্রায় অসামান্য ভূমিকা রাখা ৫০জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সংস্কৃতিজন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ বার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মরণীয় ও প্রাঞ্জল করতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হলো ১১ দিনব্যাপী ‘বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব’।

মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের আয়োজনে শুক্রবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির নন্দনমঞ্চে এই উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীন বাংলাদেশের সংস্কৃতির অগ্রযাত্রায় অসামান্য ভূমিকা রাখা ৫০জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সংস্কৃতিজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরীয় পরিয়ে এবং স্বারক দিয়ে সম্মান জানানো হয়। এরপর কামরুল হাসান ফেরদৌসের কোরিওগ্রাফিতে পরিবেশিত হয় গীতিআলেখ্যা ‘স্বরণে ৭১’।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা দুটি সমার্থক শব্দ। একটি থেকে আরেকটি আলাদা করা যায় না। আমরা যুদ্ধ করে যে সাম্প্রদায়িকতা রুখে দিয়েছিলাম, তা আবার একটি গোষ্ঠী ছড়িয়ে দিচ্ছে, কিন্তু এই যে আমাদের সংস্কৃতি। এর ফলে এখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ জাগ্রত হয়ে আছে। আমাদের নতুন যে প্রজন্ম, সেই তরুণদের এখন দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশকে গড়ে তোলা।’

শিল্পকলায় ১১ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব শুরু
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ছবি: নিউজবাংলা/সাইফুল ইসলাম

তিনি বলেন, ‘অস্ত্রের যুদ্ধের বিপরীত হচ্ছে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ। এটি খুব অল্প সময়ে মানুষকে শাণিত করতে পারে। তাই এই চেতনাকে উজ্জীবিত রাখতে হবে। আজকের যে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যৎসব, এই যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানো, তা আমাদের সংস্কৃতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং তরুণরা এ থেকে প্রত্যয় খুঁজে পাবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।’

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিজন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর যে যার কাজে ফিরে গেছেন, কিন্তু যারা সংস্কৃতি ভালোবাসেন, তারা এখনও এর সঙ্গেই আছেন। এখন আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী একসঙ্গে পালন করছি।

‘এই সময়টি যারা দেখছেন, তারা ভাগ্যবান। এটা ঠিক যে এদেশে এখনও মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ মাথা উঁচু করতে চাইছে, তবে তাদের পরাজিত করে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করব আমরা। আর আমাদের সঙ্গ দেবে আমাদের তরুণরা, যারা সংস্কৃতিকে ভালোবাসে, দেশকে ভালোবাসে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় মঞ্চস্থ করে নাটক ‘ঘুমনেই’।

শেয়ার করুন

৫ বছরে ফটোগ্রাফিতে ৫ শতাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার রনির

৫ বছরে ফটোগ্রাফিতে ৫ শতাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার রনির

ফটোগ্রাফার আজিম খান রনি। ছবি: সংগৃহীত

‘যে ফটোগ্রাফি কখনোই আমার শখ ছিল না, সে ফটোগ্রাফিই এখন আমার প্যাশন। অনেকটা জেদ নিয়ে ফটোগ্রাফিটা করি আমি। এর জন্য অনেক সেক্রিফাইস করেছি আমি। চাকরি করে, পরিবার সামলিয়ে, দিন-রাত এর পেছনে আমি সময় দিয়েছি। প্রচুর পড়াশোনা করেছি। অনেক মানুষের ছবি দেখেছি। কী ধরণের ছবি তুললে আমি ইন্টারন্যাশনালি বিট দিতে পারব। ওয়ার্ল্ডের ভালো ভালো ফটোগ্রাফার তাদের সঙ্গে ফাইট দিয়ে একটা পুরস্কার আনা অনেক কঠিন একটা বিষয়।’

পেশাদার ফটোগ্রাফার আজিম খান রনি। জন্ম ঢাকায়। বাবার চাকরির সুবাদে বেড়ে ওঠা বগুড়ায়।

২০১১ সালে ঢাকা কলেজে ইংরেজিতে মাস্টার্স করেছেন। এর আগে অনার্স ফার্স্ট ইয়ার থেকেই করেন চাকরি। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে ভিডিওগ্রাফার হিসেবে।

পেশাদার ফটোগ্রাফার হিসেবে রনির যাত্রা ২০১৭ সালে। এরপর মাত্র ৫ বছরে ফটোগ্রাফিতে ‍শুধু আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ডই জিতেছেন ৫ শতাধিক। এর বেশিরভাগই প্রাইজমানি।

৬০ মাসের যাত্রার বিভিন্ন মুহূর্ত নিউজবাংলার সঙ্গে শেয়ার করেছেন নামী এ ফটোগ্রাফার।

কীভাবে ফটোগ্রাফিতে

ফটোগ্রাফি কখনোই আমার শখ ছিল না। আমি যেহেতু মিডিয়া জব করি ২০০৫ সাল থেকে, ভিজ্যুয়াল মিডিয়াতে, একজন ক্যামেরাপারসন হিসেবে, আমার কাছে মনে হয় হতো যে, ফটোগ্রাফির চেয়ে ক্যামেরাটাই ভালো, যেহেতু অনেক বেশি অপশন।

বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্টে গেলে ফটোগ্রাফার দেখতাম। আমার কখনো মনে হয়নি আমি ফটোজার্নালিস্ট বা ফটোগ্রাফার হব বা মনে হয় নাই ফটোগ্রাফার হব; ফটোগ্রাফি করব, কিন্তু বিভিন্ন সময় জায়গায় ঘুরতে যেতাম তখন একটা ডিএসএলআর মিস করতাম। মনে হতো একটা ডিএসএলআর থাকলে নিজের ছবিগুলো ভালো করে তুলতে পারতাম। সেই থেকে ভাবা, ভাবতে ভাবতে…একটা ডিএসএলআর কিনতে যে বাজেট লাগে তা আমার ছিল না। পরে ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আমার জন্মদিনে একটা ক্যামেরা কিনি। এটা মনে রাখার জন্য এই দিনে কেনা।

ওই সময় ডিএসএলআর মানে আমার কাছে অনেক কিছু। আমার কলিগদের দেখেছি ডিএসএলআর দিয়ে ছবি-টবি তুলছে, ফেসবুকে দিচ্ছে।

ক্যামেরা কেনা

ক্যামেরা কেনার পিছনে একটা গল্প আছে, আমার এক কলিগ আছে। তাকে আমি অনেক দিন বলছি, ভাই আমি একটা ক্যামেরা কিনব। আমাকে একটু হেল্প করেন, কী ক্যামেরা কিনব। সে আমাকে খুব নেগলেট করে বলেছিল তুমি ক্যামেরা কিনে কী করবে? সবার সামনে ভরা রুমে। খুব নেগলেট করে বলেছে। এটা আমার খুব ইগোতে লাগছে। আমি খুব জেদি টাইপের একটা ছেলে। একটা মানুষের জেদ যে তাকে কোন জায়গায় নিয়ে আসতে পারে তার একটা উদাহরণ আমি।

পরে আমি নেটে ঘাঁটাঘাঁটি করে আমার পছন্দ মতো ১ লাখ টাকা দামের ক্যানন সেভেনটি ডি, সাথে লেন্সসহ একটা ক্যামেরা কিনলাম। এরপর ছবি-টবি তুলতাম।

৫ বছরে ফটোগ্রাফিতে ৫ শতাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার রনির
কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত জেজু আন্তর্জাতিক ড্রোন ফ্লিম ফ্যাস্টিভালে প্রথম স্থান জয়ী ছবি।

শুরুতে আমার ন্যাচার ভালো লাগতো, পোকা-মাকড়, এগুলো ভালো লাগত। প্রকৃতির ছবি তুলতাম। বোটানিক্যাল গার্ডেনে চলে যেতাম। যেকোনো ন্যাচারের ছবি তুলতাম। আমার ফুলের ছবি তুলতে ভালো লাগত, ফুলের ছবি তুলতাম। পরে একটা ম্যাক্রো লেন্স কিনলাম। যেন আরও ক্লোজ আর ডিটেইল ছবিতে পাই। এই ছবিগুলো তোলা শুরু করলাম। ছবিগুলো তুলে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে সাবমিট করতাম। তখন অনেকগুলো জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপ ছিল। সবাই অনেক ভালো ভালো প্রশংসা করত; ক্রিটিক করত। অনেকে আবার নেগেটিভ কমেন্ট করত যে, এই ছবি আমি তুলি নাই, অন্য কারো ছবি। এত ভালো হয়ে যেত দুই-একটা ছবি। এটা খুব নেগেটিভলি নিত তারা। বলত র ফাইল পাঠাও। এমন অনেক নেগেটিভ মন্তব্য করত। নতুন ফটোগ্রাফার এসে এই ছবি তোলার কথা না। তখন আমার ভিতরে আরও একটা জেদ কাজ করল। আমি একবার পাবলিকলি বলছিলাম, ১০ বছর ধরে মিডিয়াতে চাকরি করি, সিনে ফটোগ্রাফির ওপরে। আমার এর ওপর পড়াশোনাও আছে, একসময় ইচ্ছে ছিল বিজ্ঞাপন তৈরি করব। কখনো ফটোগ্রাফি করবো, ফটোগ্রাফার হব এই চিন্তা ছিল না।

৫ বছরে ফটোগ্রাফিতে ৫ শতাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার রনির
গ্রিসে চানিয়া ফটো ফ্যাস্টিভলে গ্র্যান্ড প্রাইজ জয়ী ছবি।

জেদ থেকে ফেসবুক স্ট্যাটাস

তখন ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, আমি ১০ বছর ধরে ক্যামেরার পেছনে কাজ করি। আমি যদি ১০ বছর ধরে ফটোগ্রাফি করতাম তাহলে আমি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে বেস্ট ফটোগ্রাফার হতাম। তখন আবেগ থেকে এই কথাটা বলেছিলাম। এটা নিয়ে অনেকে খুব হাসাহাসি করেছে, কিন্তু আমার এখনও ১০ বছর হয়নি ফটোগ্রাফিতে। আমি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে ওয়ান অব দ্য বেস্ট ফটোগ্রাফার হয়েছি কি না বলতে পারবো না, কিন্তু বলতে পারি বাংলাদেশের মধ্যে আমি ওয়ান অব দ্য বেস্ট ফটোগ্রাফার। কারণ আমার ইন্টারন্যাশনালি যত অ্যাওয়ার্ড, যত প্রাইস পেয়েছি, এটা কম ফটোগ্রাফারেরই আছে বাংলাদেশে। আমার বেশিরভাগ অ্যাওয়ার্ডই ছিল মানিটরি প্রাইজ। মানে প্রাইজমানি। ওখান থেকে আমার যাত্রা শুরু।

ন্যাচার থেকে ফেস্টিভ্যাল ফটোগ্রাফিতে

ধীরে ধীরে ডিভাইস আপডেট করলাম। পরে দেখলাম যে না, ন্যাচার ফটোগ্রাফি করে আসলে তেমন কিছু করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন কনটেস্টে এসব ছবি দিলে ওদের ওয়ার্ল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি এত ভালো ছবি যে, আমরা ফাইট দিয়ে পারছি না। মানে আমার ছবি হচ্ছে না ন্যাচারে।

৫ বছরে ফটোগ্রাফিতে ৫ শতাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার রনির
বেটার ফটোগ্রাফি ম্যাগাজিনের ফটো অব দ্যা ইয়ার, অস্ট্রেলিয়া জয়ী ছবি

পরে দেখলাম পরিচিত অনেক ফটোগ্রাফাররা বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে ছবি তোলে। পরে আমি আস্তে আস্তে ওদিকে সুইচ করলাম। বিভিন্ন ইভেন্টে যাই ফেস্টিভ্যালের ছবি তুলি এবং সেগুলো বিভিন্ন কনটেস্টে দেয়া শুরু করলাম। দেখলাম খুব দ্রুতই অনেকগুলো অ্যাওয়ার্ড পেয়ে যাচ্ছি। তখনও আমি ফটোগ্রাফির অনেক কিছুই জানি না। কিন্তু লাকিলি বেশ ভালো ভালো কয়েকটা অ্যাওয়ার্ড পেয়ে যাওয়াতে কনফিডেন্সটা বেড়ে গেল। তখন আমার মনে হলো সিরিয়ালি কিছু করতে হবে।

ফটোগ্রাফি এখন প্যাশন

যে ফটোগ্রাফি কখনোই আমার শখ ছিল না, সে ফটোগ্রাফিই এখন আমার প্যাশন। অনেকটা জেদ নিয়ে ফটোগ্রাফিটা করি আমি। এর জন্য অনেক সেক্রিফাইস করেছি আমি। চাকরি করে, পরিবার সামলিয়ে, দিন-রাত এর পেছনে আমি সময় দিয়েছি। প্রচুর পড়াশোনা করেছি। অনেক মানুষের ছবি দেখেছি। কী ধরণের ছবি তুললে আমি ইন্টারন্যাশনালি বিট দিতে পারব। ওয়ার্ল্ডের ভালো ভালো ফটোগ্রাফার তাদের সঙ্গে ফাইট দিয়ে একটা পুরস্কার আনা অনেক কঠিন একটা বিষয়। সেখানে বাংলাদেশ থেকে একটি ছেলে তার ছবি নিয়ে পার্টিসিপেট করে অ্যাওয়ার্ড আনা অনেক কঠিন। কারণ তাদের ছবি তোলার অনেক স্কোপ থাকে, সুযোগ-সুবিধা থাকে, অনেক দামি দামি ডিভাইস সেটআপ ব্যবহার করে। সেখানে আমাদের এই লিমিটেশনের মধ্যেও আমরা ইন্টারন্যাশনালি ভালো করতেছি। এটা অনেক বড় একটা বিষয়।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ছবি জমা

প্রথম ২০১৬ সালের শেষের দিকে ইন্টারন্যাশনাল একটা কনটেস্টে ছবি জমা দিই। সেটা ছিল চায়না-বাংলাদেশ একটা ইন্টারন্যাশনাল কনটেস্ট ছিল। ওটার রেজাল্ট ২০১৭ সালে দিয়েছিল। সেখানে আমি ফার্স্ট প্রাইজ ও থার্ড প্রাইজ পাই। সেখানে আমি পাঁচটি ছবি সাবমিট করেছিলাম। তখন একদম নতুন ফটোগ্রাফিতে। এ অ্যাওয়ার্ড ছিল আমার অনেক বড় প্রেরণা।

পুরস্কার

আসলে প্রত্যেকটা অ্যাওয়ার্ডের পর সেসব একটা এক্সেল শিটে লিখে রেখেছিলাম। সেই হিসাবে কয়েক দিন আগে তাকিয়ে দেখলাম, ৫ শতাধিক অ্যাওয়ার্ড পার হলো। আমি শুরু থেকেই যেসব কনটেস্টে অংশ নিতাম, অ্যাওয়ার্ড পেতাম, সেসব আমার ফেসবুকে সেভ করে রাখতাম। এর কারণ হলো নতুনরা যাতে অনুপ্রাণিত হয়। শুরুর দিকে আমি যাদের বলতাম, ভাই কীভাবে ছবি সাবমিট করব, কীভাবে অংশ নিব, তাদের কাছে ওভাবে সাপোর্ট পাইনি। অনেক সিনিয়রদের ভেতর দেখতাম কেমন গোঁড়ামি টাইপ একটা ভাব। নতুনদের কোনো অর্জন বা অ্যাওয়ার্ড পেলেও তারা ইন্সপায়ার তো করে না; বরং নেগেটিভলি এক্সপোজ করে। সেখান থেকে আমারও মনে হয়, আমিও তো নতুন, কিন্তু আর যারা ফটোগ্রাফিতে আসবে, তারা যেন উৎসাহিত হয়। এ কারণে সব কিছু ফেসবুকে দেই।

৫ বছরে ফটোগ্রাফিতে ৫ শতাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার রনির
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে স্টেনিন প্রেস ফটো কন্টেস্ট অ্যাওয়ার্ড নিচ্ছেন আজিম খান রনি (বাঁয়ে)

ফটোগ্রাফি করতে করতে অনেকে হতাশ হয়ে যায়। আমরা একসঙ্গে যারা ফটোগ্রাফি শুরু করেছিলাম, তারা অনেকেই হারিয়ে গেছে। তার একটা কারণ হলো তারা এখান থেকে রিটার্ন পায়নি। ফটোগ্রাফির এক্সপেন্স যদি বহন করার সক্ষমতা না আসে, কতদিন কন্টিনিউ করা যায়।

ফটোগ্রাফি থেকে উপার্জন

দেখেন এভাবে বলা ঠিক কি না, তবে বলি ফটোগ্রাফি হলো হীরার খনি। এখানে অফুরন্ত হীরা আছে, আপনি যদি প্রপারলি জানেন হীরাটা কত নিচে গেলে তুলতে পারবেন, তাহলে ওই হীরাগুলো তুলে আনতে পারবেন। সেই একেকটি হীরা অনেক মূল্যবান। ফটোগ্রাফি করে যে একটা সাধারণ মানুষ কোথায় যেতে পারে কেউ চাইলে আমার কাছ থেকে সেই গল্প শুনতে পারে।

আমি দেখতাম এই শহরে লক্ষ লক্ষ ফ্ল্যাট, আমার একটা নাই। এই শহরে লক্ষ লক্ষ গাড়ি; আমার একটা পারসোনাল গাড়ি নাই। আমি যে চাকরি করি, তা দিয়ে এই শহরে একটা ফ্ল্যাট, একটা গাড়ি, কত বছর যে লাগত, আমি জানি না, কিন্তু আমি মাত্র দুই বছরের ফটোগ্রাফির প্রাইজমানি দিয়ে একটা ফ্ল্যাট কিনেছি। আমার এক মাসের ইনকাম দিয়ে আমি গাড়ি কিনতে পারি। সেটাও হয়েছে আমার। তো একজন ফটোগ্রাফার ফটোগ্রাফি করে কী পরিমাণ ইনকাম করতে পারে, সেটা অনেকেরই ধারণার বাইরে। এখানে তো মাল্টিপল ইনকাম। শুধু যে কনটেস্টের প্রাইজ মানি, তা নয়। ইন্টারন্যাশনাল ম্যাগাজিন, পত্রিকা, বিভিন্ন জায়গায় পাবলিশ হবে সেখান থেকে আর্ন হবে। আমি অনলাইনে ইন্টারন্যাশনাল বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস নিই। এখন বিভিন্ন কনটেস্টে জাজিংও করি। আসলে একজন ফটোগ্রাফারের অনেক দিক থেকে সুযোগ থাকে।

৫ বছরে ফটোগ্রাফিতে ৫ শতাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার রনির
আমেরিকান ফটোগ্রাফি ওপেন-২০২০ প্রতিযোগিতায় গ্র্যান্ড প্রাইজ জয়ী ছবি

নতুনদের উদ্দেশে বার্তা

নতুন যারা ফটোগ্রাফি করবেন তাদের উদ্দেশে বলব, কেন ফটোগ্রাফি করবেন, সেটা আগে ডিসাইড করেন। কেউ যদি ভাবেন শখেই করব, কেউ যদি ভাবেন শুধু শখ না, এখান থেকে রিটার্ন নিব, তাহলে তাকে অন্যভাবে ফটোগ্রাফি করতে হবে। তাকে ইনভেস্ট করতে হবে। এই ইনভেস্ট নট অনলি মানি, এখানে প্রচুর শ্রম দিতে হবে, সময় দিতে হবে, লেগে থাকতে হবে এবং ট্রাই করতে হবে এনিহাউ এখান থেকে ভালো কিছু করব।

শেয়ার করুন

শিল্পী কামরুল হাসানের জন্মশতবার্ষিকীতে চারুকলায় নানা আয়োজন

শিল্পী কামরুল হাসানের জন্মশতবার্ষিকীতে চারুকলায় নানা আয়োজন

শিল্পী কামরুল হাসানের জন্মশতবার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার তার প্রতিকৃতিতে শিল্পকলা একাডেমি পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

শিল্পী কামরুল হাসানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার দিনব্যাপী নানা আয়োজন রেখেছে চারুকলা অনুষদ। এর মধ্যে রয়েছে, সকাল ১০টায় আনন্দ শোভাযাত্রা, ১১টায় আলোচনা অনুষ্ঠান, বিকেল ৩টায় শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

নানা আয়োজনে উদ্‌যাপন করা হচ্ছে প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী পটুয়া কামরুল হাসানের জন্মশতবার্ষিকী।

২ ডিসেম্বর শিল্পীর জন্মদিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মসজিদ সংলগ্ন শিল্পীর সমাধিতে চারুকলা অনুষদ ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এদিন দুপুর ১২টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্রাঙ্গণেও শিল্পীর অস্থায়ী বেদিতে একাডেমরি পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এছাড়া শিল্পীর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার দিনব্যাপী নানা আয়োজন রেখেছে চারুকলা অনুষদ। এর মধ্যে রয়েছে, সকাল ১০টায় আনন্দ শোভাযাত্রা, ১১টায় আলোচনা অনুষ্ঠান, বিকেল ৩টায় শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এদিকে শিল্পী জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে গত ২৫ নভেম্বর থেকে রাজধানীর কলাকেন্দ্র গ্যালারিতে আয়োজন করা হয়েছে তার শিল্পকর্মের প্রদর্শনীর। এটি চলবে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

শেয়ার করুন

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে রাবিতে ৭ দিনব্যাপী উৎসব

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে রাবিতে ৭ দিনব্যাপী উৎসব

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ চত্বর।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে, 'জাতির পিতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান। উৎসবের প্রথম দিনের দ্বিতীয় পর্বে বেলা ৩টা থেকে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪ ডিসেম্বর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভা এবং পরে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ডিসেম্বরও থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে উৎসবের শুরু হবে।

প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসবের উদ্বোধন করবেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর ও ১১ থেকে ১৪ ডিসেম্বর দুই ধাপে এ কর্মসূচি পালিত হবে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. আজিজুর রহমান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মাননীয় মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি মো. আয়েন উদ্দিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মলয় ভৌমিক।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ‘জাতির পিতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান।

উৎসবের প্রথম দিনে দ্বিতীয় পর্বে বেলা ৩টা থেকে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪ ডিসেম্বর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভা ও পরে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ডিসেম্বরও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।

এদিকে ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে শুরু হবে নাট্যোৎসব ও ১৪ ডিসেম্বর প্রামাণ্যচিত্র ‘বধ্যভূমিতে এক দিন’ প্রদর্শিত হবে।

শেয়ার করুন