‘৭২ ঘণ্টার পর ধর্ষণের মামলা নয়’

‘৭২ ঘণ্টার পর ধর্ষণের মামলা নয়’

রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলা থেকে খালাস পান অন্যতম দুই আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায়ে বিচারক বললেন, ‘একসঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় ড্যান্স করলেন, পরে এক বিছানায় চারজন মিলে শুয়ে থাকলেন, এখানে ধর্ষণ কীভাবে হলো? তারা ছিলেন উইলিংলি পার্টনার (স্বেচ্ছায় শয্যাসঙ্গী)। উত্তেজনাবশত শারীরিক সম্পর্ক করলে সেটা ধর্ষণ হয় কীভাবে? সেখানে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে, কিন্তু সেটা ধর্ষণ নয়।’

আক্রান্ত হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেডিক্যাল টেস্ট করা না হলে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায় না। তাই ৭২ ঘণ্টার বেশি হলে ধর্ষণের মামলা না নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। কেননা তাতে মামলা প্রমাণ করা দুরূহ হয়ে পড়ে।

রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায়ে বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহার এ পর্যবেক্ষণ দেন।

রায়ের শুরুতেই আদালত বলে, ‘আপনারা এই মামলাকে আলোচিত বলেন। আমি অবশ্য তেমনটা মনে করি না। আদালতের কাছে সব মামলাই সমান।’

আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারার বর্ণনা দিয়ে পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘মামলার বাদী নিজেকে অবিবাহিত বলে উল্লেখ করেন। তবে তার বয়ফ্রেন্ড আছে এবং তার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে মেলামেশা হতো। অপর ভুক্তভোগী নিজেকে এনগেজড হিসেবে উল্লেখ করেন।

‘এই মামলায় ২০১৭ সালের ১ জুন আসামিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন ঢাকা মেডিক্যালের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডা. সোহেল মাহমুদ। সেই মেডিক্যাল রিপোর্টে বলা হয়েছে, কোনো ফোর্সফুল সেক্চুয়াল ইন্টারকোর্স (জোরপূর্বক যৌন সঙ্গম) আলামত পাওয়া যায়নি। তবে তারা যৌন সঙ্গমে অভ্যস্ত।’

মেডিক্যাল রিপোর্টের বরাত দিয়ে আদালত বলেন, ‘এতে প্রমাণিত হয়, তারা রেগুলার শারীরিক সম্পর্ক পারফর্ম করে। তাই তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। মামলার আসামি সাদমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে ওই দুই তরুণীকে সাফাতের (মূল আসামি) সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।’

সাফাতের সাবেক স্ত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই মামলা করেছেন মর্মে আদালত অভিমত দেয়। রায়ে বলা হয়, ‘ঘটনার পরদিন মামলা হওয়ার আগে থেকেই পিয়াসা থানায় গিয়ে বসেছিলেন। ভুক্তভোগীরা জানান, পিয়াসা যে সাফাতের সাবেক স্ত্রী এ কথা তারা জানতেন না। তবে তারা সাফাতের সঙ্গে সমঝোতার কথা বলেছিলেন। পিয়াসা যে সাফাতের সাবেক স্ত্রী এ কথা তারা পরে জেনেছেন।’

‘৭২ ঘণ্টার পর ধর্ষণের মামলা নয়’
সাফাতের সাবেক স্ত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই মামলা করেছেন মর্মে আদালত অভিমত দেয়। ফাইল ছবি

সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরার বর্ণনায় বিচারক বলেন, ‘এই ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষে প্রথম পর্যায়ের পাঁচ সাক্ষী ছিলেন রেইনট্রি হোটেলের কর্মচারী। তারা আদালতে সাক্ষী হিসেবে দেয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, ওইদিন রাতে বিভিন্ন সময়ে তারা হোটেলে ডিউটিরত ছিলেন। তবে সেখানে কোনো ধর্ষণ বা অপ্রীতিকর ঘটনা তারা শোনেননি বা দেখেনওনি। পরদিন পুলিশ এসে সেখান থেকে কিছু সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করে নিয়ে যায়। এ সময় তারা পুলিশের কাছ থেকেই প্রথম ধর্ষণের ঘটনার কথা জানতে পারেন।

‘এই মামলায় পাঁচ আসামির চারজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা বলেন, ওইদিন রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সাফাতের জন্মদিনের কেক দিয়ে যান হোটেলের কর্মচারী। এরপর ওই দুই ভুক্তভোগীসহ (বান্ধবী) আরও কয়েকজন তরুণী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সে সময় তারা একত্রে মদপান করেন এবং নাচে মত্ত হন।

‘সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী তার জবানবন্দিতে বলেন, তিনি রাত পৌনে তিনটার দিকে রেইনট্রি হোটেলের ওই রুমে সাফাত, নাঈম ও দুই তরুণীকে একসঙ্গে শুয়ে থাকতে দেখেন।’

‘৭২ ঘণ্টার পর ধর্ষণের মামলা নয়’

রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায়ে বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহার পর্যবেক্ষণ দেন। ফাইল ছবি

বিচারক বলেন, ‘একসঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় ড্যান্স করলেন, পরে এক বিছানায় চারজন মিলে শুয়ে থাকলেন, এখানে ধর্ষণ কীভাবে হলো? তারা ছিলেন উইলিংলি পার্টনার (স্বেচ্ছায় শয্যাসঙ্গী)। উত্তেজনাবশত শারীরিক সম্পর্ক করলে সেটা ধর্ষণ হয় কীভাবে? সেখানে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে, কিন্তু সেটা ধর্ষণ নয়। আর ওই হোটেলে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করা যায় না বলে কর্মচারীরা সাক্ষ্যে বলেন। সুতরাং অস্ত্রের মুখে কীভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটল?

‘আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনে দেয়া বক্তব্যে বলেছেন, রিমান্ডে নিয়ে পুরুষাঙ্গে ইলেক্ট্রিক শকসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে তাদের স্বীকারোক্তি নেয়া হয়েছে। তাদের ওই ১৬৪ ধারার জবানবন্দি প্রত্যাহারেরও আবেদন করা হয়েছে। পারিপার্শ্বিক বিবেচনায় আমার কাছেও তাই মনে হচ্ছে। তাই ওই ১৬৪ ধারার জবানবন্দিকে এই রায়ে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে পারছি না।’

এরপর আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারার ব্যাখ্যা উল্লেখ করে বলেন, ‘যদি কোনো পুরুষ বিবাহবন্ধন ব্যতীত ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া অথবা ১৬ বৎসরের কম বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।

‘এখানে ধর্ষণের তিনটি উপাদান উল্লেখ রয়েছে, “সম্মতি ব্যতিরেকে”, “ভীতি প্রদর্শন” বা “প্রতারণামূলক সম্মতি আদায়” – কোনোটিই এই মামলায় বিদ্যমান নাই। ঘটনার ৩৮ দিন পর মামলা হলো, চিকিৎসক মেডিক্যাল রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাননি মর্মে মতামত দিলেন, ভুক্তভোগীরা পরিধেয় কাপড়ে কোনো পুরুষের সিমেনের কণা পাওয়া যায় নাই এবং আসামি নাঈম আশরাফের সঙ্গে ডিএনএ টেস্ট ম্যাচ করে নাই, তারপরও তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি চার্জশিট দাখিল করে আদালতের পাবলিক টাইম নষ্ট করেছেন। এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রেপ কেসের বিচার ব্যাহত হয়েছে। তিনি অন্য কোনো পক্ষ কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে এই চার্জশিট দিয়ে মামলাটি বিচারের জন্য পাঠিয়েছেন। আজকের দিনসহ এই মামলায় ৯৪ কার্যদিবস ব্যয় হয়েছে।’

আদালত আরও বলেন, ‘২২/২৩ বছরের একজন লেডি এক বেডে চারজন একত্রে শুয়েছিল, মদ খেল, ড্যান্স করল এটা জেনেও অহেতুক এই প্রতিবেদন দিয়ে কোর্টের টাইম কনজিউম করল।

‘৭২ ঘণ্টার পর মেডিক্যাল টেস্ট করা হলেই ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায় না। তাই ৭২ ঘণ্টার বেশি হলে মামলা না নেয়ার আদেশ দিচ্ছি। কেননা তাতে মামলা প্রমাণ করা দুরূহ হয়ে পড়ে।

‘পারিপার্শ্বিক বিবেচনায় এই মামলা সাজা হওয়ার মতো নয়। তাই প্রসিকিউশন এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। তাই আসামিদের উক্ত অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হলো।

এদিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত এজলাসে বসেই বিচারক রায় লেখেন। ১টার পর রায় পড়া শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী আদালত এসব পর্যবেক্ষণ দেয়।

আরও পড়ুন:
রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায় বৃহস্পতিবার
রেইনট্রিতে ধর্ষণ মামলার রায়ের নতুন তারিখ
ফের পেছাল রেইনট্রিতে ধর্ষণ মামলার রায়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিশ্বে বাংলাদেশি অভিবাসী ৭৪ লাখ: আইওএম

বিশ্বে বাংলাদেশি অভিবাসী ৭৪ লাখ: আইওএম

প্রতীকী ছবি

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী বসবাস করা বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৭.৪ মিলিয়ন বা ৭৪ লাখ।

বিশ্বে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা সাত দশমিক ৪ মিলিয়ন বা ৭৪ লাখ বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

সে হিসাবে অভিবাসী থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ।

আইওএমের বৃহস্পতিবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে বুধবার ‘বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন ২০২২’ প্রকাশ করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা ১৯৭০ সালে বিশ্বব্যাপী ৮৪ মিলিয়ন থেকে ২০২০ সালে ২৮১ মিলিয়নে উন্নীত হয়েছে যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৩.৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী বেশিরভাগ মানুষই (৯৬.৪ শতাংশ) যে দেশে জন্মগ্রহণ করে, সে দেশেই বসবাস করে। কোভিড-১৯ এর কারণে ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা ২ মিলিয়নের মতো কম ছিল।

আইওএম তাদের এ প্রতিবেদনের বিশ্বকে সতর্ক করে বলে, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ক্রমাগতভাবে সারা বিশ্বে অভিবাসীর সংখ্যা বাড়িয়ে চলছে। বর্তমানে পৃথিবীতে ২৮ কোটি ১০ লাখ অভিবাসী রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ৭৪ লাখ (৭.৪০ মিলিয়ন)। আর রেমিট্যান্স পাঠানোয় অষ্টম।

প্রতিবেদনে গত দুই বছরে বিশ্বব্যাপী অভিবাসন খাতের আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিষয় বিশ্লেষণ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে অভিবাসনের ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক কারণগুলো।

আইওএম বলছে, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী চলাচলে নিয়ন্ত্রণ এবং ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিপর্যয়, সংঘাত এবং সহিংসতার কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি বেড়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বব্যাপী আকাশপথে যাত্রীর সংখ্যা ৬০ শতাংশ কমেছে। ২০১৯ সালে যাত্রীসংখ্যা ছিল ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন, যা ২০২০ সালে ১ দশমিক ৮ বিলিয়নে দাঁড়ায়। একই সময়ে দুর্যোগ, সংঘাত এবং সহিংসতার ফলে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪০ দশমিক ৫ মিলিয়ন, যা এক বছর আগে ছিল ৩১ দশমিক ৫ মিলিয়ন।

প্রতিবেদন সম্পর্কে আইওএমর মহাপরিচালক অ্যান্টোনিও ভিটোরিনো বলেন, ‘আমরা একটি বৈপরীত্য লক্ষ্য করছি, যা মানব ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি। কোভিড-১৯ এর কারণে শত কোটি মানুষ আটকা পড়েছে। তারপরও লাখ লাখ বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় বিপুলসংখ্যক মানুষ গৃহহীন হতে বাধ্য হয়েছে।’

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী বসবাস করা বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৭.৪ মিলিয়ন বা ৭৪ লাখ।

এতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করেও প্রবাসীরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি অভিবাসীরা ২০১৯ সালে ১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি দেশে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে এসেছে যারা গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) দেশগুলোতে প্রধানত আধা দক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। এই রেমিট্যান্স, জিডিপির ৬ শতাংশের বেশি এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক আয়ের উৎস।’

প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সম্পর্কে বলা হয়, অভিবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোয় উদ্বুদ্ধ করার জন্য নীতিনির্ধারকদের নেয়া পদক্ষেপের ফলে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

‘বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৯ সালে নগদ প্রণোদনা স্কিমের সর্বোচ্চ সীমা তিন গুণেরও বেশি বাড়িয়েছে, যার ফলে রেমিট্যান্স সুবিধাভোগীরা আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে টাকা পাঠানোর ওপর দুই শতাংশ বোনাস পান ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত। এ ছাড়া রেমিট্যান্স পাঠানোর উৎসাহ আরও বাড়াতে কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক অতিরিক্ত এক শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে’, বলা হয় প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনটির সম্পাদক ম্যারি ম্যাকঅলিফ বলেন, বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন সিরিজের ১১তম সংস্করণটিতে অভিবাসন বিষয়ে সাম্প্রতিক তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে অভিবাসন প্রবণতা তুলে ধরা হয়েছে। ব্যাখ্যা করা হয়েছে অভিবাসন নীতির নতুন নতুন দিক।

আইওএমের বাংলাদেশ অফিসার ইন চার্জ ফাতিমা নুসরাত গাজ্জালি বলেন, ‘রেমিট্যান্সের প্রবাহের ওপর কোভিড-১৯ অতিমারির নেতিবাচক প্রভাব সত্ত্বেও ২০২০ সালে ২১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছে। অভিবাসন বাংলাদেশের উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

‘অভিবাসীরা গন্তব্য দেশে উন্নত অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য অভিবাসন করে এবং তারপরে নিজ দেশে জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সহায়তা করে।’

আরও পড়ুন:
রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায় বৃহস্পতিবার
রেইনট্রিতে ধর্ষণ মামলার রায়ের নতুন তারিখ
ফের পেছাল রেইনট্রিতে ধর্ষণ মামলার রায়

শেয়ার করুন

স্কুলে ভর্তি শেষ করতে হবে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে

স্কুলে ভর্তি শেষ করতে হবে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে

ফাইল ছবি

মাউশি মহাপরিচালক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া যেন ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয় এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভর্তির ক্ষেত্রে যেন পরীক্ষা নেয়া না হয় এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত করা হয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। আর শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি ছাড়া ভর্তি পরীক্ষা নেয়া যাবে না।

বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুকের সই করা অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মাউশি মহাপরিচালক বলেন, সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া যেন ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয় এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভর্তির ক্ষেত্রে যেন পরীক্ষা নেয়া না হয় এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত করা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন ও ভর্তি প্রক্রিয়া অবশ্যই আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। লটারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভর্তি পরিচালনা কমিটি, ঢাকা মহানগরের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি অভিভাবক, ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষক প্রতিনিধির উপস্থিতি থাকতে হবে।

আরও বলা হয়, শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি নীতিমালা (সংশোধিত-২০২১) অনুসরণ করে লটারির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। কোনোভাবেই ১১০ টাকার বেশি ফি নেয়া যাবে না।

আগামী বছরের জন্য সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোতে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে ২৫ নভেম্বর। এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ৮ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

২০২২ শিক্ষাবর্ষে সরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিতে শিক্ষার্থীর বয়স ছয় বছরের বেশি হতে হবে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এই বয়স নির্ধারণ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।

ভর্তি কার্যক্রমের শর্তাবলী

সরকারি বিদ্যালয়: ঢাকা মহানগরে ৪৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় তিনটি ভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত থাকবে। আবেদনের সময় একজন শিক্ষার্থী একটি গ্রুপের পাঁচটি বিদ্যালয় নির্বাচন করতে পারবে। এখান থেকে লটারির মাধ্যমে একটি বিদ্যালয় নির্বাচন করা হবে।

সারা দেশে আবেদনকারীরা আবেদনের সময় প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকালে থানাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা পাবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীরা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি আবেদনে সর্বোচ্চ পাঁচটি স্কুল পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করতে পারবে।

ডাবল শিফটের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উভয় শিফট পছন্দ করলে দুটি পছন্দক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। একই পছন্দক্রমের বিদ্যালয় কিংবা শিফট দ্বিতীয় বার পছন্দ করা যাবে না।

এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির মোট শূন্য আসনের ১০ শতাংশ কোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

বেসরকারি বিদ্যালয়: ঢাকা মহানগরীর বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন কমপক্ষে একটি এবং সর্বোচ্চ তিনটি প্রশাসনিক থানা ক্যাচমেন্ট এরিয়া হিসেবে নির্ধারণ করা যাবে।

আবেদনকারীরা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকালে মহানগর পর্যায়ের জন্য বিভাগীয় সদরের মেট্রোপলিটন এলাকা এবং জেলা সদরের সদর উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাবে। এক্ষেত্রে প্রার্থীরা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি আবেদনে সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করতে পারবে।

ডাবল শিফটের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উভয় শিফট পছন্দ করলে দুটি পছন্দক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। একই পছন্দক্রমের বিদ্যালয় কিংবা শিফট দ্বিতীয় বার পছন্দ করা যাবে না।

করোনা মহামারির কারণে গত বছর প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এর আগে শুধু প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। আর দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তিতে পরীক্ষা নেয়া হতো। নবম শ্রেণিতে ভর্তি করা হতো জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে।

আরও পড়ুন:
রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায় বৃহস্পতিবার
রেইনট্রিতে ধর্ষণ মামলার রায়ের নতুন তারিখ
ফের পেছাল রেইনট্রিতে ধর্ষণ মামলার রায়

শেয়ার করুন

শর্ত ভেঙে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠান প্রচারে ব্যবস্থা

শর্ত ভেঙে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠান প্রচারে ব্যবস্থা

প্রতীকী ছবি

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে অ্যাটকোর নেতৃবৃন্দের সাথে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো বিষয় আমরা আলোচনা করেছি। অ্যাটকোর পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয় তোলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে মোবাইল অপারেটররা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছে।’

লাইসেন্সের শর্ত ভেঙে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠান প্রচার করলে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাটকোর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

বৈঠকে আইপি টিভির নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, তা তথ্যমন্ত্রীকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে অ্যাটকো।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে অ্যাটকোর নেতৃবৃন্দের সাথে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো বিষয় আমরা আলোচনা করেছি। অ্যাটকোর পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয় তোলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে মোবাইল অপারেটররা, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছে।

‘অ্যাটকোর বক্তব্য হচ্ছে এর জন্য তারা কোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত নন। সেখান থেকে উপার্জন করছে, কনটেন্ট বানাচ্ছে এবং সেগুলো অনলাইনে প্রচার করছে, যেটি তাদের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ। আমরা বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব। টেলিকম মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি এবং একই সাথে মোবাইল অপারেটরদের আমরা নোটিফাই করব যে, তারা কেন এটি করছে। তারা যদি নিয়ম-বহির্ভূতভাবে এটা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘আরেকটি বিষয় আলোচনা এসেছে, সেটি হচ্ছে আইপি টিভি। আপনারা জানেন আমরা আইপি টিভির রেজিস্ট্রেশন দেয়া শুরু করেছি। আইপি টিভি পৃথিবীর বাস্তবতা, তবে ব্যাঙের ছাতার মতো আইপি টিভি সমীচীন নয়। অ্যাটকোর পক্ষ থেকে যেটা বলা হয়েছে যে, আইপি টিভির রেজিস্ট্রেশন দেয়ার প্রয়োজন আছে কি না, সে প্রশ্ন তারা তুলেছেন।

‘আমরা ইতিমধ্যে ১৪টি আইপি টিভি রেজিস্ট্রেশনের অনুমতি দিয়েছি। আইপি টিভি কিন্তু কোনোভাবেই সংবাদ প্রচার করতে পারবে না। একই সাথে আইপি টিভি কোনোভাবেই কেবলের মাধ্যমে সম্প্রচার করতে পারবে না। সেটা শুধু ইন্টারনেটের মাধ্যমেই প্রচার করতে পারবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অত্যন্ত যত্ন সহকারে আমরা আইপি টিভির বিষয়ে অগ্রসর হতে চাই। যথেচ্ছভাবে রেজিস্ট্রেশন আমরা মনে করি সমীচীন হবে না।’

এর আগে অ্যাটকোর জ্যেষ্ঠ নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদের আমন্ত্রণে আমরা একটি নির্ধারিত বৈঠকে বসেছিলাম। আমাদের দুটি সমস্যা আছে। যেমন: টিআরপির বিষয়ে আমরা আগেও আলাপ করেছি। সেটিও তারা (মন্ত্রণালয়) সমাধান করার পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।

‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বিষয়ে টিআরপি নির্ধারণের সম্ভাবনা তারা বিবেচনা করছেন। আমরা আশা করছি এ সমস্যাটিও সমাধান হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আজকে বলেছি, আমাদের আইপি টিভির নামে নতুন করে কিছু নিবন্ধন দেয়া হচ্ছে, সেখানে আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর পক্ষ থেকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। আমরা বলেছি, আইপি টিভি কোনো টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সিদ্ধান্তের মধ্যে আসে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরে এখন প্রায় ৩ ডজনের মতো টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচার করছে, তথ্য প্রচার করছে ও অনুষ্ঠান প্রচার করছে, সেখানে আইপি টিভি অনুমোদনের কোনো প্রয়োজন আছে কি না সেটা আমরা মন্ত্রীকে উদ্বেগের কথা বলেছি।

‘সেখানে বলেছি, আইপি টিভি যেন এগজিস্টিং টিভিগুলোর বিকল্প সেটা ব্যবসা বলুন বা অনুষ্ঠান সম্প্রচার বলুন, তার যেন বিকল্প না হতে পারে। এর জন্য আমরা তাকে অনুরোধ জানিয়েছি। আমরা বলেছি এটি দেয়ার আগে একটি নীতিমালা হওয়া দরকার। সেটি যেন করা হয়।’

ইকবাল সোবহান বলেন, ‘আমরা আরেকটি দাবি জানিয়েছি। বর্তমানে মোবাইল ফোন অপারেটররা ওটিটির মাধ্যমে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করছেন। এমনকি সংবাদও সেখানে প্রচার করছেন। আমরা বলেছি তাদের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে মোবাইল সেবা দেয়ার জন্য। তাদের কিন্তু ওটিটির মাধ্যমে কোনো অনুষ্ঠানের অনুমোদন কিন্তু দেয়া হয়নি।

‘তাই আমরা মনে করি, এটি অবৈধভাবে যারা ওটিটির মাধ্যমে যেটা করছেন, এটাকে বন্ধ করার জন্য দাবি জানিয়েছি। মন্ত্রী আমাদের কথা অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে শুনেছেন এবং তিনি এ বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন বলেই আমরা আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায় বৃহস্পতিবার
রেইনট্রিতে ধর্ষণ মামলার রায়ের নতুন তারিখ
ফের পেছাল রেইনট্রিতে ধর্ষণ মামলার রায়

শেয়ার করুন

৫০তম বিজয় দিবস: শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী

৫০তম বিজয় দিবস: শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী

১৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বাংলাদেশে একটি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। ফাইল ছবি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ মিলিয়ে আমরা ইতিহাসের অসাধারণ সময় অতিক্রম করছি। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান হবে। আগে এ সব অনুষ্ঠান জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে হয়েছিল। জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি থেকে মহা বিজয়ের মহা নায়ক শিরোনামে ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠান হবে। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে সারা বাংলাদেশে একটি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন, সেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন। কি বিষয়ে শপথ হবে পরে জানানো হবে।’

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে ১৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শপথ পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ মিলিয়ে আমরা ইতিহাসের অসাধারণ সময় অতিক্রম করছি। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান হবে। আগে এ সব অনুষ্ঠান জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ বড় আকারে হবে। সেখানে ছয়টি দেশ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক একটা প্যারেড হবে। অনেকগুলো দেশের অংশগ্রহণ থাকবে।

‘জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি থেকে মহা বিজয়ের মহা নায়ক শিরোনামে ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠান হবে। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে সারা বাংলাদেশে একটি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন, সেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন। কি বিষয়ে শপথ হবে পরে জানানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে আলোচনা সভা শুরু হবে। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি অংশ নেবেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীও এতে অংশ নেবেন। পুরো অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সাজিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, প্রকৃতি, পরিবেশ সব মিলিয়ে দেশের ৫০ বছরের অগ্রগতি, এসবের সমন্বয়ে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হবে।

‘যাদের আমন্ত্রণ জানাবো সময়মত তাদের অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানো, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে যেন অনুষ্ঠানগুলো হয় সেটার নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও অন্যান্য বিষয়গুলো আজকে পর্যালোচনা করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে অংশ নেয়াদের করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক বলে জানান কামাল আবদুল নাসের। তিনি বলেন, ‘আমন্ত্রণপত্রে জানিয়ে দেয়া হবে কোথায় কোথায় করোনা পরীক্ষা করতে হবে। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়া কেউ সেখানে উপস্থিত হতে পারবেন না, যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে নমুনা পরীক্ষাটা বাধ্যতামূলক।

‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কিছু আমরা ফলো করবো। সব মিলিয়ে প্রতিদিন তিন হাজার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। অনুষ্ঠান সারা দেশের পাশাপাশি গোটা পৃথিবীতে সম্প্রচার হবে।’

আরও পড়ুন:
রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায় বৃহস্পতিবার
রেইনট্রিতে ধর্ষণ মামলার রায়ের নতুন তারিখ
ফের পেছাল রেইনট্রিতে ধর্ষণ মামলার রায়

শেয়ার করুন

ইউপি নির্বাচন: ভোটের দিন ঠিক রেখে পঞ্চম ধাপের পুনঃতফসিল

ইউপি নির্বাচন: ভোটের দিন ঠিক রেখে পঞ্চম ধাপের পুনঃতফসিল

পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ভোট হবে ৫ জানুয়ারি। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার কথা জানানো হলেও পুনঃতফসিলে বলা হয়েছে, প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই ৯ ডিসেম্বরের বদলে হবে ১২ ডিসেম্বর।

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের পঞ্চম ধাপের ভোটের তফসিল পুনর্নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৫ জানুয়ারিতে পঞ্চম ধাপের ভোট হবে। তবে পরিবর্তন এসেছে ভোটের অন্যান্য কার্যক্রমে।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব আতিয়ার রহমানের সই করা এক চিঠিতে নির্বাচনের তফসিল পুনর্নির্ধারণের কথা জানোনো হয়।

নির্বাচন কমিশনের ৯০তম কমিশন সভা শেষে গত শনিবার পঞ্চম ধাপের তফসিল ঘোষণা করেন ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। এই ধাপে ৭০৭ ইউপিতে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার কথা জানানো হলেও পুনঃতফসিলে বলা হয়েছে, প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই ৯ ডিসেম্বরের বদলে হবে ১২ ডিসেম্বর।

পুনর্নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আপিল দায়েরেরে সুযোগ থাকছে ১৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১৮ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ঠিক করা হয়েছে ১৯ ডিসেম্বর।

দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। মেয়াদ শেষের আগেই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনগুলো শেষ করার পরিকল্পনা করেছে ইসি।

গত জুন থেকে ধাপে ধাপে নির্বাচন হচ্ছে। প্রথম ধাপে গত ২১ জুন ২০৪ ইউপি ও ২০ সেপ্টেম্বর ১৬০ ইউপির ভোট হয়। দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৬ ইউপির ভোট হয় ১১ নভেম্বর। তৃতীয় ধাপে এক হাজার ইউপির ভোট হয় ২৮ নভেম্বর। চতুর্থ ধাপে ৮৪০ ইউপিতে ভোট হবে ২৬ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন:
রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায় বৃহস্পতিবার
রেইনট্রিতে ধর্ষণ মামলার রায়ের নতুন তারিখ
ফের পেছাল রেইনট্রিতে ধর্ষণ মামলার রায়

শেয়ার করুন

খালেদার দুই মামলায় চার্জ শুনানি পিছিয়েছে

খালেদার দুই মামলায় চার্জ শুনানি পিছিয়েছে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দুটির চার্জ শুনানির নির্ধারিত দিন ছিল বৃহস্পতিবার। কিন্তু তিনি হাসপাতালে থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি। এ জন্য তার পক্ষে আইনজীবী সময় চাইলে আদালত নতুন তারিখ ধার্য করে।

ভুয়া জন্মদিন পালন ও যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেয়ার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির দুই মামলায় চার্জ গঠন বিষয়ে শুনানির তারিখ পিছিয়েছে। নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ ডিসেম্বর।

ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে মামলা দুটির চার্জ শুনানির নির্ধারিত দিন ছিল বৃহস্পতিবার। কিন্তু খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি। এ জন্য তার পক্ষে আইনজীবী সময় আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত চার্জ শুনানির জন্য নতুন তারিখ ধার্য করে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী হান্নান ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন মাধ্যমে খালেদা জিয়ার পাঁচটি জন্মদিন পাওয়া গেলেও তার মধ্যে ১৫ আগস্ট নেই। অথচ তিনি পাঁচটি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎবার্ষিকীর দিনে আনন্দ উৎসব করে জন্মদিন পালন করে আসছেন। শুধু বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য তিনি ওইদিন জন্মদিন পালন করেন।

এছাড়া ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী ‘স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটানোর অভিযোগে আদালতে একটি মানহানির মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায় বৃহস্পতিবার
রেইনট্রিতে ধর্ষণ মামলার রায়ের নতুন তারিখ
ফের পেছাল রেইনট্রিতে ধর্ষণ মামলার রায়

শেয়ার করুন

ডাকাত সন্দেহে ৬ ছাত্র হত্যা: ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি’

ডাকাত সন্দেহে ৬ ছাত্র হত্যা: ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি’

সাভারে ডাকাত সন্দেহে খুন হওয়া শিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি

নিহত ছাত্র টিপু সুলতানের মা কাজী নাজমা সুলতানা বলেন, ‘সব আসামির ফাঁসি আশা করেছিলাম, তা হলে আরও খুশি হতাম। তবে এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এতদিন কষ্ট পেয়েছি, যতদিন বেঁচে থাকব কষ্ট পাব। তার পরও যে সাজা হয়েছে তাতে শুকরিয়া আদায় করি।’

সাভারের আমিন বাজারে ৯ বছর আগে শবেবরাতের রাতে ডাকাত সন্দেহে ছয় ছাত্রকে ডাকাত সাজিয়ে পিটিয়ে হত্যার মামলায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনরা। সেই সঙ্গে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ইসমত জাহান বৃহস্পতিবার আলোচিত এ মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ৬০ আসামির মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। খালাস পেয়েছেন ২৫ আসামি। আর মামলা চলাকালীন মারা যাওয়ায় তিন আসামিকে আগেই অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল।

রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ৪৭ আসামি। রায় শুনতে আদালতের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন আসামি ও নিহতদের স্বজনরা।

রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন নিহত ছাত্রদের পরিবারের সদস্যরা। এ রায় যেন উচ্চ আদালতেও বহাল থাকে সেই প্রত্যাশা করেন তারা।

নিহত ছাত্র টিপু সুলতানের মা কাজী নাজমা সুলতানা বলেন, ‘সব আসামির ফাঁসি আশা করেছিলাম, তা হলে আরও খুশি হতাম। তবে এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এতদিন কষ্ট পেয়েছি। যতদিন বেঁচে থাকব কষ্ট পাব। তার পরও যে সাজা হয়েছে তাতে শুকরিয়া আদায় করি।’

এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন নাজমা সুলতানা। বলেন, ‘আমার আর কিছু বলার নেই। তবে চাই দ্রুততার সঙ্গে যেন ফাঁসি কার্যকর হয়। যত দ্রুত ফাঁসি কার্যকর হবে, দেখতে পেলে খুশি হব।’

নিহত আরেক ছাত্র পলাশের বাবা মজিবুর রহমান বলেন, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি। তবে রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়।’

ইব্রাহিম খলিলের বাবা আবু তাহের বলেন, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। দোষীদের সাজা হয়েছে। তবে আশা, রায়টা যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।’

সংশ্লিষ্ট আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর আনন্দ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এ মামলায় ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়। আর ১৪ জন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেয়। সব কিছু বিবেচনা করে মাননীয় আদালত সুন্দর সুচিন্তায় এ রায় ঘোষণা করেছে। খালাসও দিয়েছে ২৫ জনকে। সাজা দিয়েছে ৩২ জনকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে আদেশ পর্যালোচনা শেষে খালাস আসামিদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলে যেতে পারি। একটা চাঞ্চল্যকর মামলায় যুগান্তকারী রায় দিয়েছে আদালত।’

তবে রায়ে সংক্ষুব্ধ আসামিপক্ষের আইনজীবী ও পরিবার। আসামিরা ন্যায়বিচার পায়নি বলে অভিযোগ তাদের। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান তারা।

আসামিপক্ষের আইনজীবী শিউলী আক্তার খান, ‘আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব। রায়ে ন্যায়বিচার হয়নি। এই মামলায় কোনো চাক্ষুষ সাক্ষী নেই। এই সাজা উচ্চ আদালতে টিকবে না। মামলার তদন্ত ঠিকমতো সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি টোটালি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। উচ্চ আদালতে গেলে আসামিরা খালাস পাবেন বলে আশা করেন আইনজীবীরা।’

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আব্দুল মালেক, সাঈদ মেম্বর, আব্দুর রশীদ, ইসমাইল হোসেন, জমসের আলী, মীর হোসেন, মজিবর রহমান, আনোয়ার হোসেন, রজ্জব আলী, মো. আলম, মো. রানা, মো. হামিদ ও মো. আসলাম।

যাবজ্জীন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন মো. শাহীন আলম, মো. ফরিদ হোসেন, মো. রাজিব হোসেন, মো. ওয়াসিম, মো. ছাত্তার, মো. সেলিম, মনির হোসেন, মো. আলমগীর, মোবারক হোসেন, অখিল খন্দকার, মো. বসির উদ্দিন, রুবেল হোসেন, মো. নুরুল ইসলাম, মো. শাহাদাত হোসেন জুয়েল, মো. টুটুল, মো. মাসুদ, মো. মোকলেছুর রহমান মোকলেছ, মো. তোতন ও মো. সাইফুল ইসলাম।

মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ৩২ আসামিকে আলামত নষ্টের দায়ে আরও সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাস তাদের কারাভোগ করতে হবে।

আরও পড়ুন:
রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায় বৃহস্পতিবার
রেইনট্রিতে ধর্ষণ মামলার রায়ের নতুন তারিখ
ফের পেছাল রেইনট্রিতে ধর্ষণ মামলার রায়

শেয়ার করুন