শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ

শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ

শহীদ নূর হোসেন। ফাইল ছবি

বুকে-পিঠে স্লোগান লিখে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেমে গুলিতে শহীদ হন নূর হোসেন। তার এ রক্তদানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন বেগবান হয় এবং অব্যাহত লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরশাসকের পতন ঘটে।

৩৪ বছর আগে ১৯৮৭ সালের এই দিনে বুকে-পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নীপাত যাক’ স্লোগান লিখে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন নূর হোসেন। গুলিতে শহীন হন তিনি।

রক্তদানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং অব্যাহত লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরশাসকের পতন ঘটে।

শহীদ নূর হোসেনের ভাই আলী হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, বর্তমানে নূর হোসেনের মা বেঁচে আছেন। বাবা ২০০৫ সালে মারা গেছেন।

আলী হোসেন তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলেন, ‘আমার ভাই নূর হোসেনের মতো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা মারা গেছেন, তাদের সবার পরিবারের খোঁজ যেন রাখা হয়। কারণ দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে, তা তাদের রক্তের অবদানে। সেই পরিবারগুলো কোথায়, তাদের উন্নয়ন হচ্ছে কী না সেটা দেখা সরকারের দায়িত্ব। এটা শহীদ নূর হোসেন দিবসে আমাদের দাবি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো আছি। সরকার আমাদের খোঁজ নিচ্ছে। আমাদের এক ভাইকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি অন্য শহীদ পরিবারগুলোর কথা বলছি।’

নূর হোসেন যে কারণে জীবন দিয়ে গেছেন, তা বর্তমান সময়ে এসে কতটুকু স্বার্থক হয়েছে বলে মনে করেন জানতে চাইলে আলী হোসেন বলেন, ‘৯০ সালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটি দলই গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে। পরে দুটো দলই ক্ষমতায় আসছে। পরে তারা তাদের মতো চেষ্টা চালালেও তারা সেইভাবে গণতন্ত্র দাঁড় করাতে পারেনি। শহীদরা গণতন্ত্রের জন্য আত্মাহুতি দিয়েছেন, কিন্তু পুরোপুরি গণতন্ত্র আসেনি।’

শহীদ নূর হোসেন পরিবারের এই সদস্য বলেন, ‘আমি প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলকেই বলব, তারা যেন কাঁদা ছোড়াছুড়ি না করে, তারা যেন দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে। তা হলে নূর হোসেনের মতো যারা গণতন্ত্রের জন্য শহীদ হয়েছে, তাদের আত্মা শান্তি পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে খুনোখুনির রাজনীতি চাই না।’

১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর দেশের দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একত্র হয়ে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের লক্ষ্যে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৮২ সালে একটি সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এরশাদ এবং ১৯৮৭ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেন। কিন্তু বিরোধী দলগুলো তার এই নির্বাচনকে জালিয়াতি বলে অভিযুক্ত করে। তাদের একমাত্র দাবি ছিল, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা।

অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় একটি মিছিলে নূর হোসেন অংশ নেন এবং প্রতিবাদ হিসেবে বুকে পিঠে সাদা রঙে লিখিয়ে নেন: ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক।’

মিছিলটি ঢাকা জিপিওর সামনে জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি এলে পুলিশের গুলিতে নূর হোসেনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে জায়গাটি শহীদ নূর হোসেন স্কয়ার হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন:
শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ: পরিবার চায় জাতীয় সম্মাননা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আবরার হত্যার রায়ের অপেক্ষা, আদালতে আসামিরা

আবরার হত্যার রায়ের অপেক্ষা, আদালতে আসামিরা

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় উপলক্ষে আদালতে আনা হয় আসামিদের। ছবি: নিউজবাংলা

রায় উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসামিদের প্রিজনভ্যানে করে আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। তাদের নামিয়ে রাখা হয়েছে আদালতের গারদ খানায়। আসামিদের খুব বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হতে যাচ্ছে। রায় উপলক্ষে আদালতে আনা হয়েছে আসামিদের। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক আবু জাফর কামরুজ্জামান রোববার ১২টা থেকে আলোচিত মামলাটির রায় পড়া শুরু করবেন বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভুঞা।

রায় উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসামিদের প্রিজনভ্যানে করে আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। তাদের নামিয়ে রাখা হয়েছে আদালতের গারদ খানায়। আসামিদের খুব বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।

রায় উপলক্ষে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয়েছে অর্ধশতাধিক বাড়তি পুলিশ।

মোতায়েন করা পুলিশের দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক মো. আজিজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেহেতু এটা একটি আলোচিত মামলার রায়, তাই বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আমাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছি।’

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের এক দল নেতা-কর্মী। এই ঘটনায় বিক্ষোভে ফেঁটে পড়ে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। এর জেরে প্রতিষ্ঠানটিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় ছাত্র রাজনীতি।

আবরারকে হত্যার পরের দিন চক বাজার থানায় ১৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। ওই বছরের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ওয়াহেদুজ্জামান।

আসামিরা সর্বোচ্চ সাজা চাচ্ছেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেটা ভয়ানক নির্মমতার শিকার। যেভাবে তাকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে তা কোনো মানুষ করতে পারে না। তাই আমার ছেলেকে হত্যার জন্য আমি ও আমার পরিবার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করছি। এই আদালতে অবশ্যই ন্যায় বিচার করবে।’

ঢাকার ১ নম্বর ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভূঁঞা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রির জন্য এসে দলবাজির নামে চাঁদাবাজি ও র‌্যাগিং কালচার, জোর করে কাউকে আদেশ মানতে বাধ্য করা, সহপাঠী অথবা জুনিয়রদের দিয়ে নানা অপকর্ম করানো এই প্রথা যাতে কোনো শিক্ষাঙ্গনে না থাকে। এসবের বিরুদ্ধে এ মামলার মাধ্যমে সবাইকে সচেতন করে দিতে চাই।

‘মামলায় ৪৬ জন সাক্ষী ভালোভাবে সাক্ষ্য দিয়ে মামলা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। আশা করি ২৫ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে।’

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘এই মামলার প্রথম জিডিকে এফআইআর হিসাবে গণ্য হয় নাই। পরের এজাহারে আসামিদের নাম ঢোকানো হয়েছে। ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এই মামলা একটি আলোচিত মামলা হলেও অধিকাংশ আসামি খালাস না হলে সেটা হবে একটি প্রহসনমূলক রায়।’

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলা বিচারে এসেছিল। দুই পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৪ নভেম্বর বিচারক এ মামলার রায়ের জন্য ২৮ নভেম্বর তারিখ রাখেন।

আবরার হত্যার এজাহারের ১৯ আসামি হলেন:

বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জীওন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশারফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মুজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুল ইসলাম (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ), এ এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ)।

এজাহারের বাইরের ৬ আসামি:

বুয়েট ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামসুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)।

এছাড়া পলাতক ৩ জন:

এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল)।

‘স্বীকারোক্তি দেয়া ৮ জন হলেন:

মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, এ এস এম নাজমুস সাদাত এবং খন্দকার তাবাখারুল ইসলাম তানভীর।

মারপিটে সরাসরি জড়িত ১১ জন:

মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বি তানিম এবং খন্দকার তাবাখ্খারুল ইসলাম তানভীর।

ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত ১১ জন:

মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জীওন, মনিরুজ্জামান মনির, ইফতি মোশাররফ সকাল, মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ এবং মুজতবা রাফিদ।

আরও পড়ুন:
শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ: পরিবার চায় জাতীয় সম্মাননা

শেয়ার করুন

আবরার হত্যা: রায় উপলক্ষে আদালতে বাড়তি নিরাপত্তা

আবরার হত্যা: রায় উপলক্ষে আদালতে বাড়তি নিরাপত্তা

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলার রায় উপলক্ষে আদালত প্রাঙ্গণে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ছবি: নিউজবাংলা

মোতায়েন করা পুলিশের দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক মো. আজিজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেহেতু এটা একটি আলোচিত মামলার রায়, তাই বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আমাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছি।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় উপলক্ষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক আবু জাফর কামরুজ্জামান রোববার ১২টা থেকে আলোচিত মামলাটির রায় পড়া শুরু করবেন বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভুঞা।

রায় উপলক্ষে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয়েছে অর্ধশতাধিক বাড়তি পুলিশ। আর আসামিদের বহনকারী আদালতে পৌঁছে সকাল সাড়ে ৯টায়।

মোতায়েন করা পুলিশের দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক মো. আজিজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেহেতু এটা একটি আলোচিত মামলার রায়, তাই বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আমাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছি।’

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের এক দল নেতা-কর্মী। এই ঘটনায় বিক্ষোভে ফেঁটে পড়ে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। এর জেরে প্রতিষ্ঠানটিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় ছাত্র রাজনীতি।

আবরারকে হত্যার পরের দিন চক বাজার থানায় ১৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। ওই বছরের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ওয়াহেদুজ্জামান।

আসামিরা সর্বোচ্চ সাজা চাচ্ছেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেটা ভয়ানক নির্মমতার শিকার। যেভাবে তাকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে তা কোনো মানুষ করতে পারে না। তাই আমার ছেলেকে হত্যার জন্য আমি ও আমার পরিবার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করছি। এই আদালতে অবশ্যই ন্যায় বিচার করবে।’

ঢাকার ১ নম্বর ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভূঁঞা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রির জন্য এসে দলবাজির নামে চাঁদাবাজি ও র‌্যাগিং কালচার, জোর করে কাউকে আদেশ মানতে বাধ্য করা, সহপাঠী অথবা জুনিয়রদের দিয়ে নানা অপকর্ম করানো এই প্রথা যাতে কোনো শিক্ষাঙ্গনে না থাকে। এসবের বিরুদ্ধে এ মামলার মাধ্যমে সবাইকে সচেতন করে দিতে চাই।

‘মামলায় ৪৬ জন সাক্ষী ভালোভাবে সাক্ষ্য দিয়ে মামলা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। আশা করি ২৫ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে।’

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘এই মামলার প্রথম জিডিকে এফআইআর হিসাবে গণ্য হয় নাই। পরের এজাহারে আসামিদের নাম ঢোকানো হয়েছে। ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এই মামলা একটি আলোচিত মামলা হলেও অধিকাংশ আসামি খালাস না হলে সেটা হবে একটি প্রহসনমূলক রায়।’

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলা বিচারে এসেছিল। দুই পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৪ নভেম্বর বিচারক এ মামলার রায়ের জন্য ২৮ নভেম্বর তারিখ রাখেন।

আবরার হত্যার এজাহারের ১৯ আসামি হলেন:

বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জীওন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশারফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মুজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুল ইসলাম (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ), এ এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ)।

এজাহারের বাইরের ৬ আসামি:

বুয়েট ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামসুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)।

এছাড়া পলাতক ৩ জন:

এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল)।

‘স্বীকারোক্তি দেয়া ৮ জন হলেন:

মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, এ এস এম নাজমুস সাদাত এবং খন্দকার তাবাখারুল ইসলাম তানভীর।

মারপিটে সরাসরি জড়িত ১১ জন:

মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বি তানিম এবং খন্দকার তাবাখ্খারুল ইসলাম তানভীর।

ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত ১১ জন:

মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জীওন, মনিরুজ্জামান মনির, ইফতি মোশাররফ সকাল, মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ এবং মুজতবা রাফিদ।

আরও পড়ুন:
শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ: পরিবার চায় জাতীয় সম্মাননা

শেয়ার করুন

আবরার হত্যা মামলার রায়ের অপেক্ষা

আবরার হত্যা মামলার রায়ের অপেক্ষা

বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন আবরার ফাহাদ। ফাইল ছবি

মামলার ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছে মর্মে সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। আর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। তাই তারা খালাস পাবেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে আজ।

ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এ তারিখ ঠিক করেন।

রায় উপলক্ষে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

মামলার ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছে মর্মে সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। আর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি, তাই তারা খালাস পাবেন।

প্রেক্ষাপট ও বিচার কার্যক্রম

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ।

ওই বছরের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ওয়াহেদুজ্জামান।

গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত। মামলাটিতে ৬০ সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

গত ১৪ মার্চ এ মামলায় কারাগারে থাকা ২২ আসামি প্রথমবারের মতো আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। এরপর কয়েক আসামি নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্যও দেন।

মামলায় কিছু ত্রুটি থাকায় গত ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ আরেকটি অভিযোগ গঠনের আবেদন করে। পরদিন আদালত ২৫ আসামির বিরুদ্ধে আবার অভিযোগ গঠন করে ১৪ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ শুনানির তারিখ ধার্য করে।

আসামি কারা

মামলার আসামিরা হলেন বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতামিম ফুয়াদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. অনিক সরকার ওরফে অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত, আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা, উপসমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, গ্রন্থ ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, কর্মী মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মো. মুজাহিদুর রহমান, মো. মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, শামীম বিল্লাহ, মুয়াজ ওরফে আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম, এস এম মাহমুদ সেতু, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও মুজতবা রাফিদ।

আসামিদের মধ্যে প্রথম ২২ জন কারাগারে আছেন। শেষের তিনজন পলাতক। আসামিদের ৮ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ: পরিবার চায় জাতীয় সম্মাননা

শেয়ার করুন

হাজার ইউপিতে চলছে ভোটগ্রহণ

হাজার ইউপিতে চলছে ভোটগ্রহণ

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিলাশবাড়ি ইউনিয়নের মল্লিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন এক নারী। ছবি: নিউজবাংলা

দ্বিতীয় ধাপের আগে-পরে ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানির পর এ পর্যায়ের ভোটে রক্তপাত বন্ধে ব্যবস্থার কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। সে আশ্বাসের বাস্তবায়ন দেখা যাবে সময় গড়ালেই।

তৃতীয় ধাপে ১ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোট শুরু হয়েছে।

রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ ভোট চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

দ্বিতীয় ধাপের আগে-পরে ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানির পর এ পর্যায়ের ভোটে রক্তপাত বন্ধে ব্যবস্থার কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। সে আশ্বাসের বাস্তবায়ন দেখা যাবে সময় গড়ালেই।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী তৃতীয় ধাপে এক হাজার সাতটি ইউপিতে ভোট হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নানা কারণে সাত ইউপিতে ভোট স্থগিত করা হয়।

একই দিনে অষ্টম ধাপে ৯টি পৌরসভায়ও ভোট হচ্ছে ইভিএমে। নীলফামারীর জলঢাকা ও কক্সবাজার পৌরসভায় শুধু কাউন্সিলর পদে ভোট হচ্ছে।

এর আগে প্রথম ধাপে গত ২১ জুন ২০৪ ইউপি ও ২০ সেপ্টেম্বর ১৬০ ইউপির ভোট হয়। দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৬ ইউপির ভোট হয় ১১ নভেম্বর।

তৃতীয় ধাপে ১০০০ ইউপির ভোট হচ্ছে আজ। চতুর্থ ধাপে ৮৪০ ইউপিতে ভোট হবে ২৬ ডিসেম্বর। পঞ্চম ধাপে ৭০৭ ইউপিতে ভোট হবে ৫ জানুয়ারি।

তৃতীয় ধাপের প্রার্থী, কেন্দ্র ও ভোটার

১ হাজার ইউপিতে ৫৬৯ জন প্রার্থী এরই মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যানের সংখ্যা ১০০। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য ৩৩৭ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীর সংখ্যা ১৩২।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় শুক্রবার এসব তথ্য জানিয়েছে।

ইসি জানায়, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীদের বাদ দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫০ হাজার ১৪৬ প্রার্থী। চেয়ারম্যান পদে মাঠে আছেন ৪ হাজার ৪০৯ জন। সংরক্ষিত সদস্যপদে ১১ হাজার ১০৫ এবং সাধারণ সদস্যপদে ৩৪ হাজার ৬৩২ জন ভোটে লড়াই করছেন।

মোট ১০ হাজার ১৫৯টি কেন্দ্রে হচ্ছে ভোট। এগুলোতে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ৬১ হাজার ৮৩০টি। ৩৩টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হচ্ছে।

১ হাজারটি ইউপিতে ভোটারসংখ্যা ২ কোটি ১৪ লাখ ৯ হাজার ২৭৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ২১ লাখ ৫ হাজার ৪২৩ জন । নারী ভোটার ৯৯ লাখ ৩২ হাজার ৫৩০ জন। এর বাইরে ট্রান্সজেন্ডার ভোটার আছেন ১৯ জন।

নিরাপত্তা

ভোটের সার্বিক পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ২২ জন সদস্য রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশের একজন এসআই বা এএসআই বা নায়েক থাকছেন। আর পুলিশের কনস্টেবল থাকছেন চারজন। অস্ত্রসহ পিসি ও এপিসি মর্যাদার আনসার থাকবেন দুজন।

লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার-ভিডিপি সদস্য থাকবেন ১৫ জন। তাদের মধ্যে নারী থাকবেন ৭ জন। বাকি ৮ জন পুরুষ।

পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে গঠিত একটি মোবাইল ফোর্স প্রতি ইউনিয়নে আর স্ট্রাইকিং ফোর্স আছে প্রতি তিন ইউনিয়নে একটি।

প্রতি উপজেলায় র‌্যাবের মোবাইল টিম আছে দুটি আর স্ট্রাইকিং ফোর্স আছে একটি। প্রতি উপজেলায় বিজিবির মোবাইল টিম আছে দুই প্লাটুন। স্ট্রাইকিং ফোর্স রয়েছে এক প্লাটুন।

প্রতিটি উপকূলীয় উপজেলায় কোস্ট গার্ডের মোবাইল ফোর্স দুই প্লাটুন এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স আছে এক প্লাটুন।

ভোটের আগের দুই দিন, ভোটের দিন ও পরের দিন মিলে চার দিন মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই পদ্ধতিতে প্রতি উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন তিনজন। আর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন একজন।

আরও পড়ুন:
শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ: পরিবার চায় জাতীয় সম্মাননা

শেয়ার করুন

ওমিক্রনে ফের বেসামাল বিশ্ব অর্থনীতি, আতঙ্ক দেশেও

ওমিক্রনে ফের বেসামাল বিশ্ব অর্থনীতি, আতঙ্ক দেশেও

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে আতঙ্ক বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রমের বিষযটি সরকার পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন। অতিসংক্রামক এই ধরন শনাক্তের জেরে আবারও ধাক্কা লেগেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ধস নেমেছে বিশ্বের বড় বড় পুঁজিবাজারে। ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় ৬৮ ডলারে নেমে এসেছে।

আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলাদেশেও। আবার কি বন্ধ হয়ে যাবে সবকিছু? থমকে যাবে পৃথিবী? আমদানি-রপ্তানিতে যে গতি ফিরে এসেছিল, তা কি থমকে দাঁড়াবে, ওলট-পালট হয়ে সব হিসাবনিকাশ? এ সব চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে সরকার, ব্যবসায়ী-শিল্পপতি ও অর্থনিতিবিদদের।

পৌনে দুই বছরের করোনার ছোবলে তছতছ হয়ে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতি মাত্র ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল। তখনই করোনার নতুন ধরণ ‘ওমিক্রন’ নতুন সঙ্কটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বকে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের খবর বলছে, শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। মার্কিন তেলের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দর ১৩ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৬৮ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয়েছে ৭২ দশমিক ৭২ ডলারে।

২০২০ সালের এপ্রিলে করোনা মহামারির প্রথম দিকে রেকর্ড ধসের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামের এটাই সবচেয়ে বড় পতন।

মাত্র কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আহ্বানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ সমন্বিতভাবে স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) বা কৌশলগত মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু যে আশা করা হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। বিশ্ববাজারে এর প্রভাব পড়েছে একেবারেই সামান্য। তবে করোনার নতুন ধরনের ছড়ানোর খবর সামনে আসতেই কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম।

শুধু তেলের বাজারই নয়, ওমিক্রনের ধাক্কায় অস্থির হয়ে উঠেছে শেয়ারবাজারও। যুক্তরাষ্ট্রের ডো জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজের সূচক কমেছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। যা ২০২০ সালের অক্টোবরের পর থেকে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি। ইউরোপীয় শেয়ারবাজারগুলো বিগত ১৭ মাসের মধ্যে সবচেয়ে নিম্নমুখী ছিল। ইউরোপীয় বেঞ্চমার্ক স্টক্স ৬০০ এর লেনদেন শেষে হয়েছে সূচকে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ পতনের মাধ্যমে, যা ২০২০ সালের জুনের পর থেকে সর্বনিম্ন।

তবে সবচেয়ে বেশি বিপদ যাচ্ছে এয়ারলাইন ও ভ্রমণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। শুক্রবার ক্রুজ পরিচালনাকারী কার্নিভাল করপোরেশন, রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ক্রুজেস ও নরওয়েজিয়ান ক্রুজ লাইনের শেয়ারের দাম কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। পাশাপাশি ইউনাইডেট এয়ারলাইনস, ডেল্টা এয়ারলাইন ও আমেরিকান এয়ারলাইনসের অবস্থাও ছিল প্রায় একই।

ঢাকার রেডিসন হোটেলে ২৮ ও ২৯ নভেম্বর দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন-২০২১ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল মাধ্যমে রোববার সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন।

সম্মেলন উপলক্ষে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

করোনার নতুন ধরনের (ওমিক্রন) কারণে বিনিয়োগ সম্মেলনের কোনো প্রভাব পড়বে কী-না এমন প্রশ্নে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘খুব একটা প্রভাব পড়বে না। কারণ ইতোমধ্যে অনেক অতিথি চলে এসেছেন। সৌদি সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ের একটি বড় প্রতিনিধিদল এসেছে। অনেকেই ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। তবে নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপ আরও ৮-১০ দিন আগে দেখা দিলে সম্মেলনে সরাসরি অংশগ্রহণ হয়তো আমরা বন্ধ করতাম।’

ওমিক্রমের বিষযটি সরকার পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান সালমান।

অর্থনীতির গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অবস্থা বেশ খারাপ মনে হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে আরেকটি বড় ধাক্কা আসছে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়বে।’

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘আমরা খুবই চিন্তিত। প্রতিটি মুহূর্ত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটছে আমাদের।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাত্রই আমরা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করছিলাম। রপ্তানি বেশ ভালই বাড়ছিল; প্রচুর অর্ডার আসছিল। কিন্তু ওমিক্রনের ধাক্কা আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে, কে জানে?’

আরও পড়ুন:
শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ: পরিবার চায় জাতীয় সম্মাননা

শেয়ার করুন

মেধা-সক্ষমতার ভিত্তিতে তিন হাজার কনস্টেবল নিয়োগ

মেধা-সক্ষমতার ভিত্তিতে তিন হাজার কনস্টেবল নিয়োগ

শুধু আবেদন ফি দিয়েই ছেলে পেয়েছে পুলিশের চাকরি। কুড়িগ্রামে এক পরিবারে আনন্দ। ছবি: নিউজবাংলা

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, 'কনস্টেবল পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অসাধু পন্থা অবলম্বন করতে না পারে সেজন্য পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন পুলিশ সচেষ্ট ছিল। কয়েকটি জেলায় প্রতারণার অভিযোগে প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হয়।'

‘চাকরি নয় সেবা’ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশ পুলিশে প্রথমবারের মতো নতুন নিয়োগ বিধি অনুযায়ী ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিন হাজার প্রার্থী।

কনস্টেবল পদে মেধা ও শারীরিক দিক থেকে অধিক যোগ্য প্রার্থী নিয়োগের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় গত ২৫ অক্টোবর। তিন হাজার শূন্য পদের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল তিন লাখ ৩৮ হাজার ৫৩৪ জন। প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হন এক লাখ ১৭ হাজার ৬৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৬৩৪ ও নারী ১৬ হাজার ৪৩৪ জন।

শারীরিক সক্ষমতা যাচাই শেষে ২৩ হাজার ৬৯৭ প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পান। তাদের মধ্যে ২১ হাজার ৭৫৯ জন পুরুষ ও এক হাজার ৯৩৮ জন নারী। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সাত হাজার চারশ’ প্রার্থীর মধ্যে কনস্টেবল পদে চূড়ান্ত নিয়োগ পেয়েছেন তিন হাজার।

শনিবার রাতে এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশোধিত নিয়োগ বিধি অনুযায়ী কনস্টেবল নিয়োগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল, মেধা ও শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকে অধিকতর যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ করা। দেশের ৬৪ জেলায় কনস্টেবল নিয়োগ এক অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছে। কোন তদবির বা অর্থের লেনদেন ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, কনস্টেবল পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অসাধু পন্থা অবলম্বন করতে না পারে সেজন্য পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন পুলিশ সচেষ্ট ছিল। কয়েকটি জেলায় কনস্টেবল নিয়োগে প্রতারণার অভিযোগে প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হয়।

এভাবে কোনো ধরনের তদবির বা অর্থছাড়া কনস্টেবল পদে চাকরি পাওয়া সাধারণ পরিবারের তরুণ-তরুণী এবং তাদের পিতা-মাতার জন্য ছিল স্বপ্নের মত। এসব পরিবারের সন্তানদের কাছে মাত্র ১৩৩ টাকা ফি দিয়ে পুলিশের চাকরি পাওয়া ছিল স্বপ্নাতীত।

কনস্টেবল নিয়োগ সম্পর্কে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ পুলিশকে উন্নত দেশের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করেছি। এবারের কনস্টেবল নিয়োগ সে প্রক্রিয়ারই অংশ। ভবিষ্যতে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর এবং সার্জেন্ট পদেও মেধা ও শারীরিক যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীরাই নিয়োগ পাবেন।

আরও পড়ুন:
শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ: পরিবার চায় জাতীয় সম্মাননা

শেয়ার করুন

বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু রোববার

বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু রোববার

শনিবার বিডা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সালমান এফ রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, দেশে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ গত কয়েক বছর ধরেই ৩০-৩১ শতাংশে আটকে আছে। এই অনুপাত ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) আকারের তুলনায় দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ কম। এটা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে। এর অংশ হিসাবে লাভজনক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে রোববার ঢাকায় শুরু হচ্ছে দু’দিনের বিনিয়োগ সম্মেলন।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিনিয়োগ সম্মেলন সামনে রেখে শনিবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সালমান এফ রহমান বক্তব্য দেন। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার রেডিসন হোটেলে ২৮ ও ২৯ নভেম্বর দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন-২০২১ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এর আগে ২০১৬ সালে ঢাকায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

দেশে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ গত কয়েক বছর ধরেই ৩০-৩১ শতাংশে আটকে আছে। অবশ্য করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে দেশের সার্বিক বিনিয়োগের সঙ্গে জিডিপির অনুপাত ২৯ দশমিক ৯২ শতাংশে নেমে আছে। এই অনুপাত ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমাদের গ্রাজুয়েশন (উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ) পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এজন্য দেশের বিভিন্ন সম্ভাবানময় খাত সামনে রেখে আমরা বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। বিডার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন করছি। আমেরিকার চারটি শহরে ও দুবাইয়ে আমরা বিনিয়োগ বিষয়ক রোড-শো করেছি। প্যারিস, সৌদি আরব থেকে বিনিয়োগ আনতে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এর সুফলও আমরা পাচ্ছি। বিডাতে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা যোগাযোগ করছেন।

‘আগে জাপান, কোরিয়া, চীনসহ অল্প কয়েকটি দেশ থেকে আমাদের বিনিয়োগ আসত। এখন অনেক নতুন নতুন দেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি দেশ বিনিয়োগ করতে চাইছে। দেশি বিনিয়োগও বাড়ছে।’

করোনার নতুন ধরনের (ভ্যারিয়েন্ট) কারণে বিনিয়োগ সম্মেলনের কোনো প্রভাব পড়বে কীনা এমন প্রশ্নে এফ রহমান বলেন, খুব একটা প্রভাব পড়বে না। কারণ ইতোমধ্যে অনেক অতিথি চলে এসেছেন। সৌদি সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ের একটি বড় প্রতিনিধিদল এসেছে। অনেকেই ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। তবে নতুন ভ্যারিয়েস্টের প্রকোপ আরও ৮-১০ দিন আগে দেখা দিলে সম্মেলনে সরাসরি অংশগ্রহণ হয়তো আমরা বন্ধ করতাম।’

বর্তমানে দেশের অর্থনীতির আকার (জিডিপি) ৪০৯ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৫ লাখ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে।

বিডা জানায়, বিনিয়োগ সম্মেলনে মূলত দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ, অর্থনৈতিক অঞ্চল, সমুদ্র অর্থনীতি খাতে বিনিয়োগ উপযোগিতা তুলে ধরা হবে। এছাড়া বিভিন্ন সেশনে স্বাস্থ্য ও ওষুধ শিল্প, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খাত, শেয়ার বাজার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অবকাঠামো, আর্থিক সেবা, কৃষি বাণিজ্য, তৈরি পোশাক, তথ্য-প্রযুক্তি, ইলেক্ট্রিক্যাল পণ্য তৈরিসহ ১৪টি খাত নিয়ে নির্দিষ্ট আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৩ লাখ কোটি অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকসহ (এআইআইবি) বৈশ্বিক অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা এই সম্মেলনে অংশ নেবেন।

প্রতিটি সেশনে একজন বিশেষজ্ঞ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা আলোচনা করবেন। সংশ্লিষ্ট খাতের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।

আরও পড়ুন:
শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ: পরিবার চায় জাতীয় সম্মাননা

শেয়ার করুন