ভোট নিয়ে সংঘাতে আ.লীগ কর্মীরা, নিশ্চুপ কেন্দ্র

ভোট নিয়ে সংঘাতে আ.লীগ কর্মীরা, নিশ্চুপ কেন্দ্র

নরসিংদীতে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত একজনের স্বজনদের আহাজারি। ফাইল ছবি

ইউপি নির্বাচন নিয়ে দলে অন্তর্কোন্দল আর হানাহানির ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিশ্চুপ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। বিদ্রোহ ঠেকাতে হুঙ্কার আর বহিষ্কারেই সীমাবদ্ধ তাদের কার্যক্রম। জেলা উপজেলা পর্যায়ের নেতাদেরও এ ব্যাপারে কোনো তৎপরতা নেই, বরং অনেক নেতার বিরুদ্ধে এসব সংঘাতে মদদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো স্থানে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নামছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা।

দেশজুড়ে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নানা স্থানেই ঘটছে সংঘাত-সহিংসতা। প্রাণহানি, বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। মাগুরা, মেহেরপুর, নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘর্ষে ঝরেছে প্রাণ।

এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। অন্য বিরোধী দলগুলোরও তেমন একটা তোড়জোর নেই। তবু কেন এত সংঘাত আর প্রাণহানি?

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ভোটে আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ। বেশিরভাগ ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। নিজেদের অনুসারীদের নিয়ে নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। বেশিরভাগ সংঘাতের ঘটনা ঘটছে দলের প্রার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক প্রার্থীর অনুসারীদের। সংঘাত যারা মারা যাচ্ছেন তারাও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাব বিস্তার নিয়েও সংঘর্ষ বাঁধছে।

দলে অন্তর্কোন্দল আর হানাহানির ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিশ্চুপ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। বিদ্রোহ ঠেকাতে হুঙ্কার আর বহিষ্কারেই সীমাবদ্ধ তাদের কার্যক্রম। জেলা উপজেলা পর্যায়ের নেতাদেরও এ ব্যাপারে কোনো তৎপরতা নেই, বরং অনেক নেতার বিরুদ্ধে এসব সংঘাতে মদদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো স্থানে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নামছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা।

গত সোমবার সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ইসলামপুর ইউনিয়নে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ইলিয়াস রহমানের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার চালান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী আমজাদ। এতে স্থানীয় পর্যায়ে দলে বিরোধ আরও বাড়ছে। এই বিরোধ রূপ নিচ্ছে সংঘাতে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সহিংসতার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলো দলীয় প্রতীকের বাইরে হতো। এ কারণে এটা সেটেল-ডাউন করতে কিছুটা সময় লাগছে। দ্বিতীয় কারণ একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনেক প্রার্থী থাকে। নৌকা মার্কা ছাড়াও অনেক প্রার্থী থাকে। এরপর ওয়ার্ডের প্রার্থী আছে। সব মিলিয়ে একটি ইউনিয়নে প্রায় ৭০ জন নির্বাচন করছে। সুতরাং একে অপরের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি, মিছিলে-মিছিলে মুখোমুখির কারণে দ্বন্দ্বগুলো সৃষ্টি হয়, যাতে কখনও কখনও মানুষ মারা যাচ্ছে, যা কখনও কাম্য নয়।’

আগের চেয়ে সহিংসতার বাড়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে সহিংসতা আগেও হতো। তবে আমি মনে করি, কখনও বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধনে আবার কোনো কোনো জায়গা দলীয় কিছু নেতাদের ইন্ধনে এই গোলমালগুলো হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা হয়েছে। যারা বিদ্রোহী হচ্ছেন, তারা কখনও আর দলের মনোনয়ন পাবেন না।’

ইউপি নির্বাচন নিয়ে সবচেয়ে বড় সংঘাতের ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরায়। জেলার সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুই ভাইসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জন।

ভোট নিয়ে সংঘাতে আ.লীগ কর্মীরা, নিশ্চুপ কেন্দ্র
মাগুরায় নিহত সবুর মোল্যার বাড়িতে স্বজনরা

গত ১৫ অক্টোবর দক্ষিণ জগদল গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। এতে নিহতরা হলেন সবুর মোল্যা, রহমান মোল্যা, কবির হোসেন এবং ইমরান।

এই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য (মেম্বার) নজরুল হোসেন ও আরেক সদস্য প্রার্থী সৈয়দ হাসান আলীর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই দুই প্রার্থী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, দুই দিন আগে থেকেই পরিকল্পনা করে এই হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গত ৪ নভেম্বর নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউপি নির্বাচন নিয়ে সংঘর্ষে নিহত হন তিনজন। এতে কমপক্ষে ৫০ জন গুলিবিদ্ধ ও টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।

ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুল্লাহর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আসাদুল্লাহ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন।

নিহত তিনজন হলেন আশরাফুল, আমির হোসেন ও খুশি বেগম। তারা সবাই দেলোয়ার হোসেনের সমর্থক।

এর আগে গত ২৬ অক্টোবর এ ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধ হন।

দলীয় দুই নেতার মধ্যে বারবার সংঘাত ও প্রাণহানি প্রসঙ্গে নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জি এম তালেব হোসেন বলেন, ‘আমাদের একজন নেতা আসাদউল্লাহ আসাদ বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। পরে তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, দুজন মেম্বার সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্বে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর মধ্যে কারও ইন্ধন থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের দলীয় কোনো প্রভাব নেই।’

তিনি বলেন, ‘হত্যার ঘটনায় একটা মামলা হয়েছে। এটা প্রশাসনিক বিষয়। পুলিশ তদন্ত করে যা পাবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এ ব্যাপারে আমাদের বলার কিছু নেই। তবে দলীয়ভাবে আমরা প্রার্থীদের অনুনয় বিনয় করছি, সংঘাত এড়িয়ে এক সাথে এক জোট হয়ে কাজ করার জন্য। এরপরও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যারা নির্বাচনে অংশ নেবে, তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।’

নির্বাচনি সংঘাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে মেহেরপুরেও। গত ৮ নভেম্বর সকালে মেগেরপুরের গাংনীতে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুই ভাই নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।

নিহত দুজন হলেন লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের জাহারুল ইসলাম ও তার ভাই সাহাদুল ইসলাম।

কাথুলী ইউপি নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুই সদস্য প্রার্থী আজমাইন হোসেন ও আতিয়ার রহমানের কর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ খালেক নিউজবাংলাকে জানান, হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এটি পুলিশ দেখবে। এসব ঘটনা এড়ানোর দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আর যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এ ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।

খোদ রাজধানীতেও ঘটেছে প্রাণহানির ঘটনা। গত ৩১ অক্টোবর যাদবপুর ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী আবদুল মজিদের কর্মীদের ওপর বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজুর কর্মীরা হামলা চালায়। এতে আহত হয়ে পরদিন মারা যান শিহান নামে এক যুবক। আলমগীর হোসেন নামে আওয়ামী লীগের আরেক কর্মী গুরুতর আহন হন।

এ ছাড়া বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়ন, পঞ্চগড় উপজেলার ভজনপুর, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মাহমুদপুরে, পটুয়াখালীর বাউফলের নওমালা ইউনিয়নে, ফরিদুপুরের ভাঙ্গায়, কুমিল্লার তিতাস, সিলেটের সদর উপজেলাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে সংঘাত, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

দলীয় নেতা-কর্মীদের এমন সংঘাতের ঘটনায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, ‘আমরা তো চাই নির্বাচনে কোনো সহিংসতা না হোক। এ জন্য আমাদের সাধারণ সম্পাদক কড়া বিবৃতি দিয়েছেন। উদ্দেশ্য হচ্ছে, যারা বিদ্রোহী তারা যাতে বসে যায়। আশা করি, আগামী নির্বাচনগুলোতে সহিংসতা কমে আসবে। তার আগে আমাদের সবাইকে মনোযোগী হতে হবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মনোযোগী হতে হবে। আমরাও বিদ্রোহীদের পরামর্শ দিয়ে নিবৃত করার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। নির্বাচন কমিশনও এ বিষয়ে কঠোর হবে বলেছে। আমি মনে করি দুই একটা নির্বাচন গেলে আমরা সেটেল-ডাউন করব।’

দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের মধ্যে কিছু কিছু লোক বিদ্রোহী হচ্ছে। এই বিদ্রোহী হওয়ার পেছনে আমরা কারণ হিসেবে দেখেছি আমাদের দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীরা একটি ইউনিয়নে অনেকজন আছে। আমি মনে করি প্রতিটি ইউনিয়নে প্রায় ১০ জন নেতা-কর্মী আছে, যারা চেয়ারম্যান হওয়ার উপযুক্ত, কিন্তু ১০ জনকে তো মনোনয়ন দেওয়া যাবে না।

‘একজনকে দিলে বাকি ৯ জন মনে করে, আমি আমার মূল্যায়ন পেলাম না। এতে অনেক নেতা আবেগের কারণে বিদ্রোহী হয়েছে। আমরা তাদের বোঝাচ্ছি, কেন্দ্রীয়ভাবে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দল থেকে বোঝানো হচ্ছে। কেউ কেউ বসে যাচ্ছে, কেউ কেউ না বসে দাঁড়িয়ে থাকছে। অনেক ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াত ইচ্ছা করে সহিংসতা সৃষ্টি করছে, জাতীয় নির্বাচনের যা তারা করার চেষ্টা করেছিল।’

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যান হতে মাঠে কলেজের অধ্যক্ষ ও অফিস সহায়ক
প্রচারে হুমকি সহিংসতা, ইউপিতে ভোট নিয়ে শঙ্কা
নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ আ.লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে
কেন্দ্রে নৌকার ৫০০ লোক রাখার ঘোষণা মেয়রের
ইউপি নির্বাচন: তিন বিভাগে ৪০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কমলাপুরে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা

কমলাপুরে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা

হায়দার হোসেন বলেন, ‘অনেকটা শখের বসেই কমলার চাষ শুরু করেছিলাম। এভাবে ফলন হবে ভাবিনি। এবারে কমলা যা ধরেছে সব আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের খাওয়ায়ে দেবো। আগামী বছর থেকে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করব।’

কমলাপুর গ্রামে এখন হায়দার মিয়ার বাগানে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা। সবুজ কমলায় আসা শুরু করেছে কমলা রং।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় এটিই প্রথম বাণিজ্যিক কমলার বাগান। স্থানীয়দের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে হায়দার মিয়ার কমলা চাষ।

হায়দার হোসেন জানান, ২০২০ সালে বাড়ির পাশের ৭৫ শতাংশ জায়গায় তিনি দার্জিলিং, চায়না ও নাগপুরি জাতের কমলালেবুর ৩ শ চারা লাগান। কমলা আদৌ ধরবে কি না সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই চারার পরিচর্যা করেছেন। তিন বছর পর কমলা ধরার কথা থাকলেও দুই বছরের মাথায় গাছে এসেছে কমলা।

কমলাপুরে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা

তিনি বলেন, ‘অনেকটা শখের বসেই কমলার চাষ শুরু করেছিলাম। এভাবে ফলন হবে ভাবিনি। এবারে কমলা যা ধরেছে সব আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের খাওয়ায়ে দেবো। আগামী বছর থেকে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করব।

‘এখন পর্যন্ত আমার এই কমলা চাষের পেছনে লাখ পাঁচেক টাকা খরচ হয়েছে। আগামী বছর আরও লাখ খানেক খরচ করব। আশা করছি সামনের বার কমলা বিক্রি করে এই খরচ তুলে ফেলতে পারব।’

কমলাপুরে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা

নিউজবাংলার প্রতিনিধি তার বাগানে যাওয়ার পর তিনি গাছের প্রথম কমলা ছিঁড়ে দেন। খেয়ে দেখা যায়, বেশ মিষ্টি হায়দার হোসেনের বাগানের কমলা।

কমলাপুরের মজিবর রহমান সরদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কমলা ধরার কথা শুনে দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই আসছেন দেখতে। এর আগে অনেকেই কমলাগাছ দেখেননি। গাছে ফল দেখে কেউ কেউ নিজেও বাগান করার ইচ্ছার কথা বলছে।’

কমলাপুরে ঝুলছে থোকা থোকা কমলা

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক অরবিন্দ কুমার রায় জানান, সাধারণত পানি জমে না এমন উঁচু জমি কমলা চাষের জন্য উপযোগী। তবে গোপালগঞ্জের জমি বেশ উঁচু। এখানে প্রথমবারের মতো কমলার চাষ হয়েছে। ফলও এসেছে ভালো। তাই ধারণা করা হচ্ছে জেলার অন্য কৃষকরাও কমলা চাষ করতে পারবেন। কেউ এই ফলের বাগান করতে চাইলে কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যান হতে মাঠে কলেজের অধ্যক্ষ ও অফিস সহায়ক
প্রচারে হুমকি সহিংসতা, ইউপিতে ভোট নিয়ে শঙ্কা
নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ আ.লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে
কেন্দ্রে নৌকার ৫০০ লোক রাখার ঘোষণা মেয়রের
ইউপি নির্বাচন: তিন বিভাগে ৪০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

শেয়ার করুন

চাহিদার আখই পাচ্ছে না চিনিকল, গুনছে লোকসান 

চাহিদার আখই পাচ্ছে না চিনিকল, গুনছে লোকসান 

নাটোর চিনিকলে গত অর্থবছরে আখ দেয়া চাষিদের জমির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৫৮৪ একর। এই অর্থবছরে সেখানে আখ চাষ হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৫৩৫ একর জমিতে। নর্থবেঙ্গল চিনিকলের অবস্থাও একই। ২৬ হাজার ৫০ একর জমি থেকে কমে এবার আখ চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ৫৬৪ একরে।

নতুন মৌসুমে আখ মাড়াই শুরু হয়েছে নাটোর চিনিকল ও নর্থবেঙ্গল চিনিকলে। কাজ শুরু হলেও নাটোরের এই দুই চিনিকল সক্ষমতার অর্ধেক সময়ও চলবে না আখ সংকটে।

তীব্র আখ সংকটের কারণে কয়েক বছর ধরেই চিনিকল দুটি গুনছে লোকসান। গত মৌসুমেও নাটোর চিনিকল গুনেছে ৩২ কোটি টাকা লোকসান। নর্থবেঙ্গলের ক্ষতি ছিল ২০ কোটি টাকা।

এমন পরিস্থিতিতে যেখানে আখ উৎপাদন বাড়ানোর কথা ছিল সেখানে এ বছর আখ উৎপাদন হয়েছে অর্ধেকেরও কম জমিতে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে নাটোর চিনিকলে আখ দেয়া চাষিদের জমির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৫৮৪ একর। ২০২০-২১ অর্থবছরে সেখানে আখ চাষ হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৫৩৫ একর জমিতে।

চিনিকলের কর্মকর্তারা বলছেন, এই জমির আখ দিয়ে চিনিকল চলবে মাত্র এক মাস, অথচ প্রায় ছয় মাস ধরে চলবে আখ মাড়াইয়ের মৌসুম।

নর্থবেঙ্গল চিনিকলের অবস্থাও একই। ২৬ হাজার ৫০ একর জমি থেকে কমে এবার আখ চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ৫৬৪ একরে।

আখ চাষিরা বলছেন, দাম কমসহ সময় মতো টাকা না পাওয়ায় আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন তারা। আবার সরকার থেকেও তাদের প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় না।

নাটোর চিনিকলে এ বছর আখ মাড়াই শুরু হয় ৩ ডিসেম্বর। আর ২৬ নভেম্বর মাড়াই শুরু করেছে নর্থবেঙ্গল চিনিকল।

গত দুই-তিন বছর ধরেই এ দুই চিনিকল চাহিদা অনুযায়ী আখ না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। এবারও একই অবস্থা হবে।

নাটোর সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আখচাষি মামুন হোসেন জানান, আগে তার বাবা-চাচারা প্রায় ৪৫ বিঘা জমিতে আখ চাষ করতেন। কম দামের পাশাপাশি সময় মতো পাওনা না পাওয়ায় তারা এখন পাঁচ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেন।

একই গ্রামের আখচাষি কামরুল ইসলাম জানান, এখন কৃষি জমিতে বছরে দুই-তিন ধরনের ফসল হয়। সেই ফসল নগদে বিক্রি করা যায়। অন্যদিকে বিঘা প্রতি আখের যা ফলন হয় তা দিয়ে লাভ হয় না।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে এক মণ আখের দাম ১৪০ টাকা, যা অন্য ফসলের তুলনায় খুবই কম। এ ছাড়া জমি তৈরি, সার, বীজ, শ্রমিক খরচ সব নগদ টাকায় করতে হলেও সুগার মিলে আখ সরবরাহ করে বছরের পর বছর টাকার জন্য ধরনা দিতে হয়। তাই তারা আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

চিনিকল বাঁচাতে সরকারকে উন্নতমানের বীজ, সারসহ সবকিছু কৃষকদের মাঝে সহজ শর্তে সরবরাহ করতে হবে বলেও জানান তিনি।

আখের দাম নিয়ে আখচাষি মামুন জানান, বর্তমান জাতে এক একর জমিতে এখন আখ পাওয়া যায় ৩০০ মণের মতো। ১৪০ টাকা মণ হিসাবে সেখান থেকে পাওয়া যায় ৪২ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ লাগে ১৮-২০ হাজার টাকা। এক একর জমিতে সারা বছরে মাত্র ১৫-২০ হাজার টাকা লাভে কিছুই হয় না।

তিনি আরও জানান, উন্নতজাতের আখের পাশাপাশি ভালো মতো সার ও পরিচর্যা করলে এই আখই একরে ৭৫০ মণ পাওয়া যায়। তাতে উৎপাদন খরচ বেড়ে ৩০-৩৫ হাজার টাকায় যাবে। মণপ্রতি দাম ২০০ টাকা দিলে সেক্ষেত্রে চিনিকলের পাশাপাশি তারাও লাভবান হতেন।

তবে সরকারি সহায়তা না থাকা ও পাওনা পেতে দেরি হওয়ায় তারা এখন আখ চাষের আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছেন।

নাটোর চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মসলেম উদ্দিন বলেন, ‘চিনিশিল্পকে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করে এদিকে সরকারের বিশেষ নজর দিতে হবে। আখচাষিদের প্রণোদনার আওতায় এনে তাদের মধ্যে উন্নতমানের বীজ সরবরাহের মাধ্যমে সংকট নিরসন হবে। সেই সঙ্গে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতসহ সময়মতো কৃষকদের টাকা পরিশোধ করতে হবে।’

আখ সংকটে নির্ধারিত সময়ের আগেই মিল বন্ধ করতে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নাটোর চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আনোয়ার হোসেন জানান, গত বছর এ চিনিকলে লোকসান ছিল ৩২ কোটি টাকা। তবে তারা সংকট নিরসনে কৃষকদের সময় মতো পাওনা টাকা দেয়া, উন্নতমানের বীজ সরবরাহসহ চিনিকলের উন্নয়নে সব উদ্যোগ নিচ্ছে।

এরই মধ্যে শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা এবং বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অতিরিক্ত সচিব আরিফুল ইসলাম তপু নাটোরের দুই চিনিকল পরিদর্শন করেছেন বলে জানালেন আনোয়ার।

তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষকদের প্রণোদনাসহ উন্নতমানের বীজ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছি। চলতি বছর নাটোর চিনিকলে এক লাখ টন আখ মাড়াই করে সাত হাজার ৬০০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।’

নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবীর জানান, এই চিনিকলে চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৮৬ টন আখ মাড়াই করে ১৩ হাজার ৬০০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গত বছর করোনাভাইরাসের কারণে কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের বীজ ও সার সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। এ বছর চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন চিনিকলের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগ আবারও চিনিকল লাভের মুখ দেখবে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যান হতে মাঠে কলেজের অধ্যক্ষ ও অফিস সহায়ক
প্রচারে হুমকি সহিংসতা, ইউপিতে ভোট নিয়ে শঙ্কা
নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ আ.লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে
কেন্দ্রে নৌকার ৫০০ লোক রাখার ঘোষণা মেয়রের
ইউপি নির্বাচন: তিন বিভাগে ৪০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

শেয়ার করুন

করতোয়ার তীরে মস্তকহীন নবজাতক

করতোয়ার তীরে মস্তকহীন নবজাতক

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। খণ্ডিত মাথাটি খোঁজার চেষ্টা চলছে।’

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় করতোয়া নদীর তীর থেকে মস্তকহীন এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের কালিগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকা থেকে শনিবার বিকেলে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। খণ্ডিত মাথাটি খোঁজার চেষ্টা চলছে।

‘ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতে কোনো একসময় শিশুটির জন্ম হয়েছিল। কিছু সময়ের মধ্যে হত্যা করা হয় নবজাতককে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

উল্লাপাড়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নবজাতকের মাথা উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্তে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে কাজ করছে পুলিশ। থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যান হতে মাঠে কলেজের অধ্যক্ষ ও অফিস সহায়ক
প্রচারে হুমকি সহিংসতা, ইউপিতে ভোট নিয়ে শঙ্কা
নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ আ.লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে
কেন্দ্রে নৌকার ৫০০ লোক রাখার ঘোষণা মেয়রের
ইউপি নির্বাচন: তিন বিভাগে ৪০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

শেয়ার করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৮

নবীনগর থানার সামনে দুপক্ষের সংঘর্ষে আটজন আহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে নবীপুর গ্রামের শাওন নামে এক যুবককে শ্রীরামপুর এলাকায় আলমনগর গ্রামের কয়েকজন মারধর করে। এ ঘটনার জেরে বিকেলে নবীনগর থানার সামনে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার সামনে পূর্ববিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ আটজন আহত হয়েছেন।

উপজেলার নবীপুর ও আলমনগর গ্রামের লোকজন শনিবার বিকেলে থানা গেটের সামনে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আজিজ, আশরাফুল ইসলাম ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুন। বাকিরা হলেন শাওন মিয়া, কাউছার মিয়া, ছুবুর মিয়া, পাবেল মিয়া ও রাজিব।

ওসি জানান, কয়েক মাস ধরে নবীনগর ইউনিয়নের নবীপুর ও পৌর এলাকার আলমনগর গ্রামের যুবকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। উভয়পক্ষ একে অন্যের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি আরও জানান, শনিবার সকালে নবীপুর গ্রামের শাওন নামে এক যুবককে শ্রীরামপুর এলাকায় আলমনগর গ্রামের কয়েকজন মারধর করেন। এ ঘটনার জেরে বিকেলে নবীনগর থানার সামনে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে পুলিশের তিন কর্মকর্তাসহ আটজন আহত হন। তাদের নবীনগর সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানেও সংঘর্ষ হয়।

দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান ওসি আমিনুর।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যান হতে মাঠে কলেজের অধ্যক্ষ ও অফিস সহায়ক
প্রচারে হুমকি সহিংসতা, ইউপিতে ভোট নিয়ে শঙ্কা
নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ আ.লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে
কেন্দ্রে নৌকার ৫০০ লোক রাখার ঘোষণা মেয়রের
ইউপি নির্বাচন: তিন বিভাগে ৪০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

শেয়ার করুন

ইন্সপেক্টরের সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ’, সেই নারী পুলিশকেও প্রত্যাহার

ইন্সপেক্টরের সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ’, সেই নারী পুলিশকেও প্রত্যাহার

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওই নারী কনস্টেবলকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি ছুটিতে থাকা অবস্থায় প্রদীপ কুমার দাসের কক্ষে রাতের বেলা কী কারণে গেলেন, তা জানাতে তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) আদালত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) প্রদীপ কুমার দাসের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ার অভিযোগে নারী কনস্টেবলকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে।

এর আগে একই অভিযোগে প্রদীপ কুমার দাসকেও ক্লোজড করা হয়।

অভিযুক্ত ওই নারী কনস্টেবল ছুটিতে ছিলেন। তার ছুটি বাতিল করে ক্লোজড করা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওই নারী কনস্টেবলকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে যুক্ত করা হয়।

পাশাপাশি ছুটিতে থাকা অবস্থায় প্রদীপ কুমার দাসের কক্ষে রাতের বেলা কী কারণে গেলেন, তা জানাতে তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার রাতে আদালতে নিজ কক্ষে নারী কনস্টেবলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগ উঠে প্রদীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছুটিতে থাকা ওই নারী কনস্টেবলকে রাতে কোর্ট বিল্ডিংয়ে নিজ কক্ষে ডেকে নেন কোর্ট ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার দাস। রাত ৯টার দিকে কোর্ট ইন্সপেক্টরের কক্ষের দরজা খোলা এবং ভেতরে আলো নেভানো দেখে অন্য পুলিশ সদস্যরা সেই কক্ষে ঢোকেন। আলো জ্বালানোর পর দুজনকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।

এরপর ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার দাসকে ক্লোজড করে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ লাইন্সে যুক্ত করা হয়।

অভিযুক্তের সত্যতা পেলে প্রদীপের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফউল্লাহ তাহের।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যান হতে মাঠে কলেজের অধ্যক্ষ ও অফিস সহায়ক
প্রচারে হুমকি সহিংসতা, ইউপিতে ভোট নিয়ে শঙ্কা
নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ আ.লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে
কেন্দ্রে নৌকার ৫০০ লোক রাখার ঘোষণা মেয়রের
ইউপি নির্বাচন: তিন বিভাগে ৪০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

শেয়ার করুন

দুই সন্তানকে ‘হত্যার’ পর মায়ের ‘আত্মহত্যা চেষ্টা’

দুই সন্তানকে ‘হত্যার’ পর মায়ের ‘আত্মহত্যা চেষ্টা’

প্রতীকী ছবি

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার জাকির হাসান (উত্তর) নিউজবাংলাকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে শিশু দুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন মা লিজা আক্তার। অচেতন লিজাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গাজীপুর সদরের মুক্তারটেক এলাকায় একটি বাড়ি থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলো চার বছরের তাসকিয়া জাহান ও ৯ মাস বয়সী তাসনিম জাহান।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার জাকির হাসান (উত্তর) নিউজবাংলাকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে শিশু দুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন মা লিজা আক্তার। অচেতন লিজাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিশুদের বাবা বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। সন্তানদের নিয়ে দুই মাস ধরে এই বাসায় ভাড়া থাকছেন তারা। কিছুদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছিল লিজা।

‘শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বাচ্চাদের জন্য নাস্তা কিনতে বাইরে গিয়েছিলাম। ১ ঘণ্টা পর বাড়ি ফিরে দেখি ওড়না পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে লিজা। বিছানায় পড়ে আছে বাচ্চাদের নিথর দেহ। আমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন লিজাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।’

পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) জাকির হাসান বলেন, ‘মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিশুদের মা সুস্থ হলে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যান হতে মাঠে কলেজের অধ্যক্ষ ও অফিস সহায়ক
প্রচারে হুমকি সহিংসতা, ইউপিতে ভোট নিয়ে শঙ্কা
নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ আ.লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে
কেন্দ্রে নৌকার ৫০০ লোক রাখার ঘোষণা মেয়রের
ইউপি নির্বাচন: তিন বিভাগে ৪০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

শেয়ার করুন

‘গ্রেপ্তার জঙ্গিদের ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল তাদের’

‘গ্রেপ্তার জঙ্গিদের ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল তাদের’

নীলফামারীর মাঝাপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ৫ জনকে। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব-১৩ জানায়, গোপন সংবাদে শুক্রবার রাতে সদরের মাঝাপাড়ার একটি বাড়ি থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় বোমা তৈরির সরঞ্জাম, একটি দেশীয় পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও পাঁচ রাউন্ড গুলি।

নিষিদ্ধ সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) রংপুর অঞ্চলের সামরিক প্রধান আহিদুল ইসলামসহ পাঁচজন আটক হয়েছেন নীলফামারীতে।

গোপন সংবাদে শুক্রবার রাতে সদরের মাঝাপাড়ার একটি বাড়ি থেকে তাদের আটক করে র‍্যাব। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় বোমা তৈরির সরঞ্জাম, একটি দেশীয় পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও পাঁচ রাউন্ড গুলি।

আটকরা হলেন রংপুর অঞ্চলের সামরিক প্রধান আহিদুল ইসলাম আহিদ ওরফে পলাশ, ওয়াহেদ আলী ওরফে আব্দুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে ডা. সুজা, জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাহিদ, নুর আমিন ওরফে সুবজ। তাদের সবার বাড়ি নীলফামারী জেলায়।

রংপুর র‌্যাব-১৩ কার্যালয়ে শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার শেখ আল মঈন।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার জঙ্গিদের আদালতে নেয়ার পথে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল তাদের। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাঝপাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়।

‘দুই-তিন বছর আগে আহিদুলের মাধ্যমে বাকি চারজন জেএমবিতে যোগ দেন। ইন্টারনেট ঘেঁটে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নেয়া এই পাঁচজন সদস্য সংগ্রহের কাজও করতেন।

আটকদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যান হতে মাঠে কলেজের অধ্যক্ষ ও অফিস সহায়ক
প্রচারে হুমকি সহিংসতা, ইউপিতে ভোট নিয়ে শঙ্কা
নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ আ.লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে
কেন্দ্রে নৌকার ৫০০ লোক রাখার ঘোষণা মেয়রের
ইউপি নির্বাচন: তিন বিভাগে ৪০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

শেয়ার করুন