সহিংসতা রোধে কঠোরতা চায় জাতীয় পার্টি

সহিংসতা রোধে কঠোরতা চায় জাতীয় পার্টি

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ফাইল ছবি

জি এম কাদের বলেন, দেশের মানুষ রক্তাক্ত নির্বাচন দেখতে চায় না। অথচ নির্বাচন নিয়ে পাল্টাপাল্টি হামলা আর গোলাগুলি নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব নির্বাচনি সহিংসতা ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনকে আরও কঠোর হতে হবে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা রোধে নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপ চায় জাতীয় পার্টি।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এ কথা জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের মানুষ রক্তাক্ত নির্বাচন দেখতে চায় না। অথচ নির্বাচন নিয়ে পাল্টাপাল্টি হামলা আর গোলাগুলি নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনের খুন-খারাবি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এসব নির্বাচনি সহিংসতা ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনকে আরও কঠোর হতে হবে।

নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পারবে না, এটা হতে পারে না। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা কাদের আরও বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের নির্বাচন চলছে সারা দেশে। স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন একসময় উৎসবমুখর পরিবেশে হতো। এখন তা আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘নির্বাচন কমিশন নির্বিকার, যেন তাদের কিছুই করার নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের সামনে প্রতিদিনের এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জাতিকে হতাশ করছে। ইতোমধ্যেই কয়েকটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। মেহেরপুরে এক মায়ের দুই ছেলেকেই কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা আর হতে পারে না।’

আরও পড়ুন:
জোট নয়, এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় জাপা
জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব চুন্নু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খালেদার সুস্থ হওয়াকে বিপদ মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

খালেদার সুস্থ হওয়াকে বিপদ মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

‘খালেদা জিয়ার সুস্থ হওয়াকে তিনি বিপদ মনে করছেন। এই বিপদ দেখেই নানা টালবাহানা করছেন। কোনো টালবাহানা চলবে না, আপনি কিছুই করতে পারবেন না।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থ হওয়াকে বিপদ মনে করে তাকে দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর অনুমতি দিচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে রাজধানীর নয়াপল্টনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আপনাদের উদ্দেশ্য খারাপ। আপনারা খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) চান খালেদা জিয়ামুক্ত বিএনপিমুক্ত বাংলাদেশ। এইটা আপনার ইচ্ছা। সে কারণে যে করেই হোক খালেদা জিয়াকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে হবে।’

বিএনপি নেত্রীকে প্রধানমন্ত্রী হুমকি মনে করেন বলে মন্তব্য রিজভীর। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সুস্থ হওয়াকে তিনি বিপদ মনে করছেন। এই বিপদ দেখেই নানা টালবাহানা করছেন। কোনো টালবাহানা চলবে না, আপনি কিছুই করতে পারবেন না।

‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে যে আগুন জ্বলবে, এই আগুন মিট মিট করে জ্বলবে না, এই আগুন ধিকি ধিকি করে জ্বলবে না। এই আগুন দাউ দাউ করে জ্বলবে এবং অত্যাচারীদের সকল শৃঙ্খল ছাড়খাড় করে পুড়িয়ে দেবে।’

১৩ নভেম্বর বিকেলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরের দিন ভোরে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

বিএনপি থেকে বলা হচ্ছে, তাদের নেত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক, ভ্যারি ক্রিটিক্যাল। জরুরি ভিত্তিতে তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানো দরকার।

তবে এ বিষয়ে কোনো সবুজ সংকেত নেই সরকার থেকে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে একবার সাজা শিথিল করায় খালেদাকে বিদেশ যেতে অনুমতি দেয়ার আর কোনো আইনি সুযোগ নেই।

আইনমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আপনি কোথা থেকে আইন পেয়েছেন। আপনি অসত্য কথা বলছেন, আপনি মিথ্যা কথা বলছেন। তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে নির্যাতন করার জন্যই এই কথা বলছেন মিথ্যাবাদী আইনমন্ত্রী।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন বিএনপি নাকি চোরাগলি দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। কোথায় আমরা চেষ্টা করলাম? আমরা তো রাজপথে দাঁড়িয়ে আছি, রাজপথেই চেষ্টা করছি। আমাদের ওপর জুলুম নির্যাতন নেমে আসছে তারপরেও আমরা রাজপথে আছি।

‘আজকে জাতীয়বাদী মহিলা দলের একটা মৌন মিছিল যেখানে কোনো আওয়াজ হবে না সেই কর্মসূচিতেও পুলিশ বাঁধা দিচ্ছে। আপনারা কী এমন করছেন যে আপনাদের এত ভয়। মহিলা দলের একটা প্রোগ্রাম ঠিক মত করতে দেন না। কেন এত ভয়? ভয় থাকে চোরদের, যারা চোরা পথে ক্ষমতায় গিয়ে থাকে তাদের ভয় থাকে। বেগম খালেদা কিন্তু কোনো দিন চোরাগলির ভোট করেননি। তিনি কখনও নিশিরাতের প্রধানমন্ত্রী হননি। তার বিরুদ্ধে প্রত্যেকটি ভোটে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করেছে শেখ হাসিনার নেত্রীত্বে।’

মৌন সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, নিলুফার চৌধুরী মনি, হেলেন জেরিন খানসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
জোট নয়, এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় জাপা
জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব চুন্নু

শেয়ার করুন

‘বর্জনের ভোটে’ চেয়ারম্যান বিএনপির ৯৬ জন

‘বর্জনের ভোটে’ চেয়ারম্যান বিএনপির ৯৬ জন

রোববারের ভোটে সবচেয়ে বেশি ৪৩৯ ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়াই করা আওয়ামী লীগ নেতারা। আরও বেশ কিছু ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা জিতেছেন অন্তত ২৬৭ এলাকায়। সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, যারা জিতেছে ১৫টির মতো ইউনিয়নে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীর ৮ জন নেতা জিতেছেন স্বতন্ত্র পরিচয়ে।

আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট বর্জন করলেও তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেশ ভালো ফল করেছেন বিএনপির নেতারা। রোববারের এই ভোটে সারা দেশে অন্তত ৯৬ জন বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিতে এসেছেন।

বিভাগওয়ারি হিসাব করলে বিএনপির এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সবচেয়ে ভালো করেছেন রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে। রংপুর বিভাগে জিতেছেন ২৪ জন আর রাজশাহী বিভাগে ২০ জন নেতা।

এ ছাড়া সিলেট বিভাগে ১৩ জন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন করে এবং খুলনা বিভাগে জিতেছেন ৯ জন নেতা। কেবল বরিশাল বিভাগে কেউ জিততে পারেননি।

তৃণমূলের ভোটে বিএনপি নেতাদের জিতে আসার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের সাধারণ জনগণ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তারা জনগণের সরকার চায়। তারই প্রতিচ্ছবি এটা; এখন যার প্রমাণ আপনারাও পাচ্ছেন।’

গত কয়েক বছরে বিএনপি জাতীয় ও স্থানীয় যেসব নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ নিয়েছে, তাতে তারা ভালো ফল করতে পারেনি। দলটির পক্ষ থেকে অবশ্য ভোট সুষ্ঠু না হওয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, তাদের সমর্থকদের ভোট দিতে দেয়া হয় না, প্রচারেও বাধা দেয়া হয়।

চলতি বছর পৌরসভা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনার পর বর্তমান সরকার আর নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো ভোটে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ফলে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও তাদের কোনো প্রার্থী নেই।

এই নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ভোট হয়েছে তিন ধাপে, যার মধ্যে সবশেষ ভোট হয় রোববার।

এই ধাপে নির্বাচন কমিশন ১ হাজার ৭টি ইউনিয়নে ভোটের তফসিল ঘোষণা করে। তবে রোববার ভোট হয় সাড়ে আটশর কিছু বেশি এলাকায়। এর আগেই বেশ কিছু এলাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে যান।

তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী না দিলেও বিভিন্ন এলাকায় দলের নেতারা ভোটে অংশ নেন স্বতন্ত্র পরিচয়ে। দলের পুরো সমর্থনও তারা পেয়েছেন নানা এলাকায়।

গত ২ নভেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যা বলেন, তাতে এটা স্পষ্ট যে বিএনপি এই ভোটে না থেকেও আছে।

তিনি সেদিন বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করাটা সঠিক নয়। তাই বিএনপি এ নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিচ্ছে না। তবে বিএনপি থেকে কেউ স্বতন্ত্র হয়ে অংশ নিলে সেখানে বাধা নেই।’

রোববারের ভোটে সবচেয়ে বেশি ৪৩৯ ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়াই করা আওয়ামী লীগ নেতারা। আরও বেশ কিছু ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জিতেছেন অন্তত ২৬৭ জন। দলীয় প্রতীকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, যারা জিতেছে ১৫টির মতো এলাকায়।

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীর ৮ জন প্রার্থী স্বতন্ত্র পরিচয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে জিতেছেন। এর মধ্যে রংপুর বিভাগে দুজন আর রাজশাহী বিভাগে আছেন ছয়জন।

এই ছয়জনের মধ্যে দুজন সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের। তিনজন আছেন রাজশাহীর নওগাঁর, দুজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আর একজন আছেন রাজশাহীর।

ইসলামী আন্দোলন, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ৩২ জন প্রার্থীও জিতে এসেছেন রোববারের ভোটে।

রংপুর বিভাগে জিতলেন বিএনপির যে নেতারা

এই জেলায় বিএনপির নেতারা সবচেয়ে ভালো করেছেন দিনাজপুরে। দুই উপজেলায় মোট ছয়টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন তারা।

এই জেলার ফুলবাড়ীর ১ নম্বর এলুয়াড়ী ইউনিয়নে নবিউল ইসলাম, বিরামপুর উপজেলায় ৪নং দিওড় ইউনিয়নে আব্দুল মালেক ও ৫নং বিনাইল ইউপিতে হুমায়ন কবীর বাদশা জয় পেয়েছেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলায় ২ নম্বর বিনোদনগড় ইউনিয়নে নজরুল ইসলাম, ৪ নম্বর শালখুরিয়া ইউনিয়নে তারা মিয়া এবং ৫ নম্বর পুটিমারা ইউনিয়নে আনিছুর রহমান জয় পেয়েছেন।

বিএনপি ভালো করেছে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটেও। দুই জেলাতেই পাঁচজন করে নেতা জয় পেয়েছেন।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ঘোগাদহ ইউনিয়নে আবদুল মালেক, ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে সাইদুর রহমান, নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নে শফিউল আলম শফি, রায়গঞ্জ ইউনিয়নে আরিফুল ইসলাম দীপ ও নারায়ণপুর ইউনিয়নে মো. মোস্তফা পেয়েছেন জয়।

লালমনিরহাটে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নে আব্দুল মজিদ মণ্ডল, কুলাঘাট ইউনিয়নে ইদ্রিস আলী, বড়বাড়ি ইউনিয়নে হবিবর রহমান হবি, দলগ্রাম ইউনিয়নে ইকবাল হোসেন এবং ভোটমারী ইউনিয়নে জিতেছেন ফরহাদ হোসেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে জিতেছেন বিএনপির তিন নেতা। এর মধ্যে পীরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে মোখলেছুর রহমান চৌধুরী, সেনগাঁওয়ে সাইদুর রহমান এবং বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নে জিতেছেন বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম।

আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থানের এই জেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৮টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে ১৪টিকে নৌকা আর একটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা জিতেছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও আওয়ামী লীগের মাহাবুবার রহমানের ভোট সমান হওয়ায় ফলাফল ড্র হয়েছে।

এই বিভাগের পঞ্চগড় ও গাইবান্ধায় জয় পেয়েছেন বিএনপির দুজন করে নেতা।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নে রবিউল ইসলাম ও আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে জিতেছেন আবদুস সামাদ, যাদেরকে বিএনপি মার্কা না দিলেও সমর্থন দিয়েছিল।

গাইবান্ধায় পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নে মাহাবুবুর রহমান মণ্ডল ও হরিনাথপুর ইউনিয়নে মো. কবির হোসাইন জাহাঙ্গীর জয় পেয়েছেন।

নীলফামারী জেলায় জিতেছেন বিএনপির একজন নেতা। কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নে জিতেছেন মোস্তাকিনুর রহমান।

রাজশাহী বিভাগে বিএনপির যে নেতাদের জয়

এই বিভাগের মধ্যে বিএনপির নেতারা সবচেয়ে বেশি জিতেছেন বগুড়ায়। দলটির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জেলাটিতে ১০ জন নেতা জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।

এদের মধ্যে সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নে সহিদুল ইসলাম সরকার, সাবগ্রাম ইউনিয়নে ফরিদ উদ্দিন সরকার, লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নে জুলফিকার আবু নাসের আপেল মাহমুদ, শেখেরকোলা ইউনিয়নে জিতেছেন রশিদুল ইসলাম মৃধা।

ধনুট উপজেলায় জিতেছেন কালেরপাড়া ইউনিয়নে সাজ্জাদ হোসেন, চিকাশি ইউনিয়নে জাকির হোসেন, গোসাইবাড়ী ইউনিয়নে মাসুদুল হক বাচ্চু, ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নে বেলাল হোসেন, শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নে আতিকুর রহমান এবং মাদলা ইউনিয়নে আতিকুর রহমান।

এই বিভাগে চারজন করে বিএনপির নেতা জিতেছেন নাটোর ও নওগাঁয়।

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ফাগুয়ারদিয়ার ইউনিয়নে এসএম লেলিন, জামনগরে গোলাম রাব্বানী, লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নে আব্দুল আজিজ রঞ্জু আর বিলমাড়িয়া ইউনিয়নে জিতেছেন সিদ্দিক আলী মিষ্টু।

নওগাঁর প্রসাদপুর ইউনিয়নে আব্দুল মতিন, বিষ্ণপুর ইউনিয়নে এসএম গোলাম আজম, গণেশপুর ইউনিয়নে শফিকুল ইসলাম বাবুল চৌধুরী এবং কাঁশোপাড়া ইউনিয়নে আব্দুস সালাম।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নে মাহমুদুল হক হায়দারী এবং পাঁকা ইউনিয়নে জিতেছেন আব্দুল মালেক।

সিলেট বিভাগে বিএনপির যে নেতারা জিতলেন

গোটা বিভাগে বিএনপির নেতারা সবচেয়ে ভালো করেছেন সুনামগঞ্জে। এই জেলার সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৭টি ইউনিয়নে। এর ছয়টিতে জিতেছেন বিএনপি নেতারা। পক্ষান্তরে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগ জিততে পেরেছে কেবল দুটি ইউনিয়নে।

‘বর্জনের ভোটে’ চেয়ারম্যান বিএনপির ৯৬ জন



সদর উপজেলা রঙ্গারচর ইউনিয়নে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে জিতেছেন বিএনপি নেতা মো. আব্দুল হাই, মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে জিতেছেন নুরুল হক, লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে জিতেছেন আব্দুল ওয়াদুদ৷

শান্তিগঞ্জে স্বতন্ত্র পরিচয়ে জয়ী বিএনপির নেতারা হলেন দরগাপাশা ইউনিয়নে ছুফি মিয়া, পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে মাসুক মিয়া ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে লুৎফর রহমান জায়গীরদার খোকন।

লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে নির্বাচিত জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের জবাব দিয়েছে। আমাদের শঙ্কা ছিল ক্ষমতাসীনরা কিছু করে কি না। তবে সবকিছুকে হারিয়ে জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে আমাকে জয়ী করেছে। আমি এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান হয়েছি। মানুষও জানে কাকে ভোট দিলে মেহনতি মানুষের উন্নয়ন হয়।’

হবিগঞ্জের ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা হলেন সদর উপজেলার গোপায়া ইউনিয়নে আব্দুল মন্নান, নবীগঞ্জ উপজেলার দিঘলবাগ ইউনিয়নে মোহাম্মদ ছালিক মিয়া এবং বাউসা ইউনিয়নে সাদিকুর রহমান শিশু।

সিলেট ও মৌলভীবাজারে জয় পেয়েছেন বিএনপির দুজন করে নেতা। এদের মধ্যে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্তে বাহারুল আলম বাহার ও গোয়াইনঘাটের রুস্তমপুরে জিতেছেন শাহাব উদ্দিন।

মৌলভীবাজারের এর মধ্যে বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নে জিতেছেন জয়নাল আবেদীন। কুলাউড়া উপজেলায় ভূকশিমইলে জিতেছেন আজিজুর রহমান। তিনি গতবারও জিতেছিলেন।

ঢাকা বিভাগে যারা জিতলেন

এই বিভাগে বিএনপির নেতারা সবচেয়ে টাঙ্গাইলে। এ জেলায় তিনজন সক্রিয় বিএনপি নেতা এবং একজন নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া নেতা জিতেছেন। এই জেলায় ভোট হয়েছে মোট তিনটি উপজেলায়। এর মধ্যে বিএনপি সম্পৃক্তরা জিতেছেন কেবল নাগরপুর ইউনিয়নে।

এরা হলেন গয়হাটা ইউনিয়নে সামছুল হক, ভাদ্রা ইউনিয়নে শওকত হোসেন ও সহবতপুর ইউনিয়নে তোফায়েল আহমেদ। পাকুটিয়া ইউনিয়নে জয়ী সিদ্দিকীকুর রহমানও বিএনপি করতেন। তবে সম্প্রতি তিনি দলীয় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান।

দ্বিতীয় দুজন করে নেতা জয় পেয়েছেন মুন্সীগঞ্জ ও ফরিদপুরে।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের তোতা মিয়া মুন্সী আর টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বেতকা ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন রোকনুজ্জামান রিগ্যান।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নে ইয়াকুব আলী (বিএনপি সমর্থক), বর্তমানে কোনো পদে নেই) এবং চরহরিরামপুর ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর কবির (বিএনপি সমর্থক), বর্তমানে কোনো পদে নেই)।

কিশোরগঞ্জে কুলিয়ারচর, নিকলী ও সদর উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ২৩টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে বিএনপি থেকে জিতেছেন একজন নেতা। সদর উপজেলায় চৌদ্দশত ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন দলটির নেতা আতহার আলী।

নরসিংদীতেও জয় পেয়েছেন বিএনপির একজন নেতা। চিনিশপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হয়েছেন মেহেদী হাসান ভূইয়া তুহিন।

চট্টগ্রাম বিভাগে জয় যাদের

এই বিভাগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলায় বিএনপির তিনজন করে নেতা জয় পেয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পাকশিমুল ইউনিয়নে কাওসার হোসেন, সদর ইউনিয়নে আবদুল জব্বার, চুন্টা ইউনিয়নে জিতেছেন মনসুর আহমেদ।

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর আলম, ঘাগটিয়া ইউনিয়নে মফিজুল ইসলাম গনি ও ঘারমোড়া ইউনিয়নে জিতেছেন শাহজাহান মোল্লা। বিএনপির এই তিন নেতার পক্ষে দলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রচারে ছিলেন।

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় জয় পেয়েছেন বিএনপির দুই নেতা। এরা হলেন ছাতারপাইয়া ইউনিয়নে আবদুর রহমান ও কাবিলপুর ইউনিয়নে বাহার হোসেন।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ছিপাতলী ইউনিয়নে জিতেছেন বিএনপি নেতা নূরুল আহসান লাভু।

চাঁদপুরে মতলব উত্তর উপজেলার এখলাশপুর ইউনিয়নে জিতেছেন বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুল ইসলাম।

খুলনা বিভাগে বিজয়ী বিএনপির নেতারা

এই বিভাগে এক জেলায় বিএনপির সর্বোচ্চ তিনজন নেতা জিতেছেন সাতক্ষীরায়। এরা হলেন কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগরে জাহাঙ্গীর আলম, পারুলিয়ায় গোলাম ফারুক বাবু এবং দেবহাটা উপজেলার দেবহাটা ইউনিয়নে আব্দুল মতিন।

বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দুজন নেতা জয় পেয়েছেন যশোরে। এরা হলেন মনিরামপুর উপজেলায় মনিরামপুর সদরে নিস্তার ফারুক এবং মনোহরপুরে আকতার ফারুক মিন্টু।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নে জিতেছেন খোয়াজ হোসেন মাস্টার।

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর ইউনিয়নে জিতেছেন আব্দুল মান্নান।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদী ইউনিয়নে বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী (মোটরসাইকেল) তোবারক হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন।

মাগুরার শালিখা উপজেলার শালিখা ইউনিয়নে জিতেছেন ইউনিয়নে বিএনপির আহ্বায়ক হুসেইন শিকদার।

ময়মনসিংহ বিভাগের জয়ীরা

এই বিভাগে বিএনপির নেতারা সবচেয়ে বেশি জিতেছেন শেরপুরে। এই জেলায় দলটির পাঁচজন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন।

তারা হলেন নকলা উপজেলার ৭ নম্বর টালকি ইউনিয়নের মোজাফফর আহমদ বুলবুল, নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের আতাউর রহমান, মরিচপুরান ইউনিয়নের আয়ুব আলী, কলসপাড় ইউনিয়নের আবদুল মজিদ ও নয়াবিল ইউনিয়নের মিজানুর রহমান।

নেত্রকোনায় জিতেছেন বিএনপির তিন নেতা। তারা হলেন কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের সাইদুর রহমান ভুইয়া, রংছাতি ইউনিয়নের আনিসুর রহমান খান পাঠান বাবুল ও দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের আব্দুল আওয়াল।

ময়মনসিংহে জিতেছেন দুজন। তারা হলেন ত্রিশাল উপজেলার ৩ নম্বর কাঁঠাল ইউনিয়নের নূরে আলম সিদ্দিকী ও মুক্তাগাছা উপজেলার ৬ নম্বর মানকোন ইউনিয়নের শহিদুল ইসলাম।

এই বিভাগের অন্য জেলা জামালপুরে বিএনপির কোনো নেতা চেয়ারম্যান হতে পারেননি।

প্রতিবেদনটি প্রস্তুত হয়েছে সারা দেশে নিউজবাংলার প্রতিবেদকদের তথ্যে

আরও পড়ুন:
জোট নয়, এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় জাপা
জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব চুন্নু

শেয়ার করুন

ইউপিতে বিদ্রোহীদের জয়ে ‘চিন্তিত নয়’ আওয়ামী লীগ

ইউপিতে বিদ্রোহীদের জয়ে ‘চিন্তিত নয়’ আওয়ামী লীগ

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোলার একটি কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই বড় দলে বিদ্রোহী প্রার্থী গতবারও ছিল, অনেক জায়গায় জয়লাভও করেছেন। যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তারাও কিন্তু আওয়ামী লীগই করেন, অন্য দল করেন না। সার্বিকভাবে (এবার) বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন, অনেক জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। বড় দলের ক্ষেত্রে এটি হতেই পারে, গতবারও এমন হয়েছে।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিভিন্ন জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পরাজয়ে ‘চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই’ বলে মনে করছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বেশির ভাগ জায়গায় নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। দ্বিতীয় স্থানে বিদ্রোহী প্রার্থীরা আছেন। অন্যান্য দল কৌশল নিয়ে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ না নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে অংশ নিয়েছে। বিএনপি, জাতীয় পার্টির লোকজনও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, নির্বাচনে তাদের সাফল্য নেই বললেই চলে।’

আওয়ামী লীগ একটি বড় দল মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই বড় দলে বিদ্রোহী প্রার্থী গতবারও ছিল, অনেক জায়গায় জয়লাভও করেছেন। যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তারাও কিন্তু আওয়ামী লীগই করেন, অন্য দল করেন না। সার্বিকভাবে (এবার) বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন, অনেক জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। বড় দলের ক্ষেত্রে এটি হতেই পারে, গতবারও এমন হয়েছে।’

ইউপি নির্বাচনে তৃতীয় দফায় ভোট হয় গত রোববার। সারা দেশে যেসব ইউনিয়নে ভোট হয়েছে, এর মধ্যে কয়েকটিতে ফলাফল স্থগিত আছে। বাকিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৩৯টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছে নৌকা মার্কা নিয়ে লড়া আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬৭টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে লড়াই করা প্রার্থীরা।

এর আগের দুই ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও নৌকা ডুবিয়েছেন কয়েক শ আওয়ামী লীগ নেতা। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের পদক্ষেপ, ভবিষ্যতে আর কখনও মনোনয়ন না দেয়ার সতর্কতার পরেও বিদ্রোহী নেতারা সেসব গা করেননি।

রোববারের ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের সবচেয়ে বেশি ধরাশায়ী করেছেন খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের আওয়ামী লীগ নেতারা। সেখানে আওয়ামী লীগের যতজন জিতেছেন, তার প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ে জয় পেয়েছেন মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী নেতারা।

আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থান থাকা ঢাকা ও রংপুর বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদ্রোহী নেতা হারিয়ে দিয়েছেন নৌকার প্রার্থীদের। অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগে বিদ্রোহী প্রার্থীরা তুলনামূলক বিচারে কম ভালো করেছেন।

আরও পড়ুন:
জোট নয়, এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় জাপা
জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব চুন্নু

শেয়ার করুন

ছাত্রকে গাড়িচাপা পরিকল্পিত কি না প্রশ্ন তথ্যমন্ত্রীর

ছাত্রকে গাড়িচাপা পরিকল্পিত কি না প্রশ্ন তথ্যমন্ত্রীর

রামপুরায় বাসের ধাক্কায় নিহত স্কুলছাত্র নাঈমুদ্দিন। ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ছাত্রদের আন্দোলনে ভর করে একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ছাত্রদের আন্দোলনকে কালিমা লেপনের চেষ্টা হচ্ছে। এসব বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যেন এর ফায়দা নিতে না পারে সেটা খেয়াল রাখতে হবে।’

রাজধানীর রামপুরায় গত সোমবার রাতে গাড়িচাপায় স্কুলছাত্র নিহতের ঘটনা পরিকল্পিত কি না প্রশ্ন তুলেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে, তারপর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

বুধবার তথ্যমন্ত্রী সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে বিআরটিসি বাসে হাফ ভাড়া আজকে থেকে কার্যকরের নির্দেশনা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ঢাকা বাস মালিক সমিতি আজ থেকে ঢাকায় হাফ ভাড়া কার্যকর করছে।

‘বিআরটিসি বাসে ছাত্রদের হাফ ভাড়া যেভাবে সারা দেশে কার্যকর করা হয়েছে, আমি আশা করব চট্টগ্রাম ও অন্য শহরেও বেসরকারি বাস মালিকরা একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেবেন।’

তিনি বলেন, ‘পরশু রাতে একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় একজন ছাত্র নিহত হয়েছে। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। এ ঘটনা একটু বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই, এই ঘটনা থেকে কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে।

‘প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্যানুযায়ী ঘটনাটি ঘটে রাত পৌনে ১১টায়। এর ১২ মিনিট পর ১০টা ৫৭ মিনিটে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ তাদের ফেসবুক পেইজ থেকে লাইভ করে ঘটনা। রাত ১১টায় জামায়াত পরিচালিত টেলিগ্রাম চ্যানেলে খবরটি প্রকাশিত হয়। আর সেখান থেকে সমস্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।’

তথ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে ১২ মিনিটেই নিরাপদ সড়ক চাই পেইজের অ্যাডমিন সেখানে কীভাবে পৌঁছাল, সেখান থেকে লাইভ কীভাবে করল? বাঁশের কেল্লা কীভাবে ১৫ মিনিটের মধ্যে এই খবর পেল এবং সেখান থেকে প্রচার করল? ঘটনার ১৫ মিনিটের মধ্যেই ১০-১২টি গাড়িতে আগুন দেয়া হলো।

‘গাড়িগুলোতে আগুন ছাত্ররা দেয়নি। কারণ ঘটনার ১৫ মিনিটের মধ্যে অত ছাত্র সেখানে পৌঁছায়নি। প্রশ্ন হচ্ছে, যারা ফেসবুক পেইজে লাইভ দিয়েছে তারা কি ঘটনা সম্পর্কে আগে থেকেই অবহিত ছিল কিনা? ১২ মিনিটের মধ্যে যারা লাইভে গেছে এবং ১৫ মিনিটের মধ্যে লোকজন জোগাড় বাসে যে আগুন দেয়া হলো আগে থেকে নিশ্চয়ই প্রস্তুত ছিল। এত অল্প সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনী যেখানে পৌঁছাতে পারে না, অথচ তারা পৌঁছে গেল, এই প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার ছাত্রদের আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল। রামপুরায় ছাত্রকে চাপা দেয়া দুর্ঘটনা, না কি পরিকল্পিত সে প্রশ্ন থেকেই যায়। তদন্ত হচ্ছে, যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

রাজধানীতে গত কয়েকদিন টানা ছাত্রদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ফায়দা লুটার চেষ্টার আছে বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের আন্দোলনে ভর করে একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ছাত্রদের আন্দোলনকে কালিমা লেপনের চেষ্টা হচ্ছে। এসব বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যেন এর ফায়দা নিতে না পারে সেটা খেয়াল রাখতে হবে।’

গত সোমবার রাতে রামপুরা বাজার এলাকায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় মাঈনুদ্দিন নামের এক স্কুলছাত্র নিহত হয়।

ওই ঘটনায় বাসটির চালক, চালকের সহকারী ও সুপারভাইজারকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

সড়ক পরিবহন আইনে মাইনুদ্দিনের মা রাশিদা বেগমের করা মামলায় চালক মো. সোহেল, হেলপার চাঁন মিয়া ও কনডাক্টর গোলাম রাব্বীকে গ্রেপ্তার দেখায় রামপুরা থানা পুলিশ।

তিনজনের মধ্যে হেলপার ও কনডাক্টরকে বুধবার আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডে চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
জোট নয়, এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় জাপা
জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব চুন্নু

শেয়ার করুন

পুলিশি বাধায় পণ্ড মহিলা দলের মৌন মিছিল

পুলিশি বাধায় পণ্ড মহিলা দলের মৌন মিছিল

নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিলে বাধা পেয়ে সেখানেই সমাবেশ করে বিএনপির মহিলা দল। ছবি: নিউজবাংলা

মতিঝিল জোনের পুলিশের এডিসি এনামুল হক মিঠু বলেন, ‘এমনিতেই নগরীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যে তারা যদি সড়কে নামে তাহলে যানজটসহ নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।  এ কারণে তাদের বিক্ষোভ মিছিল করতে দেয়া হয়নি। দলীয় কার্যালয়ের সামনে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর দাবিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের মৌন মিছিল পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে।

বুধবার সকাল ১০টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে মিছিলটি শুরু করতে গেলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়।

পুলিশি বাধা পেয়ে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, কেন্দ্রীয় নেতা নিলোফার চৌধুরী মনিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তারা সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, ‘প্রশাসন আমাদের মৌন মিছিল করতে দেয়নি। আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। আমরা এই অবৈধ সরকারের পতনের অপেক্ষায় আছি।’

মহিলা দলের মৌন মিছিলে বাধা প্রসঙ্গে মতিঝিল জোনের পুলিশের এডিসি এনামুল হক মিঠু সাংবাদিকদের জানান, মহিলা দলের মিছিলেন কোনো অনুমতি ছিল না।

তিনি বলেন, ‘এমনিতেই নগরীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যে তারা যদি সড়কে নামে তাহলে যানজটসহ নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে তাদের বিক্ষোভ মিছিল করতে দেয়া হয়নি। দলীয় কার্যালয়ের সামনে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি ও বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবিতে বেশ কিছুদিন থেকেই নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছে।

গণঅনশন, বিক্ষোভ সমাবেশ, সারা দেশে ডিসিদের কাছে স্মারকলিপি দেয়াসহ আরও কিছু কর্মসূচি এরই মধ্যে করেছে দলটির নেতা-কর্মীরা।

এসব কর্মসূচি থেকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুব শোচনীয় উল্লেখ করে তাকে বিদেশ নেয়ার দাবি জানায় বিএনপি।

আরও পড়ুন:
জোট নয়, এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় জাপা
জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব চুন্নু

শেয়ার করুন

খালেদা জিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চায় সরকার: ফখরুল

খালেদা জিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চায় সরকার: ফখরুল

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের বাধা পেয়ে সেখানেই সমাবেশ করে বিএনপি মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাধা আইন নয়, বাধা হচ্ছে এই অবৈধ সরকার। আজকে বেগম খালেদা জিয়াকে তারা স্তব্ধ করে দিতে চায়। তারা তাকে কথা বলতে দিতে চায় না।’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। সরকার খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তাকে স্তব্ধ করে দিতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মহিলা দলের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সকালে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে নয়াপল্টন থেকে মিছিল বের করে মহিলা দল। মিছিল নিয়ে তারা প্রেস ক্লাব অভিমুখে যাওয়ার সময় কার্যালয়ের সামনে পুলিশি বাধায় সেখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। আজকে তিনি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। কেন সরকার তাকে বিদেশে যেতে দিতে চায় না? তারা আইনের কথা বলে। কিন্তু আইনের মধ্যেই বলা আছে, সরকার চাইলেই তাকে এই মুহূর্তে বিদেশে পাঠাতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বাধা আইন নয়, বাধা হচ্ছে এই অবৈধ সরকার। আজকে বেগম খালেদা জিয়াকে তারা স্তব্ধ করে দিতে চায়। তারা তাকে কথা বলতে দিতে চায় না।’

মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের এখানে বক্তব্য দিলে হবে না। সারা দেশে ঘরে ঘরে গিয়ে আমাদের মা-বোনদের জাগিয়ে তুলতে হবে। সব মানুষকে একত্রিত করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। এ দেশের যে স্বাধীনতাগুলো আমরা অর্জন করেছিলাম ১৯৭১ সালে, আজকে সে স্বাধীনতাগুলো আওয়ামী লীগ সরকার লুট করে নিয়েছে। শুধু তাদের একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য।’

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের জীবন বাজি রেখে লড়াই করতে হবে। ১৯৭১ সালে আমরা যেভাবে লড়াই করেছি, আমাদের মা-বোনেরা যেভাবে সংগ্রাম করেছেন, আজকে আবার দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার লক্ষ্যে, তেমনই সংগ্রাম করতে হবে।’

এ সময় মহিলা দলের মিছিলে পুলিশি বাধার প্রতিবাদও জানান ফখরুল।

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, নিলুফার চৌধুরী মনি, হেলেন জেরিন খানসহ অনেকেই।

আরও পড়ুন:
জোট নয়, এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় জাপা
জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব চুন্নু

শেয়ার করুন

আন্দোলনে তরুণদের পাশে চায় বিএনপি

আন্দোলনে তরুণদের পাশে চায় বিএনপি

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘তরুণদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ভূ-রাজনীতি উপলব্ধি করতে হবে। সীমান্তে হত্যা বন্ধে, ন্যায্য পানির হিস্যা, রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে তরুণ সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হতে হবে।’

জাতীয় স্বার্থে আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণদের নেতৃত্ব দিতে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

মঙ্গলবার ওয়েবভিত্তিক এক সেমিনারে (ওয়েবিনার) তিনি এ আহ্বান জানান।

সাউথ এশিয়া ইয়ুথ ফর পিস এন্ড প্রসপারিটি সোসাইটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আয়োজন করেছিল ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তরুণ সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক ওয়েবিনার। এটি সঞ্চালনা করেন ড. সাজ্জাদুল হক।

ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে বিএনপি নেতা মঈন খান বলেন, ‘তরুণরাই জাতির ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশকে বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। জাতীয় স্বার্থরক্ষা, বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকার গঠনে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন করতে হবে। আর এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।

‘গণতন্ত্রহীন বাংলাদেশে মানবাধিকার, সুশাসন এবং প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে মনন এবং মেধাশীলতায় তরুণসমাজকে গড়ে তুলতে হবে। প্রবীণদের দায়িত্বশীল ভূমিকা তরুণদের সুগঠিত করতে সহায়তা করবে।’

আন্দোলনে তরুণদের পাশে চায় বিএনপি

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘তরুণদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিকপর্যায়ের ভূ-রাজনীতি উপলব্ধি করতে হবে। সীমান্তে হত্যা বন্ধে, ন্যায্য পানির হিস্যা, রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে তরুণ সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হতে হবে।’

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রায় ৬৬ ভাগের বেশি জনসংখ্যাই হলো তরুণ। তাদের জ্ঞানার্জন এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ উপলব্ধি করার জন্য যোগ্য হয়ে গড়ে উঠতে হবে।'

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনে তরুণ সমাজের নেতৃত্ব ছিল, কিন্তু আজ তরুণ সমাজ গণতন্ত্রহীন, মানবিক মূল্যবোধহীন বাংলাদেশে সরকারদলীয় এবং পুলিশি নির্যাতনের কারণে যথাযথভাবে রাজনীতিতে ভূমিকা পালন করতে পারছে না।'

আলোচনায় অংশ নেন কর্নেল (অব.) আশরাফ আল দ্বীন, এলডিপি নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাহরিয়ার শিমুল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাবিলা চৌধুরীসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
জোট নয়, এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় জাপা
জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব চুন্নু

শেয়ার করুন