জনবল সংকটে ধুঁকছে হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

জনবল সংকটে ধুঁকছে হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড খালি না পেয়ে বারান্দায় অবস্থান করছে রোগী। ছবি: নিউজবাংলা

হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি, গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি, চক্ষু, চর্ম ও যৌন, নাক-কান-গলা, অর্থোপেডিক্স, মেডিক্যাল অফিসার হোমিও, ইএমও, আইএমও, এনেসথেশিস্ট, এমও প্যাথলজিস্ট, সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে কোনো চিকিৎসক নেই। চারটি মিডওয়াইফ পদের তিনটিই ফাঁকা।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২১টি পদের ১৪টিই ফাঁকা। আর সিনিয়র স্টাফ নার্সের ৩০টি পদের মধ্যে আছেন মাত্র চারজন।

অন্যান্য পদ মিলে মোট ৫৫টি পদের ৪৩টিই খালি পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এ অবস্থায় জনবল সংকটে দ্বীপ উপজেলাটির জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি, গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি, চক্ষু, চর্ম ও যৌন, নাক-কান-গলা, অর্থোপেডিক্স, মেডিক্যাল অফিসার হোমিও, ইএমও, আইএমও, এনেসথেশিস্ট, এমও প্যাথলজিস্ট, সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে কোনো চিকিৎসক নেই। চারটি মিডওয়াইফ পদের তিনটিই ফাঁকা।

মাত্র দুজন মেডিক্যাল অফিসার (স্যাকমো), একজন জুনিয়র কলসালটেন্ট (শিশু), একজন মেডিক্যাল অফিসার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। জরুরি বিভাগ দেখেন মেডিক্যাল অফিসাররা।

জনবল সংকটে ধুঁকছে হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

এদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে জনবল সংকটের এই বাস্তবতায় আরেকটি সমস্যা হলো, হাতেগোনা যে কয়েকজন চিকিৎসক আছেন তারাও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না। হাসপাতাল চলার সময়েই তারা প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, খোদ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন কর্মস্থল বাদ দিয়ে একটি ল্যাবে নিয়মিত রোগী দেখেন। গত তিন মাস হাসপাতালে না এসে বাসা ও প্রাইভেট ক্লিনিকে তিনি রোগী দেখেছেন।

সম্প্রতি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহজাহানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপজেলার উছখালী বাজারে তিনটি ল্যাব ও একটি ফার্মেসিতে অভিযান চালায়। এ সময় লাইসেন্স, সেবার মূল্য প্রদর্শন, ল্যাবে এক্স-রে কক্ষে সুরক্ষিত দরোজা না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভুক্তভোগীদের একজন হাতিয়ার বুড়িরচর এলাকার সুলতান আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায় না। অথচ প্রাইভেট ক্লিনিকে গেলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকরাই টাকার বিনিময়ে সেবা দেন। কিন্তু প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই।

ডা. নাজিম উদ্দিন এ ব্যাপারে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অবসর সময়ে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখি। এতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের সেবা কার্যক্রমে কোনো সমস্যা হওয়ার তো কথা নয়।’

সরেজমিনে দেখা যায়, ৫০ শয্যার হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দ্বীপের ছয় লাখ মানুষের চিকিৎসায় একমাত্র ভরসা। কিন্তু প্রসূতি, শিশুরোগসহ নানা অসুস্থতায় আক্রান্ত মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে এসে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। আসা রোগীরা না পাচ্ছেন ডাক্তার, না পাচ্ছেন ভর্তি হওয়ার সুযোগ। হাসপাতালের বারান্দা ও করিডোরে পড়ে থাকতে দেখা গেছে রোগীদের। তারপরও চিকিৎসকের অভাবে চিকিৎসা পাচ্ছে না তারা।

হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী ডেন্টাল সার্জন এবং এমও প্যাথলজিস্ট দীর্ঘদিন ধরে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। অথচ বেতন নিচ্ছেন হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে।

জনবল সংকটে ধুঁকছে হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

উপজেলার ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। হরনী ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছাড়া চিকিৎসকবিহীন রয়েছে চানন্দী ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, নলচিরা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বুড়িরচর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সোনাদিয়া ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, আফাজিয়া ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ওছখালি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

এ বিষয়ে নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারী অধিদপ্তর থেকে নার্স ও মিডওয়াইফ পদে উপজেলা পর্যায়ে নিয়োগ পেয়ে এলেও কিছুদিনের মধ্যে কীভাবে যেন তারা আবার চলে যায়।’

‘আমরা হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখানে চিকিৎসক সংকটের কথা সিভিল সার্জন অফিসে বার বার জানিয়েছি। এর মধ্যে তিনজন এমবিবিএস ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে।’

নোয়াখালীর সিভিল সার্জন মাসুম ইফতেখার বলেন, ‘ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার-নার্স সংকটের বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বার বার লিখেছি। হাতিয়ায় রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলার কোভিড হাসপাতাল থেকে দুইজন এবং সোনাইমুড়ী থেকে একজন ডাক্তার পাঠিয়েছি। আর নার্স সংকট দূর করতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। নতুন নার্স নিয়োগ করা হলে হাতিয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দ্বীপ এলাকায় হওয়ায় সেখানে নিয়মিত মনিটরিং করা কষ্টকর। তারপরও বিষয়টি আমি অবগত হয়ে তাকে সাবধান করে দিয়েছি। ভবিষ্যতে এমনটি হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যের নথি গায়েব: আরও ৫ দিন সময় পেল তদন্ত কমিটি
করোনা: নির্বাচনি প্রচারে সতর্ক থাকার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
নথি গায়েব: স্বাস্থ্যের আরও তিনজন সিআইডির হেফাজতে
জামিনের মেয়াদ বাড়ল স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজির

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চবিতে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি

চবিতে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি

বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি দেয় শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রত্যক্ষদর্শী ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের ছাত্র জুবায়ের নূর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্যান্টিনের এক ছেলেকে পেছনের বাগানে বলাৎকারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যান শহিদুল। কিছুক্ষণ পর ছেলেটি চিৎকার করলে তার ভাই ও কয়েকজন ছাত্র হাতেনাতে শহিদুলকে আটক করে। পরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে পেটায়।’ 

ক্যান্টিনে কর্মরত এক কিশোরকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স মসজিদের পেশ ইমামকে গণপিটুনি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইন্সটিটিউট প্রাঙ্গণে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ইমামের নাম শহিদুল ইসলাম। তার বাড়ি হাটহাজারী উপজেলায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের ছাত্র জুবায়ের নূর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্যান্টিনের এক ছেলেকে পেছনের বাগানে বলাৎকারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যান শহিদুল। কিছুক্ষণ পর ছেলেটি চিৎকার করলে তার ভাই ও কয়েকজন ছাত্র হাতেনাতে শহিদুলকে আটক করে। পরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে পেটায়।

‘ছেলেটির বয়স ১৩ থেকে ১৪ বছর হবে। তার বড় ভাইও ক্যান্টিনে কাজ করে। এর আগে তাকেও (বড় ভাইকে) যৌন হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা কিশোরকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তার পরিবারের লোকজন এসে চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিয়ে যান।’

তদন্ত কমিটি করে ওই ইমামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া।

আরও পড়ুন:
মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যের নথি গায়েব: আরও ৫ দিন সময় পেল তদন্ত কমিটি
করোনা: নির্বাচনি প্রচারে সতর্ক থাকার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
নথি গায়েব: স্বাস্থ্যের আরও তিনজন সিআইডির হেফাজতে
জামিনের মেয়াদ বাড়ল স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজির

শেয়ার করুন

নারীকে লাঞ্ছনাকর সাজা, ইউপি সদস্য বললেন ‘কম শাস্তি’

নারীকে লাঞ্ছনাকর সাজা, ইউপি সদস্য বললেন ‘কম শাস্তি’

নারীকে লাঞ্ছনার ভাইরাল ভিডিও থেকে নেয়া ছবি। নিউজবাংলা

ওই নারীকে লাঞ্ছনা করার কথা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য কাওসার চৌধুরী জানিয়েছেন, স্বামী বিদেশ থাকার সুযোগে তিনি যে অপরাধ করেছেন, তার জন্য এটি ‘কম শাস্তি’।

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে বিয়েবহির্ভূত সর্ম্পকের অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূকে প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে লাঠিপেটা করা হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে ফেসবুকে।

ওই নারীকে লাঞ্ছনা করার কথা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য কাওসার চৌধুরী বলেন, স্বামী বিদেশ থাকার সুযোগে তিনি যে অপরাধ করেছেন, তার জন্য এটি ‘কম শাস্তি’।

লাঞ্ছিত ওই নারী নিউজবাংলাকে জানান, মারধরের পর তার টাকা ও গয়না ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। সামাজিকভাবে তিনি হেয় হয়েছেন।

এ ঘটনা উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়নের সিংগাতী গ্রামের।

ইউপি সদস্য কাওসার চৌধুরীসহ গ্রামের কয়েকজন লোক অভিযোগ করেন, বিভিন্ন লোকের সঙ্গে ওই নারীর বিয়েবর্হিভূত সম্পর্ক ছিল।

ইউপি সদস্য বলেন, ‘এগুলো আমাদের কাছে খারাপ লাগে। সোমবার রাতে নিজের মেয়ের শ্বশুরের সঙ্গে ওই নারীকে এক ঘরে পেয়ে তাদেরকে ধরা হয়। এরপর তার বিচার করা হয়।

‘কেবল জুতার মালা গলায় দিয়ে ও কঞ্চির লাঠি দিয়ে বাড়িয়ে লাঞ্ছিত করছি, তার বিচার আরও কঠিন হওয়া উচিত ছিল।’

ওই নারী বলেন, ‘আমার বাড়ির আশপাশের লোকজন আমাকে ধরে আমার সিঁড়ির কাছে নিয়ে আমার গলায় চেইন ছিল এক ভরি ওজনের, আট আনা ওজনের কানের দুল ও ৯৫ হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল নিয়ে গেছে। কাওসার মেম্বার ও জানিক ছিল, এরা আমারে জুতার মালা দেছে ও কঞ্চি দিয়ে বাইড়াইছে।

‘আমি এর বিচার প্রশাসনের কাছে চাই। আর এই যে ভিডিও সব জায়গা ছড়াইছে, আমার মানসম্মান যা যাবার তা তো গেইছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দ্য মন্ডল ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুনীয়া আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

অনিন্দ্য মন্ডল নিউজবাংলাকে বলেন, 'ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে পাওয়া যায়নি। শোনা গেছে তিনি ওই ঘটনার পর গ্রাম ছেড়েছেন।'

রুনীয়া আক্তার বলেন, ‘ওই নারীকে এলাকায় পাওয়া যায়‌নি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পা‌রি‌নি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে‌ছি। বিষয়‌টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখ‌ছি।’

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোমেন দাশ বলেন, ‘থানায় অভিযোগ পাইনি, পেলে ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যের নথি গায়েব: আরও ৫ দিন সময় পেল তদন্ত কমিটি
করোনা: নির্বাচনি প্রচারে সতর্ক থাকার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
নথি গায়েব: স্বাস্থ্যের আরও তিনজন সিআইডির হেফাজতে
জামিনের মেয়াদ বাড়ল স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজির

শেয়ার করুন

কার্যালয় মন্টুদের দখলে, নতুন ঠিকানায় ড. কামালপন্থিরা

কার্যালয় মন্টুদের দখলে, নতুন ঠিকানায় ড. কামালপন্থিরা

ড. কামাল হোসেন ও মোস্তফা মহসিন মণ্টু। ফাইল ছবি

নব্বইয়ের দশকে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে এসে ড. কামাল হোসেন গণফোরাম গঠন করার পর থেকেই মতিঝিলের ইডেন বিল্ডিংয়ের কার্যালয় থেকে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তবে দুই বছর আগে দলের মধ্যে বিভেদ দেখা দেয়ার পর বাধে গোল।

গণফোরাম মতিঝিলের ইডেন বিল্ডিংয়ের দলীয় কার্যালয় দখল করে নিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেনকে বাদ দিয়ে কমিটি ঘোষণা করা নেতারা। এই অবস্থায় নতুন কার্যালয় নিতে বাধ্য হয়েছে কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন দলের অংশটি।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা অনুসারী সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে গণফোরামের (ড. কামাল অংশের) নির্বাহী সভাপতি মোকাব্বির খান স্বাক্ষরিত সংবাদ সংগ্রহের আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, ‘গণফোরামের নতুন কেন্দ্রীয় কার্যালয় আগামী ০৯-১২-২০২১ ইং তারিখ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩.৩০টার সময় উদ্বোধন করা হবে।’

নতুন কার্যালয়ের ঠিকানা জানানো হয়, কাকরাইলের ভিআইপি রোডের রূপায়ণ টাওয়ার।

নব্বইয়ের দশকে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে এসে ড. কামাল হোসেন গণফোরাম গঠন করার পর থেকেই মতিঝিলের ইডেন বিল্ডিংয়ের কার্যালয় থেকে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তবে দুই বছর আগে দলের মধ্যে বিভেদ দেখা দেয়ার পর বাধে গোল।

কামাল হোসেনের সিদ্ধান্ত মেনে না নেয়া সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বাধীন অংশ দলকে দুই ভাগে বিভক্ত করার পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়ও কার্যত দখল করে নেয়। প্রায় এক বছর আগেই সেই কার্যালয়ে আর যেতে পারছেন না কামাল হোসেনের অনুসারী নেতারা।

কার্যালয় মন্টুদের দখলে, নতুন ঠিকানায় ড. কামালপন্থিরা
মতিঝিলের ইডেন বিল্ডিংয়ে যে কার্যালয়টি দুই যুগেরও বেশি সময় কামাল হোসেন ব্যবহার করেছেন, সেটি এখন মন্টুদের দখলে

দলীয় কার্যালয়ের দখল হারানোর পর পুরানা পল্টনের সিদ্দিক ম্যানশনে একটি কক্ষকে অস্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করছিলেন কামাল অনুসারীরা। সেটি ছোট আর যাওয়া আসার সমস্যার কারণে বড়সড় একটি কার্যালয় নেয়া হয়।

কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন অংশের নির্বাহী সভাপতি মোকাব্বির খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কাল (বৃহস্পতিবার) নতুন দলীয় কার্যালয় নিচ্ছি। এটা আগের চেয়ে ভালো হবে।‘

মন্টুপন্থি নেতা মহসিন রশিদ দাবি করেছেন, কাউকে দলীয় কার্যালয় থেকে বের করা হয়নি। অপর অংশ নিজেরাই বের হয়ে গিয়েছে।

যদিও মোকাব্বির খান বলেন উল্টো কথা। তিনি বলেন, ‘গত এপ্রিলে ছেড়ে দিতে হয়েছে। এর পর টেম্পোরারি একটি অফিস নিয়েছিলাম পল্টনের সিদ্দিক ম্যানশনে।’

মন্টুপন্থিরা গত ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সম্মেলন করে কামাল হোসেনকে বাদ দিয়ে কমিটির ঘোষণা দেয়। এর সভাপতি করা হয় মোস্তফা মোহসীন মন্টুকে, সাধারণ সম্পাদক করা হয় সুব্রত চৌধুরীকে, যিনি কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন কমিটির নির্বাহী সভাপতি ছিলেন।

কামাল হোসেনকে বাদ দিয়ে এই সম্মেলন করা হলেও তিনি সেখানে শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি লেখেন।

তবে মোকাব্বির খান বলেন, ‘স্যার আমাদের সঙ্গে আছেন।’

তাহলে মন্টুপন্থিদের সম্মেলনে কেন শুভেচ্ছা বার্তা পাঠালেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘স্যার তো সব জায়গায় শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান। সবাইকেই শুভেচ্ছা দেন।’

নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ড. কামাল হোসেন আসবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি তো সম্মতি দিয়েছেন। তবে আসবেন কি না তা কালকে (বৃহস্পতিবার) বলতে পারব। উনি তো আমাকে নির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন। উনি তো অসুস্থ, এখন আর আগের মতো আসতে পারেন না।‘

কার্যালয় মন্টুদের দখলে, নতুন ঠিকানায় ড. কামালপন্থিরা
ড. কামাল বারবার জাতীয় ঐক্যে জোর দিলেও নিজের দলের ভাঙনই ঠেকাতে পারেননি

বারবার জাতীয় ঐক্যে জোর দেয়া কামাল হোসেনের দলে ভাঙন ধরার পরিস্থিতি দেখা দেয় গত জাতীয় নির্বাচনের পর। আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া গণফোরামে আনার কিছুদিন পরেই তাকে সাধারণ সম্পাদকের পদ দিয়ে দেন কামাল হোসেন। এটি মেনে নিতে চাননি পোড়খাওয়া রাজনীতিক মন্টু ও তার অনুসারীরা।

এ নিয়ে বিভেদ প্রকাশ্যে আসার পর দুই পক্ষই আলাদা সম্মেলন ডাকে। মন্টু গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার নিয়ে কামাল হোসেনের সমালোচনা করেন। নিউজবাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তাকে ‘ব্যর্থ নেতা’ উল্লেখও করেন।

তবে কামাল হোসেন একপর্যায়ে বিরোধ মিটিয়ে দলকে এক রাখার চেষ্টা করেন। মন্টুদের বহিষ্কারের আদেশ ফিরিয়ে নেন তিনি। রেজা কিবরিয়া সরে যান গণফোরাম থেকে। যোগ দেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের উদ্যোগে করা গণ-অধিকার পরিষদে। এই দলের আহ্বায়ক হয়েছেন তিনি।

তবে যাকে ঘিরে বিরোধের শুরু, সেই রেজা কিবরিয়া সরে গেলেও গণফোরামের বিভেদ থামেনি। তখন একদিকে থাকেন মন্টুরা আর অন্যদিকে মোকাব্বিররা।

এর মধ্যে গত ৩ ডিসেম্বর মণ্টুপন্থিরা সম্মেলন করে কামাল হোসেনকে বাদ দিয়ে কমিটি ঘোষণার পর গণফোরাম আনুষ্ঠানিকভাবে দুই টুকরো হয়ে যায়।

গণফোরামে মন্টুপন্থিদের নতুন কমিটির নির্বাহী পরিষদের সদস্য মহসিন রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আরজিনাল কার্যালয়ে সেটা তো আমাদের নামেই আছে। আজকেও তো আমরা সেখানে মিটিং করলাম।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে বের করে দিইনি। ওনারা বের হয়ে গিয়েছেন। আমরা এখনও চাই ওনারা আমাদের সঙ্গে আসুক। আমরা ওনাদের জন্য জায়গা রেখেছি। আমরা ওনাদের সম্মানজনক জায়গাই দেব।’

তবে মোকাব্বির খান বলেন, ‘কামাল হোসেন এখনো আমাদের ডাইরেক্ট সভাপতি। নির্বাচন কমিশনে তো ওনার নামই রয়েছে। কাজেই দল তো আমাদেরই।‘

আরও পড়ুন:
মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যের নথি গায়েব: আরও ৫ দিন সময় পেল তদন্ত কমিটি
করোনা: নির্বাচনি প্রচারে সতর্ক থাকার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
নথি গায়েব: স্বাস্থ্যের আরও তিনজন সিআইডির হেফাজতে
জামিনের মেয়াদ বাড়ল স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজির

শেয়ার করুন

প্রকৌশল গুচ্ছের ২য় দফায় ভর্তি শুরু ২০ ডিসেম্বর

প্রকৌশল গুচ্ছের ২য় দফায় ভর্তি শুরু ২০ ডিসেম্বর

নিরীক্ষা কমিটির কাছে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ভর্তি করা হবে। আসন সংখ্যার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী থাকলে উপস্থিত তাদের মধ্য থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী একটি তালিকা সংরক্ষণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ওই তালিকা থেকে আসন খালি হওয়া সাপেক্ষে শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে ডাকা হবে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) গুচ্ছ পদ্ধতির দ্বিতীয় দফায় ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে ২০ ডিসেম্বর।

এবার ‘ক’ গ্রুপে ৩০৮১-৪৫০০ এবং ‘খ’ গ্রুপে ১০১-৩০০ মেধাতালিকার প্রার্থীদের ডাকা হয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষার আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বুধবার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়েছে, ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভাগওয়ারি শূন্য আসন সংখ্যা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে https://admissionckruct.ac.bd প্রদান করা হয়েছে। প্রথম দফায় ভর্তির পর আসন খালি থাকায় মেধাক্রমে বাকি শিক্ষার্থীদের আগামী ২০ ডিসেম্বর ভর্তির জন্য নিরীক্ষা কমিটির কাছে উপস্থিত থাকতে হবে।

নিরীক্ষা কমিটির কাছে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ভর্তি করা হবে। আসন সংখ্যার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী থাকলে উপস্থিত তাদের মধ্য থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী একটি তালিকা সংরক্ষণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ওই তালিকা থেকে আসন খালি হওয়া সাপেক্ষে শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে ডাকা হবে।

তিন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের প্রকাশিত মেধাতালিকা থেকে গত ৫ ও ৬ ডিসেম্বর প্রথম পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

আসন সংখ্যা কত?

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৯০১টি আসন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৬৫ এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩৫ আসন রয়েছে।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে https://admissionckruet.ac.bd/res.php ওয়েবসাইটে।

আরও পড়ুন:
মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যের নথি গায়েব: আরও ৫ দিন সময় পেল তদন্ত কমিটি
করোনা: নির্বাচনি প্রচারে সতর্ক থাকার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
নথি গায়েব: স্বাস্থ্যের আরও তিনজন সিআইডির হেফাজতে
জামিনের মেয়াদ বাড়ল স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজির

শেয়ার করুন

অসংক্রামক রোগ মহামারি আকারে দেখা দিচ্ছে

অসংক্রামক রোগ মহামারি আকারে দেখা দিচ্ছে

ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে নানা কারণে অসংক্রামক রোগ দেখা দিচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম তামাকের ব্যবহার। পরিবেশ দূষণ, খাদ্যে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর জীবনাচার, কায়িক শ্রমের অভাবও দায়ী।’

বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগগুলো নীরব মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এসব রোগ প্রতিরোধে বহুমুখী উদ্যোগ নিতে হবে।

বুধবার সন্ধ্যায় এক অনলাইন সেমিনারে অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

‘নীরব মহামারি অসংক্রামক রোগ: জনস্বাস্থ্য রক্ষায় করণীয়’ র্শীষক এই সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর এনসিডি কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (বিএনএনসিপি)।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক একেএম মহিবুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে এতে যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এবিএম খুরশীদ আলম।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে অসংক্রামক রোগগুলো নীরব মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নানা কারণে অসংক্রামক রোগ দেখা দিচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম তামাকের ব্যবহার। এছাড়া পরিবেশ দূষণ, বায়ু দূষণ, খাদ্যে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর জীবনাচার, কায়িক শ্রমের অভাব ইত্যাদিও দায়ী।

‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে এই রোগগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি-বেসরকারি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগ দরকার।’

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে আমাদেরকে বিশেষ করে তামাক নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ওপর জোর দিতে হবে। সরকারের একার পক্ষে এটা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।’

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি তামাকের ব্যবহার কমাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও শক্তিশালী করার দাবি জানান তিনি। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান আইনে ছয়টি সংশোধনীর প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে: পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এলাকা বা ডিএসএ রাখার বিধান বাতিল করা; এফসিটিসি’র আলোকে দোকানে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির সিএসআর নিষিদ্ধ করা, ই-সিগারেট আমদানি, উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কের আকার র্নিধারণ করে দেয়া এবং তামাকদ্রব্যের খুচরা বিক্রি নিষিদ্ধ করা।

আরও পড়ুন:
মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যের নথি গায়েব: আরও ৫ দিন সময় পেল তদন্ত কমিটি
করোনা: নির্বাচনি প্রচারে সতর্ক থাকার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
নথি গায়েব: স্বাস্থ্যের আরও তিনজন সিআইডির হেফাজতে
জামিনের মেয়াদ বাড়ল স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজির

শেয়ার করুন

হলের গেস্টরুমে নির্যাতন বন্ধে আইন দাবি

হলের গেস্টরুমে নির্যাতন বন্ধে আইন দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ সমাবেশ করে। ছবি: নিউজবাংলা

সংগঠনের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘অঘটন থামাতে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা কোনো দূরদর্শী চিন্তা নয়। এ ধরনের খুনের দায় ছাত্র রাজনীতির নয়। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রনেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং প্রশাসনের প্রশ্রয় পেয়ে এসব অপরাধ করে।’

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে বুধবার আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান পরিষদের নেতারা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্বদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে বুধবার বিকেলে সমাবেশ করে ছাত্র অধিকার পরিষদ।

সংগঠনের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা সমাবেশে বলেন, ‘আবরার হত্যা মামলার রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করলে একটা নজির তৈরি হবে। ছাত্র নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধে এ নজির জরুরি। সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয় হলের গেস্টরুমে যে নির্যাতনের ধারা তৈরি হয়েছে, তা থামাতে আমরা গেস্টরুমের নির্যাতনবিরোধী আইন চাই।

‘অঘটন থামাতে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা কোনো দূরদর্শী চিন্তা নয়। এ ধরনের খুনের দায় ছাত্র রাজনীতির নয়। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রনেতারা শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রশ্রয় পেয়ে এসব অপরাধ করে।’

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘আবরার হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের পাশাপাশি সে সময় বুয়েটের হলে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। তাদের সহযোগিতায় হলগুলো হয়ে ওঠে নির্যাতন-নিপীড়নের আস্তানা।’

ছাত্র অধিকার পরিষদের সহসভাপতি তরিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্যা রহমতুল্লাহ, সহসভাপতি সোহেল মৃধা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইন, নাহিদ উদ্দিন, রেদোয়ান উল্লাহ, ফরহাদ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান, জহির ফয়সাল, মোহাম্মদ সানাউল্লাহসহ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যের নথি গায়েব: আরও ৫ দিন সময় পেল তদন্ত কমিটি
করোনা: নির্বাচনি প্রচারে সতর্ক থাকার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
নথি গায়েব: স্বাস্থ্যের আরও তিনজন সিআইডির হেফাজতে
জামিনের মেয়াদ বাড়ল স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজির

শেয়ার করুন

ছাত্রদল নেতার মৃত্যু: ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৮ জনের নামে মামলা

ছাত্রদল নেতার মৃত্যু: ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৮ জনের নামে মামলা

পাঁচবিবি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি নেতা ডালিম নিউজবাংলাকে জানান, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হঠাৎ এসে তার মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মামলা করতে পাঁচবিবি থানায় যান। সেখান থেকে ফোনে ছাত্রদল নেতা ফারুককে পৌর পার্কে ডেকে নিয়ে মারধর করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীরা।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের আট নেতা-কর্মীর নামে মামলা করেছেন নিহতের মা।

পাঁচবিবি থানায় বুধবার সন্ধ্যায় করা এই মামলায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে।

এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতা-কর্মীকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তারা হলেন মহীপুর হাজী মহাসীন সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, কুসুম্বা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম, যুবলীগ সদস্য আনিছুর রহমান ও মুজাহিদুল ইসলাম।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মৃত ফারুক হোসেনের মা বিলকিস বেগম এজাহারে লিখেছেন, ফোন করে ডেকে নিয়ে তার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার মধ্যরাতে মারা যান পাঁচবিবি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন। তার বাড়ি পৌর শহরের দানেজপুর এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ওসি পলাশ জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা যুবলীগের সদস্য আনিছুর রহমান শিপনের সঙ্গে বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ডালিমের তর্ক হয়। এর জেরে শিপন ডালিমের মোটরসাইকেলে পুড়িয়ে দেন।

বিএনপি নেতা ডালিম নিউজবাংলাকে জানান, দলীয় কার্যালয়ে বসে তারা সন্ধ্যায় আলোচনা করছিলেন। সে সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হঠাৎ এসে তার মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মামলা করতে পাঁচবিবি থানায় যান। সেখান থেকে ফোনে ছাত্রদল নেতা ফারুককে পৌর পার্কে ডেকে নিয়ে মারধর করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীরা।

ডালিম আরও জানান, ফারুককে তারা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক মিন্নুর বলেন, ‘ফারুক হত্যার সঙ্গে যুবলীগ নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়।’

পাঁচবিবি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ধীমান চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘ছাত্রলীগের কোনো নেতা-কর্মী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকবে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রাফসান জানি বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই ফারুকের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার পকেটে নাইট্রো গ্লিসারিনের একটি প্যাকেট পাওয়া গেছে। হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’

পাঁচবিবি থানার ওসি পলাশ জানান, বিএনপি নেতার মোটরসাইকেল পোড়ানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যের নথি গায়েব: আরও ৫ দিন সময় পেল তদন্ত কমিটি
করোনা: নির্বাচনি প্রচারে সতর্ক থাকার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
নথি গায়েব: স্বাস্থ্যের আরও তিনজন সিআইডির হেফাজতে
জামিনের মেয়াদ বাড়ল স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজির

শেয়ার করুন