ইপিবির সনদ নবায়নে অপ্রয়োজনীয় শর্ত

ইপিবির সনদ নবায়নে অপ্রয়োজনীয় শর্ত

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয় বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে। ফাইল ছবি

ইপিবির নিবন্ধন কিংবা নবায়ন প্রক্রিয়ায় নয়টি শর্ত রয়েছে। এগুলোর চারটিই অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক। রপ্তানির এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে খাতসংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) থেকে নানারকম সেবা নিতে হয়।

প্রতি বছর নির্দিষ্ট মেয়াদে এই সেবা গ্রহণের জন্য ইপিবি থেকে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন গ্রহণ কিংবা মেয়াদ নবায়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

কিন্তু ইপিবির নিবন্ধন এবং নবায়ন প্রক্রিয়ায় নয়টি শর্ত রয়েছে, যার চারটিই অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

দেশে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের স্বার্থে সংস্থাটির আরোপিত অপ্রসাঙ্গিক ওইসব শর্ত প্রত্যাহার করে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা গতকাল এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পেয়েছি। তাদের প্রস্তাবটি আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। ইন হাউজ একটা মিটিং করতে হবে। যদি কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকে, তা হলে তাদের প্রস্তাবটি ব্যবসা সহজীকরণের স্বার্থে বিবেচনা করা হবে।’

ইপিবির সনদ নবায়নে অপ্রয়োজনীয় শর্ত
রপ্তানি ও আমদানি কাজে ব্যস্ত চট্রগ্রাম বন্দর। ফাইল ছবি

২০২০-২১ অর্থবছর মেয়াদে ইপিবি সনদ পাওয়ার ক্ষেত্রে ৩ হাজার টাকা নবায়ন ফি এবং বিলম্বের ক্ষেত্রে আরও ২ হাজার টাকাসহ মোট ৫ হাজার টাকা ফি দেয়ার নিয়ম ছিল। একই সঙ্গে নিবন্ধন সনদ গ্রহণ বা নবায়নে রপ্তানিকারকদের নয়টি শর্ত পূরণ করতে হয়েছিল।

শর্তগুলো হচ্ছে: রপ্তানিকারককে আবেদন ফর্মের সঙ্গে সত্যায়িত দুই কপি ছবি প্রদান, ট্রেড লাইসেন্সের নবায়িত কপি, এক্সপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ইআরসি) লাইসেন্সের নবায়িত কপি, সংশ্লিষ্ট সমিতির সদস্য সনদের নবায়িত কপি, বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সের নবায়িত কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), ফায়ার সার্ভিস সনদপত্রের নবায়িত কপি, ফায়ার পলিসির নবায়িত কপি, গ্রুপ বীমার নবায়িত কপি এবং যেসব প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত কারখানা ভবনের লে-আউট প্ল্যান ও স্ট্র্যাকচারাল ডিজাইনের কপি দাখিল করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানকে আবেদনপত্রের সঙ্গে বাধ্যতামূলক কারখানা ভবনের লে-আউট প্ল্যান ও স্ট্র্যাকচারাল ডিজাইনের কপি দাখিল করতে হবে।

এরপর নতুন কোনো সংস্কার না আসায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্যও খাতসংশ্লিষ্টদের ইপিবির নিবন্ধন সনদ গ্রহণ বা নবায়নে একই শর্ত পালন করতে হবে।

ইপিবির দেয়া এসব শর্তের বেশিরভাগকেই অপ্রসাঙ্গিক উল্লেখ করে গত রোববার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে বিজিএমইএ।

সংগঠনের মহাসচিব মো. ফয়জুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠির অনুলিপি সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদেশি ক্রেতার চাহিদার কারণে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার স্বার্থে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পসমূহ নিজ উদ্যোগেই কমপ্লায়েন্ট হতে বাধ্য হয়েছে।

কিন্তু ইপিবির জারিকৃত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিবন্ধন গ্রহণ ও নবায়নের ক্ষেত্রে মোট নয় ধরনের নথি দাখিল করতে হয়।

এর মধ্যে কারখানা ভবনের অনুমোদিত লে-আউট প্ল্যান ও স্ট্র্যাকচারাল ডিজাইন, বন্ডেড ওয়্যার হাউসের লাইসেন্সের নবায়িত কপি, ফায়ার পলিসির নবায়িত কপি, গ্রুপ বিমার নবায়িত কপি – এ জাতীয় ডকুমেন্ট প্রাপ্তির সাথে ইপিবির সেবার কোনো সম্পর্ক নেই।

ব্যবসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের প্রসঙ্গে টেনে চিঠিতে বলা হয়, ব্যবসায় সহজীকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে ১৬৮তম অবস্থানে আছে। ব্যবসা সহজীকরণ প্রক্রিয়ায় এমন তলানি অবস্থান দেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগসহ দেশি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের রপ্তানি এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বাধাহীন ও নিরবচ্ছিন্নভাবে রপ্তানি কার্যক্রম চালাতে পারে, সে লক্ষ্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সেবা প্রাপ্তিকে আরও সহজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে সনদ প্রদান বা নবায়নের স্বার্থে যেসব ডকুমেন্ট একান্ত আবশ্যক, কেবলমাত্র সেগুলো রেখে অন্যান্য ডকুমেন্ট প্রদানের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হোক।

বিজিএমইএ-এর যুক্তি

একটি কারখানা ভবনে লে-আউট প্ল্যান ও স্ট্র্যাকচারাল ডিজাইন পর্যবেক্ষণ করেই অনুমোদন দেয়ার জন্য কারিগরী জ্ঞানসম্পন্ন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর রয়েছে।

এ বিষয়ে ইপিবি ওইসব কাগজপত্র পর্যবেক্ষণের বিষয়টি পরিহার করতে পারে।

বন্ডেড ও নন-বন্ডেড উভয় ধরনের কারখানাকে ইপিবির নিবন্ধন নিতে হয় এবং উভয় ধরনের কারখানা রপ্তানির জন্য অনুমোদিত। তাই বন্ডেড ওয়ারহাউসের লাইসেন্সের নবায়িত কপি দাখিলের শর্ত বাদ দেয়া যায়।

অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনা জাতীয় যে কোনো পরিস্থিতিতে কারখানার যন্ত্রপাতি বা মালামালের ক্ষতিপূরণের স্বার্থে কারখানা কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে যে কোনো বিমা কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পারে। এটি কারখানা কর্তৃপক্ষের একান্ত নিজস্ব ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে সরকারিভাবে কোনো বাধবাধকতা নেই।

এ কারণে ইপিবির নিবন্ধন গ্রহণ বা নবায়নকালে ফায়ার পলিসির নবায়িত কপি দাখিলের শর্ত পরিহার করা যেতে পারে।

এ ছাড়া বর্তমানে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে গ্রুপ বিমার প্রচলন আর নেই। কারণ ইতিমধ্যে সরকারি আইন অনুসারে জুলাই ২০১৬ থেকে প্রতিটি এলসির বিপরীতে রপ্তানিমূল্য প্রত্যাবাসিত হওয়ার সাথে সাথে শূন্য দশমিক ০৩ হারে উৎস্য মূ্ল্য থেকে কেটে নিয়ে তা শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের নামে গঠিত তহবিলে জমা করা হয়, যা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন।

ওই তহবিল থেকে জানুয়ারি ২০১৭ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের আর্থিক অনুদান দেয়া হচ্ছে।

তাই এ বিষয়ে ইপিবিতে গ্রুপ বীমার নবায়িত কপি দাখিলের শর্ত বাদ দেয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন:
চীনের বাজারে আরও ৫ বছর শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় বাংলাদেশ
রপ্তানিতে সুসময়, হতাশা কেবল পাটে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিজমায়েস্ট্রোজ চ্যাম্পিয়ন ‘দ্য ডিপেন্ডেবলস’

বিজমায়েস্ট্রোজ চ্যাম্পিয়ন ‘দ্য ডিপেন্ডেবলস’

প্রতিযোগিতার শীর্ষ তিন দলকেই ইউনিলিভার লিডারশিপ ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের (ইউএলআইপি) আওতায় ‘ইন্টার্ন’ হবার সুযোগ দেওয়া হবে।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের (ইউবিএল) ব্যবসা বিষয়ক শীর্ষ প্রতিযোগিতা ‘বিজমায়েস্ট্রোজ-২০২১’ এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) দল ‘দ্য ডিপেন্ডেবলস’। এবারই প্রথম এনএসইউ’র কোনো দল বিজমায়েস্ট্রোজ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করল।

প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আপ হয়েছে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির টিম ‘কোড রেড’। এ দলের সব সদস্যরাই নারী, যারা সম্পূর্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছে। দ্বিতীয় রানার আপ নির্বাচিত হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর টিম ‘লেফ্টওভার পিৎজা’।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব শেষে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়।

প্রতিযোগিতার শীর্ষ তিন দলকেই ইউনিলিভার লিডারশিপ ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের (ইউএলআইপি) আওতায় ‘ইন্টার্ন’ হবার সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হবার পর থেকে যারা সফলতা দেখিয়েছে, তারাও ইউনিলিভার বাংলাদেশের ‘ট্যালেন্ট পাইপলাইন’ এ অন্তর্ভুক্ত থেকে ভবিষ্যত নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

বিজয়ী দলের সদস্যরা হলেন- তাহের সাব্বির মাহুওয়ালা, আবরার মাহির আহমেদ ও আফনান সাইদ। তারা যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউনিলিভারের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ‘ফিউচার লিডারস লিগ (এফএলএল)- ২০২১’ এ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন।

এ বছর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১১৩টি দল বিজমায়েস্ট্রোজ প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডে অংশ গ্রহণ করে। কঠোর মূল্যায়নের মাধ্যমে সেখান থেকে ৩০টি দল সেমি-ফাইনালে এবং ৬টি দল ফাইনাল রাউন্ডে জায়গা করে নেয়।

অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাভেদ আখতার এবং ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এস এম মিনহাজ।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান জাভেদ আখতার বলেন, ‘বিজমায়েস্ট্রোজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা আগামী দিনের ব্যবসায়িক নেতৃত্ব তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ উদ্যোগটি ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ১০ লাখ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত।

তরুণদের মধ্যে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গুণ ও বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ইউনিলিভার বাংলাদেশের ব্যবসা বিষয়ক শীর্ষ প্রতিযোগিতা ‘বিজমায়েস্ট্রোজ ২০২১’। তিন জনের দলে ভাগ হয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শেষ বর্ষের প্রায় ৩৪০ জন শিক্ষার্থী এবারের আসরে প্রথম রাউন্ডে অংশ গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:
চীনের বাজারে আরও ৫ বছর শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় বাংলাদেশ
রপ্তানিতে সুসময়, হতাশা কেবল পাটে

শেয়ার করুন

বিসিকে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স

বিসিকে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক পরিচালক (দক্ষতা ও প্রযুক্তি) কাজী মাহবুবুর রশিদ। বক্তব্য রাখেন বিসিকের সচিব মফিদুল ইসলাম ও প্রশিক্ষণ শাখার ব্যবস্থাপক লায়লা জেসমিন।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) প্রশিক্ষণ শাখা আয়োজিত অডিট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যার বিষয়ক দিনব্যাপী ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিক ভবনে করপোরেশনের পরিচালক (অর্থ) স্বপন কুমার ঘোষ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক পরিচালক (দক্ষতা ও প্রযুক্তি) কাজী মাহবুবুর রশিদ। বক্তব্য রাখেন বিসিকের সচিব মফিদুল ইসলাম ও প্রশিক্ষণ শাখার ব্যবস্থাপক লায়লা জেসমিন।

বিসিক প্রধান কার্যালয়ের হিসাব ও অর্থ বিভাগ, অডিট বিভাগ, প্রশাসন বিভাগ, চারটি আঞ্চলিক কার্যালয়, বিসিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শাখার ৩০জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:
চীনের বাজারে আরও ৫ বছর শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় বাংলাদেশ
রপ্তানিতে সুসময়, হতাশা কেবল পাটে

শেয়ার করুন

খাদ্যে অতিরিক্ত চর্বি ঠেকাতে প্রবিধানের প্রশংসা বিশেষজ্ঞদের

খাদ্যে অতিরিক্ত চর্বি ঠেকাতে প্রবিধানের প্রশংসা বিশেষজ্ঞদের

ডব্লিউএইচও ঘোষিত সর্বোত্তম নীতি হচ্ছে কোনো খাদ্যে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ ট্রান্স ফ্যাটি এসিড থাকতে পারে। এর বেশি মাত্রা থাকলে পণ্যটি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এই নীতি বাস্তবায়নেই প্রবিধানমালাটি জারি করেছে।

যেকোনো খাদ্যদ্রব্যে অতিরিক্ত চর্বি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে জারি করা প্রবিধানকে স্বাগত জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন।

এসব সংগঠন বলছে, খাদ্যদ্রব্যে মাত্রাতিরিক্ত চর্বি বা ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ করা গেলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যাবে। এর ফলে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুযায়ী জারি করা ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা, ২০২১’ এর গেজেট প্রকাশ হয় চলতি সপ্তাহের শুরুতে।

এই প্রবিধান অনুযায়ী, সর্বোস্তরের খাদ্যদ্রব্য উৎপাদক বা ব্যবসায়ীদের আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, মোড়কাবদ্ধ খাদ্য, মোড়কবিহীন খাদ্য, সরাসরি খাওয়ার উপযোগী খাদ্য, যেকোনো তেল ও চর্বি, খাদ্য তৈরির ব্যবহৃত কাঁচামাল অথবা মানুষের খাওয়ার যোগ্য ও অনুমিত যেকোনো খাদ্য বা খাদ্য অংশের জন্য এই প্রবিধানমালা কার্যকর হবে।’

ট্রান্স ফ্যাটি এসিডের মাত্রা খাদ্যের লেভেল বা মোড়কে উল্লেখ বাধ্যতামূলকও করা হয়েছে প্রবিধানে। এছাড়া হাইড্রোজেনেটেড তেল বা পিএইচও কোন মাত্রায় রয়েছে তাও উল্লেখ করতে হবে।

এই প্রবিধিান বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। সংস্থার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, খাদ্যে ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ঘোষিত সর্বোত্তম নীতি হচ্ছে- কোনো খাদ্যে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ ট্রান্স ফ্যাটি এসিড (প্রতি ১১০ গ্রাম ফ্যাটে ২ গ্রাম ট্রান্স ফ্যাটি এসিড) থাকতে পারে। এর বেশি মাত্রা থাকলে পণ্যটি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এই নীতি বাস্তবায়নেই প্রবিধানমালাটি জারি করেছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, পূর্ব ঘোষিত সময় ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে লক্ষ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন বছর থেকেই খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, বাজারজাতকারী সব শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ের পর সবার জন্য প্রবিধানটি বাধ্যতামূলক হবে। কেউ আইন ও প্রবিধান লঙ্ঘন করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা স্বার্থ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ এবং কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব)।

এসব সংগঠনের দাবি, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ট্রান্স ফ্যাট ঘটিত হৃদরোগে মারা যান। ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা, ২০২১’ অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বর্তমানে তরুণ ও মাঝবয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার এর অন্যতম কারণ। প্রবিধানটি বাস্তবায়িত হলে দেশে হৃদরোগ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) দক্ষিণ এশিয়া প্রোগ্রামের রিজিওনাল ডিরেক্টর বন্দনা শাহ্ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই নীতি হৃদরোগ ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশকে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করবে।’

বিষয়টিকে ভোক্তাস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘মাইলফলক’ হিসেবে দেখছেন ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান। প্রবিধানমালা সঠিকভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, জিএইচএআই এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রুহুল কুদ্দুস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ট্রান্স ফ্যাটমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত হলে চিকিৎসা ব্যয় কমবে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের খাদ্যপণ্যের চাহিদা বাড়বে।’

২০১৯ সালে পরিচালিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার শীর্ষস্থানীয় পিএইচও (পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল) ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্যের ৯২ শতাংশে ২ শতাংশের চেয়ে বেশি ট্রান্স ফ্যাট রয়েছে। ২০২০ সালে ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রান্স ফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে হৃদরোগে মৃত্যুর ৪.৪১ শতাংশের জন্য দায়ী ট্রান্স ফ্যাট। প্রবিধানমালাটি ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগজনিত অকাল মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশে কমিয়ে আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৩.৪ অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

আরও পড়ুন:
চীনের বাজারে আরও ৫ বছর শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় বাংলাদেশ
রপ্তানিতে সুসময়, হতাশা কেবল পাটে

শেয়ার করুন

‘ব্যাংক অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পেল ইবিএল

‘ব্যাংক অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পেল ইবিএল

বুধবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এক অনুষ্ঠানে ব্যাংকার সম্পাদক কিমবার্লে লং এই পুরস্কার ঘোষণা করেন।

লন্ডনভিত্তিক প্রভাবশালী পত্রিকা দি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের ব্যাংক ও অর্থনীতি বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘দ্য ব্যাংকার’ এর ‘ব্যাংক অব দ্য ইয়ার ২০২১’ পুরস্কারে পেয়েছে বেসরকারি খাতের ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল)। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো এই পুরস্কার পেয়েছে ব্যাংকটি।

বুধবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দি ব্যাংকার সম্পাদক কিমবার্লে লং এই পুরস্কার ঘোষণা করেন বলে ইবিএলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

করোনা মহামারি বিবেচনায় বিচারকমন্ডলি এ বছর বিজয়ী ব্যাংকগুলোর দৃঢ়তা, গ্রাহকসেবা, এবং কিভাবে তারা ডিজিটাল রূপান্তর এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিয়ে কাজ করেছে তার ওপর বিশেষ গুরুত্বরোপ করেন। বিচারকদের মতে, বিজয়ী ব্যাংকগুলোর এ বছর ‘সত্যিকার অর্থেই স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে যা তাদের প্রতিষ্ঠানিক শক্তির পরিচয় বহন করে।’

ইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আলী রেজা ইফতেখার বলেন, ‘এটি আমাদের ডিজিটাল রূপান্তর এবং সাসটেইনেবিলিটির বৈশ্বিক স্বীকৃতি। ২০২০ সালে করোনা অতিমারির পুরো সময়জুড়ে ইবিএল অসাধারণ দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে; তারল্য, মুনাফা এবং স্বচ্ছলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা ২০২১ সালেও চলমান ছিল।’

আরও পড়ুন:
চীনের বাজারে আরও ৫ বছর শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় বাংলাদেশ
রপ্তানিতে সুসময়, হতাশা কেবল পাটে

শেয়ার করুন

সনি-স্মার্টের নতুন মহাব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান

সনি-স্মার্টের নতুন মহাব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান

মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে সারোয়ার জাহানকে স্বাগত জানান সনি-স্মার্ট টেকনোলোজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

দেশের আইসিটি খাতের প্রতিষ্ঠান সনি-স্মার্ট টেকনোলোজির মহাব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন সারোয়ার জাহান চৌধুরী। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ইলেকট্রনিক্স পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পরিষেবার বাজার সম্প্রসারণে কাজ করবেন।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে সারোয়ার জাহানকে স্বাগত জানান সনি-স্মার্ট টেকনোলোজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জাফর আহমেদ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মহিবুল হাসান, মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ বিভাগ) একেএম শফিক উল হক এবং সহমহাব্যবস্থাপক (ইনটেল এং জেব্রা) আশরাফ হোসেন।

স্মার্ট টেকনোলজিতে যোগ দেওয়ার আগে সারোয়ার জাহান ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেডে সিনিয়র ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

এর আগে তিনি বাংলাদেশে সনি’র হয়ে টানা ২০ বছর নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার কর্মজীবনের শুরু এসিআই কনজ্যুমার ব্র্যান্ডসের মাধ্যমে।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।

আরও পড়ুন:
চীনের বাজারে আরও ৫ বছর শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় বাংলাদেশ
রপ্তানিতে সুসময়, হতাশা কেবল পাটে

শেয়ার করুন

রেমিট্যান্সে ধস, নভেম্বরে কমেছে ২৫ শতাংশ

রেমিট্যান্সে ধস, নভেম্বরে কমেছে ২৫ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরে ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ (১.৫৫ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের নভেম্বরে পাঠিয়েছিলেন ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। আগের মাস অক্টোবরে এসেছিল ১৬৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমছেই। সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এই অঙ্ক গত দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। আর গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে কম ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের মাস অক্টোবরের চেয়ে কম এসেছে ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

সব মিলিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক কমেছে ২১ শতাংশ।

মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪.৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ছিল আগের বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

কিন্তু সেই উল্লম্ফন আর নেই। এখন ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রতি মাসেই কমছে রেমিট্যান্স।

বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার রেমিট্যান্স প্রবাহের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরে ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ (১.৫৫ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের নভেম্বরে পাঠিয়েছিলেন ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার।

আগের মাস অক্টোবরে এসেছিল ১৬৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। সেই মাসেও আগের বছরের একই মাসের চেয়ে কম এসেছিল প্রবাসী আয়।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর রেমিট্যান্স প্রবাহেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ওই বছরের এপ্রিলে মাত্র ১০৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। মে মাসে তা বেড়ে ১৫০ কোটি ৪৬ লাখ ডলারে ওঠে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৩ কোটি ২৬ লাখ ডলার।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরোটা সময় (২০২০-এর জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন) রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা যায়। ১২ মাসের মধ্যে সাত মাসই ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।

কিন্তু চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটার টান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রথম মাস জুলাইয়ে আসে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার। আগস্টে আসে ১৮১ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরে আসে ১৭২ কোটি ৬২ লাখ ডলার।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে প্রথম পাঁচ (জুলাই-নভেম্বর) ৮৬০ কোটি ৯২ লাখ (৮.৬০ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৮৯ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।

এ হিসাবেই এই পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ২১ শতাংশ।

‘বেশি রেমিট্যান্স আসার কোনো কারণ নেই’

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেছেন, ‘ব্যাংকিং চ্যানেলে এখন যেটা রেমিট্যান্স আসে, সেটাই আসলে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের প্রকৃত চিত্র। গত অর্থবছরে যা এসেছিল সেটা ছিল অস্বাভাবিক। করোনার কারণে অবৈধ চ্যানেল হুন্ডি বন্ধসহ আরও কয়েকটি কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বেশি এসেছিল। এখন বেশি রেমিট্যান্স আসার কোনো কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘এটাই স্বাভাবিক। মনে রাখতে হবে, অনন্তকাল ধরে প্রবাসীরা বেশি অর্থ দেশে পাঠাবেন, এটার কোনো কারণ নেই।’

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান মনসুর বলেন, ‘কোভিডের কারণে সব কিছু বন্ধ থাকায় এতদিন হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসেনি। সেটাই ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে। সে কারণে প্রবাহ বেড়েছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় প্রবাসীদের খরচ বেড়েছে। ভ্রমণ-শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ করছেন তারা। এ কারণেই আগের মতো পরিবার-পরিজনের কাছে টাকা পাঠাতে পারছেন না।

‘আর আরেকটা কথা মনে রাখতে হবে, প্রণোদনা দিয়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা বেশি দিন ধরে রাখা যায় না। আমাদের একটা বিষয় খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধির বৈশ্বিক কোনো কারণ নেই, বেড়েছে দেশীয় কারণে। সেটা হলো অবৈধ চ্যানেল (হুন্ডি) বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে সরকার ২ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। এ কারণে যারা আয় পাঠিয়েছিলেন, সবই বৈধ পথে এসেছিল। প্রকৃতপক্ষে করোনায় আয় আসা কিন্তু কমেছিল। কারণ, প্রবাসীদের আয় কমে গিয়েছিল।’

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা সোয়া কোটি বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ। দেশের জিডিপিতে সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটেও এই প্রণোদনা সরকার অব্যাহত রেখেছে।

রিজার্ভও কমছে

রেমিট্যান্স কমায় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভেও টান পড়েছে। বুধবার দিন শেষে রিজার্ভ ছিল ৪৪ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার।

গত ৪ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে, যা ছিল গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর পর থেকে তা ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচেই অবস্থান করছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। একের পর এক রেকর্ড হয়। করোনাকালে আমদানিতে ধীরগতি আর রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে গত ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের অর্থনীতির এই সূচক ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে, যা ছিল অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য ২৭ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলারের এলসি (ঋণপত্র) খুলেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫২দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি।

তবে রপ্তানি বাণিজ্যে বেশ উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ১৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা; যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।

আরও পড়ুন:
চীনের বাজারে আরও ৫ বছর শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় বাংলাদেশ
রপ্তানিতে সুসময়, হতাশা কেবল পাটে

শেয়ার করুন

জ্বালানির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ‘বিশ্ববাজার স্থিতিশীল হলে’

জ্বালানির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ‘বিশ্ববাজার স্থিতিশীল হলে’

‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে। কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। দাম স্থিতিশীল হলে কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে দিলেও দেশের বাজারে দাম কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও অপেক্ষা করতে চান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, দাম স্থিতিশীল হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠক শেষে বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে। কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। দাম স্থিতিশীল হলে কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

দাম কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকে এখনও কোনো প্রস্তাব আসেনি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যদি প্রস্তাব আসে, তা হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসায় অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিতে ফেরার মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমেই বাড়তে থাকে। বাংলাদেশেও গত ৪ নভেম্বর থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম এক লাফে লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ৮০ টাকা।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে পরিবহন ভাড়া বেড়ে গেলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে সরকার আবার সমন্বয় করবে।

দেশে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসার দুই সপ্তাহের মধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমতে থাকে করোনার নতুন ধরন শনাক্তের খবরে।

গত ২৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অশোধিত তেলের দাম ৮৫ ডলার থেকে গত রাতে সেটি নেমে এসেছে ৬৭ ডলার ৮৮ সেন্টে। এই দাম ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সবচেয়ে কম।

অবশ্য এখন তেলের যে দাম, সে তেল দেশে আসতে দুই মাসেরও বেশি সময় লেগে যাবে। ফলে এর সুফল পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কিছুদিন পর পর বাড়ানো হলেও কমানোর প্রবণতা খুবই কম। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর একবার লিটারে ৩ টাকা কমানোর পর পরিবহন ভাড়া কমেনি। এরপর সরকার আর দাম কমায়নি।

‘ওমিক্রন বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হবে না’

করোনার নতুন ধরনের প্রভাব দেশে খুব একটা পড়বে না বলেও আশা করছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ওমিক্রন অতটা কঠোর নয়। বাংলাদেশে এখনও সংক্রমণ হয়নি। যদি সংক্রমণ ঘটে, দেশের মানুষ ও অর্থনীতির ওপর কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে, তা মোকাবিলায় সরকার সর্বদা প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এটা দেশের জন্য তেমন ক্ষতি বয়ে আনবে না।’

‘অর্থপাচারে কারা জানি না’

জাতীয় সংসদে এ ধরনের মন্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া অর্থমন্ত্রী আবার বললেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘আমি সংসদে বলেছি, আগেও বলেছি কারা টাকা পাচার করছে আমার জানা নেই। টাকা পাচারের কোনো ম্যাকানিজম আমার কাছে নেই।’

টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আমরা আইগত ব্যবস্থা নিয়েছি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিন্তু বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানো হয়নি।’

কয়েক বছর ধরে টাকা পাচারের অপরাধে কাদের বিরুদ্ধে, কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে মিডিয়ার সামনে তুলে ধরা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

বলেন, ‘টাকা পাচার বন্ধ করতে হলে আইন মন্ত্রণালয়সহ সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:
চীনের বাজারে আরও ৫ বছর শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় বাংলাদেশ
রপ্তানিতে সুসময়, হতাশা কেবল পাটে

শেয়ার করুন