ডলারের দাম একেক জায়গায় একেক রকম কেন

ডলারের দাম একেক জায়গায় একেক রকম কেন

সোমবার ২ কোটি ডলারের মতো বিক্রি করা হয়েছে। ফাইল ছবি

আন্তব্যাংক লেনদেনের রেট ছিল ৮৫ টাকা ৭৫ পয়সা। সোনালী, জনতা, ও অগ্রণী ব্যাংক ৮৯ টাকায় ডলার বিক্রি করেছে। আর খোলাবাজারে সেই ডলারের দাম উঠেছে ৯১ টাকায়।

ডলারের দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবারও ২ কোটি ডলারের মতো বিক্রি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত আড়াই মাসে ১৬৬ কোটি ডলার বিক্রি করেছে। এরপরও দাম ধরে রাখা যাচ্ছে না। প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রার দর।

সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছে ৮৫ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণীসহ অধিকাংশ ব্যাংক সেই ডলার ৩ টাকা ২৫ পয়সা বেশি লাখ রেখে ৮৯ টাকায় গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করেছে। আর খোলাবাজারে সেই ডলারের দাম উঠেছে ৯১ টাকায়।

মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকগুলোর চেয়ে ৫০ পয়সা বেশি দরে ৮৯ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৮৯ টাকা ৫০ পয়সায় ডলার বিক্রি করছে।

তিন মাস আগে বাংলাদেশ ব্যাংক এই ডলার ব্যাংকগুলোর কাছে বিক্রি করেছিল ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায়। ওই সময় ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করেছে ৮৬ টাকা থেকে ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে। খোলাবাজারে দর ছিল ৮৭ থেকে ৮৮ টাকার মধ্যে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকগুলোর মধ্যে ডলারের লেনদেনকে আন্তব্যাংক লেনদেন বলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিদিন এই দর নির্ধারণ করে দেয়। ব্যাংকগুলো সব সময়ই এই দরের চেয়ে দুই-আড়াই টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি করে। যখন বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায় তখন তিন-চার টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি করে ব্যাংকগুলো।

সোমবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ডলার বিক্রির তথ্য তুলনা করলেই তার সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়। এদিন আন্তব্যাংক লেনদেনের রেট ছিল ৮৫ টাকা ৭৫ পয়সা। সোনালী, জনতা, ও অগ্রণী ব্যাংক ৮৯ টাকায় ডলার বিক্রি করেছে।

বাজারের চাহিদা বিবেচনায় প্রচুর ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৯ আগস্ট থেকে সোমবার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ১৬৬ কোটি ডলার বিক্রি করেছে।

অথচ বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

মহামারি করোনার ধাক্কায় গত অর্থবছরের প্রথমার্ধে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। উল্টোদিকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ বেশ বেড়ে যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহও বেড়ে গিয়েছিল। সে সময় বাজারে যাতে ডলারের দর কমে না যায়, সেজন্য রেকর্ড পরিমাণ ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভে একের পর এক যে রেকর্ড হচ্ছিল, তাতে এই ডলার কেনার একটা অবদান ছিল।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। আমদানি বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে; কমে গেছে রেমিট্যান্স। সে কারণে বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা মেটাতে এখন ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় অস্বাভাবিক দাম বাড়ার শঙ্কা নেই। এখনও রিজার্ভে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের মতো জমা আছে। প্রয়োজনমতো সেখান থেকে ডলার বাজারে ছাড়া হবে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, চাহিদা বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার বিক্রি স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ হস্তক্ষেপকে সময়োপযোগী একটা পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন তারা।

গত আগস্ট থেকে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়ছে। আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারেই এই তিন মাসের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে টাকা প্রায় ১ টাকা দর হারিয়েছে। ৫ আগস্ট আন্তব্যাংক লেনদেনে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একই জায়গায় ‘স্থির’ ছিল ডলারের দর। বাড়তে বাড়তে সোমবার তা ৮৫ টাকা ৭৫ পয়সায় উঠেছে।

মতিঝিলের ডলার ব্যবসায়ী রিপন মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, সোমবার ৯০ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৭০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছে। দু-একজন ৯১ টাকায়ও বিক্রি করেছেন।

ঠিক কাজটিই করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দাম বাড়ার লাগাম টেনে ধরতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে ডলার ছাড়ছে বলে মনে করছেন গবেষক ও ব্যাংকাররা। তারা বলেছেন, আমদানি বাড়ায় বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। স্বাভাবিক নিয়মেই বাড়ছে দর।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদানি বাড়ায় ডলারের চাহিদা বাড়ছে। আর চাহিদা বাড়লে দাম বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলার ছেড়ে ঠিক কাজটিই করছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি—সব ধরনের পণ্যের আমদানি বাড়ছে। ইউরোপ-আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক বলা যায়। রপ্তানিতে বেশ ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এখন দেশে পুরোদমে উৎপাদন কর্মকাণ্ড চলছে। সব মিলিয়ে আমদানি বাড়াটাই স্বাভাবিক। আর এটা অর্থনীতির জন্য মঙ্গল।’

তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে ডলারের চাহিদা বাড়ায় দাম বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ডলার বিক্রি করছে। এত দিন বাজার স্থিতিশীল রাখতে ডলার কেনা হয়েছিল। এখন সেই একই কারণে বিক্রি করা হচ্ছে।

‘এই কাজটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব সময়ই করে থাকে। যখন যেটা প্রয়োজন, সেটাই করা হয়।’

আমদানি বাড়ায় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন (৪ হাজার ৫০০ কোটি) ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে, যা গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে ৬৯৯ দশমিক ৬০ কোটি (৭ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে, যা এক মাসের হিসাবে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। আর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ১৮ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্সের চার মাসের তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ৭০৫ কোটি ৫০ লাখ (৭ দশমিক ০৫ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৮১ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এ হিসাবে এই চার মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ২০ শতাংশ।

তবে রপ্তানি বাণিজ্যে বেশ উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। এই চার মাসে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ১৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।

আরও পড়ুন:
ডলারের দাম বেড়ে ৯০, বাড়ছে আমদানি খরচ
ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, সরকারকে আইনি নোটিশ
টাকার মান কমল ১২ পয়সা, খোলাবাজারে ডলার ৮৯ টাকা
মান হারাচ্ছে টাকা
সহজ হলো ডলার এনডোর্সমেন্ট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সনি-স্মার্টের নতুন মহাব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান

সনি-স্মার্টের নতুন মহাব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান

মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে সারোয়ার জাহানকে স্বাগত জানান সনি-স্মার্ট টেকনোলোজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

দেশের আইসিটি খাতের প্রতিষ্ঠান সনি-স্মার্ট টেকনোলোজির মহাব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন সারোয়ার জাহান চৌধুরী। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ইলেকট্রনিক্স পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পরিষেবার বাজার সম্প্রসারণে কাজ করবেন।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে সারোয়ার জাহানকে স্বাগত জানান সনি-স্মার্ট টেকনোলোজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জাফর আহমেদ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মহিবুল হাসান, মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ বিভাগ) একেএম শফিক উল হক এবং সহমহাব্যবস্থাপক (ইনটেল এং জেব্রা) আশরাফ হোসেন।

স্মার্ট টেকনোলজিতে যোগ দেওয়ার আগে সারোয়ার জাহান ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেডে সিনিয়র ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

এর আগে তিনি বাংলাদেশে সনি’র হয়ে টানা ২০ বছর নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার কর্মজীবনের শুরু এসিআই কনজ্যুমার ব্র্যান্ডসের মাধ্যমে।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।

আরও পড়ুন:
ডলারের দাম বেড়ে ৯০, বাড়ছে আমদানি খরচ
ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, সরকারকে আইনি নোটিশ
টাকার মান কমল ১২ পয়সা, খোলাবাজারে ডলার ৮৯ টাকা
মান হারাচ্ছে টাকা
সহজ হলো ডলার এনডোর্সমেন্ট

শেয়ার করুন

রেমিট্যান্সে ধস, নভেম্বরে কমেছে ২৫ শতাংশ

রেমিট্যান্সে ধস, নভেম্বরে কমেছে ২৫ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরে ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ (১.৫৫ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের নভেম্বরে পাঠিয়েছিলেন ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। আগের মাস অক্টোবরে এসেছিল ১৬৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমছেই। সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এই অঙ্ক গত দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। আর গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে কম ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের মাস অক্টোবরের চেয়ে কম এসেছে ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

সব মিলিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক কমেছে ২১ শতাংশ।

মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪.৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ছিল আগের বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

কিন্তু সেই উল্লম্ফন আর নেই। এখন ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রতি মাসেই কমছে রেমিট্যান্স।

বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার রেমিট্যান্স প্রবাহের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরে ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ (১.৫৫ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের নভেম্বরে পাঠিয়েছিলেন ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার।

আগের মাস অক্টোবরে এসেছিল ১৬৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। সেই মাসেও আগের বছরের একই মাসের চেয়ে কম এসেছিল প্রবাসী আয়।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর রেমিট্যান্স প্রবাহেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ওই বছরের এপ্রিলে মাত্র ১০৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। মে মাসে তা বেড়ে ১৫০ কোটি ৪৬ লাখ ডলারে ওঠে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৩ কোটি ২৬ লাখ ডলার।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরোটা সময় (২০২০-এর জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন) রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা যায়। ১২ মাসের মধ্যে সাত মাসই ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।

কিন্তু চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটার টান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রথম মাস জুলাইয়ে আসে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার। আগস্টে আসে ১৮১ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরে আসে ১৭২ কোটি ৬২ লাখ ডলার।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে প্রথম পাঁচ (জুলাই-নভেম্বর) ৮৬০ কোটি ৯২ লাখ (৮.৬০ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৮৯ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।

এ হিসাবেই এই পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ২১ শতাংশ।

‘বেশি রেমিট্যান্স আসার কোনো কারণ নেই’

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেছেন, ‘ব্যাংকিং চ্যানেলে এখন যেটা রেমিট্যান্স আসে, সেটাই আসলে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের প্রকৃত চিত্র। গত অর্থবছরে যা এসেছিল সেটা ছিল অস্বাভাবিক। করোনার কারণে অবৈধ চ্যানেল হুন্ডি বন্ধসহ আরও কয়েকটি কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বেশি এসেছিল। এখন বেশি রেমিট্যান্স আসার কোনো কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘এটাই স্বাভাবিক। মনে রাখতে হবে, অনন্তকাল ধরে প্রবাসীরা বেশি অর্থ দেশে পাঠাবেন, এটার কোনো কারণ নেই।’

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান মনসুর বলেন, ‘কোভিডের কারণে সব কিছু বন্ধ থাকায় এতদিন হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসেনি। সেটাই ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে। সে কারণে প্রবাহ বেড়েছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় প্রবাসীদের খরচ বেড়েছে। ভ্রমণ-শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ করছেন তারা। এ কারণেই আগের মতো পরিবার-পরিজনের কাছে টাকা পাঠাতে পারছেন না।

‘আর আরেকটা কথা মনে রাখতে হবে, প্রণোদনা দিয়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা বেশি দিন ধরে রাখা যায় না। আমাদের একটা বিষয় খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধির বৈশ্বিক কোনো কারণ নেই, বেড়েছে দেশীয় কারণে। সেটা হলো অবৈধ চ্যানেল (হুন্ডি) বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে সরকার ২ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। এ কারণে যারা আয় পাঠিয়েছিলেন, সবই বৈধ পথে এসেছিল। প্রকৃতপক্ষে করোনায় আয় আসা কিন্তু কমেছিল। কারণ, প্রবাসীদের আয় কমে গিয়েছিল।’

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা সোয়া কোটি বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ। দেশের জিডিপিতে সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটেও এই প্রণোদনা সরকার অব্যাহত রেখেছে।

রিজার্ভও কমছে

রেমিট্যান্স কমায় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভেও টান পড়েছে। বুধবার দিন শেষে রিজার্ভ ছিল ৪৪ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার।

গত ৪ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে, যা ছিল গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর পর থেকে তা ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচেই অবস্থান করছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। একের পর এক রেকর্ড হয়। করোনাকালে আমদানিতে ধীরগতি আর রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে গত ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের অর্থনীতির এই সূচক ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে, যা ছিল অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য ২৭ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলারের এলসি (ঋণপত্র) খুলেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫২দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি।

তবে রপ্তানি বাণিজ্যে বেশ উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ১৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা; যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।

আরও পড়ুন:
ডলারের দাম বেড়ে ৯০, বাড়ছে আমদানি খরচ
ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, সরকারকে আইনি নোটিশ
টাকার মান কমল ১২ পয়সা, খোলাবাজারে ডলার ৮৯ টাকা
মান হারাচ্ছে টাকা
সহজ হলো ডলার এনডোর্সমেন্ট

শেয়ার করুন

জ্বালানির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ‘বিশ্ববাজার স্থিতিশীল হলে’

জ্বালানির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ‘বিশ্ববাজার স্থিতিশীল হলে’

‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে। কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। দাম স্থিতিশীল হলে কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে দিলেও দেশের বাজারে দাম কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও অপেক্ষা করতে চান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, দাম স্থিতিশীল হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠক শেষে বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে। কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। দাম স্থিতিশীল হলে কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

দাম কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকে এখনও কোনো প্রস্তাব আসেনি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যদি প্রস্তাব আসে, তা হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসায় অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিতে ফেরার মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমেই বাড়তে থাকে। বাংলাদেশেও গত ৪ নভেম্বর থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম এক লাফে লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ৮০ টাকা।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে পরিবহন ভাড়া বেড়ে গেলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে সরকার আবার সমন্বয় করবে।

দেশে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসার দুই সপ্তাহের মধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমতে থাকে করোনার নতুন ধরন শনাক্তের খবরে।

গত ২৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অশোধিত তেলের দাম ৮৫ ডলার থেকে গত রাতে সেটি নেমে এসেছে ৬৭ ডলার ৮৮ সেন্টে। এই দাম ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সবচেয়ে কম।

অবশ্য এখন তেলের যে দাম, সে তেল দেশে আসতে দুই মাসেরও বেশি সময় লেগে যাবে। ফলে এর সুফল পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কিছুদিন পর পর বাড়ানো হলেও কমানোর প্রবণতা খুবই কম। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর একবার লিটারে ৩ টাকা কমানোর পর পরিবহন ভাড়া কমেনি। এরপর সরকার আর দাম কমায়নি।

‘ওমিক্রন বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হবে না’

করোনার নতুন ধরনের প্রভাব দেশে খুব একটা পড়বে না বলেও আশা করছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ওমিক্রন অতটা কঠোর নয়। বাংলাদেশে এখনও সংক্রমণ হয়নি। যদি সংক্রমণ ঘটে, দেশের মানুষ ও অর্থনীতির ওপর কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে, তা মোকাবিলায় সরকার সর্বদা প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এটা দেশের জন্য তেমন ক্ষতি বয়ে আনবে না।’

‘অর্থপাচারে কারা জানি না’

জাতীয় সংসদে এ ধরনের মন্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া অর্থমন্ত্রী আবার বললেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘আমি সংসদে বলেছি, আগেও বলেছি কারা টাকা পাচার করছে আমার জানা নেই। টাকা পাচারের কোনো ম্যাকানিজম আমার কাছে নেই।’

টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আমরা আইগত ব্যবস্থা নিয়েছি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিন্তু বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানো হয়নি।’

কয়েক বছর ধরে টাকা পাচারের অপরাধে কাদের বিরুদ্ধে, কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে মিডিয়ার সামনে তুলে ধরা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

বলেন, ‘টাকা পাচার বন্ধ করতে হলে আইন মন্ত্রণালয়সহ সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:
ডলারের দাম বেড়ে ৯০, বাড়ছে আমদানি খরচ
ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, সরকারকে আইনি নোটিশ
টাকার মান কমল ১২ পয়সা, খোলাবাজারে ডলার ৮৯ টাকা
মান হারাচ্ছে টাকা
সহজ হলো ডলার এনডোর্সমেন্ট

শেয়ার করুন

দেশজুড়ে ২০০ গ্রামীণফোন সেন্টার

দেশজুড়ে ২০০ গ্রামীণফোন সেন্টার

উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জিপিসি চালুর মধ্য দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি পার্টনার ২০০তম জিপিসি স্থাপন করল প্রতিষ্ঠানটি।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতেও গ্রামীণফোন সেন্টার (জিপিসি) খুলেছে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। এ নিয়ে দেশজুড়ে ২০০টি জিপি সেন্টারের মাইলফলকে পৌঁছাল।

গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে সারা দেশে এই জিপিসি সেন্টারগুলো খুলেছে গ্রামীণফোন। বুধবার দেশের উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জিপিসি চালুর মধ্য দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি পার্টনার ২০০তম জিপিসি স্থাপন করল প্রতিষ্ঠানটি।

এ উপলক্ষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ এই জিপিসি উদ্বোধন করেন বলে প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

গ্রামীণফোনের হেড অফ কমিউনিকেশনস খায়রুল বাশারের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার সাজ্জাদ হাসিব, চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হোসেন সাদাত ও হেড অফ কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড সার্ভিস আওলাদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে গ্রাহক ও জিপিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে গ্রামীণফোনের হেড অফ কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড সার্ভিস আওলাদ হোসেন কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকা নাগেশ্বরী থেকে যুক্ত হন এবং জিপিসির কার্যক্রম তুলে ধরেন।

গ্রাহকদের উন্নত সেবা প্রদানের অনুপ্রেরণা থেকে এখন দেশজুড়ে গ্রামীণফোনের প্রয়োজনীয় কাস্টমার সল্যুশন সেন্টার রয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে সর্বোচ্চ সম্পৃক্ততা এবং প্রতিশ্রুতি পূরণের আন্তরিক প্রচেষ্টা নিশ্চিত করছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০ জিপিসির পাশাপাশি গ্রামীণফোনের বিদ্যমান অন্যান্য ডিজিটাল সেবা চ্যানেল-১২১ হটলাইন ও মাইজিপি অ্যাপ্লিকেশনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। জেলা সদরের বাইরে জিপিসির বিস্তৃতি ঘটেছে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন গ্রামীণফোন সেন্টার রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০০টি জিপিসির মধ্যে ঢাকায় ২৪টি, সিলেটে ২৪টি, রাজশাহীতে ২১টি, বরিশালে ১৯টি, বগুড়ায় ১৮টি, খুলনায় ১৭টি, ময়মনসিংহে ১৭টি, কুমিল্লায় ১৬টি, চট্টগ্রামে ১২টি এবং রংপুরে ৭টি জিপিসি রয়েছে। এ ছাড়া গ্রাহকরা সারা দেশের ৪ লাখ ২০ হাজার রিটেইল পয়েন্ট থেকেও সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিটিআরসির মহাপরিচালক নাসিম পারভেজ বলেন, ‘সত্যিকার অর্থেই গ্রামীণফোনের জন্য আজকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন, কারণ জনগণের কাছাকাছি আসার এক বিশাল মাইলফলক প্রতিষ্ঠানটি অর্জন করেছে। জনগণের সঙ্গে কানেক্টেড হওয়ার জন্য গ্রামীণফোনের হটলাইন, মাইজিপির মতো সেবা থাকলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য গ্রামীণফোন সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা সব সময়ই থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সাধারণ মানুষ যারা এখনও পুরোপুরি ডিজিটাল সেবায় অন্ত অন্তর্ভুক্ত হয়নি, জিপি সেন্টার তাদের জন্য সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার সাজ্জাদ হাসিব বলেন, ‘২০০তম জিপিসির এই দুর্দান্ত মাইলফলক অর্জন নিয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই স্টোরগুলো গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রতিফলন। দুই দশক ধরে গ্রাহকরা আমাদের কাছ থেকে তাদের পছন্দসই পণ্য, সেবা এবং সুবিধা পেতে সানন্দে আমাদের সেন্টারগুলোয় আসছেন। গ্রামীণফোন সেন্টারে আমরা প্রত্যেক গ্রাহকের চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি এবং তাদের ডিজিটাল জীবনধারার মানোন্নয়নে যথোপযোগী সমাধান প্রদান করি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশজুড়ে সবচেয়ে বিস্তৃত উচ্চ গতিসম্পন্ন ফোরজি কাভারেজ রয়েছে এবং গ্রাহকদের সেবা প্রদানে এই সেন্টারগুলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও রয়েছে। গ্রাহকরা এসব সেন্টার থেকে তাদের ডিজিটালের সব প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারবেন।’

হেড অফ গ্রামীণফোন কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড সার্ভিস মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা ২০০ গ্রামীণফোন সেন্টারের এক বিশাল মাইলফলক অর্জন করেছি, যা একই সঙ্গে অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের বিষয়। সামনের দিনগুলোয় আরও স্টোর চালুর মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের কাছাকাছি পৌঁছানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

গ্রামীণফোনের অ্যাক্টিং সিসিএও হোসেন সাদাত বলেন, ‘সর্বোচ্চ গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে গ্রামীণফোন এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করবে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই বেশিসংখ্যক গ্রাহকের ডিজিটাল সেবায় অন্তর্ভুক্ত করার কাজ আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন:
ডলারের দাম বেড়ে ৯০, বাড়ছে আমদানি খরচ
ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, সরকারকে আইনি নোটিশ
টাকার মান কমল ১২ পয়সা, খোলাবাজারে ডলার ৮৯ টাকা
মান হারাচ্ছে টাকা
সহজ হলো ডলার এনডোর্সমেন্ট

শেয়ার করুন

দেশের বাজারে ইতালিয়ান ইঞ্জিন অয়েল পাকেলো

দেশের বাজারে ইতালিয়ান ইঞ্জিন অয়েল পাকেলো

বাংলাদেশের বাজারে মঙ্গলবার রাতে ইতালিয়ান ইঞ্জিন অয়েল পাকেলোর যাত্রা শুরুর অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত

এখন থেকে মানসি গ্রুপের সহযোগিতায় দেশের যে কোনো জায়গায় পাকেলো অয়েল পাবেন গ্রাহকরা।

বাংলাদেশের বাজারে যাত্রা শুরু করেছে ইতালিয়ান ইঞ্জিন অয়েল পাকেলো।

রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে মঙ্গলবার রাতে এক অনুষ্ঠানে এ যাত্রা শুরু হয়।

এখন থেকে মানসি গ্রুপের সহযোগিতায় দেশের যে কোনো জায়গায় পাকেলো অয়েল পাবেন গ্রাহকরা।

প্রতিষ্ঠানটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- গাড়ি, মোটরসাইকেল, ভারী যানবাহন, আর্থ মুভিং মেশিনারি, কৃষি, মেরিন, শিল্প-কারখানা এবং খাদ্যশিল্পের জন্য উচ্চ কার্যক্ষমতা সম্পন্ন লুব্রিকেন্ট, কুল্যান্ট, গ্রিজ, গিয়ার অয়েল, অ্যাডিটিভস সরাসরি ইতালি থেকে আমদানি করে মানসি।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৩০ সাল থেকে যাত্রা শুরু করা পাকেলো আপসহীনভাবে গুণগত মান বজায় রেখেছে। গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে প্রতিষ্ঠানটি রেখেছে বিশেষ প্রযুক্তিগত পরামর্শের ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ প্রকৌশল বিভাগ, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং অংশীদারদের জন্য প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের সুযোগ।

পাকেলো সব সময় শতভাগ ভার্জিন বেজ অয়েল ব্যবহার করে থাকে। কোনো ধরনের পুনর্ব্যবহৃত বেজ অয়েল ব্যবহার করে না প্রতিষ্ঠানটি। তা ছাড়া কোম্পানিটি পরিবেশের কথা চিন্তা করে পরিবেশবান্ধব তেল নিয়ে এসেছে।

বাজারে যেসব ইঞ্জিন আসছে, সেগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রমাগতই নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আসছে পাকেলো।

এ বিষয়ে মানসি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আহমেদ বলেন, ‘গাড়ি, মোটরসাইকেল, ভারী যানবহন, আর্থ মুভিং মেশিনারি, কৃষি, মেরিন, শিল্প এবং খাদ্যশিল্পের জন্য উচ্চ কার্যকার লুব্রিকেন্ট, কুল্যান্ট এবং গ্রিজ উত্পাদন করে থাকে পাকেলো। এ ছাড়া পাকেলো ফর্মুলা ১, ফর্মুলা ২, ফর্মুলা ৩, জিটি সিরিজ, ফর্মুলা ই, ডিটিএম, মোটো জিপি, এন্ডুরোজিপি, ইউরোপীয় লেম্যানস ২৪, রিসি কম্পিটিজিওনি ইত্যাদি রেসিং প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন সময়ে অংশগ্রহণকারী রেসিং টিমগুলোকে সহযোগিতা করছে।

‘ওইএম এবং পেশাদারদের সরাসরি পরামর্শ দেয়ার জন্য পাকেলোর কাছে উন্নত প্রযুক্তির ল্যাব আছে। পাকেলোর পণ্যের অভিজাত পরিসর ইঞ্জিনকে সব ধরনের চ্যালেঞ্জিং অবস্থায় সুরক্ষা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে আমরাই প্রথম পাকেলোর পণ্য নিয়ে এসেছি। আশা করি দেশের মানুষ তাদের পছন্দের গাড়ির জন্য পাকেলোর পণ্য সবার শীর্ষে রাখবে।’

আরও পড়ুন:
ডলারের দাম বেড়ে ৯০, বাড়ছে আমদানি খরচ
ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, সরকারকে আইনি নোটিশ
টাকার মান কমল ১২ পয়সা, খোলাবাজারে ডলার ৮৯ টাকা
মান হারাচ্ছে টাকা
সহজ হলো ডলার এনডোর্সমেন্ট

শেয়ার করুন

চার মাসে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার এলসি

চার মাসে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার এলসি

আমদানি ও রপ্তানি কাজে ব্যস্ত চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: নিউজবাংলা

ইউরোপ-আমেরিকা করোনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে শুরু করায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তারা নতুন উদ্যমে উৎপাদন কর্মকাণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। সে কারণে শিল্পের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, মূলধনি যন্ত্রপাতিসহ (ক্যাপিটাল মেশিনারি) সব ধরনের পণ্য আমদানিই বেড়ে গিয়েছে, বেড়েছে এলসি খোলার পরিমাণ।

পণ্য আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরিমাণ বাড়ছেই। প্রতি মাসে রেকর্ড হচ্ছে। সর্বশেষ অক্টোবর মাসে প্রায় সাড়ে ৭ বিলিয়ন (৭৪২ কোটি ১৬ লাখ) ডলারের এলসি খুলেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা।

বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ৬৩ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক মাসে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলতে এত বিপুল অঙ্কের বিদেশি মুদ্রা খরচ দেখা যায়নি।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ২৭ দশমিক ৩২ বিলিয়ন (২ হাজার ৭৩২ কোটি) ডলারের এলসি খুলেছেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ২ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে ১৭ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই চার মাসে দেশে এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৫২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই চার মাসে প্রতি মাসে গড়ে ৬ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে দেশে।

আর এলসি খোলার এই হিড়িকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভেও টান পড়েছে, নেমে এসেছে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে শুরু করায় সেসব দেশের মানুষ আগের মতো পণ্য কেনা শুরু করেছিল। দেশের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল। সব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সব ধরনের পণ্যের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে গিয়েছিল।

সে চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখেই বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তারা নতুন উদ্যমে উৎপাদন কর্মকাণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। সে কারণেই শিল্পের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, মূলধনি যন্ত্রপাতিসহ (ক্যাপিটাল মেশিনারি) সব ধরনের পণ্য আমদানিই বেড়ে গিয়েছিল, বেড়েছিল এলসি খোলার পরিমাণ।

এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ অন্য সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এলসি খুলতে বেশি অর্থ খরচ হয়েছে বলে জানান তারা।

তবে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের ধাক্কায় ফের বেসামাল বিশ্ব অর্থনীতি; আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলাদেশেও। জ্বালানি তেলের দাম বেশ কমে গেছে। এ অবস্থায় আগামী দিনগুলোতে বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলবেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও গত ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য আমদানির জন্য ৬ হাজার ৭০৪ কোটি (৬৭.০৪ বিলিয়ন) ডলারের ঋণপত্র (এলসি) খুলেছিলেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। ওই অঙ্ক ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার এলসি খোলার সর্বশেষ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে জুলাই-অক্টোবর সময়ে এলসি খুলতে সবচেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা খরচ হয়েছে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে; সেটা ৯৭০ কোটি ২৭ লাখ (৯.৭০ বিলিয়ন) ডলার, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে যা ৪৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি।

মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ১৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে, বেড়েছে ২১ দশমিক ২১ শতাংশ। শিল্পের মধ্যবর্তী পণ্যের জন্য এলসি খোলা হয়েছে ২৩৮ কোটি ২০ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬০ দশমিক ২৮ শতাংশ। অন্যান্য শিল্প যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলা হয়েছে ৭৬৭ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের; বেড়েছে ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ। এ ছাড়া জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ২৩৫ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ; ৯০ দশমিক ৪০ শতাংশ। খাদ্যপণ্য (চাল ও গম) আমদানির এলসি খোলা হয়েছে ২৮৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার। বেড়েছে ৬০ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

চার মাসের পণ্য আমদানির এলসি খোলার এই তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেশ ভালোই চলছিল; করোনার ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের অর্থনীতি। আমদানি-রপ্তানি বাড়ছিল। রাজস্ব আদায়ে গতি এসেছিল। রেমিট্যান্স ছাড়া অর্থনীতির প্রায় সূচকই ইতিবাচক ধারায় চলে এসেছিল। পণ্য আমদানি যেটা বাড়ছিল, তার প্রভাব বিনিয়োগে পড়তে শুরু করেছিল। অর্থনীতি প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছিল।

‘কিন্তু এখন অবস্থা বেশ খারাপ মনে হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে আরেকটি বড় ধাক্কা আসছে মনে হচ্ছে। আর সেটা নিয়ে আসছে ওমিক্রন। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়বে। ওমিক্রনের ধাক্কা কতটা মারাত্মক হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।’

বিশ্ব পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে আমদানি-রপ্তানিসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেশের ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেন আহসান মনসুর।

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘আমরা খুবই চিন্তিত। প্রতিটি মুহূর্ত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটছে আমাদের।’

তিনি বলেন, ‘মাত্রই আমরা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করছিলাম। রপ্তানি বেশ ভালোই বাড়ছিল; প্রচুর অর্ডার আসছিল। কিন্তু ওমিক্রনের ধাক্কা আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে, কে জানে!’
২০১৯-২০ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য মোট ৫৬ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল, যা ছিল আগের (২০১৮-১৯) অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ২১ শতাংশ কম।

রিজার্ভে টান
আমদানি বাড়ায় বাংলাদেশের বিদেশি রিজার্ভও কমছে, নেমে এসেছে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে। রোববার দিন শেষে রিজার্ভ ছিল ৪৪ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে ৭ বিলিয়ন ডলার হিসেবে বর্তমানের এই রিজার্ভ দিয়ে ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুত থাকতে হয়।

গত ৪ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে, যা ছিল গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। এরপর আর তা ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচেই অবস্থান করছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। একের পর এক রেকর্ড হয়। করোনাকালে আমদানিতে ধীরগতি আর রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে গত ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের অর্থনীতির এই সূচক ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে, যা ছিল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন:
ডলারের দাম বেড়ে ৯০, বাড়ছে আমদানি খরচ
ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, সরকারকে আইনি নোটিশ
টাকার মান কমল ১২ পয়সা, খোলাবাজারে ডলার ৮৯ টাকা
মান হারাচ্ছে টাকা
সহজ হলো ডলার এনডোর্সমেন্ট

শেয়ার করুন

বিএফআইইউর প্রধান হলেন মাসুদ বিশ্বাস

বিএফআইইউর প্রধান হলেন মাসুদ বিশ্বাস

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ মঙ্গলবার তাকে এই পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মঙ্গলবারই তিনি নির্বাহী পরিচালক পদ থেকে অবসর নিয়ে বিএফআইইউর প্রধান হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

আর্থিক খাতের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাসুদ বিশ্বাস। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বিএফআইইউ উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগমঙ্গলবার তাকে এই পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মঙ্গলবারই তিনি নির্বাহী পরিচালক পদ থেকে আগাম অবসর নিয়ে বিএফআইইউর প্রধান হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মাসুদ বিশ্বাসের মেয়াদ হবে দুই বছর। তার পদমর্যাদা হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের সমমান।

বিএফআইইউর কার্যালয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হলেও এটি একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। যদিও শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এটি পরিচালনা করে আসছেন। অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সমন্বয়কের ভূমিকা রাখে বিএফআইইউ। বিএফআইইউ বিভিন্ন সময়ে ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট বা গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করে বিভিন্ন সংস্থার কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠায়। আবার বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেও কাজ করে।

বিএফআইইউর সদ্য বিদায়ী প্রধান ছিলেন আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হওয়ার পর বিএফআইইউর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান।

গত ১০ সেপ্টেম্বর আবু হেনার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পান করছিলেন মাসুদ বিশ্বাস। ১৯৮৮ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে ২০১৭ সালের আগস্টে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান।

দীর্ঘ ৩৩ বছরের কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম ও বগুড়া অফিস ছাড়াও প্রধান কার্যালয়ের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ, ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস, ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন, বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন, এফএসএসএসপি প্রকল্প, গভর্নর সচিবালয় ও পরিচালনা পর্ষদের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন:
ডলারের দাম বেড়ে ৯০, বাড়ছে আমদানি খরচ
ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, সরকারকে আইনি নোটিশ
টাকার মান কমল ১২ পয়সা, খোলাবাজারে ডলার ৮৯ টাকা
মান হারাচ্ছে টাকা
সহজ হলো ডলার এনডোর্সমেন্ট

শেয়ার করুন