ঢাবিতে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ

ঢাবিতে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ

ঢাবির সূর্যসেন হলের দুই ছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগকর্মী হলেন উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সিফাত উল্লাহ সিফাত এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ইংলিশ ফর স্পিকার্স অব আদার ল্যাঙ্গুয়েজেস বিভাগের মাহমুদুর রহমান অর্পণ। নির্যাতনের কারণে ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় এ দুই ছাত্রকে।

কর্মসূচিতে অংশ না নেয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের দুই ছাত্রকে মারধর ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে ছাত্রলীগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে।

হলের ৩৫১ নম্বর কক্ষে রোববার রাত পৌনে তিনটা থেকে ভোররাত চারটা পর্যন্ত এ নির্যাতন চলে বলে দাবি করেন দুই ছাত্র। এ কক্ষেই থাকেন ছাত্রলীগের অভিযুক্ত দুই কর্মী।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের আরিফুল ইসলাম এবং থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের তরিকুল ইসলাম। তাদের মধ্যে আরিফুল সূর্যসেন হল সংসদের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। তিনি ও তরিকুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।

অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগকর্মী হলেন উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সিফাত উল্লাহ সিফাত এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ইংলিশ ফর স্পিকার্স অব আদার ল্যাঙ্গুয়েজেস বিভাগের মাহমুদুর রহমান অর্পণ।

নির্যাতনের কারণে ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় এ দুই ছাত্রকে। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন।

অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হল ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ক্যাম্পাসে হল ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ইমরান সাগরের ছোট ভাই বলে পরিচিত।

ইমরান সাগর ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের ২০১৫-২০১৬ সেশনের ছাত্র।

কী বলছেন অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা

অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ঘটনার সময় ৩৫১ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগের দুই কর্মীর সঙ্গে তাদের আরও চার বন্ধু উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন চতুর্থ বর্ষের ছাত্র শাকিল, রেজওয়ান, তাসকিন ও মারুফ। এদের মধ্যে শাকিল উর্দু বিভাগের আর রেজওয়ান ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের।

ঘটনার বিষয়ে অভিযোগকারী আরিফুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এবং তরিকুল বেশ কিছুদিন ধরে ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম এবং গেস্ট রুমে অনিয়মিত হয়ে যাই। এসবের জন্য তারা (অভিযুক্ত) আমাদের ডাকলেও পরীক্ষা বা ক্লাস থাকার কারণে আমরা আসতাম না। এ নিয়ে তারা আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল।

‘তারা আমাদের হল থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করলেও আমাদের রুমটা প্রশাসনের মাধ্যমে বরাদ্দ হওয়ায় সেটি পারেননি। সর্বশেষ গতকালের ঘটনা ঘটান।’

ঘটনার বিষয়ে এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘গতকাল রাতে আমি এবং বন্ধু তরিকুল রুমে ঘুমাচ্ছি। রাত আড়াইটার দিকে সিফাত উল্লাহ এবং মাহমুদ অর্পণ রুমে আসেন। আমাদের তাদের ৩৫১ নম্বর রুমে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের আরও চারজন উপস্থিত ছিলেন। এরপর তারা শুরুতে তাদের সাথে বেয়াদবি করেছি বলে আমাদের বকা দিতে থাকেন।

‘একপর্যায়ে সিফাত এবং মাহমুদ উত্তেজিত হয়ে যান। আমাদের দিকে রড, স্টাম্প নিয়ে তেড়ে আসেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত তাদের বাকি বন্ধুরা এই দুইজনকে ধরে রাখার চেষ্টা করে। এরপর তারা রড স্ট্যাম্প ফেলে দিয়ে আমাদেরকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন।’

‘ইনহেলার নিতে হবে জানালেও ছাড়েনি’

অভিযোগকারী আরিফুল বলেন, ‘একপর্যায়ে আমাদেরকে দেয়ালের সাথে গলা চেপে ধরেন সিফাত এবং মাহমুদ। আমার অ্যাজমা সমস্যা থাকার কারণে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ইনহেলার নিতে হবে জানালেও তারা আমাকে ছাড়েনি। এরপর আমি অসুস্থ হয়ে রুমেই শুয়ে পড়ি। এ সময় তারা আমাদের মা-বাবাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে।

‘চারটার সময় আমাদের রুম থেকে ছেড়ে দেয়। যাওয়ার সময় আজ (সোমবার) দুপুর ১২টার মধ্যে হল থেকে বের হয়ে না গেলে হত্যা করে হলের পানির ট্যাংকের পিছনে ফেলে দেবে বলেও হুমকি দেয়। ভয়ে আমরা রাতেই হল থেকে বের হয়ে যাই।’

আরিফ আরও বলেন, “আমাদের যখন রুম থেকে ডেকে নেয়া হচ্ছে, তখন আমি হল ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী ইমরান সাগর ভাইকে ফোন দিলে তিনি বলেন, ‘যাও, দেখো তারা কী বলে।’ অভিযুক্তরাও বলে, তারা ইমরান ভাইকে জানিয়েই আমাদের রুমে এসেছেন। এর থেকে ধারণা করছি আমাদের মারধরের ব্যাপারে ইমরান সাগর ভাইয়ের নির্দেশ ছিল।”

অন্য ভুক্তভোগী তরিকুল ইসলামও নিউজবাংলাকে ঘটনার বর্ণনা দেন। তার বর্ণনার সঙ্গে আরিফের বর্ণনা হুবহু মিলে যায়। তাদের কাছে ঘটনার সম্পূর্ণ অডিও রেকর্ড আছে বলেও জানান তরিকুল।

তরিকুল বলেন, ‘আমরা যখন তাদের রুম থেকে বের হচ্ছি শ্বাসকষ্টের কারণে বন্ধু আসিফের অবস্থা খারাপ ছিল। তাকে এক রকম টেনে টেনেই রুমে নিয়ে এসেছি। এরপর আমরা হল থেকে বের হয়ে যাই।

‘সে সময় আমরা প্রক্টর (অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী) স্যারকে ফোন দিই। খুব ভোর হওয়ায় হয়তো তিনি ফোন রিসিভ করতে পারেননি। এরপর ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত লিখে মেসেজ দিই। তবে তিনি এখন (বেলা ১২টা) পর্যন্ত মেসেজের উত্তর দেননি।’

অভিযুক্তদের ভাষ্য

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সিফাত উল্লাহ ঘটনার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘কাল (রোববার) সারা রাত আমি আমার রুমে ঘুমিয়েছিলাম। যাদের কথা বলছেন, তাদের আমি ভালোভাবে চিনিও না। তাদেরকে মারধর করার প্রশ্নই আসে না।

‘আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি করি। আমার রাজনীতি নষ্ট করার জন্য হয়তো তারা এসব বলছে।’

অভিযুক্ত অন্য শিক্ষার্থী মাহমুদ অর্পণকে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেগুলো রিসিভ হয়নি। মোবাইলে খুদেবার্তা পাঠালেও তার উত্তর আসেনি।

এ বিষয়ে হল ছাত্রলীগের উপ দপ্তর সম্পাদক ইমরান সাগর বলেন, ‘এটি তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত বিষয়। এটির সাথে ছাত্রলীগ বা আমার গ্রুপের কোনো সংযুক্তি নেই।’

মারধরের আগে আরিফুলের ফোনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো সিনিয়র যদি জুনিয়রকে ডাকে তখন আমি তো নিষেধ করতে পারি না। তাই তাদেরকে অর্পণ এবং সিফাতের রুমে যেতে বলেছি।

‘তবে মারধরের বিষয়টি যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে হল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেবে, সেখানে আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।’

ফোনে পাওয়া যায়নি প্রাধ্যক্ষকে

ঘটনার বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মকবুল হোসেন ভূঁইয়াকে একাধিকবার কল করলেও সেগুলো রিসিভ হয়নি। মোবাইলে খুদেবার্তা পাঠালেও তার উত্তর আসেনি।

মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে ফোন না ধরার অভিযোগ নতুন নয়। অভিযোগ আছে, তিনি শিক্ষার্থীদের ফোনও রিসিভ করেন না।

আরও পড়ুন:
একটি প্রশ্নে ভুল করেছেন ঢাবির ‌‌‘ক’ ইউনিটে প্রথম সিয়াম
ঢাবির বর্তমান-সাবেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল
ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে
ঢাবির ‘ক’ ইউনিটে ফেল ৮৯ শতাংশ
ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে: খালেদা প্রসঙ্গে কাদের

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে: খালেদা প্রসঙ্গে কাদের

নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

কাদের বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ। আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা আগেও বলেছি, বিদেশ থেকে ডাক্তার নিয়ে আসুন। আইনের কারণেই আমরা অপারগ। এটাই একটি মাত্র কারণ। তারপরও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার সকালে নবাবগঞ্জ পার্কে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিট সম্মেলনে তিনি বিএনপির নেত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়েও কথা বলেন।

কাদের বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ। আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা আগেও বলেছি, বিদেশ থেকে ডাক্তার নিয়ে আসুন। আইনের কারণেই আমরা অপারগ। এটাই একটি মাত্র কারণ। তারপরও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমরা বেগম জিয়ার মৃত্যু কামনা করি না। তিনি দ্রুত আরোগ্য লাভ করুক এটা আমরা চাই, কিন্তু সবকিছুর একটা নিয়ম আছে। আইনমন্ত্রী বলেছেন। এরপর এ বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না।’

এ জন্য বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যাকে মারতে চেয়েছেন (শেখ হাসিনা) তিনিই মানবিক হয়েছেন খালেদা জিয়ার প্রতি, কিন্তু আপনারা তার পিতাকে হত্যা করেছেন আর তাকে হত্যা করার জন্য গ্রেনেড হামলা করেছেন।’

বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনীতি করছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে নিয়ে এত মায়া কান্না। বেগম জিয়ার মামলা ৭ বছর তারা ঝুলিয়ে রেখেছে, কিন্তু এখন তার জন্য তারা মায়া কান্না কাঁদে। বেগম জিয়া যদি বেশি অসুস্থ হন তাহলে তার জন্য দায়ী বিএনপি। বিএনপি খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে যত কথা বলেছে, তার চেয়ে বেশি রাজনীতি করেছে।’

এ সময় ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর ও ২১ আগস্ট ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন ওবায়দুল কাদের। এসব ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন তিনি।

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘বিএনপি নেতারা আন্দোলনের ডাক দিয়ে ঘরে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখে। বিএনপি নেতারাই মাঠে নামে না। আর টেলিফোনে খবর নেয়, পুলিশের গতিবিধি কেমন।’

‘বেসরকারি বাস মালিকদের অনুরোধ করেছেন নেত্রী’

শিক্ষার্থীদের জন্য বাস ভাড়া হাফ দাবির প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘তারা হাফ ভাড়া দাবি করেছে। সরকারের কাছে বিআরটিসি ছিল। নেত্রী বলেছেন, বিআরটিসি ৫০ শতাংশ করে দাও। আমরা ভাড়া মওকুফ করেছি। দাবি অনুসারে ঢাকা সিটিতে কনসেশন দেয়ার কথা, নেত্রী বললেন সারা দেশেই দাও। নেত্রী নিজে অনুরোধ করেছেন বেসরকারি বাস মালিকদের, আমিও করেছি।’

বাস মালিকদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাস মালিকদের আমি বলছি, এটার সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে। ছাত্ররা কনসেশন বহু আগে থেকেই পেতো। আমি আশা করি, এ বিষয়ে আপনারা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা ছাত্রদের রাস্তায় দেখতে চাই না। তারা ক্যাম্পাসে ফিরে যাক। তাদেরকেও ফখরুল সাহেবরা সাপোর্ট করার নামে উসকানি দিচ্ছেন।’

ইউপি নির্বাচনে ভোটের উপস্থিতিতে রেকর্ড

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যাপক উৎসব-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘৭০ থেকে ৭৫ ভাগ ভোট কেন্দ্রে গিয়েছে। মহিলারা ভোর থেকে তারা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। উৎসব মুখর একটা নির্বাচন হচ্ছে। অথচ, কিছু বুদ্বিজীবী ও রাজনীতিক যে বলেন, মানুষ নাকি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।’

এ সময় ভাল আচরণ দিয়ে মানুষের মন জয় করার জন্য তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বলেন, ‘মানুষের মন জয় করতে হলে ভাল আচরণ দিয়ে জয় করতে হবে। মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে সরকারের অর্জন ম্নান হয়ে যাবে।

‘মনে রাখবেন একটা খারাপ আচরণ দশটা উন্নয়নকেও ঢেকে দিতে পারে। মানুষকে অখুশি করলে, ক্ষমতার দাপট দেখালে মানুষ হয়তো এখন আপনাদের ভয় করবে, কিন্তু নির্বাচন যখন হবে ব্যালটের মধ্যে শাস্তি দিয়ে দেবে। নির্বাচনে খারাপ ব্যবহারের শাস্তি পেতে হবে।’

দলের কিছু নেতা-কর্মীদের অপকর্মের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের সব অর্জন ম্নান হয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগ আসে, সন্ত্রাস, জমি দখল, বাড়ি দখলের অভিযোগ আসে, মাদক ব্যবসা অভিযোগ আসে। এসব অপকর্ম আমাদের দলের উন্নয়নকে ম্নান করে দিচ্ছে। নেত্রী এত উন্নয়ন করেন, তারাই সব ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

ইউনিট সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহম্মেদ মান্নাফি ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
একটি প্রশ্নে ভুল করেছেন ঢাবির ‌‌‘ক’ ইউনিটে প্রথম সিয়াম
ঢাবির বর্তমান-সাবেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল
ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে
ঢাবির ‘ক’ ইউনিটে ফেল ৮৯ শতাংশ
ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে

শেয়ার করুন

ভোটে হেরে ‘ফেরত নিলেন’ অনুদানের কম্বল

ভোটে হেরে ‘ফেরত নিলেন’ অনুদানের কম্বল

পরাজিত সদস্য প্রার্থী রমেছা খানম তার দেয়া অনুদানের কম্বল ফেরত নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

কম্বল পাওয়া অনু মিয়া বলেন, ‘যে কাজটি রমেছা খানম করলেন তা এলাকাবাসী দেখলেন। গরিবদের প্রতি তার অবিচার আগে থেকেই। এ জন্য তার পক্ষে নির্বাচন করিনি। এ কারণেই তিনি আজ সকালে (সোমবার) এসে সব কম্বল নিয়ে গেছেন।’

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ভোটে হেরে যাওয়ায় চারজনকে দেয়া অনুদানের কম্বল ফিরিয়ে নিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী রমেছা খানম। ওই চারজন এমন অভিযোগ করেছেন।

তারা বলছেন, রমেছার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ও সেই প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় ক্ষেপে গিয়ে রমেছা এ কাজ করেছেন।

রমেছা খানম সহদেবপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের সদস্য থাকাকালে দুই বছর আগে ইউপির অনুদানের টাকায় একটি করে কম্বল দেন আকুয়া গ্রামের মকবুল হোসেন, অনু মিয়া, মো. সংকু ও মো. বংকুকে। তারা চারজন ভাই।

ওই আসনের জন্য এবার রমেছার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জোসনা বেগম। ভোটে জয় হয় জোসনার। কম্বল পাওয়া চার ভাইয়ের বাড়ি জোসনার বাড়ির পাশেই। তারা জোসনার পক্ষে নির্বাচনে কাজও করেছেন বলে জানান।

এর মধ্যে মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার পাশের বাড়ির জোসনা বেগম এ বছর নির্বাচন করলে আমরা তার পক্ষে কাজ করি। এ জন্য রমেছা আমাদের দেয়া কম্বলগুলো নিয়ে গেছেন।’

অনু মিয়া বলেন, ‘যে কাজটি রমেছা খানম করলেন তা এলাকাবাসী দেখলেন। গরিবদের প্রতি তার অবিচার আগে থেকেই। এ জন্য তার পক্ষে নির্বাচন করিনি। এ কারণেই তিনি আজ সকালে (সোমবার) এসে সব কম্বল নিয়ে গেছেন।’

অভিযোগ সত্য কিনা জানতে রমেছা খানমকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে পারব না।’

আরও পড়ুন:
একটি প্রশ্নে ভুল করেছেন ঢাবির ‌‌‘ক’ ইউনিটে প্রথম সিয়াম
ঢাবির বর্তমান-সাবেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল
ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে
ঢাবির ‘ক’ ইউনিটে ফেল ৮৯ শতাংশ
ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে

শেয়ার করুন

খালেদা ইস্যুতে কূটনৈতিকদের অবস্থান জানাল সরকার

খালেদা ইস্যুতে কূটনৈতিকদের অবস্থান জানাল সরকার

ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা বলেছি, সরকার এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করছে না। তিনি একজন বন্দি তাই আইনানুযায়ী তার বিষয়টি দেখভাল করা হচ্ছে। দেশের যে কোনো স্থানেই তিনি চিকিৎসা নিতে পারেন। বিদেশে থাকা কোনো চিকিৎসক যদি মনে করেন তবে তিনি চিকিৎসা দিতে দেশে আসতে পারেন।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে সরকারের অবস্থান বিদেশি কূটনৈতিকদের কাছে স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সোমবার অর্ধশতাধিক রাষ্ট্রদূত ও তাদের প্রতিনিধিদের ব্রিফ করেন তিনি।

এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে আলোচ্য বিষয়গুলো তুলে ধরেন একে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা বলেছি, সরকার এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করছে না। তিনি একজন বন্দি তাই আইনানুযায়ী তার বিষয়টি দেখভাল করা হচ্ছে। দেশের যে কোনো স্থানেই তিনি চিকিৎসা নিতে পারেন।

‘কিন্তু তিনি যদি বিদেশে যেতে চান তাহলে এরজন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এরজন্য আমরা আশা করি, তার ক্ষেত্রেও আইনি প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করা হবে। তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশ থেকে যে কোনো চিকিৎসককেই আনতে পারেন। তার সব মেডিক্যাল রিপোর্টগুলো বিদেশে পাঠানো হয়েছে। বিদেশে থাকা কোনো চিকিৎসক যদি মনে করেন তবে তিনি চিকিৎসা দিতে দেশে আসতে পারেন।’

আরও পড়ুন:
একটি প্রশ্নে ভুল করেছেন ঢাবির ‌‌‘ক’ ইউনিটে প্রথম সিয়াম
ঢাবির বর্তমান-সাবেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল
ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে
ঢাবির ‘ক’ ইউনিটে ফেল ৮৯ শতাংশ
ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে

শেয়ার করুন

চর দখলের মতো ইউপি নির্বাচনে কেন্দ্র দখল: জি এম কাদের

চর দখলের মতো ইউপি নির্বাচনে কেন্দ্র দখল: জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বক্তব্য দেন জি এম কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

জি এম কাদের বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যেভাবে সহিংসতা হচ্ছে তা সভ্য সমাজে মেনে নেয়া যায় না। ইউপি নির্বাচনে চর দখলের মতো কেন্দ্র দখলের মহড়া হচ্ছে। পাল্টাপাল্টি হামলা আর খুনোখুনিতে ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে গ্রামাঞ্চলে। দেশের মানুষ খুনোখুনির নির্বাচন চায় না। কোথাও কোথাও নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেয়া হচ্ছে- এমন অভিযোগও রয়েছে।’

গত তিন ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চর দখলের মতো কেন্দ্র দখলের মহড়া চলেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

সোমবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ের বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার (বিপিইউএম) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এ অভিযোগ তোলেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যেভাবে সহিংসতা হচ্ছে তা সভ্য সমাজে মেনে নেয়া যায় না। ইউপি নির্বাচনে চর দখলের মতো কেন্দ্র দখলের মহড়া হচ্ছে। পাল্টাপাল্টি হামলা আর খুনোখুনিতে ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে গ্রামাঞ্চলে।

‘দেশের মানুষ খুনোখুনির নির্বাচন চায় না। কোথাও কোথাও নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেয়া হচ্ছে- এমন অভিযোগও রয়েছে।’

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি ব্যর্থ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সামনে অস্ত্রের মহড়া দেখে সাধারণ মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছে।’

আগামী নির্বাচনগুলো যেন অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর হয়, সে জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান জি এম কাদের।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফকরুল ইমাম, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়াসহ বিপিইউএম নেতারা।

আরও পড়ুন:
একটি প্রশ্নে ভুল করেছেন ঢাবির ‌‌‘ক’ ইউনিটে প্রথম সিয়াম
ঢাবির বর্তমান-সাবেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল
ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে
ঢাবির ‘ক’ ইউনিটে ফেল ৮৯ শতাংশ
ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে

শেয়ার করুন

সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পায়: রিজভী

সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পায়: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘সরকার গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। এ কারণে খুনের আসামির সাজা মাফ করলেও খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলছে না।’

খুনের আসামির সাজা মওকুফ হলেও গণতন্ত্রের নেত্রীর মুক্তি মিলছে না মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেন, এর কারণ সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পায়।

রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে সোমবার দুপুরে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সরকার গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। এ কারণে খুনের আসামির সাজা মাফ করলেও খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলছে না।’

রিজভী বলেন, ‘দল-মত নির্বিশেষে সবাই খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি তুলছে, কিন্তু অবৈধ সরকার কোনো কিছুতেই কর্ণপাত করছে না। ফ্যাসিবাদের রূপ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে তারা। দয়া, মানবতা বলতে কিছু নেই তাদের। এর মধ্য দিয়ে সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পাওয়ার মৌলিক অধিকার হরণ করেছে।’

খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেয়ার দাবি জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে এই মুহূর্তে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়া প্রয়োজন।’

এ সময় মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানান রিজভী।

অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ফিরোজসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
একটি প্রশ্নে ভুল করেছেন ঢাবির ‌‌‘ক’ ইউনিটে প্রথম সিয়াম
ঢাবির বর্তমান-সাবেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল
ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে
ঢাবির ‘ক’ ইউনিটে ফেল ৮৯ শতাংশ
ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে

শেয়ার করুন

ভাগনে চেয়ারম্যান, আনন্দ আয়োজনে মামার মৃত্যু

ভাগনে চেয়ারম্যান, আনন্দ আয়োজনে মামার মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ভাগনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় রঙ মেখে আনন্দ করার সময় মামার মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বাড়াদি ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনে জয়লাভ করায় সোমবার সকালে এলাকাবাসীর সঙ্গে আনন্দ করছিলেন আমার ছোট মামা। সবাই মিলে রং মাখামাখি করে আনন্দ করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ভাগনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় রং মেখে আনন্দ করার সময় মামার মৃত্যু হয়েছে।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত ইকার উদ্দিন মালিথার বাড়ি আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদি ইউনিয়নের অনুপনগর গ্রামে। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য।

বাড়াদি ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন বলেন, ‘রোববার তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে বাড়াদি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী (মোটরসাইকেল) হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। নির্বাচনে জেতায় সোমবার সকালে এলাকাবাসীর সঙ্গে আনন্দ করছিলেন আমার ছোট মামা।

‘এ সময় তিনি তার দোকান থেকে এলাকার সবাইকে চকলেট-বিস্কুট খাওয়াতে থাকেন। সবাই মিলে রং মাখামাখি করে আনন্দ করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রিয়াসাদ জামান তুলন জানান, হাসপাতালে নেয়ার আগেই বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকার উদ্দিনের মৃত্যু হয়। তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
একটি প্রশ্নে ভুল করেছেন ঢাবির ‌‌‘ক’ ইউনিটে প্রথম সিয়াম
ঢাবির বর্তমান-সাবেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল
ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে
ঢাবির ‘ক’ ইউনিটে ফেল ৮৯ শতাংশ
ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে

শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ফাইল ছবি

সোমবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে মামলাটি করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ওমর ফারুক আসিফ।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বহিষ্কৃত মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা হয়েছে।

সোমবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে মামলাটি করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ওমর ফারুক আসিফ।

মামলার বাদী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক আসিফ।

আদালত বাদীর জবানবন্দি নিয়ে আগামী ৬ জানুয়ারির মধ্যে সিআইডিকে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দিয়েছে।

মামলার বাদী ওমর ফারুক আসিফ বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল রোববার একই আদালতে আবেদন জমা দিলে বিচারক বাদিকে থানায় মামলা করার কথা বলেন।

তবে সোমবার বাদির জবানবন্দি নিয়ে সিআইডিকে মামলা তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দেন বিচারক।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, জাহাঙ্গীর আলম স্বাধীন বাংলার স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। আসামির বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা সম্পর্কে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, ঘৃণ্য, চরম অসত্য বক্তব্যে দেশের প্রতিটি নাগরিক তথা সমগ্র বাঙালি জাতি স্তম্ভিত এবং হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তার এরূপ বক্তব্য সকল ডিজিটাল মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচার ও প্রকাশিত হয়। যা ভাইরাল হয়ে যায়।

আসামি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা সম্পর্কে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, ঘৃণ্য, চরম অসত্য প্রপাগান্ডা করে এবং প্রচার করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপরাধ করেছেন।

মামলা করার বিষয়ে বাদী এজাহারে বলে, গত ২২ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার কিছু আছে ভাইরাল হওয়া অডিও/ভিডিও শোনেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন কর্মী এবং স্বাধীন বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা সম্পর্কে আসামির এরূপ ঔদ্ধত্যপূর্ণ, ঘৃণ্য, চরম অসত্য বক্তব্যে স্তম্ভিত, মর্মাহত হয়ে মামলাটি করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়।

১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। এরপর ২৫ নভেম্বর তাকে মেয়র পদ থেকেও বহিষ্কার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এর আগে বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধূকে নিয়ে কটূক্তি করায় রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও পঞ্চগড়েও মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
একটি প্রশ্নে ভুল করেছেন ঢাবির ‌‌‘ক’ ইউনিটে প্রথম সিয়াম
ঢাবির বর্তমান-সাবেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল
ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে
ঢাবির ‘ক’ ইউনিটে ফেল ৮৯ শতাংশ
ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের ফল জানবেন কীভাবে

শেয়ার করুন