অপরিকল্পিত নগরায়ণে বাড়ছে ঝুঁকি

অপরিকল্পিত নগরায়ণে বাড়ছে ঝুঁকি

অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে ব্যাহত হয় নাগরিক সেবা। ছবি: সংগৃহীত

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনামাফিক নগরায়ণের বিকল্প নেই। তা না হলে এর সুফল জনগণ ভোগ করতে পারবে না। এমন বাস্তবতায় আজ (৮ অক্টোবর) বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব নগরায়ণ দিবস’।

সময়ের সঙ্গে বাড়ছে নগরায়ণের পরিধি। গ্রামেও পড়ছে শহরের ছাপ। বদলে যাচ্ছে সবকিছু। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নগরায়ণ যেমন জীবন মান উন্নত করছে, তেমনি ডেকে আনছে নানা ঝুঁকি। কারণ একটাই, নগরায়ণে নেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনামাফিক নগরায়ণের বিকল্প নেই। তা না হলে এর সুফল জনগণ ভোগ করতে পারবে না। এমন বাস্তবতায় আজ (৮ অক্টোবর) বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব নগরায়ণ দিবস’।

দেশে নগরায়ণের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আফসানা হক বলেন, ‘উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় নগরায়ণ হবেই। তবে অপরিকল্পিত কোনো কিছুই ভালো না। অপরিকল্পিত নগরায়ণের অসুবিধা আমরা ঢাকা শহরে যারা বাস করছি, তারা কিছুটা হলেও ভোগ করছি।

তার মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে রাস্তাঘাটে চলাচলের অসুবিধা, বাসাবাড়িতে থাকার অসুবিধার পাশাপাশি গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততা, শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা পাওয়াও বাধাগ্রস্ত হয়।

নগরায়ণের অসুবিধা দূর করে সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে কোন বিষয়ের ওপর জোর দেয়া দরকার- এমন প্রশ্নে আফসানা হক বলেন, এটির দ্রুত কোনো সমাধান নেই। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ারও অনেক ধাপ আছে। এটির জন্য তিনটি লেভেলে পরিকল্পনা প্রয়োজন।

তার মতে, পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য একটি জাতীয় পরিকল্পনা থাকতে হবে, যেখানে পলিসি গাইডলাইন থাকবে। এরপর রিজিওনাল লেভেলের পরিকল্পনা, যেটি বিভাগভিত্তিক হতে পারে। আর এই পরিকল্পনা অবশ্যই জাতীয় পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই করতে হবে। সবশেষ রিজিওনাল লেভেলের পরিকল্পনার আওতায় লোকাল লেভেলের পরিকল্পনা প্রয়োজন।

পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিতে একই সুরে কথা বললেন নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে। সেটা পরিকল্পিতভাবেও না, কাঙ্ক্ষিতভাবেও না। আমাদের নগরায়ণ হচ্ছে আর্থ-সামাজিক প্রয়োজনে। যাকে পরিকল্পিত নগরায়ণ বলা যায় না। এতে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।’

অপরিকল্পিত নগরায়ণের ইতিবাচক দিক থেকে নেতিবাচক দিকই বেশি। ফলে জলবায়ুতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কার্বন ডাই-অক্সাইড বেশি নির্গমণ হয় বলে উষ্ণতা বাড়ে। জলবায়ু পরিবর্তন যেটা হচ্ছে, এর কারণে শহরে মানুষ ভিড় করছে। আর শহরে হচ্ছে কনক্রিটের জঙ্গল। প্রচুর গাছপালা না থাকলে উষ্ণায়ন বৃদ্ধি পায়।

দেশের চলমান নগরায়ণকে অপরিকল্পিত মনে করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর এবং আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. মুসলেহ উদ্দীন হাসান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সব জায়গায় অর্থনৈতিক কাজ হচ্ছে। সব জায়গায় ছোপ ছোপ উন্নয়ন হচ্ছে। আর এটিই উন্নয়নের বদলে উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। উদাহরণ হিসেবে যদি বলি, যদি আমি বলি সব জায়গায় খাবারের পানি দিতে হবে। আর গ্রাহকরা যদি দূরে দূরে থাকে, তাহলে এই সার্ভিস দিতে গেলে সার্ভিস খরচ বেশি পড়ে যাবে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে ছোপ ছোপ উন্নয়ন বা ঢাকা শহরের চারপাশে যে যার মতো হাউজিং নিয়ে কাজ করছে। এই অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সার্ভিস কস্ট বেড়ে যাচ্ছে।’

সামাজিক দিক থেকেও পরিকল্পিত নগরায়ণ দরকার বলে মনে করেন মুসলেহ উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে নগরের মুষ্টিমেয় কিছু লোক নগরের সুবিধা ভোগ করবে। অন্যরা কেউ পাবে না। যেমন- পরিবহনের ক্ষেত্রে কার ব্যবহারকারীরা সুবিধা পাচ্ছে৷ আবার অনেকের জমি আছে, কিন্তু বাড়ি করতে পারছেন না, কারণ সেখানে একসেস নেই। এ জন্যই পরিকল্পিত নগরায়ণ দরকার। কোভিড ইসুটাও আমাদের পরিকল্পিত নগরায়ণের গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়েছে।

‘পরিকল্পিত নগরায়ণ বলতে কোন জায়গায় কী হবে সেটি নয়; বরং এই বিন্যাসগুলো আমাদের স্বাস্থ্যসম্মত হতে হবে। অনুক্রমিক (Hierarchical) নগরায়ণ। অর্থাৎ সব জায়গায় সব দেয়ার দরকার নেই, কিন্তু একটি অনুক্রম থাকবে। ছোট ফ্যাক্টরি ছোট শহরে আর বড় ফ্যাক্টরি বড় শহরে। এই অনুক্রম আমাদের বজায় রাখতে হবে। আমাদের জমির ব্যবহার ভালো করতে হবে। পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে। দরিদ্র মানুষ বা সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সবার জন্য যে সুবিধা প্রয়োজন সে সুবিধা দিতে হবে। এসব মিলিয়েই আমরা পরিকল্পিত নগরায়ণ বলতে পারি।’

বাংলাদেশে জাতীয় নগরায়ণ পলিসি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় নগরায়ণ পলিসি নেই। প্রথমে আমাদের এটি করতে হবে। আমাদের অনেক আইন আছে, কিন্তু আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং অ্যাক্ট নেই। অনেক আগে একটি ড্রাফট করা হয়েছিল, কিন্তু এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আমাদের নগরগুলোর সরকারব্যবস্থায় অপূর্ণতা আছে। বড় শহরের জন্য সিটি করপোরেশন রয়েছে। এরপর জেলা শহরগুলোকে দেখার জন্য আলাদা কোনো বডি নেই।

‘তবে সেখানে মিউনিসিপালিটি আছে, কিন্তু এটির ক্ষমতা রাজউক, সিডিএ বা কেডিএর মতো না। এরা মূলত প্রশাসনিক বিষয়গুলো দেখতে পারে। আর সরকার যখন যে পরিকল্পনা নেয় সেটি বাস্তবায়ন করে, কিন্তু শহরটার পরিকল্পনা তাদেরই করতে হবে। সেটি করার সক্ষমতা তাদের নেই। এ ছাড়া ইউনিয়ন বা গ্রামপর্যায়ে ভূমির ছোটখাটো যে পরিবর্তন বা উন্নয়ন হচ্ছে, এগুলোর জন্য কোনো বডি নেই।’

অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে জলবায়ুতে বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করতে হয়। এ ছাড়া যত্রতত্র ভবন গড়ে ওঠায় নাগরিক সুবিধা যেমন সংকুচিত হয়, তেমনি ভবনগুলোতে থাকে না অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

২০১৭ ও ২০১৮ সালে রাজধানীর ভবনগুলোর অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে ২ হাজার ৬১২টি ভবনে জরিপ চালায় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স। জরিপে দেখা যায়, মাত্র ৭৪টি ভবনে যথাযথ অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা রয়েছে। ২ হাজার ৪৪৮টি ভবনে অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থাই নেই এবং বাকি ৯০টি ভবনে রয়েছে অল্পস্বল্প ব্যবস্থা।

অপরিকল্পিত নগরায়ণে মনস্তত্ত্বে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মাহফুজা খানম।

তিনি বলেন, নগরায়ণের ফলে জীবনযাত্রা অনেক বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো কম হয়, এতে পারিবারিক বন্ধন কমতে থাকে। মা-বাবা ব্যস্ত থাকায় সন্তানদের সঙ্গে তাদের বন্ধন সুদঢ় হয় না। যার ইমপেক্ট গিয়ে পড়ে সন্তানের আচার-আচরণে, চলাফেরায়।

নগরায়ণে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা কী ধরনের পরিবর্তন আসে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নগরায়ণের ফলে আমাদের গ্রামগুলো বদলে যাচ্ছে। ২০-২৫ বছর আগের গ্রাম আর এখনকার গ্রাম কিন্তু এক নয়। নগরায়ণের ছোয়ায় আমাদের গ্রামের মানুষের সহজ-সরল জীবন কিন্তু খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারণ তাদের চলাফেরা, চালচলন, কথা বার্তায় ও কালচার সব কিছুতে নগরায়ণের প্রভাব পড়ছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দিন ফুরায় টিসিবির ট্রাকের পেছনে লাইন ফুরায় না

দিন ফুরায় টিসিবির ট্রাকের পেছনে লাইন ফুরায় না

কারওয়ান বাজারে টিসিবির ট্রাকের পেছনে বুধবার সন্ধ্যায়ও ছিল ক্রেতার দীর্ঘ লাইন। ছবি: নিউজবাংলা

‘বাজারে দুই লিটার তেল কিনতেই ৩২০ টাকা লাগে, যা এখানে ২২০ টাকায় পাওয়া যায়। দুই লিটার তেল, দুই কেজি ডাল, তিন কেজি পেঁয়াজের প্যাকেজ ৪৩০ টাকা নিয়েছে। কষ্ট করে দুই দিন লাইনে দাঁড়ালে মাসের তেল, চিনি, ডাল, পেঁয়াজের জন্য আর ভাবতে হয় না।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ট্রেডিং করপোরেশন (টিসিবি) ভবনসংলগ্ন রাস্তায় বুধবার শেষ বিকেলেও দাঁড়িয়ে ছিল টিসিবির ট্রাক। সন্ধ্যা আসন্ন, অদূরে মসজিদের মাইকে মাগরিবের নামাজের আজান। তখনও ট্রাকের পেছনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় টিসিবির পণ্যে ঝুঁকছেন অপেক্ষাকৃত কিছুটা বাড়তি আয়ের মানুষও। অপেক্ষমাণ ক্রেতার সারিতে নিম্নবিত্তদের সঙ্গে আছেন মধ্যবিত্তসহ সরকারি চাকুরেরাও। দিন ফুরালেও টিসিসির ট্রাকের পেছনের লাইন যেন শেষ হয় না।

লাইনের পাশে দাঁড়ানো মাঝবয়সী নারী জুলি বেগম এসেছেন মগবাজার দিলু রোড থেকে। দুই হাতে টিসিবির বেশ কিছু পণ্য। দুই ছেলে-মেয়ে এমবিএ পড়ছে। সংসারের ‍কিছু টাকা সাশ্রয়ের জন্য টিসিবির পণ্য কিনেছেন বলে জানালেন অপেক্ষাকৃত অবস্থাপন্ন পরিবারের এই নারী।

জুলি বেগম বললেন, ‘সংসার চালানোর হিসাবটা তো আমাকেই রাখতে হয়। বাজারে দুই লিটার তেল কিনতেই ৩২০ টাকা লাগে, যা এখানে ২২০ টাকায় পাওয়া যায়। দুই লিটার তেল, দুই কেজি ডাল, তিন কেজি পেঁয়াজের প্যাকেজ ৪৩০ টাকা নিয়েছে। কষ্ট করে দুই দিন লাইনে দাঁড়ালে মাসের তেল, চিনি, ডাল, পেঁয়াজের জন্য আর ভাবতে হয় না।’

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তার জন্য নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সারা দেশে সাড়ে ৪০০ ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। ৪ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বরাবরের মতোই ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই উদ্যোগ। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছে মানুষ।

নারী ও পুরুষ পৃথক লাইন করে পণ্য বিক্রি করা হয়। পণ্য কমে আসছে শুনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষ চিৎকার শুরু করে। তাদের একজন আমেনা বলে ওঠেন, ‘আধা ঘণ্টা খাড়ায়া আছি। এহন কিছু নাই কইলে অইব? আমরা তো কিছু পাই নাই। আমগো মাল দিতে অইবো।’

এ সময় ট্রাকের বিক্রয়কর্মী সবুজ তাদের আশ্বস্ত করে বলেন- ‘পণ্য এখনো শেষ হয়নি, সবাই পাবেন। আজ চিনি একটু কম পাইছি, তাই শেষ গেছে। কাস্টমার বেশি, প্যাকেজ করে বিক্রি করতেছি। এতে সময়ও কম লাগে, কাস্টমারগো লাইনে বিশক্ষণ দাঁড়াইতেও হয় না। কেউ শুধু তেল, ডাল বা অন্য কিছু চাইলেও দিচ্ছি। সব বিক্রি করেই যাব। তবে মানুষ বেশি চায় তেল ও ডাল। এ দুটো পণ্য পরিমাণে বেশিও পাইছি।’

কারওয়ান বাজারেই একটা সরকারি অফিসে চাকরি করেন আসাদুর রহমান। অফিস শেষ করে রাস্তায় টিসিরি ট্রাক দেখে তিনিও দাঁড়িয়ে যান লাইনে। বলেন, ‘খরচ তো সবারই বেড়েছে। দুশ’ টাকা বাঁচলেও অনেক। বাসায়ই যাচ্ছিলাম, পথে কিছু কিনে নিলাম। বাসায় যেতে না হয় ২০ মিনিট দেরি হবে। টাকা তো কিছু বাঁচল। এখানে আমার দুই কলিগও আছে।’

চারটি পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি শুরু হয়েছে টিসিবি। জনপ্রতি প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকায় সর্বোচ্চ দুই কেজি, মসুর ডাল ৬০ টাকা দরে সর্বোচ্চ দুই কেজি, সয়াবিন তেল ১১০ টাকা দরে সর্বোচ্চ দুই লিটার আর পেঁয়াজ ৩০ টাকা দরে সর্বোচ্চ চার কেজি বিক্রি করা হয়। তবে ক্রেতার চাহিদা বুঝে পণ্য কমবেশি করেও বিক্রি হয়।

বেসরকারি চাকরিজীবী নজরুল বলেন, ‘বাজারে তেলের অনেক দাম। অফিস থেকে বের হয়ে দেখলাম ট্রাক। তাই তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ালাম। দুই লিটার তেল নিয়ে যাব। আরেকদিন এলে পুরো মাসের তেলের ভাবনা করতে হবে না।

ট্রাক থেকে একটু দূরে তিনটি প্যাকেট নিয়ে বসে থাকতে দেখা গেল অল্পবয়সী এক মেয়েকে। এগুলো কার প্রশ্ন করতেই লাইনে দাঁড়ানো মাঝবয়সী এক নারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘বাবা কী করমু, প্রত্যেক দিন তো আইতে পারি না, কাম থাকে। তাই ছেলে-মেয়ে নিয়া এক লগে লাইনে দাঁড়াইছি। পুরা মাস যাতে আর আসন না লাগে।’

টিসিবি জানায়, দিনে প্রতি ট্রাকে ২০০ থেকে ৫০০ কেজি চিনি, ৩০০ থেকে ৬০০ কেজি মসুর ডাল, ৪০০ থেকে ৬০০ লিটার সয়াবিন তেল এবং ৫০০ থেকে এক হাজার কেজি পেঁয়াজ দেয়া হয়। ক্রেতার চাহিদা ‍বুঝে পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

শেয়ার করুন

আলালের কুশপুতুলে ছাত্রলীগ কর্মীদের আগুন

আলালের কুশপুতুলে ছাত্রলীগ কর্মীদের আগুন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করায় পদত্যাগী তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের পদত্যাগ ও শাস্তির দাবিতে বিএনপির নানা বক্তব্যের মধ্যে বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের একটি ‘কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ এনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেপ্তার ও তার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

বুধবার জবি ছাত্রলীগের সম্মেলন কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ হয়। মিছিল শেষে আলালের কুশপুতুলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে শুরু করে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। পরে ভিক্টোরিয়া পার্কের মোড় হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন নেতা-কর্মীরা। সেখানেই আলালেন কুশপুতুলে আগুন দেয়া হয়।

এরপর সেখানে ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর বিক্ষোভ মিছিলটি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এসে শেষ হয়।

মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তিকারী বিএনপি নেতা আলালকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানাচ্ছি।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করায় পদত্যাগী তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের পদত্যাগ ও শাস্তির দাবিতে বিএনপির নানা বক্তব্যের মধ্যে বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের একটি ‘কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে।

বিএনপি ঘরানার একটি আলোচনায় দলটির যুগ্ম মহাসচিব আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জড়িয়ে এমন একটি মন্তব্য করেন, যেটি জাইমাকে নিয়ে মুরাদ হাসানের করা মন্তব্যের প্রায় কাছাকাছি।

ব্যক্তিগত সম্পর্ক বিষয়ে অশালীন বক্তব্য ছাড়াও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও উসকানিমূলক বক্তব্য রাখেন আলাল।

এই ভিডিও পোস্ট করে বিএনপি নেতার শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আলালের বিরুদ্ধে বিএনপি কী ব্যবস্থা নেবে- সেই প্রশ্ন রেখেছেন ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারাও।

আলালের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

বিএনপি আলালের পক্ষেই আছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবৃতি দিয়ে তাদের দলের নেতার বক্তব্যকে ‘ন্যায়সঙ্গত সমালোচনা’ বলে দাবি করেছেন।

বিএনপির এমন প্রতিক্রিয়ার পর তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ দলটির সমালোচনা করে বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেন, কেউ অশোভন বক্তব্য করলে আওয়ামী লীগ সাজা দেয়, আর বিএনপি করে পুরস্কৃত।

শেয়ার করুন

গাড়ি চালিয়ে ভারত গেলেন প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার

গাড়ি চালিয়ে ভারত গেলেন প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার

প্রতিমন্ত্রী ১১ ডিসেম্বর কলকাতার সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফিফটি ইয়ার্স অফ ইনডিপেনডেন্টস অফ বাংলাদেশ’ বিষয়ে বক্তৃতা করবেন। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করবেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীর ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে ভারত গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

বুধবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সীমানায় প্রবেশ করেন তিনি।

সন্ধ্য়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিমন্ত্রী ১১ ডিসেম্বর কলকাতার সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফিফটি ইয়ার্স অব ইনডিপেনডেন্টস অফ বাংলাদেশ’ বিষয়ে বক্তৃতা করবেন।

এরপর তিনি কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক এ এস এম শামসুল আরেফীন সম্পাদিত Bangladesh @ 50 এবং সত্যম রায় চৌধুরী সম্পাদিত Bangabandhu for You বই দুটির মোড়ক উন্মোচন করবেন।

ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কারিগরি শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ূন কবীর।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক ও ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ-এর সভাপতি গৌতম ঘোষ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে এ এস এম শামসুল আরেফীন, ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশের সহসভাপতি সত্যম রায় চৌধুরী, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী, বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো ড. শ্রীরাধা দত্ত, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত সাংবাদিক মানস ঘোষ, কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিষ সূরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

শেয়ার করুন

আরেকটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

আরেকটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

প্রতীকী ছবি

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভারের বলিয়ারপুর থেকে নিমতলী-কেরানীগঞ্জ-ফতুল্লা-নারায়ণগঞ্জ বন্দর হয়ে লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত হবে এই এক্সপ্রেসওয়ে। এটির দৈর্ঘ্য হবে ৩৯ কিলোমিটার।

রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে আরেকটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। এটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প’।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার। ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সেতু বিভাগ।

বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটি নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভা পরিষদের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভারের বলিয়ারপুর থেকে নিমতলী-কেরানীগঞ্জ-ফতুল্লা-নারায়ণগঞ্জ বন্দর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত হবে এই এক্সপ্রেসওয়ে। এটির দৈর্ঘ্য হবে ৩৯ কিলোমিটার।

কবে নাগাদ ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এখন এটি টেন্ডারে দেয়া হবে।’

টেন্ডারে দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। সে জন্য তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে।

সেতু বিভাগ বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম-সিলেটসহ দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর যানবাহন ঢাকা শহরে প্রবেশ না করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ২০টি জেলায় সরাসরি চলাচল করতে পারবে। এর ফলে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট অনেকাংশে কমে আসবে।

ইস্ট-ওয়েস্ট এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বিষয়ে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের সর্ববৃহৎ ও ঘনবসতিপূর্ণ নগর ঢাকায় জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচলের জন্য ঢাকা শহরের বিদ্যমান সড়ক নেটওয়ার্ক প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

বিশেষত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং চট্টগ্রাম-সিলেটসহ পূর্বাঞ্চলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করতে হলে ঢাকা শহরে প্রবেশ করতে হয়। এর ফলে ঢাকা মহানগরে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এই যানজট নিরসনে আলোচ্য প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সেতু বিভাগ বলেছে, ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালে ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে। প্রস্তাবিত এক্সপ্রেসওয়েটি ‘রিভাইজড স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (আরএসটিপি)’-এ উল্লিখিত আউটার রিং রোডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার উপজেলার বলিয়ারপুর থেকে শুরু হয়ে কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর উপজেলা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁও উপজেলার লাঙ্গলবন্দে শেষ হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩১৬ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। এই জমির দাম, স্থাপনা ও অন্যান্য ক্ষতিপূরণ সরকারি খাত থেকে দেয়া হবে। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় বিদ্যমান পরিষেবাগুলো স্থানান্তরের ব্যয়ও সরকারি তহবিল থেকে করা হবে।

শেয়ার করুন

কক্সবাজারের ডিসিকে হাইকোর্টে তলব

কক্সবাজারের ডিসিকে হাইকোর্টে তলব

২০১৯ সালে কক্সবাজারের বিমানবন্দরের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে সেখানের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমানের ১৫ শতক জমিও ছিল, যার দাম ছিল প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। সেই ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝে না পাওয়ায় জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন দেন মাহবুবুর। কিন্তু সেই আবেদনের নিষ্পত্তি করেননি তিনি। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসককে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

আদালতের আদেশ উপেক্ষা করায় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদকে তলব করেছে হাইকোর্ট।

আগামী ১৩ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় ডিসিকে মামলার নথি আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আঞ্জুমান আরা লীমা, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।

আইনজীবী লীমা সাংবাদিকদের জানান, ২০১৯ সালে কক্সবাজারের বিমানবন্দরের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে সেখানের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমানের ১৫ শতক জমিও ছিল, যার দাম ছিল প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা।

সেই ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝে না পাওয়ায় জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন দেন মাহবুবুর। আবেদনটি নিষ্পত্তি না করায় হাইকোর্টে রিট করা হয়। শুনানিকালে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের লিখিত ব্যাখ্যা চায় আদালত। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কয়েকবার যোগাযোগ করলেও জেলা প্রশাসকের সাড়া মেলেনি। এরপর বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবীরা।

আদালত এই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত জেলা প্রশাসককে হাজির হতে নির্দেশ দেয় বলে জানান আইনজীবী লীমা। জানান, আগামী ১৩ ডিসেম্বর তাকে আদালতে হাজির হয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা না দেয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে

শেয়ার করুন

বিমানযাত্রীর পেটে মিলল ২ হাজার ইয়াবা

বিমানযাত্রীর পেটে মিলল ২ হাজার ইয়াবা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ফাইল ছবি

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ‘সঞ্জয় কুমার নামে এক যাত্রীকে দেখে সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পাকস্থলীতে ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করেন। পরে ওই ব্যক্তি প্রাকৃতিক কার্যের মাধ্যমে ২ হাজার ৩৫ পিস ইয়াবা বের করে আনেন।’

পেটের ভেতর ইয়াবা বহনকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের এক যাত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তার পাকস্থলী থেকে বের করা হয়েছে ২ হাজার ৩৫ পিস ইয়াবা।

বুধবার কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসা একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট থেকে ওই যাত্রীকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক।

তিনি বলেন, সঞ্জয় কুমার নামে নভোএয়ারের VQ 934 ফ্লাইটের এক যাত্রীকে দেখে সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে তিনি মাদকসংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেন। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি পাকস্থলীতে ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করেন। এক্স-রে পরীক্ষা করলে তার পাকস্থলীতে ইয়াবার অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই প্রাকৃতিক কার্যের মাধ্যমে ২ হাজার ৩৫ পিস ইয়াবা বের করে আনেন।

যাত্রী সঞ্জয় কুমার জানান, তিনি কক্সবাজারের শফিকের কাছ থেকে এই ইয়াবা সংগ্রহ করেন এবং ঢাকায় মো. আরমান নামে এক ব্যক্তিকে ইয়াবার এই চালান পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল।

ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

আবরার হত্যার রায়ে ন্যায়বিচার হয়েছে: আইনমন্ত্রী

আবরার হত্যার রায়ে ন্যায়বিচার হয়েছে: আইনমন্ত্রী

রাজধানীর গুলশানে নিজ কার্যালয়ে বুধবার আবরার হত্যা মামলার রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ছবি: নিউজবাংলা

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আবরার হত্যা মামলার রায়ে প্রকৃত ও ন্যায়বিচার করা হয়েছে৷ রাষ্ট্রপক্ষ অক্লান্ত পরিশ্রম করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করায় ধন্যবাদ জানাই।’

বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায়ে ন্যায়বিচার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

রাজধানীর গুলশানে নিজ কার্যালয়ে বুধবার বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বহুল আলোচিত আবরার হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আদালত। একই সঙ্গে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

রায়ের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আবরার হত্যা মামলার রায়ে এটা প্রমাণ হয় যে, দেশে আইনের শাসন আছে।’

তিনি বলেন, ‘আবরার হত্যা মামলার রায়ে প্রকৃত ও ন্যায়বিচার করা হয়েছে৷ রাষ্ট্রপক্ষ অক্লান্ত পরিশ্রম করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করায় ধন্যবাদ জানাই।’

আনিসুল আরও বলেন, ‘এটা বোঝা যায় যে, অন্যায় করে দেদারসে আর ঘুরে রেড়ানো যাবে না।’

মন্ত্রী বলেন, বিচারিক আদালত থেকে হত্যা মামলার নথি উচ্চ আদালতে এলে দ্রুত পেপারবুক তৈরির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে।

ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর কামরুজ্জামান বুধবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে আবরার হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামিদের খুব বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা

মেহেদী হাসান রাসেল, অনিক সরকার ওরফে অপু, মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মাজেদুর রহমান ওরফে মাজেদ, মুজাহিদুর রহমান ওরফে মুজাহিদ, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম ওরফে তানভীর, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, শামীম বিল্লাহ, সাদাত ওরফে এ এস এম নাজমুস সাদাত, মুনতাসির আল জেমী, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, এস এম মাহমুদ সেতু, সামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মাহমুদুল জিসান ও মুজতবা রাফিদ।

তাদের সবার বয়স ২০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। মৃত্যুদণ্ড পাওয়াদের মধ্যে এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মোহাম্মদ মোর্শেদ উজ্জামান মণ্ডল ওরফে জিসান ও মুজতবা রাফিদ পলাতক আছেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন যারা

অমিত সাহা, ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না, আকাশ হোসেন, মুহতাসিম ফুয়াদ ও মোয়াজ ওরফে মোয়াজ আবু হোরায়রা। তাদের বয়স ২১ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে।

মামলার সময় পরিক্রমা

আবরারকে যে রাতে হত্যা করা হয়, তার পরের দিন ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর তার বাবা ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে।

পাঁচ সপ্তাহ তদন্ত করে তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান ওই বছরের ১৩ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে যে অভিযোগপত্র জমা দেন, সেখানে আসামি করা হয় ২৫ জনকে।

অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গত ১৮ নভেম্বর পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। তাদের মধ্যে একজন পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে মামলাটি পরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ বদলির আদেশ দেয়া হয়। বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলাটির বিচারকাজ শুরু করেন।

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। দুই পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৪ নভেম্বর বিচারক এ মামলার রায়ের জন্য ২৮ নভেম্বর তারিখ রাখেন, তবে ওই দিন রায় লেখা বাকি থাকায় তারিখ পিছিয়ে ৮ ডিসেম্বর ঠিক করা হয়।

শেয়ার করুন