৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এল রিজার্ভ

৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এল রিজার্ভ

এই রিজার্ভ সাত মাসে সবচেয়ে কম। এ দিয়ে ছয় মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। অথচ দুই-আড়াই মাস আগেও দশ মাসের আমদানি খরচ মেটানোর রিজার্ভ ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে।

বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন (৪ হাজার ৫০০ কোটি) ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে, যা গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

এই রিজার্ভ দিয়ে ছয় মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। অথচ দুই-আড়াই মাস আগেও দশ মাসের আমদানি খরচ মেটানোর রিজার্ভ ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে।

হঠাৎ করে আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় রিজার্ভ কমছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতির বিশ্লেষক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের নিম্মগতি রিজার্ভ কমার আরও একটি কারণ বলে জানিয়েছেন তারা।

বেশ কয়েক বছর ধরে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। একের পর এক রেকর্ড হয়। মহামারি করোনাকালে আমদানিতে ধীরগতি আর রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের উর্ধ্বগতির কারণে গত ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে, যা ছিল অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে আকুর জুলাই-আগস্ট মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।

আমদানি বাড়ায় রিজার্ভ থেকে প্রয়োজনীয় ডলার চলে যাওয়ায় অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে তা ৪৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

রপ্তানি বাড়ায় গত এক মাসে তা খানিকটা বেড়ে ৪৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। বৃহস্পতিবার আকুর দেনা পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে আকুর দেনা পরিশোধের পর ৪৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। মার্চের শেষের দিকে তা আবার ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।

২৮ এপ্রিল রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে রিজার্ভ। তবে ৪ মে আকুর আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ফের ৪৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।

এক মাসেরও কম সময়ে ১ জুন তা আবার ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। জুন মাস শেষে সেই রিজার্ভ আরও বেড়ে ৪৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পর পর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়।

গত অক্টোবর মাসে ৭ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এ হিসাবে বর্তমানের রিজার্ভ দিয়ে ছয় মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে।

যখন ৪৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ ছিল, তখন পণ্য আমদানিতে মাসে ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের মতো খরচ হতো।

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেছেন, ‘আমদানি বাড়লে রিজার্ভ কমবে এটাই স্বাভাবিক। তবে, এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এখন সন্তোষজনক রিজার্ভ মজুদ আছে। আর আমদানি বাড়া তো ভালো। এতে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে। অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হবে। কর্মসংস্থান বাড়বে।’

তিনি বলেন ‘আমি আগেই বলেছিলাম রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন বেশি দিন থাকবে না। সেটাই হচ্ছে। এটাই স্বাভাবিক। মনে রাখতে হবে, অনন্তকাল ধরে প্রবাসীরা বেশি অর্থ দেশে পাঠাবেন, এটার কোনো কারণ নেই। তবে, ভালো খবর হচ্ছে, রপ্তানি আয় বাড়ছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার ধাক্কা সামলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোয় মূলধনি যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাাঁচামালসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। জ্বালানি তেল ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিও আমদানি খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে আমদানিতে রিজার্ভ থেকে আগের চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে। সে কারণেই রিজার্ভ কমছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে ৬৯৯ দশমিক ৬০ কোটি (৭ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে, যা এক মাসের হিসাবে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। আর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ১৮ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্সের চার মাসের তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ৭০৫ কোটি ৫০ লাখ (৭ দশমিক ০৫ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৮১ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এ হিসাবে এই চার মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ২০ শতাংশ।

তবে, রপ্তানি বাণিজ্যে বেশ উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। এই চার মাসে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ১৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।

আরও পড়ুন:
রিজার্ভ নিয়ে তথ্য জালিয়াতি করেছে সরকার: বিএনপি
রিজার্ভ নিয়ে আইএমএফের আপত্তির নেপথ্যে কী
এক লাফে ৪৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ
ডলার কেনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেকর্ড
৪৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রিজার্ভ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফেনীর সোনাগাজীতে বেসিক ব্যাংকের উপশাখা

ফেনীর সোনাগাজীতে বেসিক ব্যাংকের উপশাখা

ব্যাংকের সেবার পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উপশাখাটি খোলা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ফেনীর সোনাগাজীতে উপশাখা খুলেছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক লিমিটেড। এটি ব্যাংকের ১৩তম উপশাখা।

বৃহস্পতিবার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হাশেম উপশাখাটির উদ্বোধন করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ব্যাংকের সেবার পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উপশাখাটি খোলা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুর রহমান, পরিচালক রাজীব পারভেজ, আবদুল খালেক খান, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এম জহিরুল হায়াত, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মফিজুল হক এবং সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সৈয়দ নাসির উদ্দীন বক্তব্য রাখেন।

অন্যদের মধ্যে ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আ. রহিম, মহাব্যবস্থাপক মো. ইছমাইল, আবুল কালাম আজাদ, ফেনী শাখার ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম, উপশাখার ব্যবস্থাপক মোরশেদ আলম উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
রিজার্ভ নিয়ে তথ্য জালিয়াতি করেছে সরকার: বিএনপি
রিজার্ভ নিয়ে আইএমএফের আপত্তির নেপথ্যে কী
এক লাফে ৪৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ
ডলার কেনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেকর্ড
৪৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রিজার্ভ

শেয়ার করুন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সিপিডির আন্তর্জাতিক সম্মেলন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সিপিডির আন্তর্জাতিক সম্মেলন

সোমবার ভার্চুয়ালি এই সম্মেলন শুরু হয়ে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে বলে রোববার অনলাইনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে সিপিডি।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

সোমবার ভার্চুয়ালি এই সম্মেলন শুরু হয়ে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে বলে রোববার অনলাইনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে সিপিডি।

সম্মেলনে গত ৫০ বছরে রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক খাতে দেশের অর্জনের পাশাপাশি কোথায় কী ধরনের দুর্বলতা রয়েছে, তা তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে আগামী ৫০ বছরের করণীয় বিষয়েও পরামর্শ তুলে ধরবেন বিভিন্ন খাতের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।

সম্মেলনের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ড. রওনক জাহান বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর বাংলাদেশের জন্য বিশেষ সময়। ইতিমধ্যে দেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আবার অনেক কিছু হওয়ার সুযোগ থাকলেও তা হয়নি। সামনের দিনগুলোয় অনেক সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ’এ জন্য এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনে অর্জন তুলে ধরা হবে। রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতি আরও এগোনোর জন্য কী করণীয় তাও তুলে ধরা হবে।’ অতীতে কোথায় ভুল হয়েছে এবং আগামীতে যাতে সুষ্ঠু পরিকল্পনা নেয়া যায়, সে বিষয়ে সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত দেবেন বলে জানান রওনক জাহান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সম্মেলনের শিরোনাম করা হয়েছে ’বাংলাদেশের ৫০ বছর: অতীতের দিকে দৃষ্টিপাত ও সম্ভাবনা।’ সম্মেলনের চার দিনে আটটি পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী পর্বের বাইরে সাতটি বিষয়ে আলাদা আলাদা আলোচনা হবে।

যেসব বিষয়ে আলোচনা হবে সেগুলো হলো- রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনীতি, বাংলাদেশের অর্থনীতি, সামাজিক পরিবর্তন, সংস্কৃতি, উন্নয়ন ব্যয় ও চ্যালেঞ্জ এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশ। এসব পর্বে ১৯টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। এতে বক্তব্য দেবেন বিভিন্ন খাতের দেশি-বিদেশি ৪৬ জন বিশেষজ্ঞ। এক হাজার লোক এতে অংশ নেবেন। সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলোকে সম্পাদনা করে একটি প্রকাশনাও প্রকাশ করা হবে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ’স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মতো সময় যে কোনো দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের জন্য সেটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক খাতে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ’এ রকম পরিস্থিতিতে সিপিডি চাচ্ছে আগামী ৫০ বছরে দেশের লক্ষ্যগুলো কেমন হওয়া উচিত, কীভাবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে সে বিষয়ে ধারণা দিতে।’

সিপিডির বোর্ড ট্রাস্টিজের সদস্য সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এ সময় অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
রিজার্ভ নিয়ে তথ্য জালিয়াতি করেছে সরকার: বিএনপি
রিজার্ভ নিয়ে আইএমএফের আপত্তির নেপথ্যে কী
এক লাফে ৪৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ
ডলার কেনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেকর্ড
৪৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রিজার্ভ

শেয়ার করুন

বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রকল্প ঋণ চান অর্থমন্ত্রী

বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রকল্প ঋণ চান অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রচলিত নিয়মে প্রকল্পের বিপরীতে ঋণ দেয়ার কারণে অনেক সময় দেখা যায় প্রকল্প প্রস্তুত থাকে না। সেগুলো প্রস্তুত করতে অনেক কালক্ষেপণ হয়।’

উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাজেট সহায়তার আওতায় প্রকল্পে ঋণ দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একই সঙ্গে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত ৫০ কোটি ডলার দ্রুত ছাড়ের কথাও বলেন তিনি।

রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক বৈঠকে এ অনুরোধ করেন অর্থমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মিজ ফাতিমা ইয়াসমিনসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিতি ছিলেন। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংস্থার দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শেফার।

বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিজ মার্সি মিয়াং টেম্বন, বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক পরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) মিজ যৌবিদা খেরুস আলাউয়া প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রচলিত নিয়মে প্রকল্পের বিপরীতে ঋণ দেয়ার কারণে অনেক সময় দেখা যায় প্রকল্প প্রস্তুত থাকে না। সেগুলো প্রস্তুত করতে অনেক কালক্ষেপণ হয়।’
এই মন্থর গতি থেকে উত্তরণের জন্য অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ করেন যাতে বাজেট সাপোর্ট আকারে প্রকল্প ঋণ দেয়া হয়।

তিনি জানান, এটা করা হলে সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেসব প্রকল্প প্রস্তুত আছে সেসব প্রকল্পের জন্য অর্থ ছাড় করা সম্ভব হবে এবং প্রকল্পের গতি ত্বরান্বিত হবে।

ইআরডির কর্মকর্তারা বলেন, বিশ্বব্যাংক বাজেট সহায়তার আওতায় এবং প্রকল্পের বিপরীতে ঋণ দিয়ে থাকে বাংলাদেশকে। প্রকল্পে ঋণ পেতে নানা জটিলতা ও শর্ত থাকে। যে কারণে অর্থছাড়ে দেরি হয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন ধীরগতি হয়। অন্যদিকে বাজেট সাপোর্ট বা সহায়তার ঋণের শর্ত সহজ থাকে এবং দ্রুত টাকা ছাড় হয়। এই টাকা সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নসহ যেকানো খাতে ব্যয় করতে পারে।

করোনা মহামারির কারণে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমবাজার, আর্থিক ও সামাজিক খাত সচল রাখার লক্ষ্যে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের ‘প্রোগামেটিক রিকভারি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ডেভলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট’- প্রকল্পের আওতায় ৫০ কোটি ডলার সমপরিমাণ ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বাজেট সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি। এই টাকা দ্রুত ছাড় করণের জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের অনুরোধ জানান অর্থমন্ত্রী।

বিশ্বব্যাংক উল্লিখিত প্রকল্পের অগ্রগতি জানতে চায়। জবাবে অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, শর্তাবলির অধিকাংশই ইতোমধ্যে পূরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট শর্তাবলিও সহসাই পূরণ করা সম্ভব হবে।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির গতিধারা তুলে ধরেন। বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভিত যথেষ্ট মজবুত রয়েছে।

মুস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে কোভিড-১৯ মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অর্থনীতি। এর জন্য সবচেয়ে বড় কৃতিত্বের দাবিদার দেশের সাধারণ মানুষ, যারা অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে।’

বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শ্যেফার কোভিড-১৯ থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্য অনেক দেশের তুলনায় ভালো করছে এবং কোভিড মোকাবিলা করে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও চলমান অনেক প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।’ পাইপ লাইনে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ বিদেশি ঋণ দ্রুত ছাড় করার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের অনুরোধ জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
রিজার্ভ নিয়ে তথ্য জালিয়াতি করেছে সরকার: বিএনপি
রিজার্ভ নিয়ে আইএমএফের আপত্তির নেপথ্যে কী
এক লাফে ৪৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ
ডলার কেনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেকর্ড
৪৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রিজার্ভ

শেয়ার করুন

জেসিআই ঢাকা ইস্টের সভাপতি তাহসিন আজিম

জেসিআই ঢাকা ইস্টের সভাপতি তাহসিন আজিম

নতুন কমিটির নির্বাহী সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মিনহাজ আহমেদ। সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন সালমা আক্তার হীরা, সাজ্জাদ উন নেওয়াজ রাফি ও মারুফ হোসেন।

জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) ঢাকা ইস্টের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তাহসিন আজিম শেজান।

শনিবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে জেসিআই ঢাকা ইস্টের চতুর্থ সাধারণ সভা ও সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শেজানের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের জেসিআই ঢাকা ইস্টের নতুন কমিটি নির্বাচন করা হয় এবং নতুন কমিটিকে শপথ পাঠ করানো হয়।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জেসিআই ক্রীড, মিশন ও ভিশন‌ উপস্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয় সভা। জেসিআই ঢাকা ইস্টের এ পর্যন্ত সম্পন্ন কার্যক্রমের বিবরণ‌, খরচের হিসাব এবং পরবর্তী প্রজেক্ট ও কার্যক্রম সম্পর্কে সদস্যদের অভিহিত করা হয় সভায়।

নতুন কমিটির নির্বাহী সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মিনহাজ আহমেদ। সহসভাপতির দায়িত্বে থাকবেন সালমা আক্তার হীরা, সাজ্জাদ উন নেওয়াজ রাফি ও মারুফ হোসেন।

নুজহাতুল কাওনাইন জিএলসি এবং শাহমিনা ইশা মান্নান কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নাহিদা হক, মোহাম্মদ আলামিন, শামীমা নাসরিন শম্পা এবং কাজী শাহ মুজাক্কের আহমেদুল।

প্রশিক্ষণ কমিশনার হিসেবে নতুন কমিটিতে স্থান পেয়েছেন সানামা ফয়েজ।

সাবেক সভাপতি এজাজ মোহাম্মদ এবং মহাসচিব তানজিনা তুলি নতুন কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন।

সভায় জেসিআই বাংলাদেশের জাতীয় বোর্ডের নির্বাহী সহসভাপতি ইসমত জাহান লিসা ও এরফান হক, জাতীয় মহাসচিব রুমানা চৌধুরী, জাতীয় সহসভাপতি মাহমুদ উন নবী ও আবদুল্লাহ সাফি, জাতীয় প্রশিক্ষণ কমিশনার সৈয়দ মোসায়েব আলম, জাতীয় পরিচালক ওয়াসিফ ওয়াহেদ, খাদিজা আক্তার এবং কাজী ফাহাদ উপস্থিত ছিলেন।

জেসিআই হলো ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণ সক্রিয় নাগরিকদের একটি বিশ্বব্যাপী সদস্যপদভিত্তিক অলাভজনক সংগঠন। এই সংগঠনের সদস্যরা সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করে।

জেসিআই ঢাকা ইস্ট বাংলাদেশে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনালের যে কয়টি শাখা আছে তার একটি।

আরও পড়ুন:
রিজার্ভ নিয়ে তথ্য জালিয়াতি করেছে সরকার: বিএনপি
রিজার্ভ নিয়ে আইএমএফের আপত্তির নেপথ্যে কী
এক লাফে ৪৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ
ডলার কেনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেকর্ড
৪৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রিজার্ভ

শেয়ার করুন

২০২৬ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম হোসেন

২০২৬ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম হোসেন

সেলিম আর এফ হোসেন

সেলিম হোসেন বলেন, ‘পুনরায় নিয়োগ করে আমাকে সম্মানিত করার জন্য আমি ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বোর্ড অব ডিরেক্টসকে ধন্যবাদ জানাই। ব্র্যাক ব্যাংকের মেধাবী ও নিবেদিতপ্রাণ টিমের সাথে এ সমৃদ্ধির পথচলা অব্যাহত রাখার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত।’

সেলিম আর এফ হোসেন ২০২৬ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংকের নেতৃত্ব দেবেন।

রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেসরকারি এই ব্যাংকটি জানিয়েছে, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও বোর্ড অব ডিরেক্টরস বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি অ্যান্ড সিইও) সেলিম আর এফ হোসেনকে একই পদে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পুনরায় নিয়োগ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক তার এ পুনর্নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে।

এ পুনর্নিয়োগ নভেম্বর ২০২১ থেকে কার্যকর হয়েছে।

সেলিম হোসেন ২০১৫ সালের নভেম্বরে এমডি অ্যান্ড সিইও হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংকের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিন বছর করে দুই মেয়াদ (ছয় বছর) সম্পন্ন করেছেন। এই ছয় বছরে তিনি ব্র্যাক ব্যাংককে মধ্যম সারির ব্যাংক থেকে ব্যাংকিং খাতের শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে নিয়ে গেছেন। ব্র্যাকটিকে বাংলাদেশের আর্থিক খাতে অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দৃঢ় ও মজবুত ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন ও সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ারহোল্ডিং এবং আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা- এসঅ্যান্ডপি ও মুডি’জ থেকে প্রাপ্ত দেশের সব ব্যাংক থেকে উৎকৃষ্ট ক্রেডিট রেটিং ব্র্যাক ব্যাংকের উচ্চমানের ব্যবস্থাপনা ও কর্মদক্ষতার প্রতিফলন বহন করে। প্রায় সব আর্থিক সূচক ও মানদণ্ডে ব্র্যাক ব্যাংক অন্য সব ব্যাংক থেকে এগিয়ে আছে। এছাড়াও সুশাসন ও মূল্যবোধ ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সেলিম হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্টিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে এমবিএ (মেজর ইন ফাইন্যান্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১০ সালে আইডিএলসিতে যোগদানের পূর্বে তিনি বাংলাদেশের দুটি বৃহত্তম বহুজাতিক ব্যাংক এএনজেড গ্রিন্ডলেইজ ব্যাংক এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ২৪ বছর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে ব্র্যাক ব্যাংক এ যোগদানের পূর্বে তিনি ছয় বছর আইডিএলসির নেতৃত্ব দেন।

পুনর্নিয়োগ সম্পর্কে সেলিম হোসেন বলেন, ‘পুনরায় নিয়োগ করে আমাকে সম্মানিত করার জন্য আমি ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বোর্ড অব ডিরেক্টসকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। ব্র্যাক ব্যাংকের মেধাবী ও নিবেদিতপ্রাণ টিমের সাথে এ সমৃদ্ধির পথচলা অব্যাহত রাখার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত।’

‘সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ব্র্যাক ব্যাংককে মার্কেট শেয়ারে সুউচ্চতর স্থানে নিয়ে যেতে সংকল্পবদ্ধ। একই সাথে আমাদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্যার ফজলে হাসান আবেদ, কেসিএমজি এর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও মূল্যবোধ ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রমের লালিত স্বপ্ন ধারণ ও পালন করে এগিয়ে নিতে যেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ আমরা।’

আরও পড়ুন:
রিজার্ভ নিয়ে তথ্য জালিয়াতি করেছে সরকার: বিএনপি
রিজার্ভ নিয়ে আইএমএফের আপত্তির নেপথ্যে কী
এক লাফে ৪৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ
ডলার কেনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেকর্ড
৪৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রিজার্ভ

শেয়ার করুন

দেশের কারখানায় তৈরি প্রথম স্মার্টফোন আনল শাওমি

দেশের কারখানায় তৈরি প্রথম স্মার্টফোন আনল শাওমি

দেশে তৈরি স্মার্টফোন রেডমি ৯এ হাতে শাওমির কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী। ছবি: সৌজন্যে

বাংলাদেশে গত অক্টোবরে শাওমি তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দেয়। গাজীপুরে অবস্থিত কারখানায় প্রতি বছর অন্তত ৩০ লাখ স্মার্টফোন উৎপাদন করবে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারিং করে দেশের বাজারে স্মার্টফোন আনার দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করছে শাওমি।

শাওমি বাংলাদেশে তাদের প্রথম স্থানীয়ভাবে তৈরি স্মার্টফোন রেডমি ৯এ উন্মোচন করেছে। রেডমি ৯এ ফোনটির উন্মোচনের মাধ্যমে ‘মেক ইন বাংলাদেশ’ সূচনা করল প্রতিষ্ঠানটি।

রেডমি ৯এ গ্রাহকদের চাহিদাকে সম্পূর্ণরূপে ফোকাস করে আনা হয়েছে, যা তাদের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কম বাজেটের মধ্যে যারা স্মার্টফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি আদর্শ ফোন হতে পারে।

বাংলাদেশে গত অক্টোবরে শাওমি তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দেয়। গাজীপুরে অবস্থিত কারখানায় প্রতি বছর অন্তত ৩০ লাখ স্মার্টফোন উৎপাদন করবে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারিং করে দেশের বাজারে স্মার্টফোন আনার দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করছে শাওমি।

শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যখন থেকে বাংলাদেশে কাজ শুরু করেছি, আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রিমিয়াম স্টাইল, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত মানের ডিভাইস সরবরাহ করা। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুবদ্ধ শাওমি এখন এসব ডিভাইস স্থানীয়ভাবেই উৎপাদন শুরু করেছে।

‘এটা আমাদের জন্য এবং অবশ্যই ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য একটা মাইলফলক। যে কারণে আমরা দেশে তৈরি প্রথম স্মার্টফোন রেডমি ৯এ উন্মোচন করছি। রেডমি ৯এ এই সেগমেন্টে শীর্ষ ফোন যাতে দেয়া হয়েছে ১২ ন্যানোমিটার গেইমিং প্রসেসর এবং পি২আই ন্যানো-কোর্টিং, যা ফোনটিকে যে কোনো স্প্ল্যাশ থেকে সুরক্ষা দেবে। আমি মনে করি এটি বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে।’

শাওমি রেডমি ৯এ

দেখার দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা দিতে রেডমি ৯এ আসছে বড় ধরনের ৬ দশমিক ৫৩ ইঞ্চির ডট ড্রপ ডিসপ্লে নিয়ে। ফোনটিতে দেয়া হয়েছে ৫০০০ এমএএইচ উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি, যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় ধরে ফোনটি দিয়ে বিনোদন উপভোগ করা যাবে।

রেডমি ৯এ ডিভাইসটিতে আরও আছে ১২ ন্যানোমিটারের মিডিয়াটেক হেলিও জি২৫, অক্টা-কোরের গেইমিং চিপসেট। এটি সারাদিনের ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অসাধারণ অভিজ্ঞতা দেবে। এ ছাড়া এতে রয়েছে স্পোর্টস এআইসম্পন্ন ১৩ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা সঙ্গে ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরায় খুব দ্রুত, সহজ, অত্যাকর্ষণীয় ও স্পষ্ট ছবি তোলা যাবে।

দাম ও কবে যাওয়া যাবে

রেডমি ৯এ দেশে পাওয়া যাবে গ্রানাইট গ্রে, পিকক গ্রিন ও ব্লু স্কাই এই তিনটি কালার ভ্যারিয়েন্টে। ফোনটির ২জিবি+৩২জিবি ভ্যারিয়েন্টের নতুন দাম ৮ হাজার ৭৯৯ টাকা, যার আগের দাম ছিল ১০ হাজার ৪৯৯ টাকা। ৬ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে দেশের সব অথরাইজড শাওমি স্টোর এবং রিটেইল পার্টনার স্টোরে ফোনটি পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন:
রিজার্ভ নিয়ে তথ্য জালিয়াতি করেছে সরকার: বিএনপি
রিজার্ভ নিয়ে আইএমএফের আপত্তির নেপথ্যে কী
এক লাফে ৪৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ
ডলার কেনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেকর্ড
৪৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রিজার্ভ

শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ আয়োজনে অংশীদার ‘নগদ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ আয়োজনে অংশীদার ‘নগদ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনে সহযোগী হয়েছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস 'নগদ'।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে আমরা নগদ-এর কাছে বলেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক চরিত্র বজায় রেখে তারা যেন ক্যাম্পাসকে সাজান। সেটিও প্রশংসনীয় এবং তারা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছেন।’

একটি দেশের উত্থান, বেড়ে ওঠা এবং জাতি গঠনে অবদান রাখা দেশের বাতিঘর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ উদযাপন করছে। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দেশকে একটি শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করাতে অগণিত গ্রাজুয়েট উপহার দিয়েছে উপমহাদেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়টি।

মহতী এই উদযাপনের সঙ্গী হয়েছে ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রোববার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য শতবর্ষের স্মারক হিসেবে প্রায় ৪৫ হাজার রিস্টব্যান্ড উপহার দিয়েছে ‘নগদ’।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছে ‘নগদ’–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক রিস্টব্যান্ডগুলো হস্তান্তর করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে আমরা নগদ-এর কাছে বলেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক চরিত্র বজায় রেখে তারা যেন ক্যাম্পাসকে সাজান। সেটিও প্রশংসনীয় এবং তারা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছেন।

‘উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গিতে অ্যাকাডেমিক ফ্লেভার নিয়ে ক্যাম্পাসকে কীভাবে সাজাতে হয়, সেটি নগদ দেখিয়েছে। একেকটি প্রাঙ্গণ যেন নতুন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সে জন্য নগদ-কে ধন্যবাদ। আশা করি ভবিষ্যতেও নগদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আয়োজনে সম্পৃক্ত থাকবে।’

গত ১ ডিসেম্বর ‘শতবর্ষের আলোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শিরোনামে শুরু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন উপলেক্ষ্যে চার দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আব্দুল হামিদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে ১০০ বছরের স্মৃতি-সম্বলিত ফটো-ওয়াল ও অন্যান্য সাজসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, টিএসসি, শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল এবং বিভিন্ন স্থাপনা।

ক্যাম্পাসের কার্জন হল, কলাভবন ও মলচত্বরসহ বিভিন্ন স্থাপনা বর্ণিলরূপে সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি আলোকসজ্জা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাজসজ্জার যাবতীয় দায়িত্ব পালন করছে ডাক বিভাগের ‘নগদ’।

১৯২১ সালে যাত্রা শুরু করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১০০ বছর পূর্ণ করে চলতি বছরের ১ জুলাই। কিন্তু করোনার কারণে শতবর্ষের অনুষ্ঠান ব্যাহত হয়। করোনা পরিস্থিতির উন্নতির ফলে সম্প্রতি আয়োজন করা হয় শতবর্ষের এই অনুষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় ১ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন আয়োজন করে শতবর্ষ উদযাপন করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও ডিজিটাল বাংলাদেশ ডে উপলক্ষ্যে ১২ ডিসেম্বর ‘নগদ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে কনসার্টের আয়োজন করেছে।

কনসার্টে ‘নগর’ বাউল জেমস ছাড়াও ওয়ারফেজ, সহজিয়া, মেঘদল, কৃষ্ণপক্ষ, ইন্ট্রোয়েট, তীরন্দাজ ও মেহরীন অংশ নেবে।

১৬ ডিসেম্বরও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ফায়ারওয়ার্কস ও লেজার শোর আয়োজন করা হচ্ছে। এতে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণ ও ভূমিকা ফুটিয়ে তোলা হবে। আয়োজনটিতে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’।

বিষয়গুলো নিয়ে ‘নগদ’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, ‘দেশের বাতিঘর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ উদযাপন করছে, এটি দেশের জন্য একটি বড় অর্জন। পৃথিবীর আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হয়তো নেই যারা দেশের স্বাধীনতা ও স্বাধীকার আন্দোলনে নেতৃত্বের স্থানে থেকেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য এই গৌরবের অংশীদার।

‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনের সঙ্গে থাকতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। দেশের জন্য অসামান্য অবদান বয়ে আনতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা সহস্র বছরের হোক, সেই কামনা করছি।’

আরও পড়ুন:
রিজার্ভ নিয়ে তথ্য জালিয়াতি করেছে সরকার: বিএনপি
রিজার্ভ নিয়ে আইএমএফের আপত্তির নেপথ্যে কী
এক লাফে ৪৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ
ডলার কেনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেকর্ড
৪৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল রিজার্ভ

শেয়ার করুন