‘গোলাগুলিতে’ নিহতরা যুবলীগ নেতা হত্যার ‘আসামি’

‘গোলাগুলিতে’ নিহতরা যুবলীগ নেতা হত্যার ‘আসামি’

স্বজনরা নিউজবাংলাকে জানান, নিহত তোফায়েল কমলগঞ্জের যুবলীগ নেতা নাজমুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর ও শহীদ ৮ নম্বর আসামি। তবে এ বিষয়ে র‍্যাব বা পুলিশ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিচয় নিশ্চিত করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে র‍্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলিতে’ নিহত দুইজনের ছবি দেখে পরিচয় শনাক্ত করেছে তাদের পরিবার।

স্বজনরা নিউজবাংলাকে জানান, নিহতরা হলেন তোফায়েল মিয়া ও শহীদ মিয়া। তাদের বাড়ি উপজেলার চৈত্রঘাট এলাকায়।

তারা কমলগঞ্জের যুবলীগ নেতা নাজমুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আজির উদ্দিন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘পরিবারের সূত্রে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছি। তারা এজাহারের কত নম্বর আসামি তা বলতে পারছি না, তবে তারা আসামি।’

মামলার এজাহারে তোফায়েলের নাম ২ নম্বর ও শহীদের নাম ৮ নম্বর আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত।

তবে এ বিষয়ে র‍্যাব বা পুলিশ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিচয় নিশ্চিত করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

শ্রীমঙ্গলের মিরতিঙ্গা চা-বাগানের পাশে রোববার ভোরের দিকে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-৯-এর ব্যাটালিয়ান কমান্ডার বসু দত্ত চাকমা।

তিনি জানান, ভোররাতে চা-বাগান এলাকায় ওই দুজন র‍্যাবের টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালান। আত্মরক্ষায় র‍্যাবও পাল্টা গুলি করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ভোররাতে চা-বাগান এলাকায় ওই দুজন র‍্যাবের টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালায়। আত্মরক্ষায় র‍্যাবও পাল্টা গুলি করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের চৈত্রঘাট বাজার এলাকায় গত ৩১ অক্টোবর দুপুরে নিজ বাড়ির সামনে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন নাজমুল। সিলেটের একটি হাসপাতালে নেয়া হলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি মারা যান।


‘গোলাগুলিতে’ নিহতরা যুবলীগ নেতা হত্যার ‘আসামি’
যুবলীগ নেতা নাজমুল হাসানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়



এ ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, কালো একটি মাইক্রোবাসে আসা ৯ ব্যক্তি নাজমুলকে ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে নিজ বাড়ির সামনে এসে মাটিতে পড়ে যান তিনি। তখন নাজমুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে যায় ওই ৯ জন।

সিসিটিভি ক্যামেরাটি নাজমুলের অফিসে লাগানো ছিল।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমুল ফেসবুক লাইভে জানিয়েছিলেন, হামলাকারীদের মধ্যে চারজনকে চিনতে পেরেছেন। তারা হলেন স্থানীয় তোফায়েল, রাসেল, মাসুদ ও তোফাজ্জল।

তিনি দাবি করেন, ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদে লড়তে চাওয়ায় তার ওপর হামলা হয়েছে। মৃত্যু হলে খুনিদের যেন সাজা হয় সেই দাবিও জানিয়েছিলেন নাজমুল।

নাজমুলের মৃত্যুর পর তার বড় ভাই শামছুল হক গত সোমবার তোফাজ্জলকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ ১৮/১৯ জনের নামে মামলা করেন।

এজাহারভুক্ত ৩ আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জাকারিয়া।

তিনি বলেন, এই মামলায় জুয়েল মিয়া ও আমির হোসেন নামে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জুয়েলের সঙ্গে যুবলীগ নেতা নাজমুলের বিরোধ ছিল। ২০২০ সালে নাজমুলের হামলায় তিনি পঙ্গু হয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার করা হয়েছে মামলার প্রধান আসামি তফাজ্জুল আলী ও তার দুই সহযোগীকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তফাজ্জুল হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছেন।

এসপি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তফাজ্জুল বলেছেন যে নাজমুলকে হত্যা করতে তিন মাস আগে থেকেই রেকি করা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন:
র‍্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলিতে’ নিহত ২
যুবলীগ নেতাকে হত্যায় ‘৩ মাস আগে থেকে রেকি’
ফেসবুক লাইভে খুনিদের তথ্য জানিয়েছিলেন নাজমুল
বাড়ির সামনে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের গুলি, নিহত ২

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৬ ‘জঙ্গির’ নামে মামলা, প্রধান আসামি পলাতক

৬ ‘জঙ্গির’ নামে মামলা, প্রধান আসামি পলাতক

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সোনারায় ইউনিয়নের মাঝাপাড়া গ্রামের পুটিহারী এলাকার শরিফুল ইসলাম শরিফকে। তিনি পলাতক আছেন।

নীলফামারীতে ছয় ‘জঙ্গির’ নামে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে র‌্যাব।

রোববার সকাল ১০টার দিকে মামলাটি হয়। মামলার বাদী হয়েছেন র‌্যাব-১৩ রংপুরের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আব্দুল কাদের।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউপ।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সোনারায় ইউনিয়নের মাঝাপাড়া গ্রামের পুটিহারী এলাকার শরিফুল ইসলাম শরিফকে।

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার সোনারায় ইউনিয়নের তেলিপাড়া উত্তর মুশরত কুখাপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলাম ও তার ভাই অহিদুল ইসলাম, সংগলশী ইউনিয়নের বালাপাড়া এলাকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে সুজা, চড়াইখোলা ইউনিয়নের বন্দর চড়াইখোলা গ্রামের ওয়াহেদ আলী ও সোনারায় ভবানীমোড় এলাকার রজব আলীর ছেলে ও তেলিপাড়া জামে মসজিদের ইমাম নূর আমিন।

র‌্যাব-১৩ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাহমুদ বশির আহমেদ জানান, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পাঁচ জেএমবি সদস্যকে নীলফামারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জেএমবির সামরিক শাখার সক্রিয় সদস্য। তারা বোমা তৈরি করেছিলেন।

তিনি জানান, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং আর কারা জড়িত আছেন তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

ওসি আব্দুর রউপ বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছয় জনের নামে মামলাটি করে র‌্যাব। এতে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ছয়জনকে আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে তোলা হবে এবং আদালতের নির্দেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোনারায় ইউনিয়নের মাঝাপাড়া পুটিহারী এলাকায় শনিবার সকালে শরিফুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, পিস্তল, দেশীয় অস্ত্র এবং গুলি উদ্ধার করে র‌্যাবের বম্ব ডিজপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।

আরও পড়ুন:
র‍্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলিতে’ নিহত ২
যুবলীগ নেতাকে হত্যায় ‘৩ মাস আগে থেকে রেকি’
ফেসবুক লাইভে খুনিদের তথ্য জানিয়েছিলেন নাজমুল
বাড়ির সামনে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের গুলি, নিহত ২

শেয়ার করুন

পাওয়া যাচ্ছে না রাজারবাগ পিরের মামলার নথি

পাওয়া যাচ্ছে না রাজারবাগ পিরের মামলার নথি

পির মো. দিল্লুর রহমান থাকেন রাজারবাগের এ দরবার শরিফে। ছবি: নিউজবাংলা

রাজারবাগ পিরের বিরুদ্ধে মামলার শুনানিকালে নথি না থাকায় সকালে আদালত ১০ মিনিটের মধ্যে নথি দাখিলের নির্দেশ দেয়। পরে রিট দাখিল সেকশনের সুপারিনটেনডেন্ট এসে আদালতকে জানান, নথি পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর পরে আদালত বেলা ২টার মধ্যে নথি দাখিল করতে বলে।

রাজারবাগ দরবারের পির দিল্লুর রহমানসহ তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে করা মামলাসংক্রান্ত নথি পাওয়া যাচ্ছে না- এমন তথ্য জানানোর পর দ্রুত তা খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রিট দাখিল সেকশনের সুপারিনটেনডেন্টকে রোববার বেলা ২টার মধ্যে এসব নথি আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ নির্দেশ দেয়।

রাজারবাগ পিরের বিরুদ্ধে মামলার শুনানিকালে নথি না থাকায় সকালে আদালত ১০ মিনিটের মধ্যে নথি দাখিলের নির্দেশ দেয়। পরে রিট দাখিল সেকশনের সুপারিনটেনডেন্ট এসে আদালতকে জানান, নথি পাওয়া যাচ্ছে না।

এরপর আদালত বেলা ২টার মধ্যে নথি দাখিল করতে বলে।

আদালতে দুটি আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও এমাদুল হক বশির।

পির দিল্লুর রহমানসহ চারজনের বিদেশযাত্রায় গত ২ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে একটি সম্পূরক রিট আবেদন করা হয়। এতে দিল্লুরসহ শাকিরুল কবির, ফারুকুর রহমান ও মফিজুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী একরামুল আহসান কাঞ্চনের পক্ষে অ্যাডভোকেট এমাদুল হক বশির আবেদনটি করেন।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় ৪৯টি মামলা হওয়ার বিরুদ্ধে একরামুল আহসান কাঞ্চন নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে আদালত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিকে একরামুলের বিরুদ্ধে হওয়া ৪৯ মামলার তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে রুলসহ আদেশ দেয়।

এরপর সিআইডির প্রতিবেদনে কাঞ্চনের বিরুদ্ধে পির দিল্লুরের সিন্ডিকেটের করা হয়রানিমূলক মামলার তথ্য উঠে আসে। পরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাজারবাগ দরবার শরিফের সব সম্পদের তথ্য খুঁজতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) পিরের জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না তা তদন্ত করতে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমকে (সিটিটিসি) এবং উচ্চ আদালতে রিটকারী আটজনের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন:
র‍্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলিতে’ নিহত ২
যুবলীগ নেতাকে হত্যায় ‘৩ মাস আগে থেকে রেকি’
ফেসবুক লাইভে খুনিদের তথ্য জানিয়েছিলেন নাজমুল
বাড়ির সামনে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের গুলি, নিহত ২

শেয়ার করুন

ইন্সপেক্টরের সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ’, সেই নারী পুলিশকেও প্রত্যাহার

ইন্সপেক্টরের সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ’, সেই নারী পুলিশকেও প্রত্যাহার

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওই নারী কনস্টেবলকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি ছুটিতে থাকা অবস্থায় প্রদীপ কুমার দাসের কক্ষে রাতের বেলা কী কারণে গেলেন, তা জানাতে তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) আদালত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) প্রদীপ কুমার দাসের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ার অভিযোগে নারী কনস্টেবলকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে।

এর আগে একই অভিযোগে প্রদীপ কুমার দাসকেও ক্লোজড করা হয়।

অভিযুক্ত ওই নারী কনস্টেবল ছুটিতে ছিলেন। তার ছুটি বাতিল করে ক্লোজড করা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওই নারী কনস্টেবলকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে যুক্ত করা হয়।

পাশাপাশি ছুটিতে থাকা অবস্থায় প্রদীপ কুমার দাসের কক্ষে রাতের বেলা কী কারণে গেলেন, তা জানাতে তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার রাতে আদালতে নিজ কক্ষে নারী কনস্টেবলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগ উঠে প্রদীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছুটিতে থাকা ওই নারী কনস্টেবলকে রাতে কোর্ট বিল্ডিংয়ে নিজ কক্ষে ডেকে নেন কোর্ট ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার দাস। রাত ৯টার দিকে কোর্ট ইন্সপেক্টরের কক্ষের দরজা খোলা এবং ভেতরে আলো নেভানো দেখে অন্য পুলিশ সদস্যরা সেই কক্ষে ঢোকেন। আলো জ্বালানোর পর দুজনকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।

এরপর ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার দাসকে ক্লোজড করে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ লাইন্সে যুক্ত করা হয়।

অভিযুক্তের সত্যতা পেলে প্রদীপের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফউল্লাহ তাহের।

আরও পড়ুন:
র‍্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলিতে’ নিহত ২
যুবলীগ নেতাকে হত্যায় ‘৩ মাস আগে থেকে রেকি’
ফেসবুক লাইভে খুনিদের তথ্য জানিয়েছিলেন নাজমুল
বাড়ির সামনে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের গুলি, নিহত ২

শেয়ার করুন

শাটলে কাটা পড়ে পা হারানো নারীর মৃত্যু

শাটলে কাটা পড়ে পা হারানো নারীর মৃত্যু

শাটল ট্রেনে কাটা পড়ে এক নারীর পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আফিয়া নগরীর আতুরার ডিপোয় ভাড়া থাকেন। তালতলায় তার এক আত্মীয়ের বাড়ি। সেখানে যাওয়ার সময় রেললাইন পাড়ি দিতে গেলে শাটলের নিচে কাটা পড়ে তার দুই পা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারানো নারীর মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ষোলশহর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম।

এর আগে নগরীর ষোলশহর রেলস্টেশনের অদূরে তালতলা এলাকায় শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ওই নারীর নাম আফিয়া খাতুন। তার বাড়ি সুনামগঞ্জে।

জাহাঙ্গীর জানান, আফিয়ার মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যালের মর্গে আছে। ময়নাতদন্ত শেষে তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি স্থানীয়দের বরাতে জানান, আফিয়া নগরীর আতুরার ডিপোয় ভাড়া থাকেন। তালতলায় তার এক আত্মীয়ের বাড়ি। সেখানে যাওয়ার সময় রেললাইন পাড়ি দিতে গেলে শাটলের নিচে কাটা পড়ে তার দুই পা। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ গিয়ে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে পাঠায়।


এর আগে গত ৩০ অক্টোবর শাটল ট্রেনে কাটা পড়েন মনুজা বেগম নামে এক বৃদ্ধা। এক দিন পরই শাটল ট্রেনে কাটা পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
র‍্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলিতে’ নিহত ২
যুবলীগ নেতাকে হত্যায় ‘৩ মাস আগে থেকে রেকি’
ফেসবুক লাইভে খুনিদের তথ্য জানিয়েছিলেন নাজমুল
বাড়ির সামনে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের গুলি, নিহত ২

শেয়ার করুন

কক্সবাজার বিমানবন্দর: নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ পাইলটদেরও

কক্সবাজার বিমানবন্দর: নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ পাইলটদেরও

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে মঙ্গলবার বিকেলে উড়োজাহাজের ধাক্কায় দুটি গরু মারা যায়। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজার বিমানবন্দরে কর্মরত একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অভিযোগ, বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবতরণের সময় নানা সমস্যা নিয়ে মৌখিক ও লিখিতভাবে পাইলটরা অভিযোগ দিলেও তা আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দুই দিন আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের পাখার ধাক্কায় দুই গরুর মৃত্যুর পর তা ফের আলোচনায় উঠে এসেছে।

এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। উঠেছে নতুন অভিযোগও।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে কর্মরত একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অভিযোগ, বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবতরণের সময় নানা সমস্যা নিয়ে মৌখিক ও লিখিতভাবে পাইলটরা অভিযোগ দিলেও তা আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, দুই সপ্তাহ আগেও অভিযোগ করা হয়েছিল গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণীর রানওয়েতে উঠে পড়ার কারণে পাইলটদের অবতরণে সমস্যা হচ্ছে। বিমানবন্দরের কাছে স্থানীয়দের অবাধ চলাচল এবং ভিড়ও বড় সমস্যা।

একাধিক পাইলট জানিয়েছিলেন, চারদিকে প্রচুর মানুষের মধ্যে শঙ্কা নিয়ে বিমান অবতরণ করতে হয় তাদের। বিকেল হলেই বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে ভেতরে চলে ফুটবল খেলা। সেই খেলা দেখতে আবার ভিড় করে অন্তত দুই শতাধিক মানুষ।

তার অভিযোগ, বিভিন্ন সময় এসব বিষয় নিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের সিকিউরিটি ইনচার্জকে মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো সমাধান আসেনি।

মঙ্গলবার রাতের ওই ঘটনার পর নির্দিষ্ট সীমানাপ্রাচীরের কাছে দায়িত্বে থাকা চার আনসার সদস্যকে চাকরিচ্যুত করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি, তবে তাদের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি কক্সবাজার বিমানবন্দরের দায়িত্বরতরা।

এ ছাড়া ওই ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এভিয়েশনের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার বিকেলে তারা বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার সকালে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তারা ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ছাড়েন।

এ প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (সিকিউরিটি) গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সালেহ মাহমুদ মান্নাফি।

কক্সবাজার বিমানবন্দর: নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ পাইলটদেরও
বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচীরের ভাঙা অংশ দিয়ে অবাধে চলছে যাতায়াত, ঢুকে পড়ছে পশু

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কক্সবাজার বিমানবন্দরের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, মূলত রানওয়েতে গরু ঢুকেছে সংস্কার কাজের জন্য অরক্ষিত হয়ে পড়া সীমানা প্রচীরের অংশ দিয়ে। পাইলটদের অভিযোগের বিষয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

আকাশপথ ব্যবহার করে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা শঙ্কা প্রকাশ না করলেও বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় প্রয়োজনে চারদিকে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি তুলেছেন।

ঢাকা থেকে আসা জাহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের একটি বিমানবন্দরে এমন ঘটনা কখনও কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না। শুধু চার আনসার নয়, দায়িত্ব অবহেলার দায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপরও পড়ে। প্রয়োজনে তাদেরও পরিবর্তন করা হোক।’

নাদিরা জামান নামে আরেক যাত্রী বলেন, ‘একটি বিদেশি এনজিও সংস্থায় কাজ করার কারণে নিয়মিতই বিমানে কক্সবাজার আসি, কিন্তু বিমানের ধাক্কায় গরুর মৃত্যুর বিষয়টি দেখে নিজের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। ভাগ্য ভালো ওই বিমানযাত্রীদের। আমরা মনে করি এ বিমানবন্দরে আরও নিরাপত্তা বাড়ানো উচিত।

তবে বারবরের মতোই কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কয়েকটি পয়েন্টে সীমানাপ্রাচীর সংস্কারের কাজ চলছে। দ্রুত তা শেষ হলে এসব গবাদিপশু বা বিমানবন্দরের নিরাপত্তাঝুঁকি কেটে যাবে।

কক্সবাজার বিমানবন্দর: নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ পাইলটদেরও
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে মঙ্গলবার বিকালে উড়োজাহাজের ধাক্কায় দুটি গরু মারা গেছে

তার কাছেও পাইলটদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

২০০৫ সালে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উত্তরে বঙ্গোপসাগরে একটি কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে বিদেশি পাইলটসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। কার্গো উড়োজাহাজটি কক্সবাজার থেকে চিংড়ির পোনা নিয়ে যশোর যাচ্ছিল। এ ছাড়া ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি উড়োজাহাজের চাকায় পিষ্ট হয়ে রানওয়েতে তিনটি কুকুরের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
র‍্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলিতে’ নিহত ২
যুবলীগ নেতাকে হত্যায় ‘৩ মাস আগে থেকে রেকি’
ফেসবুক লাইভে খুনিদের তথ্য জানিয়েছিলেন নাজমুল
বাড়ির সামনে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের গুলি, নিহত ২

শেয়ার করুন

মেয়র আব্বাস কারাগারে, রিমান্ড শুনানি রোববার

মেয়র আব্বাস কারাগারে, রিমান্ড শুনানি রোববার

রাজশাহীর মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক হাসেম আলী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ মেয়র আব্বাস আলীকে তোলা হয়। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে। বিচারক শংকর কুমার রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে। আগামী রোববার রিমান্ডের শুনানি হবে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস নিউজবাংলাকে জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকায় র‌্যাবের কাছ থেকে আব্বাসকে গ্রহণ করে বোয়ালিয়া থানা পুলিশের একটি দল। রাতেই তারা রাজশাহী এসে পৌঁছান।

সকাল ৭টার দিকে পুলিশ তাকে আদালতে নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

রাজশাহীর মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক হাসেম আলী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ মেয়র আব্বাস আলীকে তোলা হয়। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে।

বিচারক শংকর কুমার আগামী রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

রাজধানীর হোটেল রাজমনি ইশা খাঁ থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাকে আটক করে র‍্যাব।

ঘরোয়া একটি আলোচনায় মেয়র আব্বাস বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের বিরোধিতা করে কথা বলেন। ২২ নভেম্বর সেই আলোচনার অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

২৪ নভেম্বর মেয়র আব্বাসের নামে বোয়ালিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। মামলার বাদী নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এবং ১৩ নম্বর কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন।

এ ছাড়া চন্দ্রিমা থানায় নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন এবং রাজপাড়া থানায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন একই ধরনের অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

আপত্তিকর মন্তব্যের সূত্র ধরে ২৫ নভেম্বর তাকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদ এবং ২৬ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২৫ নভেম্বর কাটাখালী পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলরের সবাই তার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। এই দাবির একটি আবেদন রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়েছেন।

যা বলেছিলেন মেয়র আব্বাস

১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তিনি একজনকে বলছেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে। ... ফার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটা ওটা (ম্যুরাল)।’

মেয়র আব্বাস আলী বলছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না, যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এই বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে গত শুক্রবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন, যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার-জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এত কিছু করা কী ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দল জীবনে করে থাকি, তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

আরও পড়ুন:
র‍্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলিতে’ নিহত ২
যুবলীগ নেতাকে হত্যায় ‘৩ মাস আগে থেকে রেকি’
ফেসবুক লাইভে খুনিদের তথ্য জানিয়েছিলেন নাজমুল
বাড়ির সামনে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের গুলি, নিহত ২

শেয়ার করুন

‘গরু-ছাগলের ডাক্তার’: মুখোমুখি দুই পক্ষ

‘গরু-ছাগলের ডাক্তার’: মুখোমুখি দুই পক্ষ

মায়ের সঙ্গে দুর্জয় ও অবন্তিকা। ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাপক নূরজাহান সরকার বলছেন, তার মন্তব্যটি ছিল ‘স্লিপ অফ টাং’, অর্থাৎ ভুল করে বলে ফেলা। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে চিড়িয়াখানায় ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ না দেয়ার দাবিতে অনড় তিনি। অন্যদিকে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের দাবি, মৌখিক দুঃখ প্রকাশ যথেষ্ট নয়, লিখিতভাবে অধ্যাপক নূরজাহানকে ক্ষমা চাইতে হবে।

ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায় দুটি বাঘ শাবকের মৃত্যুর ঘটনায় চিড়িয়াখানার প্রাণী চিকিৎসকদের দায়ী করে দুটি সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক নূরজাহান সরকার।

অধ্যাপক নূরজাহান তার বক্তব্যে চিড়িয়াখানায় কর্মরত ভেটেরিনারিয়ানদের ‘গরু-ছাগলের ডাক্তার’ বলে মন্তব্য করেন। আর এতে চরম ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন পাঠিয়েছে আইনি নোটিশ।

নোটিশে অধ্যাপক নূরজাহানের বিরুদ্ধে ‘সম্মানহানিকর, অশালীন, বিদ্বেষপ্রসূত ও কটূক্তিমূলক’ বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ মাধ্যম থেকে সাক্ষাৎকারটি অপসারণ করতে বলা হয়েছে। নইলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়েছে নোটিশে।

অধ্যাপক নূরজাহান সরকার অবশ্য এখন বলছেন, তার মন্তব্যটি ছিল ‘স্লিপ অফ টাং’, অর্থাৎ ভুল করে বলে ফেলা। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে চিড়িয়াখানায় ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ না দেয়ার দাবিতে অনড় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক শিক্ষক। তিনি বলছেন, দায়িত্বটি পালন করতে পারেন কেবল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যা থেকে মাস্টার্স করা ‘বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা’।

অধ্যাপক অধ্যাপক নূরজাহানের দুঃখ প্রকাশকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন (বিভিএ)। তবে অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের দাবি, মৌখিক দুঃখ প্রকাশ যথেষ্ট নয়, লিখিতভাবে অধ্যাপক নূরজাহানকে ক্ষমা চাইতে হবে।

বন্যপ্রাণীর দেখভালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে মাস্টার্স উত্তীর্ণদের নিয়োগ দেয়ার দাবির সঙ্গেও একমত নন বিভিএ অ্যাসোসিয়েশন নেতারা। এর মহাসচিব ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মোল্লা বলছেন, ‘বইয়ের থিওরি পড়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায় না। বন্যপ্রাণী চিকিৎসার বাস্তব অভিজ্ঞতা দেশে একমাত্র ভেটেরিনারিয়ানদেরই আছে।’

ঢাকা চিড়িয়াখানায় মাছিবাহিত রোগ ইপেসনোমায় আক্রান্ত হয়ে গত ২১ ও ২২ নভেম্বর মারা যায় দুর্জয় ও অবন্তিকা নামের দুটি বাঘ শাবক।

এ বিষয়ে ইনডেপেনডেন্ট টেলিভিশনে ২৬ নভেম্বর প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে অধ্যাপক নূরজাহান সরকার ভেটেরিনারিয়ানদের ‘গরু-ছাগলের ডাক্তার’ বলে মন্তব্য করেন। পরে একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমেও একই মন্তব্য করেন তিনি।

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার অধ্যাপক নূরজাহানকে ডাক ও রেজিস্ট্রিযোগে আইনি নোটিশ পাঠান বিভিএ মহাসচিব ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক নূরজাহান বুধবার নিউজবাংলাকে বলেন, “সেই টিভিতে (ইনডিপেনডেন্ট) যদি ‘আলতু-ফালতু’ বা ‘গরু-ছাগলের ডাক্তার’ শব্দগুলো এসে থাকে, তা হলে এটি স্লিপ অফ টাং। তবে আমি তাদের (ভেটেরিনারিয়ান) ‘আলতু-ফালতু’ বলিনি। তাদের আলতু-ফালতুভাবে সেখানে (চিড়িয়াখানা) দেয়া হয়েছে, এটা বুঝিয়েছি।’

তবে ভেটেরিনারিয়ানদের চিড়িয়াখানায় বন্যপ্রাণী চিকিৎসার দায়িত্ব ঠিক নয় বলে বুধবারও দাবি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষক। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের চিড়িয়াখানায় দায়িত্ব পালন করা ঠিক নয়। কারণ এখানে দায়িত্ব পালন করবেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে পাস করা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা।’

প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে কী করে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ তৈরি হয়- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে চার বছরের স্নাতক শেষ করে মাস্টার্সে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ হবে তারাই এ দায়িত্ব পালন করবে। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে মাস্টার্সে ওয়াইল্ড লাইফ বায়োলজি নামে একটি কোর্স রয়েছে।’

‘প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীরা থিওরিটিক্যাল পড়াশোনার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে ফিল্ড ভিজিটেও যান। এর মাধ্যমে তারা অভিজ্ঞতা (বন্যপ্রাণী বিষয়ক) অর্জন করেন।’

অধ্যাপক নূরজাহান অবশ্য স্বীকার করেন বাঘের মতো বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা বিষয়ে প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তরদের ‘হাতেকলমে’ প্রশিক্ষণ নেয়ার কোনো সুযোগ দেশে নেই। তাহলে তারা বাঘের চিকিৎসা কীভাবে করবেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বাঘ তো আর ফিল্ডে গিয়ে দেখা যাবে না। তবে আমরা শিক্ষার্থীদের সুন্দরবনে নিয়ে যাই, চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাই। এতে তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এ বিষয়ে আলাদা কোনো ল্যাব ফ্যাসিলিটিও নেই, তাই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা করার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা বিশেষজ্ঞ হন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক জোর দিচ্ছেন বই থেকে অর্জিত জ্ঞানের উপর। তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপনার যখন বেসিক নলেজ থাকবে, তখন গবেষণার মাধ্যমে আপনি দক্ষ হয়ে উঠবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা এভাবেই অভিজ্ঞ হয়ে ওঠে।

‘ভেটেরিনারি চিকিৎসকেরা তো গৃহপালিত পশুর ওপর পড়াশোনা করে। আর বাঘ হলো বন্যপ্রাণী। তাই চিড়িয়াখানায় ভেটেরিয়ানদের নিয়োগ না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দেয়া উচিত।’

তবে অধ্যাপক নূরজাহানের এই দাবি উড়িয়ে দিচ্ছেন বিভিএ মহাসচিব ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ভেটেরিনারিয়ানদের পড়াশোনার মেয়াদকাল পাঁচ বছর। এর মধ্যে এক বছরের ইন্টার্নিতে হাতে-কলমে শিক্ষা দেয়া হয়। এই এক বছর ভেটেরিনারিয়ানরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, এর মধ্যে বন্যপ্রাণী পরিচর্যার অভিজ্ঞতাও আছে।

‘শুধু থিওরি পড়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায় না। বন্যপ্রাণী চিকিৎসার জন্য বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যতগুলো ভেটেরিনারি ফ্যাকাল্টি রয়েছে, সেখানে হাসপাতালও আছে। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা প্র্যাকটিক্যাল অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পাশাপাশি যারা বিশেষজ্ঞ হন তাদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশের বাইরে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রাণিবিদ্যা থেকে পাস শিক্ষার্থীরা শুধু থিওরিই পড়েন।’

অধ্যাপক নূরজাহান সরকারের যুক্তিতে ক্ষুব্ধ ডা. হাবিব বলেন, ‘আমি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি। কারণ সারা পৃথিবীতে বন্যপ্রাণীর ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসার দায়িত্বে ভেটেরিনারিয়ানেরাই নিয়োজিত আছেন।

‘এ বিষয়ে হাইকোর্টেরও একটি রুল আছে। সেখানে বলা হয়েছে কেউ প্রেসক্রিপশন দিতে চাইলে তাকে প্রেসক্রিপশনার সার্টিফিকেটধারী হতে হবে। একমাত্র ভেটেরিনারিয়ানদেরই বন্যপ্রাণী চিকিৎসার বিষয়ে প্রেসক্রিপশনার সার্টিফিকেট আছে। প্রাণিবিদ্যা থেকে যারা পাস করেন, তাদের তো এ বিষয়ে কোনো সনদ নেই। তা হলে তারা কীভাবে এ পেশায় দায়িত্ব পালন করবেন!’

ঢাকা জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর আব্দুল লতিফও সমর্থন করছেন ডা. হাবিবকে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা পৃথিবীতেই বন্যপ্রাণী চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করেন ভেটেরিনারিয়ানরা।’

আরও পড়ুন:
র‍্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলিতে’ নিহত ২
যুবলীগ নেতাকে হত্যায় ‘৩ মাস আগে থেকে রেকি’
ফেসবুক লাইভে খুনিদের তথ্য জানিয়েছিলেন নাজমুল
বাড়ির সামনে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের গুলি, নিহত ২

শেয়ার করুন