ধর্ষণ মামলায় সেই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা

ধর্ষণ মামলায় সেই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। ফাইল ছবি

কাউন্সিলর খোরশেদ জানান, প্রতিপক্ষের সঙ্গে মিলে ওই নারী তার বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানি করছেন। তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সেই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

প্রতিবেদনে কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে শনিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংস্থার নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম।

খোরশেদ ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি। করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় মরদেহ দাফন ও সৎকার করে আলোচনায় আসেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুল ইসলাম প্রতিবেদন জমা দেন।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে খোরশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ওই নারী।

আদালত অভিযোগটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়।

মামলার বাদী নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত ১৭ মে ওই নারী খোরশেদ ও মানবাধিকার কর্মী রেহানা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় দীর্ঘ দিন পলাতক থাকার পর খোরশেদ উচ্চ আদালত থেকে সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন।

কাউন্সিলর খোরশেদ নিউজবাংলাকে জানান, প্রতিপক্ষের সঙ্গে মিলে ওই নারী তার বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানি করছেন। তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ফেসবুক লাইভে এসে গত ২৪ এপ্রিল খোরশেদ ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার লুনা বাদীর বিরুদ্ধে হয়রানি ও তাকে (খোরশেদ) কাজী নিয়ে এসে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাকে প্রশাসনিকভাবে নানা হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও জানান।

ওই ঘটনার দুদিন পর ওই নারী ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, তিনি ব্যবসার কাজে দেশের বাইরে আছেন। খোরশেদ তাকে বিয়ে করেছেন। তার কাছে প্রমাণ আছে। তিনি বিষয়টি গোপন করার জন্য তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ করেছেন।

আরও পড়ুন:
কাউন্সিলর খোরশেদের বিরুদ্ধে সেই নারীর মামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নৌকায় ‘ওপেন ভোট’ নিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে হুমকি

নৌকায় ‘ওপেন ভোট’ নিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে হুমকি

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল খায়ের। ছবি: নিউজবাংলা

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান সওদাগরের কয়েকজন সমর্থক এসে নৌকা প্রতীকে ‘ওপেন ভোট’ নিতে আমাকে চাপ দেন। আমি রাজি না হয়ে গোপনকক্ষে ভোট দেয়ার কথা বললে, তারা আমাকে হুমকি দেন। পরে বিষয়টি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জানিয়েছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে লাউরফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থকের বিরুদ্ধে ‘ওপেন ভোট’ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ইউনিয়নের হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে ‘ওপেন ভোট’ নেয়ার অভিযোগ করেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লাউরফতেহপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান সওদাগর। তার সমর্থকরা সকালে কেন্দ্রে এসে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল খায়েরকে হুমকি দেন। এ নিয়ে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ওই প্রার্থীর কয়েকজন সমর্থক এসে ‘ওপেন ভোট’ নিতে আমাকে চাপ দেন। আমি রাজি না হয়ে গোপনকক্ষে ভোট দেয়ার কথা বললে, তারা আমাকে হুমকি দেন। পরে বিষয়টি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জানিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুজিবুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

রোবাবর সকাল ৮টা থেকে নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর ও সরাইল উপজেলার ৩২ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ৩১৮ টি কেন্দ্রে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

আরও পড়ুন:
কাউন্সিলর খোরশেদের বিরুদ্ধে সেই নারীর মামলা

শেয়ার করুন

পা অচল, হাতে ভর দিয়েই ভোটকেন্দ্রে মোর্শেদা

পা অচল, হাতে ভর দিয়েই ভোটকেন্দ্রে মোর্শেদা

দুই হাতে ভর দিয়ে ভোট দিতে আসা মোর্শেদা বেগম। ছবি: নিউজবাংলা

মোর্শেদা বলেন, ‘আমাদের ভাশখোলা খুবই শান্তিপ্রিয় এলাকা। ভোটের দিন সবাই আসে ভোট দিতে। এলাকায় একটা উৎসবের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমার ভালো লাগে দেখতে। তাই আমিও এসেছি। খুশি লাগছে অনেক।’

মোর্শেদা বেগমের বয়স যখন দেড় বছর তখন টাইফয়েডে দুই পা অচল হয়ে যায়। দুই হাতে ভর দিয়ে পা টেনে টেনে চলতে হয় তাকে। তবুও ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন।

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার উত্তর ইলিয়টগঞ্জ ইউনিয়নের ভাশখোলা কেন্দ্রে রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসেন মোর্শেদা।

ভোট দিয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের ভাশখোলা খুবই শান্তিপ্রিয় এলাকা। ভোটের দিন সবাই আসে ভোট দিতে। এলাকায় একটা উৎসবের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমার ভালো লাগে দেখতে। তাই আমিও এসেছি। খুশি লাগছে অনেক।’

মোর্শেদার সঙ্গে এসেছেন ভাই মো. রবিউল। তিনি বলেন, ‘আমডার (আমাদের) বাড়ি ভাশখোলা পূর্বপাড়া। আমার বইনডার বয়স যহন ১৮ মাস তহন টাইফড জ্বরে পাওডি অচল হইয়া গেছে। বিয়া দিছিলাম। জামাইডা চইল্লা গেছে।

‘আমার পাঁচ বছরের ভাগিনাডারে লইয়া বইনডা আমডার বাইত থাহে। টেইলারের কাম কইরা যা আয় হয় তা দিয়া পোলারে লইয়া চলে।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে দেশের ১ হাজার ইউনিয়নে চলছে ভোট।

১ হাজারটি ইউপিতে ভোটার সংখ্যা ২ কোটি ১৪ লাখ ৯ হাজার ২৭৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ২১ লাখ ৫ হাজার ৪২৩ জন । নারী ভোটার ৯৯ লাখ ৩২ হাজার ৫৩০ জন। এর বাইরে ট্রান্সজেন্ডার ভোটার আছেন ১৯ জন।

আরও পড়ুন:
কাউন্সিলর খোরশেদের বিরুদ্ধে সেই নারীর মামলা

শেয়ার করুন

নাতিদের কাঁধে চড়ে নয়া মিয়ার ভোট

নাতিদের কাঁধে চড়ে নয়া মিয়ার ভোট

দুই নাতি নয়া মিয়াকে নিয়ে আসেন ভোট দিতে। ছবি: নিউজবাংলা

নাতি সজীব বলেন, ‘কাল রাইতোত নানা বলি রাখছে, তোমরা মোক ভোট দিবের নিবেন। নানা খাঁড়া হতে পারে না কিন্তু ভোট দিবের খুব ইচ্ছা।’

‘কয়দিন থাকি মোর কাছোত (কাছে) মেলা মানুষ আইসে ভোট চায়। মোরও খুব মন চায় ভোট দিবের (দেয়ার)। শরীল তো চলে না, নাতিরা ঘাড়োত করি তুলি আনছে। কোনোমতে আসি ভোট দিনুং (দিলাম)। ভোট দিয়ে খুব ভালো নাগছে।’

ভোট দিয়ে এভাবেই নিজের কথা বলছিলেন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের বাহাগালি গ্রামে নয়া মিয়া। নয়া মিয়ার বয়স প্রায় ১৩৫ বছর।

দুই নাতি দেলোয়ার হোসেন ও সজীব রহমানে সাহায্যে রোববার সকাল পৌনে নয়টার দিকে কাউনিয়া উপজেলার সিংহের কুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন নয়া মিয়া।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মোর বয়স মেলা হইচে, কানে কম শোনোং। নাতিক কইচোং (বলেছি), ওমরা (ওরা) মার্কা দেকি ভোট দিচে।’

নাতি দেলোয়ার হোসেন জানান, তাদের নানা কোনোবারই ভোট বাদ দেন না। ভোট দেয়ার প্রতি ওনার খুব আগ্রহ। নাতিরা প্রতিবারই তাকে এভাবে কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।

আরেক নাতি সজীব বলেন, ‘কাল রাইতোত নানা বলি রাখছে, তোমরা মোক ভোট দিবের নিবেন। নানা খাঁড়া হতে পারে না কিন্তু ভোট দিবের খুব ইচ্ছা।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে রংপুর সদর, কাউনিয়া ও তারাগঞ্জে এবং একই দিনে পীরগঞ্জ পৌরসভায় ভোট চলছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে চাই। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র‍্যাব, আনসার সদস্যরা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
কাউন্সিলর খোরশেদের বিরুদ্ধে সেই নারীর মামলা

শেয়ার করুন

নির্বাচনি সহিংসতায় যুবক নিহত, হয়নি মামলা

নির্বাচনি সহিংসতায় যুবক নিহত, হয়নি মামলা

নিহত কুতুবউদ্দিন আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম জানান, নির্বাচনকে ঘিরে শনিবার বিকেলে কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদপ্রার্থী ইকতিয়ার ও হবিবর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় পক্ষের ১১ থেকে ১২ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কুতুবউদ্দিন আহমেদ সন্ধ্যায় মারা যান। মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ বা মামলা করেনি। মামলা না হলেও হামলাকারীদের আটকে অভিযান চলছে।

যশোরের শার্শায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে রুদ্রপুর বাজারে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

এরই মধ্যে উপজেলার ডিহি ইউনিয়নে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে রোববার নির্বাচনী সহিংসতায় আরও চারজন আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তারা কোন দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থক সে বিষয়টি এখনও জানা যায়নি।

এর আগে শনিবার সহিংসতার ঘটনায় আহত হয়েছেন আলাউদ্দীন, ইউনুস আলী, শাহাবুদ্দিন, আরশাদ আলী, ইখতিয়ার, আমিরুল, কাওসার ও রাব্বি নামের ৮ জন। তারা যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত যুবকের নাম কুতুবউদ্দিন আহমেদ। ৪০ বছরের কুতুবউদ্দিনের বাড়ি রুদ্রপুর গ্রামেই।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক নাহিদ শাহরিয়ার সাব্বির বলেন, ‘আমি কুতুবউদ্দিনকে মৃত পেয়েছি। তার মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম জানান, নির্বাচনকে ঘিরে শনিবার বিকেলে কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদপ্রার্থী ইকতিয়ার ও হবিবর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় পক্ষের ১১ থেকে ১২ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কুতুবউদ্দিন আহমেদ সন্ধ্যায় মারা যান।

ওসি বলেন, ‘মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ বা মামলা করেনি। তবে মামলা না হলেও হামলাকারীদের আটকে অভিযান চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আবার যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এ জন্য রুদ্রপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
কাউন্সিলর খোরশেদের বিরুদ্ধে সেই নারীর মামলা

শেয়ার করুন

৩১ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক থাকেন ‘একজন’

৩১ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক থাকেন ‘একজন’

নেত্রকোণার ৩১ শয্যার এই হাসপাতালে চিকিৎসক থাকেন মাত্র একজন। ছবি: নিউজবাংলা

নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলা হাসপাতালে কাগজে-কলমে পাঁচজন চিকিৎসক থাকলেও বাস্তবে দেখা মেলে মাত্র একজনের। কর্মরত চিকিৎসকরা সেখানে সপ্তাহভিত্তিক পালা করে থাকেন। সেই একজন চিকিৎসক দিয়েই চলে গোটা উপজেলার লক্ষাধিক বাসিন্দার চিকিৎসা।

নেত্রকোণার বানিয়াহাটি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা অমলেন্দু দেব রায় কিছুদিন আগে প্রস্রাবজনিত সমস্যা নিয়ে সকাল ৭টার দিকে গিয়েছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে দেখেন, পুরো হাসপাতালেই নেই কোনো চিকিৎসক। ওয়ার্ডবয় আর চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা চালাচ্ছেন জরুরি বিভাগ।

অমলেন্দু রায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে কর্মচারীরা হাসপাতালের কোয়ার্টারে থাকা এক চিকিৎসককে ফোন করলে তিনি কিছু ওষুধের কথা বলে দেন। তবে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় অমলেন্দু নিজেই পরে ফোন করেন চিকিৎসককে। এর ঘণ্টাখানেক পর ওই চিকিৎসক হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে রীতিমতো দুর্ব্যবহার করেন।

ঘটনাটি নেত্রকোণার হাওরদ্বীপ খ্যাত খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। লক্ষাধিক জনসংখ্যার দুর্গম উপজেলাটিতে এটিই একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র। তবে চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামাদির অভাব এবং অবহেলা ও নানা অব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি থেকে স্থানীয়রা ন্যূনতম সেবাও পাচ্ছেন না।

সাধারণ চিকিৎসার জন্যও তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে জেলা সদর বা কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের হাসপাতালগুলোর ওপর। অথচ অবকাঠামোর দিক দিয়ে খালিয়াজুরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অন্য অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চেয়ে উন্নত।

৩১ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক থাকেন ‘একজন’
২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপহার হিসেবে একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স দেন, কিন্তু নেই কোনো চালক

৩১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির এটির নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয় প্রায় দুই যুগ আগে। এ হাসপাতালে রোগীদের সেবা নিশ্চিতে চিকিৎসকের ১০টি পদ থাকলেও আছেন পাঁচজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে কাগজে-কলমে পাঁচজন চিকিৎসক থাকলেও বাস্তবে দেখা মেলে মাত্র একজনের। কর্মরত চিকিৎসকরা সেখানে সপ্তাহভিত্তিক পালা করে থাকেন। সেই একজন চিকিৎসক দিয়েই চলে গোটা উপজেলার লক্ষাধিক বাসিন্দার চিকিৎসা।

আধুনিক জীবনযাত্রা এবং প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ না থাকায় চিকিৎসক-কর্মচারীদের কেউই সেখানে থাকতে চান না। কাউকে সেখানে নিয়োগ দেয়া হলেও তদবির করে কিছুদিনের মধ্যেই অন্য স্থানে বদলি হয়ে যান।

এ ছাড়া পাঁচটি ইউনিয়ন সাব-সেন্টারের জন্য পাঁচজন মেডিক্যাল অফিসার থাকার কথা থাকলেও সেই পদগুলোও খালি পড়ে আছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চিকিৎসকের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদও এক-তৃতীয়াংশ খালি। কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৮৬টি পদের বিপরীতে আছেন ৩২ জন। গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি।

সবশেষ হাসপাতালটিতে নার্সের ১৪ পদের বিপরীতে ছিলেন ৯ জন। মাসখানেক আগে তাদের সবাইকে অন্য স্থানে বদলি করা হয়েছে। এরই মধ্যে তিনজন চলে গেছেন। নতুন কেউ না আসায় বাকিরা যেতে পারছেন না।

৩১ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক থাকেন ‘একজন’
নৌকায় অথবা কাদাপানি মাড়িয়ে প্রসূতিরা সেবা নিতে গেলেও পড়েন নানা বিড়ম্বনায়। ছবি: নিউজবাংলা

এ ছাড়া চারজন মিডওয়াইফের জায়গায় আছেন দুজন। উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসারের দুটি পদে একজনও নেই। দুজন ফার্মাসিস্টের জায়গায় আছেন একজন। রেডিওগ্রাফারের পদ মাত্র একটি, সেটিও শূন্য।

মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের (ল্যাবরেটরি) দুটি পদেও কেউ নেই। কাগজপত্রে একজন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) কাজ করলেও তিনি প্রায় এক যুগ ধরে প্রেষণে অন্য হাসপাতালে দায়িত্বে আছেন। ওয়ার্ডবয়ের তিনটি পদে আছেন একজন। আয়া ও বাবুর্চির দুটি করে পদ থাকলেও বাস্তবে একজনও নেই।

ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পাঁচ পদের সবই শূন্য। অফিস সহায়কের পাঁচটি পদেও কেউ নেই।

আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ করা কিছু জনবল দিয়ে চালানো হচ্ছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের কিছু দায়িত্ব। তবে নানা অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

হাসপাতালের চিকিৎসা যন্ত্রগুলোও ব্যবহার হয় না ঠিকমতো। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, শুরু থেকেই হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি অকেজো। রেডিওগ্রাফার না থাকায় তা মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয় না। আল্ট্রাসনোগ্রাফির মেশিনটি সচল থাকলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক না থাকায় সেটি বাক্সবন্দি।

মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরেটরি) না থাকায় প্যাথলজি বিভাগটিও কবে থেকে বন্ধ কেউ বলতে পারেননি।

সড়কের দুরবস্থার কারণে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই। তবে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপহার হিসেবে একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স দেন, কিন্তু চালকের কোনো পদ সৃষ্টি করা হয়নি।

৩১ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক থাকেন ‘একজন’
বছরের প্রায় ছয় মাস ক্লিনিকগুলোর চারপাশ অথৈ পানিতে নিমজ্জিত থাকে

স্থানীয় উপজেলা পরিষদ অস্থায়ীভাবে একজন চালক নিয়োগ করলেও অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ এবং ওঠা-নামায় সমস্যার কারণে এটি সচরাচর ব্যবহার করেন না কেউ। এ ছাড়া কম পানির রাস্তায়ও এটি চলে না।

তারা আরও জানান, হাসপাতালটির বহির্বিভাগে প্রতিদিন এক থেকে দেড় শ রোগী চিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে আসেন। কখনও চিকিৎসক, আবার কখনও নার্স বা অন্য কর্মচারীরা তাদের চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ভর্তি করা রোগীর সংখ্যা থাকে সব সময়ই অনেক কম। গড়ে আট-দশজন। তাদের মধ্যে কিছুসংখ্যক আবার বিভিন্ন মামলার আসামি। মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিতে তারা ভর্তি থাকেন।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় বেশি জটিল বা সংকটাপন্ন রোগীরা কখনই ভর্তি হতে আসেন না। চলে যান জেলা সদরে অথবা ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জে।

উপজেলার মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার চিত্র আরও করুণ। ছয় ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকার কথা থাকলেও মেন্দিপুর ইউনিয়ন ছাড়া আর কোথায়ও তা নেই। একমাত্র ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতেও নেই কোনো চিকিৎসক।

কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা থেকেও বঞ্চিত খালিয়াজুরীর হাওরের বাসিন্দারা। ছয় ইউনিয়নে ১৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ১০টি। এসব ক্লিনিকে ১৮ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র সাতজন।

অবকাঠামোগত অসুবিধার কারণেও এসব ক্লিনিক থেকে প্রয়োজনীয় সেবা পান না রোগীরা। দাউদপুর, পাঁচহাট, আদমপুর ও নাজিরপুর গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর চারপাশে কোনো রাস্তাই নেই। প্রায় ছয় মাস ক্লিনিকগুলোর চারপাশ অথৈ পানিতে নিমজ্জিত থাকে। নৌকায় অথবা কাদাপানি মাড়িয়ে প্রসূতিরা সেবা নিতে গেলেও পড়েন নানা বিড়ম্বনায়।

খালিয়াজুরী উপজেলা সদরের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কর্মী স্বাগত সরকার শুভ বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এ উপজেলার বাসিন্দাদের জরুরি ও জটিল চিকিৎসার একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র। এখানে আর কোনো বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র নেই। এমনকি একটি প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারও নেই গোটা উপজেলায়।

‘তাই প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করে এখানকার প্যাথলজি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে বিভাগটি চালুর পাশাপাশি চিকিৎসকদের শূন্য পদগুলো পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি।’

উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মহসিন মিয়া বলেন, ‘দিনের বেলায় ডেকেডুকে হলেও অন্তত একজন চিকিৎসক পাওয়া যায়, কিন্তু রাতে নার্স-কর্মচারীরা ছাড়া আর কোনো ভরসা মিলে না। এ কারণে রাতে কেউ অসুস্থ হলে তার স্বজনদের মারাত্মক দুশ্চিন্তা ও দুর্ভোগে পড়তে হয়।

‘গভীর রাতে হাওরের অথৈ জলরাশি বা দুর্গম পথ মাড়িয়ে ছুটতে হয় জেলা সদর বা আশপাশের উপজেলায়, যা দুঃখজনক। বিশেষ করে প্রসূতি নারীদের নিয়ে প্রায়ই এমন বিপাকে পড়তে হয়।’

খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আতাউল গণি উসমানী বলেন, ‘জনবলের অভাবই এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সংকট।’

এ ছাড়া কর্মরত চিকিৎসকদের পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘দুর্গম এই জনপদে থাকা-খাওয়ার কোনো সু-ব্যবস্থা নেই। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় একেকজনকে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই তারা সপ্তাহে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।’

জেলা সিভিল সার্জন সেলিম মিঞা বলেন, ‘খালিয়াজুরীসহ হাওরাঞ্চলের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই জনবল সংকট রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। এ ছাড়া এই দুর্গম জনপদে কেউ থাকতে চায় না। কাউকে এখানে নিয়োগ দেয়া হলে যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই বদলির জন্য তদবির শুরু করেন।

‘অনেকে রাজনৈতিক তদবিরে বদলি হয়ে চলে যান। তবে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে কিছু জনবল নিয়ে আমরা সংকট সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। তা ছাড়া শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের জন্যও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছি।’

আরও পড়ুন:
কাউন্সিলর খোরশেদের বিরুদ্ধে সেই নারীর মামলা

শেয়ার করুন

ইউপি নির্বাচনে উৎসবমুখর ভোটকেন্দ্র

ইউপি নির্বাচনে উৎসবমুখর ভোটকেন্দ্র

ভোর থেকেই কেন্দ্রে অপেক্ষা করতে দেখা যায় ভোটারদের। ছবি: নিউজবাংলা

নেত্রকোণার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ঘিরে গ্রামীণ মেলার আবহ তৈরি হয়েছে। রোববার ভোর থেকেই কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই ভোটারদের কেন্দ্রের সামনে সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

বিদ্যালয় ভবনের চারপাশে গাছে গাছে ঝুলানো হয়েছে নানা প্রতীকের পোস্টার। শীতের সকালের হিমেল হাওয়ায় দোল খাচ্ছে সেগুলো। গাছের নিচে চাটাই বিছিয়ে খেজুর, নাড়ু, বুট, বাদাম, তিলের তক্তি, মুড়ির মোয়াসহ নানা খাদ্যদ্রব্যের পসার সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা।

নেত্রকোণা জেলার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর উপজেলার কাকরগড়া ইউনিয়নের ডেউটুকুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। কংস নদের পাড়ে এ বিদ্যালয়ে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ঘিরে এক গ্রামীণ মেলার আবহ তৈরি হয়েছে।

রোববার সকাল ৭টার দিকে ওই কেন্দ্রে গিয়ে এ উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়।

ইউপি নির্বাচনে উৎসবমুখর ভোটকেন্দ্র
নির্বাচন ঘিরে ভোটের কেন্দ্রগুলোতে মেলা বসেছে। ছবি: নিউজবাংলা

কাকডাকা ভোর থেকেই ভোটাররা কেন্দ্রের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। দুই লাইনে শতাধিক নারীকে ভোট দেয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

এ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লক্ষ্মী রাণী বর্মন জানান, সকালে ভোট শুরুর আগেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরে রান্নাবান্না করবেন।

দোকানি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দোকানডা বসানির সাথে সাথেই বেচা শুরু অইয়া গেছে।’

ডেউটুকুন গ্রামের প্রবীণ ভোটার নকুল পাল জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে এই কেন্দ্রে ভোটের দিন মেলা বসে। উৎসবমুখর পরিবেশে হয় ভোটগ্রহণ।

উপজেলার কৃষ্ণেরচর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, দক্ষিণ গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে একই চিত্র। স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলবেঁধে কেন্দ্রে আসছেন ভোটাররা।

ইউপি নির্বাচনে উৎসবমুখর ভোটকেন্দ্র
ভোটকেন্দ্রে নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ছবি: নিউজবাংলা

তৃতীয় ধাপে জেলার দুর্গাপুর, পূর্বধলা ও কলমাকান্দা উপজেলার ২৫ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন চলছে আজ।

২৫টি ইউনিয়নে ১০৮ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীসহ সংরক্ষিত ও সদস্য পদে মোট এক হাজার ২২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫ লাখ ৯৬ হাজার ২২৫ জনের ভোট গ্রহণ করতে ২৪২টি কেন্দ্রে ৫ হাজার ২২৫ জন নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
কাউন্সিলর খোরশেদের বিরুদ্ধে সেই নারীর মামলা

শেয়ার করুন

‘সহিংসতার আশঙ্কায়’ লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ আটক ৩০

‘সহিংসতার আশঙ্কায়’ লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ আটক ৩০

রামগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার জন্য বাদুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অনেকে অবস্থান নিয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে এলজি, ছোরা, রামদাসহ ৩০ জনকে আটক করা হয়।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কায় অস্ত্রসহ ৩০ জনকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রামগঞ্জ উপজেলার বাদুর ইউনিয়নের দাশবাড়ি, মধ বাদুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাদের আটক করা হয়।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার জন্য বাদুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অনেকে অবস্থান নিয়েছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে এলজি, ছোরা, রামদাসহ ৩০ জনকে আটক করা হয়।

ওসি বলেন, ‘ওই ৩০ জনকে থানার হাজতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। ভোটে যেন কোনো সহিংসতা সৃষ্টি না হয় পুলিশ সে জন্য সতর্ক আছে।’

রোববার সকাল ৮টা থেকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা এবং রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলার ২০ ইউনিয়নে ভোট শুরু হয়েছে।

এর মধ্যে রায়পুর উপজেলার তিন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও দুই উপজেলার সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদে ১৬ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন:
কাউন্সিলর খোরশেদের বিরুদ্ধে সেই নারীর মামলা

শেয়ার করুন