বাস ধর্মঘটে ট্রেনে ‘ঈদের চাপ’

বাস ধর্মঘটে ট্রেনে ‘ঈদের চাপ’

পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যে দূরের যাত্রীদের একমাত্র ভরসায় পরিণত হয়েছে ট্রেন। ছবিটি রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে থেকে তোলা।নিউজবাংলা

কমলাপুর রেল স্টেশন গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের প্রবেশ মুখেই হাজারো যাত্রীর জটলা। বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বাস না পেয়ে তারা এখানে ছুটে এসেছেন। প্রত্যেকটি ট্রেন যাত্রীতে টইটম্বুর। অতিরিক্ত বগি লাগিয়েও সামাল দেয়া যাচ্ছে না পরিস্থিতি।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে ভাড়া সমন্বয়ের দাবিতে পরিবহন ধর্মঘটে দূর যাত্রার মানুষের প্রধান ভরসায় পরিণত হয়েছে ট্রেন। ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনও রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। যেন ঈদের চাপ!

কমলাপুর রেল স্টেশন গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের প্রবেশ মুখেই হাজারো যাত্রীর জটলা। বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বাস না পেয়ে তারা এখানে ছুটে এসেছেন। প্রত্যেকটি ট্রেন যাত্রীতে টইটম্বুর। অতিরিক্ত বগি লাগিয়েও সামাল দেয়া যাচ্ছে না পরিস্থিতি।

স্টেশনে প্রবেশ মুখে হাতে জরিমানার রশিদ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন টিটিরা। টিকিট না থাকায় সেই জরিমানার রশিদে ভাড়ার টাকা সংগ্রহ করে যাত্রীদের ভ্রমণ করার সুযোগ করে দিচ্ছেন তারা। নির্দিষ্ট গন্তব্যের ট্রেন এলে যাত্রীদের ডেকে নিচ্ছেন রেলের কর্মচারীরা। এরপর ভাড়া পরিশোধ করে যাত্রীরা স্টেশনে প্রবেশ করছেন।

জরিমানার রশিদে ভাড়ার টাকা গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেশনের টিটি আবু তালেব বলেন, ‘সব কাউন্টার বন্ধ। আর মানুষের যে চাপ তাতে এত টিকিট দেয়া সম্ভব না। তাই আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, এই সংকট সামাল দেয়ার জন্য। ট্রেনে জরিমানা করার জন্য যে স্লিপ ব্যবহার করি সেটাই টিকিট হিসেবে যাত্রীদের দিয়ে দিতে বলা হয়েছে। আমরা সেই কাজটাই করছি।’

যারা এভাবে টিকিট কাটছেন তাদের সিট দেয়া সম্ভব কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এতো সিট কীভাবে দেয়া যাবে? যাত্রীরা কাউন্টার থেকে যে স্ট্যান্ডিং টিকিট করতো সেটাই আমরা এই স্লিপের মাধ্যমে দিচ্ছি।’

কথা হয় কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পরিবহন ধর্মঘটের কারণে যাত্রীদের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। সারা বছরে একমাত্র ঈদের সময় আমরা এমন চাপের সম্মুখীন হই। শুক্রবার আরও বেশি চাপ ছিল। ট্রেনে দরজায় ঝুলে মানুষ যাচ্ছে।

‘আমরা যাত্রীদের সর্বোচ্চ সাপোর্ট দেয়ার চেষ্টা করছি। তাদের এত টিকেট দেয়া সম্ভব না। তাই জরিমানার রশিদেই ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ট্রেনেই আমরা অতিরিক্ত বগি যুক্ত করে দিয়েছি।’

কমলাপুরের যাত্রীদের অধিকাংশই পরীক্ষার্থী। শুক্রবার-শনিবার ঢাকায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষা। দেশের প্রায় সব জেলা থেকে পরীক্ষার্থীরা এসেছেন সেসব পরীক্ষায় অংশ নিতে। বাস বন্ধ থাকায় তাদের ভোগান্তির শেষ নেই।

বাস ধর্মঘটে ট্রেনে ‘ঈদের চাপ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৭ কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে রাজশাহী থেকে শুক্রবার রাতে ট্রেনে করে ঢাকায় এসেছেন শিশির। তার চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট।

নিউজবাংলাকে শিশির বলেন, ‘আমি খুবই ক্লান্ত। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না। ভর্তি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় আসতে বাসের টিকিট কাটা ছিল, কিন্তু ধর্মঘটের কারণে গতকাল রাতে ট্রেনে করে রওনা হয়েছি। সিট পাইনি, পুরো রাস্তা দাঁড়িয়ে এসেছি। সকালে ট্রেন থেকে নেমে সরাসরি পরীক্ষার হলে গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে এখন আবার স্টেশনে এসে স্ট্যান্ডিং টিকেট কাটলাম। আবারও দাঁড়িয়েই যেতে হবে। বিষয়টা আমার কাছে দুঃস্বপ্নের মত।’

স্টেশনে প্ল্যাটফর্মে কথা হয় রোকনুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা দিয়ে ট্রেনে করে ঢাকায় এসেছেন। এখন যাবেন পাবনায় নিজ বাড়িতে।

রোকন জানালেন, বাস বন্ধ থাকায় ট্রেনে করে পাবনা থেকে প্রথমে ঢাকায় এসেছেন, ঢাকা থেকে ট্রেনে করে আবার চট্টগ্রাম গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে এসেছেন। আবার দাঁড়িয়ে যাবেন পাবনায়।

গত বুধবার রাতে ডিজেলের দাম এক লাফে ১৫ টাকা বা ২৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৮০ টাকা নির্ধারণ করে জ্বালানি বিভাগ। বৃহস্পতিবার সকালেই পণ্যবাহী গাড়ির মালিক-শ্রমিকদের সংগঠন ধর্মঘটে যাওয়ার ডাক দেয়। জেলায় জেলায় বাস না চালানোর ঘোষণাও দেয়া হয়।

কেন্দ্রীয়ভাবে বাসমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি বিআরটিএ’র কাছে ভাড়া যৌক্তিক হারে বাড়াতে আবেদন করে। সে আবেদনে লেখা ছিল, জেলায় জেলায় বাসমালিকরা বলছেন, বিদ্যমান ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করলে তাদের লোকসান হবে। তাই তারা বাস চালাবেন না।

এই ধর্মঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুন:
ঢাকা থেকে ট্রেনে এক ঘণ্টায় চট্টগ্রাম
শাটল ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুর মৃত্যু
বিকল ট্রেনে বাড়ল পরীক্ষার্থীদের ভাবনা
ট্রেনে ট্রাকের ধাক্কা, সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর সচল রেললাইন
ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলে নিহত, আহত ২ 

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দিন ফুরায় টিসিবির ট্রাকের পেছনে লাইন ফুরায় না

দিন ফুরায় টিসিবির ট্রাকের পেছনে লাইন ফুরায় না

কারওয়ান বাজারে টিসিবির ট্রাকের পেছনে বুধবার সন্ধ্যায়ও ছিল ক্রেতার দীর্ঘ লাইন। ছবি: নিউজবাংলা

‘বাজারে দুই লিটার তেল কিনতেই ৩২০ টাকা লাগে, যা এখানে ২২০ টাকায় পাওয়া যায়। দুই লিটার তেল, দুই কেজি ডাল, তিন কেজি পেঁয়াজের প্যাকেজ ৪৩০ টাকা নিয়েছে। কষ্ট করে দুই দিন লাইনে দাঁড়ালে মাসের তেল, চিনি, ডাল, পেঁয়াজের জন্য আর ভাবতে হয় না।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ট্রেডিং করপোরেশন (টিসিবি) ভবনসংলগ্ন রাস্তায় বুধবার শেষ বিকেলেও দাঁড়িয়ে ছিল টিসিবির ট্রাক। সন্ধ্যা আসন্ন, অদূরে মসজিদের মাইকে মাগরিবের নামাজের আজান। তখনও ট্রাকের পেছনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় টিসিবির পণ্যে ঝুঁকছেন অপেক্ষাকৃত কিছুটা বাড়তি আয়ের মানুষও। অপেক্ষমাণ ক্রেতার সারিতে নিম্নবিত্তদের সঙ্গে আছেন মধ্যবিত্তসহ সরকারি চাকুরেরাও। দিন ফুরালেও টিসিসির ট্রাকের পেছনের লাইন যেন শেষ হয় না।

লাইনের পাশে দাঁড়ানো মাঝবয়সী নারী জুলি বেগম এসেছেন মগবাজার দিলু রোড থেকে। দুই হাতে টিসিবির বেশ কিছু পণ্য। দুই ছেলে-মেয়ে এমবিএ পড়ছে। সংসারের ‍কিছু টাকা সাশ্রয়ের জন্য টিসিবির পণ্য কিনেছেন বলে জানালেন অপেক্ষাকৃত অবস্থাপন্ন পরিবারের এই নারী।

জুলি বেগম বললেন, ‘সংসার চালানোর হিসাবটা তো আমাকেই রাখতে হয়। বাজারে দুই লিটার তেল কিনতেই ৩২০ টাকা লাগে, যা এখানে ২২০ টাকায় পাওয়া যায়। দুই লিটার তেল, দুই কেজি ডাল, তিন কেজি পেঁয়াজের প্যাকেজ ৪৩০ টাকা নিয়েছে। কষ্ট করে দুই দিন লাইনে দাঁড়ালে মাসের তেল, চিনি, ডাল, পেঁয়াজের জন্য আর ভাবতে হয় না।’

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তার জন্য নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সারা দেশে সাড়ে ৪০০ ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। ৪ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বরাবরের মতোই ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই উদ্যোগ। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছে মানুষ।

নারী ও পুরুষ পৃথক লাইন করে পণ্য বিক্রি করা হয়। পণ্য কমে আসছে শুনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষ চিৎকার শুরু করে। তাদের একজন আমেনা বলে ওঠেন, ‘আধা ঘণ্টা খাড়ায়া আছি। এহন কিছু নাই কইলে অইব? আমরা তো কিছু পাই নাই। আমগো মাল দিতে অইবো।’

এ সময় ট্রাকের বিক্রয়কর্মী সবুজ তাদের আশ্বস্ত করে বলেন- ‘পণ্য এখনো শেষ হয়নি, সবাই পাবেন। আজ চিনি একটু কম পাইছি, তাই শেষ গেছে। কাস্টমার বেশি, প্যাকেজ করে বিক্রি করতেছি। এতে সময়ও কম লাগে, কাস্টমারগো লাইনে বিশক্ষণ দাঁড়াইতেও হয় না। কেউ শুধু তেল, ডাল বা অন্য কিছু চাইলেও দিচ্ছি। সব বিক্রি করেই যাব। তবে মানুষ বেশি চায় তেল ও ডাল। এ দুটো পণ্য পরিমাণে বেশিও পাইছি।’

কারওয়ান বাজারেই একটা সরকারি অফিসে চাকরি করেন আসাদুর রহমান। অফিস শেষ করে রাস্তায় টিসিরি ট্রাক দেখে তিনিও দাঁড়িয়ে যান লাইনে। বলেন, ‘খরচ তো সবারই বেড়েছে। দুশ’ টাকা বাঁচলেও অনেক। বাসায়ই যাচ্ছিলাম, পথে কিছু কিনে নিলাম। বাসায় যেতে না হয় ২০ মিনিট দেরি হবে। টাকা তো কিছু বাঁচল। এখানে আমার দুই কলিগও আছে।’

চারটি পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি শুরু হয়েছে টিসিবি। জনপ্রতি প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকায় সর্বোচ্চ দুই কেজি, মসুর ডাল ৬০ টাকা দরে সর্বোচ্চ দুই কেজি, সয়াবিন তেল ১১০ টাকা দরে সর্বোচ্চ দুই লিটার আর পেঁয়াজ ৩০ টাকা দরে সর্বোচ্চ চার কেজি বিক্রি করা হয়। তবে ক্রেতার চাহিদা বুঝে পণ্য কমবেশি করেও বিক্রি হয়।

বেসরকারি চাকরিজীবী নজরুল বলেন, ‘বাজারে তেলের অনেক দাম। অফিস থেকে বের হয়ে দেখলাম ট্রাক। তাই তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ালাম। দুই লিটার তেল নিয়ে যাব। আরেকদিন এলে পুরো মাসের তেলের ভাবনা করতে হবে না।

ট্রাক থেকে একটু দূরে তিনটি প্যাকেট নিয়ে বসে থাকতে দেখা গেল অল্পবয়সী এক মেয়েকে। এগুলো কার প্রশ্ন করতেই লাইনে দাঁড়ানো মাঝবয়সী এক নারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘বাবা কী করমু, প্রত্যেক দিন তো আইতে পারি না, কাম থাকে। তাই ছেলে-মেয়ে নিয়া এক লগে লাইনে দাঁড়াইছি। পুরা মাস যাতে আর আসন না লাগে।’

টিসিবি জানায়, দিনে প্রতি ট্রাকে ২০০ থেকে ৫০০ কেজি চিনি, ৩০০ থেকে ৬০০ কেজি মসুর ডাল, ৪০০ থেকে ৬০০ লিটার সয়াবিন তেল এবং ৫০০ থেকে এক হাজার কেজি পেঁয়াজ দেয়া হয়। ক্রেতার চাহিদা ‍বুঝে পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা থেকে ট্রেনে এক ঘণ্টায় চট্টগ্রাম
শাটল ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুর মৃত্যু
বিকল ট্রেনে বাড়ল পরীক্ষার্থীদের ভাবনা
ট্রেনে ট্রাকের ধাক্কা, সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর সচল রেললাইন
ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলে নিহত, আহত ২ 

শেয়ার করুন

আলালের কুশপুতুলে ছাত্রলীগ কর্মীদের আগুন

আলালের কুশপুতুলে ছাত্রলীগ কর্মীদের আগুন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করায় পদত্যাগী তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের পদত্যাগ ও শাস্তির দাবিতে বিএনপির নানা বক্তব্যের মধ্যে বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের একটি ‘কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ এনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেপ্তার ও তার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

বুধবার জবি ছাত্রলীগের সম্মেলন কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ হয়। মিছিল শেষে আলালের কুশপুতুলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে শুরু করে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। পরে ভিক্টোরিয়া পার্কের মোড় হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন নেতা-কর্মীরা। সেখানেই আলালেন কুশপুতুলে আগুন দেয়া হয়।

এরপর সেখানে ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর বিক্ষোভ মিছিলটি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এসে শেষ হয়।

মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তিকারী বিএনপি নেতা আলালকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানাচ্ছি।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করায় পদত্যাগী তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের পদত্যাগ ও শাস্তির দাবিতে বিএনপির নানা বক্তব্যের মধ্যে বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের একটি ‘কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে।

বিএনপি ঘরানার একটি আলোচনায় দলটির যুগ্ম মহাসচিব আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জড়িয়ে এমন একটি মন্তব্য করেন, যেটি জাইমাকে নিয়ে মুরাদ হাসানের করা মন্তব্যের প্রায় কাছাকাছি।

ব্যক্তিগত সম্পর্ক বিষয়ে অশালীন বক্তব্য ছাড়াও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও উসকানিমূলক বক্তব্য রাখেন আলাল।

এই ভিডিও পোস্ট করে বিএনপি নেতার শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আলালের বিরুদ্ধে বিএনপি কী ব্যবস্থা নেবে- সেই প্রশ্ন রেখেছেন ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারাও।

আলালের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

বিএনপি আলালের পক্ষেই আছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবৃতি দিয়ে তাদের দলের নেতার বক্তব্যকে ‘ন্যায়সঙ্গত সমালোচনা’ বলে দাবি করেছেন।

বিএনপির এমন প্রতিক্রিয়ার পর তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ দলটির সমালোচনা করে বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেন, কেউ অশোভন বক্তব্য করলে আওয়ামী লীগ সাজা দেয়, আর বিএনপি করে পুরস্কৃত।

আরও পড়ুন:
ঢাকা থেকে ট্রেনে এক ঘণ্টায় চট্টগ্রাম
শাটল ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুর মৃত্যু
বিকল ট্রেনে বাড়ল পরীক্ষার্থীদের ভাবনা
ট্রেনে ট্রাকের ধাক্কা, সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর সচল রেললাইন
ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলে নিহত, আহত ২ 

শেয়ার করুন

গাড়ি চালিয়ে ভারত গেলেন প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার

গাড়ি চালিয়ে ভারত গেলেন প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার

প্রতিমন্ত্রী ১১ ডিসেম্বর কলকাতার সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফিফটি ইয়ার্স অফ ইনডিপেনডেন্টস অফ বাংলাদেশ’ বিষয়ে বক্তৃতা করবেন। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করবেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীর ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে ভারত গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

বুধবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সীমানায় প্রবেশ করেন তিনি।

সন্ধ্য়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিমন্ত্রী ১১ ডিসেম্বর কলকাতার সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফিফটি ইয়ার্স অব ইনডিপেনডেন্টস অফ বাংলাদেশ’ বিষয়ে বক্তৃতা করবেন।

এরপর তিনি কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক এ এস এম শামসুল আরেফীন সম্পাদিত Bangladesh @ 50 এবং সত্যম রায় চৌধুরী সম্পাদিত Bangabandhu for You বই দুটির মোড়ক উন্মোচন করবেন।

ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কারিগরি শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ূন কবীর।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক ও ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ-এর সভাপতি গৌতম ঘোষ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে এ এস এম শামসুল আরেফীন, ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশের সহসভাপতি সত্যম রায় চৌধুরী, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী, বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো ড. শ্রীরাধা দত্ত, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত সাংবাদিক মানস ঘোষ, কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিষ সূরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা থেকে ট্রেনে এক ঘণ্টায় চট্টগ্রাম
শাটল ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুর মৃত্যু
বিকল ট্রেনে বাড়ল পরীক্ষার্থীদের ভাবনা
ট্রেনে ট্রাকের ধাক্কা, সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর সচল রেললাইন
ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলে নিহত, আহত ২ 

শেয়ার করুন

আরেকটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

আরেকটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

প্রতীকী ছবি

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভারের বলিয়ারপুর থেকে নিমতলী-কেরানীগঞ্জ-ফতুল্লা-নারায়ণগঞ্জ বন্দর হয়ে লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত হবে এই এক্সপ্রেসওয়ে। এটির দৈর্ঘ্য হবে ৩৯ কিলোমিটার।

রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে আরেকটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। এটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প’।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার। ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সেতু বিভাগ।

বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটি নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভা পরিষদের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভারের বলিয়ারপুর থেকে নিমতলী-কেরানীগঞ্জ-ফতুল্লা-নারায়ণগঞ্জ বন্দর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত হবে এই এক্সপ্রেসওয়ে। এটির দৈর্ঘ্য হবে ৩৯ কিলোমিটার।

কবে নাগাদ ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এখন এটি টেন্ডারে দেয়া হবে।’

টেন্ডারে দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। সে জন্য তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে।

সেতু বিভাগ বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম-সিলেটসহ দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর যানবাহন ঢাকা শহরে প্রবেশ না করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ২০টি জেলায় সরাসরি চলাচল করতে পারবে। এর ফলে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট অনেকাংশে কমে আসবে।

ইস্ট-ওয়েস্ট এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বিষয়ে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের সর্ববৃহৎ ও ঘনবসতিপূর্ণ নগর ঢাকায় জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচলের জন্য ঢাকা শহরের বিদ্যমান সড়ক নেটওয়ার্ক প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

বিশেষত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং চট্টগ্রাম-সিলেটসহ পূর্বাঞ্চলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করতে হলে ঢাকা শহরে প্রবেশ করতে হয়। এর ফলে ঢাকা মহানগরে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এই যানজট নিরসনে আলোচ্য প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সেতু বিভাগ বলেছে, ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালে ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে। প্রস্তাবিত এক্সপ্রেসওয়েটি ‘রিভাইজড স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (আরএসটিপি)’-এ উল্লিখিত আউটার রিং রোডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার উপজেলার বলিয়ারপুর থেকে শুরু হয়ে কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর উপজেলা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁও উপজেলার লাঙ্গলবন্দে শেষ হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩১৬ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। এই জমির দাম, স্থাপনা ও অন্যান্য ক্ষতিপূরণ সরকারি খাত থেকে দেয়া হবে। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় বিদ্যমান পরিষেবাগুলো স্থানান্তরের ব্যয়ও সরকারি তহবিল থেকে করা হবে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা থেকে ট্রেনে এক ঘণ্টায় চট্টগ্রাম
শাটল ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুর মৃত্যু
বিকল ট্রেনে বাড়ল পরীক্ষার্থীদের ভাবনা
ট্রেনে ট্রাকের ধাক্কা, সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর সচল রেললাইন
ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলে নিহত, আহত ২ 

শেয়ার করুন

কক্সবাজারের ডিসিকে হাইকোর্টে তলব

কক্সবাজারের ডিসিকে হাইকোর্টে তলব

২০১৯ সালে কক্সবাজারের বিমানবন্দরের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে সেখানের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমানের ১৫ শতক জমিও ছিল, যার দাম ছিল প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। সেই ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝে না পাওয়ায় জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন দেন মাহবুবুর। কিন্তু সেই আবেদনের নিষ্পত্তি করেননি তিনি। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসককে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

আদালতের আদেশ উপেক্ষা করায় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদকে তলব করেছে হাইকোর্ট।

আগামী ১৩ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় ডিসিকে মামলার নথি আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আঞ্জুমান আরা লীমা, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।

আইনজীবী লীমা সাংবাদিকদের জানান, ২০১৯ সালে কক্সবাজারের বিমানবন্দরের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে সেখানের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমানের ১৫ শতক জমিও ছিল, যার দাম ছিল প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা।

সেই ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝে না পাওয়ায় জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন দেন মাহবুবুর। আবেদনটি নিষ্পত্তি না করায় হাইকোর্টে রিট করা হয়। শুনানিকালে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের লিখিত ব্যাখ্যা চায় আদালত। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কয়েকবার যোগাযোগ করলেও জেলা প্রশাসকের সাড়া মেলেনি। এরপর বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবীরা।

আদালত এই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত জেলা প্রশাসককে হাজির হতে নির্দেশ দেয় বলে জানান আইনজীবী লীমা। জানান, আগামী ১৩ ডিসেম্বর তাকে আদালতে হাজির হয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা না দেয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে

আরও পড়ুন:
ঢাকা থেকে ট্রেনে এক ঘণ্টায় চট্টগ্রাম
শাটল ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুর মৃত্যু
বিকল ট্রেনে বাড়ল পরীক্ষার্থীদের ভাবনা
ট্রেনে ট্রাকের ধাক্কা, সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর সচল রেললাইন
ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলে নিহত, আহত ২ 

শেয়ার করুন

বিমানযাত্রীর পেটে মিলল ২ হাজার ইয়াবা

বিমানযাত্রীর পেটে মিলল ২ হাজার ইয়াবা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ফাইল ছবি

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ‘সঞ্জয় কুমার নামে এক যাত্রীকে দেখে সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পাকস্থলীতে ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করেন। পরে ওই ব্যক্তি প্রাকৃতিক কার্যের মাধ্যমে ২ হাজার ৩৫ পিস ইয়াবা বের করে আনেন।’

পেটের ভেতর ইয়াবা বহনকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের এক যাত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তার পাকস্থলী থেকে বের করা হয়েছে ২ হাজার ৩৫ পিস ইয়াবা।

বুধবার কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসা একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট থেকে ওই যাত্রীকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক।

তিনি বলেন, সঞ্জয় কুমার নামে নভোএয়ারের VQ 934 ফ্লাইটের এক যাত্রীকে দেখে সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে তিনি মাদকসংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেন। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি পাকস্থলীতে ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করেন। এক্স-রে পরীক্ষা করলে তার পাকস্থলীতে ইয়াবার অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই প্রাকৃতিক কার্যের মাধ্যমে ২ হাজার ৩৫ পিস ইয়াবা বের করে আনেন।

যাত্রী সঞ্জয় কুমার জানান, তিনি কক্সবাজারের শফিকের কাছ থেকে এই ইয়াবা সংগ্রহ করেন এবং ঢাকায় মো. আরমান নামে এক ব্যক্তিকে ইয়াবার এই চালান পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল।

ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা থেকে ট্রেনে এক ঘণ্টায় চট্টগ্রাম
শাটল ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুর মৃত্যু
বিকল ট্রেনে বাড়ল পরীক্ষার্থীদের ভাবনা
ট্রেনে ট্রাকের ধাক্কা, সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর সচল রেললাইন
ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলে নিহত, আহত ২ 

শেয়ার করুন

আবরার হত্যার রায়ে ন্যায়বিচার হয়েছে: আইনমন্ত্রী

আবরার হত্যার রায়ে ন্যায়বিচার হয়েছে: আইনমন্ত্রী

রাজধানীর গুলশানে নিজ কার্যালয়ে বুধবার আবরার হত্যা মামলার রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ছবি: নিউজবাংলা

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আবরার হত্যা মামলার রায়ে প্রকৃত ও ন্যায়বিচার করা হয়েছে৷ রাষ্ট্রপক্ষ অক্লান্ত পরিশ্রম করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করায় ধন্যবাদ জানাই।’

বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায়ে ন্যায়বিচার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

রাজধানীর গুলশানে নিজ কার্যালয়ে বুধবার বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বহুল আলোচিত আবরার হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আদালত। একই সঙ্গে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

রায়ের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আবরার হত্যা মামলার রায়ে এটা প্রমাণ হয় যে, দেশে আইনের শাসন আছে।’

তিনি বলেন, ‘আবরার হত্যা মামলার রায়ে প্রকৃত ও ন্যায়বিচার করা হয়েছে৷ রাষ্ট্রপক্ষ অক্লান্ত পরিশ্রম করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করায় ধন্যবাদ জানাই।’

আনিসুল আরও বলেন, ‘এটা বোঝা যায় যে, অন্যায় করে দেদারসে আর ঘুরে রেড়ানো যাবে না।’

মন্ত্রী বলেন, বিচারিক আদালত থেকে হত্যা মামলার নথি উচ্চ আদালতে এলে দ্রুত পেপারবুক তৈরির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে।

ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর কামরুজ্জামান বুধবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে আবরার হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামিদের খুব বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা

মেহেদী হাসান রাসেল, অনিক সরকার ওরফে অপু, মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মাজেদুর রহমান ওরফে মাজেদ, মুজাহিদুর রহমান ওরফে মুজাহিদ, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম ওরফে তানভীর, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, শামীম বিল্লাহ, সাদাত ওরফে এ এস এম নাজমুস সাদাত, মুনতাসির আল জেমী, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, এস এম মাহমুদ সেতু, সামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মাহমুদুল জিসান ও মুজতবা রাফিদ।

তাদের সবার বয়স ২০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। মৃত্যুদণ্ড পাওয়াদের মধ্যে এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মোহাম্মদ মোর্শেদ উজ্জামান মণ্ডল ওরফে জিসান ও মুজতবা রাফিদ পলাতক আছেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন যারা

অমিত সাহা, ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না, আকাশ হোসেন, মুহতাসিম ফুয়াদ ও মোয়াজ ওরফে মোয়াজ আবু হোরায়রা। তাদের বয়স ২১ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে।

মামলার সময় পরিক্রমা

আবরারকে যে রাতে হত্যা করা হয়, তার পরের দিন ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর তার বাবা ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে।

পাঁচ সপ্তাহ তদন্ত করে তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান ওই বছরের ১৩ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে যে অভিযোগপত্র জমা দেন, সেখানে আসামি করা হয় ২৫ জনকে।

অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গত ১৮ নভেম্বর পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। তাদের মধ্যে একজন পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে মামলাটি পরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ বদলির আদেশ দেয়া হয়। বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলাটির বিচারকাজ শুরু করেন।

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। দুই পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৪ নভেম্বর বিচারক এ মামলার রায়ের জন্য ২৮ নভেম্বর তারিখ রাখেন, তবে ওই দিন রায় লেখা বাকি থাকায় তারিখ পিছিয়ে ৮ ডিসেম্বর ঠিক করা হয়।

আরও পড়ুন:
ঢাকা থেকে ট্রেনে এক ঘণ্টায় চট্টগ্রাম
শাটল ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুর মৃত্যু
বিকল ট্রেনে বাড়ল পরীক্ষার্থীদের ভাবনা
ট্রেনে ট্রাকের ধাক্কা, সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর সচল রেললাইন
ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলে নিহত, আহত ২ 

শেয়ার করুন