বাস ধর্মঘট: বান্দরবানে ভোগান্তিতে পর্যটকরা

বাস টার্মিনাল

বান্দরবান কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বান্দরবান বেড়াতে আসা মো. ইমতিয়াজ বলেন, ‘কয়দিন ঘুরে খুব ভালো লেগেছে। এখন ফেরার সময়ে এই দুর্ভোগ। কী করব বুঝতে পারছি না।’

সারা দেশে পরিবহন মালিক সমিতির ডাকা বাস ধর্মঘটে ভোগান্তিতে পড়েছেন বান্দরবানে বেড়াতে আসা পর্যটকরা। কিছু পর্যটক বেশি ভাড়া দিয়ে ভেঙে ভেঙে বাড়ি ফিরলেও, অনেকেই পড়েছেন আটকা।

শহরের রোয়াংছড়ি ও রাঙ্গামাটি বাসস্টেশন, রুমা-থানচি বাসস্ট্যান্ড, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, দূরপাল্লার সব বাস অলস পড়ে আছে। কোনো বাস বান্দরবান ছেড়ে যায়নি, অন্য কোনো জেলা থেকেও বাস ঢোকেনি এখানে। শুক্রবার সকাল থেকেই এই অবস্থা।

মো. শফি নামের স্থানীয় একজন বলেন, ‘চট্টগ্রামে যাব বলে বের হয়েছি, কিন্তু বাস বন্ধ। এখন বেশি ভাড়া দিয়ে হলেও ভেঙে ভেঙে যেতে হবে। সরকার যদি তেলের দাম কমিয়ে আনে তাহলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমে।’

বাস বন্ধ থাকলেও ছোট ছোট কিছু যানবাহন চলাচল করছে। তবে তারা দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

ধর্মঘট ডাকার পর মাহিন্দ্রা গাড়িগুলোতে ১০ থেকে ২০ টাকা করে বেশি নেয়া হচ্ছে।

ইউসুফ আলী নামের এক যাত্রী বলেন, ‘সরকার তেলের এত দাম বাড়ানোয় আমরা সাধারণ মানুষ বিপদে পড়ে গেছি। বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে চালক মো. লিয়াকত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তেলের দাম একবারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এ জন্য ভাড়া ১০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। ভাড়া না বাড়ালে তো পোষাবে না আমাদের। বাধ্য হয়েই বেশি ভাড়া নিচ্ছি।’

জিপ ড্রাইভার শ্যামল তঞ্চজ্ঞা বলেন, ‘বান্দরবান থেকে থানচি তমা-টুঙ্গী এত দিন ছয় হাজার টাকায় যাতায়াত করতাম। এখন সাত হাজার টাকা না হলে লস হবে।’

সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন পার্বত্য এই জেলায়। শুক্রবার অথবা শনিবার রাতে তারা ফিরে যান নিজেদের ঠিকানায়।

কক্সবাজার থেকে বান্দরবান বেড়াতে এসেছিলেন মো. রকিবুল। তিনি বলেন, ‘আসার সময় তো বাসে এসেছিলাম। এখন বাস বন্ধ; মাহিন্দ্রা, অটোরিকশায় ভেঙে ভেঙে যেতে হবে। এভাবে ভাড়া বেশি লেগে যাবে।’

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন মো. ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, ‘কয়দিন ঘুরে খুব ভালো লেগেছে। এখন ফেরার সময় এই দুর্ভোগ। কী করব বুঝতে পারছি না।’

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার রাত ১২টা থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে বেড়ে গেছে ১৫ টাকা। এতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরির মালিকরা শুক্রবার ভোর থেকে পণ্য পরিবহন বন্ধের ঘোষণা দেয়। এরপর পরিবহন মালিক সমিতিও শুক্রবার থেকে বাস চালানো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

বান্দরবান পূর্বানী চেয়ার কোচ মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত কান্তি দাশ ঝন্তু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে বুধবার মধ্যরাত থেকে হঠাৎ তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ভাড়া সমন্বয়ের দাবিতে আমাদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।’

শৈল শোভা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি অমল কান্তি দাশ জানান, রোববার কেন্দ্রীয় নেতারা সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠক থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এলে বাস চলাচল শুরু হবে।’

আরও পড়ুন:
পরিবহন ধর্মঘট বন্ধে আসছে আইন
এবার ভাড়া দ্বিগুণ না করলে লঞ্চ বন্ধের হুমকি
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সিপিবির হুঁশিয়ারি
ধর্মঘটের সমাধান হয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশ অচল, সাপ্তাহিক ছুটি কাটাচ্ছে বিআরটিএ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভার্চুয়াল কোর্টেই মুক্তি: প্রধান বিচারপতি

ভার্চুয়াল কোর্টেই মুক্তি: প্রধান বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বুধবার ডিজিটাল আর্কাইভিং এবং ই-ফাইলিং ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমাদের মুক্তি হলো ভার্চুয়াল কোর্টে। ই-জুডিশিয়ারি ও ই-ফাইলিং চালু হলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে মামলার জট থাকবে না।’

সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বুধবার ডিজিটাল আর্কাইভিং এবং ই-ফাইলিং ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

মামলার জট কমাতে ভার্চুয়াল কোর্টের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের ৫ এপ্রিল আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম, আমরা জজ সাহেবরা ১০ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডে দেয়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে টাকাটা দিয়ে বললাম, কোর্ট তো ফাংশন করছে না। সারা পৃথিবীতে কোর্ট চলছে। বাংলাদেশে শুধু কোর্ট চলছে না। তখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে বললেন ভার্চুয়াল কোর্ট করেন।

‘ভার্চুয়াল কোর্টের আইন করা যে কত কঠিন। সেই আইন আমরা স্বল্পতম সময়ের মধ্যে করেছি। এ জন্য আমি মাননীয় আইনমন্ত্রী, বিচারপতি ইমান আলী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে ধন্যবাদ দেব। আমরা সকলে বসে ভালো করে দেখেছি। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে তার পরে আমরা আইনটা করেছি।’

সে সময়কার ঘটনা বর্ণনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘তারপরে দেখা গেল মন্ত্রিসভা বৈঠক আর হচ্ছে না। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আবার অনুরোধ করা হলো। পরে তিনি তিনজন মন্ত্রীকে দিয়ে গণভবনে মন্ত্রিসভার মিটিং করে আমাদের আইনের জন্য যে অর্ডিন্যান্স, সেটা পাস করেছেন। সুতরাং এত স্বল্পতম সময়ে এবং পরে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেছেন, যেই দিন আমার কাছে আসবে সেই দিন সাথে সাথে সই করে দিব। সুতরাং এই স্বল্পতম সময়ে এ আইনটা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় আইনমন্ত্রীর কাছে আমি চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকব।

‘কারণ বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, জেলখানা আমার পক্ষে কন্ট্রোল করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু একটা করেন। এখন আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা কোর্টে যাবেন না। তারপরে ভার্চুয়াল কোর্ট হওয়ার পরে এক লাখ লোকের জামিন হয়েছে ভার্চুয়াল কোর্ট থেকে।’

আরও পড়ুন:
পরিবহন ধর্মঘট বন্ধে আসছে আইন
এবার ভাড়া দ্বিগুণ না করলে লঞ্চ বন্ধের হুমকি
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সিপিবির হুঁশিয়ারি
ধর্মঘটের সমাধান হয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশ অচল, সাপ্তাহিক ছুটি কাটাচ্ছে বিআরটিএ

শেয়ার করুন

বর্জ্য-বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ, চুক্তি সই

বর্জ্য-বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ, চুক্তি সই

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ আবর্জনা প্রয়োজন হবে তা সরবরাহ করলে শহরে ময়লা ব্যবস্থাপনায়ও বড় একটি সংকটের সমাধান হবে। এই কেন্দ্রে পরিবেশের ভারসাম্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বহুল আলোচিত পরিবেশবান্ধব ‘বর্জ্য বিদ্যুৎ’ যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে জ্বালানি বিভাগ। এ লক্ষ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘আমিন বাজার ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ স্থাপন সংক্রান্ত এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, ইনসিনারেশন পদ্ধতি অর্থাৎ বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা প্রয়োজন হবে তা সরবরাহ করলে শহরে ময়লা ব্যবস্থাপনায়ও বড় একটি সংকটের সমাধান হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই কেন্দ্রে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। কার্যক্রম শুরু হওয়ার ১৮ মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে চীনা কোম্পানি। এ ব্যাপারে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

‘চীনা কোম্পানি নিজ ঝুঁকিতে প্ল্যান্ট স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ ও নিয়মিত বর্জ্য সরবরাহ করবে। আর উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনে নেবে বিদ্যুৎ বিভাগ।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নয়; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় ও জেলা শহর এমনকি পৌরসভাগুলোতেও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান।

‘যেসব বিভাগ, জেলা শহর ও পৌরসভা প্রতিদিন ছয়শ’ টন আবর্জনা সরবরাহ করতে পারবে তারা বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সরাসরি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারবে।’

তাজুল ইসলাম বলেন, জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যে মডেল অনুসরণ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে তার চেয়ে বাংলাদেশের জন্য ইনসিনারেশন অর্থাৎ বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পদ্ধতি উন্নত। এই পদ্ধতিতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না। তাই প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিসাপেক্ষে বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বর্জ্য-বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ, চুক্তি সই
‘আমিন বাজার ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ স্থাপন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। ছবি: নিউজবাংলা

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এবং ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

পরে স্থানীয় সরকার বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, ডিএনসিসি ও চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (সিএমইসি) মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

ঢাকা উত্তর সিটির আমিনবাজারে সিএমইসি ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৫ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। প্ল্যান্টটি সচল রাখতে প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য প্রয়োজন হবে। আর এখানে উৎপাদিত প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়বে ১৮ টাকা ৩০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
পরিবহন ধর্মঘট বন্ধে আসছে আইন
এবার ভাড়া দ্বিগুণ না করলে লঞ্চ বন্ধের হুমকি
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সিপিবির হুঁশিয়ারি
ধর্মঘটের সমাধান হয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশ অচল, সাপ্তাহিক ছুটি কাটাচ্ছে বিআরটিএ

শেয়ার করুন

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ যেতে ৩ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ যেতে ৩ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে

ফাইল ছবি

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি মন্ত্রিসভার অনুমতি লাগবে বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত একটি রায় বুধবার প্রকাশ হয়েছে। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

১৪ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

বিস্তারিত আসছে..

আরও পড়ুন:
পরিবহন ধর্মঘট বন্ধে আসছে আইন
এবার ভাড়া দ্বিগুণ না করলে লঞ্চ বন্ধের হুমকি
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সিপিবির হুঁশিয়ারি
ধর্মঘটের সমাধান হয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশ অচল, সাপ্তাহিক ছুটি কাটাচ্ছে বিআরটিএ

শেয়ার করুন

বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত: কনডাক্টর-হেলপার রিমান্ডে

বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত: কনডাক্টর-হেলপার রিমান্ডে

অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন নিহত হয়। ফাইল ছবি

ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম বুধবার বাসের কনডাক্টর গোলাম রাব্বী ওরফে বিন রহমান ও হেলপার চাঁন মিয়াকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন ইসলাম নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার অনাবিল পরিবহনের বাসের কনডাক্টর ও হেলপারকে এক দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম বুধবার তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এ আদেশ দেন।

রিমান্ডের আদেশ পাওয়া দুজন হলেন সেই বাসের কনডাক্টর গোলাম রাব্বী ওরফে বিন রহমান ও হেলপার চাঁন মিয়া।

আদালতে রামপুরার থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার এসআই মোহাম্মদ আল আমিন মীর সড়ক পরিবহন আইনে মাইনুদ্দিনের মায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। আদালত তাদের এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় মাইনুদ্দিন নামে শিক্ষার্থীর।

মাইনুদ্দিন একরামুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অনাবিল পরিবহনের একাধিক বাসসহ অন্তত আটটি বাসে আগুন ও চারটি বাস ভাঙচুর করে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ এসে রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুর্ঘটনার সময় চালক মো. সোহেলকে আটক করে প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে দেয়া হয়। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।

পরের দিন মঙ্গলবার ভোরে সায়েদাবাদ এলাকা থেকে হেলপার চাঁন মিয়াকে আটক করে র‌্যাব। পরে তাকে রামপুরা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

একই দিন সন্ধ্যায় সায়েদাবাদ থেকে কনডাক্টর রাব্বীকে আটক করে র‌্যাব। তাকেও রামপুরা থানা পুলিশের কাছে দেয়া হয়।

তিনজনকেই পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয় সড়ক পরিবহন আইনে মাইনুদ্দিনের মায়ের করা মামলায়।

আরও পড়ুন:
পরিবহন ধর্মঘট বন্ধে আসছে আইন
এবার ভাড়া দ্বিগুণ না করলে লঞ্চ বন্ধের হুমকি
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সিপিবির হুঁশিয়ারি
ধর্মঘটের সমাধান হয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশ অচল, সাপ্তাহিক ছুটি কাটাচ্ছে বিআরটিএ

শেয়ার করুন

খালেদার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক: ড্যাব

খালেদার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক: ড্যাব

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

চিকিৎসকদের বিএনপিপন্থি সংগঠনটির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় খালেদা জিয়ার রক্তের হিমোগ্লোবিন কমেছে। বাংলাদেশের যত চিকিৎসাপ্রযুক্তি আছে, তার জন্য সবগুলো প্রয়োগ করা হয়েছে। পূর্ণ সুস্থ করতে হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে তাকে বিদেশে পাঠানো জরুরি।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ড্যাব)। বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠনটি দ্রুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানোর আহ্বান জানিয়েছে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ড্যাবের শীর্ষ নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি লিভারের মারাত্মক জটিলতাসহ কয়েকটি জটিল রোগে ভুগছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় তার রক্তের হিমোগ্লোবিন কমেছে। বাংলাদেশের যত চিকিৎসাপ্রযুক্তি আছে, তার জন্য সবগুলো প্রয়োগ করা হয়েছে। পূর্ণ সুস্থ করতে হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে তাকে বিদেশে পাঠানো জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ড্যাবের মহাসচিব ডা. আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া করোনা-পরবর্তী জটিলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রিউমোটয়েড আর্থ্রাইটিস, লিভার, কিডনি ও হার্টের বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে গত ১৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।’

চিকিৎসক সালাম বলেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার পরবর্তী চিকিৎসা আর বাংলাদেশে সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় তার বিদেশে সুচিকিৎসা ও স্থায়ী মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের অন্যতম চিকিৎসক অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকীর বরাতে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৩ নভেম্বর বিএনপি নেত্রীকে হাসপাতালে ভর্তির রাতেই তার রক্তবমি হয়। তার খাদ্যনালিতে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছে। জীবন রক্ষায় তাকে দ্রুত রক্ত ও প্লাজমা ফ্লুইড দেয়া হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি খুবই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

লিভার সিরোসিসের কারণে খালেদা জিয়ার রক্তক্ষরণের বিষয়টি তুলে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘এসব রোগীর পুনরায় রক্তক্ষরণ খুবই স্বাভাবিক। পরবর্তী সময়ে ফের রক্তক্ষরণে খালেদা জিয়ার মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। কারণ রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য আমাদের দেশে যে প্রযুক্তি আছে, তা ইতোমধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে প্রয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব আধুনিক পদ্ধতি আছে, সেগুলো আমাদের দেশে নেই, এমনকি উপমহাদেশের বা এশিয়ার অন্য কোনো দেশেও নেই৷’

ড্যাব নেতা সালাম বলেন, ‘এমন অবস্থায় চিকিৎসক হিসেবে আমরা জরুরি ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিদেশে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। আশা করি, মানবিক বিবেচনায় স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বর্তমান সরকার তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেবে।’

‘সরকারের বক্তব্য দিয়েছে বিএমএ’

উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদাকে বিদেশ নিতে বিএনপি ও তার পরিবার থেকে সরকারের প্রতি বারবার আহ্বান জানালেও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) বলছে, বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসা দেশেই সম্ভব।

আওয়ামী লীগপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠনটি সোমবার এক বিবৃতিতে দাবি করে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই এই রোগের বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম।

বিএমএর এই ধরনের বক্তব্য সরকারের শেখানো বুলি বলে মন্তব্য করেছে ড্যাব।

ড্যাব নেতা হারুন আল রশিদ বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সমাজকে বিভক্ত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ এবং বিপক্ষ। খালেদা জিয়া তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। আজ তিনি গুরুতর অসুস্থ। তার মেডিক্যাল বোর্ড বলেছে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে তো নয়, বরং উপমহাদেশেও সম্ভব না।

‘সুতরাং বিএমএর নেতারা যা বলেছেন তা সরকারেরই বক্তব্য। তারা সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আশা ছিল খালেদা জিয়ার এই দুঃসময়ে তারা সঠিক কথা বলবেন এবং মেডিক্যাল বোর্ডের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করবেন।’

বিদেশে থেকে চিকিৎসক আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে হৃদরোগের সব চিকিৎসা হয়। তার পরও আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হলে তাকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করানো হয়েছে। বিদেশ থেকে একজন চিকিৎসক আনলেই হবে না। এটা টিমওয়ার্ক। সুতরাং এই কথার মানে হচ্ছে সময় ক্ষেপণ করা।’

সংবাদ সম্মেলনে ড্যাবের অন্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিরাজউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক এমএ সেলিম, মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ডাম্বেল, শহীদ হাসান, এরফানুল হক সিদ্দিকী, জহিরুল ইসলাম শাকিল, মেহেদী হাসান, মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, পারভেজ রেজা কাকন, সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, শেখ ফরহাদ, খালেকুজ্জামান দীপু, নিলোফা ইয়াসমিন, ফখরুজ্জামান ফখরুল।

আরও পড়ুন:
পরিবহন ধর্মঘট বন্ধে আসছে আইন
এবার ভাড়া দ্বিগুণ না করলে লঞ্চ বন্ধের হুমকি
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সিপিবির হুঁশিয়ারি
ধর্মঘটের সমাধান হয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশ অচল, সাপ্তাহিক ছুটি কাটাচ্ছে বিআরটিএ

শেয়ার করুন

অধ্যাপক রফিকুলের দাফন আজিমপুর কবরস্থানে

অধ্যাপক রফিকুলের দাফন আজিমপুর কবরস্থানে

বাংলা একাডেমিতে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের মরদেহবাহী কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

শ্রদ্ধা জানানো শেষে বাংলা একাডেমি থেকে অধ্যাপক রফিকুলের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান অধ্যাপককে। পরে জানাজা শেষে আসরের নামাজের পর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বুধবার জানাজা শেষে বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয় তাকে।

এর আগে বাংলা একাডেমি থেকে শেষ বিদায় জানানো হয় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক মহাপরিচালককে।

দুপুর দেড়টায় রফিকুল ইসলামের মরদেহ একাডেমি প্রাঙ্গণে আনা হয়। নজরুল গবেষক এই অধ্যাপকের মরদেহবাহী কফিন একাডেমির নজরুল মঞ্চে রাখা হয়। সেখানে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান তার সহকর্মী ও পরিচিতজনরা।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। এরপর বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক মো. নুরুল হুদার নেতৃত্বে একাডেমি পরিবার, কবি কাজী নজরুল ইনস্টিটিউট, শালুক, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, স্বাধীনতা ফাউন্ডেশন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন ও জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। সর্বশেষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কলকাতার কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোনালিসা দাস।

শ্রদ্ধা জানানো শেষে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের একমাত্র ছেলে বর্ষণ ইসলাম বলেন, “আমার বাবার সম্পূর্ণ জীবনই সফলতা। আমি কখনো কোনো ব্যর্থতা দেখিনি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সময় আব্বুর ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবিগুলোই ইতিহাস।

“সেগুলো যদি না থাকত তাহলে আমরা আজকে ইতিহাস জানতে পারতাম না। আমি আব্বুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘কোনো ছবিতে আপনার নাম দেখলাম না।’ আব্বু বলেছেন, ‘আমার নামের তো দরকার নেই। সবাই ইতিহাস জানতে পারছে, তাতেই হবে।’”

বর্ষণ বলেন, ‘আমরা আব্বুকে বিদেশ নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আব্বু দেশেই থাকতে চেয়েছেন। তাই আমরা উনাকে বিদেশ নিয়ে যেতে পারিনি।’

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোনালিসা দাস বলেন, ‘আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন নজরুল গবেষণা সেন্টার তৈরি হয়, তখনই রফিকুল ইসলাম স্যার এবং আনিসুজ্জামান স্যার পথিকৃৎ হয়ে নজরুলবিষয়ক গবেষণাকে কেন্দ্র করে গবেষণাগার তৈরি করে দেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রফিকুল ইসলাম স্যারকে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি দেয়ার কথা। যে বছর দেয়ার কথা ছিল, তার পরের বছর করোনা হয়ে গেছে।

‘করোনায় সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য আমরা এখনও দিতে পারিনি। নিশ্চয়ই আমরা সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। গবেষণার মাধ্যমে নজরুলকে দেশে-বিদেশে আমাদের সকলের মধ্যে যেভাবে তুলে ধরেছেন, তা একমাত্র রফিকুল ইসলাম স্যারের পক্ষেই সম্ভব।’

শ্রদ্ধা জানানো শেষে বাংলা একাডেমি থেকে এ অধ্যাপকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান অধ্যাপককে। পরে জানাজা শেষে আসরের নামাজের পর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

আরও পড়ুন:
পরিবহন ধর্মঘট বন্ধে আসছে আইন
এবার ভাড়া দ্বিগুণ না করলে লঞ্চ বন্ধের হুমকি
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সিপিবির হুঁশিয়ারি
ধর্মঘটের সমাধান হয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশ অচল, সাপ্তাহিক ছুটি কাটাচ্ছে বিআরটিএ

শেয়ার করুন

দেশ উন্নয়নশীল হওয়ায় আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই: রাষ্ট্রপতি

দেশ উন্নয়নশীল হওয়ায় আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই: রাষ্ট্রপতি

ফরিদপুর-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। ছবি: সাইফুল ইসলাম।

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি খুশির খবর, কিন্তু এ নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে শামিল হওয়ার লক্ষ্যে এখন থেকে সর্বাত্মকভাবে কাজ শুরু করতে হবে।’

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ায় ‘আত্মতুষ্টিতে’ না ভুগে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে শামিল হতে সর্বাত্মকভাবে কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তিতে বুধবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বঙ্গভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি খুশির খবর, কিন্তু এ নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে শামিল হওয়ার লক্ষ্যে এখন থেকে সর্বাত্মকভাবে কাজ শুরু করতে হবে।’

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘কয়েক বছর পরই পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের ঢেউ বইতে শুরু করবে। তাই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পথিকৃতের ভূমিকা নিতে হবে বলেও মনে করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে তথ্যপ্রযুক্তিসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিশ্বব্যাপী সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে সেভাবে তাদেরকে গড়ে তুলতে হবে। অবকাঠামো, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ডিপার্টমেন্ট ও ইনস্টিটিউটের সম্প্রসারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে, কিন্তু এক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার মানই মূল সূচক।’

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারের চাহিদা ও যোগ্যতা বিবেচনা করে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ যাত্রাপথে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকবে।’

মাতৃভাষা রক্ষা থেকে স্বাধীকার আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবগাঁথা উঠে আসে আচার্যের বক্তব্যে।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালি জাতির শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য, গবেষণা-উদ্ভাবন, মুক্তবুদ্ধি চর্চা, প্রগতিশীল ভাবনা, জাতি-গঠন ও দেশাত্মবোধের চেতনার এক তেজোদীপ্ত আলোকবর্তিকা; বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার এক অনন্য বাতিঘর।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, ‘১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ তথা অখণ্ড বাংলা প্রদেশকে ভেঙে পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশ গঠনের পর ১৯১১ সালে এই সিদ্ধান্ত রদের রাজকীয় ক্ষতিপূরণ হিসেবেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়।

রাষ্ট্রপতি জানান, ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির উদ্দেশ্যে গঠিত নাথান কমিটির সুপারিশের সঙ্গে স্যাডলার কমিশন নামে খ্যাত ১৯১৭ সালে গঠিত ‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন’ এর সুপারিশের ভিত্তিতে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯২০’ প্রণীত হয়। সেই আইনের ভিত্তিতেই ১৯২১ সালের ১ জুলাই আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের।

প্রতিষ্ঠাকালে ১২টি বিভাগ ও ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক পথচলা শুরু হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ৮৪টি বিভাগ ও অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার।

দুইজন নারী শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ছাত্রীর সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি। দেশে নারীর ক্ষমতায়নের এটি একটি বিশাল সাফল্য বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘বাংলাদেশ সৃষ্টির পূর্বেকার ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা-উত্তর সময়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সব অগণতান্ত্রিক, অপসংস্কৃতি এবং সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছে। এরই স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

মুজিব জন্মশতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি’ স্থাপনও একটি অনন্য উদ্যোগ বলেও মনে করেন রাষ্ট্রপতি।

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও কারিকুলাম নির্ধারণ ও পাঠ দানের ক্ষেত্রে বিশ্বমানের কথা বিবেচনায় রাখতে হবে।’

অভিভাবকরা অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছেলেমেয়েদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান স্মরণ করিয়ে দিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, ‘তাদের পেছনে দেশ ও জনগণের বিনিয়োগও যথেষ্ট। তাই শিক্ষার্থীদেরকে পবিবার, দেশ ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরনের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
পরিবহন ধর্মঘট বন্ধে আসছে আইন
এবার ভাড়া দ্বিগুণ না করলে লঞ্চ বন্ধের হুমকি
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সিপিবির হুঁশিয়ারি
ধর্মঘটের সমাধান হয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশ অচল, সাপ্তাহিক ছুটি কাটাচ্ছে বিআরটিএ

শেয়ার করুন