লাশের পাশে শিশুকে জেরা: এএসপির এ কেমন বিবেচনা

লাশের পাশে শিশুকে জেরা: এএসপির এ কেমন বিবেচনা

বাবা-মায়ের মরদেহের পাশে বসিয়ে সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের সার্কেল এএসপি মহসিন মুরাদ। ছবি: নিউজবাংলা

‘এখানে (লাশের পাশে বসিয়ে) আমরা তাদের মা-বাবার মৃত্যু সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করিনি। তাদের মানসিক অবস্থা ঠিক রাখার জন্য কেবল নাম-পরিচয় জিজ্ঞেস করেছি।’

মা-বাবার ঝুলন্ত মরদেহের পাশে বসিয়ে শিশুসন্তানকে একজন সহকারী পুলিশ সুপারের জিজ্ঞাবাসাদের ঘটনায় তার দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে উঠে আসার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক এবং হবিগঞ্জের একজন আইনজীবী বলেছেন, দায়িত্বশীল কোনো পুলিশ কর্মকর্তা এই কাজটি করতে পারেন না।

ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মহসিন আল মুরাদ। তিনি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সার্কেলের এএসপি।

তার দাবি, শিশুটিকে সেখানে বসিয়ে কেবল নাম-পরিচয় জিজ্ঞেস করছিলেন। বাকি কথা বাইরে নিয়ে এসে বলেছেন। তবে অল্প সেই কথাইবা এমন পরিস্থিতিতে কেন বলতে হবে, তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী বলছেন, বাবা-মা হারানো শিশুটি এমনিতেই মানসিকভাবে চাপে ছিল। তাকে যত দ্রুত সম্ভব এমন পরিস্থিতি থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া উচিত ছিল। সেটি না করে পুলিশ কর্মকর্তা যেটি করেছেন, তা সেই শিশুর মনোজগতে চাপ তৈরি করবে।

শিশুটির বয়স ১০ বছর। তার ছোট ভাইয়ের বয়স ৬। তাদের বাড়ি চুনারুঘাটের নরপতি গ্রামে। বাড়িতে মা আলেয়া খাতুন, বাবা আব্দুর রউফ ও দাদা-দাদির সঙ্গে থাকত তারা।

অন্যান্য দিনের মতোই বৃহস্পতিবার রাতে খাবার খেয়ে মা-বাবার পাশের ঘরে ঘুমাতে চলে যায় দুই ভাই। শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দুই ছেলে পাশের ঘরে গিয়ে দেখে, মা ও বাবার দেহ ঝুলছে আড়ার সঙ্গে, একই দড়িতে।

তাদের চিৎকারে দাদা-দাদি ও প্রতিবেশীরা সেখানে যান। খবর পেয়ে থানার পুলিশ ও চুনারুঘাট সার্কেলের এএসপি মহসিন গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।

মরদেহ উদ্ধারের আগে ওই কক্ষে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের তোলা একটি ছবি পায় নিউজবাংলা। তাতে দেখা যায়, মা-বাবার ঝুলন্ত দেহের পাশে বিছানার ওপর বসিয়ে রেখে ১০ বছরের শিশুটির সঙ্গে কথা বলছেন সার্কেল এএসপি মহসিন।

নিউজবাংলায় এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশ হলে ফেসবুকে শুরু হয় সমালোচনা। শিশুটির মানসিক অবস্থা বিবেচনা না করে মা-বাবার লাশের পাশে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য এসএসপি মহসিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে তারা (শিশুটির মা-বাবা) আত্মহত্যা করেছেন। এ ব্যাপারে আমরা দম্পতির দুই ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছি। ঘরে বসে ছেলেদের সঙ্গে ৫ থেকে ৭ মিনিট কথা বলেছি। পরে বাইরেও দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে।

‘এখানে (লাশের পাশে বসিয়ে) আমরা তাদের মা-বাবার মৃত্যু সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করিনি। তাদের মানসিক অবস্থা ঠিক রাখার জন্য কেবল নাম-পরিচয় জিজ্ঞেস করেছি।’

লাশের পাশে শিশুকে জেরা: এএসপির এ কেমন বিবেচনা
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সার্কেলের এএসপি মহসিন আল মুরাদ

কেন বাবা-মায়ের ঝুলন্ত মরদেহের পাশে শিশুকে তার নাম-পরিচয় জিজ্ঞেস করতে হবে- এমন প্রশ্ন করলে এএসপি মহসিন আবার বলেন, ‌‘কিছুক্ষণমাত্র কথা বলেছি।’

এ নিয়ে কথা বলতে জেলা পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে খুদে বার্তা দেয়া হলে তিনি ফিরতি বার্তায় জানান, তিনি ব্যস্ত; পরে কথা বলবেন।

হবিগঞ্জের আইনজীবী শাহ্ ফখরুজ্জামান এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি সামাজিক এবং আইনের দৃষ্টিতে খুবই অমানবিক। মা-বাবার মরদেহের পাশে এই শিশুদের সঙ্গে কথা বলা ঠিক হয়নি। এতে তাদের মনোজগতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে। এ বিষয়ে অবশ্যই আরও সতর্ক থাকতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সহকারী অধ্যাপক খন্দকার ফারজানা রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এভিডেন্স অ্যাক্ট অনুযায়ী, শিশু মামলায় জড়িত হতে পারে। তবে শর্ত হলো, তার কথা মানুষের বুঝতে পারতে হবে এবং সে যে ঘটনাটা বুঝছে সেই মেসেজটা তার থাকতে হবে।

‘যদি কোনো পুলিশ অফিসার মা-বাবার মরদেহের পাশে বসিয়ে শিশুসন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, তাহলে আমি মনে করি সেটি যথাযথ প্রসিকিউরডভাবে হয়নি। যেহেতু শিশুটির মা-বাবা মারা গেছে, তার মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে পুলিশের উচিত ছিল তাদের সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং দিয়ে চাইল্ড-ফ্রেন্ডলি পরিবেশে জিজ্ঞাসাবাদ করা।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাফিজা ফেরদৌসী বলেন, ‘ছেলেটা পড়ালেখা চালিয়ে নিতে পারবে কি না, এখন তাদের কে দেখাশোনা করবে, সব মিলিয়ে তাদের সামনে অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থা। ছেলেটা এখন চরম শোকের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে যখন আবার কেউ এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে তখন তার বিষয়গুলো বার বার মনে পড়বে। এ ধরণের ঘটনায় একটি শিশু মানসিক বিপর্যয়ের দিকে যেতে পারে।’

মৃত দম্পতির পরিবারের সদস্যরা জানান, আব্দুর রউফ ছিলেন রিকশাচালক। তার স্ত্রী আলেয়া দীর্ঘদিন সৌদি আরব ছিলেন। এক মাস আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এর পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ লেগে থাকত।

এ কারণে তারা দুজন আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা স্বজনদেরও।

তাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি চম্পক। তিনি আরও জানান, ওই শিশুরা বাড়িতেই দাদা-দাদির কাছে আছে।

আরও পড়ুন:
নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
বাবা-মায়ের ঝুলন্ত দেহের পাশে বসিয়ে শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ
৯ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো দেহ
নদীতে হাত পা মাথা ছাড়া মরদেহ
একাধিক মামলার আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

উড়োজাহাজে গরুর ধাক্কায় চাকরি গেল আনসারের চার জনের

উড়োজাহাজে গরুর ধাক্কায় চাকরি গেল আনসারের চার জনের

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা হোসেন বলেন, বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীর এলাকায় দায়িত্বে থাকা চার সদস্যকে দায়িত্বে গাফিলতির কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে গরুর সঙ্গে উড়োজাহাজের ধাক্কার ঘটনায় চার আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা হোসেন।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীর এলাকায় দায়িত্বে থাকা চার সদস্যকে দায়িত্বে গাফিলতির কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিমানবন্দরে মঙ্গলবার বিকেলে অল্পের জন্য রক্ষা পায় বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ। সেটি ওড়ার সময় রানওয়েতে ঢুকে পড়ে দুটি গরু। সেগুলোকে ধাক্কা দিয়েই যাত্রী নিয়ে আকাশে ওড়ে বিজি ৪৩৪ ফ্লাইটটি।

উড়োজাহাজ ও আরোহীরা নিরাপদে থাকলেও মারা গেছে বিমানের সঙ্গে ধাক্কা লাগা দুটি গরু।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের যাত্রা শুরু প্রায় ৭৫ বছর আগে। একে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করতে কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের জুলাইয়ে। তিন বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উদ্বোধন করেন। তবে রানওয়ের কাজ শেষ হওয়ায় ২০১৭ সাল থেকেই এখানে অবতরণ-উড্ডয়ন করছে আন্তর্জাতিক রুটের বিমান। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রতিদিনই আকাশপথে কক্সবাজার আসছেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।

এমন অবস্থায় মঙ্গলবার উড্ডয়নের সময় উড়োজাহাজের ধাক্কায় দুটি গরুর মৃত্যুর পর বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা দুর্বলতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

উড়োজাহাজে গরুর ধাক্কায় চাকরি গেল আনসারের চার জনের
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে মঙ্গলবার বিকালে উড়োজাহাজের ধাক্কায় দুটি গরু মারা গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক নিউজবাংলাকে জানান, বিমানের ফ্লাইটটি মঙ্গলবার উড্ডয়নের সময় ডান পাশের পাখায় ধাক্কা লেগে ছিটকে পড়ে গরু দুটি। সেখানেই সেগুলো মারা যায়। তবে উড়োজাহাজটি ৯৪ যাত্রী নিয়ে সফলভাবেই উড্ডয়ন করে।

২০০৫ সালে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উত্তরে বঙ্গোপসাগরে একটি কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে বিদেশি পাইলটসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। কার্গো উড়োজাহাজটি কক্সবাজার থেকে চিংড়ি পোনা নিয়ে যশোর যাচ্ছিল। এ ছাড়া ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি উড়োজাহাজের চাকায় পিষ্ট হয়ে রানওয়েতে তিনটি কুকুরের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
বাবা-মায়ের ঝুলন্ত দেহের পাশে বসিয়ে শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ
৯ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো দেহ
নদীতে হাত পা মাথা ছাড়া মরদেহ
একাধিক মামলার আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

কক্সবাজার বিমানবন্দরে গরু ঢুকল কীভাবে

কক্সবাজার বিমানবন্দরে গরু ঢুকল কীভাবে

কক্সবাজার বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচীর বিভিন্ন অংশে ভেঙে পড়েছে। এসব অংশ দিয়ে অবাধে রানওয়ের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয়রা। তারা রানওয়েকে ব্যবহার করছে চলাচলের ‘শর্টকাট’ পথ হিসেবে। প্রাচীরের ভেঙে পড়া অংশ দিয়ে গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণীও ঢুকে পড়ছে।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মর্যাদা পেলেও কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা চোখে পড়ার মতো। রানওয়েতে অবাধ চলাচল এলাকাবাসীর, বিমান অবতরণ ও উড্ডয়নের সময় ঢুকে পড়ছে গবাদি পশুসহ নানা প্রাণী।

এই বিমানবন্দরে মঙ্গলবার বিকেলে অল্পের জন্য রক্ষা পায় বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ। সেটি ওড়ার সময় রানওয়েতে ঢুকে পড়ে দুটি গরু। সেগুলোকে ধাক্কা দিয়েই যাত্রী নিয়ে আকাশে ওড়ে বিজি ৪৩৪ ফ্লাইটটি।

উড়োজাহাজ ও আরোহীরা নিরাপদে থাকলেও মারা গেছে বিমানের সঙ্গে ধাক্কা লাগা দুটি গরু।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, সীমানা প্রাচীরটি নুনিয়াছড়া, কুতুবদিয়া পাড়া, নুনিয়াছড়া লাস্ট মাথা, ৬ নম্বর এলাকায় ভেঙে পড়েছে। এসব অংশ দিয়ে অবাধে রানওয়ের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয়রা। তারা রানওয়েকে ব্যবহার করছে চলাচলের ‘শর্টকাট’ পথ হিসেবে। এমনকি অকারণে ঘোরাঘুরি করতেও রানওয়েতে ঢুকছেন অনেকে।

প্রাচীরের ভেঙে পড়া অংশ দিয়ে গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণী ঢুকে পড়ছে। এতে বাড়ছে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের যাত্রা শুরু প্রায় ৭৫ বছর আগে। একে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নিত করতে কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের জুলাই মাসে। তিন বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উদ্বোধন করেন। তবে রানওয়ের কাজ শেষ হওয়ায় ২০১৭ সাল থেকেই এখানে অবতরণ-উড্ডয়ন করছে আন্তর্জাতিক রুটের বিমান। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রতিদিনই আকাশ পথে কক্সবাজার আসছেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে গরু ঢুকল কীভাবে
বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচীরের ভাঙা অংশ দিয়ে অবাধে চলছে যাতায়াত, ঢুকে পড়ছে পশু

এমন অবস্থায় মঙ্গলবার উড্ডয়নের সময় উড়োজাহাজের ধাক্কায় দুটি গরুর মৃত্যুর পর বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা দুর্বলতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক নিউজবাংলাকে জানান, বিমানের ফ্লাইটটি মঙ্গলবার উড্ডয়নের সময় ডান পাশের পাখায় ধাক্কা লেগে ছিটকে পড়ে গরু দুটি। সেখানেই সেগুলো মারা যায়। তবে উড়োজাহাজটি ৯৪ যাত্রী নিয়ে সফলভাবেই উড্ডয়ন করে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি খুঁজতে তদন্তে কমিটি করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে গরু ঢুকল কীভাবে


কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কয়েকটি পয়েন্টে সীমানা প্রাচীর সংস্কারের কাজ চলছে। দ্রুত তা শেষ হলে এসব গবাধি পশু বা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ঝুঁকি কেটে যাবে।’

২০০৫ সালে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উত্তরে বঙ্গোপসাগরে একটি কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে বিদেশি পাইলটসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। কার্গো উড়োজাহাজটি কক্সবাজার থেকে চিংড়ি পোনা নিয়ে যশোর যাচ্ছিল। এ ছাড়া ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি উড়োজাহাজের চাকায় পিষ্ট হয়ে রানওয়েতে তিনটি কুকুরের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
বাবা-মায়ের ঝুলন্ত দেহের পাশে বসিয়ে শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ
৯ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো দেহ
নদীতে হাত পা মাথা ছাড়া মরদেহ
একাধিক মামলার আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

বিজিবি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা: এজাহারে অভিযোগ

বিজিবি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা: এজাহারে অভিযোগ

নিহত বিজিবি নায়েক রুবেল মণ্ডল। ছবি: নিউজবাংলা

এজাহারে বলা হয়, নির্বাচনি যানবাহন, ভাড়া করা গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং স্কুলঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এরই মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে কেন্দ্রে উপস্থিত হয় বিজিবির টিম। তখন মারুফ হোসেন অন্তিকের নেতৃত্বে হত্যা করা হয় বিজিবি সদস্য রুবেল মণ্ডলকে।

অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বিজিবি সদস্য রুবেল মণ্ডলকে হত্যা করা হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন পরাজিত জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিক।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নির্বাচনি সহিংসতায় বিজিবি সদস্যের হত্যার ঘটনায় করা মামলায় এই অভিযোগ এনেছেন বাদী।

এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং অফিসার, পুলিশ, আনসার ও বিজিবি সদস্যদের হত্যাচেষ্টা করেন।

কিশোরগঞ্জ থানায় সোমবার রাত সোয়া ১২টার দিকে মামলাটি করা হয়। গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায় মামলাটি করেন।

মামলায় মারুফ হোসেন অন্তিককে প্রধান করে ৯৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে এরই মধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন পশ্চিম দলিরাম গ্রামের আনোয়ার হোসেন, ইসমাইল হোসেন, যাদু মিয়া, মজনু মিয়া, শরিফুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন, মো. নিশাদ ও মো. নিরব।

এজাহারে বলা হয়েছে, ২৮ নভেম্বর ভোট শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সরকারি কাজে বাধা দিয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের মারপিট করে পরাজিত প্রার্থী অন্তিকের সমর্থকরা।

এ সময় ব্যালট বাক্স, নির্বাচনি কর্মকর্তাদের সম্মানী ভাতার ৫৬ হাজার ৬৫০ টাকা চুরি করে পালানোর চেষ্টা হলে পুলিশকে গুলি করার নির্দেশ দেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

এ সময় নির্বাচনি যানবাহন, ভাড়া করা গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং স্কুলঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এরই মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে কেন্দ্রে উপস্থিত হয় বিজিবির টিম। তখন মারুফ হোসেন অন্তিকের নেতৃত্বে হত্যা করা হয় বিজিবি সদস্য রুবেল মণ্ডলকে।


বিজিবি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা: এজাহারে অভিযোগ


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৪৬ রাউন্ড এবং বিজিবি ১৩৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

অভিযোগের বিষয়ে জানাতে বাদী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

ঘটনা তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টিম মঙ্গলবার দুপুরে সার্কিট হাউসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে টিমে ছিলেন বিজিবি রংপুর রিজিওনাল কমান্ডার মাহবুবার রহমান খান, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত উপপুলিশ মহাপরিদর্শক ওয়ালিদ হোসেন এবং নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মুরাদ হাসান বেগ।

টিমের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নবীরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়ালসহ আরও কয়েকজন।

জেলা জজ আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মোমিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আটজনকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল নিউজবাংলাকে জানান, জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হবে।

আরও পড়ুন:
নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
বাবা-মায়ের ঝুলন্ত দেহের পাশে বসিয়ে শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ
৯ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো দেহ
নদীতে হাত পা মাথা ছাড়া মরদেহ
একাধিক মামলার আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

ভোটের পর সহিংসতায় ঠাকুরগাঁওয়ে মামলা

ভোটের পর সহিংসতায় ঠাকুরগাঁওয়ে মামলা

এইচএসসি পরীক্ষার্থী আদিত্যর মরদেহের পাশে অশ্রুসজল স্বজনরা। ছবি: নিউজবাংলা

মামলায় গ্রেপ্তার-আতঙ্ক ওই গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ির পুরুষরা আত্মগোপনে যাচ্ছেন। গ্রামের সেতু বালা বলেন, ‘হামার গ্রামখান শান্তির গ্রাম। হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে থাকি। কোনো ঝগড়া, মারামারি কিছু নাই, কিন্তু এইবার ভোটত হামার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। তিনজন গুলি খায় মারা গেইছে। মোর স্বামী বাড়িত থাকিবা পারে না। পালায় বেড়াছে।’

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে গত রোববার ভোটের পর সহিংসতার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ৫০০ জনকে। সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবির গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন নিউজবাংলাকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফ মণ্ডল মঙ্গলবার দুপুরে এই মামলা করেন। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মরদেহগুলো মঙ্গলবার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

নিহতদের সবারই বাড়ি পীরগঞ্জের সনগাঁও ইউনিয়নের ঘিডোব গ্রামে। সেখানকার ঘিডোব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেই ভোট শেষে রাত ৮টার দিকে সংঘর্ষ হয়।

নিহতদের মধ্যে আছে পীরগঞ্জের লোহাগাড়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আদিত্য রায়। ১৭ বছরের টগবগে ছেলের নিথর দেহ দেখে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কমলিকা রায়।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ভোটে মারামারি করতে যায়নি। সে দেখতে গেছিল। অনেক কষ্ট করে তাকে পড়াশোনা করাইছি। ওর বাবা, আমি দুইজনই মানুষের বাসা কাজ করি। আমার ছেলেকে মরতে হইল। শুনছি হামারা সবারে নামে মামলা করতেছে পুলিশ। কেউ বাড়িত থাকিবা পারে না। হামরা কি হবে এলা।’

মামলায় গ্রেপ্তার-আতঙ্ক ওই গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ির পুরুষরা আত্মগোপনে যাচ্ছেন।

গ্রামের সেতু বালা বলেন, ‘হামার গ্রামখান শান্তির গ্রাম। হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে থাকি। কোনো ঝগড়া, মারামারি কিছু নাই, কিন্তু এইবার ভোটত হামার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। তিনজন গুলি খায় মারা গেইছে। মোর স্বামী বাড়িত থাকিবা পারে না। পালায় বেড়াছে।’

সাবিদা নামে আরেকজন বলেন, ‘পুলিশ আর বিজিবি যখন গুলি চালায় অর্ধেকের বেশি পুরুষ গ্রাম ছাড়ে পালাইছে। এলা শুনছি মামলা করিছে। দুই দিন ধরে একটা পুরুষও নাই হামার গ্রামত। হামরা গরিব মানুষ এক দিন কাম না করিলে পরে দিন না খায় থাকিবা হবে। কী করিম ভাবে পাই না।’

যেভাবে সংঘর্ষ শুরু

ওসি জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেদিন ভোট শেষ হওয়ার পর ফল ঘোষণা করতে দেরি করছিলেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুজ্জামানের সমর্থকদের বিতর্ক হয়। পরে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নৌকার প্রার্থী শহীদ হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

‘ফল ঘোষণার পর নাখোশ কিছু এলাকাবাসী ভোটকেন্দ্র অবরুদ্ধ করেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সেখান থেকে পালাতে পারলেও একটি রুমে অবরুদ্ধ করা হয় তিন পুলিশ ও ১৫-১৬ জন আনসার সদস্যকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও দুই প্লাটুন বিজিবি সেখানে যায়। এলাকাবাসী তাদের ওপর হামলা চালান। বিজিবি পরে গুলি চালালে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন।’

তিনি জানান, গুলিবিদ্ধদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর চিকিৎসক শাহপলি নামে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল জব্বার বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনা হয়। এর মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পাই। বাকি চারজনকে সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।’

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাদিরুল আজিজ চয়ন বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে চারজনকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। সারা রাত সেই দুজনকে আইসিইউতে রাখি এবং সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করি। রাস্তায় সেই দুজন মারা যান।’

আরও পড়ুন:
নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
বাবা-মায়ের ঝুলন্ত দেহের পাশে বসিয়ে শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ
৯ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো দেহ
নদীতে হাত পা মাথা ছাড়া মরদেহ
একাধিক মামলার আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

কিশোরীর ‘আত্মহত্যা’: স্কুল কমিটির সদস্য গ্রেপ্তার

কিশোরীর ‘আত্মহত্যা’: স্কুল কমিটির সদস্য গ্রেপ্তার

কিশোরীকে যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার এই ব্যক্তি। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার বরাত দিয়ে ওসি জানান, স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনের ছাদে নিয়ে ওই কিশোরীর ওপর যৌন নির্যাতন চালায় রফিকুল ও সহযোগী শাহিনুর- এমন অভিযোগে তাদের আসামি করে গত ৮ নভেম্বর ক্ষেতলাল থানায় মামলা করেন কিশোরীর বাবা। এরপর গত ১৮ নভেম্বর দুপুরে ওই কিশোরীকে রফিকুল, শাহিনুর ও অন্য আসামিরা অপমান করেন। ওইদিন বিকেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে ওই স্কুলছাত্রী।

জয়পুরের ক্ষেতলালে এক স্কুলছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে বড়তারা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য রফিকুুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নীরেন্দ্র নাথ মণ্ডল জানান, রফিকুলকে সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার নামে স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে মামলা আছে।

ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী গত ১৮ নভেম্বর নিজ ঘরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বরাত দিয়ে ওসি জানান, স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনের ছাদে নিয়ে ওই কিশোরীর ওপর যৌন নির্যাতন চালায় রফিকুল ও সহযোগী শাহিনুর- এমন অভিযোগে তাদের আসামি করে গত ৮ নভেম্বর ক্ষেতলাল থানায় মামলা করেন কিশোরীর বাবা। মামলার পর থেকে মেয়েটির পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন আসামিরা।

এরপর গত ১৮ নভেম্বর দুপুরে নিজ বাড়ির সামনে ওই কিশোরীকে রফিকুল, শাহিনুর ও অন্য আসামিরা অপমান করেন। যৌন নির্যাতনের জন্য তাকেই দায়ী করে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে রফিকুল তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করারও হুমকি দেন তাকে। এ কারণে ওইদিন বিকেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে ওই স্কুলছাত্রী।

আত্মহত্যার পর ওই কিশোরীর সুইসাইড নোট পাওয়ার দাবি করে তার পরিবার। মামলার এজাহারেও সুইসাইড নোটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর পর থেকেই রফিকুল পলাতক ছিলেন।

ওসি আরও জানান, রফিকুলের এক ছেলে ও এক মেয়ে ওই স্কুলেই পড়ে। যে স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে, সে ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। সে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বলে মামলায় উল্লেখ করা আছে। তার মৃত্যুর পরদিন রফিকুল ও শাহিনুরসহ পাঁচজনের নামে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন কিশোরীর বাবা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহারুল আলম বলেন, ‘আসামি রফিকুল ওই কিশোরীকে এক বছর থেকে বিভিন্নভাবে যৌন নির্যাতন চালানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাকে মঙ্গলবার আদালতে তোলার কথা রয়েছে।’

ক্ষেতলাল থানার ওসি নীরেন্দ্র নাথ জানান, দুই মামলায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে আরেকজন হলেন রফিকুলের মামা আব্দুর রাজ্জাক। অন্য তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
বাবা-মায়ের ঝুলন্ত দেহের পাশে বসিয়ে শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ
৯ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো দেহ
নদীতে হাত পা মাথা ছাড়া মরদেহ
একাধিক মামলার আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

নির্বাচনি সহিংসতা: ছাত্রলীগ নেতা হত্যায় মামলা

নির্বাচনি সহিংসতা: ছাত্রলীগ নেতা হত্যায় মামলা

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সজিব হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

রামগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, ইছাপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসেবে সদ্য জয়ী আমিরকে প্রধান আসামি করে সজিবের বোন ২১ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে।

নিহত সজিব হোসেনের বোন মঙ্গলবার সকালে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীকে প্রধান আসামি করে রামগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ২৮ তারিখের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আমির হোসেন খাঁন। তিনি এই নির্বাচনে জয় পান।

আমিরকে প্রধান আসামি করে সজিবের বোন ২১ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এর আগে রোববার ওসি জানান, রোববার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নৌকা ও এর বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে এটি সংঘর্ষ পর্যন্ত গড়ায়। সে সময় মাথায় আঘাত পান সজিব হোসেন।

তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে চাঁদপুরের হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
বাবা-মায়ের ঝুলন্ত দেহের পাশে বসিয়ে শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ
৯ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো দেহ
নদীতে হাত পা মাথা ছাড়া মরদেহ
একাধিক মামলার আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

বিজিবি সদস্য হত্যা: চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে মামলা

বিজিবি সদস্য হত্যা: চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে মামলা

নিহত বিজিবি নায়েক রুবেল মণ্ডল। ছবি: নিউজবাংলা

কিশোরগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক গুলনাহার বেগম জানান, মামলায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদেরকে আদালতে নেয়া হয়েছে। সব আসামিকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নির্বাচনি সহিংসতায় বিজিবি সদস্য হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিককে। এজাহারে নাম আছে আরও ৯৫ জনের।

কিশোরগঞ্জ থানায় সোমবার রাত সোয়া ১২টার দিকে মামলাটি করা হয়।

গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায় মামলাটি করেন।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, মামলায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদেরকে আদালতে নেয়া হয়েছে।

যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন পশ্চিম দলিরাম গ্রামের আনোয়ার হোসেন, ইসমাইল হোসেন, যাদু মিয়া, মজনু মিয়া, শরিফুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন, মো. নিশাদ ও মো. নিরব।

কিশোরগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক গুলনাহার বেগম জানান, মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় অনেককে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামিসহ জড়িত সবাইকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

এর আগে ২৮ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে ফল ঘোষণার পর গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া ভোট কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

যা ঘটেছিল

স্থানীয়রা জানান, গাড়াগ্রাম ইউপিতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী জোনাব আলীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই ফল প্রত্যাখান করেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকরা। কেন্দ্র থেকে ব্যালটসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম নিয়ে উপজেলা সদরে রির্টানিং কর্মকর্তার দপ্তরে যাওয়ার সময় কর্মকর্তাদের ওপর লাটিসোটা নিয়ে হামলা চালান তারা।

তারা আরও জানান, ওই সময় আত্মরক্ষায় বিজিবি সদস্য রুবেল কেন্দ্রের একটি কক্ষে আশ্রয় নিলে বিক্ষুব্ধরা সেখানে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। পুলিশের গাড়ি ও ভোট কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের চেষ্টাও চলান তারা। আত্মরক্ষায় তখন কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায় বলেন, ‘ফল ঘোষণার পর লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিক লোকজন নিয়ে এসে ওই কেন্দ্রে তাকে জয়ী ঘোষণার দাবি জানিয়ে নির্বাচনি সরঞ্জাম নিতে বাধা দেন।

‘ওই সময় আমাদের ওপর আক্রমণ চালাতে শুরু করলে আমি নিজে, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কয়েকজন পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য আহত হই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরে আত্মরক্ষার্থে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন।’

আরও পড়ুন:
নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
বাবা-মায়ের ঝুলন্ত দেহের পাশে বসিয়ে শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ
৯ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো দেহ
নদীতে হাত পা মাথা ছাড়া মরদেহ
একাধিক মামলার আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন