৪ জনের প্রাণহানির পরদিন আলোকবালীতে ফের সংঘর্ষ

৪ জনের প্রাণহানির পরদিন আলোকবালীতে ফের সংঘর্ষ

আলোকবালীতে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহতদের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়রা জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী মো. মামুনের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান আরেক ইউপি সদস্য প্রার্থী জব্বর মিয়ার লোকজন। এই দুই পক্ষের সংঘর্ষে বৃহস্পতিবার ‌গুলিবিদ্ধ হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জেরে সহিংসতায় চারজন নিহতের ঘটনার পরদিন ফের সংঘর্ষ হয়েছে নরসিংদী সদরের আলোকবালী ইউনিয়নে।

দুর্গম এই চরাঞ্চলের উত্তরপাড়ায় শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সংঘর্ষে জড়ায় ইউপি সদস্য পদের দুই প্রার্থীর সমর্থকরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) হারুনুর রশিদ এ তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সবশেষ পাওয়া তথ্যে সংঘর্ষে দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আলোকবালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপুর অনুসারী ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী মো. মামুনের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের অনুসারী ইউপি সদস্য প্রার্থী জব্বর মিয়ার লোকজন।

এই দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইউনিয়নের নেকজানপুর গ্রামে গত বৃহস্পতিবার ‌গুলিবিদ্ধ হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। আটকও করা হয়নি কাউকে।


এসব ঘটনায় আতঙ্কিত চরাঞ্চলের লোকজন।

সদর থানার ওসি হারুনুর রশিদ জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কেউ মামলা করতে আসেনি। এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে চেয়ারম্যান পদের জন্য মনোনয়ন চেয়েছিলেন বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুল্লাহ।

দেলোয়ার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন আসাদুল্লাহ।

দলের নেতা-কর্মীদের চাপে আসাদুল্লাহ পরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এরপর থেকে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ প্রকট হয়ে ওঠে।

এরই জেরে বৃহস্পতিবার সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। গুলিতে প্রাণ যায় নেকজানপুর গ্রামের আমির হোসেন, মো. আশ্রাফুল, খুশি বেগম ও খাইরুল ইসলামের।

গুলিবিদ্ধ আরও ছয়জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এসব বিষয়ে আলোকবালী ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মামুন হাসান বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকার কথা থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সবাই এখন ভয়ে আছে। গুলিতে কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারা চিকিৎসা শেষে বাড়িতে এলে আলোচনা সাপেক্ষে আমরা মামলার সিদ্ধান্ত নেব।’

আরও পড়ুন:
স্বতন্ত্র ও নৌকার সমর্থকদের সংঘর্ষ: আসামি ৫ শতাধিক
‘বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করায়’ ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী
পরশুরাম মানেই যেন বিনা ভোটে নির্বাচিত
‘আমি ডাকাত’ বলে ভোট চাইছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিজিবি সদস্যকে হত্যা: ঘটনাস্থলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টিম

বিজিবি সদস্যকে হত্যা: ঘটনাস্থলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টিম

পরাজিত প্রার্থীর চাচি ইয়ামিন বেগম জানান, ‘আমরা হেরে গেছি। তারপর কী হয়েছে আমাদের জানা নেই। রাত ২টার দিকে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে কিছু ব্যক্তি।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বিজিবি সদস্যের ময়নাতদন্ত হয়েছে।

জেনারেল হাসপাতালের মর্গে সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মেজবাহুর হাসান চৌধুরী।

তিনি জানান, দুপুর ১২টার দিকে বিজিবি সদস্যে রুবেল মন্ডলের ময়নাতদন্ত হয়। পরে কর্তৃপক্ষের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহত রুবেলের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি টিম। এতে ছিলেন বিজিবি রংপুর রিজিওনাল কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুবুর রহমান খান, রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত উপপুলিশ মহাপরিদর্শক ওয়ালিদ হোসেন ও নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মুরাদ হাসান বেগ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে মিজানুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। সবার সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানান হবে।

নির্বাচনি সহিংসতায় বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার পর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের গাড়াগ্রামের মাঝাপাড়া এখন সুনসান।

ঘটনাস্থলে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গিয়ে দেখা গেছে গুমট পরিবেশ। পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আশপাশে কাউকে ভিড়তে দিচ্ছে না পুলিশ।

ফল ঘোষণার পর জাতীয় পার্টির পরাজিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকদের হামলায় বিজিবি সদস্য রুবেল হোসেন নিহত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। রুবেল বাহিনীটির নায়েক ছিলেন।

এ ঘটনার পর পরাজিত প্রার্থীর বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। দুজনকে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগও করেছেন ওই প্রার্থীর এক স্বজন।

সহিংসতার বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, গাড়াগ্রাম ইউপিতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী জোনাব আলীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই ফল প্রত্যাখান করেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকরা। কেন্দ্র থেকে ব্যালটসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম নিয়ে উপজেলা সদরে রির্টানিং কর্মকর্তার দপ্তরে যাওয়ার সময় কর্মকর্তাদের ওপর লাটিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান তারা।

তারা আরও জানান, ওই সময় আত্মরক্ষায় বিজিবি সদস্য রুবেল কেন্দ্রের একটি কক্ষে আশ্রয় নিলে বিক্ষুব্ধরা সেখানে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। পুলিশের গাড়ি ও ভোট কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের চেষ্টাও চলান তারা। আত্মরক্ষায় তখন কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সরকার বিভাগের উপপরিচালক আবদুর রহমান বলেন, ‘হামলায় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসসহ নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন।’

নির্বাচনি সহিংসতার পর গাড়াগ্রামের মাঝাপাড়ায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা জোসনা বেগম জানান, প্রথম শোনা গেছে বর্তমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। পরে আবার জানা গেল সে হেরে গিয়ে জিতেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী। এনিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয় স্থানীয়দের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

শুনছি সে সময় বিজিবির এক সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকায় কোনো মানুষ নেই।

পরাজিত প্রার্থীর চাচি ইয়ামিন বেগম জানান, ‘আমরা হেরে গেছি। তারপর কী হয়েছে আমাদের জানা নেই। রাত ২টার দিকে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে কিছু ব্যক্তি।

‘আমার পরিবার থেকে দুজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কে বা কারা নিয়ে গেছে তা আমরা জানি না।’

প্রতিবেশী ফজিলা বেগম বলেন, ‘রাতে শুনেছি হাঙ্গামার খবর। সকাল থেকে এই এলাকায় কোনো মানুষ পাওয়া যায়নি।’

সহিংসতার ঘটনায় কেউ আটক আছে কিনা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তিনি কথা বলতে চাননি মামলার প্রসঙ্গেও।

আরও পড়ুন:
স্বতন্ত্র ও নৌকার সমর্থকদের সংঘর্ষ: আসামি ৫ শতাধিক
‘বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করায়’ ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী
পরশুরাম মানেই যেন বিনা ভোটে নির্বাচিত
‘আমি ডাকাত’ বলে ভোট চাইছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী

শেয়ার করুন

কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় গ্রেপ্তার আরও দুই

কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় গ্রেপ্তার আরও দুই

কুমিল্লার কাউন্সিলর সোহেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও দুজনকে। ছবি: নিউজবাংলা

সবশেষ গ্রেপ্তার দুজন হলেন নগরীর সুজানগরের জিসান মিয়া ও সংরাইশ এলাকার মোহাম্মদ রাব্বি ইসলাম অন্তু। এর মধ্যে জিসান মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আর রাব্বিকে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন ছয়জন।

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সঙ্গীকে গুলি করে হত্যা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন ছয়জন।

সবশেষ গ্রেপ্তার দুজন হলেন নগরীর সুজানগরের জিসান মিয়া ও সংরাইশ এলাকার মোহাম্মদ রাব্বি ইসলাম অন্তু।

এর মধ্যে জিসান মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আর রাব্বিকে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার মধ্যরাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী এলাকা থেকে জিসান ও দেবিদ্বার উপজেলা সদর থেকে অন্তুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার।

জেলা পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, ঘটনার দিন অন্তুর বাড়িতে দুপুরের খাবার খান এজাহারভুক্ত সাত আসামি। এ কারণে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অন্তুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিজ কার্যালয়ে গত ২২ নভেম্বর বিকেলে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলসহ গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ছয়জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ সাহার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নামে মামলা হয় কোতোয়ালি থানায়। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ১০-১২ জনকে।

আরও পড়ুন:
স্বতন্ত্র ও নৌকার সমর্থকদের সংঘর্ষ: আসামি ৫ শতাধিক
‘বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করায়’ ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী
পরশুরাম মানেই যেন বিনা ভোটে নির্বাচিত
‘আমি ডাকাত’ বলে ভোট চাইছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী

শেয়ার করুন

মারধরে চালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার ৩

মারধরে চালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার ৩

বাসচালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার তিনজন। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ‘অজ্ঞাত মাইক্রোবাসটি শনাক্তের জন্য হাটহাজারী চৌধুরী হাট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত আমরা প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ঘটনার সময় রাতে হওয়ায় গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবু একপর্যায়ে ওই গাড়ি শনাক্ত করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি।’

চট্টগ্রামে মারধরে বাসচালক নিহতের মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নগরীর বায়েজিদ থানার আমিন কলোনি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই তিনজন হলেন আনোয়ার হোসেন, মো. মোর্শেদ ও মো. রবিউল।

বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান সোমবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছিলেন, বায়েজিদ থানার আমিন জুট মিল এলাকায় ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় নোহা গাড়িকে সাইড না দেয়াকে কেন্দ্র করে প্রচণ্ড মারধরের শিকার হন ৩ নম্বর সিটি সার্ভিসের চালক আব্দুর রহিম।

পরে ওই দিন রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২৭ নভেম্বর সকালে হাটহাজারীতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করেন পরিবহনশ্রমিকরা।

সাড়ে তিন ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলেও চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে নগর পুলিশের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসে গাড়ি চলাচল শুরু করে।

ওই দিন রাতে বায়েজিদ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন আব্দুর রহিমের স্ত্রী জোছনা বেগম।

ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ‘অজ্ঞাত মাইক্রোবাসটি শনাক্তের জন্য হাটহাজারী চৌধুরী হাট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত আমরা প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ঘটনার সময় রাতে হওয়ায় গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবু একপর্যায়ে ওই গাড়ি শনাক্ত করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি।’

কী হয়েছিল সেদিন?

ওসি জানান, হাটহাজারী থেকে আসার সময় চৌধুরী হাটের আগে ওভারটেক করা নিয়ে মাইক্রোবাসের যাত্রীদের সঙ্গে আব্দুর রহিমের ঝামেলা হয়। মিনিবাসে যাত্রী ওঠানামার কারণে মাইক্রোবাসের পথরোধ হয়েছিল।

এরপর চৌধুরী হাট এলাকায় পেট্রলপাম্পের সামনে মাইক্রোবাসের যাত্রীরা দ্রুতযান পরিবহনের আরেকটি বাসের চালক আনোয়ার হোসেনকে মারধর করেন। মারধরে ওই চালক অজ্ঞান হয়ে যান। ভুল চালককে মারধরের বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা দ্রুত অক্সিজেনের দিকে চলে যান।

বালুছড়া এলাকায় আব্দুর রহিমের বাসটি চিনতে পেরে পিছু করা শুরু করেন। আমিন জুট মিলের সামনে তারা বাসের গতিরোধ করে চালককে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুর রহিমের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
স্বতন্ত্র ও নৌকার সমর্থকদের সংঘর্ষ: আসামি ৫ শতাধিক
‘বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করায়’ ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী
পরশুরাম মানেই যেন বিনা ভোটে নির্বাচিত
‘আমি ডাকাত’ বলে ভোট চাইছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী

শেয়ার করুন

বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা: এলাকা সুনসান

বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা: এলাকা সুনসান

বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার পর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের গাড়াগ্রামের মাঝাপাড়া এখন সুনসান নীরবতা। ছবি: নিউজবাংলা

হামলায় অভিযুক্ত পরাজিত প্রার্থীর চাচি ইয়ামিন বেগম জানান, ‘আমরা হেরে গেছি। তারপর কী হয়েছে আমাদের জানা নেই। রাত ২টার দিকে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে কিছু ব্যক্তি। আমার পরিবার থেকে দুজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কে বা কারা নিয়ে গেছে তা আমরা জানি না।’

নির্বাচনি সহিংসতায় এক বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার পর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের গাড়াগ্রামের মাঝাপাড়া এখন সুনসান।

ঘটনাস্থলে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গিয়ে দেখা গেছে গুমট পরিবেশ। পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আশপাশে কাউকে ভিড়তে দিচ্ছে না পুলিশ।

ফল ঘোষণার পর জাতীয় পার্টির পরাজিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকদের হামলায় বিজিবি সদস্য রুবেল হোসেন নিহত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। রুবেল বাহিনীটির নায়েক ছিলেন।

এ ঘটনার পর পরাজিত প্রার্থীর বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। দুজনকে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগও করেছেন ওই প্রার্থীর এক স্বজন।

সহিংসতার বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, গাড়াগ্রাম ইউপিতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী জোনাব আলীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই ফল প্রত্যাখান করেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকরা। কেন্দ্র থেকে ব্যালটসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম নিয়ে উপজেলা সদরে রির্টানিং কর্মকর্তার দপ্তরে যাওয়ার সময় কর্মকর্তাদের ওপর লাটিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান তারা।

তারা আরও জানান, ওই সময় আত্মরক্ষায় বিজিবি সদস্য রুবেল কেন্দ্রের একটি কক্ষে আশ্রয় নিলে বিক্ষুব্ধরা সেখানে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। পুলিশের গাড়ি ও ভোট কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের চেষ্টাও চলান তারা। আত্মরক্ষায় তখন কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায় বলেন, ‘ফল ঘোষণার পর লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিক লোকজন নিয়ে এসে ওই কেন্দ্রে তাকে জয়ী ঘোষণার দাবি জানিয়ে নির্বাচনি সরঞ্জাম নিতে বাধা দেন।

‘ওই সময় আমাদের ওপর আক্রমণ চালাতে শুরু করলে আমি নিজে, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কয়েকজন পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য আহত হই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরে আত্মরক্ষার্থে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন।’

বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা: এলাকা সুনসান



সরকার বিভাগের উপপরিচালক আবদুর রহমান বলেন, ‘হামলায় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসসহ নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন।’

নির্বাচনি সহিংসতার পর গাড়াগ্রামের মাঝাপাড়ায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা জোসনা বেগম জানান, প্রথম শোনা গেছে বর্তমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। পরে আবার জানা গেল সে হেরে গিয়ে জিতেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী। এনিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয় স্থানীয়দের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

শুনছি সে সময় বিজিবির এক সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকায় কোনো মানুষ নেই।

পরাজিত প্রার্থীর চাচি ইয়ামিন বেগম জানান, ‘আমরা হেরে গেছি। তারপর কী হয়েছে আমাদের জানা নেই। রাত ২টার দিকে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে কিছু ব্যক্তি।

‘আমার পরিবার থেকে দুজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কে বা কারা নিয়ে গেছে তা আমরা জানি না।’

প্রতিবেশী ফজিলা বেগম বলেন, ‘রাতে শুনেছি হাঙ্গামার খবর। সকাল থেকে এই এলাকায় কোনো মানুষ পাওয়া যায়নি।’

সহিংসতার ঘটনায় কেউ আটক আছে কিনা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তিনি কথা বলতে চাননি মামলা হওয়া প্রসঙ্গেও।

আরও পড়ুন:
স্বতন্ত্র ও নৌকার সমর্থকদের সংঘর্ষ: আসামি ৫ শতাধিক
‘বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করায়’ ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী
পরশুরাম মানেই যেন বিনা ভোটে নির্বাচিত
‘আমি ডাকাত’ বলে ভোট চাইছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী

শেয়ার করুন

মেয়র আব্বাস কোথায়

মেয়র আব্বাস কোথায়

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: সংগৃহীত

নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমরাও আব্বাস আলীকে খুঁজছি। ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তাও নিচ্ছি। আমরা আশা করছি তাকে পেয়ে যাব।’

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলায় রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার পর তাকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। স্থানীয়রা বলছেন, তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন।

মেয়রকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি চলছে।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে মেয়র আব্বাসের একটি অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এর পরই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান তিনি।

মেয়র অফিস করছেন না। তবে তার মোবাইল ফোনটি চালু। কখনও ফোন ধরছেন, কখনও সাড়া দিচ্ছেন না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে আব্বাস দাবি করেন, অডিওটি এডিট করা। তবে শুক্রবার বিকেলে তিনি ফেসবুকে লাইভে এসে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানো নিয়ে আপত্তির বিষয়টি স্বীকার করেন। এ জন্য তিনি ক্ষমাও চান।

ওই দিন তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি রাজশাহীর বাইরে আছি। আমি ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলব। সেখানেই অনেক বিষয়ে আপনারা ক্লিয়ার হবেন। আমি কন্টিনিউ লাইভে আসব, সেখানেই প্রশ্নের উত্তর দিব।’

কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর নামে গত ২৪ নভেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হয়। নগরীর বোয়ালিয়া থানায় করা মামলার বাদী নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও ১৩ নম্বর কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন। এ ছাড়া ২৩ নভেম্বর চন্দ্রিমা থানায় নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তহিদুল হক সুমান এবং রাজপাড়া থানায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন একই অভিযোগ এনে দুটি এজাহার জমা দেন।

অডিও প্রকাশের পর থেকে রাজশাহী শহর এবং কাটাখালীতে আলাদা কর্মসূচি থেকে আব্বাস আলীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। তবে এখন তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে।

কাটাখালী পৌরসভার কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ জানান, ‘গত ১৫ নভেম্বরের পর থেকেই আব্বাস আলী পৌরসভায় যাননি। আমরা তার গ্রেপ্তার ও শাস্তিসহ বিভিন্ন দাবি করেছি। কিন্তু তিনি কোথায় আছেন, এটি আমরাও নিশ্চিত হতে পারছি না।’

আব্বাসের অনুপস্থিতিতে পৌরসভার সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য কাউন্সিলররা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘আব্বাস আলী যে অপরাধ করেছেন তার জন্য তাকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। তিনি কোথায় সেটি নিশ্চিত হতে পারছি না। তবে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে শুনতে পারছি তিনি ঢাকায় থাকতে পারেন।’

নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমরাও আব্বাস আলীকে খুঁজছি। ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তাও নিচ্ছি। আমরা আশা করছি তাকে পেয়ে যাব।’

ওসি বলেন, ‘মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার তদন্ত চলছে। অডিও ক্লিপটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রক্রিয়ার মাঝেই তিনি ২৬ নভেম্বর নিজেই ফেসবুক লাইভে এসে স্বীকারোক্তি দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। কাজেই এটি আর খতিয়ে দেখার কিছু নাই।’

ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘তিনি যে মামলার আসামি তাতে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। এখন আমরা মূলত তাকে খুঁজে বের করার জন্য যা যা করার দরকার করছি।’

আরও পড়ুন:
স্বতন্ত্র ও নৌকার সমর্থকদের সংঘর্ষ: আসামি ৫ শতাধিক
‘বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করায়’ ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী
পরশুরাম মানেই যেন বিনা ভোটে নির্বাচিত
‘আমি ডাকাত’ বলে ভোট চাইছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী

শেয়ার করুন

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার

মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, আশিককে লালমনিরহাটের চন্ডীবাজার থেকে এবং আলমকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বড়জালা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। খুব শিগগিরই তাদের থানায় হস্তান্তর করা হবে।

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সঙ্গীকে গুলি করে হত্যা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলো চারজন।

কুমিল্লার র‍্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন মামলার ৬ নম্বর আসামি আশিকুর রহমান রকি ও ৭ নম্বর আসামি আলম মিয়া।

মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, আশিককে লালমনিরহাটের চন্ডীবাজার থেকে এবং আলমকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বড়জালা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। খুব শিগগিরই তাদের থানায় হস্তান্তর করা হবে।

কুমিল্লার চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড থেকে বৃহস্পতিবার আসামি মো. মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাসুম হত্যা মামলায় ৯ নম্বর আসামি। এর আগে মো. সুমন নামে একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ।

কাউন্সিলর সোহেল হত্যার ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মঙ্গলবার রাতে মামলা হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, মামলায় ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ১০-১২ জনকে।

নিজ কার্যালয়ে ২২ নভেম্বর (সোমবার) বিকেলে কাউন্সিলর সোহেলসহ গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ৬ জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ সাহার মৃত্যু হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওসি জানান, কাউন্সিলর সোহেল সুজানগরে তার কার্যালয়ে বসে ছিলেন। এ সময় মুখোশ পরা ১৫ থেকে ২০ জন তাকে গুলি করে। এতে কাউন্সিলর সোহেল লুটিয়ে পড়েন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন হরিপদ সাহা, পাথুরীয়াপাড়ার মো. রিজু ও মো. জুয়েল এবং সুজানগর এলাকার সোহেল চৌধুরী ও মাজেদুল।

চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে এ ঘটনা বলে জানান স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন:
স্বতন্ত্র ও নৌকার সমর্থকদের সংঘর্ষ: আসামি ৫ শতাধিক
‘বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করায়’ ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী
পরশুরাম মানেই যেন বিনা ভোটে নির্বাচিত
‘আমি ডাকাত’ বলে ভোট চাইছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী

শেয়ার করুন

এবার আ.লীগ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি

এবার আ.লীগ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: সংগৃহীত

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি দিয়ে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার মেয়র আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে এবার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়ে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভা শেষে এ কথা জানান সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুুদ দারা।

এর আগে গত বুধবার মেয়র আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আব্বাস আলী রাজশাহীর কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে তিনি প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

ঘরোয়া একটি আলোচনায় মেয়র আব্বাস বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের বিরোধিতা করে কথা বলেন। গত সোমবার এই আলোচনার অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তিনি একজনকে বলছেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে। … ফ্রার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে… যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটা… ওটা (ম্যুরাল)।’

মেয়র আব্বাস আলী বলছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না, যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে… আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এই বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে শুক্রবার বিকালে ফেসবুক লাইভে মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও মনঃপূত না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এতকিছু করা কী ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দল জীবনে থাকি তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

আরও পড়ুন:
স্বতন্ত্র ও নৌকার সমর্থকদের সংঘর্ষ: আসামি ৫ শতাধিক
‘বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করায়’ ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী
পরশুরাম মানেই যেন বিনা ভোটে নির্বাচিত
‘আমি ডাকাত’ বলে ভোট চাইছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী

শেয়ার করুন