বেনাপোলে বিপাকে ভারতফেরত যাত্রীরা

বেনাপোলে বিপাকে ভারতফেরত যাত্রীরা

ধর্মঘটের কারণে বাস না চলায় শুক্রবার ভারত থেকে ফেরা যাত্রীরা বেনাপোল স্থলবন্দরে ভোগান্তির শিকার হন। ছবি: নিউজবাংলা

`ভারতে গিয়েছিলাম চিকিৎসা করাতে। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশের পর ধর্মঘটের বিষয়টি জানতে পারি। এখন কীভাবে বাড়ি ফিরব বুঝতে পারছি না। সঙ্গে বেশি টাকাও নেই যে ট্যাক্সি ভাড়া করে যাব।’

ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘটের কারণে বিপাকে পড়েছেন ভারতফেরত যাত্রীরা। শুক্রবার সকাল থেকেই বেনাপোল থেকে পণ্যবাহী ও সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ভারত থেকে যাত্রীরা বিকল্প পথে গন্তব্যে যাত্রা করেছেন। আবার অনেকের কাছে টাকা না থাকায় তারা পরিবহন কাউন্টারে অবস্থান করছেন।

ভারত থেকে ফিরে আসা গোপালগঞ্জের জয়ন্তী তালুকদার ও সুরেশ তালুকদার বলেন, ‘আমরা ভারতে গিয়েছিলাম চিকিৎসা করাতে। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশের পর ধর্মঘটের বিষয়টি জানতে পারি। এখন কীভাবে বাড়ি ফিরব বুঝতে পারছি না। সঙ্গে বেশি টাকাও নেই যে ট্যাক্সি ভাড়া করে যাব। এ জন্য কাউন্টারে বসে আছি।’

যশোর জেলা বাস মালিক সমিতির সেক্রেটারি বাবলুর রহমান জানান, ডিজেলের মূল্য লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় বাস ও ট্রাক মালিক সমিতি অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তাতে একাত্মতা ঘোষণা করে আমরাও ধর্মঘট পালনের জন্য সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি। সে অনুযায়ী শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গ থেকে কোনো গণপরিবহন বা পণ্যবাহী ট্রাক ছেড়ে যায়নি। ডিজেলের মূল্য পুনর্বিবেচনা ও বাস ভাড়া না বাড়ানো পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবর রহমান বলেন, ‘এখন যাত্রী অনেক কম। দেশে পরিবহন ধর্মঘট হলেও সকাল থেকেই ভারত থেকে ফিরছেন যাত্রীরা। বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে কতজন যাত্রী দেশে ফিরেছেন, সেটা সন্ধ্যার দিকে বলা যাবে। বাস ধর্মঘটের কারণে ফিরে আসা যাত্রীদের কেউ কেউ বিকল্প পথে গন্তব্যে যাচ্ছেন। অনেকে আবার কাউন্টারে অবস্থান করছেন বলে জানতে পেরেছি।’

আরও পড়ুন:
সরকারের আহ্বানে সাড়া নেই পরিবহন মালিকদের
পরিবহন নিয়ে উদ্বেগে নিয়োগ পরীক্ষার্থীরা
ডিজেলের দাম বৃদ্ধি: ট্রাক ধর্মঘটের ডাক
পেট্রাপোলে সিন্ডিকেটে জিম্মি বাংলাদেশের আমদানিকারকরা
সিলেটে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জ্বালানির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ‘বিশ্ববাজার স্থিতিশীল হলে’

জ্বালানির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ‘বিশ্ববাজার স্থিতিশীল হলে’

‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে। কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। দাম স্থিতিশীল হলে কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে দিলেও দেশের বাজারে দাম কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও অপেক্ষা করতে চান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, দাম স্থিতিশীল হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠক শেষে বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে। কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। দাম স্থিতিশীল হলে কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

দাম কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকে এখনও কোনো প্রস্তাব আসেনি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যদি প্রস্তাব আসে, তা হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসায় অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিতে ফেরার মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমেই বাড়তে থাকে। বাংলাদেশেও গত ৪ নভেম্বর থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম এক লাফে লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ৮০ টাকা।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে পরিবহন ভাড়া বেড়ে গেলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে সরকার আবার সমন্বয় করবে।

দেশে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসার দুই সপ্তাহের মধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমতে থাকে করোনার নতুন ধরন শনাক্তের খবরে।

গত ২৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অশোধিত তেলের দাম ৮৫ ডলার থেকে গত রাতে সেটি নেমে এসেছে ৬৭ ডলার ৮৮ সেন্টে। এই দাম ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সবচেয়ে কম।

অবশ্য এখন তেলের যে দাম, সে তেল দেশে আসতে দুই মাসেরও বেশি সময় লেগে যাবে। ফলে এর সুফল পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কিছুদিন পর পর বাড়ানো হলেও কমানোর প্রবণতা খুবই কম। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর একবার লিটারে ৩ টাকা কমানোর পর পরিবহন ভাড়া কমেনি। এরপর সরকার আর দাম কমায়নি।

‘ওমিক্রন বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হবে না’

করোনার নতুন ধরনের প্রভাব দেশে খুব একটা পড়বে না বলেও আশা করছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ওমিক্রন অতটা কঠোর নয়। বাংলাদেশে এখনও সংক্রমণ হয়নি। যদি সংক্রমণ ঘটে, দেশের মানুষ ও অর্থনীতির ওপর কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে, তা মোকাবিলায় সরকার সর্বদা প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এটা দেশের জন্য তেমন ক্ষতি বয়ে আনবে না।’

‘অর্থপাচারে কারা জানি না’

জাতীয় সংসদে এই ধরনের মন্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া অর্থমন্ত্রী আবার বললেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘আমি সংসদে বলেছি, আগেও বলেছি কারা টাকা পাচার করছে আমার জানা নেই। টাকা পাচারের কোনো ম্যাকানিজম আমার কাছে নেই।’

টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আমরা আইগত ব্যবস্থা নিয়েছি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিন্তু বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানো হয়নি।’

কয়েক বছর ধরে টাকা পাচারের অপরাধে কাদের বিরুদ্ধে, কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে মিডিয়ার সামনে তুলে ধরা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

বলেন, ‘টাকা পাচার বন্ধ করতে হলে আইন মন্ত্রণালয়সহ সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:
সরকারের আহ্বানে সাড়া নেই পরিবহন মালিকদের
পরিবহন নিয়ে উদ্বেগে নিয়োগ পরীক্ষার্থীরা
ডিজেলের দাম বৃদ্ধি: ট্রাক ধর্মঘটের ডাক
পেট্রাপোলে সিন্ডিকেটে জিম্মি বাংলাদেশের আমদানিকারকরা
সিলেটে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

শেয়ার করুন

ভার্চুয়াল কোর্টেই মুক্তি: প্রধান বিচারপতি

ভার্চুয়াল কোর্টেই মুক্তি: প্রধান বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বুধবার ডিজিটাল আর্কাইভিং এবং ই-ফাইলিং ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন (বামে প্রথম)। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘২০০৭ সালে জুডিশিয়ারি পৃথক হয়েছে। এখনও সব জায়গায় ভবন হয়নি। আমরা বিচারক দুই-তিন গুণ করব। তাদেরকে কোথায় বসাব? একমাত্র ভার্চুয়াল কোর্ট যদি প্রবর্তন করা যায় তাহলে বিচারকের বাসায় থেকে, আইনজীবীদের ভালোভাবে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তাহলে অচিরেই আমরা মামলার জট থেকে মুক্তি পেতে পারব। তা ছাড়া মামলার জট থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন ব্যাপার।’

‘আমাদের মুক্তি হলো ভার্চুয়াল কোর্টে। ই-জুডিশিয়ারি ও ই-ফাইলিং চালু হলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে মামলার জট থাকবে না।’

সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বুধবার ডিজিটাল আর্কাইভিং এবং ই-ফাইলিং ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

মামলার জট কমাতে ভার্চুয়াল কোর্টের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের ৫ এপ্রিল আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম, আমরা জজ সাহেবরা ১০ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডে দেয়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে টাকাটা দিয়ে বললাম, কোর্ট তো ফাংশন করছে না। সারা পৃথিবীতে কোর্ট চলছে। বাংলাদেশে শুধু কোর্ট চলছে না। তখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে বললেন, ‘ভার্চুয়াল কোর্ট করেন।’ ভার্চুয়াল কোর্টের আইন করা যে কত কঠিন!

‘সেই আইন আমরা স্বল্পতম সময়ের মধ্যে করেছি। এ জন্য আমি মাননীয় আইনমন্ত্রী, বিচারপতি ইমান আলী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে ধন্যবাদ দেব। আমরা সকলে বসে ভালো করে দেখেছি। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে তার পরে আমরা আইনটা করেছি।’

সে সময়কার ঘটনা বর্ণনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “তারপরে দেখা গেল মন্ত্রিসভা বৈঠক আর হচ্ছে না। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আবার অনুরোধ করা হলো। পরে তিনি তিনজন মন্ত্রীকে দিয়ে গণভবনে মন্ত্রিসভার মিটিং করে আমাদের আইনের জন্য যে অর্ডিন্যান্স, সেটা পাস করেছেন। সুতরাং এত স্বল্পতম সময়ে এবং পরে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘যেই দিন আমার কাছে আসবে সেই দিন সাথে সাথে সই করে দিব।’ সুতরাং এই স্বল্পতম সময়ে এ আইনটা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় আইনমন্ত্রীর কাছে আমি চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকব।

“কারণ বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, জেলখানা আমার পক্ষে কন্ট্রোল করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু একটা করেন। এখন আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা কোর্টে যাবেন না। তারপরে ভার্চুয়াল কোর্ট হওয়ার পরে এক লাখ লোকের জামিন হয়েছে ভার্চুয়াল কোর্ট থেকে।”

তিনি বলেন, ‘প্রথম আমাদের একটা মিসটেক ছিল; ইউএনডিপির হেল্প নিয়েছি। ইউএনডিপির রিসোর্স লিমিটেড। আর সরকারের রিসোর্স হচ্ছে আনলিমিটেড। ইউএনডিপির রিসোর্স দিয়ে জাজদের অ্যাপ দিতে পারি নাই। সব কোর্ট কাজ করতে পারে নাই। লজিস্টিকের এত অভাব ছিল।

‘এমনকি নিম্ন আদালতে তারা ফ্রি অ্যাপ দিয়ে কাজ করেছে। নিম্ন আদালতের জাজদের আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিব। তারা তখন ফ্রি অ্যাপের মাধ্যমে কাজ করেছে।’

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “তারপর আমি দেখলাম এটা তো সমাধান হতে পারে না। কারণ এই প্যানডেমিক কত দিন চলবে তার কোনো ঠিক নাই। আমি আবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, ‘আপনি তো ভার্চুয়াল কোর্ট করে দিয়েছেন। এখন তো ভার্চুয়াল কোর্ট ভালোভাবে চলছে না লজিস্টিকের অভাবে।’ তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘এটা তো আমাকে প্রথমেই বলা উচিত ছিল। আপনার কত টাকার প্রয়োজন?’

“আমি বললাম আপাতত ১০ কোটি টাকা দিলে অ্যাপ-ট্যাপ এগুলা কিনব। তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে কি কেউ ১০ কোটি টাকা চায়?’ আমি একটু লজ্জা পেলাম। তারপরে প্রধানমন্ত্রী মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রীকে বললেন, ‘প্রধান বিচারপতি যা কিছু চাবে, সব তাৎক্ষণিক দিতে হবে।’ এরপর সাথে সাথে প্রতিমন্ত্রী সব দিয়েছেন। এরপর আমি সবকিছু চালু করতে পেরেছি। সুতরাং এটা আমার কাছে বেশি সাফল্য।”

তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে আরও বলেছিলাম, লাখ লাখ ফাইল আমাদের বারান্দায় পড়ে আছে। আমি একদিন আমাদের বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল, তখন তিনি বারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তাকে নিয়ে দেখলাম লাখ লাখ ফাইল বারান্দায় পড়ে আছে। তারপর গেলাম ক্রিমিনাল সেকশনে। সেখানেও একই অবস্থা। এখান থেকে ফাইল খুঁজে বের করে কোর্টে দেয়াটা দুঃসাধ্য কাজ।

‘আমরা যদি এটা আর্কাইভ করে রাখতে পারি, এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। আমি আশা করি আমরা অচিরেই এটা করতে পারব। মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আমি বিশেষ কৃতজ্ঞ। তার সঙ্গে আমি দুইটি মিটিং করেছি। তিনি আমাদের ফুল সাপোর্ট দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, টাকা কোনো সমস্যা না। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে শুধু সুপ্রিম কোর্টের কাজ করার জন্য ২২০ কোটি টাকা দিয়েছে। যেখানে আমরা ভার্চুয়াল কোর্ট শুরু করেছি ১ লাখ ডলার দিয়ে, সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিয়েছে ২২০ কোটি টাকা। এখানে হচ্ছে একটা ডেটা সেন্টার, যেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে আমাদের সমস্ত কিছু থাকবে, এটার জন্য খরচ হবে ১৫০ কোটি টাকা।’

সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী ও আইসিটি উপদেষ্টা আমাদের যেইভাবে সাপোর্ট করেছেন, আমার চলে যাওয়ার সময় হয়েছে। আমি তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ। একজন প্রধান বিচারপতির সময় কোর্ট বন্ধ থাকা, এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আমার জীবনে বোধ হয় কোনো ঘটনা ঘটেনি। সুতরাং আমি যে কোর্ট চালু রাখতে পেরেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় আইনমন্ত্রী, আইসিটি উপদেষ্টা, আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।

‘আমি আর একটা কথা বলব, আমার উত্তরসূরি যে আসবেন, উনি এ কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এটাকে অনেক সামনে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের মুক্তি হলো ভার্চুয়াল কোর্টে। কারণ আমাদের বিচারক সংখ্যা দুই, তিন গুণ করা প্রয়োজন হবে। এখনও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিল্ডিং হয়নি সব জায়গায়।’

তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে জুডিশিয়ারি পৃথক হয়েছে। এখনও সব জায়গায় ভবন হয়নি। আমরা বিচারক দুই-তিন গুণ করব। তাদেরকে কোথায় বসাব? একমাত্র ভার্চুয়াল কোর্ট যদি প্রবর্তন করা যায় তাহলে বিচারকের বাসায় থেকে, আইনজীবীদের ভালোভাবে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তাহলে অচিরেই আমরা মামলার জট থেকে মুক্তি পেতে পারব। তা ছাড়া মামলার জট থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন ব্যাপার। যেমন: অ্যাফিডেভিট সেকশনে আসতে হয়, চেষ্টা করা হবে আইনজীবীর চেম্বারে আইনজীবী এনআইডির সঙ্গে করেসপন্ড করে যদি করা যায়, তাহলে অ্যাফিডেভিট সেকশনে আসতে হবে না। এর ফলে ২৪ ঘণ্টা ফাইল করা যাবে।

‘ভারতে ২৪ ঘণ্টা ফাইল করা যাচ্ছে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে আমার যে উত্তরসূরি আসবে তিনি যদি এটা করেন, বিচার বিভাগে একটা বিপ্লব ঘটে যাবে। শুধু তাই নয়, এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যে জায়গায় যাচ্ছে, শুধু মুখে কথা বলবেন, লেখা হয়ে যাবে; কষ্ট অনেক কমে যাবে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এমন জায়গায় যাবে যে জুডিশিয়ারিতে কোনো পেন্ডিং মামলা থাকবে না।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, আইন সচিব গোলাম সারোয়ার। এ সময় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সরকারের আহ্বানে সাড়া নেই পরিবহন মালিকদের
পরিবহন নিয়ে উদ্বেগে নিয়োগ পরীক্ষার্থীরা
ডিজেলের দাম বৃদ্ধি: ট্রাক ধর্মঘটের ডাক
পেট্রাপোলে সিন্ডিকেটে জিম্মি বাংলাদেশের আমদানিকারকরা
সিলেটে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

শেয়ার করুন

এনজিও কর্মকর্তা হত্যা: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবনে ৪

এনজিও কর্মকর্তা হত্যা: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবনে ৪

মানিকগঞ্জে এনজিও পরিচালককে হত্যায় যাবজ্জীবান পাওয়া আসামিরা আদালতে। ছবি: নিউজবাংলা

এনজিওর ফান্ডে জমা হওয়া ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতে ২০০৬ সালের ২১ মে শহিদুলকে গলাকেটে হত্যা করে শাহিন ও তার সহযোগীরা। আসামিদের মধ্যে দুইজন গ্রেপ্তার আছেন।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় একটি বেসরকারি সংস্থার পরিচালককে হত্যার ১৫ বছর পর এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক উৎপল ভট্টাচার্য্য বুধবার বিকালে এই রায় দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মথুর নাথ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডের আসামি হলেন শাহিন আলম এবং যাবজ্জীবন পেয়েছেন সাহেদ মিয়া, রাজা মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, ও বিষ্ণু সুইপার।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রহম আলী ও সেলিম মিয়া নামে দুইজনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে সাহেদ ও বিষ্ণু গ্রেপ্তার আছেন। অন্যরা পলাতক।

নিহত ব্যক্তির নাম মো. শহিদুল। তিনি ছিলেন প্রিয় বাংলা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামে স্থানীয় একটি এনজিওর পরিচালক। তিনি ও আসামি শাহিন মিলেই এই এনজিও প্রতিষ্ঠা করেন।

এনজিওর ফান্ডে জমা হওয়া ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতে ২০০৬ সালের ২১ মে শহিদুলকে গলাকেটে হত্যা করে শাহিন ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় মামলা করেন।

২০১৪ সালের ১০ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা সাটুরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জলিল।

২৫ জনের সাক্ষ্য নেয়া শেষে ১৫ বছর পর এই হত্যা মামলার রায় হয়।

আরও পড়ুন:
সরকারের আহ্বানে সাড়া নেই পরিবহন মালিকদের
পরিবহন নিয়ে উদ্বেগে নিয়োগ পরীক্ষার্থীরা
ডিজেলের দাম বৃদ্ধি: ট্রাক ধর্মঘটের ডাক
পেট্রাপোলে সিন্ডিকেটে জিম্মি বাংলাদেশের আমদানিকারকরা
সিলেটে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

শেয়ার করুন

রামপুরায় ছাত্র নিহতের ঘটনায় সড়ক মন্ত্রীর নানা প্রশ্ন

রামপুরায় ছাত্র নিহতের ঘটনায় সড়ক মন্ত্রীর নানা প্রশ্ন

অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হয় এসএসসি পরীক্ষা দেয়া এক শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত

ঘটনার ১২ মিনিটেই নিরাপদ সড়ক চাই পেইজ লাইভে গেল কীভাবে?  নাকি তারা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল? বাঁশেরকেল্লা ১৫ মিনিটের মধ্যেই সব খবর পেয়ে গেল কীভাবে?  আর বাকি ১০ মিনিটেই ১০ টি গাড়িতে আগুন কীভাবে দেয়া হলো? এত জনবল রাত ১১ টার পর ঘটনাস্থলে এলো কীভাবে?  তাহলে তার কি আগেই প্রস্তুত ছিল?’

রামপুরায় বাস চাপায় শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনাটি পরিকল্পিত কি না, জাতির বিবেকের কাছে সে প্রশ্ন রেখেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছাত্র নিহতের ঘটনার ১৫ মিনিটের মধ্যেই ফেসবুক পেজে লাইভ এবং গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।

বুধবার আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত " ফাইভ জি: দ্য ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি’ শীর্ষক সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ নেতা এও বলেন, ছাত্র নিহত হওয়ায় গভীর শোকাহত ও ব্যথিত।

তিনি বলেন, ঘটনাটি ঘটে রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে। এর ১২ মিনিট পর ১০ টা ৫৭ মিনিটে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ ফেসবুক পেইজে সেই স্থান থেকে লাইভ করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে ১৭ টি বাসে আগুন দেয়া হয় এবং অসংখ্য গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রাত ১১ টায় জামায়াত পরিচালিত টেলিগ্রাম চ্যানেলে খবরটি প্রকাশিত হয় এবং দুর্ঘটনার স্থান থেকেই সমস্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই প্রায় ১৫টি বাসে আগুন দেয়াও শেষ হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিষয়টি আসলেই দুর্ঘটনা কিনা?

তিনি বলেন, ‘ঘটনার ১২ মিনিটেই নিরাপদ সড়ক চাই পেইজ লাইভে গেল কীভাবে? নাকি তারা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল? বাঁশেরকেল্লা ১৫ মিনিটের মধ্যেই সব খবর পেয়ে গেল কীভাবে? আর বাকি ১০ মিনিটেই ১০ টি গাড়িতে আগুন কীভাবে দেয়া হলো?’

এত রাতে দুর্ঘটনার পর পর ঘটনাস্থলে মানুষের জটলা নিয়েও প্রশ্ন রাখেন সড়ক মন্ত্রী। বলেন, ‘এত জনবল রাত ১১ টার পর ঘটনাস্থলে এলো কীভাবে? তাহলে তার কি আগেই প্রস্তুত ছিল?’

মন্ত্রী বলেন, ‘সেনাবাহিনী, পুলিশ বা ফায়ার বিগ্রেড এতো তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে পারে না, যত দ্রুত গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। এতে রাতে অল্প বয়সী শিক্ষার্থীরা কি এত দ্রুত পৌঁছে গেছে?’

তিনি বলেন ‘এমনিতেই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আন্দোলন চলছে। যারাই দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছেন তারা সবাই শিক্ষার্থী। গাড়ীতে কি ছাত্র ছাড়া অন্য আর যাত্রী থাকে না?‘

এসব প্রশ্ন করে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি মোটেই দুর্ঘটনা নয়।… এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

ওবায়দুল কাদের বলেন ২০২৩ সালের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে এই ফাইভ- জি সেবা দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শরর, শিল্প প্রতিষ্ঠাননির্ভর এলাকায় বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এ পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
সরকারের আহ্বানে সাড়া নেই পরিবহন মালিকদের
পরিবহন নিয়ে উদ্বেগে নিয়োগ পরীক্ষার্থীরা
ডিজেলের দাম বৃদ্ধি: ট্রাক ধর্মঘটের ডাক
পেট্রাপোলে সিন্ডিকেটে জিম্মি বাংলাদেশের আমদানিকারকরা
সিলেটে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

শেয়ার করুন

বর্জ্য-বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ, চুক্তি সই

বর্জ্য-বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ, চুক্তি সই

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ আবর্জনা প্রয়োজন হবে তা সরবরাহ করলে শহরে ময়লা ব্যবস্থাপনায়ও বড় একটি সংকটের সমাধান হবে। এই কেন্দ্রে পরিবেশের ভারসাম্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বহুল আলোচিত পরিবেশবান্ধব ‘বর্জ্য বিদ্যুৎ’ যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে জ্বালানি বিভাগ। এ লক্ষ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘আমিন বাজার ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ স্থাপন সংক্রান্ত এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এবং ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

মন্ত্রী তাজুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ইনসিনারেশন পদ্ধতি অর্থাৎ বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা প্রয়োজন হবে তা সরবরাহ করলে শহরে ময়লা ব্যবস্থাপনায়ও বড় একটি সংকটের সমাধান হবে।

‘এই কেন্দ্রে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। কার্যক্রম শুরু হওয়ার ১৮ মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে চীনা কোম্পানি। এ ব্যাপারে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

বর্জ্য-বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ, চুক্তি সই
‘আমিন বাজার ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ স্থাপন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। ছবি: নিউজবাংলা

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘চীনা কোম্পানি নিজ ঝুঁকিতে প্ল্যান্ট স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ ও নিয়মিত বর্জ্য সরবরাহ করবে। আর উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনে নেবে বিদ্যুৎ বিভাগ।

‘শুধু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নয়; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় ও জেলা শহর এমনকি পৌরসভাগুলোতেও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান।

‘যেসব বিভাগ, জেলা শহর ও পৌরসভা প্রতিদিন ছয়শ’ টন আবর্জনা সরবরাহ করতে পারবে তারা বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সরাসরি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারবে।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যে মডেল অনুসরণ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে তার চেয়ে বাংলাদেশের জন্য ইনসিনারেশন অর্থাৎ বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পদ্ধতি উন্নত। এই পদ্ধতিতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না। তাই প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিসাপেক্ষে বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

নসরুল হামিদ বলেন, ‘বর্জ্য-বিদ্যুৎ স্মার্ট শহর গড়তে তাৎপর্যময় অবদান রাখবে। বর্জ্যের এই ব্যবস্থাপনা শুধু বিদ্যুৎই দেবে না; একইসঙ্গে গ্রিন হাউজ গ্যাস কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমিত করবে।

‘দেশের সব জেলায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ঢাকা শহরে দ্রুত ইলেক্ট্রিক ভেহিক্যাল চালু করতে পারলে পরিবেশের জন্য ভালো হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ প্রয়োজনীয় চার্জিং স্টেশন করে দেবে।’

বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ ও চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (সিএমইসি) উপ-মহাব্যবস্থাপক ওয়াং পেংফেই এবং বাস্তবায়ন চুক্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষে যুগ্ম সচিব নাজমুল আবেদীন স্বাক্ষর করেন।

ঢাকা উত্তর সিটির আমিনবাজারে সিএমইসি ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৫ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। প্ল্যান্টটি সচল রাখতে প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য প্রয়োজন হবে। আর এখানে উৎপাদিত প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়বে ১৮ টাকা ৩০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
সরকারের আহ্বানে সাড়া নেই পরিবহন মালিকদের
পরিবহন নিয়ে উদ্বেগে নিয়োগ পরীক্ষার্থীরা
ডিজেলের দাম বৃদ্ধি: ট্রাক ধর্মঘটের ডাক
পেট্রাপোলে সিন্ডিকেটে জিম্মি বাংলাদেশের আমদানিকারকরা
সিলেটে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

শেয়ার করুন

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ যেতে ৩ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ যেতে ৩ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে

ফাইল ছবি

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালে বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৬ কোটি টাকার ফগলাইট কিনতে যুক্তরাষ্ট্রে যান প্রতিষ্ঠানটির তখনকার চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, পরিচালক জ্ঞান রঞ্জন শীল, জিএম ক্যাপ্টেন শওকত সরদার ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পংকজ কুমার পাল। এই চার সদস্যের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন মাত্র একজন। মাওয়া আরিচা ফেরিঘাটে ফগ লাইট পরীক্ষা করার পারে দেখা যায়, ৭ হাজার ওয়ার্ডের ফগলাইট কাজ করছে মাত্র ৩ হাজার ওয়ার্ডের সমান।

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি মন্ত্রিসভার অনুমতি লাগবে বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত একটি রায় বুধবার প্রকাশ হয়েছে। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

১৪ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর এ রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট।

ওই দিন আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কেনাকাটায় বিদেশ ভ্রমণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে হবে। রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় রোধ করতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাইফুর রশিদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালে বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৬ কোটি টাকার ফগলাইট কিনতে যুক্তরাষ্ট্রে যান প্রতিষ্ঠানটির তখনকার চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, পরিচালক জ্ঞান রঞ্জন শীল, জিএম ক্যাপ্টেন শওকত সরদার ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পংকজ কুমার পাল। এই চার সদস্যের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার ছিল মাত্র একজন।

৬ কোটি টাকা দিয়ে ১০টি ফগ লাইট ক্রয় করেন তারা যা ছিল নিম্নমানের। এছাড়া দেশে ফিরে গ্রীষ্মকালেই তারা এই ফগ (কুয়াশা) লাইট পরীক্ষা করেছে। মাওয়া আরিচা ফেরিঘাটে ফগলাইট পরীক্ষা করার পারে দেখা যায়, ৭ হাজার ওয়ার্ডের ফগলাইট কাজ করছে মাত্র ৩ হাজার ওয়ার্ডের সমান। কিন্তু এর মধ্যে টাকা তুলে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জনি করপোরেশন। তবে অনিয়ম ধরা পড়ায় আটকে দেয়া হয় প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক গ্যারান্টির টাকা।

এরপর ২০১৬ সালে হাইকোর্টের দ্বারস্ত হয় ফগলাইট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জনি করপোরেশন। ওই রিটের দীর্ঘ শুনানি শেষে রিটটি খারিজ করে দিয়ে এ রায় দেয় হাইকোর্ট।

সাইফুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, অকার্যকর ফগলাইট সরবরাহের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক গ্যারান্টি ২৮ লাখ উদ্ধারে করা রিট খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন:
সরকারের আহ্বানে সাড়া নেই পরিবহন মালিকদের
পরিবহন নিয়ে উদ্বেগে নিয়োগ পরীক্ষার্থীরা
ডিজেলের দাম বৃদ্ধি: ট্রাক ধর্মঘটের ডাক
পেট্রাপোলে সিন্ডিকেটে জিম্মি বাংলাদেশের আমদানিকারকরা
সিলেটে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

শেয়ার করুন

বিজিবি সদস্য হত্যা একটি ‌দুর্ঘটনা: মহাপরিচালক

বিজিবি সদস্য হত্যা একটি ‌দুর্ঘটনা: মহাপরিচালক

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘এটিকে (সহিংসতা) ঘটনা না বলে; আমি দুর্ঘটনাই বলব। যারা ওই কেন্দ্রে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে; আর যারা ঘটনার পেছনে ছিলেন- তাদের কয়েকজনকে অলরেডি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও পুলিশ দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকালে বিজিবি সদস্য রুবেল হোসেন নিহতের ঘটনাকে ‘দুর্ঘটনা’ দাবি করে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘ঘটনাটি মর্মান্তিক।’

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক বুধবার দুপুরে রুবেল হোসেনের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এটিকে (সহিংসতা) ঘটনা না বলে; আমি দুর্ঘটনাই বলব। যারা ওই কেন্দ্রে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে; আর যারা ঘটনার পেছনে ছিলেন- তাদের কয়েকজনকে অলরেডি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও পুলিশ দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রুবেলের পরিবারের জন্য সরকার ও বাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়া আজকে বিজিবির তরফ থেকে ওদেরকে (রুবেলের পরিবার) কিছু অর্থ দিয়ে গেলাম। ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতা করাসহ তাদের একটি থাকার ঘর করে দেয়া হবে।’

এর আগে বিজিবি মহাপরিচালক ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে বগুড়ার সোনাতলায় অবতরণ করেন। পরে বাহিনীটির গাড়িতে করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের বেইগুনি গ্রামে রুবেল হোসেনের বাড়িতে যান।

প্রথমে রুবেলের কবর জিয়ারত করেন। পরে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা ও তাদের খোঁজ খবর নেন।

এ সময় বিজিবি মহাপরিচালক রুবেলের স্ত্রী জেসমিন বেগমের হাতে পাঁচ লাখ টাকার অনুদানের চেক ও বাবা নজরুল ইসলামকে তিন লাখ টাকার চেক দেন।

২০০৩ সালের ডিসেম্বরের বিজিবিতে যোগ দেন রুবেল হোসেন। তিনি নীলফামারী ৫৬ বিজিবির ল্যান্স নায়েক হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

গত ২৮ নভেম্বর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের গাড়ামারা ইউপি নির্বাচনের ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পরাজিত এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় নিহত হন তিনি। এ ঘটনায় কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং অফিসার একটি মামলা করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
সরকারের আহ্বানে সাড়া নেই পরিবহন মালিকদের
পরিবহন নিয়ে উদ্বেগে নিয়োগ পরীক্ষার্থীরা
ডিজেলের দাম বৃদ্ধি: ট্রাক ধর্মঘটের ডাক
পেট্রাপোলে সিন্ডিকেটে জিম্মি বাংলাদেশের আমদানিকারকরা
সিলেটে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

শেয়ার করুন