‘বিদেশ যেতে না পারলে মরা ছাড়া গতি নাই’

বাস বন্ধ

মেহেরপুরে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে বন্ধ রয়েছে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস। ছবি: নিউজবাংলা

সোহাগ বলেন, ‘সকালে শুনলাম কোনো বাস চলবে না। আমি এখন মহাবিপদে। মাইক্রোবাসে ঢাকা যাওয়ার সামর্থ্য তো আমার নাই। এমনিতেই ধারদেনা করে ফিরছি। এখন যদি আমার যাওয়াই বন্ধ হয়ে তখন কী করব? বিদেশ যেতে না পারলে আমার মরা ছাড়া কোনো গতি থাকবে না।’

সৌদি আরবের প্রবাসী শ্রমিক সোহাগ আলী ১০ বছর পর ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। ছুটি শেষে তার কাজে ফেরার সময় চলে এসেছে।

তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ভাড়া সমন্বয়ের দাবিতে ডাকা বাস ও ট্রাক ধর্মঘট ফেরার বিষয়টি অনিশ্চিত করে তুলেছে।

সোহাগ আলীর বাড়ি ঝিনাইদহের গাংনী উপজেলার বামন্দী গ্রামে। তিনি ১০ বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করেন। প্রথম সাত বছর তার কাজের অনুমতি ছিল না। পরের তিন বছর বৈধভাবে কাজ করার পর ছুটিতে বাড়ি আসেন।

সোহাগ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৭ নভেম্বর আমার ফ্লাইট। তার ২৪ ঘণ্টা আগে করোনা টেস্টের রিপোর্ট লাগবে। আমাদের জেলায় আরটিপিসিআর ল্যাব নেই। এয়ারপোর্টে নানা জটিলতা। সে কারণে এই জেলার সবাই কুষ্টিয়ায় টেস্ট করাব।

‘সকালে শুনলাম কোনো বাস চলবে না। আমি এখন মহাবিপদে। কুষ্টিয়া পর্যন্ত যেতে পারব। তবে মাইক্রোবাসে ঢাকা যাওয়ার সামর্থ্য তো আমার নাই। এমনিতেই ধারদেনা করে ফিরছি। এখন যদি আমার যাওয়াই বন্ধ হয়ে তখন কী করব? বিদেশ যেতে না পারলে আমার মরা ছাড়া কোনো গতি থাকবে না।’

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার রাত ১২টা থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে বেড়ে গেছে ১৫ টাকা। এতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরিমালিকরা শুক্রবার ভোর থেকে পণ্য পরিবহন বন্ধের ঘোষণা দেয়। এরপর পরিবহন মালিক সমিতিও শুক্রবার থেকে বাস চালানো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

সারা দেশের মতো মেহেরপুরেও শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে বন্ধ রয়েছে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ জেলার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আরও পড়ুন:
দুই মহাসড়কে বন্ধ বাস, বাড়তি ভাড়ায় ভোগান্তি
‘পরীক্ষা কেন্দ্রে হরতাল-টরতাল বলে লাভ নেই’
ট্রাক ধর্মঘট: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা
ধর্মঘট প্রত্যাহার চান কাদের
পরিবহন ধর্মঘটে সমর্থন রেজা-নুরের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বগি লাইনচ্যুত, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে বন্ধ ট্রেন

বগি লাইনচ্যুত, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে বন্ধ ট্রেন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় লাইনচ্যুত হয়েছে মালবাহী ট্রেনের দুটি বগি। ছবি: নিউজবাংলা

পাকশী রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী শিপন আলী জানান, দুর্ঘটনার কারণে চাটমোটর স্টেশনে ঢাকাগামী লালমনি এক্সপ্রেস ও উল্লাপাড়া স্টেশনে রাজশাহীগামী বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে আছে।

ঢাকা-ঈশ্বরদী রেলপথের পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মালবাহী ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

ভাঙ্গুরার বড়ালব্রিজ রেল স্টেশনে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনা হয়েছে।

পাকশী রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী শিপন আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণে চাটমোটর স্টেশনে ঢাকাগামী লালমনি এক্সপ্রেস ও উল্লাপাড়া স্টেশনে রাজশাহীগামী বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে আছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বড়ালব্রিজ স্টেশন পার হওয়ার সময় বিকট শব্দে ট্রেনটির পেছনের দশটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি বগি হেলে পড়ে। আরেকটির চাকা লাইন থেকে পড়ে যায়।

বড়ালব্রিজ স্টেশনের বুকিং ক্লার্ক মো. মামুন জানান, পাকশী থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন সেখানে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
দুই মহাসড়কে বন্ধ বাস, বাড়তি ভাড়ায় ভোগান্তি
‘পরীক্ষা কেন্দ্রে হরতাল-টরতাল বলে লাভ নেই’
ট্রাক ধর্মঘট: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা
ধর্মঘট প্রত্যাহার চান কাদের
পরিবহন ধর্মঘটে সমর্থন রেজা-নুরের

শেয়ার করুন

সরকারি বাগানের রাবার পাচার, গ্রেপ্তার ২

সরকারি বাগানের রাবার পাচার, গ্রেপ্তার ২

মধুপুরে সরকারি বাগান থেকে ৪ হাজার ৮০ কেজি রাবার পাচারের সময় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

র‌্যাব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, টেংরীর আলোকদিয়া এলাকায় র‌্যাব অভিযান চালিয়ে রাবারভর্তি একটি কার্গো ট্রাকসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে সরকারি রাবার বাগান থেকে পাচার হওয়া অপরিশোধিত ৪ হাজার ৮০ কেজি রাবার জব্দ করা হয়। এসব কাঁচা রাবারের দাম আনুমানিক ৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

টাঙ্গাইলের মধুপুরে সরকারি বাগান থেকে রাবার পাচারের সময় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

উপজেলার টেংরী এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে ৪ হাজার ৮০ কেজি রাবারসহ অপূর্ব চন্দ্র দাস ও শামীম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-১২-এর ৩ নম্বর কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তারকৃত অপূর্ব চন্দ্র দাস মধুপুরের মাস্টারপাড়া এবং শামীম মণ্ডল কাজীপাড়ার বাসিন্দা।

র‌্যাব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গোপন তথ্যে টেংরীর আলোকদিয়া এলাকায় র‌্যাব অভিযান চালিয়ে রাবারভর্তি একটি কার্গো ট্রাকসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে সরকারি রাবার বাগান থেকে পাচার হওয়া অপরিশোধিত ৪ হাজার ৮০ কেজি রাবার জব্দ করা হয়। এসব কাঁচা রাবারের দাম আনুমানিক ৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা মধুপুর থানা এলাকার সরকারি বাগানের অপরিশোধিত রাবার অনেক দিন ধরে চুরি করে আসছেন। এসব রাবার তারা কার্গো ট্রাকে তুলে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে বিক্রি করেন।

দুজনের বিরুদ্ধে মধুপুর থানায় মামলা দিয়ে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আরও পড়ুন:
দুই মহাসড়কে বন্ধ বাস, বাড়তি ভাড়ায় ভোগান্তি
‘পরীক্ষা কেন্দ্রে হরতাল-টরতাল বলে লাভ নেই’
ট্রাক ধর্মঘট: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা
ধর্মঘট প্রত্যাহার চান কাদের
পরিবহন ধর্মঘটে সমর্থন রেজা-নুরের

শেয়ার করুন

‘জমির বিরোধের বলি’ ২৫০ হাঁস

‘জমির বিরোধের বলি’ ২৫০ হাঁস

সাভারের এই খামারের ২৫০ হাঁস মরে পড়ে ছিল। ছবি: নিউজবাংলা

খামারমালিক রাশেদ বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের সঙ্গে জমি নিয়ে আমার বিরোধ চলছিল। গতকালকেও জাহাঙ্গীর খামারে দুইটা লোক পাঠায় ১০টা হাঁস চেয়েছিল খাওয়ার জন্য। আমি রাজি হইনাই দেখে সে হুমকি দিয়ে চলে যায়। আমি জিডিও করেছিলাম। এ কারণেই সে হাঁসগুলো মেরে ফেলসে।’

ঢাকার সাভারে ২৫০ হাঁস বিষ দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন এক খামারি। তিনি জানান, জমির বিরোধের জেরে খামারের ম্যানেজারকে মারধর করে হাঁসগুলোকে বিষ দেয়া হয়েছে।

আশুলিয়ার দরগার পাড় এলাকার রাশেদ ভূঁইয়ার খামারে বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, মরে পড়ে আছে হাঁসগুলো।

রাশেদ নিউজবাংলাকে জানান, চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে লিজ নেয়া জমিতে এক বছর আগে এই খামার গড়ে তোলেন তিনি। ১০০ বেলজিয়াম ও ১৫০ খাকি ক্যাম্বেল হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করে লালনপালন শুরু করেন। খামারের দেখভালের জন্য ম্যানেজারও রাখেন।

রাশেদ বলেন, ‘আজ দুপুরে ম্যানেজার ফোন করে জানায় যে জাহাঙ্গীর, ফারুক ও বশিরসহ কয়েকজন এসে শেডের চাবি চায়। চাবি না দেয়ায় তাকে মারধর করা হয়। সে পালিয়ে গিয়ে আমাকে ফোন করে। আমি খামারে গিয়ে দেখি একে একে সব হাঁস মারা যাচ্ছে।’

‘জাহাঙ্গীরের সঙ্গে জমি নিয়ে আমার বিরোধ চলছিল। গতকালকেও জাহাঙ্গীর খামারে দুইটা লোক পাঠায় ১০টা হাঁস চেয়েছিল খাওয়ার জন্য। আমি রাজি হইনাই দেখে সে হুমকি দিয়ে চলে যায়। আমি জিডিও করেছিলাম। এ কারণেই সে হাঁসগুলো মেরে ফেলসে।’

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসওয়াদুর রহমান জানান, রাশেদ থানায় জিডি করেছেন যে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। তবে হাঁস মারা যাওয়ার কোনো অভিযোগ এখনও পাওয়া যায়নি।

সাভার উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, খামারমালিক থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের মাধ্যমে হাঁসগুলোর ময়নাতদন্ত করা হবে। তারপরই নিশ্চিত করা যাবে, কীভাবে সেগুলো মারা গেল।

আরও পড়ুন:
দুই মহাসড়কে বন্ধ বাস, বাড়তি ভাড়ায় ভোগান্তি
‘পরীক্ষা কেন্দ্রে হরতাল-টরতাল বলে লাভ নেই’
ট্রাক ধর্মঘট: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা
ধর্মঘট প্রত্যাহার চান কাদের
পরিবহন ধর্মঘটে সমর্থন রেজা-নুরের

শেয়ার করুন

পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী

পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী

পাহাড়ের বাসিন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী মনে করছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত বাড়ার পেছনে মূল কারণ সংগঠনগুলোর স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও চাঁদার ভাগ-বাটোয়ারা।

শান্তি চুক্তির দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনও বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে শান্তি ফেরেনি। পাহাড়ে গুম, খুন, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। সহিংসতার ভয়ে কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন।

চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে সরকার ও পাহাড়ের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে রয়েছে ভিন্নমত।

সরকার বলছে, পার্বত্য চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত ও ১৫টি আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। এ ছাড়া ৯টি ধারার বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান।

তবে পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা বলছেন, এতো দীর্ঘ সময়ে মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে, ১৮টি আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি ২৯টি ধারার কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।

ভূমি সমস্যা সমাধানসহ চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলায় ক্ষোভ, হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন পাহাড়ের নেতারা।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সঙ্গে চুক্তি করেন, যেটিকে ‘শান্তি চুক্তি’ নামে অভিহিত করা হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পরও অস্ত্রের ঝনঝনানি থামেনি পাহাড়ে। নতুন নতুন সশস্ত্র গ্রুপের আবির্ভাব এবং সেগুলোর অন্তর্কোন্দলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেই চলেছে। নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের কলহে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো জড়িয়ে পড়ছে সংঘাতে।


পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী


দুই যুগে আড়াই হাজার খুন

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, শান্তি চুক্তির পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সামাজিক অপরাধের বাইরে তিন পার্বত্য জেলায় খুন হয়েছে ২ হাজার ৫৭৩ জন মানুষ। অপহৃত হয়েছে অন্তত ২ হাজার ৬২৬ জন। নিহতদের মধ্যে পাহাড়ি-বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের লোক আছে।

গত চার বছরে শুধুমাত্র রাঙামাটিতেই আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে খুন হয়েছে ১২৪ জন। পার্বত্য তিন জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হানাহানির ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে। এই দুই জেলায় নিহত হন ১০৫ জন। আর বান্দরবানে নিহত হন ১৯ জন।

পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী
ইউপি সদস্য সমর বিজয় চাকমাকে পিআইও অফিসে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

নিহতদের মধ্যে ৯২ জন পার্বত্য এলাকার চারটি আঞ্চলিক দলের নেতা-কর্মী। এর মধ্যে ইউপিডিএফের ৩৯ জন, জেএসএসের (লারমা) ৩৮ জন, পিসিজেএসএসের ১৩ জন ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের ২ জন। অন্যদের মধ্যে ২০ জন সাধারণ নাগরিক, একজন সেনাসদস্য, বিএনপির নেতা ১ জন, আওয়ামী লীগের ১০ জন ও মগ পার্টির ১ জন রয়েছেন।

পাহাড়ের রাজনীতির মারপ্যাঁচ

পাহাড়ে এক সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) নামে একটিমাত্র আঞ্চলিক দল ছিল। এই দলের সঙ্গেই ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি করেছিল সরকার। চুক্তির বিরোধিতা করে প্রথমে একটি অংশ জেএসএস থেকে বেরিয়ে ১৯৯৮ সালে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) নামে নতুন সংগঠন করে। পরে জেএসএস ভেঙে জেএসএস (সংস্কারপন্থি) নামে ২০০৭ সালে আরেকটি সংগঠন হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৭ সালে ইউপিডিএফ ভেঙে ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক নামে নতুন সংগঠন হয়।

পার্বত্য চুক্তির এক বছরের মধ্যে চুক্তির পক্ষের জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে ইউপিডিএফের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। ২০০৭ সালে জনসংহতি সমিতি ভেঙে গঠিত হয় জনসংহতি সমিতি (লারমা) বা জেএসএস (লারমা) নামের নতুন দল। ২০১৭ সালে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি হয়। ওই বছরের ১৫ নভেম্বর তপনজ্যোতি চাকমার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক নামের নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

পাহাড়ে শান্তি না ফেরার কারণ কী


পার্বত্য চট্টগ্রামে এই চারটি সংগঠনের বাইরে আরও কয়েকটি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে আরাকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি)। এই দলের সদস্যদের অবস্থান বান্দরবানের গহীনে। ২০১৮ সালে এএলপি ভেঙে গঠিত হয় মগ পার্টি। তাদের অবস্থানও বান্দরবানে। তবে এই দুই দলের অবস্থান শুধু বান্দরবানে; রাঙামাটি কিংবা খাগড়াছড়িতে এদের কোনো তৎপরতা নেই।

কার শক্তি কোথায়?

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিদে যে চারটি গ্রুপ বা সংগঠন রয়েছে, সেগুলোর একেকটির অবস্থান একেক জায়গায় শক্ত। এর মধ্যে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের দুটি অংশের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। খাগড়াছড়ির স্থানীয় বাসিন্দা ও পাহাড়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের শক্ত অবস্থান রয়েছে। অন্যদিকে বান্দরবানে জেএসএসের দুইটি অংশের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। সেখানে জেএসএস শক্তিশালী। বান্দরবানের ইউপিডিএফের তৎপরতা নেই বললে চলে। আর রাঙামাটিতে জেএসএস এবং ইউপিডিএফের চার পক্ষই শক্তিশালী।

শান্তি না ফেরার কারণ কী?

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) নেতা ত্রিদিব চাকমা বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে সমস্যা সমাধান হবে না। দুই যুগেও চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক সুদর্শন চাকমা বলেন, চুক্তি ‘বাস্তবায়নের জন্য আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমরাও চাই পাহাড়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থা থাকুক। সবাই নিরাপদে শান্তিতে বসবাস করুক।’

ইউপিডিএফের সংগঠক অংগ মারমা বলেন, ‘পাহাড়ে অশান্তির মূল কারণ পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়া। চুক্তি বাস্তবায়নে যেসব কথা বলা হয়েছে, সেগুলো ন্যূনতম বাস্তবায়ন হয়নি। এ জন্য এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’

তবে, পাহাড়ের বাসিন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী মনে করছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত, হানাহানি বাড়ার পেছনে মূল কারণ সংগঠনগুলোর স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও চাঁদার ভাগ-বাটোয়ারা।

তবে আঞ্চলিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের হতাশা থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাই পাহাড়ে শান্তি ফেরেনি।

ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা বলেন, ‘প্রসীত খীসার ইউপিডিএফের জন্য আজ পাহাড়ে এত সংঘাত। তারা তখন চুক্তির বিরোধিতা না করলে হয়তো পাহাড়ে আজ চারটি আঞ্চলিক সংগঠন হতো না। পাহাড়ে রক্তপাত বন্ধ হোক, এটা আমরা সব সময় চাই।’

পাহাড়ের সংগঠনগুলো যা বলছে

পার্বত্য চুক্তির যতদিন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হবে, ততদিন শান্তি ফিরবে না বলে মনে করছে পাহাড়ের নাগরিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনরত সংগঠনের কর্মীরা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল বলেন, ‘আমরা চাই সরকার অবিলম্বে চুক্তির মৌলিক বিষয়সহ লিখিতভাবে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করুক।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, ‘চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো আইন-শৃঙ্খলা, ভূমি সমস্যার সমাধান, আঞ্চলিক পরিষদ আইন সংশোধন ও বিধিমালা তৈরি, ভারত প্রত্যাগত ৮৩ হাজার অভ্যন্তরীণ পাহাড়ি শরণার্থীর পুনর্বাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্যাঞ্চল শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ফসল। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য মঙ্গল ও শান্তি বয়ে আনবে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার আন্দোলন ও সংরক্ষণ কমিটির জেলা সমন্বয়ক জোয়াম লিয়ান আমলাই বলেন, ‘পার্বত্য চুক্তির যতদিন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হবে, ততদিন শান্তি তিমিরেই থাকবে।’

যা বলছেন সরকারদলীয় নেতারা

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু বলেন, শেখ হাসিনার সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তিন পার্বত্য জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো বেশি ক্ষমতায়িত করেছে।

শরণার্থীবিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন, কিছু সমস্যা থাকলেও চুক্তির অধিকাংশ ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে।

রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেন, ‘এখানকার মানুষের মধ্যে সমঝোতা, আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং চুক্তির পক্ষে সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে একটি পরিবেশ সৃষ্টি প্রধান শর্ত। শান্তিপূর্ণভাবে চুক্তি বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

আরও পড়ুন:
দুই মহাসড়কে বন্ধ বাস, বাড়তি ভাড়ায় ভোগান্তি
‘পরীক্ষা কেন্দ্রে হরতাল-টরতাল বলে লাভ নেই’
ট্রাক ধর্মঘট: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা
ধর্মঘট প্রত্যাহার চান কাদের
পরিবহন ধর্মঘটে সমর্থন রেজা-নুরের

শেয়ার করুন

চকবাজারে বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

চকবাজারে বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

চন্দনপুরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্কুর ম্যানশন ভবনের ৩য় তলার ফ্ল্যাটে আগুনের সূত্রপাত। আমরা বিকেল সাড়ে তিনটার পরে ঘটনাস্থলে যাই। দুটি ইউনিট ১০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই ফ্ল্যাটে ১৩ বছরের এক শিশু আটকা পড়েছিল।’

চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকায় চারতলা ভবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।

ডিসি রোডের শুক্কুর ম্যানশন ভবনে লাগা আগুন বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার পরে নিয়ন্ত্রণে আসে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চন্দনপুরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র অফিসার শহিদুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্কুর ম্যানশন ভবনের ৩য় তলার ফ্ল্যাটে আগুনের সূত্রপাত। আমরা বিকেল সাড়ে তিনটার পরে ঘটনাস্থলে যাই। দুটি ইউনিট ১০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই ফ্ল্যাটে ১৩ বছরের এক শিশু আটকা পড়েছিল। তাকে আমরা উদ্ধার করেছি। সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তবে নিরাপদে আছে।’

আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত না করে বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
দুই মহাসড়কে বন্ধ বাস, বাড়তি ভাড়ায় ভোগান্তি
‘পরীক্ষা কেন্দ্রে হরতাল-টরতাল বলে লাভ নেই’
ট্রাক ধর্মঘট: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা
ধর্মঘট প্রত্যাহার চান কাদের
পরিবহন ধর্মঘটে সমর্থন রেজা-নুরের

শেয়ার করুন

ফের চালু ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’, এসি চেয়ার না থাকায় অসন্তোষ

ফের চালু ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’, এসি চেয়ার না থাকায় অসন্তোষ

বেনপোল স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বেনাপোল এক্সপ্রেসটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ পুনরায় চালু হয়েছে। আগে এ রুটে যে বেনাপোল এক্সপ্রেসটি চলতো সেটিতে এসি আসন ছিল। কিন্তু নতুন চালু হওয়া ট্রেনে এসি কেবিন থাকলেও এসি চেয়ার নেই।

দীর্ঘ ৮ মাস পর বেনাপোল-ঢাকা রুটে পুনরায় চালু হয়েছে ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনটি বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত বছরের ৫ এপ্রিল থেকে ঢাকা-বেনাপোল রুটে আন্তঃনগর ট্রেনটিও বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন পর ট্রেনটি পুনরায় চালু হওয়ায় স্থানীয় যাত্রীসাধারণ খুশি হলেও সেবা সুবিধা নিয়ে সন্তুষ্ট নন তারা।

রেল সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বেনাপোল এক্সপ্রেস উদ্বোধন করেন। ৮৮৬ আসন বিশিষ্ট ট্রেনটির ১২টি বগিতে ৪৮টি কেবিন আসন, ৭৮টি এসি চেয়ার আসন, ৭৬০টি নন এসি চেয়ার আসন ছিল।

কিন্তু বৃহস্পতিবার যে ট্রেন দিয়ে বেনাপোল এক্সপ্রেস পুনরায় চালু করা করা হয়েছে সেটিতে আগের ট্রেনের তুলনায় যাত্রী সুবিধার ঘাটতি রয়েছে।

যাত্রীরা বলছেন, নতুন করে চালু হওয়া ট্রেনটিতে কোনো এসি বগি নেই। ৮টি বগিতে ৪৮টি কেবিন আসন আছে। বাকি ৭৪৫টি ননএসি চেয়ার আসন আছে। ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ননএসি আসন প্রতি ৪৮৫ টাকা ও কেবিন প্রতি ১ হাজার ১১৬ টাকা।

নিউজবাংলাকে ট্রেনের যাত্রী হাবিব চৌধুরী বলেন, ব্যবসায়িক কাজে প্রতিমাসে ৪ থেকে ৫ বার ঢাকায় যাতায়াত করতে হয়। বেনাপোল এক্সপ্রেস চালু হওয়ার পর থেকে আমি ঢাকায় প্লেনে না গিয়ে ট্রেনে চলাচল শুরু করি। অনেকদিন পর আজ পুনরায় ট্রেনটি চালু হওযার পর স্টেশনে এসে ট্রেনে এসি নাই শুনে অবাক হলাম।

'বেনাপোলে নানা শ্রেণির মানুষকে চাকরির সুবাদে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসতে হয়। কাস্টমস ও বন্দরের অনেক কর্মকর্তা এসি ট্রেনে চলাচল করতেন। এখন এসি চেয়ার না থাকলে আগের মতোই ভোগান্তি হবে যাত্রীদের। কেউ ওই সুবিধাটুকু নিয়ে ট্রেনে ঢাকায় যাতায়াত করতে চাইলে তাকে যশোর থেকে এসি ট্রেনে উঠতে হবে। এতে খরচ বাড়ার পাশাপাশি ভোগান্তির শিকার হতে হবে।
বেনাপোল স্টেশনমাস্টার সাইদুর রহমান এ ব্যাপারে নিউজবাংলাকে বলেন, 'করোনা ভাইরাসের কারণে বেনাপোল এক্সপ্রেসটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ পুনরায় চালু হয়েছে। আগে এ রুটে যে বেনাপোল এক্সপ্রেস চলতো সেটি ইন্দোনেশিয়ার তৈরি। আর নতুন যাত্রা শুরু করা ট্রেনটি তৈরি হয়েছে ভারতে। আগের ট্রেনে এসি আসন ছিল। এটিতে এসি কেবিন থাকলেও এসি চেয়ার নেই।'

বেনাপোল এক্সপ্রেসটি আগের মত সপ্তাহে ছয় দিন চলবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
দুই মহাসড়কে বন্ধ বাস, বাড়তি ভাড়ায় ভোগান্তি
‘পরীক্ষা কেন্দ্রে হরতাল-টরতাল বলে লাভ নেই’
ট্রাক ধর্মঘট: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা
ধর্মঘট প্রত্যাহার চান কাদের
পরিবহন ধর্মঘটে সমর্থন রেজা-নুরের

শেয়ার করুন

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল জানান, ২০১৩ সালের ৩১ মে আকিমুল যৌতুকের দাবিকৃত টাকা না পেয়ে হালিমাকে মারপিট করেন। এতে অন্তঃসত্ত্বা হালিমা মারা যান। আকিমুল ও তার পরিবারের লোকজন হালিমার মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ঘটনা জেনে হালিমার বাড়ির লোকজন পুলিশের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করেন।

যশোরে যৌতুকের জন্য অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী আকিমুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নীলুফার শিরিন বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় দেন।

দণ্ডিত আকিমুল যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নায়রা গ্রামের বাসিন্দা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পিপি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, আকিমুল যৌতুকের জন্য তার স্ত্রী হালিমা খাতুনকে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতন থেকে বাঁচতে হালিমা বিভিন্ন সময় তার বাবার কাছ থেকে টাকা এনে স্বামীকে দিতেন। আকিমুল সর্বশেষ ১৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।

২০১৩ সালের ৩১ মে হালিমা তার বাবার কাছ থেকে ১ লাখ টাকার চেক এনে দেন। আকিমুল দাবিকৃত টাকা না পেয়ে হালিমাকে মারপিট করেন। এতে অন্তঃসত্ত্বা হালিমা মারা যান। আকিমুল ও তার পরিবারের লোকজন হালিমার মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ঘটনা জেনে হালিমার বাড়ির লোকজন পুলিশের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করেন।

হালিমার বাবা লিয়াকত আলী বাদী হয়ে আকিমুল ইসলামের নামে হত্যা মামলা করেন।

পিপি জানান, অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় বিচারক আকিমুলকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেন।

আরও পড়ুন:
দুই মহাসড়কে বন্ধ বাস, বাড়তি ভাড়ায় ভোগান্তি
‘পরীক্ষা কেন্দ্রে হরতাল-টরতাল বলে লাভ নেই’
ট্রাক ধর্মঘট: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা
ধর্মঘট প্রত্যাহার চান কাদের
পরিবহন ধর্মঘটে সমর্থন রেজা-নুরের

শেয়ার করুন