কারখানার খোপে ঘুমাচ্ছিলেন সেই ৫ শ্রমিক

কারখানার খোপে ঘুমাচ্ছিলেন সেই ৫ শ্রমিক

সোয়ারীঘাটে কারখানার খোপে প্রাণ গেছে ঘুমন্ত ৫ শ্রমিকের। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

কারখানায় কেমিক্যালের ড্রাম দেখা যায়। এ ছাড়া জুতা বানানোর কাজে ব্যবহার করা প্রচুর প্লাস্টিক ও রাবারের স্তূপ দেখা যায় সেখানে। আগুনে এসব প্লাস্টিক ও রাবারসহ কেমিক্যাল পুড়ে যায়।

রাজধানীর সোয়ারীঘাট এলাকার কামালবাগে রোমানা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ নামে জুতার কারখানায় শ্রমিকদের ঘুমানোর জন্য বানানো হয়েছিল খোপ। সেই খোপে ঘুমাচ্ছিলেন অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো পাঁচ শ্রমিক।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন আরও দুজন।

পাঁচজনের মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। দগ্ধদের ভর্তিও করা হয় সেখানে।

ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট।

সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেহগুলো বেশি পুড়ে যাওয়ায় ডিএনএ পরীক্ষার ছাড়া এগুলো শনাক্ত করা যাবে না।

কেমন ছিল কারখানার পরিবেশ

সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানান, একতলা কারখানার আশপাশে একাধিক কেমিক্যালের দোকান রয়েছে। কারখানাটির পাশে কাঁচাবাজারে থাকা মালামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পুড়ে গেছে।

কারখানার খোপে ঘুমাচ্ছিলেন সেই ৫ শ্রমিক

আবাসিক এলাকার পাশেই কারখানাটি। বার্মিজ ও স্পঞ্জের জুতা তৈরি করা হতো সেখানে। জুতা তৈরিতে ব্যবহার হতো প্রচুর পরিমাণে রাবার, প্লাস্টিক ও কেমিক্যাল।

কারখানায় কেমিক্যালের ড্রাম দেখা যায়। এ ছাড়া জুতা বানানোর কাজে ব্যবহার করা প্রচুর প্লাস্টিক ও রাবারের স্তূপ দেখা যায় সেখানে।

আগুনের কারণে এসব প্লাস্টিক ও রাবারসহ কেমিক্যাল পুড়ে যায়। এসব দাহ্য পদার্থের কারণেই আগুন বিশাল আকার ধারণ করে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয় রফিক উদ্দিন বলেন, “আমি পাশের একটা দোকানে থাকি রাতে। রাত ১টার দিকে বিশাল একটা সাউন্ড শুনি। এর পরেই ‘আগুন, আগুন’ বলে চিৎকার শুনতে থাকি। আমি আসতে আসতে দেখি আগুন বিশাল আকার ধারণ করেছে।”

তিনি আরও বলেন, ‘বার্মিজ জুতা বানাতে ডিওপি তেল, প্লাস্টিক ও রাবার ব্যবহার করা হয়। এসব জিনিস থাকায় আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে।’

কারখানার খোপে ঘুমাচ্ছিলেন সেই ৫ শ্রমিক

মরদেহ শনাক্তে লাগবে ডিএনএ পরীক্ষা

ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের প্রধান পরিদর্শক সাইফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘আগুনের ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে আমরা বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করেছি। এখানে কিছু কেমিক্যালসদৃশ আলামত সংগ্রহ করেছি। সেগুলো সিআইডির রাসায়নিক ল্যাবে পরীক্ষা করলে তারপর বলা যাবে আসলে এগুলো দাহ্য পদার্থ ছিল কি না।

‘ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে আমরা হাসপাতালে গিয়েছিলাম, কিন্তু মরদেহগুলো আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া মরদেহগুলো শনাক্ত করা যাবে না।’

কারণ এখনও অজানা

ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে কী কারণে বা কীভাবে এই আগুনের সূত্রপাত, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।

‘তবে ঘটনাস্থলে প্রচুর পরিমাণে রাবারজাতীয় কাঁচামাল পাওয়া গেছে। রাবার একধরনের পেট্রোলিয়ামজাতীয় পদার্থ। এ ছাড়া ডিওপি তেল মজুত ছিল, যা দাহ্য পদার্থ।’

আরও পড়ুন:
সোয়ারীঘাটে জুতার কারখানায় আগুন, ৫ শ্রমিকের মৃত্যু
রাতের আগুনে পুড়ল জুতার কারখানা
কুমিল্লার চকবাজারে আগুন, পুড়েছে ১০ দোকান
কেমিক্যাল কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
পুড়ছে কেমিক্যাল কারখানা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গুলশানের আগুন নিয়ন্ত্রণে

গুলশানের আগুন নিয়ন্ত্রণে

ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিটের চেষ্টায় ৪০ মিনিটের মধ্যেই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় আগুন। ছবি: নিউজবাংলা

ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম কর্মকর্তা মো. রায়হান বলেন, ‘আমরা বিকেল ৪টার দিকে ওই আবাসিক ভবনের ১০ তলায় আগুন লাগার খবর পাই। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সাড়ে ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আর ৪টা ৪০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।’

রাজধানীর গুলশান-১-এর ১০ নম্বর সড়কের বহুতল আবাসিক ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

ডিএনসিসি মার্কেটের পার্শ্ববর্তী ভবনটিতে সোমবার বিকেল ৪টার দিকে আগুন লাগে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট। তাদের ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম কর্মকর্তা মো. রায়হান বলেন, ‘আমরা বিকেল ৪টার দিকে ওই আবাসিক ভবনের ১০ তলায় আগুন লাগার খবর পাই। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সাড়ে ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আর ৪টা ৪০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।’

আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নির্ধারণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান জানান, ৯ ও ১০ তলা ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের এসির আউটবক্সে বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়। বাসায় কেউ ছিল না। হতাহতের ঘটনা নেই।

আরও পড়ুন:
সোয়ারীঘাটে জুতার কারখানায় আগুন, ৫ শ্রমিকের মৃত্যু
রাতের আগুনে পুড়ল জুতার কারখানা
কুমিল্লার চকবাজারে আগুন, পুড়েছে ১০ দোকান
কেমিক্যাল কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
পুড়ছে কেমিক্যাল কারখানা

শেয়ার করুন

রাজধানীতে ট্রেনের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু

রাজধানীতে ট্রেনের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু

ট্রেনের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল্লাহ খান বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি রেলওয়ে থানাকে জানানো হয়েছে।’

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

নাখালপাড়া এলাকায় সোমবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম মহরম আলী। ৬৫ বছরের মহরম আলী সবজি বিক্রেতা ছিলেন।

তার বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার সদাগরকান্দি গ্রামে। বর্তমানে নাখালপাড়া হোসেন আলী স্কুলের পাশের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

নিহতের মেয়েজামাই মাছুম জানান, তার শ্বশুর কারওয়ান বাজার থেকে সবজি কিনে নাখালপাড়া এলাকায় ভ্যানে করে বিক্রি করতেন। আজ সকালে নাখালপাড়া এলাকায় হোসেন স্কুলের সামনের রেললাইন পার হওয়ার সময় চলন্ত একটি ট্রেনের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় এক পথচারী তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে বেলা ১১টায় চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল্লাহ খান বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি রেলওয়ে থানাকে জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সোয়ারীঘাটে জুতার কারখানায় আগুন, ৫ শ্রমিকের মৃত্যু
রাতের আগুনে পুড়ল জুতার কারখানা
কুমিল্লার চকবাজারে আগুন, পুড়েছে ১০ দোকান
কেমিক্যাল কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
পুড়ছে কেমিক্যাল কারখানা

শেয়ার করুন

হাফ ভাড়ার প্রজ্ঞাপন না হলে বিআরটিএ ভবন ঘেরাও

হাফ ভাড়ার প্রজ্ঞাপন না হলে বিআরটিএ ভবন ঘেরাও

সব ধরনের গণপরিবহনে হাফ পাস দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে নীলক্ষেতে সমাবেশ। ছবি: নিউজবাংলা

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ২০২১-এর মুখপাত্র মহিদুল ইসলাম দাউদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সব সময় অর্ধেক ভাড়ায় গণপরিবহনে চলাচল করে আসছে। এটা ছাত্রদের অধিকার। সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরাও এই দাবিতে সমর্থন জানাচ্ছেন। তাহলে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করতে গড়িমসি কেন করছে।’

বাসে হাফ ভাড়া কার্যকরের প্রজ্ঞাপন জারি না করা হলে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিআরটিএ ভবন ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন-২০২১’ এর ব্যানারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়ে এ হুঁশিয়ারি দেন।

সোমবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা আধ ঘণ্টা অবস্থান করেন।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ২০২১-এর মুখপাত্র মহিদুল ইসলাম দাউদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সব সময় অর্ধেক ভাড়ায় গণপরিবহনে চলাচল করে আসছে। এটা ছাত্রদের অধিকার। সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরাও এই দাবিতে সমর্থন জানাচ্ছেন। তাহলে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করতে গড়িমসি কেন করছে।

‘আমরা সকল গণপরিবহনে অর্ধেক ভাড়া দাবি করেছি, কিন্তু সরকার ঘোষণা দিল বিআরটিসি বাসে অর্ধেক ভাড়া নেয়া হবে। আমরা তা মানি না, আজকের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে, আগামীকাল সকালে বিআরটিএ ভবনের সামনে অবস্থান নেব আমরা।’

হাফ ভাড়ার প্রজ্ঞাপন না হলে বিআরটিএ ভবন ঘেরাও
হাফ ভাড়ার দাবিতে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

সোমবার কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষা থাকায় সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এদিন ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়ে তাদের আধাঘণ্টার কর্মসূচি পালন করেন।

এ বিষয়ে মহিদুল ইসলাম দাউদ বলেন, ‘আজকে বেশ কিছু নিয়োগ পরীক্ষা আছে। পরীক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে আমরা আজকে কোথাও সড়ক অবরোধ করব না। আমরা আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেব।’

বেলা পৌনে ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড়ের কর্মসূচি শেষ করেন। সে সঙ্গে ৯টি দাবির যথায়ত বাস্তবায়ন চেয়ে স্মারকলিপি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে এগোতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
সোয়ারীঘাটে জুতার কারখানায় আগুন, ৫ শ্রমিকের মৃত্যু
রাতের আগুনে পুড়ল জুতার কারখানা
কুমিল্লার চকবাজারে আগুন, পুড়েছে ১০ দোকান
কেমিক্যাল কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
পুড়ছে কেমিক্যাল কারখানা

শেয়ার করুন

নাঈমের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা দিতে রিট

নাঈমের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা দিতে রিট

নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের লাইব্রেরি কার্ড। ছবি: সংগৃহীত

রিটে অন্তর্বর্তীকালীন ৫০ লাখ টাকা ছাড়াও নাঈমের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লার গাড়ির চাপায় নিহত নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে।

রোববার জনস্বার্থে ‘জন অধিকার ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য পারভীন আক্তার এ রিট করেন। নাঈমের মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে পারভীন আক্তারের পক্ষে রিটটি জমা দেন আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক।

আবেদনটি সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য রয়েছে।

আবেদনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, বিআরটিসির চেয়ারম্যান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহাব্যবস্থাপককে (যানবাহন) বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে অন্তর্বর্তীকালীন ৫০ লাখ টাকা ছাড়াও নাঈমের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সোয়ারীঘাটে জুতার কারখানায় আগুন, ৫ শ্রমিকের মৃত্যু
রাতের আগুনে পুড়ল জুতার কারখানা
কুমিল্লার চকবাজারে আগুন, পুড়েছে ১০ দোকান
কেমিক্যাল কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
পুড়ছে কেমিক্যাল কারখানা

শেয়ার করুন

পুরান ঢাকার আতঙ্ক কিশোর অপরাধ

পুরান ঢাকার আতঙ্ক কিশোর অপরাধ

প্রতীকী ছবি

লালবাগ, বংশাল, চকবাজার, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, ওয়ারী ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় গত এক বছরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে ১০ কিশোর নিহত হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন কারাগার ও কিশোর সংশোধনাগারে থাকলেও অন্য সদস্যরা জামিনে এসে মামলা তুলে নিতে ভিকটিমদের হুমকি দিচ্ছে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।

দিন দিন পুরান ঢাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাং ও এর সদস্যরা। তারা প্রতিনিয়ত চুরি-ছিনতাই, মেয়েদের লাঞ্ছিত করা ও মাদকের আসর বসানোর মতো অপরাধ করছে।

শুধু তা-ই নয়, লালবাগ, বংশাল, চকবাজার, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, ওয়ারী ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় গত এক বছরে এ চক্রের সদস্যদের হাতে ১০ কিশোর নিহত হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন কারাগার ও কিশোর সংশোধনাগারে থাকলেও অন্য সদস্যরা জামিনে এসে মামলা তুলে নিতে ভিকটিমদের হুমকি দিচ্ছে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।

গত মার্চে পবিত্র শবেবরাতের রাতে সূত্রাপুরের ফরাশগঞ্জ ঘাট এলাকায় সিগারেট খাওয়া নিয়ে কিশোরদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এরই একপর্যায়ে এক কিশোরের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারায় আরিফ হোসেন অনন্ত নামে আরেক কিশোর। হামলায় আহত হয় নিহতের বন্ধু সাজু আহমেদ ও সোহেল। হতাহতদের বয়স ১৪-১৫ বছরের মধ্যে।

গত ২১ জুন কিশোর গ্যাংয়ের হাতে বংশাল আগামসিহ লেনে আহমেদ বাওয়ানী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ইমন খুন হয়। এ ঘটনায় পাঁচ আসামিকে আটক করে জেলহাজতে পাঠালেও গত মাসে দুই আসামি জামিনে বেরিয়ে এসে মামলার বাদী ও পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। অভিযোগ আছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রশ্রয় পাচ্ছে তারা। ওই এলাকার বাংলাদেশ মাঠসংলগ্ন (পাকিস্তান মাঠ নামেও পরিচিত) আলাবাসুদ গ্রুপের সদস্য সাত রওজা এলাকার লিমন, আকাশ, সিহাব, বাচ্চা সিপাত ও দাঙ্গা রাও সোহাগ নামের কয়েক কিশোর এসব হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, তারা একটি গ্যাংয়ের সদস্য।

গত মার্চে বাংলাদেশ মাঠের পাশে মাজেদ সরদার কমিউনিটি সেন্টারের সামনে আহমেদ বাওয়ানী স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আকিব হোসেন আলতাবকে কুপিয়ে ফেলে রাখে একদল কিশোর। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর জখমের কারণে তার শতাধিক সেলাই লেগেছে। দুই মাস বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ছিল আকিব।

ফুটবল খেলার আলোচনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ মাঠের পাশে আকিবকে কুপিয়েছে উঠতি বয়সী ১০-১২ কিশোর। বাবু নামের এক কিশোর আকিবের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বলে, ‘তোর টিকটক বানানো ছুটাইয়া দিমু।’

এ সময় কালু নামের এক কিশোর পেছন থেকে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে। বাবু নামের এক কিশোর চাকু দিয়ে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ফুসফুস ফেটে যায়।

এ মামলার আসামিদের অনেককে জেলে পাঠানো হলেও পরে বের হয়ে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। সিফাত, শাহাদাত, জিহাদ ও বাবু প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে তাকে। এ নিয়ে বংশাল থানায় ফের জিডি করেও কোনো প্রতিকার পায়নি আকিবের পরিবার।

গত ২৭ জুন পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বাসার প্রয়োজনীয় বাজার নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় কবি নজরুল কলেজের পাশে উইনস্টন গলিতে প্রবেশ করলে একটি ছেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সেই ছাত্রী প্রথমে সূত্রাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি ও পরে মামলা করলেও এখন পর্যন্ত কেউ শনাক্ত হয়নি। প্রভাবশালী কোনো নেতার ছত্রছায়ার কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে শনাক্ত হতে দেরি হচ্ছে, দাবি করেন ওই এলাকায় থাকা তার সহপাঠীরা। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির নাট্যকলা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থীকে দুই কিশোর শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লক্ষ্মী বাজারের অনার্সের এক ছাত্রী বলেন, কিছুদিন আগে সন্ধ্যার দিকে লালকুঠিতে আমার এক বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে যাই। হঠাৎ সে সময় আমাদের ঘিরে ধরে ১০-১২ জন উঠতি বয়সী ছেলে। সবার চুল ও পোশাক দেখে বখাটে মনে হয়েছে। পরে চিৎকার দিয়ে আমরা চলে আসি।

পুরান ঢাকার বানিয়ানগরের কাঠের পুল লেনের বাসিন্দা জেসমিন আক্তার (ছদ্মনাম)। মেয়েসহ পরিবার নিয়ে যে নির্মাণাধীন ভবনে তারা থাকেন রাত হলেই সেখানে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রতিদিন ১০-১৫ জন কিশোর মাদক নিতে সেই ভবনে ওঠে। সবারই বয়স ১৫-২২ বছরের মধ্যে। মাদক গ্রহণসহ রাতে যেসব ফ্ল্যাটে মেয়ে আছে সেসব দরজায় তারা শব্দ করতে থাকেন অনবরত। তাদের অত্যাচারে ভবনের মালিক গেটে একাধিকবার তালা দিলেও সেটি ভেঙে ছাদে উঠে তারা। সারা রাত সেখানে মাদক সেবনসহ চিৎকার-চেঁচামেচি করে সকালে বের হয়।

তাদের বিপক্ষে কথা বললে উল্টো বিপদ আরও বাড়ে বলে জানান জেসমিন আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি চাকরি করি। কিছু বলতে পারি না, কারণ আমার ঘরে একটি মেয়ে রয়েছে। ওরা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকে। পুলিশের কথা বললে তারা বলে, আমাদের বের হতে কয়েক মিনিটের ব্যাপার।’

এ এলাকা ছাড়াও পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার, শাঁখারীবাজার, কলতাবাজার, পানিটোলা, লালকুঠি, শ্যামবাজার, ইসলামপুর, বাবুবাজারসহ সদরঘাটের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ফেরদৌস গ্রুপ, সাজু গ্রুপ, সিনিয়র গ্রুপ, জুনিয়র গ্রুপ, টাইগার গ্রুপ, চিতা গ্রুপ, বড় বাপের পোলাসহ অংসখ্য কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে। প্রতিটি গ্যাংয়ে ২০ থেকে ২৫ জনের বেশি কিশোর রয়েছে।

এদের কেউ স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েছে। কেউ এখনও পড়ছে। কেউ মাদকের মামলার আসামি। সন্ধ্যা হলেই পুরান ঢাকার গলিগুলো ভীতিকর অবস্থায় পরিণত হয়। গলিতে গলিতে জড়ো হয়ে চালায় বেপরোয়া মোটরসাইকেল।

এ ছাড়া আড্ডার সময় কোনো পথচারী, মেয়ে বা বৃদ্ধ রিকশাচালক সামনে পড়লে রেহাই নেই। কেউ হারায় কাছে থাকা অর্থ-সম্পদ সর্বস্ব। নারীরা হারায় সম্মান। হাতিয়ার হিসেবে তারা ব্যবহার করে ছুরি, চায়নিজ চাকু ও ব্লেড। বীরত্ব দেখাতে তুচ্ছ ঘটনায় প্রকাশ্যে রাস্তায় খুনোখুনি করতেও তাদের হাত কাঁপে না।

গত শবেবরাতের রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত হয় অন্তর নামের এক কিশোর। প্রথম তারাবির দিনেও একজন জখম হয়। এ ছাড়া তাদের মাধ্যমে ধর্ষণ ও ইভ টিজিংয়ের মতো ঘটনা অহরহ ঘটতে দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, লক্ষ্মীবাজারের অনেক ভবনের ছাদে ছাদে চলে মাদকের আসর। বাংলাবাজার ও সদরঘাটে কর্মরত কম বয়সী কিশোর-যুবকরা স্থানীয়দের নিয়ে ছাদে মদ, গাঁজা ও জুয়ার আসর বসায় বলে অভিযোগ।

এতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। মাদকাসক্ত এসব কিশোর-যুবক সুযোগ পেলেই বাসার মধ্যে ঢুকে পড়ে চুরির মতো অপরাধে জড়ায়। তারা মাদকের টাকার জন্য ছিনতাইও করে।

পুরান ঢাকায় ছিনতাইয়ের অধিকাংশ ঘটনা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের মাধ্যমে হয়ে থাকে বলে জানা গেছে। গলির ভেতরে কাউকে একা পেলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করা হয়। স্থানীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের পদধারী বা নামধারী কোনো না কোনো ‘বড় ভাই’-এর শেল্টারে থাকায় ছিনতাইয়ের ভাগ এসব বড় ভাই ও নেতাদের দিতে হয়।

সার্বিক বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিপ্রা সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা মহামারিতে উঠতি বয়সী ছেলেদের স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় বাইরে তাদের আড্ডা দেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। বয়সন্ধিকালের এ সময়ে তারা কখন কী করবে বুঝে উঠতে পারে না। আবেগ ও অনুভূতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এসব কিশোর পরিবারের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও থাকে না।

‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, দারিদ্র্য, পরিবারে ভাঙন ও প্রযুক্তির প্রভাবে তারা ছোট ছোট অপরাধ করতে করতে বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’

তিনি বলেন, হতাশা ও সমাজের নানা পারিপার্শ্বিকতায় তারা অপরাধী হয়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইন প্রয়োগের অভাবেও এসব অপরাধ বাড়ছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন কিশোরদের তালিকা রয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো অভিযান চলছে। এতে অনেককে আটক করা হয়েছে। বড় ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

‘আমরা সাম্প্রতিক সময়ে অনেককে ধরেছি। তাদের একেকজনের অপরাধ একেক রকম। যারা আড্ডার সময় মুরুব্বিদের ও মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে তাদের ধরে তাদের পরিবারের মাধ্যমে সংশোধনের ব্যবস্থা করছি। এ ছাড়া যারা বড় ধরনের অপরাধ করছে, তাদের ধরে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কারো কোনো অভিযোগ আমাদের জানালে আমরা অভিযান চালাব।’

আরও পড়ুন:
সোয়ারীঘাটে জুতার কারখানায় আগুন, ৫ শ্রমিকের মৃত্যু
রাতের আগুনে পুড়ল জুতার কারখানা
কুমিল্লার চকবাজারে আগুন, পুড়েছে ১০ দোকান
কেমিক্যাল কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
পুড়ছে কেমিক্যাল কারখানা

শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি ট্রাইব্যুনাল

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি ট্রাইব্যুনাল

সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম

‘আদালত অভিযোগ শুনে বলেছেন, এটা আমলযোগ্য অপরাধ। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মামলা নিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে না এসে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বহিষ্কৃত মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা নেয়নি ট্রাইব্যুনাল। এ বিষয়ে থানায় মামলা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিচারক।

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন রোববার মামলার আবেদন শুনানির পর এ পরামর্শ দেন।

বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা করতে চেয়েছিলেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ওমর ফারুক আসিফ। তিনি আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করেন।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম শামীম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মামলার একটি আবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন এক আইনজীবী।

‘আদালত অভিযোগ শুনে বলেছেন, এটা আমলযোগ্য অপরাধ। তাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মামলা নিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে না এসে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। পরে মেয়র পদ থেকেও তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

কটূক্তির সে ঘটনা নিয়েই মামলা করতে চান আইনজীবী ওমর ফারুক আসিফ। আদালত মামলা না নিলে তিনি বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন:
সোয়ারীঘাটে জুতার কারখানায় আগুন, ৫ শ্রমিকের মৃত্যু
রাতের আগুনে পুড়ল জুতার কারখানা
কুমিল্লার চকবাজারে আগুন, পুড়েছে ১০ দোকান
কেমিক্যাল কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
পুড়ছে কেমিক্যাল কারখানা

শেয়ার করুন

ছাত্রদের অর্ধেক ভাড়া আগে পারলে এখন কেন নয়: তথ্যমন্ত্রী

ছাত্রদের অর্ধেক ভাড়া আগে পারলে এখন কেন নয়: তথ্যমন্ত্রী

রোববার ৯ দফা দাবিতে ধানমন্ডির ৭ নম্বরে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন আমি নিজেও বাসে হাফ ভাড়া দিয়ে চলেছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় শহর থেকে বাসে যেতাম হাফ ভাড়া দিয়ে। তখন সরকার বাস মালিকদের কোনো প্রণোদনা দিত না। বাস মালিকরাও প্রণোদনা দাবি করে নাই। তারা বিনা প্রণোদনাতেই ছাত্রদেরকে হাফ ভাড়া দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজকে কেন প্রণোদনা লাগবে সেটি আমার ব্যক্তিগত জিজ্ঞাসা?’

নিজের ছাত্র জীবনের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ প্রশ্ন রেখেছেন, সে সময় বাস মালিকরা সরকারি প্রণোদনা ছাড়াই ছাত্রদের অর্ধেক ভাড়া দিতে পারলে এখন কেন পারবেন না।

বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে রাজধানীতে ছাত্রদের আন্দোলনের মধ্যে বাস মালিকরা এই দাবি মেনে নিতে প্রণোদনার শর্ত তোলার মধ্যে এই প্রশ্ন রাখলেন ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

রোববার রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে ঢাকা উত্তর মহানগর আওয়ামী লীগের দারুস সালাম থানার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ১০ ইউনিটের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর বাস ভাড়া বেড়ে গেলে ঢাকায় ছাত্ররা অর্ধেক ভাড়া নেয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামে। তাদের আন্দোলনের মধ্যেই নটর ডেম কলেজের এক ছাত্র ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় মারা যান।

ছাত্রদের আন্দোলনের মধ্যে এই ঘটনাটিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে একটি শর্ত হিসেবে বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবিও যুক্ত হয়েছে।

প্রায় প্রতি কর্মদিবসেই ছাত্ররা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে নেমে যান চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে। এই অবস্থায় অর্ধেক বাস ভাড়ার দাবি নিয়ে বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে সরকার। তবে মালিকরা জানিয়ে দেয়, সরকারি প্রণোদনা ছাড়া এই দাবি পূরণ সম্ভব নয়।

তবে সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসের বাসে অর্ধেক ভাড়া নেয়া হবে বলে ঘোষণা এসেছে। কেবল রাজধানী নয়, সারা দেশেই ১ ডিসেম্বর থেকে ভাড়ার এই কার কার্যকর হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন আমি নিজেও বাসে হাফ ভাড়া দিয়ে চলেছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় শহর থেকে বাসে যেতাম হাফ ভাড়া দিয়ে।’

মালিকদের প্রণোদনার দাবি নিয়ে এক প্রশ্নে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তখন সরকার বাস মালিকদের কোনো প্রণোদনা দিত না। বাস মালিকরাও প্রণোদনা দাবি করে নাই। তারা বিনা প্রণোদনাতেই ছাত্রদেরকে হাফ ভাড়া দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজকে কেন প্রণোদনা লাগবে সেটি আমার ব্যক্তিগত জিজ্ঞাসা?’

একটি বাসে ৪০ থেকে ৫০জন যাত্রী থাকলে দুই থেকে তিন বা পাঁচজন ছাত্র থাকে বলে মনে করেন মন্ত্রী। বলেন, ‘এতে বাস মালিকদের কী অসুবিধা হবে, সেটি আমার ব্যক্তিগত প্রশ্ন।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল, সরকার সহানুভূতিশীল এবং সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী সরকারি সংস্থা বিআরটিসির ভাড়া হাফ করে দিয়েছেন। যারা ছাত্র তারা আমাদের সন্তান, তাদেরও সন্তান। আমি আশা করব, পরিবহনের মালিকরাও তাদের সন্তানদের কথা চিন্তা করে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

আরও পড়ুন:
সোয়ারীঘাটে জুতার কারখানায় আগুন, ৫ শ্রমিকের মৃত্যু
রাতের আগুনে পুড়ল জুতার কারখানা
কুমিল্লার চকবাজারে আগুন, পুড়েছে ১০ দোকান
কেমিক্যাল কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
পুড়ছে কেমিক্যাল কারখানা

শেয়ার করুন