বিডি থাইয়ের আয় বেড়ে ছয় গুণ, লভ্যাংশ কমে শেয়ারে ২০ পয়সা

বিডি থাইয়ের আয় বেড়ে ছয় গুণ, লভ্যাংশ কমে শেয়ারে ২০ পয়সা

কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২৫ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২১ পয়সা। সে বছর ৩ শতাংশ বোনাসের পাশাপাশি নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয় শেয়ারে ৩০ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের প্রতিষ্ঠান বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম আগের বছরের তুলনায় ছয় গুণ আয় করার পর লভ্যাংশ কমিয়ে তিন ভাগের এক ভাগ করেছে।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার প্রতি পাবেন ২০ পয়সা করে।

এই লভ্যাংশ কেবল সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পাবেন। উদ্যোক্তা-পরিচালকরা এ বছর কোনো লভ্যাংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২৫ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২১ পয়সা।

ওই বছর এবারের তুলনায় ছয় ভাগের এক ভাগ আয় করলেও লভ্যাংশ বেশি দেয়া হয়। বিনিয়োগকারীরা তখন শেয়ারে পান ৩০ পয়সা, পাশাপাশি ৩ শতাংশ দেয়া হয় বোনাস লভ্যাংশ, অর্থাৎ মোট লভ্যাংশ ছিল ৬ শতাংশ, যা এবারের প্রস্তাবিত লভ্যাংশের তিন গুণ।

কোম্পানিটির আয়ের পাশাপাশি সম্পদমূল্যও বেড়েছে। গত বছরের ‍জুন শেষে শেয়ার প্রতি ২৭ টাকা ৬০ পয়সা সম্পদ ছিল। এক বছর পরের জুনে তা দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ১০ পয়সা।

লভ্যাংশ সংক্রান্ত বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ২৮ নভেম্বর। অর্থাৎ যারা এই লভ্যাংশ নিতে চান, তাদেরকে সেদিন শেয়ার ধরে রাখতে হবে। এই লভ্যাংশ চূড়ান্ত করতে বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ২৭ ডিসেম্বর।

বিডি থাইয়ের আয় বেড়ে ছয় গুণ, লভ্যাংশ কমে শেয়ারে ২০ পয়সা

১৯৯০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি ২০১৬ সালের পর থেকেই প্রত্যাশিত আয় করতে পারছিল না। এ কারণে শেয়ার মূল্যও ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে।

২০১৬ সালে শেয়ার প্রতি (সে সময় অর্থবছর পুনর্নির্ধারণের জন্য দেড় বছর সময় পায় কোম্পানিটি) ৩ টাকা ২০ পয়সা আয় করে বিডি থাই। পরের বছর আয় নেমে আসে শেয়ারে ৭১ পয়সা।

২০১৮ সালে সে আয় কিছুটা বেড়ে হয় শেয়ারে ১ টাকা ২ পয়সা। তবে ২০১৯ সালে আবার কমে হয় ৫৬ পয়সা আর ২০২০ সালে এর থেকেও ২৫ পয়সা কমে যায় আয়।

তবে ২০২০ সালের জুলাই থেকে কোম্পানিটি আবার আয় বাড়ার ইঙ্গিত দিতে থাকে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে ২৬ পয়সা, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩৭ পয়সা আয় করা কোম্পানিটি চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আয় করে ৪১ পয়সা।

তিন প্রান্তিকে ১ টাকা ৩ পয়সা আয় করার পর চতুর্থ প্রান্তিকে এসে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত গোটা অর্থবছরের মধ্যে সবচেয়ে কম আয় হয়। এ সময় তারা শেয়ার প্রতি কেবল ২২ পয়সা আয় করতে পারে।

আয় বাড়তে থাকায় কোম্পানির শেয়ারমূল্যও বাড়তে থাকে। গত বছর জুলাইয়ে যে শেয়ার ১০ টাকায় লেনদেন হতে থাকে, সেটি চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে ৩২ টাকা ২০ পয়সায় উঠে যায়। কিন্তু এরপর আবার এপ্রিলের শুরুতে ১৮ টাকা ১০ পয়সায় নেমে আসে। এরপর অক্টোবরের শুরুতে তা আবার ৩০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে এরপর থেকে আবার দর কমে এখণ দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৪০ পয়সায়।

আরও পড়ুন:
এবারও লোকসান, লভ্যাংশ দেবে না সেন্ট্রাল ফার্মা
মুনাফায় স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, লভ্যাংশ শেয়ারে ১০ পয়সা
ছয় বছর ধরে শেয়ারে এক টাকা লভ্যাংশ এস আলমের
এবারও বড় লোকসানে জাহিন স্পিনিংয়ের নো ডিভিডেন্ড
চতুর্থ প্রান্তিকের চমকে প্রাইম টেক্সটাইলের নগদ লভ্যাংশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’

ক্যাপিটাল মার্কেট নিয়ে নিউইয়র্কে রোডশোর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

সরকারপ্রধানের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল কী- এমন প্রশ্নে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার একান্তে বৈঠক হয়েছে। সিদ্ধান্ত কী হয়েছে, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগে আমার বলা উচিত হবে না।’ বৈঠকের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা থাকবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সুপার হয়েছে। এক্সিলেন্টও।’ যে আলোচনা হয়েছে, তা পুঁজিবাজারে কেমন প্রভাব ফেলবে- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অনেক ভালো হবে। সব আলোচনায় হয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ে।’

পুঁজিবাজার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকের পরদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সরকারপ্রধান কী জানিয়েছেন, সে বিষয়ে কিছু জানালেন না বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। তবে জানিয়েছেন, আলোচনায় তৃপ্ত তিনি। এক বাক্যে বললেন, ‘সুপার হয়েছে’ যার মাধ্যমে তার উচ্ছ্বাসটা স্পষ্ট হয়েছে।

বুধবার বেলা ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান বিএসইসি চেয়ারম্যান। বেলা পৌনে ১টার দিকে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

সরকারপ্রধানের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল কী- এমন প্রশ্নে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার একান্তে বৈঠক হয়েছে। সিদ্ধান্ত কী হয়েছে, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগে আমার বলা উচিত হবে না।’

কিন্তু বৈঠকের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা থাকবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সুপার হয়েছে। এক্সিলেন্টও।’

যে আলোচনা হয়েছে, তা পুঁজিবাজারে কেমন প্রভাব ফেলবে- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অনেক ভালো হবে। সব আলোচনা হয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ে।’

বিস্তারিত না জানালেও বিএসইসি চেয়ারম্যান জানিয়ছেন, পুঁজিবাজারের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। কোন কোন বাধার কারণে পুঁজিবাজার তার নিজস্ব গতিতে যেতে পারছে না, সে বিষয়গুলোও তুলে ধরেছেন তিনি।

গত বছরের মে মাসে করোনা পরিস্থিতিতে শিবলী রুবাইয়াতকে প্রধান করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পুনর্গঠনের পর থেকে পুঁজিবাজারে দারুণ দিন ফিরতে শুরু করে। প্রায় এক যুগ আগের মহাধসে হারানো শেয়ারদর কিছুটা হলেও ফিরে পেতে শুরু করে।

প্রথম দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেয়। ব্যাংকগুলো তার বিনিয়োগসীমার বাইরে গিয়ে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয় আলাদা তহবিল করে।

এই পরিস্থিতিতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সূচক মহাধসের পর প্রথমবারের মতো ৭ হাজার পয়েন্টের সীমা অতিক্রম করে। কিন্তু এ পর্যায়ে এসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কিছু পদক্ষেপ পুঁজিবাজারে তারল্য কমিয়ে দেয়।

ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ তার সীমার মধ্যে আছে কি না, সে বিষয়টিতে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি প্রতিদিনের লেনদেনের তথ্য চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাজারমূল্যে বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ করায় শেয়ার মূল্য বেড়ে গিয়ে ব্যাংকের সেই নির্ধারিত অঙ্কের বেশি শেয়ার ধারণ করলেই জরিমানার মুখে পড়তে হয় ব্যাংকগুলোকে।

পাশাপাশি ব্যাংকগুলো বন্ডে যে বিনিয়োগ করেছে, সেটিও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার মধ্যেই ধরার কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনা করা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছেও প্রতিদিনের লেনদেনের তথ্য চায় তারা।

এসব ঘটনায় বাজারে অযাচিত বিক্রয় চাপ তৈরি হয়, নতুন বিনিয়োগও আটকে যায়। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বড় বিনিয়োগকারীরাও হাত গুটিয়ে বসে থাকে।

ফলে শুরু হয় ধসের মতো পরিস্থিতি। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠকের আগের আট কর্মদিবসে একদিন বাড়ে প্রতিদিনই সূচক পড়েছে। এই কয়দিনেই বাজার থেকে সূচক কমে যায় প্রায় ৪০০ পয়েন্ট।

বহুল প্রতীক্ষিত সেই বৈঠক শেষে বিএসইসির পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেয়া কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, তারা যেসব দাবি তুলেছিলেন, তা মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বন্ডে বিনিয়োগ ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার বাইরে থাকবে। আবার সারা পৃথিবীর মতো ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট শেয়ারের ক্রয়মূল্যে বিবেচনার বিষয়য়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংক একমত হয়েছে নীতিগতভাবে।

পরের দিন সরকারপ্রধানের সঙ্গে আলোচনাতেও ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট ও বন্ডে বিনিয়োগ ইস্যু তুলে ধরেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক।’

আরও পড়ুন:
এবারও লোকসান, লভ্যাংশ দেবে না সেন্ট্রাল ফার্মা
মুনাফায় স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, লভ্যাংশ শেয়ারে ১০ পয়সা
ছয় বছর ধরে শেয়ারে এক টাকা লভ্যাংশ এস আলমের
এবারও বড় লোকসানে জাহিন স্পিনিংয়ের নো ডিভিডেন্ড
চতুর্থ প্রান্তিকের চমকে প্রাইম টেক্সটাইলের নগদ লভ্যাংশ

শেয়ার করুন

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ

পুঁজিবাজারে লেনদেনে ব্যস্ত বিনিয়োগকারীরা। ফাইল ছবি

ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে বিবেচনা, বন্ডে বিনিয়োগ- পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার বিষয়ে রাজি হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হবে। এই খবরে দরপতনের মধ্যে থাকা পুঁজিবাজারে দারুণ দিন দেখল বিনিয়োগকারীরা।

ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্যে বিবেচনা, পাশাপাশি বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানানোর পর পড়তে থাকা শেয়ারমূল্য দিয়েছে লাফ। এক দিনে ৩০০ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ার প্রভাবে সূচক বেড়েছে ১০০ পয়েন্টের বেশি।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের মতভিন্নতার ইস্যুতে টানা দরপতনের কারণে যে হতাশা দেখা গিয়েছিল পুঁজিবাজারে, দুই পক্ষের বৈঠকের পর তার আপাত অবসান দেখা গেছে।

মঙ্গলবার বহুল প্রতীক্ষিত এই বৈঠক শেষে কোনো সার্কুলার জারি হয়নি। তবে বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাদের পক্ষ থেকে যেসব বিষয় তোলা হয়েছিল, তার প্রতিটির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে বিবেচনা, বন্ডে বিনিয়োগ- পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার বিষয়ে রাজি হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হবে।

সেই বৈঠকের পরদিন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যাওয়ার কথা সেই রাতেই চাওর হয়ে যায়। বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান কোনো সিদ্ধান্ত না জানালেও বলেছেন, যে কথাবার্তা হয়েছে, তা পুঁজিবাজারের জন্য দারুণ হবে।

এসব ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মনের চাপ দূর হওয়ার পর বুধবার সকালে লেনদেন শুরুই হয় ১২৮ পয়েন্ট দিয়ে। লেনদেনের সাড়ে ৪ ঘণ্টায় একটিবারের জন্যও তা সেখান থেকে খুব বেশি কমে দেখা যায়নি। বরং শেষ বেলায় আরও বাড়ে।

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
বুধবার পুঁজিবাজারে লেনদেন পয়েন্ট বেড়েছে।

বেলা ১১টা ২৮ মিনিটে সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৫৪ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন হতে থাকে। তখন সূচক ছিল ৬ হাজার ৮৫৭ পয়েন্ট। এরপর সেখান থেকে অল্প কিছু কমলেও শেষ সময়ে আবার শেয়ারদর বেড়ে সূচকের অবস্থান দাঁড়ায় ৬ হাজার ৮৪৭ পয়েন্ট, যা দিনের সর্বোচ্চ অবস্থান।

এক দিনেই সূচক বেড়েছে ১৪৩ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট।

তবে সূচকের ঊর্ধ্বগতিতেও লেনদেন সেভাবে গতি পায়নি। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এখনও বাজারকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। আবার যারা বেশি দামে শেয়ার কিনে ধরে রেখেছেন, তাদের কেনা দামের কাছাকাছিও আসেনি শেয়ার। এ কারণে বিক্রয় চাপ কম ছিল। এ কারণে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে।

দিন শেষে বেড়েছে ২৯৩টি শেয়ারের দর, কমেছে ৪৫টির, অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির দর।

সূচক বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকায় ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। টানা পাঁচ কর্মদিবস দর হারানো কোম্পানিটির শেয়ারদর এক দিনেই বাড়ল ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এর প্রভাবে সূচকে যোগ হয়েছে ২১ দশমিক ৮২ পয়েন্ট।

গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো ফার্মা, স্কয়ার ফার্মা, ওয়ালটন, রবি, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি, ইউনাইটেড পাওয়ার, পাওয়ারগ্রিড, ডেল্টা লাইফের দর বৃদ্ধিতে সূচকে যোগ হয়েছে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানিই সূচক বাড়িয়েছে ৮৬ দশমিক ৪১ পয়েন্ট।

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
পুঁজিবাজারে সূচক সবচেয়ে বেশি বাড়িয়েছে যে ১০টি কোম্পানি

অন্যদিকে পুঁজিবাজারে দারুণ দিনে এতদিন ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকা ওয়ান ব্যাংক দর হারানোয় সূচক থেকে কমেছে ১ দশমিক ০৯ পয়েন্ট।

ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিট হোটেল, সামিট পাওয়ার, আরামিট সিমেন্ট, তুংহাই নিটিং, ইস্টার্ন ক্যাবলস, নিউলাইন ক্লথিং, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স ও এমারেল্ড অয়েলের দরপতনের কারণে সূচক থেকে কিছু পয়েন্ট কমেছে।

তবে দরপতনের হার খুব একটা বেশি না হওয়ায় এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে কেবল ৩ দশমিক ১৩ পয়েন্ট।

দর বৃদ্ধিতে ১০ কোম্পানি

গত ২৮ নভেম্বর থেকে দর কমতে থাকা বিবিধ খাতের ইনডেক্স এগ্রোর শেয়ার দরে চমক লেগেছে। কোম্পানিটির দর বেড়েছে দিনের সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

তবে এই দর বৃদ্ধি নতুন বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দিলেও রেকর্ড ডেট ২৮ নভেম্বর যারা শেয়ার কিনে ধরে রেখেছিলেন তাদের জন্য খুব একটা ভালো সংবাদ দেয়নি। কারণ সেদিনও কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি দর ছিল ১২২ টাকা। বুধবারও লেনদেন শেষে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকায়। এই সময়ে কোম্পানিটির সর্বনিম্ম দর ছিল ১১০ টাকা।

দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা নতুন তালিকাভুক্ত সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ। দিন শেষে দর দাঁড়িয়েছে ৫৯ টাকা ৬০ পয়সা। তবে এই দামেও শেয়ার বিক্রি করতে রাজি নন বিনিয়োগকারীরা। দিন শেষে হাতবদল হয়েছে কেবল ৮৪ হাজার ৯৫৩টি শেয়ার।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৭৫ লাখ ২৩৪টি। শেয়ার দর ১৫২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬৬ টাকা ৯০ পয়সা।

বেক্সিমকোর শেয়ার দর গত ১৭ নভেম্বর থেকে টানা পতনে ছিল। ১৭২ টাকা থেকে এই সময়ে দর নেমে আসে ১৫২ টাকায়। সেখান থেকে বুধবারই প্রথম বড় উত্থান হলো কোম্পানিটির।

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
যেসব কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে

বস্ত্র খাতের এনভয় টেক্সটাইলের দরও বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আগের দিন দাম ছিল ৪৫ টাকা। দিন শেষে দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৪০ পয়সায়।

ব্যাংক খাতের ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ দর বৃদ্ধির মাধ্যমে পৌঁছেছে ১৫ টাকা ৩০ পয়সায়। ১৮ নভেম্বরের এটির ব্যাংকটির সর্বোচ্চ দর।

বুধবার ৮ শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে এমন কোম্পানির সংখ্যা ছিল তিনটি। এর মধ্যে পাট খাতের কোম্পানি জুট স্পিনার্সের দর ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের শ্যামপুর সুগারের দর ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ আর বিমা খাতের ডেল্টা লাইফের শেয়ার দর বেড়েছে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের নয় ও দশ নম্বরে ছিল জিবিবি পাওয়ার, যার শেয়ার বেড়েছে ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ আর সোনালী পেপারের শেয়ার দর বেড়েছে ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

এই ১০টি ছাড়া ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে আরও ৭টি কোম্পানির দর। ৬ শতাংশের বেশি আরও ৩টির, ৫ শতাংশের বেশি ৭টির, ৪ শতাংশের বেশি ৬টির, ৩ শতাংশের বেশি ২৩টির, ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে আরও ৬০টি কোম্পানির দর।

দর পতনের ১০ কোম্পানি

গত ৫ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করে লোকসান থাকায় কোনো বছরের জন্যই লভ্যাংশ ঘোষণা না করা তুংহাই নিটিংয়ের রেকর্ড ডেটের পর প্রথম লেনদেন ছিল বুধবার। ফলে এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দরে উত্থান পতনে কোনো সীমা ছিল না। লভ্যাংশ না দেয়ায় কোম্পানিটির শেয়ার দর স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে বেশি দর পতন হয়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। শেয়ার দর ৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬ টাকা।

এরপরই ছিল আরামিট সিমেন্ট। কোম্পানিটির দর কমেছে ৮. দশমিক ৩০ শতাংশ। ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা লেনদেন হওয়া কোম্পানিটির ৭৪ লাখ ৩১ হাজার ২৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
বুধবারের লেনদেনে যেসব কোম্পানির দাম বেড়েছে-কমেছে।

ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার দর এদিন কমেছে ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত ১৭ নভেম্বর থেকে শেয়ার দরে উত্থানে থাকা এই ব্যাংকটির য়েশার দর ৩০ নভেম্বর থেকে কমছে। বুধবার লেনদেন শেষে ব্যাংকটির দর ছিল ১৯ টাকা ৪০ পয়সা।

এদিন দর পতনের থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে বস্ত্র খাতের কোম্পানি ছিল সবচেয়ে বেশি। শীর্ষ দশ কোম্পানির মধ্যে ছয়টি ছিল বস্ত্র খাতের।

মিথুন নিটিংয়ের দর কমেছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। শেয়ার দর ১২ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১১ টাকা ৬০ পয়সা। ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা লেনদেন হওয়া কোম্পানিটির মোট ১৬ হাজার ৫৫৫টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এমারেল্ড অয়েলের শেয়ার দর কমেছে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ ছাড়া আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের দর কমেছে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ।

সাভার রিফ্যাক্টরিজ, নিউ লাইন ক্লথিং, সোনারবাংলা টেক্সটাইল, ইস্টার্ন ক্যাবলস, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স ছিল দর পতন হওয়া শীর্ষ কোম্পানির তালিকায়।

লেনদেনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি

বুধবার লেনদেনে এগিয়ে থাকা দশ কোম্পানির মধ্যে শীর্ষে বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির মোট ১২২ কোটি ২৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে ৭৫ লাখ ২৩৪টি শেয়ার।

লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এ তালিকায় দর পতন হওয়া কোম্পানি দুটি ছিল ওয়ান ব্যাংক ও একমি পেস্ট্রিসাইডস। নতুন তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম দাম কমল শেয়ারটির।

এদিন ওয়ান ব্যাংকের মোট লেনদেন হয়েছে ১৩২ কোট ১১ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৫ কোটি ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার ৯১২টি।

ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের মোট লেনদেন হয়েছে ৭৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৫ কোটি ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৬টি।

ডেল্টা লাইফের লেনদেন হয়েছে ৪৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ২২ লাখ ৫ হাজার ১৯টি।

আইএফআইসি ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১৩ লাখ ৯০ হাজার ৬৪৪টি। এর আগে ছিল একমি পেস্টিসাইডস। যার শেয়ার হাতবদল হয়েছ ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৭২টি। লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

জেনেক্স ইফফোসিসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

শীর্ষ দশের এই তালিকায় আরও ছিল ওরিয়ান ফার্মা, প্যারামাউন্ড টেক্সটাইল, ফরচুন সুজ।

আরও পড়ুন:
এবারও লোকসান, লভ্যাংশ দেবে না সেন্ট্রাল ফার্মা
মুনাফায় স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, লভ্যাংশ শেয়ারে ১০ পয়সা
ছয় বছর ধরে শেয়ারে এক টাকা লভ্যাংশ এস আলমের
এবারও বড় লোকসানে জাহিন স্পিনিংয়ের নো ডিভিডেন্ড
চতুর্থ প্রান্তিকের চমকে প্রাইম টেক্সটাইলের নগদ লভ্যাংশ

শেয়ার করুন

বৈঠকের পর ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস পুঁজিবাজারে

বৈঠকের পর ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস পুঁজিবাজারে

বুধবারের লেনদেনের শুরুতেই উল্লম্ফন দেখেছে পুঁজিবাজার। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

বুধবার লেনদেনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের বাজারমুখী হওয়ার যে প্রভাব দেখা গেছে, সেটি শেষ সময় পর্যন্ত থাকবে কি না তা নির্ভর করছে আস্থার ওপর।

বুধবার লেনদেনের শুরুতে আগের দিনের যে হতাশার চাপ ছিল পুঁজিবাজারে তা কেটে যাওয়ার আভাস দেখা গেছে। লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান হয় ১১৫ পয়েন্ট। লেনদেন শুরুর ১০ মিনিটে সূচকের এমন উত্থান পুঁজিবাজারকে মন্দা থেকে ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার যে উদ্যোগ তাতে আস্থার প্রতিফলন দেখা গেছে।

এদিন লেনদেনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের বাজারমুখী হওয়ার যে প্রভাব দেখা গেছে, সেটি শেষ সময় পর্যন্ত থাকবে কি না তা নির্ভর করছে আস্থার ওপর।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি মঙ্গলবার বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে। আলোচনা শেষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেয়া বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, ক্রয়মূল্যে এক্সপোজার লিমিট গণনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একমত হয়েছেন। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হলে পুঁজিবাজারের উত্থান বা শেয়ারের দর বেড়ে গেলে নিয়মের মধ্যে থাকতে হঠাৎ শেয়ার বিক্রির চাপে পড়বে না আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। বর্তমানে শেয়ারের ধারণকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হয় বাজারমূল্যের ভিত্তিতে। আর এখানেই বিপত্তি।

ব্যাংক তার বিনিয়োগ সীমার মধ্যেই শেয়ার কিনলেও তার দাম বেড়ে গেলে বাজারমূল্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ গণনার কারণে বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলো তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে হয় আগেভাগেই। এতে পুঁজিবাজারে বিক্রয় চাপ তৈরি হচ্ছে। বাজারে হচ্ছে দরপতন।

মঙ্গলবারের বৈঠকের পর দ্রুত এ সমাধান হলে ব্যাংকের ওপর থেকে শেয়ারের দর বাড়লেও বিক্রির চাপ বাড়বে না।

বুধবার লেনদেনের ৪০ মিনিটে সূচকের অবস্থান ছিল ৬ হাজার ৮০৬ পয়েন্টে। আগের দিনের তুলনায় সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩ দশমিক ১৩ পয়েন্ট। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এর পাশাপাশি বাকি দুই সূচকেরও ছিল উত্থান। লেনদেন হয়েছে ১৯০ কোটি টাকা। দর বৃদ্ধির খাতায় নাম লিখিয়েছে ৩১৫টি কোম্পানি। দর হারিয়েছে ১৪টির।

টানা ছয় দিন দরপতনের পর এক দিন সূচক বাড়লেও মঙ্গলবার আবার সেই হতাশার বৃত্তে ডুব দেয় পুঁজিবাজার। ফলে আট কর্মদিবসের মধ্যে সাত দিনই সূচকের পতন হয়েছে।

বুধবার পুঁজিবাজারের লেনদেন উত্থান শেষ হলে ৯ কার্যদিবসের মধ্যে উত্থানে হিসেবে যোগ হবে দুই দিন।

অন্যদিকে বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে যাচ্ছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। তবে কী কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএসইসির চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ বিনিয়োগকারীদের নতুন আস্থার প্রতিফলন দেখা গেছে।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুঁজিবাজারভিত্তিক গ্রুপগুলোতে নানা আলোচনা উঠে আসে। বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর আবার প্রাণ ফিরে পাবে পুঁজিবাজার।

বুধবার লেনদেনের প্রথম পৌনে এক ঘণ্টায় সূচক উত্থানে বড় ভূমিকা ছিল গ্রামীণফোনের। কোম্পানিটির শেয়ারদর ২.১৫ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে সূচকের উত্থানে অবদান রেখেছে ১৫.৩১ শতাংশ।

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটিবিসি) অবদান ছিল ৬.৫৩ শতাংশ। এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১.২৯ শতাংশ।

এ ছাড়া স্কয়ার ফার্মা, ওয়ালটন, বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, রবির শেয়ারদর বৃদ্ধি সূচকের উত্থানে অবদান রেখেছে।

পাশাপাশি দর পতনের কারণে সূচককে পতনের দিকে নিতে ত্বরান্বিত করেছে ইউনিলিভার, ব্র্যাক ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

এ সময়ে ব্যাংক খাতের শেয়ারের বেশ উত্থান দেখা গেছে। ব্যাংক খাতের তালিকাভুক্ত ৮১ শতাংশ বা ২৬টি ব্যাংকের শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে তিনটি ব্যাংকের। এ ছাড়া বস্ত্র খাতের ৯০ শতাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধি হয়েছে।

ট্যানারি খাত, বিমা, তথ্য-প্রযুক্তি, ভ্রমণ ও অবকাশ, সিমেন্ট, টেলিকম, পাট খাতের তালিকাভুক্ত সব কটি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে লেনদেনের এই সময়ে।

আরও পড়ুন:
এবারও লোকসান, লভ্যাংশ দেবে না সেন্ট্রাল ফার্মা
মুনাফায় স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, লভ্যাংশ শেয়ারে ১০ পয়সা
ছয় বছর ধরে শেয়ারে এক টাকা লভ্যাংশ এস আলমের
এবারও বড় লোকসানে জাহিন স্পিনিংয়ের নো ডিভিডেন্ড
চতুর্থ প্রান্তিকের চমকে প্রাইম টেক্সটাইলের নগদ লভ্যাংশ

শেয়ার করুন

এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠকে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট শেয়ারের ক্রয়মূল্যে বিবেচনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে আলোচনার পরদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএসইসির চেয়ারম্যানের বৈঠকের সময় নির্ধারণের খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির আলোচনার পর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম এবার সরকারপ্রধানের কাছে যাচ্ছেন।

বুধবার এই বৈঠক হবে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির প্রধান। তবে কী নিয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে তিনি আগাম কিছু বলতে চাইছেন না। বলেছেন, ‘বুধবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক আছে। তবে বৈঠকের আগে কিছু বলতে পারব না। আলোচনা শেষ করে এসে বলব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিএসইসির চেয়ারম্যানের এই বৈঠকের বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুঁজিবাজারের নানা বিষয়ে মতভিন্নতা নিয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে ঐকমত্যে আসার কথা জানিয়েছেন বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার পদ্ধতি ক্রয়মূল্যে নাকি বাজারমূল্যে হবে- এ নিয়ে বিতর্ক গত এক দশক ধরেই চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী এটি বাজারমূল্যে নির্ধারণ হয়। কিন্তু বিএসইসি চায় ক্রয়মূল্যে।

আইন অনুযায়ী, একটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ এটা হবে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ।

শেয়ারের ধারণকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হয় বাজারমূল্যের ভিত্তিতে। আর এখানেই বিপত্তি। ব্যাংক তার বিনিয়োগসীমার মধ্যেই শেয়ার কিনলেও তার দাম বেড়ে গেলে বাজারমূল্যের ভিত্তিকে বিনিয়োগ গণনার কারণে বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে আগেভাগেই। এতে পুঁজিবাজারে বিক্রয় চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বাজারে হচ্ছে দরপতন।

গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে পুঁজিবাজারে উত্থানে সূচক বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা হাতের হারিয়ে ফেলা টাকা ফিরে পেতে শুরু করেন।

তবে এক দশক পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচক ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে মূলত ব্যাংকের শেয়ারের বিক্রয় চাপে সূচকের নিম্নগতি দেখা দেয়।

এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোকে হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য করেছে। এর ফলে দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতেই পারছে না পুঁজিবাজার। শেয়ার দর কমে আসায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

বন্ডে বিনিয়োগও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিনিয়োগসীমার মধ্যে ধরছে। অথচ বিএসইসি এই বিনিয়োগকে ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার পক্ষে। তারা বলছে, সারা বিশ্বেই এই বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বাইরে থাকে।

এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান
পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার পদ্ধতিসহ নানা বিষয়ে বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে বিএসইসি

সরকার পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেটকে জনপ্রিয় করতে চাইছে। এর অংশ হিসেবে সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তুলতে অনুমতি দিয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডকে। আকর্ষণীয় মুনাফার এই বন্ডে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করেছে। আর বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যায় বলে ব্যাংকগুলো হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছে। যারা করেনি, তাদের জরিমানার শিকার হতে হয়েছে।

এদিক টানা পতনের মুখে অস্থির পুঁজিবাজার নিয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএসইসি। বৈঠকে বহুল আলোচিত এক্সপোজার লিমিট বা ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্যে বিবেচনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এক্সপোজার লিমিট নিয়ে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা এটা রিভিউ করব। গ্লোবালি এক্সপোজার লিমিট কস্ট প্রাইজের ভিত্তিতে করা হয়। এটি টেকনিক্যাল বিষয়, আরও গভীরভাবে আলোচনা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এটি নিয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়ে স্পষ্ট করা হবে। দাপ্তরিক কিছু কাজ শেষে চূড়ান্ত করে তা জানানো হবে।’

দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিএসইসির চেয়ারম্যানের এই বৈঠকের সময় নির্ধারণের খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

পুঁজিবাজারে বিশ্লেষক ও ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যে বৈঠক হয়েছে, সেটি এই মুহূর্তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক। আর বিএসইসি পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক। মনে হচ্ছে, দুটির সংস্থার মধ্যে যথেষ্ট সমন্বয়ের অভাব আছে।

‘পুঁজিবাজারে লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ সুরক্ষা দেয়ার জন্য এক্সপোজার লিমিট নিয়ে বিএসইসিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। বিএসইসির একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু পুঁজিবাজার চাঙা করতে হলে বিনিয়োগ সুরক্ষা দিতে হবে, বিএসইসিকেও বাজারবান্ধব সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার দেয়া খুবই জরুরি।’

আরও পড়ুন:
এবারও লোকসান, লভ্যাংশ দেবে না সেন্ট্রাল ফার্মা
মুনাফায় স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, লভ্যাংশ শেয়ারে ১০ পয়সা
ছয় বছর ধরে শেয়ারে এক টাকা লভ্যাংশ এস আলমের
এবারও বড় লোকসানে জাহিন স্পিনিংয়ের নো ডিভিডেন্ড
চতুর্থ প্রান্তিকের চমকে প্রাইম টেক্সটাইলের নগদ লভ্যাংশ

শেয়ার করুন

ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে: বৈঠকে সিদ্ধান্ত

ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে: বৈঠকে সিদ্ধান্ত

কেন্দ্র্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

এক্সপোজার লিমিট নিয়ে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা এটা রিভিউ করব। গ্লোবালি এক্সপোজার লিমিট কস্ট প্রাইজের ভিত্তিতে করা হয়। এটি টেকনিক্যাল বিষয়, আরও গভীরভাবে আলোচনা করতে হবে: বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির আলোচনায় ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার পদ্ধতি দিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান হতে যাচ্ছে।

আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়া পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, ক্রয়মূল্যে এক্সপোজার লিমিট গণনার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

মঙ্গলবার বেলা তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয়ে বহুল প্রতীক্ষিত এই বৈঠকটি হয়।

এতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে যোগ দেন কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান খান, অফ সাইট সুপারভিশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আজকের আলোচনা খুব ফলপ্রসূ হয়েছে। আমাদের দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে আরও সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে। আমরা নতুন করে আরও কীভাবে সংযোগ বাড়ানো যায় সেই চেষ্টা করছি।’

আজকের আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আলোচনার সবগুলো সব বিষয় নিয়ে পজিটিভ সিদ্ধান্তে আসতে পেরেছি। এর ফলাফল আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আপনারা দেখতে পাবেন।

‘পুঁজিবাজারে এক্সপোজার লিমিট যেন শেয়ারের ক্রয়মূল্যর ভিত্তিতে করা হয় এসব বিষয়সহ শেয়ারবাজাররের স্থিতিশীলতা তহবিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা একমত হয়েছি। এগুলোর দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ করে বিস্তারিত জানানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক্সপোজার লিমিট নিয়ে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা এটা রিভিউ করব। গ্লোবালি এক্সপোজার লিমিট কস্ট প্রাইজের ভিত্তিতে করা হয়। এটি টেকনিক্যাল বিষয়, আরও গভীরভাবে আলোচনা করতে হবে।’

পুজিবাজারে সাম্প্রতিক পতনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকার বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা একেবারে অপ্রয়োজনীয় একটি বিষয়। কোনো প্রতিষ্ঠানই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য দায়ী নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার জন্য আগ্রহী নয়। সরকারের সবগুলো প্রতিষ্ঠানই সমান।

‘প্রতিষ্ঠানগুলো পরস্পরকে সহযোগিতা করবে এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। কোনো কোনো পক্ষ হয়তো এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে থাকে, এটি সঠিক নয়।’

পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক যে দরপতন তার সঙ্গে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ির একটি সম্পর্ক রয়েছে।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমা নিয়ে উভয়সংকটে পড়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। একদিকে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ তহবিলের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বিশেষ পদ্ধতিতে গণনার কারণে শেয়ার দর বেড়ে গিয়ে বিনিয়োগসীমা পেরিয়ে যাওয়ার কারণে গুনতে হচ্ছে জরিমানা।

আইন অনুযায়ী, একটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ এটা হবে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ।

শেয়ারের ধারণকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হয় বাজারমূল্যের ভিত্তিতে। আর এখানেই বিপত্তি। ব্যাংক তার বিনিয়োগসীমার মধ্যেই শেয়ার কিনলেও তার দাম বেড়ে গেলে বাজারমূল্যের ভিত্তিকে বিনিয়োগ গণনার কারণে বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে আগেভাগেই। এতে পুঁজিবাজারে বিক্রয় চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বাজারে হচ্ছে দরপতন।

এমনিতেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অভাবে ভুগতে থাকা পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলো নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় গেছে, সেটি বাজারে দরপতনকে ত্বরান্বিত করতে পারে, যেটি দেখা যাচ্ছে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে।

গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে পুঁজিবাজারে উত্থানে সূচক বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা হাতের হারিয়ে ফেলা টাকা ফিরে পেতে শুরু করে।

তবে এক দশক পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচক ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে মূলত ব্যাংকের শেয়ারের বিক্রয় চাপে সূচকের নিম্নগতি দেখা দেয়।

এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোকে হাতের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য করেছে। এর ফলে দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতেই পারছে না পুঁজিবাজার। শেয়ার দর কমে আসায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

বন্ডে বিনিয়োগও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিনিয়োগসীমার মধ্যে ধরছে। অথচ বিএসইসি এই বিনিয়োগকে ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার পক্ষে। তারা বলছে, সারা বিশ্বেই এই বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বাইরে থাকে।

সরকার পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেটকে জনপ্রিয় করতে চাইছে। এর অংশ হিসেবে সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তুলতে অনুমতি দিয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডকে। আকর্ষণীয় মুনাফার এই বন্ডে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করেছে। আর বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যায় বলে ব্যাংকগুলো হাতের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছে। যারা করেনি, তাদের জরিমানার শিকার হতে হয়েছে।

বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিএসইসি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। পুজিবাজারের উন্নয়নে দুই প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করবে। আজকের আলোচনার প্রেক্ষিতে সামনে আরো৷ আলোচনা হবে।’

আরও পড়ুন:
এবারও লোকসান, লভ্যাংশ দেবে না সেন্ট্রাল ফার্মা
মুনাফায় স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, লভ্যাংশ শেয়ারে ১০ পয়সা
ছয় বছর ধরে শেয়ারে এক টাকা লভ্যাংশ এস আলমের
এবারও বড় লোকসানে জাহিন স্পিনিংয়ের নো ডিভিডেন্ড
চতুর্থ প্রান্তিকের চমকে প্রাইম টেক্সটাইলের নগদ লভ্যাংশ

শেয়ার করুন

এক্সপোজার লিমিট নিয়ে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা, বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে

এক্সপোজার লিমিট নিয়ে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা, বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বরছেন বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা, বন্ডে বিনিয়োগ ক্রয়মূল্যে বিবেচনা করা, স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড গতিশীল করাসহ পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এই দুই নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের সমন্বতি প্রচেষ্টার সুফল পাবেন ভবিষ্যতে: বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার সূত্র, বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারের বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখাসহ সব বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

আলোচনায় বিএসইসির পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেয়া কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বাজারমূল্যের বদলে ক্রয়মূল্যে বিবেচনা, বন্ডে বিনিয়োগ এই বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এর বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, পুঁজিবাজার উন্নয়নে তারাও বিএসইসিকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে।

পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের মধ্যে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বহুল প্রতীক্ষিত এই বৈঠক শেষে সরাসরি কোনো ঘোষণা অবশ্য আসেনি। জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে সংযোগ আরও বাড়ানো হবে। দুই পক্ষ পুঁজিবাজারকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে টেলিফোন, ই-মেইল ও সরাসরি আলোচনা করবে।

বেলা তিনটার দিকে এই বৈঠক শুরু হয়। এতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে যোগ দেন কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান খান, অফ সাইট সুপারভিশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল ইসলাম।

প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন শামসুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা, বন্ডে বিনিয়োগ ক্রয়মূল্যে বিবেচনা করা, স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড গতিশীল করাসহ পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এ দুই নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানে সমন্বতি প্রচেষ্টার সুফল পাবেন ভবিষ্যতে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিএসইসি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে দুই প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করবে। আজকের আলোচনার প্রেক্ষিতে সামনে আরও আলোচনা হবে।’

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধনের সময় দরপতন মোটেও অস্বাভাবিক ঠেকেনি। এর কারণ, এক বছরে মূল্য সূচক বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার পর কিছুটা সংশোধন স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

আশা করা হয়েছিল, সংশোধন শেষে বাজার আবার উত্থানে ফিরবে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের হারানো টাকা ফিরে পাবে। কিন্তু সেটি হয়নি, উল্টো ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির মধ্যে মতভিন্নতার খবর প্রকাশ্যে চলে আসার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়। দিনের পর দিন হতাশা এক পর্যায়ে তৈরি করে আতঙ্ক।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনা, এই বিনিয়োগসীমায় বন্ডে বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মতভিন্নতা ছাড়াও অবণ্টিত মুনাফায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা আসবে কি না, এ নিয়ে আগে থেকেই টানপড়েনের মধ্যে সম্প্রতি যোগ হয়েছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির লেনদেনের তথ্য চাওয়া।

সবশেষ এই নির্দেশ আসার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়ে বিএসইসি বলেছে, তারা এভাবে সরাসরি তথ্য চাইতে পারে না। কোনো তথ্য দরকার পড়লে যেন বিএসইসির মাধ্যমে চাওয়া হয়।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে তথ্য আসে যে, মতভিন্নতা নিয়ে বৈঠকে বসবে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই সিদ্ধান্ত আসার পর সাপ্তাহিক কর্মদিবস শুক্র ও শনিবার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা আলোচনা-ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জন্ম নেয়।

কিন্তু কোনো কিছু্ বাজারে চিড় ধরা মনোবল ফেরাতে পারেনি। উল্টো শেয়ার কেনা বন্ধ রেখে কম দামে হলেও শেয়ার বিক্রি করে দিতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। এই বিষয়টি দরপতনকে আরও তরান্বিত করে। যারা লোকসানে শেয়ার বিক্রি করতে রাজি ছিলেন না, তাদের পোর্টফোলিওর আকার দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে।

এর মধ্যে যারা মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনেছেন, তাদের অবস্থান আরও খারাপ। পুনর্বিনিয়োগ করতে না পারলে শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হতে থাকেন হাজার হাজার বিনিয়োগকারী।

আরও পড়ুন:
এবারও লোকসান, লভ্যাংশ দেবে না সেন্ট্রাল ফার্মা
মুনাফায় স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, লভ্যাংশ শেয়ারে ১০ পয়সা
ছয় বছর ধরে শেয়ারে এক টাকা লভ্যাংশ এস আলমের
এবারও বড় লোকসানে জাহিন স্পিনিংয়ের নো ডিভিডেন্ড
চতুর্থ প্রান্তিকের চমকে প্রাইম টেক্সটাইলের নগদ লভ্যাংশ

শেয়ার করুন

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা

দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সাড়ে তিন মাস আগের অবস্থানে নেমে দিন শেষে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭০৩ পয়েন্টে। এর চেয়ে কম সূচক ছিল ১২ আগস্ট। তখন অবস্থান ৬ হাজার ৬৯৯ পয়েন্ট থাকলেও পুঁজিবাজারে হতাশা ছিল না। বরং শেয়ারদর ও লেনদেন ক্রমেই বাড়তে থাকায় বিনিয়োগাকারীরা এক দশকের হতাশা কাটিয়ে আশান্বিত হয়ে উঠতে থাকে।

টানা ছয়দিন দরপতনের পর একদিন সূচক বাড়লেও পরের দিনই আবার সেই হতাশার বৃত্তে পুঁজিবাজার। টানা দরপতনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠকের দিনও বড় দরপতন দেখল বিনিয়োগকারীরা। এ নিয়ে আট কর্মদিবসের মধ্যে সাত দিনই সূচকের পতন হলো।

বেলা তিনটায় দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী। গত বৃহস্পতিবার এই বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকেই এক ধরনের আশা নিরাশার দোলাচল তৈরি হয়।

তবে এর মধ্যেও রোববার বড় পতনে তৈরি হয় আতঙ্ক। সেদিন পতন গিয়ে ঠেকে টানা ৬ দিনে। সপ্তম দিন সোমবার বাজার ঘুরে দাঁড়িয়ে উত্থানের ইঙ্গিত দিয়েও ধরে রাখতে পারেনি। এক পর্যায়ে সূচক ৭১ পয়েন্ট বেড়ে শেয়ার কেনাবেচা হতে থাকলেও পরে দিন শেষে ২১ পয়েন্ট বেড়ে শেষ হয় লেনদেন।

মঙ্গলবার বৈঠকের দিন সকালে অল্প কিছু সময়ের জন্য সূচক বেড়ে লেনদেন হতে থাকলেও গত প্রায় আড়াই মাসের এক সাধারণ চিত্রের মতোই অর্ধেক বেলা শেষে পতন দিয়ে শেষ হয় লেনদেন।

দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সাড়ে তিন মাস আগের অবস্থানে নেমে দিন শেষে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭০৩ পয়েন্টে। আগের দিনের চেয়ে ৯২ পয়েন্ট হারিয়ে গেছে সূচক থেকে।

এর চেয়ে কম সূচক ছিল ১২ আগস্ট। তখন অবস্থান ৬ হাজার ৬৯৯ পয়েন্ট থাকলেও পুঁজিবাজারে হতাশা ছিল না। বরং শেয়ারদর ও লেনদেন ক্রমেই বাড়তে থাকায় বিনিয়োগাকারীরা এক দশকের হতাশা কাটিয়ে আশান্বিত হয়ে উঠতে থাকে।

সূচক কমার দিন লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। তিন কর্মদিবস পর আবার তা এক হাজার কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করতে পেরেছে। তবে সেটি ক্রয় চাপে নয়, সেটি নিশ্চিত। বিক্রয় চাপ বেশি থাকায় শেয়ারদর পড়ার পর সে সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন ব্যক্তি শ্রেণির বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা
যেসব কোম্পানির দরপতনে সূচক কমেছে সবচেয়ে বেশি

আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭০৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা ছিল ১৪৬ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

আড়াইর বেশি শেয়ারের দরপতনের দিন ৮০টির মতো কোম্পানির দর বৃদ্ধি হয়েছে। এমন দিনে এমন কোনো খাত ছিল না যার বিনিয়োগকারীরা হাসিমুখে ঘরে ফিরবে। তবে তুলনামূলক কিছুটা স্বস্তিতে ছিল ব্যাংক খাতের শেয়ারধারীরা। যেসব শেয়ার দর হারিয়েছে সেগুলো শতকরা হিসেবে দর হারিয়েছে কমই।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধনের সময় দরপতন মোটেও অস্বাভাবিক ঠেকেনি। এর কারণ, এক বছরে মূল্য সূচক বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার পর কিছুটা সংশোধন স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

আশা করা হয়েছিল, সংশোধন শেষে বাজার আবার উত্থানে ফিরবে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের হারানো টাকা ফিরে পাবে। কিন্তু সেটি হয়নি, উল্টো ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির মধ্যে মতভিন্নতার খবর প্রকাশ্যে চলে আসার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়। দিনের পর দিন হতাশা এক পর্যায়ে তৈরি করে আতঙ্ক।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনা, এই বিনিয়োগসীমায় বন্ডে বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মতভিন্নতা ছাড়াও অবণ্টিত মুনাফায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা আসবে কি না, এ নিয়ে আগে থেকেই টানপড়েনের মধ্যে সম্প্রতি যোগ হয়েছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির লেনদেনের তথ্য চাওয়া।

সবশেষ এই নির্দেশ আসার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়ে বিএসইসি বলেছে, তারা এভাবে সরাসরি তথ্য চাইতে পারে না। কোনো তথ্য দরকার পড়লে যেন বিএসইসির মাধ্যমে চাওয়া হয়।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে তথ্য আসে যে, মতভিন্নতা নিয়ে বৈঠকে বসবে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই সিদ্ধান্ত আসার পর সাপ্তাহিক কর্মদিবস শুক্র ও শনিবার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা আলোচনা-ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জন্ম নেয়।

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা
এই ১০টি কোম্পানি সূচকে কিছুটা হলেও পয়েন্ট যোগ করেছে

কিন্তু কোনো কিছু্ বাজারে চিড় ধরা মনোবল ফেরাতে পারেনি। উল্টো শেয়ার কেনা বন্ধ রেখে কম দামে হলেও শেয়ার বিক্রি করে দিতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। এই বিষয়টি দরপতনকে আরও তরান্বিত করে। যারা লোকসানে শেয়ার বিক্রি করতে রাজি ছিলেন না, তাদের পোর্টফোলিওর আকার দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। এর মধ্যে যারা মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনেছেন, তাদের অবস্থান আরও খারাপ। পুনর্বিনিয়োগ করতে না পারলে শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হতে থাকেন হাজার হাজার বিনিয়োগকারী।

আজকের এই দরপতনে প্রধান ভূমিকা ছিল গ্রামীণ ফোনের। ৩.২২ শতাংশ শেয়ারদর কমায় সূচক থেকে হারিয়ে গেছে ২৩.০৬ পয়েন্ট। গত পাঁচ কর্মদিবসে শেয়ারদর ১০ শতাংশের বেশি পড়ে যাওয়া বহুল আলোচিত বেক্সিমকো লিমিটেডের দর কমায় সূচক কমেছে ৮.৭৭ পয়েন্ট।

৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ, প্রথম প্রান্তিকে অভাবনীয় আয়, মালিকপক্ষের তিন কোটি টাকার শেয়ার কেনার ঘোষণায় শেয়ারদর ১৮৫ টাকা ছাড়িয়ে ২০০ টাকার দিকে ছুটছিল। সেখান থেকে নেমে শেয়ারদর এখন ১৫০ টাকার আশেপাশে। গত ২১ অক্টোবর শেয়ারদর দেড়শ টাকা ছাড়নোর পর এতটা নিচে নামেনি কখনও।

শেয়ারদর দেড়শ টাকা ছাড়ানোর পর এমনও দিন গেছে যেদিন সাড়ে তিনশ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে একটি কোম্পানিরই। দুইশ বা আড়াইশ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে, এমন দিন গেছে অনেক। অর্থাৎ উচ্চমূল্যেই শেয়ার লেনদেন হয়েছে বেশি। এ কারণে এই কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা ভীষণ হতাশ।

একই গ্রুপের আগের কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার দর নেমে এসেছে ২০০ টাকার নিচে। গত ১ সেপ্টেম্বর শেয়ারদর ২০০ টাকার ঘর অতিক্রম করার পর এই প্রথমবার এই ঘটনা ঘটল।

স্কয়ার ফার্মা, রবি, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানি, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, ইউনাইটেড পাওয়ার, ওয়ালটনের মতো শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানির দরপতনের কারণে সূচক কমেছে সবচেয়ে বেশি। দর কমে ৩০ টাকার নিচে নেমে এসেছে এনআরবিসি।

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা



এর বিপরীতে যেসব কোম্পানি সূচক বাড়াতে পেরেছে, সেগুলোর সংখ্যা যেমন কম, তেমনি দর বৃদ্ধির হার কম থাকায় সেগুলো সূচকে পয়েন্ট যোগ করতে পেরেছে খুবই কম। সবচেয়ে বেশি সূচক বাড়ানো ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৮.১৮ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে কেবল ২.৫২ পয়েন্ট।

সবচেয়ে বেশি সূচক বাড়ানো ১০টি কোম্পানি কেবল গ্রামীণ ফোনের দরপতনজনিত কারণে সূচকের পতনই ঠেকাতে পারেনি।

দর দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি একমি পেস্ট্রিসাইডস ও সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সকে পেছনে ঠেলে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছ ওরিয়ন ইনফিউশন। কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের দিন ছিল ৮২ টাকা ৫০ পয়সা। ৯.৯৩ শতাংশ বেড়ে উঠে এসেছে ৯০ টাকা ৭০ পয়সায়।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সেনাকল্যাণের শেয়ারদর সর্বোচ্চ পরিমাণ বাড়ল টাকা ১৮ কর্মদিবস। কোম্পানিটির লেনদেন শুরু হয় গত ৭ নভেম্বর। ১০ টাকায় তালিকাভুক্ত হয়ে দাম উঠেছে ৫৪ টাকা ২০ পয়সা। তবে এখনও বলার মতো শেয়ার লেনদেন হয়নি। আজই সর্বোচ্চ সংখ্যক ৭৪ হাজার ৭৪৫টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

তৃতীয় অবস্থানে ছিল গত ১৪ নভেম্বর তালিকাভুক্ত একটি পেস্ট্রিসাইডস। টানা ১৩ কর্মদিবস শেয়ারদর যত বাড়া সম্ভব, বাড়ল ততটাই। গত তিন কর্মদিবস ধরে লেনদেনের গতিও বেশ ভালো।

আজ ৯.৭০ শতাংশ বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৯০ পয়সা। হাতবদল হয়েছে ১৯ লাখ ৫১ হাজার ২২২টি শেয়ার।

আগের দুই দিন হাতবদল হয় যথাক্রমে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭১৬ টি ও ৯ লাখ ২৬ হাজার ৩০৩টি শেয়ার।

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা



চতুর্থ অবস্থানে ছিল বিমা খাতের ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, যার দর বেড়েছে ৮.১৮ শতাংশ। এ ছাড়া রেনউইক যগেশ্বরের দর ৬.৪০ তাংশ, ওয়ান ব্যাংকের দর ৬.৩৪ শতাংশ, মনস্পুল পেপারের দর ৬.০৭ শতাংশ বেড়েছে।

শীর্ষ দশের অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে এনভয় টেক্সটাইলের দর ৫.৫০ শতাংশ, আমান কটনের দর ৫.১০ শতাংশ এবং ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টের দর বেড়েছে ৪.৯৯ শতাংশ।

এ ছাড়া আরও ৫টি কোম্পানির দর ৪ শতাংশের বেশি, ৩টি কোম্পানির ৩ শতাংশের বেশি, ৭টি কোম্পানির ২ শতাংশের বেশি, ২৯টি কোম্পানির দর ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

দরপতনের শীর্ষ ১০

এই তালিকায় শীর্ষে ছিল আরামিট সিমেন্ট, যার দর কমেছে ৯.৮৯ শতাংশ। কোম্পানিটি বেশ কয়েক বছর পর মুনাফায় ফিরলেও লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকেই দর হারাচ্ছে। সবশেষ দর দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৭০ পয়সা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এইচ আর টেক্সটাইল দর হারিয়েছেন ৮.৪০ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের এনআরবিসির দর কমেছে ৬.৪৭ শতাংশ। চতুর্থ অবস্থানে থাকা সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ৬.৪১ শতাংশ, পঞ্চম স্থানে থাকা ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স দর হারিয়েছে ৬.০২ শতাংশ।

এছাড়া সুঋদ ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৫.০৩ শতাংশ, জেনারেশন নেক্সটের দর ৪.৯২ শতাংশ, জেনেক্স ইনফোসিসের দর ৪.৯১ শতাংশ, শাহজিবাজার পাওয়ারের দর ৪.৮২ শতাংশ এবং মিথুন নিটিংয়ের দর কমেছে ৪.৭৬ শতাংশ।

আরও ৬টি কোম্পানি ৪ শতাংশের বেশি, ৩৩টি কোম্পানি ৩ শতাংশের বেশি, ৫৯টি কোম্পানি ২ শতাংশের বেশি, এবং ৯৪টি কোম্পানি ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে দর হারিয়েছে।

লেনদেনের শীর্ষ ১০

সম্প্রতি তুমুল আলোচিত ওয়ান ব্যাংক উঠে এসেছে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে। যে কোম্পানিটিতে এক মাস আগেও দিনে ১০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হতো না, সেই কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে ১৮৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকার। হাতবদল হয়েছে মোট ৯ কোটি ৪ লাখ ৬ হাজার শেয়ার।

টানা পাঁচ দিন দরপতন হওয়া বেক্সিমকো লিমিটেড ছিল লেনদেনের দ্বিতীয় অবস্থানে। হাতবদল হয়েছে মোট ৯৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা। লেনদেন হয়েছে ৬৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮৩১ টি শেয়ার।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা বেক্সিমকো ফার্মায় লেনদেন হয়েছে ৪৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে আছে আইএফআইসি ব্যাংক, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, স্কয়ার ফার্মা, ওরিয়ন ফার্মা, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানি জেনেক্স ইনফোসিস ও ফরচুর সুজ।

এই ১০টি কোম্পানিতেই হাতবদল হয়েছে ৫৮৬ কোটি ৬৮ লাখ ২ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ৫১.৫৪ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
এবারও লোকসান, লভ্যাংশ দেবে না সেন্ট্রাল ফার্মা
মুনাফায় স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, লভ্যাংশ শেয়ারে ১০ পয়সা
ছয় বছর ধরে শেয়ারে এক টাকা লভ্যাংশ এস আলমের
এবারও বড় লোকসানে জাহিন স্পিনিংয়ের নো ডিভিডেন্ড
চতুর্থ প্রান্তিকের চমকে প্রাইম টেক্সটাইলের নগদ লভ্যাংশ

শেয়ার করুন